৪:১২ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২১ ৪:১৪ অপরাহ্ন
চাষিদের গান মুগ্ধতা ছড়ালো ধান কাটার মাঠে
কৃষি বিভাগ

কুষ্টিয়ার মিরপুরে আমন ধান কাটার মাঠে মুগ্ধতা ছড়ালো চাষিদের গানের প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামের মাঠে ‘কৃষিবিডি’র উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ৫ কৃষক। এর মধ্যে তিনজন বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় স্থানীয়, নিজেদের লেখাসহ মাঠে কাজ করার সময় গাওয়া বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন প্রতিযোগিরা।

অনুষ্ঠানে কৃষিবিডি’র পরিচালক জাহিদ হাসানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে পুরস্কার বিতরণ করেন কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সচিব কাঞ্চন কুমার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আমলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সমাজসেবক কামরুল ইসলাম।

কৃষকদের বিনোদনে ব্যতিক্রমধর্মী এ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন কৃষক ইউনুস আলী, কৃষি শ্রমিক লিংকন আলী দ্বিতীয় এবং কৃষক মিজানুর রহমান তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার হিসাবে বাঁশের তৈরি মাথাল, ধান কাটার কাস্তে এবং গামছা তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২১ ৩:২৭ অপরাহ্ন
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্র বিতরণ
কৃষি বিভাগ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধানকাটা ও মাড়াইয়ের জন্য কৃষকদের মাঝে ২০টি আধুনিক যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি দপ্তর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ১০টি ধান কাটা ও ১০টি ধান মাড়াই মেশিন বিতরণ করে।

উপজেলা চেয়ারম্যানম্যান অ্যাড. শাহ্-ই-আলশ বাচ্চু, নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ আনুষ্ঠানিকভাবে মেশিনগুলো হস্তান্তর করেন। এছাড়াও এদিন সাড়ে ৫ মেট্রিক টন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ ও ১৬ মেট্রিক টন সার বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, ফাহিমা ছাবুল জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যাপিকা আফরোজা আক্তার লিনা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২১ ২:২৯ অপরাহ্ন
হিলি স্থলবন্দরে বেড়েছে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম
কৃষি বিভাগ

আমদানি কমের অজুহাতে হিলি স্থলবন্দরের আড়তগুলোতে বেড়েছে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম। দু’দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের প্রকারভেদে কেজিপ্রতি দাম বড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা।

সপ্তাহের শুরুতে যে পেঁয়াজ বন্দরের আড়তগুলোতে বিক্রি হয়েছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে, এখন তা বিক্রি হচ্ছে  ২৫-৩০ টাকা দরে। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়ছেন পাইকাররা।

বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা জানান, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা থাকায় তারা ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেন। প্রথমদিকে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম ভালো পেলেও হঠাৎ গত এক সপ্তাহ থেকে বন্দরে দেখা দেয় পাইকার সংকট। এতে বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানি করে কম দামে বিক্রি করতে হয় তাদের। ফলে লোকসানের মুখে পড়েন তারা। এ কারণে পেঁয়াজের আমদানি কমিয়ে দিয়েছে তারা। এর ফলে বন্দরে বেড়েছে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) হিলি স্থরবন্দরে ট্রাকসেল হিসেবে ইন্দ্রজাতের নতুন পেঁয়াজ ২৪ টাকা এবং পুরাতন পেঁয়াজ ২৬ টাকা দরে এবং সুলাপুর জাতের পেঁয়াজ ৩২ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে পেঁয়াজ কিনতে সেলিম নামের এক পাইকার জানান, আমরা হিলি বন্দর থেকে প্রতিদিন দুই-চার ট্রাক পেঁয়াজ কিনে থাকি। সেগুলো ঢাকা সিলেটসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠায়। কিন্তু বন্দরে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দামটা ওঠানামা করাই পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা আরেক পাইকার মোজাম বলেন, হিলি বন্দরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসে পেঁয়াজ কিনতে, আমরা তাদের পেঁয়াজ কিনে দেই। কিন্তু গত কয়েক দিন থেকে বন্দরে পেঁয়াজের দাম বেশ ওঠানামা করছে, তাতে পেঁয়াজ কিনতে সমস্যাই পড়তে হচ্ছে আমাদের। দামটা যদি নিয়ন্ত্রণে থাকত তাহলে আমাদের সুবিধা হতো।

হিলি কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তহের গেল ৫ কর্মদিবসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ১০০ ট্রাকে ২ হাজার ৯০৯ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২১ ১:৩০ অপরাহ্ন
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাজারে নতুন পেঁয়াজ, কেজি ২০ টাকা
কৃষি বিভাগ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর হাটবাজারে আগাম জাতের নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এতে কমতে শুরু করেছে পুরাতন দেশি পেঁয়াজের দামও। ফলে (টিসিবির) পেঁয়াজ খোলাবাজারে বিক্রির চাহিদাও কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কৃষি সবজির বৃহৎ হাট জালালপুর নদীর বাঁধ হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর নতুন পেঁয়াজ উঠেছে। তবে তা ছিল অপরিপক্ক। ভালো দামের আসায় আগেভাগেই হাটে নিয়ে এসেছেন কৃষকরা। নতুন পেঁয়াজের সাথে পাতাও বিক্রি হয় ভালো দামে। যার কারণে দুটি মিলিয়ে ভালো দাম পান কৃষকরা।

হাটে পাইকাররা এসে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি দরে। বিকল্প হিসেবে পেঁয়াজের সাথে ফুলকা (পেঁয়াজের কলি) বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা আটি। পুরাতন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে। শহরের বাজারে নতুন পেঁয়াজ ও পাতার দাম কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হয়।

বাজারে নতুন পেঁয়াজ নিয়ে আসা বিক্রেতা হানিফ বলেন, পেঁয়াজের পাতা ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। নতুন পেঁয়াজ ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দেশি পেঁয়াজের চাহিদা বাজারে বরাবরই ভালো ছিল। কিন্তু দাম বাড়ার কারণে অনেক ক্রেতা খোলাবাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ কিনা শুরু করেন। এখন দেশি পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামান্য উঠানামা হয়। বাজারে নতুন পেঁয়াজ পুরোপুরি উঠতে শুরু করলে পুরাতন পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২১ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
নতুন জাতের আমন ধান, এক বিঘা জমিতে ২৭ মণ ধান
কৃষি বিভাগ

মাত্র এক বিঘা জমিতে ২৭ মণ ধান! ধানের নাম আমন। রাজবাড়ীর নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা যখন দিশাহারা তখন হাইব্রিড অ্যারাইজ এজেড-৭০০৬ জাতের আমন ধান চাষিদের আলোর মুখ দেখায়। নতুন জাতের আমন ধানের চাল মধ্যম চিকন; ভাতও হয় ঝরঝরে ও খেতেও সুস্বাদু।

জানা যায়, বন্যায় সহনশীল হওয়ায় রাজবাড়ীতে কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ ধান। জাতটি শুধু বন্যায় সহনশীলই নয়, যে কোনো জাতের ধানের চেয়ে উচ্চফলনশীলও। তেমনি রোগবালাইও অনেক কম। বন্যায় ক্ষতি পোষাতে এ জাতের আমন ধানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে রাজবাড়ী অঞ্চলের কৃষকদের।

আর উচ্চফলনশীল এ জাতের বীজ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছে জার্মানভিত্তিক কোম্পানি বায়ার ক্রপ সায়েন্স।

এ জাতের ধান চাষ করে সাফল্যও পাচ্ছেন তারা। ৩৩ শতাংশে বিঘাপ্রতি এ জাতের ২৬ থেকে ২৭ মণ ধান পাচ্ছেন কৃষকরা।

বায়ার ক্রপ সায়েন্স লিমিটেডের ফরিদপুর আঞ্চলিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মানসুর রহমান জানান, এ জাতের আমন ধানের বিশেষায়িত হচ্ছে বীজ রোপণের পর অনাকাঙ্ক্ষিত বন্যায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ক্ষেত তলিয়ে থাকলেও ফসলের কোনো ক্ষতি হয় না।

পক্ষান্তরে নতুন জাতের আমন ধানের এ জাতটি যেমন বন্যা সহনশীল, তেমনি উচ্চফলনশীলও। পাতা পোড়া (বিএলবি) রোগসহ অন্য জাতের ধানের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি। রয়েছে ধান ঝরে না পড়ার গুণও। হাইব্রিড এ জাতের ধান চাষ করে বিঘাপ্রতি ২৬ থেকে ২৭ মণ ধান পাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। দুই হাজার ছয় জাতের আমনের ধানের চাল মধ্যম চিকন। ভাতও হয় ঝরঝরে ও খেতেও সুস্বাদু।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের ব্লকে ২০০ বিঘা জমি আছে। এর মধ্যে এবার প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে এ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। কারণ এ জাতের আমন ধানে রোগবালাই কম। আমরা যে জাতের ধান চাষ করতাম তার থেকে নতুন এ জাতের ধানের ফলন বেশি হয়েছে।

ধানচাষি আব্দুল গফুর মণ্ডল বলেন, আমরা আগে যে জাতের আমন ধান চাষ করতাম; তার থেকে প্রায় দ্বিগুণ ফসল হচ্ছে নতুন এই জাতের ধান থেকে। এর চেয়ে বড় কথা হচ্ছে জাতটি বন্যায় সহনশীল ও রোগবালাই কম। এ জাতের ধান চাষ করে আমরা আগের চেয়ে বেশি লাভবান হব।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, গতানুগতিক পুরনো জাতের ধান চাষ থেকে কৃষকদের সরে আসতে হবে। কারণ দীর্ঘদিন একই জাতের ধান আবাদ করলে রোগব্যাধি বেশি হয়। নতুন অ্যারাইজ এজেড-৭০০৬ জাতের ধান উচ্চফলনশীল ও বন্যা সহনশীল। পাতা পোড়া (বিএলবি) রোগ প্রতিরোধী।

ধান ঝরে পড়ে না। এ ধরনের হাইব্রিড জাতের ধান চাষ যদি আমরা বাড়াতে পারি, তা হলে কৃষক লাভবান হবেন। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে বলেও জানান কৃষি অফিসের ওই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২১ ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
মৌলভীবাজার কমলগঞ্জে ফসল রক্ষায় কৃষকের রাত জেগে ধান পাহারা
কৃষি বিভাগ

কমলগঞ্জে বুনো শূকরের হানায় নষ্ট হয়েছে প্রায় এক হাজার একর জমির আমন ও সবজিখেত। এক মাস ধরে উপজেলার প্রায় ছয়টি এলাকায় চলছে এই তাণ্ডব। পাকা ধান ঘরে তোলার সময় এ ভোগান্তিতে ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। এ অবস্থায় বুনো শূকর থেকে ফসল বাঁচানোর জন্য রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা।

কৃষকেরা অভিযোগ করে জানান, লংগুরপার, দক্ষিণ বালিগাঁও, বাঘমারা, সরইবাড়ি, ভেড়াছড়া, ছাতকছড়া এলাকার ফসলি জমিতে লাউয়াছড়া বনের বুনো শূকর প্রতি রাতে হানা দেয়। আমন পাকা ধান ও শীতকালীন সবজিখেতে শূকরের দল এসে তা নষ্ট করে। ধান, আলু, মুলা এমনকি কলাগাছসহ বিভিন্ন গাছ উপড়ে ফেলে।

এদিকে শূকর তাড়ানোর চেষ্টা করলে উল্টো মানুষকে ধাওয়া করে। সারা দিন কাজ করে আবার রাত জেগে ফসল পাহারা দিতে হয়। কৃষকেরা বুনো শূকরের হানায় ফসল মাঠে রাখতে পারছেন না।

শীতের মধ্যে পাকা ধান রক্ষায় মাঠে বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে পাহারা দেন কৃষকেরা। সঙ্গে রাখেন প্লাস্টিক ও টিনের তৈরি ড্রাম। কিছুক্ষণ পর শব্দ করে চিৎকার করেন, যাতে শূকর চলে যায়। কৃষক জাহির মিয়া ফসলি মাঠে বাঁশ দিয়ে ৪ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট মাচা তৈরি করে রাতে বসে থাকেন শূকর তাড়ানোর জন্য।

জাহির মিয়া বলেন, ‘শূকর আমাদের সব ফসল নষ্ট করে ফেলছে। এ অবস্থায় প্লাস্টিক ও টিনের ড্রামের শব্দ করে রাত জেগে ফসল পাহারা দিতে হয়। এসব শূকর মানুষকেও আক্রমণ করে। এ কারণে ৪ ফুট উঁচুতে বাঁশের মাচা তৈরি করেছি, যাতে বন্য শূকর আক্রমণ করতে না পারে।’

এভাবে মাচা তৈরি করে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন কৃষক মুরাজ মিয়া, আবুল হোসেন, কৈইনুর, দুলাল মিয়া। ফসল কাটার আগ পর্যন্ত চলবে তাঁদের পাহারা দেওয়ার কাজ। তবে বুনো শূকরের আক্রমণ ঠেকাতে এখন পর্যন্ত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে দাবি করেন কৃষকেরা।

পরিবেশবাদী সংগঠন জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি কমলগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, বন উজাড় ও বনভূমি বেদখল হওয়ার কারণে এখন বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। আগে বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে হানা দেয়নি, মানুষের কোনো ক্ষতি করেনি। লাউয়াছড়ার বেদখল বনভূমি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণীদের জন্য বনজ গাছ লাগানোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বন্যপ্রাণীর নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নেই। বন্যপ্রাণীরা খাবারের জন্য লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে বুনো শূকর ধান খেতে পছন্দ করে, মূলত পাকা ধান খাওয়ার জন্য ফসলের মাঠে হানা দিচ্ছে শূকরের দল।

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বুনো শূকরের বংশবিস্তার আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। শূকরের দলের বনের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বিচরণ করা স্বাভাবিক বিষয় হলেও ফসল নষ্ট হওয়ায় ঘটনা দুঃখজনক।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৫, ২০২১ ৯:১৪ পূর্বাহ্ন
হাওরে আগাম বন্যা ও শীত সহিষ্ণু ধান উদ্ভাবন
কৃষি বিভাগ

হবিগঞ্জসহ হাওর এলাকার কৃষকদের এই চিত্র বদলে দিতে এবার নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। ইতোমধ্যে সফলতার কাছাকাছি চলে এসেছেন তারা। নতুন উদ্ভাবিত জাত চৈতালী ও বৈশাখী ঢল আসার আগেই কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবে। শীতের আঘাতেও এই ফসল ক্ষতি হবে না। আবার ফলনও হবে ভাল। আর নতুন এই জাত উদ্ভাবনের জন্য অন্যতম পিতৃলাইন হিসাবে নেয়া হয়েছে হবিগঞ্জের জনপ্রিয় ধান পশু শাইলের জিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১ বছর পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ শুরু করে। এর পরীক্ষণ প্লট হিসাবে ব্যবহার করা হয় কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওর, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শীবপাশা বাকাটিয়ার হাওর, বানিয়াচং উপজেলার মকার হাওর, নবীগঞ্জ উপজেলার গুঙ্গিয়াজুরী হাওর, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর হাওর, শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওর।

গত মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) হবিগঞ্জের তিনটি হাওরে নতুন উদ্ভাবিত জাতের পরীক্ষণ প্লটের ট্রায়াল দেখতে যান গবেষণার সাথে জড়িত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, ব্রি’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং গবেষণার মূখ্য পরীক্ষক পার্থ সারথী বিশ্বাস, হবিগঞ্জ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক, ব্রির বিজ্ঞানী হাবিবুর রহমান, ওয়াজিয়া আফরিন, রফিকুল ইসলাম, ইমাম আহমেদ, ইরির ড. মোবারক হোসেন ও ড. রফিকুল ইসলাম।

পার্থ সারথী বিশ্বাস জানান, ব্রির হবিগঞ্জ স্টেশন ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আসাম অববাহিকার হাওরের জন্য উপযোগী জাত উদ্ভাবনের কাজ করে আসছে। এখান থেকে আবিষ্কৃত হবিগঞ্জ বোরো-৬ যাকে পশুশাইল বলে তার মাঝে শীত সহনশীল ও খরা সহনশীল জিন পাওয়া গেছে। এখানকার উদ্ভাবিত রাতা বোরো ও টেপি বোরোতেও শীত সহনশীলতার জিন পাওয়া গেছে। ব্রি হবিগঞ্জ থেকে উদ্ভাবিত হাসি (ব্রি ১৭), মঙ্গল (ব্রি ১৮) ও শাহজালাল (ব্রি ১৯) এর গাছগুলো ছিলো লম্বা। হঠাৎ পানি আসলেও গাছ লম্বা হওয়ায় পানির বৃদ্ধি সহ্য করতে পারত। বীজ সরবরাহ চেইন ভেঙে যাওয়ায় এই জাতের বদলে ২৮ ও ২৯ আবাদ করতে থাকায় এই জাতগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল। আমরা ইন্দোনেশিয়া এ ধরনের জাত পেয়ে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করেছি। পশুসাইল এর জিন, ভুটান, নেপাল, কুরিয়া ও ফিলিপাইন থেকে কিছু জাত পিতৃলাইন হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষণ ফিল্ডে নতুন এই জাতের বেশ কয়েকটি লাইন দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। আমরা দ্রুত এই জাতটি নতুন জাত হিসাবে অবমুক্ত করতে পারব বলে আশাবাদী।

ড. জীবন কৃষ্ণ জানান, নতুন জাতটি উদ্ভাবনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় ২০১৭ সালে যখন হাওর এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই অবস্থা বিবেচনা করে। নতুন জাতটি হবে স্বল্প মেয়াদী ও শীত সহনশীল। ফলে আগাম বন্যা আসার আগেই কৃষকের গোলায় চলে যাবে এই ধান। নতুন জাত উদ্ভাবনে হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ধান পশুসাইলকে প্যারেন্ট হিসাবে নেয়া হয়েছে। পশুসাইলই ছিল প্রথম উদ্ভাবিত বন্যামুক্ত জাত।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত বিভিন্ন জাত যদি কেউ আবাদ করেন তাহলে শীত রোগের কারনে ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। উৎপাদন হয় হেক্টর প্রতি ৪ টন। কিন্তু নতুন জাতটির উৎপাদন হবে হেক্টর প্রতি ৭ টন এবং শীত রোগ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২১ ১০:৩০ অপরাহ্ন
তামাক চাষ বন্ধে সরকার খুবই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

তামাক নিয়ে সরকার খুবই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। তবে পলিসিলেভেলে সিদ্ধান্ত হয়েছে ভবিষ্যতে তামাক ফসল হিসেবে থাকবে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। ২৪ নভেম্বর,বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ভাল আয় আসছে তামাক থেকে। সরকার খুবই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। তবে পলিসি লেভেলে আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আমরা আস্তে আস্তে তামাক থেকে বেরিয়ে আসব। তামাক এই দেশে ফসল হিসেবে থাকবে না।ভাল আয় আসছে তামাক থেকে। সরকার খুবই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। তবে পলিসি লেভেলে আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত, আমরা আস্তে আস্তে তামাক থেকে বেরিয়ে আসব। তামাক এই দেশে ফসল হিসেবে থাকবে না।

সারে ভর্তুকি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও এখনই দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী। বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টার ওপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে আমরা একটা বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে চাই, যে সারের দাম ২৫০, ২৩০-২৭০ ডলার ছিল, সেটা এখন ৮০০-৯০০ ডলার। চারগুণ বেড়েছে।

‘আমরা সারে ৯০০ কোটি টাকা দেই সাবসিডি (ভর্তুকি)। এটা এবার মনে হয় ২০ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত আমাদের বলেছেন, উনি সারের কোনো দাম বাড়াবেন না।’সম্প্রতি সরকার ডিজেলের যে দাম বৃদ্ধি করেছে তার প্রভাব কৃষিখাতে পড়বে কি না, জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রভাব তো অবশ্যই পড়বে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এমনি আমাদের কৃষকরা নানান সমস্যায় জর্জরিত। পিক সিজনে তারা ফসলের দাম পায় না।

তামাক চাষের ফলে কৃষি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে ও মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, তাই তামাক চাষ বন্ধে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে তামাক চাষে একদম উৎসাহিত করি না। আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো, এটাকে নিরুৎসাহিত করা। তারপরও আমাদের এখনও কিছু মানুষ তামাক খায়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, তামাক নিয়ে সরকার খুবই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে। তবে আমি বলি আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত পলিসিলেভেলে আমরা আস্তে আস্তে তামাক থেকে বেরিয়ে আসবো। এক সময় তামাক এদেশের ফসল হিসেবে থাকবে না। ইদানিং দেখা গেছে জাপানের মতো একটি দেশ, যারা নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে মানবিক দিকগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেন এবং নীতিতে খুবই অটল, তারা এদেশে এসে তামাকখাতে বিনিয়োগ করছেন। যাতে রপ্তানি করা যায়। ফলে একটা ভালো আয় আসছে তামাক থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী,  এসিআই এগ্রো লিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এফএইচ আনসারী, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চিফ অপারেটিং অফিসার পারভেজ সাইফুল ইসলাম, জেমকন গ্রুপের ডিরেক্টর কাজী ইনাম আহমেদ এবং বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যান্ড এলাইড প্রোডাক্ট এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২১ ১০:০৭ অপরাহ্ন
কৃষিখাতে সহযোগিতায় মার্চ মাসে আসছে ট্রেড মিশন
কৃষি বিভাগ

কৃষিখাতে সহযোগিতা ও বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে ২০২২ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে ট্রেড মিশন পাঠাবে নেদারল্যান্ডস। একইসাথে, দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপন, পেঁয়াজ ও আলু সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনসহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, গ্রীন হাউজ ও গ্লাস হাউজ তৈরীর ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।
আজ বুধবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইউরোপের বাজারে কৃষিপণ্যের রপ্তানি এবং কৃষিখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সম্প্রতি বিগত ০৯-১৮ নভেম্বর ২০২১ নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সফর করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে সরকারি ও বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদল। এ বিদেশ সফর ও কৃষির সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে মন্ত্রী প্রেস ব্রিফিং করেন।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, নেদারল্যান্ডস বেসরকারি খাত থেকে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, সংগ্রহ, সংগ্রহত্তোর প্রযুক্তি, বিভিন্ন ধরনের মেশিনারিজ তৈরীর প্রযুক্তিগত দিক, রিয়েল টাইম স্বয়ক্রিয় রিপোর্টিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও উচ্চ শিক্ষায় সহায়তা পাওয়া যাবে। এসব বিষয়ে ওখেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চের সাথে সমঝোতা স্মারক শিগগিরই স্বাক্ষর হবে। এছাড়া, দেশে ঘাটতি হলে সেপ্টেম্বর মাসে নেদারল্যান্ডসে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণে ডাচ বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, ইন্টার ল্যাবরেটরি টেস্টিং ভ্যালিডেশন, ISO 17025 Standard এর জন্য কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। এছাড়া, গ্রীনিচ ইউনিভার্সিটির সাথে প্রশিক্ষণ সহযোগীতার প্রক্রিয়া এবং ব্রিটেনের সুপার স্টোর সেইন্টসবারি, আজডা, টেসকোর সাথে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বারের মাধ্যমে বাজার সংযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষিকে লাভজনক ও বাণিজ্যিকীকরণ করতে চাই। এটি করতে হলে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার বিস্তৃত করতে হবে। এতে উৎপাদন মৌসুমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও লাভ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এসব উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই আমরা নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সফর করেছি।
মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের আমলে দেশে খাদ্য উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আলু, শাকসব্জি, আমসহ অনেক ফসলে আমরা উদ্বৃত্ত। এসব কৃষিজ পণ্য রপ্তানির এক বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও সেই সুযোগ আমরা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না। গত অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি পূর্বের বছরের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়ে ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি টেকসই ও ত্বরান্বিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে প্রাইমারি প্রসেসিং, প্যাকিং হাউস ও টেস্টিং ক্যাপাসিটি উন্নয়ন তথা আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপন ও উন্নয়নে কাজ করছে।
ব্রিফিংয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের রুটিন দায়িত্বরত ড. মো: আবদুর রৌফ, অতিরিক্ত সচিব মো: রুহুল আমিন তালুকদার, হাসানুজ্জামান কল্লোল, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, এসিআই এগ্রো লিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এফএইচ আনসারী, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চিফ অপারেটিং অফিসার পারভেজ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডিজেলে ভর্তুকি ও সারের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদেরকে আপাতত ডিজেলে ভর্তুকি দেয়ার পরিকল্পনা নেই। এছাড়া, কৃষকদেরকে সেচকাজের জন্য ডিজেলে ভর্তুকি দেয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। সেচের কথা বলে পাম্পে বা অন্যত্র কাজে লাগায়। আর বিশ্ব বাজারে সারের দাম চারগুণ বাড়লেও দেশে সরকার এই মুহূর্তে সারের দাম বাড়াবে না।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২৪, ২০২১ ৪:৫৩ অপরাহ্ন
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় মৌসুমি পানিফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের
কৃষি বিভাগ

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় মৌসুমি পানিফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। এরই মধ্যে লাভজনক এই ফল চাষ করে অনেক চাষির পরিবারে সুদিন ফিরেছে। উপজেলার পরিত্যক্ত জলাশয়জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে পানিফলের গাছ।

জানা গেছে, অনেক বছর ধরেই এ উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানিফল চাষ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই এ ফলের চাষ বাড়ছে। কাকডাকা ভোরে কৃষকরা অটোভ্যান-সিএনজিতে বস্তায় ভরে এই পানিফল বিক্রির জন্য নিচ্ছেন নন্দীগ্রাম পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। লাল রঙের হাইব্রিড পানিফল প্রতি মণ ১৮০০, সবুজ রঙের তাজা পানিফল ২১০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলাশয়ে চাষ হওয়া পানিফল স্থানীয় চাষিদের কাছে ‘পানি শিঙাড়া’ নামেও পরিচিত। এ ফলের কোনো বীজ নেই। নিচু এলাকার জলাশয়ে মৌসুমি ফসল হিসেবে পানিফল চাষ হয়। এ ফল পানিতে ভরপুর এবং তাতে প্রচুর খনিজ উপাদান থাকে। শীতকালে ফল আহরণ শেষ হলে জলাশয়ে পানিতে ফলের চারা রেখে দিই। ক্রমেই বাড়তে থাকে চারাগাছের সংখ্যা। পানির নিচের দিকে যেতে থাকে শিকড়। অল্প দিনেই লতাপাতার বিস্তার হতে থাকে। ভাদ্র মাস থেকে গাছে ফল আসতে থাকে। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ফল বিক্রি শুরু হয়। প্রতি সপ্তাহে ফল তোলা যায়।

নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দোহার সড়কের পাশে জলাশয়ে পানিফল চাষ করেছেন গণেশ চন্দ্র। তিনি বলেন, শখের বশে পরিত্যক্ত জলাশয়ে পানিফল চাষ করছেন। এই ফল চাষ করে ফলন ও দাম দুই-ই ভালো পাওয়া যায়। উপজেলার রণবাঘা জলাশয়ে চাষ করেছেন লাল চাঁদ। তিনি বলেন, পানিফল চাষে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। তার মতো অনেকেই এখন পানিফল চাষ করছেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আদনান বাবু বলেন, জলাশয়ে চাষ হয় বলে এটি ‘পানিফল’ নামে খ্যাত। স্থানীয় ভাষায় এটি ‘পানি শিঙাড়া’ নামেও পরিচিত। এটি পানিতে ভরপুর এবং প্রচুর খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ সুস্বাদু একটি ফল। শহর-গ্রাম সবখানেই এ ফলের চাহিদা রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় পানিফল চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop