১২:২০ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ৯, ২০২১ ৫:২৮ অপরাহ্ন
সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মোঃ ইফতেখার হোসেন :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে বাংলাদেশের সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ যেমন একত্রে কাজ করতে হবে, তেমনি দুই বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। আঞ্চলিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দেবে, এমনকি বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ নেতৃত্বে বিশ্ব অপার বিস্ময়ে দেখবে এ অঞ্চলের মানুষ ঐতিহ্য ও গৌরবকে কীভাবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে”।

বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘মৈত্রীর বন্ধনে সুবর্ণ সম্প্রীতি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যয়ের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেণ মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.) প্রমুখ।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “বাংলাদেশ-ভারতের মৈত্রী নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ। অভিন্ন সীমান্ত, অভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসহ অনেক কিছুতেই আমাদের সম্প্রীতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের আবেগ-অনুভূতি ও পারস্পারিক স্বার্থ একই সূত্রে গাঁথা। আমাদের উন্নয়নের সহযোগী অনেক দেশ আছে, কিন্ত আমাদের ক্রান্তিকালে ভারত সরকার ও ভারতের জনসাধারণ যে আন্তরিকতা দেখিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ তা স্মরণ করে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করে, প্রগতিতে বিশ্বাস করে এবং যারা ধর্ম, বর্ণ, দল, মত নির্বিশেষ আমাদের মৌলিক মানবিক সত্তায় বিশ্বাস করে তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ বিনিমার্ণেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পরও বন্ধু রাষ্ট্র ভারত বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যাদের সহায়তা করেছে”।

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের কিছু সত্তা এখনো আছে। এরা পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিল। এদের উত্তরসূরিরা এখনো বাংলাদেশে আছে। তবে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের হাজার বছরের ঐতিহ্যে বিশ্বাস করে। যে বিশ্বাসের মূল কেন্দ্র হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্ব। এই বাংলাদেশে আর কোনদিন স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে না”।

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধারণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ দেখিয়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দুই দেশের সমুদ্রসীমা ও স্থলসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা চাইবো এ সহযোগিতার দিগন্ত যেন আরো সম্প্রসারণ হয়, যাতে আমরা বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর বন্ধুত্বের নজির দেখাতে পারি। বাংলাদেশ ভারত-মৈত্রীর ৫০ বছর পূর্তির শুভক্ষণে দুই দেশের অমিমাংসিত বিষয়ের সমাধান হবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি”।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৯, ২০২১ ৪:০২ অপরাহ্ন
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় দুই পা নিয়ে বাছুরের জন্ম
প্রাণিসম্পদ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় দুই পা নিয়ে একটি গরুর বাছুরের জন্ম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা গ্রামের শরিক উদ্দিনের গাভিটি বাছুরটির জন্ম দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের শরিক উদ্দিনের একটি গাভী অদ্ভুত আকৃতির এই বাছুরের জন্ম দেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বাছুরটি দেখতে আশপাশের মানুষ ভিড় জমিয়েছে।

গাভীর মালিক শরিক উদ্দিন জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে গরু লালন-পালন করে আসছি। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম দেখলাম। গাভীটি বাচ্চা প্রসব করার সময় প্রথমে বাছুরটির দুটি পা বাইরে বের হয়। কিন্তু পিছনের বাকি অংশ আর বের না হওয়ার পশু চিকিৎসকদের ডাকা হয়। তারা এসে অনেকক্ষণ চেষ্টা করে বাছুরটিকে বের করে আনেন। এতে গাভীটি একটু অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু বাছুরটি সুস্থ আছে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা (ভারপাপ্ত) প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মশিউর রহমান জানান, এটি প্রকৃতির নিয়ম। এখানে কারো কোনও হাত নেই। মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় কনজেনিটাল এনোমালি। এটা একটা জিনগত সমস্যা। সঠিকভাবে মায়ের দুধ পেলে বাছুরটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৯, ২০২১ ১:০৫ অপরাহ্ন
অজ্ঞাত রোগে গরু বিক্রির হিড়িক!
প্রাণিসম্পদ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে অজ্ঞাত রোগে একে একে ২৮টি গরুর মৃত্যু এবং আরও বেশ কিছু গরু আক্রান্ত হয়েছে। এতে আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন ওই এলাকার গরুর খামার মালিকরা।

ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় ওই এলাকায় গরু বিক্রির হিড়িক পড়েছে। অনেকেই কম দামেই বিক্রি করে দিচ্ছেন খামারের গরু। এদিকে গরু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে দুটি টিম গঠন করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর, সূর্যপড়া এবং বেতদিঘী ইউনিয়নের নন্দলালপুর ও মহেশপুর গ্রামে গত কয়েক দিনে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২৮টি গরু। আরও আক্রান্ত হয়েছে ৩০-৩৫টি গরু।

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত গরু মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় বাসুদেবপুর, সূর্যপাড়া গ্রামের গৃহস্থ ও খামার মালিকরা ক্ষতি থেকে রেহাই পেতে বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিচ্ছেন গোয়ালের গরু। গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত গ্রামের প্রায় ৩০-৩৫টিরও বেশি গরু বিক্রি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বাদশা হোসেনের ২টি, মন্টু ১টি, জহুরুল ১টি, মিনার ১টি, আনোয়ার ২টি, হাফিজ ৩টি, মুকুল ২টি, মিজান জামাই ১টিসহ আরও অনেকে বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি অনেকে বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বাসুদেবপুর গ্রামের বাদশা হোসেন জানান, তার গরুসহ আশপাশের গ্রামের এ পর্যন্ত প্রায় ২৮টি গরু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার তিন মাসের বাছুর রেখে মারা যায় বাদশা হোসেনের একটি গাভী গরু। সেই আতঙ্কে তিনি বাকি দুটো গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। বাদশা হোসেনের গোয়াল এখন গরুশূন্য। সম্বল বলতে শুধু এখন মাতৃহারা তিনমাসের বাছুরটি। নন্দলালপুর, মহেশপুর গ্রামের সুলতান হোসেনের ৭টি গরুর মধ্যে ৩টি আক্রান্ত হলে ৭টি গরুই তিনি বিক্রি করে দেন।

এছাড়াও একই গ্রামের মুক্তার হুজুর ৪টি, মোশাররফ ১টি, বেলালের ৩টি, ইউনুসের ১টি এবং আজাহারের ১টি গরুর মৃত্যু ঘটে। অপরদিকে মোস্তফার ১টি গরু অসুস্থ হলে তিনি জবাই করেন। আতাউর রহমানের ১টি আক্রান্ত হলে হোমিও চিকিৎসা চালাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা ধারণা করছেন, স্থানীয় পাকড়ডাঙ্গা স্থানে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ব্যাটারি কারখানা। আশপাশের জমিতে ওই কারখানার বর্জ্যের বিষক্রিয়াযুক্ত সিসা ছড়িয়ে পড়ায় সেই জমিগুলোর ঘাস-খড় খেয়ে মৃত্যু ঘটছে গরুগুলোর। এলাকায় গরু মারা যাওয়ার ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ওই স্থান থেকে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে নেওয়া হয় কারখানাটি। তবে ওই স্থানে এখনো ছড়িয়ে রয়েছে ব্যাটারির বিষাক্ত বর্জ্যসহ ঝাঁজালো গন্ধ।

এদিকে অজ্ঞাত রোগে গরু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় দুটি তদন্ত টিম গঠন করেছে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। উপজেলার প্রাণিসম্পদের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নেয়ামত আলীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত টিম এবং অপর আরেকটিতে প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. শাহানুর আলমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করা হয়। ইতোমধ্যেই তদন্ত কাজ শুরু করেছে তদন্ত টিমের সদস্যরা।

ব্যাটারি কারখানাটি রাতারাতি সরিয়ে নিলেও কারখানাটির বর্জ্য, ফসলি জমির নমুনা এবং এলাকার ঘাস ও পশুখাদ্য সংগ্রহ করেছে তদন্ত টিমের সদস্যরা। তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন লেড বিষক্রিয়ার কারণেই ওই গরুগুলো আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন মো. নেয়ামত আলী বলেন, সেখানের কৃষকদের সচেতন করাসহ ওই এলাকার ঘাস ও খড় পশুকে না খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়াসহ মাইকিং করা হয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। ওই এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৮, ২০২১ ১০:৩৯ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রচেষ্টায় অমিমাংসিত বিষয়ের সমাধান হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মোঃ ইফতেখার হোসেন: বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের অমিমাংসিত বিষয়সমূহ অচিরেই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার (০৮ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, খুলনায় বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, ভারতীয় হাই কমিশন, ঢাকা, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, খুলনা, বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিববর্ষ , মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশতজন্মবর্ষ এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে দুই দেশের সরকারের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও কর্ম নিয়ে এ প্রদর্শনী আয়োজন করা হচ্ছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এমন জগলুল হায়দার অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন।
ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার, খুলনা রাজেশ কুমার রাইনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। খুলনার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার, খুলনা বিএল কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ আতিকুজ্জামান প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, “ভারত বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের কিছু অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। অভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আদর্শের ক্ষেত্রে দুদেশের অনেক ভালো অবস্থান রয়েছে। আমাদের এক কোটি জনগণকে আশ্রয় দেয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের জনগণ অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। শুধু তাই নয় আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন রক্ষার্থে ভারতের তৎকালীন সরকার প্রধান ইন্দিরা গান্ধী বিশ্ব পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যতদিন থাকবে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব কোনভাবেই বিনষ্ট হবে না”।

মন্ত্রী আরো বলেন, “বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আমি দুদেশের কিছু অমিমাংসিত বিষয় উল্লেখ করতে চাই। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিসহ দুদেশের মধ্যে অন্যান্য অমিমাংসিত বিষয় আমরা অবশ্যই সমাধান করতে পারবো। ইতোমধ্যে আমরা দুদেশের স্থলসীমান্ত সমস্যা, সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত সমস্যা সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে পেরেছি”।

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “বাঙালি জাতির ইতিহাসের সম্পদ হচ্ছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর ভারতবর্ষের ইতিহাসের মহানায়ক মহাত্মা গান্ধী। উভয়ের মধ্যে অসাধারণ সাদৃশ্য রয়েছে। মহাত্মা গান্ধী অহিংস আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন-সার্বভৌম করার জন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীন-সার্বভৌম জাতিতে পরিণত করার জন্য আইনানুগ প্রক্রিয়ায় লড়াই করেছেন।জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। অন্যথায় যার যা কিছু আছে তা নিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার কথা তিনি বলেছেন। অপরদিকে মহাত্মা গান্ধী আফ্রিকা থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে অহিংস বাণীর কথা যেভাবে প্রচার করেছিলেন, সে দর্শন ছিল বিস্ময়কর। তাই বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীত শুধু ছবি দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গভীরে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর জীবনালেখ্য জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন ও দেশপ্রেমের কথা বুঝতে হবে”।

তিনি আরো বলেন, “আজ ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক একটা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারত অসাম্প্রদায়িকতা প্রাধান্য দেয়। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম বিষয় হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা। মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনার কথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আজকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকার একই উচ্চারণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববন্ধু বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন বঙ্গবন্ধুর মতো নিপীড়িতের কণ্ঠস্বর এ উপমহাদেশের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে”।

“আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর যে লক্ষ্য ছিল, যে দর্শন ছিল, যে বিশ্বাস ছিল, মানবকল্যাণে আত্মোৎসর্গের জন্য তাদের যে রাজনীতি ছিল সে রাজনীতি হোক আমাদের পাথেয়। আর যখনই বাংলাদেশ কিংবা ভারত প্রান্তে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, শান্তির পৃথিবী নির্মাণের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করে আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবো”-যোগ করেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশের উন্নয়নসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ভারতের চমৎকার ভূমিকার কথা স্মরণ করে মন্ত্রী আরো বলেন, ” আমরা পরস্পরের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারণ করবো। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসহ অভিন্ন সীমান্ত, অভিন্ন পানি আমরা সম্মিলিতভাবে ব্যবহার করছি। এই ধারা অব্যাহত রেখে ভারত ও বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সম্প্রীতির অনন্য উদাহরন হিসেবে তুলে ধরতে হবে। শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয় বরং সমগ্র বিশ্বে যৌথভাবে নেতৃত্বের আসনে উভয় দেশকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে”।

পরে মন্ত্রী জেলা শিল্পকলা একাডেমি খুলনায় বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৬, ২০২১ ১২:৪২ অপরাহ্ন
ধানের খড়ের মূল্য বৃদ্ধি, বিপাকে গরু খামারিরা
প্রাণিসম্পদ

লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুরে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ধানের খড়। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি গরুর খামারিরা।

সারা বছরের গো-খাদ্যের জোগান দিতে সাধারণত এই সময়ে গরু খামারিরা শুকনো খড় সংগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু গত য়েক বছরে খড়ের মূল্য বেড়েই চলছে বলে জানান স্থানীয় খামারিরা।

রায়পুরের উদমারা, হায়দরগঞ্জ, খাসেরহাট ও চরমান্দারি ও হামছাদিসহ-বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রান্তিক গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি গন্ডা (৮ শতাংশ) জমির খড় ক্ষেতেই বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা করে। শুকিয়ে বাড়ি ও খামারে নিতে খরচ পড়ে প্রায় ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ট্রাক ও ট্রলি ভর্তি করে দূরদূরান্তে যারা খড় নিচ্ছেন, তাদের আরও বেশি খরচ হচ্ছে।

সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের একজন ক্ষুদ্র খামারি জানান,  ৭/৮টা গরু পালন করি। গরুর খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের সারা বছরের একমাত্র ভরসা খড়। কিন্তু এ বছর যেভাবে খড়ের দাম বেড়েছে আগামীতে গরু পালন করা সম্ভব হবে কিনা দুশ্চিন্তায় রয়েছি। ধানের চেয়ে খড়ের দাম বেশি মনে হচ্ছে।

রায়পুরের চরআবাবিল ইউপির কৃষক সুজল মাঝি জানান, বর্তমানে ধান চাষে খরচ অনেক বেশি হয়। কীটনাশকসহ দিনমজুরের খরচ সবকিছুই বেড়েছে। সে কারণেই খড়ের দামও বেশি। এখন ধানের দাম ঠিকমতো পাওয়া যায় না। খড়ের দাম বাড়াতে আমরা কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারছি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আইয়ূব মিঞা বলেন, খড়ের দাম বাড়াতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও হতাশ গরু খামারিরা। গরুর মাংস ও দুধের দামে প্রভাব পড়তে পারে। আমরা খামাীরদের সার্বিকভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৫, ২০২১ ১:১১ অপরাহ্ন
গরুর পরিচর্যায় এবার পুলিশ সদস্যরা
প্রাণিসম্পদ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া ৪টি গরু গত চার দিন ধরে পরিচর্যা করছেন পুলিশ সদস্যরা। চারটি গরুর মধ্যে কালো রংয়ের গরুটি দুধ দেওয়া গাভী এবং একটি আইড়া বাছুর ও একটি বকনা বাছুর রয়েছে।

পরিচর্যার পাশাপাশি মালিকবিহীন গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া চর কর্ণেশনা কলাবাগান এলাকা থেকে ৪টি গরু উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে স্থানীয় মৃত সালাম শেখের দুই ছেলে জামাল শেখ (৩০) ও হারুন শেখকে ওই গরুগুলো চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে মামলা দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

সেই সঙ্গে চোর চক্রের মূলহোতা একই এলাকার গাজি কসাই ও চুন্নু কসাইকে ধরতে মাঠে নামে পুলিশ।

সরেজমিন শনিবার গোয়ালন্দ ঘাট থানা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, পুলিশ কনস্টেবল নুরুজ্জামান মিয়া পুলিশের গ্যারেজ থেকে গরুগুলো বাইরে আনছেন। অন্যদিকে গরুর খাবার প্রস্তুত করছেন পুলিশের আরেক সদস্য রকিবুল ইসলাম। শীত-কুয়াশায় খোলা আকাশের নিচে গরুগুলো যাতে অসুস্থ না হয় সেজন্য থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়েবীর গরুগুলোকে গাড়ি রাখার গ্যারেজে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দিনের বেলায় থানা প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে রেখে পরিচর্যা করা হচ্ছে। পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গরু লালন-পালন করা পুলিশ সদস্য মো. নুরুজ্জামান বলেন, আমি গ্রামের ছেলে। গ্রাম থেকে এসে পুলিশের চাকরি করছি। গত চার দিন ধরে স্যারের নির্দেশে গরুগুলোকে লালন-পালন করছি। পুলিশি সেবার বাইরে গরুগুলো লালন-পালন করতে সত্যি ভালো লাগছে। এতে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

গোয়ালন্দ থানার ওসি আব্দুল্লাহ্ আল তায়াবীর বলেন, আমরা গরুগুলোকে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করতে চাই। সেই তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যেহেতু গরুগুলো জব্দ করা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা ছাড়া আমরা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছি না।

রোববার আদালতে গরুর ব্যাপারে নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারকৃত দুই চোরের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান বলেন, গরুগুলোকে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে। গরুগুলো উদ্ধারের মাধ্যমে পুলিশ যে জনগণের জানমালের অতন্দ্র প্রহরী সেটি আরও একবার প্রমাণ করেছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৪, ২০২১ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
১০ হাজার মুরগির খামার জয়পুরহাটে
প্রাণিসম্পদ

পোলট্রিশিল্পে সারা দেশের মধ্যে জয়পুরহাট দ্বিতীয় আর সোনালি মুরগি উৎপাদনের দিক থেকে প্রথম। সোনালি জাতের এই মুরগির উদ্ভাবনও জয়পুরহাটে। পোলট্রি ভিলেজ বলে পরিচিতি পেয়েছে আক্কেলপুরের জামালগঞ্জ এলাকা। সবজির জন্য পরিচিত জয়পুরহাটে পোলট্রিশিল্পের বিপ্লব ঘটে প্রায় দুই যুগ আগে। জেলাজুড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি মুরগির খামার আছে।

পোলট্রিশিল্পকে ঘিরে ফিড মিলও গড়ে উঠেছে। জেলার আড়াই লাখ মানুষ এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পোলট্রিশিল্পের সঙ্গে জড়িত।

জেলায় পোলট্রিশিল্পে প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এই শিল্পে সারা দেশের মধ্যে জয়পুরহাট দ্বিতীয় আর সোনালি মুরগি উৎপাদনের দিক থেকে প্রথম। সোনালি জাতের এই মুরগির উদ্ভাবনও জয়পুরহাটে।

জেলায় পোলট্রিবিপ্লবের পেছনে রয়েছে ‘সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার’। এটি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের জামালগঞ্জে অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলে অর্থাৎ, ১৯৩৭ সালে ৩০ বিঘা জমিতে সরকারি এ খামারটি নির্মিত হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও মুরগির খামার মালিকরা জানায়, জামালগঞ্জে অবস্থিত এই খামারের প্রথম নাম ছিল সরকারি হাঁস-মুরগির খামার। এখন হাঁস বাদ দিয়ে নামকরণ হয়েছে সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার। ২০০০ সালের পর মূলত জেলায় পোলট্রিবিপ্লব ঘটে। তৎকালীন সরকারি হাঁস-মুরগি খামারের সহকারী পরিচালক মো. শাহ জামাল সোনালি জাতের মুরগি উদ্ভাবন করেন। প্রথমে শাহাপুর গ্রামের ১০টি মুরগির খামারে নতুন জাতের এই সোনালি মুরগি পরীক্ষামূলকভাবে লালনপালন শুরু হয়। নতুন উদ্ভাবিত সোনালি জাতের এই মুরগি দেখতে অনেকটা দেশি মুরগির মতো, মাংসের স্বাদও একইরকম।

২০১০ সালের দিকে দেশব্যাপী নতুন জাতের এই সোনালি মুরগির বিস্তৃত লাভ করে। জয়পুরহাট জেলাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে একের পর এক বাণিজ্যিকভাবে সোনালি মুরগির খামার গড়ে ওঠে। আগে যে জমিতে ধান-সবজি চাষ হতো, এখন সেখানে উঠেছে পাঁচ থেকে সাততলার মুরগির খামার। এই শিল্পকে ঘিরে ১১ হাজার ৫৭০ জন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। জেলায় ১১টি পোলট্রি ফিড কারখানা ও ৫৫টি হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন গড়ে চার লাখ ডিম, তিন লাখ এক দিনের সোনালি মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে। পোলট্রিশিল্পকে ঘিরে ভেটেরিনারিও সমৃদ্ধি লাভ করেছে। জেলায় পোলট্রিশিল্পের ওষুধ খাতে বছরে ২২ থেকে ২৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়।

জয়পুরহাট পদ্মা ফিড অ্যান্ড চিকেন ব্যবস্থাপনার পরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, এ শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য জেলায় একটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন জরুরি। এ ছাড়া মানসম্পন্ন ফিড উৎপাদন নিশ্চিতের জন্য কারখানাগুলোতেও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

জয়পুরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খামারিদের প্রশিক্ষণ, নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও কারিগরি সহায়তায় নিবিড় তদারকি করছে। এ শিল্পের প্রসারে আরও কাজ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ৩, ২০২১ ২:২৪ অপরাহ্ন
আশুলিয়ায় খামারে বিষ প্রয়োগে ২৫০টি হাঁস হত্যা
প্রাণিসম্পদ

সাভারের আশুলিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বিষ প্রয়োগ করে দেশি ও বিদেশি প্রজাতির প্রায় ২৫০টি হাঁস মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হাসগুলোকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ খামারির। মারধর করা হয়েছে খামারের ম্যানেজারকেও। এতে তার চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন খামারি।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার দরগারপাড় এলাকায় রাশেদ ভূইয়ার খামারে এ ঘটনা ঘটে।

খামারের মালিক রাশেদ ভূইয়া জানান, তার চাচাতো ভাইয়ের লিজ নেয়া জায়গায় এক বছর আগে শখ করে হাঁসের খামার গড়ে তুলেন তিনি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদেশি প্রজাতির ১০০টি বেলজিয়াম ও ১৫০টি খাকি ক্যাম্বেল প্রজাতির হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে খামার করেন। হাসগুলো দেখাশুনা করার জন্য একজন ম্যানেজারও রাখেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ম্যানেজার তাকে ফোন করে জানায় জাহাঙ্গীর, ফারুক ও বশিরসহ অজ্ঞাতনামা দুই তিনজন মিলে তার কাছে শেডের চাবি চায়। চাবি না দিলে তাকে মারধর করার একপর্যায়ে জীবন রক্ষার্থে সে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে এসে দেখেন হাঁসগুলো লাফিয়ে লাফিয়ে মারা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই জাহাঙ্গীরের সাথে জমি নিয়ে তার বিরোধ চলে আসছে। গতকালকেও জাহাঙ্গীর খামারে দুইটা লোক পাঠিয়ে ১০টা হাস চেয়েছিল খাওয়ার জন্য। এতে রাজি না হওয়ায় হুমকি দিয়ে যায়। আমি জিডিও করেছিলাম। এরই জেরে তার হাসগুলো মেরে ফেলা হয়েছে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসওয়াদুর রহমান বলেন, রাশেদ ভূইয়া নামে এক ব্যক্তি তাকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় জিডি করেছেন। তবে হাঁস মারা যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাভার উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করার পর বিষয়টি আমরা দেখবো। পরে পুলিশের মাধ্যমে মরে যাওয়া হাঁস ফরেনসিতে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২, ২০২১ ৯:১৩ অপরাহ্ন
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ঘড়িয়াল অবমুক্ত
প্রাণিসম্পদ

রাজশাহীর পদ্মা নদীতে একটি ঘড়িয়াল অবমুক্ত করা হয়েছে। রাজশাহী বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঘড়িয়ালটি অবমুক্ত করে। তারা খুলনা বন বিভাগের কাছ থেকে ঘড়িয়ালটি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে পদ্মা নদীর রেলবাজার এলাকায় এটি অবমুক্ত করা হয়।

জানা যায়, পুরুষ জাতের ঘড়িয়ালটির ওজন দুই কেজি। এর দৈর্ঘ্য ২৮ ইঞ্চি। ধরা পড়ার পর এটি খুলনা বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে ছিল। আজ সকালে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘড়িয়ালটি অবমুক্ত করার সময় রাজশাহী বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির, ওয়াইল্ড রেঞ্জার হেলিম রায়হান, ফরেস্টার মোশাররফ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

জাহাঙ্গীর কবির জানান, গত ২৮ নভেম্বর ঘড়িয়ালটি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নদীতে নওয়া গ্রামের জেলেদের জালে আটকা পড়ে। পরে খুলনা বন বিভাগ জেলেদের কাছ থেকে ঘড়িয়ালটি উদ্ধার করে রাজশাহী বন বিভাগের কাছে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, নববঙা একটি ছোট নদী। সে জন্য সেখানে অবমুক্ত করা হয়নি। বংশবিস্তারের সুবিধার্থে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ছাড়া হয়েছে। এখানে আরও ঘড়িয়াল রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২, ২০২১ ২:৫৯ অপরাহ্ন
শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ক্রীড়াঙ্গন সমৃদ্ধ হয়েছে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মোঃ ইফতেখার হোসেন : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমৃদ্ধ ক্রীড়াঙ্গনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ক্রীড়াঙ্গন সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশ্বের বুকে আমাদের গৌরবের একটি বড় স্থান করে দিয়েছে দেশের ক্রীড়াবিদরা। ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য ক্রীড়াক্ষেত্রে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, অসামান্য গৌরব বয়ে আনবে”।

বৃহস্পতিবার (০২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশন আয়োজিত বঙ্গবন্ধু ৫ম আন্তঃসার্ভিস জাতীয় ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতা ২০২১ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সভাপতি উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহম্মেদ (অব.), বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্ণেল মোঃ. নজরুল ইসলাম (অব.), ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান নারীর ক্ষমতায়ন। তিনি চান নারীরা সামনের দিকে এগিয়ে যাক। প্রশাসন থেকে শুরু করে ক্রীড়াঙ্গনে সর্বত্র নারীদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সন্তানরা, বিশেষ করে নারী ক্রীড়াবিদরা দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে চমৎকার সাফল্য দেখাচ্ছে। এটা দেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক”।

এর আগে মন্ত্রী ভারোত্তোলনের বিভিন্ন শ্রেণিতে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের পুরস্কার তুলে দেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop