১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ ৪:৪৩ অপরাহ্ন
হাঁস পালন করে মাসে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন ইয়াকুব
প্রাণিসম্পদ

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে বিরাজ ব্যাপারীর ছেলে ইয়াকুব আলী ব্যাপারীর এখন প্রায় তিন‘শ হাঁস রয়েছে। তিনি এই হাঁস থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা করে মাসে ইনকাম করেন প্রায় ষাট হাজার টাকা।

তিনি জানা, এতদিন দুইশ আশি থেকে তিনশ ডিম দিয়েছে। হারানোর ফলে এখন ডিম কমে এসেছে। তিনশ ডিম দিলে তা কম করে হলেও তিন হাজার টাকা বিক্রি প্রতিদিন খাওয়া খরচ আটশ থেকে হাজার টাকা বাদ দিলে লাভ প্রায় প্রতিদিন দুই হাজার টাকা মানে মাসে প্রায় ষাট হাজার টাকা। তার হাসের বয়স প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে। এ বছর আবার নতুন বাচ্চা কিনতে হবে। প্রতিটি বাচ্চা পয়ত্রিশ টাকা করে কিনেছিলেন এখন প্রত্যেকটি হাস তিন থেকে চারশ টাকা, গড়ে একটা লাভ রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকরা জানান, হাঁসের রোগ বালাই সাধারণত কম হয়। তবে কিছু মৌসুমে ডাক প্লেগ ও ডাক কলেরা রোগের সম্ভাবনা থাকে। তাই বাচ্চার বয়স ২১ দিন থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ডাক প্লেগের ভ্যাকসিন এবং ৭৫ দিনের মধ্যে ডাক কলেরার ভ্যাকসিন দিয়ে নিলে এসব মহামারী রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, ছোটভাকলার ইয়াকুব আলীসহ উপজেলার দেআগ্রাম, উজানচর ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক দরিদ্র পরিবার ক্ষুদ্র আকারে হাঁসের খামার করে লাভবান হয়েছেন। তবে উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের ইয়াকুব আলী অল্প শিক্ষিত হয়েও পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ও কঠোর পরিশ্রম করে উপজেলার মধ্যে সফল হাঁস খামারি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। যে কোনো বেকার নারী-পুরুষ হাঁস পালনে এগিয়ে এলে সবাইকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সাহায্য করা হবে। শুধু হাস পালন নয়, অন্যান্য যে কোনো খামার করলেই তাদেরকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ৫:৫২ অপরাহ্ন
প্রফেসর ড.আবু হেনা ‘ভেট সোসাইটি অব পাবনা’র সভাপতি
প্রাণিসম্পদ

সিকৃবি প্রতিনিধি: দেশের ভেটেরিনারি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে পাবনা জেলার ভেটেরিনারিয়ানরা প্রথম বারের মতো গঠন করলেন ‘ভেট সোসাইটি অব পাবনা’।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এন্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড.আবু হেনা মোস্তফা কামালকে সভাপতি করে ৬৭ সদস্যদের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রফেসর ড.হেনা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।কর্মজীবনে তিনি সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যক্ষ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিন,বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ১০:২২ পূর্বাহ্ন
BLRI উদ্ভাবিত, আফতাব কর্তৃক বাজারজাতকৃত ‘মাল্টি কালার টেবিল চিকেন’ এর এ টু জেড
পোলট্রি

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএলআরআই ) দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন দেশীয় জাতের মুরগি উদ্ভাবন করে এখন পরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার কাজ শুরু করেছে, এর জন্য আফতাব বহুমুখী ফার্মসের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বিএলআরআই। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এখনো যৌথ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

গবেষণাগারে উদ্ভাবিত এই মুরগির পালক বহুবর্ণ হবার কারণে এর নাম দেয়া হয়েছে ‘মাল্টি কালার টেবিল চিকেন’। এটি দ্রুত পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে, অর্থাৎ খাওয়ার উপযোগী হয়। এই মুরগি আট সপ্তাহ মানে ৫৬দিনে মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হবে বলে জানিয়েছেন বিএলআরআই এর পোল্ট্রি উৎপাদন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাকিলা ফারুক।

মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে শাকিলা ফারুক জানিয়েছেন, এ মুরগি মূলত দেশে মাংসের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্ভাবন করা হয়েছে। “মাল্টি কালার টেবিল চিকেন খুব দ্রুত বাড়ে। এটি মাংস খাওয়ার জন্য উৎপাদন করা হবে, ডিমের জন্য ব্যবহার করা হবে না। আট সপ্তাহের মধ্যে এর ওজন সাড়ে নয়শো গ্রাম থেকে এক কেজির মত ওজন হয়।” কিন্তু এর স্বাদ এবং মাংসের গুণাগুণ দেশি মুরগির মতই।

মুরগির শারীরিক গঠন, ঠোট ও ঝুঁটি দেশি মুরগির মত, এর পালকও অনেক রঙ এর হয়। এই মুরগি দেখতে দেশীয় জাতের মুরগির মত। এই মুরগিকে দেশীয় ব্রয়লার বলে থাকেন কেউ কেউ।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট ২০১৪ সালে প্রথম নতুন মুরগির এ জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করে।২০১৮ সালে গবেষণাগারে সাফল্যের পর মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় খুলনা, বরিশাল এবং পাবনায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়েছে। এখন খুব অল্প পরিসরে মাল্টি কালার টেবিল চিকেন উৎপাদন করা হচ্ছে।

এই মুহূর্তে চারটি সরকারি এবং দুইটি বেসরকারি খামারে নতুন জাতের মুরগি উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শাকিলা ফারুক। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে পরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার জন্য আফতাব বহুমুখী ফার্মসের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট। গবেষণায় দেখা গেছে আট সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মৃত্যুহার ২ শতাংশের নিচে।

ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির সাথে ‘মাল্টি কালার টেবিল চিকেন’ এর পার্থক্য:
বাংলাদেশে গত এক দশকে মুরগির চাহিদা এবং ব্যবহার অনেকগুন বেড়েছে।এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগি যেমন রয়েছে, তেমনি দেশি মুরগি, সোনালী মুরগি, যা পাকিস্তানি মুরগি নামেও পরিচিত এগুলো বেশ জনপ্রিয়। এই মুরগিগুলোর মাঝে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ব্রয়লার মুরগি ২৮-৩২ দিনে খাওয়ার উপযোগী হয়, অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির ওজন এক থেকে দেড় কেজি হয়।সোনালি মুরগির এক কেজি ওজনে পৌঁছাতে সময় লাগে ৭০-৮০ দিন।

কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাজারজাত করতে অন্তত আট সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।ব্রয়লার মুরগির মাংস ও হাড় নরম হয়, কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মাংস ও হাড় দেশি মুরগির মত শক্ত।ব্রয়লার মুরগি পালনে বড় জায়গা, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা এবং আলো-বাতাসের দরকার হয়, কিন্তু এ মুরগি পালনের ক্ষেত্রে দেশি জাতের মুরগির মত খোলা জায়গায় পালন করা যায়।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট জানিয়েছেন, এই মুরগি লালনপালন সহজ, ফলে প্রান্তিক খামারীদের জন্য এটি পালন সহজ হবে এবং ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হবার সুযোগ বেশি থাকবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ ৭:০৭ অপরাহ্ন
৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ
প্রাণিসম্পদ

চলতি বছর প্রধান প্রজনন মৌসুমে আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে সব ধরনের মৎস্য আহরণও এ সময় নিষিদ্ধ থাকবে। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে এ সময় মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও মোঃ তৌফিকুল আরিফ, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরশেনের চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান মোঃ মতিউর রহমান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, মৎস্য বিজ্ঞানী ও গবেষকবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, র‌্যাব, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, ওয়ার্ল্ড ফিশ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “মৎস্য খাতকে কোনভাবেই ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার নির্দেশনা, নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতায় ভাতে-মাছে বাঙালির বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। মৎস্যসম্পদ রক্ষার মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, বেকারত্ব দূর হচ্ছে, উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে এবং দেশের রফতানি আয় বাড়ছে।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় স্বার্থ যারা ধ্বংস করতে চাইবে, তাদের বিষয়ে কোন ধরণের বিবেচনা বা অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে কঠিন থেকে কঠিনতর পদক্ষেপ নিতে আমরা কুন্ঠা বোধ করবো না। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় যত কঠিন হওয়া লাগে, তত কঠিন হতে হবে। কাউকে এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই”।

ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত বছরের তুলনায় অধিক সফল করার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিজ দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে সঠিক কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের এ সময় আহ্বান জানান তিনি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সব ধরনের দায়-দায়িত্ব নেবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ ৫:০৪ অপরাহ্ন
সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের আহ্বান ফিআব এর
পোলট্রি

সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক হাঁস-মুরগি,মৎস্য ও গবাদিপশুর খাদ্য তৈরির অত্যাবশ্যকীয় একটি উপকরণ ‘সয়াবিন মিল’ রপ্তানির অনুমতি প্রদান করায় খামারি ও উদ্যোক্তাদের মাঝে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন বাংলাদেশ(ফিআব)।

আজ বুধবার(২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারের “লা ভিঞ্চি হোটেল” এর কনফারেন্স রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এহতেশাম বি. শাহজাহান, সভাপতি, ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ(ফিআব), মোঃ আহসানুজ্জামান(ফিআব), সাধারণ সম্পাদক, ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ, মসিউর রহমান, সদস্য, ফিআব, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)  এবং সভাপতি, ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি), শামসুল আরেফিন খালেদ, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি), সাইফুল আলম খান, সদস্য, ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব), আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান, সদস্য, ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব)।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পোল্ট্রি, ডেইরি ও প্রাণিখাদ্য তৈরিতে প্রধান যে কাঁচামালগুলো ব্যবহৃত হয় তার মধ্যে- ভুট্টা, সয়াবিন মিল, গম, আটা, ময়দা, ভাঙা চাউল, চাউলের কুড়া, ফিশ মিল, সরিষার খৈল, তৈল, ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি অন্যতম। এর মধ্যে দু’টি উপকরণ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় (১) ভুট্টা এবং (২) সয়াবিন মিল। ভুট্টার ব্যবহার প্রায় ৫০-৫৫ শতাংশ এবং সয়াবিন মিলের পরিমান প্রায় ২৫-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছর থেকে ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশীয় মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ ভুট্টা দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে সয়াবিনের উৎপাদন নিতান্তই নগণ্য।

No description available.

 

বক্তারা বলেন, বর্তমানে চাহিদাকৃত ‘সয়াবিন মিল’ দেশীয় সয়াবিন তৈল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও ভারত, আমেরিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা প্রভৃতি দেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে ‘সয়াবিন মিল’ এর মোট চাহিদা বছরে প্রায় ১৮-২০ লক্ষ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭৫-৮০ ভাগ দেশীয় সয়াবিন তৈল উৎপাদকারি প্রতিষ্ঠান হতে এবং অবশিষ্ট ২০-২৫ ভাগ আমদানির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

দেশে উৎপাদিত সয়াবিন মিলের একমাত্র ক্রেতা হচ্ছে পোল্ট্রি, মৎস্য, ক্যাটল ও ফিড উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ খামারিবৃন্দ উল্লেখ করে তারা জানান,সয়াবিন মিলের রপ্তানির সিদ্ধান্তে খামারিরা উদ্বিগ্ন কারন ডিম, মাছ, মুরগি উৎপাদনে মোট খরচের প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ খরচই হয় ফিড ক্রয় বাবদ। তাই ফিডের মূল্য বৃদ্ধি পেলে খামারিদের উৎপাদন খরচ বাড়ে; অন্যদিকে খরচের বিপরীতে পণ্যের নায্য দাম না পাওয়ায় বড় অংকের লোকসানের মুখে পড়তে হয় তাঁদের।

তারা বলেন, অতীতে চাহিদা মেটাতে সিংহভাগ সয়াবিন মিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হলেও এলসি করা, অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে জটিলতা, ল্যাব টেস্টের জটিলতা, বিলম্ব মাশুল, ইত্যাদি নানাবিধ জটিলতার কারণে সয়াবিন মিল আমদানির পরিমান সাম্প্রতিক বছরগুলো ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে।

No description available.

বর্তমানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন মিল আমদানি করতে হলে এলসি করা থেকে শুরু করে বন্দরে মাল এসে পৌঁছানো পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় ৫০ দিন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সময় লাগে ৭০ দিন। ভারত থেকে সড়কে ৭-১০ দিন, কনটেইনারে ১৫-২০ দিন। বিশ্ববাজারে এবং সেই সাথে পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে সয়াবিন মিলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সে দেশের পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস শিল্প রক্ষা করতে এবং স্বল্পতম সময়ে বাংলাদেশ থেকে সয়াবিন মিল আমদানির জন্য আগ্রহ বেড়েছে ভারত, নেপাল প্রভৃতি দেশের ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর। আমাদের উদ্বৃত্ত থাকলে রপ্তানি করতে কোন অসুবিধাই ছিলনা কিন্তু দেশের চাহিদা যখন দেশীয়ভাবে পূরণ করা যাচ্ছে না; তখন রপ্তানির সিদ্ধান্ত কেন? প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

“সয়াবিন মিল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার” এমন খবর জাতীয় সংবাদ-মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সয়াবিন মিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন মিলের দাম কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা বৃদ্ধি করেছে; সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে; ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় হতে সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের সুস্পষ্ট মতামতসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি প্রদান করলে এগুলোর কোন কিছুই আমলে না নিয়ে একতরফাভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানির সিদ্ধান্তে অনঢ় রয়েছে এবং ভারত ও নেপালে সয়াবিন মিলের রপ্তানি চালু রয়েছে। শুধু তাই নয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সয়াবিন মিল বন্ধের আদেশ প্রদান করলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপের কারণে তা পুনরায় প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তারা।

মসিউর রহমান বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ এই তিন মন্ত্রাণালয় থেকে সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের সুপারিশ করলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা উপেক্ষা করাটা সত্যি দুঃখজনক। তিনি বলেন,যারা আমাদেরকে পেঁয়াজ সংকটের সময় পেঁয়াজ দিতে চাই না, করোনার এই ক্রান্তিকালে ভ্যাক্সিন দিতে চাচ্ছে না। তাদের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এমন উদারতা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক মাসের ভিতরে বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ ফিড মিল এবং ৫০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে যাবে।আর এভাবে বন্ধ হয়ে গেলে বিদেশীরা আমাদের এই পোল্ট্রি সেক্টরও দখল করে নিবে। তারা এখানে ব্যবসা শুরু করলে আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১ ১:০৫ পূর্বাহ্ন
৬ মাসের মধ্যে মৎস্যজীবীদের নিবন্ধন
প্রাণিসম্পদ

মৎস্যজীবীদের সরকারি সব সুবিধা পৌঁছে দেয়ার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের নবনির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র উদ্বোধন শেষে সোমবার তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্যজীবী নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া, মৎস্যজীবীদের তালিকা হালনাগাদ করা চলমান রয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে মৎস্যজীবীদের নিবন্ধন হালনাগাদ হয়ে যাবে। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা এ তালিকার আওতায় আসবেন।

‘মাছ ধরা বন্ধের সময় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকার সময় প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘মৎস্য আহরণ বন্ধ রাখার সময় পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। যারা সমুদ্রে মাছ ধরতে যাবেন তাদের আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা দেয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।’

দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনা সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে। ইলিশ নিয়ে গবেষণার জন্য গবেষণা কেন্দ্র করা হয়েছে। দেশের যে প্রান্তে ইলিশ কমে যাচ্ছে সে প্রান্তে উৎপাদন যাতে বাড়ানো যায়, ইলিশ যাতে নির্বিঘ্নে প্রজনন করতে পারে, এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

‘যেসব নদীতে ইলিশ ছিল, কিন্তু এখন নেই সেখানে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অভয়াশ্রম করা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত মৎস্য আহরণ বন্ধ করার জন্য যেসব এলাকায় নজর দেয়া দরকার, সেসব এলাকায় নজর দেয়া হচ্ছে। নদীর গভীরতা যাতে নষ্ট না হয়, নদীর গতি-প্রকৃতি যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখছি।

‘নদীর নাব্যর কারণে মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হবে।’

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকার সময় সীমান্তবর্তী ভারতের নদী বা সমুদ্র এলাকায় একই সময়ে মৎস্য আহরণ বন্ধের বিষয়টি ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের খেপুপাড়া নদী উপকেন্দ্রের অফিস কাম গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
নতুন জাতের মুরগি উদ্ভাবন, এক কেজি হতে লাগবে ৫৬ দিনে
পোলট্রি

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএলআরআই) জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে ধারাবাহিক সিলেকশন ও ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে অধিক মাংস উৎপাদনকারী একটি মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছে। পরিবর্তনশীল আবহাওয়া উপযোগী এই মুরগির জাতটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাল্টি কালার টেবিল চিকেন’ (এমসিটিসি)।

গবেষকদের দাবি, এটি অধিক মাংস উৎপাদনকারী মুরগির জাত। বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং জলবায়ুর প্রেক্ষাপটেই এর উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আতাউল গনি রাব্বানী বাংলা জানান, ‘বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে আমরা মুরগির পরীক্ষা করিয়েছি। এমসিটিসি সংশ্লিষ্ট যত ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার সেগুলোও সম্পন্ন হয়েছে। দেখা গেছে, এই মুরগির মাংসের গুণাগুণ দেশি মুরগির অনুরূপ।’‘এমসিটিসি জাতের মুরগির মাংসের স্বাদ ও পালকের রং দেশি মুরগির মতো মিশ্র বর্ণের হওয়ায় খামারিরা দাম প্রচলিত সোনালি বা অন্যান্য ককরেল মুরগির তুলনায় বেশি পাবেন। এই জাতের মুরগি পালনে জায়গার পরিমাণ, ব্রিডিং, তাপমাত্রা, আলো ও বায়ু ব্যবস্থাপনা অন্যান্য মুরগির মতোই। এই জাতের মৃত্যুর হার খুবই কম। বিএলআরআই পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় সর্বোচ্চ ১.৫ শতাংশ মৃত্যুহার পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

বিএলআরআইয়ের গবেষকরা বলছেন, মাংসের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এ জাতের উদ্ভাবন করা হয়েছে। আট সপ্তাহে (৫৬ দিনে) এই মুরগির গড় ওজন হবে ৯৭৫ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত। এ ওজন হতে প্রতিটি মুরগির প্রায় ২.২০-২.৪০ কেজি খাবার খায়। যেখানে বাজারে বহুল প্রচলিত অনেক মুরগির এই ওজনে আসতে প্রায় ৯০ দিন লেগে যায়।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল জলিল জানান, ‘এমসিটিসি মুরগির জাতটিকে আমরা বলে থাকি, দেশীয় ব্রয়লার। সরকারি চারটা ফার্ম এবং প্রাইভেট দুইটা ফার্মের মাধ্যমে আমরা পুরো বাংলাদেশকে কাভার করার চেষ্টা করছি। পরবর্তী সময়ে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আরও অন্যান্য এলাকায় এর কার্যক্রম পরিচালনা করবো। এক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর কার্যক্রমটি পরিচালনা করবে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ ১:৩৭ অপরাহ্ন
​যুক্তরাজ্যের খামারে শনাক্ত হলো গবাদিপশুর নতুন রোগ
প্রাণিসম্পদ

যুক্তরাজ্যের সমারসেটের একটি খামারে বিএসই নামের একটি গবাদিপশুর রোগ শনাক্ত হয়েছে। রোগটি ম্যাড কাউ নামেও পরিচিত।

রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এসব জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। খামারটিতে একটি গরু মারা গেছে এ রোগে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের দ্য এনিম্যাল এন্ড প্ল্যান্ট হেলথ এজেন্সি (এপিএইচএ) জানিয়েছে, গরুটির মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সংক্রমণের উৎস খুঁজতে তদন্ত চলছে। প্রধান ভেটেনারি অফিসার ক্রিস্টিন মিডলমিস বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা বা জনস্বাস্থ্যের কোন ঝুঁকি নেই। কৃষকদের জন্য কঠিন সময় আসছে। আমরা আছি পরামর্শ দেওয়ার জন্য।

যুক্তরাজ্যে ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি পশুর শরীরে ম্যাড কাউ রোগ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে এপিএইচএ। এর আগে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে রোগটি দেশটিতে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময়ে ম্যাড কাউ রোগ নিয়ন্ত্রণে লাখ লাখ গরু হত্যা করা হয়েছিল।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ৫:৩৭ অপরাহ্ন
এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ন্ত্রণে দেশে শীঘ্রই ভ্যাকসিন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি জোরদারকরণ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান মন্ত্রী।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে এ সেমিনার আয়োজন করে।

সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, “খুব শীঘ্রই কারিগরী কমিটি গঠন করে ভ্যাকসিন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ হাতে নেওয়া হবে। যে ভ্যাকসিন আমাদের দেশে উৎপাদন হচ্ছে সে ভ্যাকসিনের মান আরো উন্নত করে এর পরিসর বাড়ানো হবে। যে সব রোগের ক্ষেত্রে আরো ভ্যাকসিনেশন দরকার সে সব রোগের ভ্যাকসিন উৎপাদন বাড়ানো হবে। আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজনে আরো বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে”।

“মেধাবী জাতি তৈরিতে পুষ্টিমানসমৃদ্ধ খাবার দরকার। সেক্ষেত্রে মাংস, মাছ, দুধ, ডিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পণ্যগুলো যদি গুণগত মানসম্পন্ন না হয়, শুধু উৎপাদন বাড়িয়ে মেধাবী জাতি সৃষ্টি করা যাবে না। সে জন্য মানসম্পন্ন পণ্য তৈরিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। আমাদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার রয়েছে, এর পরিসর আরো বাড়ানো হবে। কী কী প্রক্রিয়ায় গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়গুলোও গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”-যোগ করেন মন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “প্রাণিসম্পদ খাতকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ করতে চাই। এ খাত বেকারত্ব দূর করায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে, মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে, খাবারের একটি বড় যোগান দিচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে ভূমিকা রাখছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও এ খাত একটি বড় ধরনের সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে। এ খাতকে আমরা যত সমৃদ্ধ এবং গুণগত মানে উন্নত করতে পারবো, এ খাত ততই আমাদের কল্যাণ বয়ে আনবে।”

এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ কঠোর অবস্থানে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “একসময় দেশে বার্ড ফ্লু নিয়ে শঙ্কিত অবস্থা ছিল। সেখান থেকে অমাদের উত্তরণ হয়েছে। প্রতিবেশি দেশ থেকে কোনভাবে যেন বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ঘটতে না পারে সে জন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। জুনোটিক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি জায়গায় প্রতিটি স্তরে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে”।

“সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যার যার অবস্থান থেকে গুণগত সামর্থ্য কাজে লাগাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শের আলোকে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি”-জানান মন্ত্রী।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল জলিল ও এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও বিএলআরআই-এর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুবোল বোস মনি, মোঃ তৌফিকুল আরিফ ও এস এম ফেরদৌস আলমসহ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাণিসম্পদ খাতের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্যোক্তাগণ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ৪:২১ অপরাহ্ন
আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পের আওতায় মনোহরদীতে জনসচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পের আওতায় নরসিংদীর মনোহরদীতে এক জনসচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) এল.ডি.ডি.পি প্রশিক্ষণ হল রুম হাতিরদিয়া, মনোহরদীতে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (মনোহরদী) ডা. আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গরু লালন পালনের বিকল্প নেই। তাই নতুন প্রযুক্তির সাথে খামারিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাতে দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে সর্বাধিক লাভবান হওয়া এবং প্রাণিজ প্রোটিন সরবরাহের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রাণিজ আমিষের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩০ এর অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান বক্তারা।

উল্লেখ্য এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে সুফলভোগী খামারিদের বিনামূল্যে ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স, কৃমিনাশক ঔষুধ, হেলথ কার্ড, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, ঘাসের কাটিংসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ফলে নারী-পুরুষ হয়ে উঠেন স্বাবলম্বী।

এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী খামারি, মনোহরদীর ইমাম উদ্দিন জানান, আগে আমরা আমাদের মত করে গরু পালন করতাম। বছর শেষে লাভ হতো খুব কম। এখন আমার আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পের নির্দেশনায় গরু পালন করে আগের থেকে বহুগুন মোটাতাজা গরু বিক্রি করতে পারছি এবং সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে।

এই প্রকল্পের আরেক সুবিধাভোগী আমেনা বেগম জানান, আমরা আগে জানতাম না গরু পালনের সঠিক নিয়ম। এখন আমরা আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ প্রকল্পের নির্দেশনায় গরু পালন করতে গিয়ে খুব কম খরচে সঠিক পরিচর্যায় গরু মোটাতাজা করতে সক্ষম হচ্ছি। এই প্রকল্প আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে বলে জানান মনোহরদীর এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ।

উল্লেখ্য যে “নিরাপদ মাংসের চাহিদা পূরণে, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে” ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের “আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ” প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করে । অল্প সময়ের মাঝে দেশের ৪৯১টি উপজেলায় প্রকল্পটির কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে ।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop