৩:২১ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ৬:৫৪ অপরাহ্ন
মাধবপুরে পুকুরে বিষ দিয়ে লাখ টাকার মাছ নিধন!
মৎস্য

হবিগঞ্জের মাধবপুরের উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের ওসমান মিয়া নামক একজনের বসত ঘরে দুর্বৃত্তরা চুরি করার পর পুকুরে বিষ ঢেলে লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ওসমান মিয়া জানান, একই দিন রাতে আমার বসত ঘরে চুরি হয়। চোরেরা গভীর রাতে আমার বসত ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় এবং ঘরের থাকা মালামাল ভাঙচুর করে। চোরেরা চলে যাওয়ার পথে আমার বাড়ির উঠানে বনগাছে আগুন দিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত আমার স্ত্রী মিনা বেগম মাধবপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ওসমান মিয়ার স্ত্রী আহত মিনা বেগম জানান, আমি চুরিতে বাধা দিলে হাতে আগুন ধরিয়ে দেয় চোরেরা। আগুনে আমার হাতের আঙ্গুলে কয়েকটি স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে গেছে।

কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দেবাশীষ তালুকদার জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২১ ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুলিয়ারচরে মাছ চাষ
মৎস্য

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুলিয়ারচরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় বায়োফ্লগ ট্যাংক তৈরি করে ও অধিক ঘনত্বে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক উপায়ে নল দিয়ে অক্সিজেন প্রদান করা হয়।

মাছ চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, এ পদ্ধতিতে প্রতি ১৫ লিটারের একেকটি ট্যাংকে প্রায় ৭০০ কেজি মাছের চাষ করা যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, যদিও সরকারিভাবে এখনো এ পদ্ধতির কোনো নির্দেশনা বা প্রশিক্ষণ আমরা পাইনি।

অফিসিয়ালি কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলেও আমরা ব্যক্তিগতভাবে চাষিদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছি বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ২:০০ অপরাহ্ন
ভোলায় চলছে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ মাছ বাজার
মৎস্য

ভোলায় লকডউনে গৃহবন্ধী মানুষের জন্য জেলার উপজেলা সদরে আজ ভ্রাম্যমাণ মাছ বাজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহযোতিায় প্রথম দিন ৩৮ টি ভ্যানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চলছে। এসব মাছের মধ্যে তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই, কাতলসহ বিভিন্ন কার্প জাতীয় মাছ রয়েছে।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: জামাল হোসেন জানান, লকডউনে মানুষের যাতে মাছের চাহিদা পূরণে কোন সমস্যা না হয় সে জন্য এ ব্যবস্থা। সকাল থেকেই ভ্যানে করে বিক্রেতারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নির্ধারিত মূল্যে মাছ বিক্রি করছে। যেহেতু এখন অভ্রায়শ্রমে মৎস্য শিকার নিষিদ্ধ তাই পুকুর বা ঘেরে চাষের মাছ বিক্রি হচ্ছে। যতদিন লকডউন থাকবে ততদিন এ কার্যক্রম চলবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
বগুড়ায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার!
প্রাণ ও প্রকৃতি

বিষ দিয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীতে অবাধে শিকার হচ্ছে চিংড়ি মাছ। আর এতে করে প্রাকৃতিকভাবে বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে চিংড়ি। শুধ মাছ নয়, পানি বিষাক্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অন্যান্য জলজ প্রাণিও। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অসাধু চক্র এভাবে মাছ শিকার করে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আইনের প্রয়োগ না থাকায় যমুনা নদীতে বিষ দিয়ে চিংড়ি মাছ শিকার বন্ধ হচ্ছে না। সম্প্রতি বিষ দিয়ে মাছ শিকার বেড়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অসাধু চক্র এভাবে মাছ শিকার করে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এসব কীটনাশক যেখানে প্রয়োগ করা হয়, সেখানে ছোট-বড় সব মাছ মারা যায়। সেখান থেকে শুরু বড় মাছগুলো সংগ্রহ করে চক্রটি। ছোট মাছগুলো তারা নেয় না। কিন্তু এই ছোট মাছগুলো নদীতে বড় মাছের খাবার। ফলে ওই এলাকার খাদ্যচক্রেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মাছের খাবার নষ্ট এবং মাছের বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিষ দিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ শিকার করছে।

যমুনাপাড়ের ভাণ্ডারবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ (বিষ) যা পানিতে প্রয়োগ করলে মাছ গভীর পানি থেকে ওপরে উঠে আসে। এসব মাছের বেশিরভাগই চিংড়ি। বিষয়ক্রিয়ায় অসংখ্য চিংড়ি ভাসতে থাকে। তখন যে কেউ সহজে মাছ ধরতে পারে। এসব মাছ হাতজাল, ঠেলাজাল, চালুনি কিংবা মশারি দিয়ে ধরা হয়। জালে বড় মাছগুলো আটকা পড়লেও ছোট মাছগুলো মরে নদীতে ভেসে ওঠে। ওরা সমাজের প্রভাবশালী শৌখিন মাছ শিকারি। এ কারণে স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘যমুনায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য ভীষণ হুমকিস্বরূপ। উন্মুক্ত জলাশয়ে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাসুদ রানা সরকার বলেন, ‘যমুনা নদীতে বিষ প্রয়োগের কারণে মাছ মারা যায়। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে প্রস্তুত মাছের খাদ্য ও প্রজনন নষ্ট হয়। কিন্ত অপ্রতুল লোকবল দিয়ে যমুনায় পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তার পরও যতটুকু সম্ভব আইন প্রয়োগ করার চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৬, ২০২১ ৭:২৭ অপরাহ্ন
“মাছ, গোশত, দুধ, ডিম এগুলো উৎপাদন, পরিবহণ ও বিপণনে কোন বাধা থাকবে না”
প্রাণিসম্পদ

মাছ, গোশত, দুধ, ডিম অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। একই সাথে এগুলো পচনশীল দ্রব্য। এগুলো উৎপাদন, পরিবহণ ও বিপণনে কোনোভাবেই বাধা থাকবে না বলে জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ ভার্চুয়ালি সভায় রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে সংযুক্ত হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত চলমান নিষেধাজ্ঞাকালে মাছ, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, দুধ, ডিম, মাছের পোনা, মুরগির বাচ্চা, পশু চিকিৎসা সামগ্রী, টিকা, কৃত্রিম প্রজনন সামগ্রী, মৎস্য ও পশু খাদ্য, ওষুধ ইত্যাদি পরিবহণ ও বিপণন কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ বিষয়ে এসভা অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, এ বছর করোনা পরিস্থিতি গত বছরের চেয়ে আরো ভয়াবহ। তবে এ সময় আতঙ্কিত হয়ে একেবারে ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। আমরা সবকিছু বন্ধ করে দিলে দেশ চলবে না। আবার উৎপাদক, খামারি, বিপণনকারীসহ এ খাত সংশ্লিষ্ট অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের মাছ, গোশত, দুধ ডিমের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত চলমান নিষেধাজ্ঞাকালে জরুরি খাদ্য পরিবহনে কোনো বাধা নেই।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, মাছ, গোশত, দুধ, ডিম অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। একই সাথে এগুলো পচনশীল দ্রব্য। এগুলো উৎপাদন, পরিবহণ ও বিপণনে কোনোভাবেই বাধা থাকবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দফতর-সংস্থায় চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও জেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের তৎপর থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। মাঠ পর্যায়ের উদ্ভুত সমস্যাগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা এবং নিয়মিত কঠোর মনিটরিং এর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মৎস্য অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ সময় নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, গতবছর এ খাতের সঙ্কট উত্তরণে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, পরিবহনের বাধা দূর করা হয়েছে। বন্দরে মৎস্য ও প্রাণী খাদ্য ছাড়করণেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এ বছরও প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত পণ্য ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। উদ্ভূত সঙ্কট মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ্ মো: ইমদাদুল হক ও শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা: শেখ আজিজুর রহমানসহ মৎস্য অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৫, ২০২১ ৬:৩১ অপরাহ্ন
ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজ সোমবার (৫ এপ্রিল) জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাজধানীর বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। অথচ অবৈধভাবে জাটকা আহরণের নেপথ্যে কিছু মানুষ কাজ করছে। অবৈধ মৎস্য আহরণে যে ট্রলারগুলো পাওয়া যায় সেগুলো সাধারণ মৎস্যজীবীদের নয়, কিছু ধনী অসাধু ব্যক্তির। তারা সমাজ ও দেশের শত্রু। পুষ্টিকর মাছ ইলিশ যাতে বৃদ্ধি করা না যায় সেজন্য তারা কাজ করে। অনেক সময় বিষাক্ত দ্রব্য নির্গমন, অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে না। এভাবে নানা রকম ক্ষতিকর ভূমিকায় বিভিন্ন সেক্টরের অসাধু ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত রয়েছে। এগুলো বন্ধে ইলিশের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মনিটরিং ক্যামেরা বসানো হয়েছে। দেশের মৎস্য সম্পদের যারা শত্রু তাদের ব্যাপারে কোন তদবীর শোনা হবে না। এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।”

মন্ত্রী আরো বলেন, “ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় সম্প্রতি নেয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করা হবে। অবৈধ মৎস্য আহরণ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচালিত অভিযানে অত্যাধুনিক জলযান সংযোজনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। তবে ইলিশ রক্ষায় বিদ্যমান সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা না গেলেও বিদ্যমান জনবল ও নৌযান দিয়ে সমস্যা মোকাবিলার আপাতত চেষ্টা করতে হবে। এর স্থায়ী সমাধানে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

কোভিডকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শরীরের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ জন্য শাক-সবজির পাশাপাশি মাছ, মাংস, দুধ, ডিম পর্যাপ্ত পরিমাণ খেতে হবে। এ মূহুর্তে করোনার ভয়াবহ বৈশ্বিক সমস্যা আমাদের দেশের অভ্যন্তরে মোকাবিলা করতে মাছ, মাংস, দুধ ডিম এর উৎপাদন ও বিপণন বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে ইলিশ একটি গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। ইলিশ উৎপাদনে আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্থানে রয়েছি।”

মন্ত্রী আরো জানান, “মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সব জায়গায় সরকার কাজ করছে। মৎস্যজীবীদের তালিকা প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা এ পেশা ছেড়ে চলে গেছেন তাদের তালিকায় রাখা হবে না, যারা নতুন করে এ পেশায় যুক্ত হয়েছেন তাদের এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একসময় ১০ কেজি করে মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ চাল দেওয়া হতো, এখন সেটা ৪০ কেজিতে উন্নীত করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, নৌপুলিশের অভিযানে গত বছর ২৯ কোটি মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল আটক করা একটা বড় সাফল্য উল্লেখ করে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে নিয়োজিত নৌপুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।

করোনা সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, “কোভিডকালে মাছ মাংস, দুধ ও ডিমের সরবরাহ জরুরী সরবরাহ। এটা কোনভাবে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। এটা বাধাগ্রস্ত হলে উৎপাদক, বিপণনকারী ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এজন্য মাছ মাংস, দুধ ও ডিম উৎপাদন, আহরণ, পরিবহণ, ও ক্রয়-বিক্রয়ে বাধা দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলে সহযোগিতা করতে হবে।”

পরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এটি সফল ও সার্থকভাবে উদযাপন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকারের সঞ্চালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালন ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, জাটকা সম্পৃক্ত ৬টি জেলা বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, নৌপুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, র্যা ব ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধিগণ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাগণ ভার্চুয়ালি সভায় অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৪, ২০২১ ৬:৪২ অপরাহ্ন
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইলিশ বেড়ে উঠার পথে কোনভাবেই যাতে বাধা সৃষ্টি না হয় সেজন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো। এবছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের কর্মসূচি ০৪ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পালন করা হচ্ছে। ‘মুজিববর্ষে শপথ নেবো, জাটকা নয় ইলিশ খাবো-এ প্রতিপাদ্যে আমাদের এবারের কর্মসূচি। এ সময় ইলিশের অভয়াশ্রম সুরক্ষা এবং জাটকা নিধন বন্ধে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাটকা আহরণ বন্ধকালে ইলিশ আহরণে জড়িতদের যাতে সমস্যা নয়, সেজন্য তাদের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তাদের খাবারসহ অন্যান্য সমস্যা যাতে না হয় সেটাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে আমরা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
রবিবার (০৪ এপ্রিল) রাজধানীর সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ব্র্যান্ডেড এবং পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম সেরা মাছ ইলিশ উল্লেখ করে মন্ত্রী এসময় বলেন, “ইলিশের উৎপাদন অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। আশা করছি ভবিষ্যতে এটা আরো ব্যপক আকার ধারণ করবে। ইলিশ উৎপাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে আমরা প্রথম স্থানে রয়েছি। গত বছর আমাদের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার চমৎকার ব্যবস্থাপনা করেছে। জাটকা রক্ষায় ও মা ইলিশ আহরণ বন্ধে জলে, স্থলে ও আকাশপথে বিভিন্নভাবে মনিটর করা হচ্ছে। ইলিশের অভয়াশ্রমে জাটকা নিধনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যারা কারেন্ট জাল, বেহুন্দী জালসহ অন্যান্য ক্ষতিকর জাল তৈরি করে জাটকা নিধন করে তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান ও জরিমানা করা হচ্ছে। গণমাধ্যমের সংবাদ বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্বিং অপারেশনসহ বিভিন্নভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “জাটকাসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল নির্মূলে এবছর ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করে ১৫ দিনে ১৭ টি জেলায় মোট ৪৯২ টি মোবাইল কোর্ট ও ১ হাজার ৬৮১ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ২ হাজার ৪৪৮ টি বেহুন্দি জাল, ২৭৪.২ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল এবং ৩ হাজার ২৫৫ টি বেড় জাল, চরঘড়া জাল, মশারি জাল ও পাইজাল আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৯ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছি। প্রভাবশালী ব্যক্তিরাদের সাথে আমরাও ন্যুনতম সমঝোতা করিনি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওযা হয়েছে এবং অবৈধ জাল ধ্বংস করা হয়েছে।”
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “২০১৯-২০ অর্থবছরে জাটকা আহরণে বিরত ৩ লক্ষ ১ হাজার ২৮৮ টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে ৪৬ হাজার ৭৭৮ মে.টন ভিজিএফ বিতরণ করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ম কিস্তিতে ৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৮১৫টি জেলে পরিবারকে ৪০ কেজি হারে প্রদানের জন্য মোট ২৬ হাজার ৩০৫ মে.টন চাল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। কারণ আমাদের মৎস্যজীবীদের পরিবারের কথাও মাথায় রাখতে হয়। ভিজিএফ সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার জেলেকে চাহিদানুযায়ী নানা উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।”
“জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ যাতে জাটকা আহরণ করতে না পারে, আহরণের পৃষ্ঠপোষকতার জাল তৈরি করতে না পারে, ট্রলার চালাতে না পারে, ইলিশের অভয়াশ্রমে ক্ষতিকর ভূমিকা রাখতে না পারে সে ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। এমনকি মাছের বাজারে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। কোনভাবে চোরাইপথে জাটকা আসলেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বরফ কল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। দেশের যে বিস্তৃত এলাকায় ইলিশ উৎপাদন হয় সব জায়গায় ভূমিকা রাখতে না পারলেও আমরা চেষ্টা করছি কোন প্রান্তেই যেন জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে কেউ জাটকা আহরণ করতে না পারে।”-যোগ করেন মন্ত্রী।
ইলিশ সংরক্ষণে শুধু মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর নয়, সকলকে সম্পৃক্ত থাকতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যমকে এ সময় জনসচেতনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে হবে। নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব, নৌবাহিনী, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ ব্যাপারে সহযোগিতা করছে। এমন কি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ও আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। আমরা জাটকা ধরবো না। বড় ইলিশ তৈরির সুযোগ করে দেবো। আমরা বড় ইলিশ খাওয়ার সুযোগ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করবো না। এটা হোক জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে আমাদের অঙ্গীকার।”
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, “মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় অতীতের তুলনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় মোবাইল কোর্টের সংখ্যা এবং জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধভাবে মৎস্য আহরণকারী নেপথ্যের ব্যক্তিদেরও আমরা এখন আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। মৎস্যজীবীদের মধ্যে যারা ইলিশের সাথে সম্পৃক্ত তাদের এসময় তালিকা অনুযায়ী আমরা ভিজিএফ দিচ্ছি। এ তালিকা প্রতিবছর হালনাগাদ করা হচ্ছে।”
“করোনা থেকে বাঁচতে হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলে শরীরের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটাতে হবে। আর পুষ্টি ও অমিষসমৃদ্ধ খাবারের সবচেয়ে বড় যোগান মাছ, মাংস, দুধ, ডিম থেকে আসে।”-যোগ করেন মন্ত্রী
করোনা লকডাউনে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম উৎপাদন, পরিবহণ ও বিপণনে কোন ক্ষতি হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী। এছাড়া করোনায় ও রমজানে মানুষের কাছে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম সহজলভ্য করার জন্য ভ্রাম্যমান বিক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও এসময় জানান মন্ত্রী।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১, ২০২১ ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
বগুড়ায় শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ, ৩ লাখ টাকার ক্ষতি!
মৎস্য

বগুড়ার ধুনটে ইজারা বন্দোবস্ত নেওয়া ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। আর এতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পক্ষে সিজাম রাজবংশী বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুরের পর ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পক্ষে বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিজাম রাজবংশী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিরকিখালী গ্রামের সিজাম রাজবংশীসহ একই এলাকার পাঁচজন মৎস্যচাষি বিশ্বহরিগাছা গ্রামের মন্তাজ খানসহ ২২ জনের নিকট থেকে ৬ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ইজারা বন্দোবস্ত নিয়েছেন। ৩ বছরের জন্য ১ লাখ ৯২ হাজার টাকায় পুকুরটি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়। পুকুরে তারা বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করেছেন। পুকুরে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় কে বা কারা পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করেছে। এতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের পক্ষে সিজাম রাজবংশী জানান, পুকুরটি ইজারা বন্দোবস্ত নেওয়ার পর থেকে বিশ্বহরিগাছা গ্রামের আবু তাহের শত্রুতা করছে। সে ক্ষতি করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে আবু তাহের ও তার লোকজন পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করেছে।

আবু তাহের জানান, পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনার সাথে আমি জড়িত না। তারপরও শত্রুতামূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩১, ২০২১ ১:৪৫ অপরাহ্ন
মাছ চাষে কোটিপতি সোহরাব
মৎস্য

রাজশাহী পবা উপজেলায়বছরে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার মাছ উৎপাদন হয়। এখানকার উৎপাদিত পোনা ছড়িয়ে যায় জেলার সবখানে। এখানকা মাছ উৎপাদন ও বিপণন-বিক্রির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় কমেছে বেকারত্বে হার। কর্মসংস্থান ও আর্থিক মুনাফার আশায় বাড়ছে মাছ চাষ। ফলে রাজশাহী সারাদেশে কার্পজাতীয় মাছ উৎপাদনে শীর্ষে রযেছে।

পারিলার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন (৫৫)। বাবা নূর মোহাম্মদ মারা যাওয়ার পর ছয় ভাইয়ের মধ্যে হাওয়া বদলের ধাক্কা লাগে। প্রকৃতির নিয়মে একে একে আলাদা হয়ে যান তারা। বাবার পঞ্চম পুত্র হওয়ায় বিপাকে পড়েন সোহরাব। ছোটভাই গোলাম মোস্তফাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন কৃষি কাজ। একসময় দেখলেন নিজেদের পুকুরে মাছের পোনা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অন্য মানুষ। স্থির করলেন মাছ চাষ শুরু করবেন।

সময়টা ১৯৯৪। নিজস্ব তিন বিঘা পুকুরে ছাড়লেন মাছের পোনা। এক বছরের মধ্যে ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ছাড়লেন সেই পোনা। বছর শেষে ৮০ হাজার টাকা খরচে পকেটে উঠল দেড় লাখ টাকা। এখন তিনি প্রায় ২৮০ বিঘা জমিতে চাষ করছেন কার্প জাতীয় মাছ। শূন্য হাতে শুরু করে বর্তমানে বছরে গুনছেন কোটি টাকা। জেলার সেরা মৎস্য চাষি হিসেবে পেয়েছেন পুরস্কার।

প্রায় ২৭ বছর ধরে মাছ চাষ করছেন সোহরাব হোসেন। ছোট বড় মিলিয়ে তার পুকুর ২৫টি। এর আয়তন ২৮০ বিঘার ওপরে। প্রতি বছর এসব পুকুর থেকে আয় হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। পুকুরে উৎপাদিত মাছ বিক্রি করে তিনি এখন কোটিপতি। চাষ করেন রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাসকার্প, ব্লাডকার্প, সিলভারসহ কার্প জাতীয় নানা ধরনের মাছ। পুকুরের এসব তাজা মাছ কৌশলে ট্রাকে করে কয়েকবার পানি বদলিয়ে পাঠান রাজধানীর ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারে।

সফলতার গল্প শোনালেন অভিজ্ঞ মাছ চাষি সোহরাব হোসেন। জানালেন মাছ চাষ ব্যস্থাপনার নানা কৌশল, ঝুঁকি ও সমস্যার কথা। জানান, এই গ্রামের প্রায় ৯৫ ভাগ মানুষ মাছ চাষ করেন। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রচুর বেকার মানুষের। রাজশাহীর মোট মৎস্য উৎপাদনের বেশিরভাগ এখানের।

দু-দশক আগের তুলনায় এখন মাছ চাষে পরিবর্তন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন মাছ চাষের খরচ বেড়ে গেছে। সার, খৈল, প্রো-বায়োটিকের দাম আকাশছোঁয়া। প্রতিবিঘা জমিতে মাছ চাষে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ পড়ছে। কোনো সময় লাভ হয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ, আবার লোকসানও হয়। এক হাজার টাকার সারের বস্তা অনেক সময় ১৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। মাছের দামের ঠিক নাই। অথচ আগে কম খরচে মাছ চাষ করে বেশি লাভ হতো।

আরও বলেন, মাছের লেজ, পাখনা, পায়ুপথে পচন রোগ হয়। বাজারে ভালো ওষুধ নাই। পোলট্রির ওষুধ ব্যবহার করতে বলে কোম্পানির লোকজন, এতে কাজ হয় না। তাছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তনে মাছ মরে ভেসে উঠে। আমাদের কিছু করার থাকে না। লোকসান হলে সরকারি সহযোগিতা তো দূরের কথা, ঋণ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। তাই অনেকটাই অনিশ্চিত এ ব্যবসা।

তিনি জানিয়েছে, ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করতে দুই কোটি টাকা খরচ হয়। ১০ লাখ টাকা ঋণ নিতে গেলে জমির দলির চায়। নিজের জমিতে তো আর মাছ চাষ করি না, লিজ নেয়া থাকে। মাছ চাষের কৌশল অবলম্বন হিসেবে আবহাওয়ার দিকে খেয়াল রেখে খাবার দেয়া, পানির অক্সিজেনের দিকে লক্ষ্য রেখে মাছ মজুত করা, নিয়মিত প্রো-বায়োটিকের ব্যবহার করা, জাল টেনে মাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। সার্বক্ষণিক মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও বাড়িতে অক্সিজেন মজুত রাখা উচিত, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। সম্ভব হলে পুকুরে অ্যারেটর যন্ত্র লাগনোর পরামর্শ দেন সোহরাব হোসেন।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে উৎপাদিত মাছের মধ্যে কার্প জাতীয় মাছ প্রায় ৮৫ শতাংশ। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন প্রায় ১৫০ ট্রাক মাছ রপ্তানি হয়ে থাকে। জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ৫০ হাজার পুকুর রয়েছে। এখানে বছরে মাছ উৎপাদন হয় প্রায় ৮৪ হাজার টন। আর স্থানীয়ভাবে মাছের চাহিদা রয়েছে ৫২ হাজার টন। ফলে রাজশাহীতে চাহিদার বিপরীতে ৩২ হাজার টন বেশি মাছ চাষ হয়। এই মাছের বেশিরভাগ পবার।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা বলেন, পারিলার মাছ চাষি সোহরাব হোসেন একজন পাইওনিয়ার। তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করেন। পরামর্শ নিতে আসেন।

পবা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আমি এখানে নতুন। এখন মাঠেই আছি। বগুড়া থেকে মাছ চাষে অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য একটা টিম এসেছে। তাদের সঙ্গে আছি। ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেয়া ও পাশে থাকাই আমাদের কাজ।-শেয়ার বিজ

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩০, ২০২১ ৯:৩০ অপরাহ্ন
সিরাজগঞ্জে কীটনাশক দেওয়া পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পাঁচমিশালি

কীটনাশক দেওয়া পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভায়াট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিথী (১১) উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভায়াট গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে ও রিথী (১২) একই এলাকার শাহজাহান প্রামানিকের মেয়ে। উভয়ই ভায়াট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভায়াট গ্রামে লিজ নেওয়া পুকুরে রবিবার রাতে বিষ দেয় মালিক আব্দুল বরাত। মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্থানীয়রা ওই পুকুরে নেমে মাছ মারছিল। এতে বিথী ও রিথীসহ বেশ কয়েকজন শিশুও ওই পুকুরে মাছ ধরতে যায়। সেখানে মাছ ধরার একপর্যায়ে তারা দুই জনই পানিতে ডুবে যায়। মাছ মারা শেষে অন্যরা উঠে গেলেও তাদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ওই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করে। এ সময় পুকুরের ডোবা থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তবে স্থানীয়দের ধারণা, কীটনাশক দেওয়া পুকুরের বিষাক্ত পানিতে ডুবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

শুনেছি পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop