১১:০৬ অপরাহ্ন

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অগাস্ট ২৪, ২০২২ ৯:০৩ অপরাহ্ন
খুলনার পাবদা মাছ যাচ্ছে কলকাতায়
মৎস্য

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হাসানপুর গ্রামের আলাউদ্দিন জোয়াদ্দার পাবদা মাছ চাষ করছেন অর্ধযুগ ধরে। গত বছর থেকে তাঁর পুকুরের মাছ কিনে ভারতে রপ্তানি করছেন দু’জন ব্যবসায়ী। এসব বিক্রি হচ্ছে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে। পাবদা মাছ চাষ করে বছরে আলাউদ্দিন প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করছেন।

আলাউদ্দিন জোয়াদ্দার জানান, ১৯৯৬ সালে তিনি মাছ চাষ শুরু করেন। তিনি ৮টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। এসব পুকুরে টেংরা, পাঙাশ, ভাঙন, ফাইশ্যে, রুই, কাতলা, মৃগেল, মিনার কার্প, সিলভার কার্প, বেলে, দাতনে প্রভৃতি মাছ রয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি পাবদা মাছ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ৬ একর জমিতে ৩টি পুকুরে এই মাছ চাষ করছেন। এর মধ্যে দেড় একরের দুটি পুকুর হচ্ছে নার্সারি পুকুর। সেখানে পোনা উৎপাদন করেন। সাড়ে ৪ একরের পুকুরে মাছ বড় করা হয়। দেশি প্রজাতির এই মাছ চাষের জন্য গভীর পুকুরের প্রয়োজন। বছরে দুইবার তিনি পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করেন। এ ছাড়া এ বছর তিনি মিষ্টিপানিতে পরীক্ষামূলকভাবে বাগদা চিংড়ির চাষ শুরু করেছেন। বাগদা চিংড়ি সাধারণত লবণ পানিতে হয়ে থাকে।

আলাউদ্দিন বলেন, তাঁর পুকুরে যে পরিমাণ পাবদা মাছ উৎপাদন হয় তার সব স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারেন না। গত বছরের আগস্টে তাঁর কাছ থেকে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের টিটো মোল্লা মাছ কিনে নিচ্ছেন। তিনি মাছ কলকাতায় রপ্তানি করেন। এ ছাড়া গোপাল নামে খুলনার আরেকজন ক্রেতা পাবদা মাছ কিনে রপ্তানি করেন। গত বছর তার পুকুরের ২২৫ মণ মাছ কলকাতায় রপ্তানি হয়েছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত ৮০ মণ মাছ রপ্তানি হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে আরও দেড়শ মণ মাছ রপ্তানি হওয়ার কথা। প্রতিকেজি মাছ তিনি ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি মাছের দাম কমপক্ষে ৩৫০ টাকা হলেও ক্রেতা কম থাকায় বাইরে পাঠাতে হয়।

নিয়ম মেনে তাঁর পুকুরে খাবার ও ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি পানিতে অপিজেনের সরবরাহ ঠিক রাখতে সার্বক্ষণিক ৫টি অ্যারেটর চালানো হয়। গত বছর ও চলতি বছর পাবদা মাছ চাষে তাঁর ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। এখন পুকুরে যে মাছ আছে তা আরও প্রায় ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। পাবদা মাছের পুকুরগুলো আলাউদ্দিন বছরে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে লিজ নিয়েছেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক তোফাজ উদ্দিন আহমেদসহ একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি আলাউদ্দিনের পুকুর পরিদর্শন করে। তাঁর পুকুর থেকে মাছ ধরার পর তা বরফ দেওয়া বাপে (ককসিটে) করে যশোরের বেনাপোল দিয়ে কলকাতায় পাঠানো হয়।

মাছ রপ্তানিকারক টিটো মোল্লা বলেন, তিনি বগুড়া ও ময়মনসিংহ থেকে পাবদার রেণু পোনা এনে চাষিদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি মাছের খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করেন। ৪-৫ মাস পর সেই খামার থেকে মাছ কিনে কলকাতায় পাঠান। সেখানে পাবদার ভালো চাহিদা রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গলদা-বাগদা-রুই জাতীয় মাছের এলাকা বলে খ্যাত ডুমুরিয়াতে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির পাবদা মাছ চাষে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বেকার সমস্যার সমাধান, আর্থিক সমৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে তাঁরা পাবদা চাষে উৎসাহ দিচ্ছেন।
সূত্র: সমকাল

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৩, ২০২২ ১:৫৯ অপরাহ্ন
টেকনাফে জেলেদের জালে ধরা পড়ল ৩২ কেজি ওজনের পোপা মাছ
মৎস্য

কক্সবাজারের টেকনাফে জেলেদের জালে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের একটি পোপা মাছ ধরা পড়েছে।

সোমবার ভোরে সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণে সাগরে মাছটি ধরা পড়ে বলে শাহ পরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়ার এফবি শাহ আলম ফিশিং ট্রলারে মালিক জানান।

পরে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ট্রলারটি মিস্ত্রিপাড়া ঘাটে এসে পৌঁছলে স্থানীয়রা মাছটি দেখতে ভিড় জমায়।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় স্থানীয়রা মাছটিকে ‘কালা পোপা’ বলে থাকে।

উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, পোপা মাছের আকর্ষণ হলো পেটের ভেতর থাকা পটকা বা বায়ুথলি। এ বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা হয়।

এ কারণেই মাছটির দাম সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাঁকানো হচ্ছে বলে ট্রলার মালিক শাহ আলম জানান।

ট্রলারের মাঝি মো. নুরুল আমিন জানান, রোববার সকাল ১০টার দিকে মাঝি-মাল্লাসহ ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে রওনা হয়। রাতে সেন্ট মাটিন দ্বীপের দক্ষিণে সাগরে জাল ফেলেন জেলেরা। এর মধ্যে সোমবার ভোরে জেলেরা জাল টেনে দেখেন ৯০টি লাল কোরালসহ বড় একটি ‘কালা পোপা’ আটকা পড়েছে।

“মাছটি ট্রলারে তোলার পর আমাকে জানালে দ্রুত ঘাটে চলে আসতে বলি। এই দামি মাছ পেয়ে জেলেরা খুব খুশি।”

শাহ আলম আরও জানান, পোপা মাছটি ছাড়াও এ সময় ৯০টি লাল কোরাল ধরা পড়েছে। একসঙ্গে সবগুলো মাছের দাম হাঁকানো হয়েছিল সাড়ে আট লাখ টাকা। এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। কিন্তু ভালো দামে বিক্রয়ের আশায় মাছগুলো ফ্রিজিং করে কক্সবাজার শহরে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, “৩২ কেজি ওজনের পোপা মাছ ধরা পড়ার খবরটি শুনেছি। সাধারণত এত বড় পোয়া সবসময় ধরা পড়ে না। এ মাছের বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর চাহিদা ও দাম বেশি।”

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২২, ২০২২ ১২:৫৪ অপরাহ্ন
সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ,নদীতে নেই!
মৎস্য

সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।  বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে মাছের আড়তগুলো। তবে একেবারে ভিন্ন চিত্র ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে। মেঘনা নদীতে কিছু ইলিশ পেলেও তেঁতুলিয়ায় ইলিশ নেই বললেই চলে।

মেঘনার বড় আড়তদার ও শেল্টার বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আবুল কালাম, হাকিমুদ্দিন মির্জাখীল ঘাটের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মাঝি, তেঁতুলিয়া নদীর নয়নের খালের জুয়েল মেম্বার, কালাম বদ্দার জানান, দাদনের লাখ লাখ টাকা নদীর জলে। নদীতে মাছ নেই। মহাসংকটে আমরা। তারা বলেন, এই অবস্হা চলতে থাকলে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ জেলে পেশা পরিবর্তন করবে। জেলে জামাল ও শহিদুল, জাহাঙ্গীর, নেজামাল বলেন, এ বছর ভরা মৌসুমেও মেঘনায় তেঁতুলিয়ায় ইলিশের দেখা মেলেনি। তবুও আমরা অপেক্ষায় ছিলাম। নদীতে মাছ ধরা পড়ার। কই ? এখনো তো মিলছে না ইলিশ। তেঁতুলিয়া নদীর অবস্হা আরো করুণ।

জানা যায়, খুব কম পরিমাণ মাছ কেনাবেচা হচ্ছে। মাছ বিক্রি করে যে টাকা পাচ্ছে তা দিয়ে জেলেদের খরচপাতি চালানো মুশকিল।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা মো. আলি আহমেদ আকন্দ জানান, ইলিশ সাগরের মাছ। ডিম পাড়ার সময় মিঠা পানির খোঁজে তারা নদীতে আসে। বর্তমানে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বেশি। তাই সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ থাকলেও নদীতে ইলিশ নেই। তবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নদীতেও মাছ মিলবে বলে আমরা আশাবাদী বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২০, ২০২২ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
পায়রা নদীতে ধরা পড়ল ১৫ কেজি ওজনের পাঙাশ
মৎস্য

বরগুনার আমতলীর পায়রা নদীতে জেলের বড়শিতে ১৫ কেজি ওজনের পাঙাশ মাছ ধরা পেড়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় আমতলীর পায়রা নদীতে ১৫ কেজি ওজনের এই বিশাল পাঙাশ মাছটি ধরা পড়ে। পরে রাত ৯টায় আমতলী বাজারে ১৫ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করা হয়।

জানা যায়, আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলীর নাননু বয়াতি নামে এক জেলের বড়শিতে এই পাঙাশ মাছটি ধরা পড়ে। বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি পায়রা নদীতে বড়শি পেতে মাছের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

রাত ৮টায় বুঝতে পারেন তার বড়শিতে বড় কোনো মাছ ধরা পড়েছে। অনেক কষ্টে মাছটি নৌকায় তোলেন। মাছটি দেখেই সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। পরে মাছটি রাত ৯টায় আমতলীর মাছ বাজারের নাহিদ মৎস্য আড়ৎদারের কাছে নিয়ে ওজন করে দেখেন মাছটির ওজন ১৫ কেজি। খুচরা মাছের বিক্রেতা জব্বার চৌকিদার আড়ৎ থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকায় মাছটি কিনে ফরিদপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

বিষয়ে আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সাগর এবং নদীতে বিভিন্ন সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় পাঙাশ মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবাধে চলাচল করার সুযোগ পেয়েছে। তাই নদীতে এত বড় মাছ জেলের বড়শিতে ধরা পড়ল।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৯, ২০২২ ৫:৩৮ অপরাহ্ন
বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ল ১৯ কেজি ওজনের জাভা ভোল
মৎস্য

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়া সাড়ে ১৯ কেজি ওজনের একটি জাভা ভোল মাছ।যা বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। কেজি প্রতি মাছটির মূল্য পড়েছে ৯ হাজার ৭৪৩ টাকা।

শুক্রবার সকালে বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের অনুপ কুমারের আড়ত থেকে মাছটি কিনে নেন বাগেরহাটের মাছ ব্যবসায়ী মো. অলিল খলিফা।

এর আগে ১৭ আগস্ট বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকার মাছ ব্যবসায়ী মাসুমের মাছ ধরা ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

‘এফবি আলাউদ্দিন’ ট্রলারের মাঝি জাফর বলেন, সাগরে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ জালে ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলা হয়। রাতে জাল টানার সময় জাভা ভোল মাছটি পাওয়ায় খুশি হয়েছি। কারণ এই মাছটির দাম অনেক। এমনিতেই ইলিশ পাচ্ছিলাম না। এখন মোটামুটি তেলের খরচটা ওঠেছে।

ভোল মাছ ক্রেতা মো. অলিল খলিফা বলেন, জাবা ভোল মাছের মণ ৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে সাড়ে ১৯ কেজি ওজনের মাছটি ক্রয় করেছি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। এখন এই মাছটি বরফ দিয়ে পিরোজপুর জেলার পারেরহাট নিয়ে, সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। আশাকরি ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারব।

বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার সমিতির সভাপতি শেখ আবেদ আলী বলেন, জাভা ভোল মাছ খুব একটা পাওয়া যায় না। এই মাছের ওষুধি গুণ থাকাতে এর মূল্য এত বেশি। মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ওষুধ উৎপাদন সংস্থাগুলো এই মাছ কিনে নেয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৮, ২০২২ ১০:৩৬ অপরাহ্ন
চিরচেনা রুপে ফিরেছে কাপ্তাই হ্রদ
মৎস্য

চিরচেনা রূপে দীর্ঘদিন পর ফিরেছে রাঙামাটির সবচেয়ে বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। শুরু হয়েছে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ। রাতভর আহরণ করা মাছ জেলেরা ছোট ছোট বোটে করে নিয়ে আসছেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন-বিএফডিসির অবতরণ ঘাটে। প্রথম চার ঘণ্টায় ৩৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে।

বিএফডিসি সূত্র মতে, গত বছর কাপ্তাই হ্রদ হতে ১৭ হাজার ৮৭০ মেট্রিক টন মৎস্য আহরিত হয়। সেখান থেকে রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ২০২২ সালে হ্রদে ৬০ মেট্রিক টন পোনা অবমুক্ত করা হয়।

দীর্ঘদিন পর অবতরণ ঘাটটিতে এখন ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। শ্রমিকরা ব্যস্ত একের পর এক বরফ ভাঙতে। ড্রামে প্যাকিং শেষে আহরিত মাছ ট্রাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। গন্তব্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। ব্যবসায়ী, শ্রমিকদের হাঁকডাকে চিরচেনা রূপে ফিরেছে ঘাটটি।

কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। তবে পানি কম থাকায় নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয় আরও দুই দফায় ১৭ দিন। তবে বিলম্বে হলেও মাছ ধরা শুরু হওয়ায় খুশি জেলেরা।

মাছ ব্যবসায়ী মাহফুজ উদ্দিন জানান, ‘দীর্ঘদিন ব্যবসা শুরু করলেও মাছের আকার ছোট থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এই মাছ ঢাকায় বিক্রি করতো পারবো কিনা জানি না। আমাদের দাবি ছিল, আরও কিছুদিন বন্ধ রাখার। তাহলে এই মাছের আকার আরও বড় হতো। আমরা লাভবান হতাম।’

বিএফডিসির রাঙামাটি বিপণনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘প্রথম দিকে জালে ছোট মাছ বেশি আসে। কয়েকদিন পর এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়। হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। প্রথমদিনের মতো এভাবে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে গত বছরের চেয়ে রাজস্ব আয় বেশি হবে বলে আশাবাদ তাদের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৭, ২০২২ ৮:৫১ পূর্বাহ্ন
রঙিন মাছ চাষে ঘুরে দাঁড়ালেন শারীরিকভাবে অসুস্থ বেকার যুবক
প্রিয়মুখ

বাড়ির পাশে লীজ নেওয়া একটি পুকুরে মুক্তভাবে রঙিন মাছ চাষ করছেন শারীরিকভাবে অসুস্থ বেকার যুবক বিশ্বজিৎ।

তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের শিবু মন্ডলের ছেলে। গত এক মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা মাছ বিক্রি করেছেন। পুকুরে এখনো লক্ষাধিক টাকার মাছ রয়েছে তার।

বিশ্বজিৎ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করে কর্মজীবন শুরু করেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে।

২০১২ সালে ব্রেইন স্ট্রোক হয় তার। এরপর শরীরের ডানপাশ অবস হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসেন। দুইবছর বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেননি। এখনও পুরোপুরি সুস্থ্য হননি। কিছুটা সুস্থ্য হলে একটি টং দোকান দেন কিন্তু সেখান থেকে উপার্জন ভালো না হওয়ায় রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন।

প্রথম দিকে বাড়িতে কয়েকটি ড্রামে এই মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। সেখানে মাছ বড় হতে থাকে। কয়েক মাস পর বিক্রিও করেন। এরপর চলতি বছরের মে মাসে পুকুরে বিদেশি জাতের রঙিন মাছ চাষ শুরু করেন। মাছগুলো আকারে ছোট হলেও বেশ সতেজ ও বাহারি নানা রঙের। পুকুরে ১২ থেকে ১৫ প্রজাতির মাছ রয়েছে।

বিশ্বজিৎ জানায়, তার বাবা একজন কৃষক। মাঠে তাদের চার বিঘা চাষযোগ্য জমি নেই। তার আরো দুই ভাই ও এক বোন রয়েছে। অভাবের সংসার হলেও বাবা আমাদের লেখাপড়াা শেখাতে কার্পন্য করেননি। আমি মাস্টার্স শেষ করেছি। চাকরিও শুরু করেছিলাম। কিন্তু স্ট্রোক আমার জীবনে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। কিছুটা সুস্থ্য হলে চলতি বছরের মে মাসে যশোরের চৌগাাছা মাছ ব্যবসায়ী সালমান সর্দারের নিকট থেকে গাপ্পি মলি, গোল্ডফিস, কমেন্ট, রেডটিকা, কইকাপ এবং প্লাটিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ কিনে আনি। এ পর্যন্ত পরিচর্যা ও মাছ ক্রয় বাবদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছি।

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মো. হাসান সাজ্জাদ জানান, শিক্ষিত বেকার যুবক বিশ্বজিৎ বাড়িতে একটি পুকুরে রঙিন মাছের চাষ করছে। তার মাছ চাষ পরিদর্শন করেছি। এলাকায় এ মাছ চাষ অনেকটা নতুন হওয়ায় মৎস অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৬, ২০২২ ৫:৪৫ অপরাহ্ন
ডিমওয়ালা ইলিশ চিনার উপায়
মৎস্য

ইলিশ পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। স্বাদে, গন্ধে এমনকি পুষ্টির দিক দিয়েও ইলিশ মাছ। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্ষায় বাড়ে ইলিশ মাছের চাহিদা।

ইলিশ মাছ কিনতে গেলে কমবেশি সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কোনটি নদীর আর কোনটি সমুদ্রের, কোন মাছটি সুস্বাদু কিংবা কোনটিতে ডিম আছে তা বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই।

অনকেরই ধারণা আছে, নদী আর সাগরের ইলিশের মধ্যে স্বাদে অনেক পার্থক্য আছে। তবে সব ইলিশই কিন্তু সুস্বাদু হয়। বিশেষ করে ইলিশ আকারে যত বড় হবে, তার স্বাদ তত বেশি হয়।

বড় ইলিশকে পাকা ইলিশও বলা হয়। আবার বর্ষাকালে যেসব ইলিশ বাজারে পাওয়া যায় সেগুলো বেশি সুস্বাদু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম ছাড়ার আগ পর্যন্ত ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে বেশি থাকে।

ডিমওয়ালা ইলিশের স্বাদ তুলনামূলক কম। তবে ডিমওয়ালা মাছের চাহিদা বেশি। অনেকেই বাজার ঘুরে ডিমওয়ালা মাছ খোঁজেন। কীভাবে চিনবেন ডিমওয়ালা ইলিশ?

ডিমওয়ালা মাছ পাওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় হলো অগাস্ট মাসের পর থেকে। তখন শুরু হয় ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুম। একটানা তা চলে অক্টোবর পর্যন্ত। যদিও বর্তমানে বাজারে বছরজুড়েই ইলিশ পাওয়া যায়।
সাধারণত ডিমওয়ালা ইলিশের পেট কিছুটা মোটা অর্থাৎ উঁচু থাকে। আকৃতি অনেকটা চ্যাপ্টা দেখায়। এছাড়া ডিমওয়ালা ইলিশের পেট টিপলেই পায়ুর ছিদ্র দিয়ে ডিম বেরিয়ে আসবে। এভাবে যাচাই করে সহজেই কিনতে পারবেন ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ।

ইলিশ মাছের মতোই এর ডিমেও আছে নানা পুষ্টি উপাদান। ভিটামিন এ, ডি থেকে শুরু করে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সবই পাবেন মাছের ডিমে। এমনকি রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতেও সাহায্য করে মাছের ডিম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৬, ২০২২ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে চুন প্রয়োগ
মৎস্য

আমাদের দেশের অনেকেই এখন মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। মাছ চাষের সময় মাছের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। তবে মাছ চাষের সময় পুকুর বা মাছ চাষের স্থানে চুন প্রয়োগ করলে বেশ কিছু উপকারিতা পাওয়া যায়। আজকের লেখায় আমরা জানবো পুকুর বা বায়োফ্লকে মাছ চাষে চুন প্রয়োগের উপকারিতা সম্পর্কে-

বায়োফ্লকে মাছ চাষে চুন প্রয়োগের উপকারিতাঃ
পুকুরে বা অন্য কোন স্থানে চুন প্রয়োগ করা হলে বেশ কিছু উপকারিতা পাওয়া যায়। নিচে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল-

চুন প্রয়োগ করা হলে পুকুরে উকুনের বংশ বিস্তার রোধ করে। প্রোটোজোয়া রোগ বা এককোষী রোগ দমন করতেও চুন বেশ ভালো কাজ করে। পুকুরে চুন প্রয়োগ করা হলে পুকুরের পিএইচ এর মাণ বাড়লেও তা কমাতে সাহায্য করে। এতে মাছ চাষের পানির গুণাগুণ ঠিক থাকবে এবং মাছের বৃদ্ধি দ্রুত হবে।

মাছ চাষের পুকুরে চুন প্রয়োগ করা হলে মাছের ক্ষত রোগ বা আঘাত জনিত সারিয়ে উঠতে সাহায্য করে। পুকুরে কিংবা বায়োফ্লকে মাছ চাষ করার সময় চুন প্রয়োগ করার ফলে মাছের শরীর ও পানি পরিষ্কার হয়ে যায়। আর মাছ চাষের পানি ও মাছের শরীর ঠিক থাকলে পুকুর বা জলাশয়ে মাছের বৃদ্ধি বাঁধাগ্রস্ত হবে না। ফলে মাছ চাষে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় পাশাপাশি লাভ বেশি পাওয়া যাবে।

পুকুর বা জলাশয়ে চুন প্রয়োগ করার ফলে পুকুরের দূষিত পদার্থ, বর্জ্য ও আবর্জনা শোধিত হয়ে যায়। পুকুর বা জলাশয় দূষণমুক্ত হওয়ার ফলে মাছ চাষের পরিবেশ ঠিক থাকবে। চুন প্রয়োগ করার ফলে মাছের শ্বাসকষ্ট দূর হয়ে যায় ও মাছের শরীরের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ১৩, ২০২২ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
এক ট্রলারেই ধরা পড়ল ৬০ মণ ইলিশ!
মৎস্য

বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান লঘুচাপ ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর কারণে তীরে ফিরতে পারেনি ‘বিসমিল্লাহ ফিশিং বোট’। বিপদ সংকেতে সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে ৭ দিন পর ঘাটে ফিরতে সক্ষম হয় বোটটি। সেই বোটেই মিলল ৬০ মণ ইলিশ, যা নিলামে বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের মেঘনা ফিশিংয়ে এসব ইলিশ বিক্রি করা হয়।

বিসমিল্লাহ ফিশিং বোটের মালিক ও বোটটির প্রধান মাঝি গোলাম কিবরিয়া জানান, আমরা সমুদ্র সংকেতের মধ্যে পড়ে যাওয়ায় তীরে আসতে পারি নাই। অনেক টাকা দেনা করে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছি, কিন্তু কূলে ফিরলে ঋণী হয়ে যাব। তাই যুদ্ধ করে সাগরে রয়ে গেছি। আলহামদুলিল্লাহ অনেক মাছ পেয়েছি। আমরা ২৩ জন মাঝি ৭ দিন সমুদ্রে মাছ ধরেছি। এত মাছ হবে কল্পনাও করি নাই। আমাদের জীবন সংগ্রামী জীবন। এই নদীই আমাদের জীবন। যা মাছ পেয়েছি সব মেঘনা ফিশং এ বিক্রি করেছি। ভালো দাম পাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন তিনি।

মেঘনা ফিশিংয়ের ম্যানেজার মো. হাবিব ভূঁইয়া জানান, নৌকাটির মালিক গোলাম কিবরিয়া মাঝি হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙা গ্রামের বাসিন্দা। সকালে বোটটি চেয়ারম্যান ঘাটে এসেছে। বিভিন্ন সাইজের মাছ ছিল। তবে বড় সাইজের ইলিশ মাছ বেশি ছিল। নিলামে দাম তুলতে তুলতে শেষ পর্যন্ত ২২ হাজার ৫০০ টাকা করে ৬০ মণ ইলিশের দাম হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop