৯:১৩ অপরাহ্ন

বুধবার, ১৮ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২১ ৮:২৬ পূর্বাহ্ন
মরুর ফল চাষে লাখপতি স্কুল শিক্ষক
কৃষি বিভাগ

টানা দেড় বছর দাপ্তরিক প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ সময় বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক হাসান মাহমুদ সাইদ (৪৫) চাষাবাদ করেছেন গ্রীষ্ফ্মকালীন ও মরুভূমির ফল তরমুজ ও বাঙ্গির।

দেখা যায়, সাইদ হাসান গত বছর ২৪ শতাংশ জমিতে মরুভূমির ফল আবাদ করে বিক্রির পর আড়াই লাখ টাকা লাভ করেছেন। এ বছর এক একর জমিতে আবাদ করে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। এসব ফলের বীজ বপনের ১৫ দিনের মধ্যেই ফুল ধরে এবং তিন মাসের মধ্যে ফলগুলো বিক্রয়যোগ্য হয়ে ওঠে। ১২ মাসই আবাদ করা যায় এসব ফলের।

এ ছাড়া তার খামারে আবাদ করা হয় বিদেশি জাতের ব্রোকলি (ফুলকপি), মিষ্টি মরিচ, লেটুস পাতা, রেডবিট (শালগম জাতীয়), টমেটো, আলুবোখারা, লবঙ্গ, ডুরিয়ান (মালয়েশিয়ান ফল) সাদা জাম, কমলাসহ দুষ্প্রাপ্য বিভিন্ন জাতের বিদেশি ফলের চারা। পাঁচটি মাছের ঘেরে আছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

হাসান মাহমুদ জানান, ১৯৯০ সালে এসএসসি পাসের পর কৃষি ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তিনি মাছের ঘের করেন। এরপর আর পেছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এরই মধ্যে খামারের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ একরে। ২০১০ সালে পাঁচটি ঘেরের চারপাশে কৃষিকাজ শুরু করেন। এ সব কাজের পাশাপাশি দর্শনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৬ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন তিনি।

হাসান মাহমুদ সাইদ বলেন, গত বছর বরিশাল নগরীর একটি বীজ বিক্রির দোকানে তার পরিচয় হয় থাইল্যান্ডের চিয়াত তাই কোম্পানির (বীজ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান) এক বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে। তার পরামর্শ ও বিনামূল্যে দেওয়া বীজে আরব দেশের সুস্বাদু ফল আবাদে আকৃষ্ট হন তিনি।

আন্ধারমানিক ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন সরদার জানন, হাসান মাহমুদের খামারে কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের ফল ও আখ এবং নানা প্রকার সবজির প্রদর্শনী করা হচ্ছে। আগ্রহী তরুণদের নিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয়। এরই মধ্যে আন্ধারমানিক ইউনিয়নের দুই যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে খামার গড়েছেন।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, অধিদপ্তরের বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসান মাহমুদের খামার পরিদর্শন করেছেন। তার উদ্যোগ সর্ব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২১ ১১:২০ অপরাহ্ন
তরমুজ চাষে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন শিক্ষার্থী ছামিউল্লাহ
কৃষি বিভাগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার প্যারামেডিকেলের এক শিক্ষার্থী করোনাকালীন সময়ে পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ করে লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন ।

জানা গেছে, করোনা মহামারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ ইউটিউবে কুমিল্লার এক তরমুজ চাষির গল্প শুনেন তিনি। পরে ওই চাষির সাথে যোগাযোগ করে তরমুজ চাষের পরামর্শ নেন তিনি। পরামর্শ অনুযায়ী চার জাতের তরমুজের চারা রোপণ করেন। এর মধ্যে ব্ল্যাক বেবি, গোল্ডেন ক্রাউন এবং বাংলাদেশি জাত মধুমালা এবং সুপার কিং অন্যতম। ফলন ভালো হওয়ায় লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন এই শিক্ষার্থী।

মো. ছামিউল্লাহ জানান, আমি প্রথমে ইউটিউবে কুমিল্লার এক তরমুজ চাষির গল্প দেখি। পরে ওনার সাথে যোগাযোগ করে কোথায় থেকে বীজ নিতে হবে সেটি জানলাম। পরে আমি ফোন করে বীজ এনেছি। আমি এখানে চার জাতের তরমুজ ব্ল্যাক বেবি, গোল্ডেন ক্রাউন এবং বাংলাদেশি জাত মধুমালা এবং সুপার কিং চাষ শুরু করি। আমার এই গাছগুলো সম্পূর্ণভাবে ফলন দিয়েছে। এখনও আমি বিক্রি শুরু করেনি। আশা করছি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিক্রি শুরু করতে পারব।

তিনি জানান, প্রথমে যখন আমি চাষ করি তখন আমাকে অনেকেই না করেছিল কিন্তু বর্তমানে সবাই এসে আমার ফলন দেখছেন, পরামর্শ চাচ্ছেন। সবাই এখন অনেক খুশি। মাত্র ২৫ শতাংশ জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। আশা করছি প্রায় ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারব, বলেন তিনি।

কসবা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় প্রথমবার তরমুজ চাষ করেছে ছামিউল্লাহ। আমরা তাকে বলেছি তার এই চাষাবাদ অব্যাহত রাখার জন্য। এতে করে কুটি এলাকায় অন্য কৃষকরা উৎসাহিত হবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি যখন যে পরামর্শ প্রয়োজন আমরা তাদেরকে দিয়ে যাব। কারণ পোকা মাকড়ের আক্রমণ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। সে জন্য আমরা এসে তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৯, ২০২১ ৬:৫১ অপরাহ্ন
আমন ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
কৃষি বিভাগ

বোনা আমন ধানের শীষ বের হয়নি এখনও। এরই মধ্যে বিল থেকে নেমে গেছে বর্ষার পানি। ফলে ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চাটমোহরের কৃষক।

বিলে পানি থাকায় সাধারণত বোনা আমন ধান আবাদে সেচের প্রয়োজন হয় না। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি এসে বোনা আমনের শীষ বের হয়। কিন্তু এ বছর আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই বিলের পানি কমতে থাকে দ্রুত এবং কয়েক দিনের মধ্যে ধানক্ষেত শুকিয়ে যায়। তাই ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিল অধ্যুষিত চার ইউনিয়নের হাজারো কৃষক।উপজেলার হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া, বিলচলন (আংশিক) এবং ছাইকোলা ইউনিয়নের (আংশিক) এলাকার বিলের পানি ইতোমধ্যে শুকিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার ধানক্ষেতও শুকিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ১১২০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধানের চাষ হয়েছিল। বর্ষা শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ৮৯০ হেক্টর জমির বোনা আমন নষ্ট হয়ে যায়। সে সময় কৃষকরা কাঁচা ধানগাছ কেটে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এরপর বর্ষার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় আরও একদফা নষ্ট হলো ধান।

উপজেলার বরদানগর গ্রামের কৃষক রতন আলী জানান, চলতি বছর পাঁচ বিঘা জমিতে বোনা আমন ধান চাষ করেছেন। জমি চাষ, বীজ, সার, আগাছা পরিস্কার বাবদ ইতোমধ্যে বিঘ প্রতি খরচ গেছে চার হাজার টাকা করে। অথচ ধানের শীষ বের হওয়ার আগেই জমি শুকিয়ে গেল। ফলে পুরো লোকসানে পড়েছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ জানান, উপজেলার নিচু এলাকাগুলোতে ধলদীঘা, আজলদীঘা, জিরাশাইল, কালবোরনসহ স্থানীয় জাতের বোনা আমন ধানের চাষ হয়। অনিয়ন্ত্রিত বন্যার কারণে এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রায়ই ক্ষতির শিকার হন। আর এবার বিলের পানি শুকিয়ে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়লেন তারা। তবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে ধানের ফলন বিপর্যয় কিছুটা কমবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২১ ২:৩৯ অপরাহ্ন
অসময়ে তরমুজ চাষে খরচের দ্বিগুণ লাভ করছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

অসময়ে তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের আদমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন। পাত্রখোলা চা বাগানের প্রায় দুই বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো উচ্চ ফলনশীল তিন জাতের তরমুজ চাষ করেন তিনি। এখন মৌসুম না হলেও তার জমিজুড়ে শোভা পাচ্ছে হলুদ, কালো ও সবুজ ডোরাকাটা তরমুজ। তরমুজের ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় বেশ লাভবান এই কৃষক।

আব্দুল মতিন জানান, তরমুজের তিন জাত ব্ল্যাক বেরি, মধুমালা এবং বাংলালিংক জাতের। ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আর ফলন দেখে আমরা সবাই খুশি।

গবেষণায় সফলতার পর এবার মাঠ পর্যায়ে বাম্পার ফলন হয়েছে নতুন উদ্ভাবিত বারি-১ ও ২ জাতের তরমুজের। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বারোমাসী এ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী পটুয়াখালী কলাপাড়ার তিন কৃষক।

কৃষকরা জানান, এই তরমুজ আমরা এ পর্যন্ত তিনবার বিক্রি করেছি। এতে আমাদের যা খরচ হয়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে। তবে এখন যে পরিমাণ চাহিদা সে পরিমাণ দিতে পারছি না, জানালেন আরেক কৃষক।

২০১৫ সালে গবেষণা শুরু করে পাঁচ বছর পর দেশীয় এই নতুন জাত উদ্ভাবনে সফল হন কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউটের পটুয়াখালীর লেবুখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকরা।

এমন সফলতায় তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেক কৃষক। আর চাষীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২১ ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
জুমের সোনালী পাকা ধানে ভরে উঠেছে পাহাড়
কৃষি বিভাগ

জুমের সোনালী পাকা ধানে ভরপুর পাহাড়। জুমের ফলন ভালো হওয়ায় চোখে মুখে এখন আনন্দ দেখা যাচ্ছে জুম চাষীদের। রাঙ্গামাটির জুমিয়ারা এখন ব্যস্ত পাকা ধানের ফসল বাড়িতে তোলার কাজে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সনাতনী কৃষি হচ্ছে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী জুম চাষ। জুম চাষের প্রস্তুতিকালে প্রথমে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে আগুনে পুড়িয়ে জুম চাষের জন্য জমিকে উপযুক্ত করে তোলা হয়।

এরপর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রস্তুতকৃত পোড়া জুমের মাটিতে দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে ধান, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, তুলা, তিল, ভুট্টাসহ পাহাড়ে একসাথে বিভিন্ন প্রজাতির বীজ বপন করে জুমিয়ারা।

আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই জুমের ধান পাকা শুরু হয়। ভাদ্র-আশ্বীন মাসে ঘরে তোলা হয় জুমের ফসল। এ বছর জুমে পোকামাকড়ের উপদ্রব না থাকায় জুমের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জুম চাষীরা।

মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কৃষি বিভাগের কর্মকর্মারা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে(বাসস) জানান, পাহাড়ে জুমিয়ারা স্থানীয় জাতের ধানের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির সবজীর চাষ ও করেছে। পাহাড়ে জুম চাষসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাথী ফসল চাষে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পরামর্শ নিয়ে কাজ করায় এবার ফলন ও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ে থাকা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে(বাসস) বলেন, চলতি বছর শুধু রাঙ্গামাটি জেলায় জুম চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে।

যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধারা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১ দশামিক ৩০ টন। এবার জুমের ফসল ভালো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ে জুম চাষের ফলে এখানকার খাদ্য চাহিদা পূরণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পাহাড়ে প্রায় বিভিন্ন জাতের জুমে ধান চাষ হয়ে থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- হরিণ বিনি, পাধাতটারা, আমেই, কালা কবরক, লঙ লঙ, মেলে (কুকী), কামারাঙা, তোর্গী, বাধেইয়া, কবরক, লেঙদাচিকন, গেলঙ, পাত্তেগী, গুরি, বিনি, কবাবিনি ও লোবাবিনি।

পাহাড়ে এখন জুমের পাকা সোনালি ফসল ঘরে তোলা শুরু করেছে চাষীরা। শুরু হয়েছে পাকা ধান কাটা। দীর্ঘ প্রায় নয় মাসের পরিশ্রমে ফলানো ফসল ঘরে তুলছেন জুমচাষীরা। গত বছরের মতো এবার মৌসুমেও করোনার কারণে চাষাবাদে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলে ও জুমের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক। সব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা তাদের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২১ ১০:১১ পূর্বাহ্ন
শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত বগুড়ার কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

বগুড়ার কৃষকেরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোর থেকে বিকেল পযর্ন্ত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যাচ্ছে কৃষকেরা সবার আগে সব সবজি বাজারে নিতে। যদিও শীতকালীন সবজি চাষ করার জন্য জমি তৈরী করতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হয় কৃষকদের।

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার এনায়েত পুর, উত্তর শ্যামপুর, মাঝপাড়া, বাকসন, জামালপুর, বারুগারী, মেদিনীপাড়া, উথলী, নারায়নপুর, রায়নগর, হরিপুর, কাজীপুর, এলাকার কৃষকেরা শীতকালীল সবজি মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, সিম, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ও পেঁয়াজ কৃষকেরা শীত নামার পূর্বেই বাজারে নিয়ে আসে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, বগুড়ায় শীতকালীন সবজি বরাবরের মত ভালো চাষ হয়ে থাকে। গত বছর বন্যা থাকার পরেও ভালো সবজি চাষ হয়েছে। এবছরও ভালো সবজি পাওয়ার আশায় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছে। বগুড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের কৃষকেরা শীতকালীন সবজি চাষে মাঠে নেমেছে। এবছর ১৮ হাজার ১৮৮ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ফলন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। আর গত বছর সবজির ফলন হয়েছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন, যা চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে।

উত্তর শ্যামপুর গ্রামের কৃষক জিন্নাহ বলেন, আমি ৪০ শতক জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি। এবছর শ্রমিকের মজরি একটু বেশি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে এবং দাম ভালো পাওয়ার আশা করছি।

শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মোজাহিদ জানান, এ বছর উপজেলায় এক হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতকালীন সবজির দিকে উপজেলার কৃষকদের বিশেষ নজর থাকে। এবছর এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছি।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, বগুড়ায় সবজি চাষ শুরু হয়েছে। গত বছর ভালো ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এবারও বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৭হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২১ ৯:৫৯ অপরাহ্ন
রাণীশংকৈলে মাল্টা ও কমলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় দুলছে মালটা, কমলা, বাদামি লেবু এ যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দেখলেই যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ মাল্টা বাগান দেখতে আসছেন। এমনই দৃশ্য দেখা গেছে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ করনাইট নতুন বাড়ি গ্রামের কৃষক মাহমুদুল হাসান মুকুল সহ ঐ এলাকার কয়েকটি বাগানে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে কৃষক মাহমুদুল হাসান মুকুল সর্বপ্রথম ২টি কমলা গাছ লাগান। এতে তেমন কোন ফলাফল না পাওয়ায় তিনি ২০১৫ সালে রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ শুরু করেন। সে সময় রাণীশংকৈল সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট চলছিল। আগ্রহ দেখে কৃষি বিভাগ তাকে মাল্টা-কমলা চাষের প্রশিক্ষণ শেষে বারি মাল্টা-১ জাতের ৮০টি, ৬টি কমলা লেবু, ১২টি কলম্ব লেবু, ১০টি বাতাবি লেবু চারা দেয়। পরে তিনি চারাগুলো বাড়ির পেছনের চল্লিশ শতক জমিতে রোপণ করেন। গাছ লাগানোর ৩ বছরের মধ্যে তার বাগানের তিন চতুর্থাংশ থোকায় থোকায় মাল্টা, কমলা এবং লেবু ধরতে শুরু করে।

২০১৯ সালে তার বাগান থেকে প্রথম ১২ হাজার টাকা আয় করেন। পরের বছরে ২০২০ সালে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের বছর ৭৫ হাজার টাকার মাল্টা, কমলা এবং লেবু বিক্রয় করে এ ফল চাষাবাদে ব্যাপক আশাবাদী ও উদ্বুদ্ধ হন। তবে এবছর সব খরচ বাদ দিয়ে ৯০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে ধারণা করেছেন।

কৃষক মাহমুদুল হাসান মুকুল জানান, বাণিজ্যকভাবে চাষের পরিকল্পনা থাকলেও তা প্রশিক্ষণ ও কৃষি বিভাগের সহায়তা ছাড়া সম্ভব ছিল না। প্রথমে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও এখন তা ব্যাপকভাবে চাষের পরিকল্পনা নিয়ে কমলা, মাল্টা ও বাতাবি লেবুর বাগান করে চাষ করছি। ফলন যেমন ভালো হচ্ছে,তেমনি আশানুরুপ লাভও হচ্ছে। আমার দেখে এখন এ এলাকার অনেক কৃষক ও বেকার যুবকরাও এ বাগান করার উদ্যাগে নিয়েছেন। যা দেখেই ভালো লাগছে।

তিনি আরো জানান,ফলের স্বাদ ঠিক অন্যান্য অঞ্চলের ফল গুলোর মতই সুস্বাদু ও রসালো। উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে তিনি এ ফল গুলোর চাষাবাদ করে যাচ্ছেন। কৃষি অফিস থেকে সর্বোপরি সব ধরনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। একদিন তিনি টিভিতে ড্রাগন চাষ দেখে ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন। পরে তিনি ৮টি ড্রাগন গাছ লাগান এতেও তিনি আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সরেজমিন গিয়ে কথা হয় একই ইউনিয়নের কুমরগঞ্জ গ্রামের আরেক মাল্টা চাষি শিক্ষক সাদেকুল ইসলামের সাথে,তিনি জানান শিক্ষকতার পাশাপাশি ৬ বিঘা জমিতে তিনি মাল্টা চাষ করেছেন উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে। প্রতি বিঘা জমিতে ১ শত করে মাল্টা গাছ রোণন করেছেন। প্রতিটি গাছের ২বছর ৮মাস বয়স হয়েছে। তার ২ একর জমিতে এবার ৫০ মণের অধিক মাল্টা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। এবারই প্রথম পর্যায়ে তিনি দেড় লক্ষ টাকার মত বাগানের মাল্টা বিক্রি করবেন বলে আশা করেছেন। উৎপাদিত ফল জেলার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পাঠানো হচ্ছে দেশের অন্যান্য স্থানেও বলে জানান তিনি ।

অপরদিকে তার মাল্টার পাশাপাশি প্রায় এক একর জমিতে ২০০ টি কমলালেবু ও ১০০ টি ড্রাগন গাছও রয়েছে। যা থেকে পরবর্তীতে বাগান পরিচর্যার মাধ্যমে আরও বেশি সাফল্যের আশা করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নেকমরদ ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সভাপতি রাফসান জানি সানি বলেন, শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম ও পার্শবর্তী এলাকা করনাইট গ্রামের কৃষক মাহমুদুল হাসান মুকুল চাচার মাল্টা, কমলা ও ড্রাগন চাষ করে আমাদের এসব চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তাদের এ সফলতা দেখে আমরাও এমন ফল চাষের চিন্তা ভাবনা করছি।

রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, উপজেলায় নতুন পুরাতন বাগান মিলে ১৬ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। অনেকে আগ্রহী হয়ে মাল্টা বাগানের কাজ শুরু করেছেন। জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ মাল্টা বাজারজাত করা হচ্ছে।
রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ জানান, আবহাওয়া ও মাটি চাষের উপযোগী হওয়ার কারণে ভালো ফলনও পাচ্ছেন চাষিরা। মার্চ-এপ্রিল মাসে বারি মাল্টা-১ গাছে ফুল আসে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল পাকে। ৫-৬টা মাল্টা ওজনে এক কেজি হয়।

তিনি আরো বলেন আমরা সাইট্রাস প্রজেক্টর আওতায় আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। মাল্টা বা লেবু জাতীয় ফল অল্প খরচে চাষিরা বেশি লাভবান হয়। কৃষকেরা যেভাবে মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন এক সময় রানীশংকৈলের মাল্টা চাষিরা দেশের অর্থনৈতিক বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করছি। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২১ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
ধনে পাতা চাষে ফিরে পাচ্ছে আর্থিক সচ্ছলতা
কৃষি বিভাগ

জেলার বরুড়ায় ধনেপাতা চাষে অনেক কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। অনেক কৃষক লাভজনক এ চাষের মাধ্যমে ফিরে পাচ্ছে আর্থিক সচ্ছলতাও। উপজেলার হরিপুর, কালির বাজার এলাকার কৃষক ধনেপাতা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। উর্বর পলি মাটিতে ধনেপাতা চাষে বেশ সফলতা পাচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা। উর্বর পলি মাটিতে খুবই দ্রুত বেড়ে উঠে ধনেপাতা গাছ।

সরেজমিনে হরিপুর এলাকায় গিয়ে কথা হয় মোঃ কামরুল নামের এক ধনেপাতা চাষির সাথে। তিনি জানান, ধনেপাতা চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি চাষ। এটির চাষাবাদের ফল বেশ দ্রুতই পাওয়া যায়। তিনি আরো জানান, নিজে ২০ শতক জায়গায় ধনে পাতা চাষ করেছেন। এছাড়া প্রায় ৩৫ শতক জায়গায় করা একটি ধনে পাতার ক্ষেত অন্যের কাছ থেকে কিনেন ৪০ হাজার টাকায়। বর্তমানে ধনে পাতার বাজার মূল্য প্রতিকেজি ৬০-৭০ টাকা বলেও তিনি জানান। বরুড়ায় উৎপাদিত ধনেপাতা এখানকার হাট বাজারের চাহিদা মিটিয়ে নগরীর বিভিন্ন হাট বাজারেও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, ধনিয়ার পাতা মসলা বা খাদ্য সুগন্ধিকারক হিসেবে বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হয়। এ দেশের মতো ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফ্লোরিডা, হাওয়াই প্রভৃতি দেশেও রান্নার মসলা হিসেবে ধনিয়া বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এর কাঁচা পাতা ব্যবহার হয়। শুকালে এর পাতার তীব্র সুগন্ধ নষ্ট হয় না। ধনিয়া যে শুধু রান্নাকে সুগন্ধময় ও সুস্বাদু করে তাই নয়, এর ভেষজ মূল্যও আছে। জ্বর, হাইপার টেনশন, অ্যাজমা, পাকস্থলীর জ্বালা পোড়া, কৃমি, সাপে কামড়ানো, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ধনিয়া সফলভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, ধনিয়া পাতার রয়েছে- ১১ জাতের এসেনশিয়াল অয়েল, ৬ ধরনের অ্যাসিড, ভিটামিন, মিনারেল এবং অন্যান্য ফাইবার, ম্যাংগানিজ আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, ফসফরাস, ক্লোরিন ও প্রোটিন। এ উদ্ভিদ অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং যেকোনও চুলকানি ও চামড়ার জ্বলনে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ধনে পাতা চাষ একটি লাভজনক ও মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় এবং চাহিদাপূর্ণ একটি উপাদান। প্রতিটি পরিবারে তরিতরকারি রান্নার কাজে এটি অবশ্যই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটির চাষাবাদে প্রাথমিক অবস্থায় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানি থেকে রক্ষা করলেই হয়। বরুড়ার বিভিন্ন এলাকায় ধনে পাতা চাষে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২১ ৩:৪১ অপরাহ্ন
এ বছর ৩ টন মাল্টা উৎপাদন করবেন আল আমিন
কৃষি বিভাগ

চার বছর আগে জেলার রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের নন্দিউড়া গ্রামের আল আমিন শখের বশে, কৃষিবিদ শেখ আজিজুর রহমানের পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে মাটি উচুঁ করে মাল্টা চাষ শুরু করেন। মাল্টা চাষ করে আল আমিন এখন সফল ও স্বাবলম্বী হয়েছেন।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ৪ বছর আগে রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় প্রর্দশনীর দিয়ে আল আমিনকে মাল্টা চাষে উৎসাহিত করা হয়। এখন সে স্বাবলম্বী। নিজ উদ্যাগেই চাষ করে যাচ্ছেন।

২০২০ সালে দেড়টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে আল আমিনের । বিক্রি করেন ১ লাখ টাকা। প্রতিবছর মাল্টার উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়ায় আল আমিন অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভের আশায় আছেন। এ বছর ৩ টন মাল্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিকমত বাজারজাত করতে পারলে ৩ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন। তাকে অনুসরণ করে এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

আল আমিন জানান, বিগত কয়েক বছর আগে বিভিন্ন জাতের ফলে ফরমালিন ব্যবহারের হিরিক পরে। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক। মানুষ নিরাপদ ফল খাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে ছিল। ভেজালমুক্ত ফল উপহার দেওয়ার কথা চিন্তা করেই কৃষি বিভাগের সহযোগীতা নিয়ে মাল্টার বাগান করেছি। অল্প পরিশ্রমে কম খরচে মাল্টা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়।

তার বাগানে বারি-১ থাইল্যান্ড জাতের ২০০টি মাল্টার গাছ রয়েছে। চারা রোপণের দুই বছর পর ফলন শুরু করে। তিন বছর পর একটি গাছে পূর্ণাঙ্গরূপে ফল ধরা শুরু করে। প্রতিটি গাছে ৩০০ থেকে ৪০০টি ফল আসে। তার বাগান দেখে অনেকেই মাল্টা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ইফফাত আরা ইসলাম জানান, মাল্টা চাষ করে আল আমিন সফল হয়েছেন। কৃষি বিভাগ সব সময় তাকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তার বাগানে গিয়ে দেখেছি মাল্টাগুলো পাকা শুরু হয়েছে। পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত বাজারজাত না করতে বলেছি।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক কাজী লুৎফুল বারি জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। চাষিদের উদ্বুদ্ধ করেছেন আশানুরূপ ফলন হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২১ ৩:৩১ অপরাহ্ন
বিকল্প আয়ের উৎস এখন শাপলা
কৃষি বিভাগ

বিল, ঝিল আর জলাভূমিতে এখন প্রাকৃতিকভাবে ফোটা শাপলার সমারোহ দেখা যাচ্ছে নদী বেষ্টিত মুন্সিগঞ্জে। বাজারে চাহিদা থাকায় নয়নজুড়ানো শাপলা তুলে বিক্রি এখন বিকল্প আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে শত শত কর্মহীন কৃষকের। প্রাকৃতিকভাবে হওয়ায় উৎপাদনে প্রয়োজন নেই পুঁজির। বিনা পুঁজিতেই শাপলা আহরণ ও বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান তারা। বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঝুঁকছেন এ কাজে।

জানা যায়, জেলার টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখানের জলাভূমি ও শ্রীনগরের আড়িয়াল বিল থেকে প্রতিদিন শত শত নৌকায় শাপলা আহরণ চলছে। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে শাপলা তোলার কাজ। একেক জন প্রতিদিন ১০০-২০০ আটি পর্যন্ত শাপলা তুলে থাকেন। পাইকারি প্রতি আটি শাপলা বিক্রি করছেন ৩-৫ টাকা।

স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি অধিকাংশ শাপলা বিক্রি হয় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে। দিনভর জলাভূমিতে থেকে আহরণের পর শাপলা রাখা হয় রাস্তার পাশে। বিকেলে ট্রাক-পিকআপ যোগে পাইকাররা এসব শাপলা নিয়ে যান ঢাকার বাজারগুলোয়। পাশের জেলা ও টাটকা থাকায় ঢাকার বাজারগুলোয় মুন্সিগঞ্জের শাপলার বেশ চাহিদা।

ফরিদ শেখ নামক একজন জানান, ‘উন্নাকালে জমিতে কাজ করি। এখন বর্ষার পানিতে জমিজমা সব তলাই গেছে। জমির কোনো কাজ নাই। তাই উপার্জন করতে শাপলা তুলি। ১০০-১৫০ আটি শাপলা তুলতে পারি প্রতিদিন। বিক্রি কইরা ৫০০-৭০০ টাকা আয় হয়। এই দিয়ে সংসার চলে যাচ্ছে।’

সনাতন মন্ডল জানান, ‘শ্রাবণ থেকে চলতি আশ্বিন মাস পর্যন্ত বিলে শাপলা ফোটে। কোনো পুঁজির দরকার হয় না। শাপলা তুলতে একটু পরিশ্রম হয় আর কি। সারাদিন শাপলা তুলে বিলের পাশে রাস্তায় রাখি। পরে বিকালে পাইকাররা ট্রাক দিয়ে নিয়া যায়। এখন ৩ টাকা দেয়। অবার চাহিদা বেশি থাকলে ৫ টাকাও দেয়। ট্রাকে উঠানোর পর আমাদের টাকা দিলে বাসায় চলে যাই। আর পরদিন সকালে আসি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. খুরশীদ আলম জানান, ‘শাপলা চাষ করতে হয় না। প্রাকৃতিকভাবে মুন্সিগঞ্জে প্রচুর শাপলা হয়ে থাকে। পুষ্টির চাহিদা পূরণে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে শাপলা। যেহেতু বাজারে খাদ্য হিসেবে চাহিদা আছে। তাই শাপলা তুলে বিক্রি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে।’

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop