৩:১৩ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
মুন্সীগঞ্জে আলু গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক
কৃষি বিভাগ

মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল আলু। দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সীগঞ্জ। বর্তমানে কৃষকরা আবাদি জমিতে আগাছা পরিষ্কার, পানি সেচসহ আলু গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সার ও বীজের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকায় কম খরচে প্রান্তিক কৃষক এবার লাভের আশা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। আলুর আবাদ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৯ হাজার ৫৮১ হেক্টর, টংগীবাড়ীতে ৯ হাজার ৭০ হেক্টর, শ্রীনগরে ১ হাজার ৯৪৪ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৮ হাজার ৯৫৮ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩ হাজার ১০৯ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ১ হাজার ৯৯৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

এদিকে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ টন। জেলায় গত মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। ফলন হয়েছিল প্রায় ১২ লাখ টন।

সদর উপজেলার আমঘাটার ক…ষক মোঃ আজমীর হোসেন বাসসকে জানান , এ বছর সাড়ে পাঁচ কানি জমিতে আলু চাষ করেছি । আগামী ১৫/২০ দিন জমিতে পানি জমে থাকার মতো বৃষ্টি না হলে ফলন আশানুরুপ হবে। গত বছরের ক্ষতি পুশিয়ে যাবে।এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো রয়েছে। আলু গাছে কোন রোগ বালাই নাই।

সদর উপজেলার কাঠাদিয়া  গ্রামের জিয়াউর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে বীজ ও সারের মূল্য কম থাকায় আবাদের খরচ কম হয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষকরা লাভের মুখ দেখবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসসকে জানান, আবহাওয়া অনুক’লে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

তিনি জানান, মুন্সীগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য আলুর আবাদকে লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে সারের মূল্য সাড়ে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। খামারি অ্যাপস এর মাধমে জেলার ২০৬টি ব্লকে আলু চাষে সুষম সার ব্যবহার করে ব্লকভিত্তিক প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এ বছর ৬ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমিতে রপ্তানী উপযোগী আলুর আবাদ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২৫, ২০২৬ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
খুলনায় কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ
কৃষি বিভাগ

খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)এর ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে এই অঞ্চলের ৭০ হাজার ৫০ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে প্রনোদনার বীজ ও সার বিতরণ শুরু হয়েছে।।

চলতি মৌসুমে রবি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এক বিঘা (৩৩ শতক) জমির বিপরীতে ১১ ধরণের কৃষি ফসলের জন্য প্রতিটি কৃষক প্রণোদনা পাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি রবি মৌসুমে ১১ ধরণের বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষকদের সহায়তা করার জন্য বীজ ও সার প্রদানের মাধ্যমে এই প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বোরো ধান, গম, সরিষা, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী, পেঁয়াজ, শাকসবজি এবং চার ধরণের ডালের (মুগ, মসুর, খেসারি, অড়হর) জন্য কৃষি-প্রণোদনা বিতরণ করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি সুবিধাভোগী কৃষক এক বিঘা জমিতে ফসল চাষের জন্য বিনামূল্যে এক থেকে ২০ কেজি বিভিন্ন ফসলের বীজ, ১০ থেকে ২০ কেজি অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং পাঁচ থেকে ১০ কেজি মিউরেট অফ পটাশ (এমওপি) সার পাচ্ছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কৃষকরা প্রণোদনা পাচ্ছেন। তারা সরকারের অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে বীজ এবং সার পাচ্ছেন।

প্রতিটি উপজেলায় ইউএনওর নেতৃত্বে তদারকি ও পুনর্বাসন কমিটি সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকরা এখন রবি শস্য, শাকসবজি উৎপাদনে খুবই ব্যস্ত রয়েছে।অর্ন্তর্বতীকালীন সরকার কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২২, ২০২৬ ৯:৫২ পূর্বাহ্ন
১২ লাখ মে:টন বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খুলনা কৃষি বিভাগ
কৃষি বিভাগ

চলতি বোরো মৌসুমে ১২ লাখ ১০ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খুলনা কৃষি বিভাগ। খুলনা কৃষি অঞ্চলের চারটি জেলায় শীত এবং কুয়াশা উপেক্ষা করে বোরো ধানের চাষ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১২ লাখ ১০ হাজার ২৮৩ মেট্রিক টন ধান।

স্থানীয় কৃষকরা এখন জমি এবং বীজতলা প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ মাত্রায় চারা রোপণ শুরু হবে। কৃষি বিভাগের এই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে  আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সূত্র জানায়, গত বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনায় ২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭১ মেট্রিক টন। খুলনা বিভাগে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বোরো ধান রোপণ সাধারণত জানুয়ারির প্রথম দিকে শুরু হয় এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতে থাকে। যা জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এ অঞ্চলে ম্যানুয়াল (হাতে) রোপণ এবং যান্ত্রিক ধান রোপণ যন্ত্র উভয়ই ব্যবহার করা হয়। কিছু এলাকায় যান্ত্রিক ধান রোপণ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

জানা যায়, খুলনা জেলায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ২৮ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপণ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৬০ মেট্রিক টন।

একইভাবে বাগেরহাটে ৬৭ হাজার ৬২২ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন।

সাতক্ষীরায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫৫ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে  বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন। নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন।

কৃষকরা আধুনিক, উচ্চ ফলনশীল এবং খরা-সহিষ্ণু জাত যেমন : বোরো ধান, ২৮, ২৯, ৪৮, ৫৮, ৭৪, ৮৪, ৮৯, ৯২ এবং ১০০ ব্যবহার করছেন। একই সাথে ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষা করার জন্য সু-রক্ষামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্বল্পমেয়াদি এবং খরা-সহিষ্ণু জাতগুলির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ এই জাতগুলি তুলনামূলকভাবে কম সেচের মাধ্যমে ভালো ফলন নিশ্চিত করে।

ডুমুরিয়া উপজেলার কদমতলা গ্রামের কৃষক শমসের আলী জানান, তিনি এই মৌসুমে ২৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য ৪০ শতাংশ জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করেছেন।

শীতজনিত জটিলতা থেকে বীজতলা রক্ষা করার জন্য তিনি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং গত সপ্তাহ থেকে চারা রোপণ করছেন।

তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মৌসুমে ভালো ফলন এবং ন্যায্য বাজার মূল্য তাদের বোরো চাষ তীব্রতর করতে উৎসাহিত করেছে। যা এই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য চাষ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নির্দেশ অনুযায়ী, এক ইঞ্চিও আবাদি জমি পতিত রাখা যাবে না। কৃষকদের সব পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সেচ সংকট নেই এবং সরকারি প্রণোদনা বোরো চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া বোরো চাষ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসহ সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার জন্য সরাসরি কৃষকদের কাছে উচ্চ ফলনশীল জাত সরবরাহ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২১, ২০২৬ ৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শীত মৌসুমে আলু চাষে খুলনার কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন
কৃষি বিভাগ

খুলনা কৃষি অঞ্চলের কৃষকরা শীত মৌসুমে আলু চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত এ অঞ্চলে ৭৮ আলু চাষ শেষ হয়েছে।

এদিকে খুলনা এবং অঞ্চলের অন্যান্য জেলার স্থানীয় বাজারে আগাম জাতের আলু আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে, নতুন কাটা সবজি তুলনামূলকভাবে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, এর ফলে কৃষকরা ভালো লাভ পাচ্ছেন।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক হাসান আলী, সোলায়মান গাজী, হারুন-অর-রশিদ এবং সালমান রহমান জানান, আমন ধান কাটার পর আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা ৩ হাজার ৫৯১ একর জমিতে ৭৮হাজার ৪৭ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে খুলনায় ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৬০১ টন। আজ পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রে ৬৭ শতাংশ অর্জন হয়েছে।

বাগেরহাটে ৫৭৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৪৬৬ টন। কৃষিক্ষেত্রে অর্জন ৬৮ শতাংশ।

সাতক্ষীরায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ১৭০ টন। কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য ৮৩ শতাংশ।

নড়াইলে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮১০ টন। কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য ১০১ শতাংশ।

এছাড়াও আলু চাষ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং মঙ্গলবার ডিএই-এর তথ্য অনুসারে, খুলনায় কমপক্ষে ৪৬৯ হেক্টর, বাগেরহাটে ৩৯৫ হেক্টর, সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৮৫৬ হেক্টর এবং নড়াইলে ৮৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

ডিএই-এর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, কৃষকরা ২ হাজার ৮০৮ হেক্টর জমি আলু চাষের আওতায় এনেছেন। এই অঞ্চলের চারটি জেলার মূল ভূখণ্ড এবং লবণাক্ত জলপ্রবণ এলাকায় আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আলুর বীজ বপন চলবে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নভেম্বরের শেষের দিকে এবং জানুয়ারির শুরু থেকে কৃষকরা একই জমিতে স্বল্পমেয়াদী আমন ধান কাটার পর চাষ করা আগাম জাতের আলু সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে বিশেষ প্রণোদনা ও সহায়তা পাওয়ার পর এবং গত বছর বারবার বাম্পার ফলনের কারণে মূল ভূখণ্ড এবং লবণাক্ত অঞ্চল উভয় ক্ষেত্রেই কৃষকরা আলু চাষে আরও বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

‘এই মৌসুমে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মুখেও ভালো ফলন নিশ্চিত করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা আলু ক্ষেতের সঠিক পরিচর্যার জন্য কৃষকদের সর্বশেষ প্রযুক্তি সরবরাহ করছেন,’ জানান তিনি।

খুলনা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (কেসিসিআই) প্রাক্তন পরিচালক জেসান ভুট্টো ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং আলু চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করতে আলুজাত পণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য আরও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
বরগুনায় কৃষকের মধ্যে ধান ও সূর্যমুখী বীজ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

বরগুনা জেলায় ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে উৎসাহিত করতে ধান ও সূর্যমুখী বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা ১১টায় বরগুনা সদরের ব্র্যাক অফিসে এ বীজ বিতরণ করা হয়।

এসময় ১১০ জন কৃষককে জনপ্রতি ১ কেজি করে ধান বীজ এবং ৮০ জন কৃষককে জনপ্রতি ১ কেজি করে সূর্যমুখী বীজ বিতরণ করা হয়। মোট ১৯০ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে এ বীজ তুলে দেওয়া হয়।

ব্র্যাক অফিস সূত্রে জানা যায়, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক কৃষকদের চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জেলার এক হাজার কৃষকের মধ্যে ধান বীজ এবং ৬০০ জন কৃষকের মধ্যে সূর্যমুখী বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত বিন সাদেক। আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (দাবি) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক জেলা কো-আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (দাবি) ও কো-অর্ডিনেটর মারুফ পারভেজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদিক বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করে। উন্নত বীজের সঠিক ব্যবহার কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটাবে। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ব্র্যাকের এই কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ৯:১৭ পূর্বাহ্ন
নড়াইলে শীতকালীন শাক সবজির ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

চলতি মওসুমে জেলায় শীতকালীন শাকসবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জেলার তিন উপজেলায় ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। চলতি মওসুমের শুরু থেকেই শীতকালীন শাকসবজির দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার জানান, চলতি মওসুমে ফুলকপি, পাতাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, পালংশাক, টমেটো, বাঁধাকপি, মুলা, ব্রকলি, উচ্ছে, বরবটি, লালশাক, সবুজ শাক, শসা, কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজির বাজার মূল্য বেশি থাকায় লাভবান হচ্ছেন কৃষক-কৃষাণিরা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা দরে, পাতাকপি প্রতি কেজি ৩০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, উচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লালশাক ও সবুজ শাক প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং পালং শাক প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে জেলার ৩ উপজেলায় মোট ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ১ হাজার ২শত ৮৫ হেক্টর জমিতে, লোহাগড়া উপজেলায় ৬শত ৯৫ হেক্টর জমিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ১ হাজার ১শত ৬০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন উপজেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন।

নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, জেলার ৩ উপজেলায় শীতকালীন শাকসবজির চাহিদা মেটাতে চাষ উপযোগী জমিতে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রণোদনা প্রদানসহ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। অল্প জমিতে অধিক সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।

তিনি বলেন,কৃষকদের আগ্রহ এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় চলতি মওসুমে এ জেলায় শীতকালীন শাকসবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো মানের বীজ সরবরাহ, সেচ, সার ও কীটনাশকের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকরা শীতকালীন শাকসবজি চাষে অধিক মনোযোগী হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১২, ২০২৬ ৯:০৪ পূর্বাহ্ন
রঙিন ফুলকপি চাষে খুলনার কৃষকদের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষকরা ফুলকপি বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে হলুদ ফুলকপির বাম্পার ফলন তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সুষম সার ব্যবহারের ফলে ফুলকপির ভালো ফলন হয়েছে, বিশেষ করে হলুদ জাতের ভালো ফলন হয়েছে।

কম উৎপাদন খরচ এবং বেশি লাভের কারণে ফুলকপি চাষ এই এলাকায় ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উৎপাদিত হলুদ ফুলকপি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকরা জানান, তারা ভালো বাজার মূল্য পাচ্ছেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও উপজেলার খর্ণিয়া এলাকার আদর্শ কৃষক আবু হানিফ মোড়ল ৩৩ শতক জমিতে হলুদ ফুলকপি চাষ করে প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ করেছেন। এছাড়াও তিনি শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষেও নিয়োজিত রয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মৌসুমে ডুমুরিয়ায় প্রায় এক হেক্টর জমিতে হলুদ ফুলকপি চাষ হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে ভালো ফলন অর্জিত হয়েছে।

উপজেলার কৃষকরা বলেছেন, এ বছর প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও শীতকালীন সবজি, বিশেষ করে হলুদ ফুলকপি থেকে লাভ তাদের আরও বেশি করে এ ধরনের চাষে উৎসাহিত করেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, এ মৌসুমে ডুমুরিয়ায় প্রায় ২৮০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার ফুলকপির উৎপাদন অনেক বেশি, আর হলুদ ফুলকপির ভালো ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

কৃষক আবু হানিফ মোড়ল বলেন, রঙিন ফুলকপি, বিশেষ করে হলুদ বা কমলা জাত বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন ও লাভজনক ফসল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ জাত, যা প্রায়ই ‘ক্যারোটিনা ইয়েলো’ নামে পরিচিত, এটি প্রচলিত সাদা ফুলকপির তুলনায় বেশি বিটা-ক্যারোটিন ধারণ করে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি। ফলে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ভালো লাভবান হচ্ছেন।

এছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কৃষকরাও রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন। খুলনার বিভিন্ন এলাকায় বেগুনি, হলুদ এবং ব্রোকলি জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে।

মাগুরঘোনা ইউনিয়নের কৃষক শাহদাত হোসেন ও ববিতা সরকার বলেন, আমরা দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ২০ বিঘা জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। যেখানে সাদা ফুলকপির দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, সেখানে রঙিন ফুলকপি আমরা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করতে পারি।

তারা বলেন, আমরা এই লাভে খুবই খুশি। আগামী মৌসুমে রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য জমির পরিমাণ আরও বাড়াব।

তারা আরও বলেন, আমরা সরকার থেকে বিনামূল্যে ফুলকপির বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার, জৈব আগাছানাশক ও কীটনাশক পেয়েছি।

খুলনা কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম আজ বাসসকে বলেন, আমরা দেখতে চেয়েছি মাটি ও আবহাওয়া রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য কতটা উপযোগী, যাতে ভবিষ্যতে জমি রঙিন ফুলকপি চাষের জন্য উপযুক্ত করা যায়।

তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের ফুলকপির বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার, জৈব আগাছানাশক, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি। ভালো ফুলকপির বীজ ও সার পাওয়ার পর কৃষকরা সফল হয়েছেন। কৃষকরা ভালো লাভ পেয়েছেন। ফলে স্থানীয় সবজি চাষিরা রঙিন ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রঙিন ফুলকপি চাষের সাফল্যে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরও খুবই সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, আগামী মৌসুমে যদি কোনো কৃষক রঙিন ফুলকপি চাষ করতে চান, কৃষি অধিদপ্তর সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা করবে। এছাড়া আমরা সবসময় কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকি যাতে রঙিন ফুলকপি চাষ আরও লাভজনক হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৭, ২০২৬ ২:৪৮ অপরাহ্ন
সরষের হলুদ ফুলে ডানা মেলেছে কৃষকের স্বপ্ন
কৃষি বিভাগ

মাঠে নামলেই মনে হয় যেন সূর্যোদয়ের আগেই হাজারো ছোট সূর্য ফুটে আছে। মেহেরপুরের পথে প্রান্তরে সরষে ফুলের এমন মনোরম সমারোহে চোখ জুড়িয়ে যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টর। চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে। সংখ্যার হিসাব যতই কঠোর হোক, মাঠের ভোরবেলা তা মানতে চায় না। সে শুধু ফুলের ভাষায় বলে এবার সরিষা চাষ বেড়েছে, অনেক বেড়েছে।

হলুদে হলুদে মোড়ানো সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে মেহেরপুরের বিস্তীর্ণ মাঠ। হলুদ রঙের যে তরঙ্গ বাতাসে দুলে ওঠে, তা যেন এক অদৃশ্য নদীর স্রোত। প্রকৃতি সেজেছে তার আপন মহিমায়। মৌমাছির মৌ-মৌ গন্ধে সরব হয়ে উঠেছে সরিষা ক্ষেত । মেহেরপুরের বিস্তৃর্ণ মাঠের সরিষা ক্ষেত বলে দিচ্ছে বড় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে  সরিষার ভালো ফলন হবে। কৃষকের চোখে আনন্দের ঝিলিক। সরিষার তেলের রয়েছে অনেক ওষুধি গুণ। সরিষার খৈল জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে। সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া জমিতে সরিষার আবাদ করলে ওই জমিতে সরিষার পাতা পড়ে জমির খাদ্য চাহিদা অনেকাংশে মিটিয়ে থাকে। সময় এবং খরচ কম হওয়ায় জেলায় সরিষার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষকেরা বলেন, সরিষা শুধু ফসল নয়, মেহেরপুরের শীতের রঙিন মুখ। ভোরের শিশির লেগে ফুলগুলো যখন চকচক করে, মনে হয় ঠিক সেই মুহূর্তে প্রকৃতি চুপিচুপি আলো জ্বেলে গেছে।

সরেজমিনে মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সরিষার ডাঁটায় বসে মৌমাছিরা। একেকটি যেন ফুলের কাছে বিমল পত্রবাহক। দেয়ালহীন এই হলুদ রাজ্যে তারা গুনগুনিয়ে বেড়াচ্ছে। আর কৃষকেরা স্বপ্ন দেখছেন তেলের, সোনালি দানার, ভালো ফলনের।

মাঠজুড়ে হাঁটলে বোঝা যায়, এবার শুধু চাষ বেড়েছে তা নয়, প্রত্যাশা বেড়েছে কৃষকের মনেও। কারণ সরিষার ফুলেরা যেভাবে আলো ছড়ায়, তা যেন বলছে এই বছর আমাদের হাতে সোনার ফসল ধরা দেবে।

মেহেরপুরের সরিষা চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিঘা প্রতি সরিষা উৎপাদন হয় ৭ থেকে ৮ মণ। লাভজনক এবং সরিষা চাষের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার চলতি রবি মৌসুমে  মেহেরপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। চলতি রবি শস্য মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সরিষা ক্ষেতে রোগবালাই কম হওয়ায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতবছর প্রতি মণ সরিষা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫শ টাকা থেকে  ৩ হাজার টাকা মণ হিসেবে ।

মেহেরপুরের শীতের এই হলুদ উৎসব তাই শুধু কৃষি নয়, গ্রামবাংলার সৌন্দর্যেরও এক বিস্তৃত আয়োজন। সরিষার ফুল তাই প্রতি বছরই ফিরে আসে। কিন্তু এ বছর তার ভিড় আর রঙ স্বপ্ন ছড়ানো অন্যরকম।

মেহেরপুর সদর উপজেলার উজলপুর গ্রামের সরিষা চাষী আবু হোসেন  জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় ২ হাজার ৫শ থেকে ৩  হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বিঘাতে সাত মণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১৫ হাজার টাকা লাভ করা যায়। এছাড়া সরিষা আবাদে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। মাত্র তিনমাস সময়ে সরিষা আবাদ করা যায়। সরিষার বড় শত্রু জাব পোকা। এবার জাব পোকার আক্রমণ না থাকায় সরিষার ফলন ভাল হবে বলে আশা করছেন তিনি।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা জানান, বাজারে সরিষা এবং ভোজ্য তেলের দাম বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক আমন ধান সংগ্রহের পর জমি ফেলে না রেখে সরিষার চাষ করেছে। রবিশষ্য চাষের এবার অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলেও তিনি আশাবাদী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ৪, ২০২৬ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
বলসুন্দরী, আপেল ও কাশ্মীরি কুল চাষে স্বপ্ন বুনছেন পটুয়াখালীর কৃষকেরা
কৃষি বিভাগ

বলসুন্দরী, আপেল ও কাশ্মীরি কুল চাষ করে কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কৃষকেরা।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিত মিশ্র ফলের বাগানগুলোতে এখন সবুজের সমারোহা। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে মিষ্টি কুল—আপেল কুল, বলসুন্দরী কুল ও কাশ্মীরি কুলসহ বিভিন্ন জাতের ফল। এছাড়াও বাগানগুলোতে কুলের পাশাপাশি আম, তরমুজ এবং বেগুন, ফুলকপি ও আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা। এতে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে লাভবান হওয়ার আশা। চলতি মৌসুমে কুলের অধিক ফলন ও বাজারে ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা।

সরেজমিনে দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা রণজিৎ চন্দ্র দাসের (৩৮) সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমার বাগানে আপেল কুল, আম ও তরমুজসহ অন্যান্য ফসল চাষে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে আপেল কুল ও কাশ্মীরি কুলের চাহিদা এত বেশি যে, সব খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হবে বলে আমি আশা করছি।’

তিনি বলেন, এখন কুলের ভরা মৌসুম চলছে। স্থানীয় বাজারে বেশ চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রির সুযোগ থাকায় লাভের সম্ভাবনাও বেশি।

একই উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের কৃষক মো. হাসান (৩৯) বলেন, ‘এ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ দিন দিন বাড়ছে। এখানকার মাটি কুল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উন্নত জাতের কুল গাছ আকারে ছোট হলেও খুব ভালো ফলন হয়।

তিনি বলেন, কুলের ভারে ডাল নুইয়ে পড়ায় ফল সংগ্রহ করতেও তেমন একটা কষ্ট হয় না। যারা শুরুতে কুল চাষ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, তারাও বিভিন্ন জাতের কুল চাষ করে এবার লাভের মুখ দেখছেন।’

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুলের বাজারদর বেশ সন্তোষজনক। খুচরা বাজারে কুল প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম ৬০ থেকে ১২৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে বলসুন্দরী ও আপেল কুলের দাম তুলনামূলক বেশি। তবে কিছু টক জাতের কুল মৌসুমভেদে ৪৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দশমিনা উপজেলার কৃষক শাহ আলম মিয়া (৫০) বলেন, আমরা শুধু স্থানীয় বাজারে কুল বিক্রি করছি না। যশোর, খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারেরা সরাসরি এসে বাজার থেকে কুল কিনে নিচ্ছেন। এবছর হাট-বাজারে কুলের চাহিদা থাকায় দামও বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিক উল্লাহ (৪৫) বলেন, এই মৌসুমে কুল বিক্রি ভালোভাবে শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই পাইকারেরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কুল সংগ্রহ করছেন। ঢাকাসহ বড় শহরের বাজারে কুলের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

দশমিনার ছোট বাইশদিয়া এলাকার কৃষক সোহাগ হোসেন (৩৫) বলেন, আমাদের কুল চাষে খরচ তুলনামূলক কম, কিন্তু উৎপাদন ভালো হওয়ায় লাভের সম্ভাবনাও বেশি। শুধু কুল নয়—আম, তরমুজ ও শীতকালীন সবজি মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে ভালো আয় হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে কুলের ফলন আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি এবং বাজারে তুলনামূলক বেশি চাহিদা থাকায় কৃষকদের জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফলে কৃষকেরা এখন শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নন, বরং বাজারজাতকরণ ও বিক্রির পরিকল্পনাও সক্রিয়ভাবে করছেন।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বাসসকে বলেন, “দশমিনা উপজেলার মাটি কুলসহ বিভিন্ন ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে উন্নত জাতের কুল চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি কৃষকরা লাভবান হবেন।”

তিনি জানান, পটুয়াখালী জেলায় কুলের পাশাপাশি শীতকালীন সবজি, তরমুজ ও আমের সফল চাষও দেখা যাচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলে মিশ্র ফল ও সবজি বাগান আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়, পটুয়াখালীর দশমিনায় কুল চাষ এখন আর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নয়—এটি পরিণত হয়েছে লাভজনক ও টেকসই কৃষি কার্যক্রমে।
অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, উন্নত জাতের ব্যবহার, কৃষি বিভাগের সহায়তা এবং বাজারে স্থায়ী চাহিদার কারণে বলসুন্দরী, আপেল কুল ও কাশ্মীরি কুল কৃষকদের আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎসে পরিণত হয়েছে। পরিকল্পিত চাষ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই কুল চাষ ভবিষ্যতে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ ৯:০৮ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা
কৃষি বিভাগ

শেরপুর জেলায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই শেরপুরের বিস্তীর্ণ মাঠ যেন জেগে ওঠে নতুন দিনের আয়োজন নিয়ে। ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে কৃষকেরা ক্ষেতের পরিচর্যায় নেমে পড়েন। কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সবজি ক্ষেতে স্বপ বুনছেন। এবছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে শাক সবজির অধিক ফলন হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। অন্যদিকে এসব সবজি নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি হবে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

শেরপুর সদর ছাড়া নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মুলা, লাউ, টমেটো, লাল শাক ও পালং শাকসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চারা রোপণে ব্যস্ত রয়েছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। সেই সাথে আগাম রোপণকৃত সবজির ক্ষেত পরিচর্যাতেও চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। এরই মধ্যে শীতকালীন আগাম কিছু সবজি বাজারেও উঠতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে শেরপুর সদর উপজেলার বেতমারি ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের চরখার চর গ্রামের কৃষক সুমন মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এবছর এক বিঘা জমিতে শীতকালীন আগাম সবজি চিচিঙ্গার চাষ করেছি। চিচিঙ্গার চাষ করতে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকা। এপর্যন্ত তিনি ৪০ হাজার টাকার চিচিঙ্গা বিক্রি করেছেন। সুমন জানান, চিচিঙ্গার চাষে খরচ বাদে তার ৫০ হাজার টাকার বেশি মুনাফা থাকবে বলে আশা করছেন।

একই গ্রামের কৃষক শাহীন মিয়া দেড় বিঘা জমিতে চাষ করেছেন শীতকালীন আগাম জাতের পটল। পটল চাষে শাহীনের বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এপর্যন্ত তিনি ৫০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছেন। শাহীন জানান, পটল চাষে খরচ বাদে তার ৭০ হাজার টাকার বেশি মুনাফা থাকবে।

শেরপুর সদরের কৃষকেরা জানান, উৎপাদন ভালো হলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও এসব সবজি পাঠানো হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি জেলার সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা তাদের।

শেরপুর জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এবছর কৃষকেরা শীতকালীন সবজি চাষে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং কীটনাশকের পরিবর্তে ক্ষতিকারক পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করছেন। এতে পরিবেশবান্ধব ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন কৃষি শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে না অন্যদিকে কম খরচে অধিক সবজি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

জেলা সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ আনোয়ার জানান, শেরপুরের মাটি ও আবহাওয়া শীতকালীন সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সময়মতো বীজ বপন, পরিচর্যা, অনুকূল আবহাওয়া, সেচ এবং রোগবালাই দমন করতে পারায় বেশিরভাগ ক্ষেতেই ফসলের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। এছাড়া কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সুষম সার ও কীটনাশক ব্যবহারে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চলতি বছর শেরপুর জেলায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। যেখানে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop