৪:৫৭ অপরাহ্ন

শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ৪, ২০২১ ৩:২৩ অপরাহ্ন
অনলাইনের গরু কেনা-বেচা, টাকা থাকবে ব্যাংকে
প্রাণিসম্পদ

অনলাইনে কোরবানির পশু কিনলে তা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন (ডিএনসিসি)ও মেয়র আতিকুল ইসলাম।

রোববার (৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় জুম প্লাটফর্মে ‘ডিএনসিসি ডিজিটাল গরু হাট ২০২১’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আতিকুল ইসলাম এ কথা জানান।

আরো পড়ুন: কোরবানির ডিজিটাল হাট শুরু

আতিকুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার পর কোনো গ্রাহকের প্রতারিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। গ্রাহক অনলাইনে গরু পছন্দের পর যে টাকা জমা দেন, ওই টাকা গরু হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা থাকবে। গ্রাহক গরু বুঝে পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংককে জানালে টাকা ছাড় হবে।

আরো পড়ুন: চলছে কোরবানির প্রস্তুতি, সারাদেশে হাট বসবে ২,৪০০টি

তিনি আরো বলেন, অনেক সময় অনলাইনে গ্রাহক গরু কেনেন একরকম, কিন্তু ডেলিভারির পর দেখেন গরু অন্যরকম বা অসুস্থ। এমন সমস্যা দূর করতে এই পদ্ধতি নেয়া হয়েছে।এবার অনলাইন হাটে এক লাখ গরু বেচাকেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশন, নারায়ণগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকার লোকজন অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে গরু কিনতে পারবেন বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার প্রমখ অংশগ্রহণ করেন

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৪, ২০২১ ১:৫৭ অপরাহ্ন
১৫ জুলাই থেকে বসছে কেসিসির কোরবানির হাট
প্রাণিসম্পদ

আগামী ১৫ জুলাই থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নগরীর জোড়াগেট পাইকারি কাঁচাবাজারে কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ১ জুলাই নগর ভবনে কেসিসির বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় জানানো হয়, পশুর হাট ইজারার জন্য পরপর তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি। এজন্য বিগত বছরের মতো এবারও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাট পরিচালিত হবে।

সভায় কোরবানির পশুর হাট সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপনকে আহ্বায়ক এবং ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইমাম হাসান চৌধুরী ময়নাকে সদস্য সচিব করে পশুর হাট পরিচালনা কমিটি-২০২১ গঠন করা হয়।

হাট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন জানান, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুর হাট পরিচালনায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করা হবে। আগতদের বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার, জীবাণুনাশক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রতিবারের মতো এবারও হাটে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। হাটে পশু আনতে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, এজন্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

গত বছর কেসিসির পশুর হাটে ছয় হাজার ১৬৯টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে ছিল চার হাজার ৭৭২টি গরু, এক হাজার ৩৬০টি ছাগল ও ৩৬টি ভেড়া। এ থেকে কেসিসি রাজস্ব আয় হয় এক কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭ টাকা।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৪, ২০২১ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
নাটোরের ৩ লাখ ৩৫ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত, বিক্রি হবে অনলাইনে
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে নাটোরের খামারিরা তিন লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৮টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। তিন লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৮টি কোরবানির পশুর মধ্যে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৪টি গরু ও মহিষ, বাকিগুলো ছাগল ও ভেড়া। এসব পশুর বাজারমূল্য অন্তত ৯০০ কোটি টাকা। এবার নাটোর জেলায় প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার কোরবানির পশু জবাই হবে বলে আশা করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে নাটোর পশুর হাট ও অনলাইন ডিজিটাল পশুর হাটসহ ৯টি অনলাইন প্লাটফর্ম তাদের কাজ শুরু করেছে। আরও কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য গড়ে উঠেছে অসংখ্য অনলাইন প্লাটফর্ম। যেগুলো থেকে ক্রেতা সহজেই পশু পছন্দ করে কিনতে পারবেন।

নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ১২ হাজার ১৫০টি পশুর খামার রয়েছে। এবার জেলার সবচেয়ে বৈচিত্রময় ও আকর্ষণীয় গরুর খামার করেছেন সদর উপজেলার ডালসড়ক এলাকার চাল ব্যবসায়ী রেকাত আলী। এই খামারের ১৮০টি গরুর মধ্যে বেশিরভাগ বিদেশি। এরমধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের শাহীওয়াল, ভারতের রাজস্থান ও উলুবাড়িয়া জাতের গরু। লাল, সাদা, কালো রঙের এসব গরু লম্বায় ৯ ফুট ও উচ্চতায় ৬ ফুটেরও বেশি।

প্রতি বছর কোরবানির হাটে তোলার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা গরু কিনতে তার খামারে ভিড় করলেও এবার পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন। বিষয়টি মাথায় রেখে গত বছর থেকে এই ব্যবসায়ী ‘কাউ মার্কেট’ নামে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম চালু করেছেন। এই অনলাইন প্লাটফর্ম থেকেই খামারের গরু বিক্রি করছেন তিনি।

খামারিরা জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে পুষ্টিকর খাবার- খৈল, গম, ভুষি, ছোলাসহ সবুজ ঘাস খাইয়ে খুব সহজেই গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন। ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহার করা হয়নি।

কোরবানির পশু বিক্রির জন্য প্রতি বছর জেলার ১৪টি পশুর হাট প্রসিদ্ধ হলেও গত বছর থেকে হাটে না গিয়ে এলাকার মানুষ খামারে গিয়ে সরাসরি গরু কিনতে বেশি পছন্দ করছে। আর দূরের মানুষ কিনতে শুরু করেছে অনলাইনে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী গত বছর জেলায় কোরবানির সাড়ে পাঁচ হাজার গরু, মহিষ অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। তারা আশা করছেন প্রযুক্তির উন্নতি ও করোনার ভয়াবহতার কারণে এবার মানুষ হাটে গিয়ে পশু কিনতে চাইবে না। তাই এবার অনলাইনে বেচাকেনা বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। এছাড়া করোনার প্রকোপ ঈদের আগে কমলে জেলার হাটগুলোও বসবে।

জেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির পশুর হাট বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাট বসে শুক্রবার, শনিবারে বাগাতিপাড়ার পেড়াবাড়িয়া, নলডাঙ্গা ও গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড়, রবিবার নাটোর সদরের তেবাড়িয়া, সোমবার গোপালপুরের মধুবাড়ী ও সিংড়া ফেরিঘাট, মঙ্গলবার চাঁচকৈড় ও জোনাইল, এবং বৃহস্পতিবার সদরের মোমিনপুরে গরুর হাটেও কোরবানির পশু পুরোদমে কেনাবেচা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৪, ২০২১ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
কোরবানির ডিজিটাল হাট শুরু
প্রাণিসম্পদ

শুরু হয়েছে কোরবানির পশু কেনা-বেচার ডিজিটাল হাট। এবারের ডিজিটাল হাটে শুধু ই-ক্যাব এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের খামারিরা পশু বিক্রি করতে পারবেন।

আজ রবিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে কোরবানির পশুর ডিজিটাল হাট। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) জেনারেল সেক্রেটারি মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রবিবার থেকে ডিজিটাল কোরবানির পশুর হাট শুরু হতে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়রসহ অনেকের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

ই-ক্যাব সূত্র জানায়, গত ৩০ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় ডিজিটাল কোরবানির পশুর হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় ও স্লটারিং সেবা সংক্রান্ত গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবারের ডিজিটাল কোরবানির হাট বাস্তবায়ন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন। এতে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে এটুআইয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম একশপ।

ই-ক্যাব জানায়, নির্দেশনায় জড়িত পক্ষগুলোর দায়দায়িত্ব এবং পশু ক্রয়-বিক্রয়ের নিয়ম ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহককে সময়মতো কোরবানির পশু দিতে না পারলে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে এই প্ল্যাটফর্মে ই-ক্যাব এবং বিডিএফএর অনুমোদিত সদস্যের প্রতিষ্ঠান শুধু অংশ নিতে পারবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকদের অনুমোদিত বিক্রেতারা পশু বিক্রি করতে পারবে। ক্রেতার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ ধরনের রক্ষণশীল কৌশল রাখা হয়েছে।

এই বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে জুম অনলাইনে অনুষ্ঠিত একসভায় ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেছিলেন, ‘এই হাট যেহেতু ঈদকেন্দ্রিক এবং এবার করোনা মহামারির প্রকোপও বেড়েছে, তাই আমরা চাই ক্রেতারা অনলাইন থেকে নিরাপদে পশু ক্রয় করুক। আমরা গতবার প্রান্তিক চাষিদের যুক্ত করলেও এবার যাচাই-বাছাই করা কঠিন হবে। আমরা শুধু ভেরিফায়েড বিক্রেতাদের সুযোগ দিচ্ছি।’

সভায় ই-ক্যাবের জেনারেল সেক্রেটারি মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল জানান, ‘আমরা সরকারের এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা নিয়ে ডিজিটাল হাট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই। তবে এবার আমরা ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগ ঘটিয়ে দেব। ক্রেতার আর্থিক নিরাপত্তা দিতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় সাময়িক স্ক্রো সেবা ব্যবহার করার চেষ্টা করছি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২১ ৫:৩৪ অপরাহ্ন
স্কুল বন্ধ, হাসের খামারে ব্যস্ত ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া রিফাত
প্রাণিসম্পদ

করোনায় সব স্তব্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহুমাস ধরে বন্ধ। ছাত্রদের সময় কাটছে আড্ডায়। আর ঠিক এই সময়টাতে ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া রিফাত (১২) ব্যস্ত ছোট খামার নিয়ে।

বগুড়ার শাজাহানপুরের ৫ম শ্রেণিতে পড়ে রিফাত। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছন। দীর্ঘ দিন বসে থাকার পর বাসা থেকে ১০০ টি পাতি হাঁস কিনে নিয়েছিলো। গ্রামের মাঠে ঘাটে হাঁস পালন করেন। প্রথম চালানেই ভালো দামে বিক্রি করেন। তারপর থেকে পরিবার থেকে হাঁস পালন করা উদ্যোগ নেন এবং হাঁস পালন করেন।

প্রতিটি হাঁস চার মাস পালন করে ১৭০-১৮০ টাকা পিস বিক্রি করেন। এতে করে পরিবার আর্থিক দিক থেকে সাবলম্বি হতে থাকেন। রিফাতের সফলতা দেখে গ্রামের আরো ছেলে খামার দিতে অগ্রহ প্রকাশ করছে।

এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ওরাসাতুল মোস্তফা সোহাগ জানান, রিফাতের এমন কাজে আমি খুব খুশি। তবে লেখাপড়ার যেন কোন ক্ষতি না হয় এদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। এ কাজ থেকে এলাকার যুবকদের উৎসাহ নিতে হবে, তবে সমাজের বেকারত্বের হার কমবে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২১ ২:৫৮ অপরাহ্ন
১০দিনের জন্য চট্টগ্রামে কোরবানির হাট বসবে ১২টি
প্রাণিসম্পদ

আর কিছুদিন পরেই কোরবানি। এই কোরবানিতে এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে পশুর হাট বসাতে চায় ১২টি । এর মধ্যে তিনটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এই তিন বাজারে সারাবছর পশু বেচাকেনা হয়। বাকি নয়টি অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি চেয়ে চসিকের রাজস্ব বিভাগের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

১২ জুলাই থেকে ২১ জুলাই ১০ দিনের জন্য এসব অস্থায়ী হাট বসাতে চায় চসিক।

জানা যায়, গত ৩১ মে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে অস্থায়ী হাট বসানোর অনুমতি চেয়ে চিঠি দেন। প্রস্তাবিত হাটগুলো হলো- কর্ণফুলী গরুবাজার (নুরনগর হাউজিং সোসাইটি), সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন মাঠ, স্টিলমিল বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (কাঠগড়), ৪১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি কে গ্রুপের খালি মাঠ, আমানবাজার ওয়াসা মাঠ, মাদারবাড়ি রেলক্রসিং সংলগ্ন বালুর মাঠ, কালুরঘাট ব্রিজের উত্তর পাশের মাঠের খালি জায়গায় অস্থায়ী হাট বসাতে চায় চসিক।

চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি হাট ব্যবস্থাপনায় জোর দেয়া হবে। তাই গতবারের তুলনায় বেশি হাট বসানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কারণ হাট বেশি হলে মানুষ তার কাছের হাট থেকে কোরবানির পশু কেনার সুযোগ পাবে।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২১ ২:৪৬ অপরাহ্ন
চলছে কোরবানির প্রস্তুতি, সারাদেশে হাট বসবে ২,৪০০টি
প্রাণিসম্পদ

এগ্রিভিউ ডেস্ক: কোরবানির পশু প্রস্তুতির চলছে একেবারে শেষ সময়। খামারিরা ইতোমধ্যে গরু ছাগল করা শুরু করে দিয়েছেন। করোনার প্রাদুর্ভাবে এবারের কোরবানি গুরুর বেচা-কেনা একটু অন্যরকম হলেও থেমে নেই খামারিরা।ইতোমধ্যে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রয়ের প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। অনলাইনে বিক্রিও হচ্ছে অনেক।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গবাদি পশুর খামার রয়েছে ১২ হাজার ৩৭০টি। তারা এবার কোরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ গরু প্রস্তুত করেছে। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে পশু বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খামারিরা। জেলার প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে জানা যায়, খামারে কোরবানির জন্য এক লাখ ৭৭ হাজার পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার।

ঝিনাইদহের ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮ হাজার খামারি প্রায় ৭১ হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত করেছে। তবে, গত কোরবানিতে গরুর দামে ধস নামলে এবার পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা থাকলেও করোনাভাইরাস এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা কাজ করছে সেখানকার খামারিদের মাঝে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, করোনার প্রভাব থাকলেও অনলাইনে গবাদি পশু বিক্রি হবে। ফলে ভারতীয় সীমান্তের জেলা ঝিনাইদহের চাষিরা সঠিক দাম পাবেন।

ঝিনাইদহের প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ছোট-বড় ও ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র খামার রয়েছে ১৭ হাজার ৪৫০টি। এসব খামারে আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুতকৃত গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৪১৫টি। এছাড়া ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৫৪ হাজার ৪৪৪টি। ঝিনাইদহে সরকারিভাবে বড় ধরনের কোনো খামার বা গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প না থাকলেও গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষগুলো বাড়তি লাভের আশায় কোরবানিকে সামনে রেখে গরু-ছাগল লালন-পালন করে থাকেন। তবে গরু পালনে তারা কোনো ক্ষতিকারক ইনজেকশন ব্যবহার করেন না বলে দাবি করেন।

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় এবার পাঁচ হাজার ২১২ জন খামারি ৪৭ হাজার ৭৮৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এই পশুগুলোর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৬৮টি ষাঁড়, দুই হাজার ৩১৯টি বলদ, দুই হাজার ৪০৪টি গাভি, ৯টি মহিষ, ১২ হাজার ২৩৯টি ছাগল এবং দুই হাজার ২৫০টি ভেড়া রয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে খুলনা মহানগরী, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা কয়রায় উত্তরাংশ, দাকোপ, রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও ফুলতলা গবাদি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।

এছাড়াও দেশের বিভিন্নস্থানে চলছে কোরবানির গরু প্রস্তুতের আয়োজন। খামারিদের মাঝে চলছে দারুণ আনন্দ আবার উৎকণ্ঠা। গত বছরের ধস কাটিয়ে এবার ঈদের লাভ করার চেষ্টায় খামারিরা মরিয়া। তবে করোনার ছোবলের কারণেও এবারও কঠোর লকডাউনে নিজেরাই ডাউন হবার শঙ্ক প্রকাশ করছেন অনেক খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গরু, ছাগল, ভেড়া ও উট মিলিয়ে মোট ১ কোটি ১৯ লাখের মতো পশু রয়েছে, যা কোরবানি উপলক্ষে হাটে উঠবে এবার।

জানা যায়, গত বছর দেশে ৯৫ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল, যদিও প্রাক্কলন ছিল ১ কোটি ১০ লাখ। বিপরীতে বাজারে আনার মতো পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ। তবে হাটে কেনাবেচা শুরুর প্রথম দিকে দাম কম থাকায় খামারিরা গরু–ছাগল বিক্রিতে নিরুৎসাহিত হন। এতে ২৩ লাখের মতো পশু অবিক্রীত থাকে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এবার ঈদুল আজহায় ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল ও ভেড়া এবং ৪ হাজার ৭৬৫টি উট-দুম্বা উঠতে পারে। গত বছর গরু–মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছিল ৪৫ লাখ ৩৮ হাজারটি।

এবারের ঈদুল আজহাকেন্দ্রিক গবাদিপশু বিক্রির জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৪০০টি আনুষ্ঠানিক হাট বসানো হবে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে মোট ২৩টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী হাট বসবে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন বলছে, আনুষ্ঠানিক হাটগুলোতে যাতে ভিড় কম হয়, সে জন্য বিভিন্ন এলাকায় খালি ও উন্মুক্ত স্থানে ছোট ছোট অনানুষ্ঠানিক হাট বসানোকেও উৎসাহিত করা হবে। অনলাইনেও গরু বিক্রির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা যায়।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান জানান, হাটে জনসমাগম কমাতে অনলাইন গবাদিপশু বিক্রিতে জোর দিতে হবে। রাজধানীর মতো দেশের অন্য জেলাগুলোতেও অনলাইনে গরু-ছাগল বিক্রি করা এবং জবাই করে মাংস ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ আরও বাড়ানো দরকার।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২১ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
প্রোটিন কী ও কেন দরকার (পর্ব-১)
প্রাণিসম্পদ

ড. খালেদা ইসলাম, অধ্যাপক, পুষ্টিও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:

বেঁচে থাকা ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজন খাদ্য আর এই খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদন হলো- প্রোটিন বা আমিষ। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় থেকে শুরু করে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমিষ বা প্রোটিন মূলত কার্বন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন- এগুলোর সমন্বয়ে গঠিত। প্রোটিন অণু প্রায় ২০টি বিভিন্ন রকম অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এই অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলোর সংযুক্তি আমিষের পুষ্টিগত দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে আমিষ খাবারের ভালো উৎস থাকা সত্ত্বেও গুণমান সম্পন্ন আমিষ গ্রহণের পরিমাণে ঘাটতি রয়েছে। অধিক জনগোষ্ঠীর এই দেশে আমিষ ঘাটতির নানাবিধ কারণ রয়েছে। আমিষ জাতীয় খাদ্যের দাম অধিক হওয়ার কারণে ব্যাপক জনগোষ্ঠী তাঁদের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাদ্য অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন না। ফলে আমাদের মত দেশে খাদ্যে আমিষ ঘাটতি থাকাটা অতি স্বাভাবিক একটি ঘটনা।

শতকরা ৬০ ভাগেরও অধিক আমিষ আমরা গ্রহণ করে থাকি বিভিন্ন প্রকার শর্করাজাতীয় খাবার থেকে যেখানে শতভাগ পরিপূর্ণ গুণগতমানসম্পন্ন আমিষ সাধারনত থাকেনা। এমনকি ঐ ধরনের আমিষে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের ঘাটতি থাকায় সুষম আমিষ গ্রহণ থেকেও অনেকে বঞ্চিত হন।

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে আমিষের পুষ্টিমান। যে আমিষে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের মাত্রা মানুষের দেহের চাহিদার যত কাছাকাছি, সে আমিষের পুষ্টিমূল্য তত বেশি। আমিষের জৈব মান দিয়ে এর পুষ্টিমূল্য নির্ধারণ করা হয়। যে আমিষের জৈবিক মান ১০০ সে আমিষকে আদর্শ আমিষ বলা হয়। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে, সাধারণভাবে উদ্ভিজ্জ আমিষের তুলনায় প্রাণিজ আমিষের জৈবিক মান বেশি হয়ে থাকে।

প্রোটিনের উৎস

উৎস অনুযায়ী আমিষকে প্রধানত: দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা:

১. প্রাণিজ আমিষ: যে আমিষগুলো প্রাণিজগৎ থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে প্রাণিজ আমিষ বলে। যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি। এ জাতীয় প্রোটিনকে প্রথম শ্রেণীর প্রোটিনও বলা হয়।

২. উদ্ভিজ্জ আমিষ: উদ্ভিদ জগৎ থেকে প্রাপ্ত আমিষকে উদ্ভিজ্জ আমিষ বলে। যেমন: ডাল, বাদাম, সয়াবিন, শিমের বিচি, ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ আমিষকে দ্বিতীয় শ্রেণীর আমিষ বলে।

প্রতিদিন উদ্ভিজ্জ আমিষের পাশাপাশি কিছু প্রাণিজ আমিষও গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশে সহজলভ্য প্রাণিজ প্রোটিনের মধ্যে অধিক প্রাধান্য পায় মুরগির মাংস ও ডিম। দামে ও গুণের বিচারে এই দু’টো প্রাণিজ প্রোটিন সর্বোৎকৃষ্ট। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাণিজ আমিষের ৪০ শতাংশ আসে পশু-পাখি থেকে এবং এর এক-তৃতীয়াংশ আসে পোল্ট্রি থেকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী- বার্ষিক মাংসের চাহিদা ৭২ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন হলেও প্রকৃত উৎপাদন ৭২ দশমিক ৬০ লাখ মেট্রিক টন। দেখা যাচ্ছে- প্রতিদিন খাবার মেন্যুতে একজন ব্যক্তি মাংস পাচ্ছে ১২২ দশমিক ১০ গ্রাম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে মাথাপিছু ডিমের বাৎসরিক প্রাপ্যতা ছিল ১০৪ টির কিছু বেশি। ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১৬৫টি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ২০৮টি তে উন্নীত হবে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সে হিসাব অনুযায়ী ২০৩১ ও ২০৪১ সাল নাগাদ দেশে ডিমের বাৎসরিক উৎপাদন দাঁড়াবে যথাক্রমে প্রায় ৩২৯৩৪ মিলিয়ন এবং ৪৬৪৮৮ মিলিয়ন।

 

কেন প্রোটিন খাবেন?

আমাদের শরীর নিজ থেকে প্রোটিন তৈরি করতে পারে না, তাই বিভিন্ন খাদ্য থেকে প্রোটিন সংগ্রহ করতে হয়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্লাইকোজেন হিসেবে শরীরে জমা থাকে কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত চর্বিগুলো অতিরিক্ত চর্বি হিসেবেই জমা থেকে যায় আর এর ফলেই নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে থাকে।

প্রোটিন ছাড়া কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। তাই প্রোটিনকে সকল প্রাণের প্রধান উপাদান হিসেবেও গণ্য করা হয়। আমাদের শরীরের প্রধান প্রধান কাজগুলো করার জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন হয়।

আমাদের ত্বক, চুল, আঙুল, হাড়, রক্ত ইত্যাদির জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন। মূলত দেহের নানা অংশকে একত্রে ধরে রাখে প্রোটিন। আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখার জন্যও প্রোটিন প্রয়োজন।

– এছাড়া দেহের নানা অংশে পুষ্টি পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রোটিন দরকার। সুস্থ চুল ও নখের জন্যও প্রোটিন খুবই প্রয়োজন।
– শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি সাধন ও দেহ গঠন করে।
– আমাদের দেহের কোষগুলো প্রতিনিয়তই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয়প্রাপ্ত স্থানে নতুন কোষ গঠন করে ক্ষয়পূরণ করতে এবং কোনো ক্ষতস্থান সারাতে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।
– দেহে চর্বি ও শর্করার অভাব দেখা দিলে প্রোটিন তাপশক্তি উৎপাদনের কাজ করে।
– রোগ সৃষ্টিকারী রোগজীবাণুকে প্রতিরোধ করার জন্য দেহে অ্যান্টিবডি তৈরী করা আমিষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
– মস্তিস্কের গঠন বা মানসিক বিকাশে আমিষ অপরিহার্য্য।
– দেহে আমিষের অভাব থাকলে বর্ধনশীল শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
– দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যে আমিষের ঘাটতি থাকলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, মেধা ও বুদ্ধি কমে যায়। তাই আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
– দেহস্থ উৎসেচক ও হরমোন তৈরি করা এবং অপরিহার্য্য অ্যামিনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করা প্রোটিনের একটি অন্যতম কাজ।
– এটি দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আবশ্যিক উপাদান।
– রক্ত ধারায় প্রবাহিত অক্সিজেনের বাহক। এবং
– কখনও কখনও শক্তির উৎস হিসেবেও কাজ করে।

 

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বনাম প্রাণিজ প্রোটিন

– উদ্ভিজ্জ খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ প্রাণীজ খাবার থেকে কম।
– উদ্ভিজ্জ খাবারে অত্যাবশ্যকীয় নয়টি অ্যামিনো অ্যাসিডর একটি হলেও অনুপস্থিত থাকে।
– প্রাণিজ প্রোটিন থেকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে খাবার এলার্জি ও সেন্সটিভিটি অধিক হয়ে থাকে। আমাদের অতি পরিচিত ৫টি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ফুড এলারজেন হল- গ্লুটেন, সয়া, ভুট্টা, সব ধরণের বাদাম ও চিনাবাদাম।
– প্রাণিজ প্রোটিন থেকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে পরিপাকযোগ্যতা ও জৈবমান কম থাকে। যেমন- প্রাণিজ প্রোটিন যেখানে ৯৪% পরিপাকযোগ্য, সেখানে ভুট্টা ও শুঁটিজাতীয় মাছের পরিপাকযোগ্যতা ৭০%।

 

আমাদের দেহে প্রোটিনের চাহিদা

একজন পুরুষ কিংবা নারীর দৈনিক কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন তার একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। এটি একজন মানুষের সুস্থ্য থাকার জন্য চাহিদার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। তবে দেহের ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক কর্মকান্ডের ওপরও প্রোটিনের চাহিদার কমবেশি হয়ে থাকে। কারো দেহের ওজন যদি ৯০ কেজি হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই ৭০ কেজি ওজনের ব্যক্তির তুলনায় তার প্রোটিনের চাহিদা বেশি হবে। এ ছাড়া যারা সারাক্ষণ বসে কাজ করেন তাদের তুলনায় যারা দাঁড়িয়ে কিংবা অধিক পরিশ্রমের কাজ করেন তাদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেহের প্রতিকেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম থেকে এক গ্রাম অনুপাতে প্রোটিন খাওয়া প্রয়োজন। তাঁরা বলেছেন, একজনের দৈনিক ক্যালরি চাহিদার ৩০ শতাংশ প্রোটিন থেকে মেটাতে হবে।

১ গ্রাম আমিষ থেকে শর্করা সমপরিমাণ চার কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক প্রয়োজনীয় ক্যালরির শতকরা ২০-২৫ ভাগ আমিষ জাতীয় খাদ্য থেকে গ্রহণ করা উচিত। গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে আমিষের চাহিদা কিছুটা বেশি। গর্ভবতী মহিলার জন্য এবং ৭-১২ মাস বয়সী শিশুর মায়ের জন্য স্বাভাবিক আমিষের সঙ্গে বাড়তি দৈনিক ১৩-১৪ গ্রাম আমিষ যোগ করতে হবে। তবে শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মূলত মায়ের দুধের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয় বলে মায়ের জন্য বাড়তি দৈনিক ১৯ গ্রাম আমিষ যোগ করতে হবে।

 

কতটুকু প্রোটিন গ্রহণ করবেন?

আমিষের চাহিদা ব্যক্তি, লিঙ্গ ও দেহের ওজন ভেদে ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক পরিচালিত গবেষণা মতে, এদেশে শতকরা ৬৬ ভাগেরও অধিক মানুষ প্রতিদিন ৫০ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করে থাকে। তবে শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষই শষ্যজাত খাদ্য থেকে এ আমিষ গ্রহণ করে থাকে। বীজ, দানাদার ও শস্যজাত খাবার- আমিষের উৎস হিসেবে তেমন উন্নত নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে মানুষের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের ঘাটতি রয়ে যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের কমপক্ষে দৈনিক ৬০ গ্রাম প্রোটিন এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীর কমপক্ষে দৈনিক ৫৫ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত।

আমিষের প্রধান উৎস হচ্ছে- ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, দানাদার শস্য, ডাল, ইত্যাদি। এদের মধ্যে আমিষের মাত্রার তারতম্য রয়েছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) তথ্য অনুযায়ী, দানাদার শস্যে আমিষের পরিমাণ শতকরা ৬-১২ ভাগ, যা ডাল জাতীয় শস্যে ২০-২৫ ভাগ। মাছ, মাংস, ডিম ও দুধে আমিষের পরিমাণ যথাক্রমে শতকরা ১৩-২০ ভাগ, ২০ ভাগ, ১০-১৪ ভাগ এবং ৩-৪ ভাগ।

 

প্রাণিজ প্রোটিনের গুরুত্ব

প্রাণিজ আমিষের প্রধান কয়েকটি উৎস হলো ডিম, মাংস, মাছ, দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য। আমাদের দেশে সাধারণত মাংসের উৎস হচ্ছে- গরু, মহিষ, ছাগল ও মুরগি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গৃহপালিত পশুকে একটি নির্দিষ্ট ওজনে পৌঁছানোর পর জবাই করে বাজারে বিক্রি ও রান্না করা হয়। পশুর মাংসকে অধিকাংশ সময়েই সম্পূর্ণ প্রোাটিন, আয়রণ, জিংক ও ভিটামিন বি এর ভালো উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। রেড মিট বা লাল মাংস- প্রোটিন, ফ্যাট ও শক্তির অন্যতম উৎস হলেও লাল মাংসের অধিকাংশ ফ্যাট সম্পৃক্ত শ্রেণির যেখানে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিডের মাত্রা কম থাকে এবং এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। মুরগির মাংস এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম। এতে কোলেস্টেরল ও চর্বির পরিমাণ কম থাকে এবং এই চর্বি অসম্পৃক্ত শ্রেণির- যা আমাদের দেহের জন্য উপকারী।

দীর্ঘদিন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হার্টের সুরক্ষার জন্য মুরগির মাংস খুবই উপকারি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ১৭২ গ্রামের রান্না করা মুরগির বুকের মাংসে ৫৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে কিন্তু ১৭২ গ্রামের রান্না করা গরুর মাংসে ৪২ গ্রাম প্রোটিন থাকে। আসলে, মুরগির মাংস (হোয়াইট মিট) থেকে লাল মাংসে (রেড মিট), আমিষের তুলনায় চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে।

মাছ সাধারনত প্রকৃতি হতে স্বাভাবিক উপায়ে আহরণ করা হয়। আমাদের দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদার একটা বড় অংশের যোগান দিচ্ছে মৎস্যখাত। মাছ থেকে আমরা সম্পূর্ণ প্রোটিন, আয়রণ, ক্যালসিয়াম ও বি ভিটামিন পাই। সামুদ্রিক মাছ থেতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়োডিন পাওয়া যায়। মাছের লিভার থেকে ভিটামিন এ এবং চর্বিযুক্ত মাছ থেকে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়- যা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। লবণাক্ত মাছে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে শুটকি মাছে পানির পরিমাণ কম ও অধিক পরিমাণ প্রোটিন থাকে।

দেশের বাজারে সাধারনত মুরগি ও হাঁসের ডিমই বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে- প্রোটিন জাতীয় খাবারের মধ্যে ডিম হলো উৎকৃষ্ট উৎস ও সহজলভ্য। ডিমে ১০০ শতাংশ জৈবিক মান রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রোটিন ও ভিটামিন বি ও ডি এর ভালো উৎস হচ্ছে ডিম। ডিমের কুসুমে চর্বি ও আয়রণ পাওয়া যায়। অন্য কোন সমস্যা না থাকলে ডিমের কুসুম কখনই বাদ দেয়া উচিত নয়। ভিটামিন ডি-র জন্য সূর্যের আলোর পাশাপাশি পথ্য হিসেবে ডিমের কুসুম খাওয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।

দুধ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য। তবে গরু ও ছাগলের দুধে প্রোটিন ও ফ্যাট এর পরিমাণ প্রায় সমান। ভেড়া ও মহিষের দুধে প্রোটিন অপেক্ষা ফ্যাট এর পরিমাণ বেশি থাকে। মায়ের দুধেও ফ্যাট অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। দুধের ফ্যাট সম্পৃক্ত ও অল্প কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড ধারণ করে। তবে ব্যতিক্রম মায়ের দুধ। মায়ের দুধে অধিক অসম্পৃক্ত ফ্যাট ও অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। বর্ধনশীল শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ প্রোটিন এর ভালো উৎস হচ্ছে মায়ের দুধ।

প্রোটিন সচেতনতায়:
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এবং ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২১ ১২:০১ পূর্বাহ্ন
কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৯০০ কেজির “জমিদার”
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারিগণ। তেমনি কোরবানি জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা ‘জমিদার’ নামের ৯০০ কেজির বিশাল আকৃতিরে গরুকে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের জেলার হোসেনপুর উপজেলার ৪ নম্বর আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব তীর ঘেষা পশ্চিম জামাইল গ্রামের কৃষক আমিনুল ভাণ্ডারি গরুটি পালন করেন। গরুটির ওজন সাড়ে ২২ মণ (৯০০ কেজি)। গরুটির বয়স ৪ বছর। গরুটিকে মোটা তাজা করতে বিশেষ কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবে খড়, ভূষি, গম, খৈল, কলা ও প্রাকৃতিক ঘাস খাবারই খেয়ে থাকে।

এছাড়া প্রতিদিন লালি ও খৈল দিয়ে ছানা তৈরি করে খাবার প্রস্তুত করে খেতে দেওয়া হয় গরুটিকে। বাসি বা উদ্বৃত্ত খাবার গরুটি খায় না। সর্বদা আরাম আয়েশ থাকতে পছন্দ করে। সেজন্য গরুটির নাম ‘জমিদার’ রাখা হয়েছে।

গরুর মালিক আমিনুল ভাণ্ডারি জানান, নিজস্ব দেশীয় গাভী থেকে আমেরিকান ব্রাহামা ক্রস বিজ ব্যবহার করে বাছুর উৎপাদন করা হয়েছে। গরুটি বয়স ৪ বছর হয়ে যাওয়ায় এখন পূর্ণ বয়স সম্পন্ন। গরুটিকে এখনো কোনো বাজারে তোলা হয়নি। বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই গরু কেনার বেপারিরা গরুটির ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মান্নান জানান, উন্নত জাতের গরু পরিচর্যার ব্যাপারে গরুর মালিককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২, ২০২১ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
গরু মোটাতাজা করবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

গরু পালন লাভজনক হওয়াতে এখন আমাদের দেশের অনেকেই গরুর খামার করার প্রতি ঝুঁকছেন। তবে, এই গরু যদি হয় আরেকটু মোটাতাজা তাহলে আর কথা ই নাই। আর এর জন্য দরকার গরুর সুষম খাদ্য। আর সুষম খাদ্য প্রয়োগে আপনি আরো লাভবান হতে পারেন গরু পালনে।

খামারে গরু মোটাতাজাকরণে যেসকল আমিষ খাবার আপনার গরুকে খাওয়াবেন:

শুকনা খড়: ২ বছর বয়সের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে সরবরাহ করতে হবে।

কাঁচা ঘাস: গরুকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি কাঁচা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি খাওয়াতে হবে।

দানাদার খাদ্য: গরুকে প্রত্যেক দিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো- গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি। উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে।

১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা: খড় = ৩ কেজি কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী) লবন = ৩৫ গ্রাম।

১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা: ধানের খড় = ২ কেজি সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী) চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম লবণ = ২৫ গ্রাম দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কৃমিমুক্তকরণ ও টিকা প্রদান
গরুকে ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। নতুন গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসঙ্গে কৃমিমুক্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এনডেক্স বা এন্টিওয়ার্ম ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

পূর্ব থেকে টিকা না দেয়া থাকলে খামারে আনার পর পরই সব গরুকে তড়কা, বাদলা ও ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে। এ ব্যাপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

ঘর তৈরি ও আবাসন ব্যবস্থাপনা
আমদের দেশের অধিকাংশ খামারী ২/৩ টি পশু মোটাতাজা করে থাকে, যার জন্য সাধারণত আধুনিক শেড করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে যে ধরনের ঘরেই গরু রাখা হোক, ঘরের মধ্যে পর্যন্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল- মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজেই পরিষ্কার করা যায়, সে দিকে খেয়াল রেখে ঘরে তৈরি করতে হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop