২:০৫ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ১১ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০২১ ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বরিশালে উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন’
প্রাণ ও প্রকৃতি

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ উদযাপন’ শীর্ষক দু’দিনে উন্নয়ন মেলা অন্যান্য স্থানের মতো বরিশালেও উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ বরিশালে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে জেলা স্কুল মাঠে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি.।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের রোল মডেল। কোনো তলাহীন ঝুড়ি নয়। এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে আছি। আমরা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। ২০৪১ সালে সম্পদশালী দেশে পরিণত হব। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখতেন তাঁরই সুযোগ্য সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা বাস্তবায়ন করে দেখালেন। আমরা উন্নতির উচ্চশিখরে পৌঁছতে চাই। এ জন্য মিলেমিশে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেই তা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. সাইফুল হাসান বাদল।

জেলা প্রশাসক জসীম হায়দারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম (বার), উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার), পুলিশ সুপার জনাব মো. মারুফ হোসেন বিপিএম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সম্মানিত উপপরিচালক জনাব হৃদয়েশ্বর দত্ত, সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব জেরাল্ড অলিভার গুডা প্রমুখ।

মেলা আগত দর্শণার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শতাধিক স্টল স্থান পায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৭, ২০২১ ৭:৫১ অপরাহ্ন
টিভির খবর পাল্টে দিলো বাতেনের জীবন
কৃষি বিভাগ

২০১৯ সাল। ঘরে বসে টিভি দেখছিলাম। হঠাৎ খবরে দেখতে পাই বাজার থেকে কেনা তরমুজ খেয়ে এক বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওই সময় আমি সিদ্ধান্ত নেই আমার বাচ্চাকে বাজার থেকে কেনা তরমুজ খাওয়াব না। পরের বছর নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ২০-২৫টি তরমুজের চারা রোপন করি। কিছুদিন পর লক্ষ্য করি পাহাড়ি মাটিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে।

ওই সময়ে ৭০-৮০টি তরমুজ পাই, প্রতিটির ওজন ছিল ১২-১৮ কেজি। তরমুজগুলো খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি, রঙও খুব সুন্দর ছিল। তরমুজগুলো ছিল ট্রপিক্যাল ড্রাগন জাতের। পরে চিন্তা করলাম ফলন যেহেতু ভালো হয়েছে তাহলে বাণিজ্যিকভাবে তা চাষ করা সম্ভব। এ বছর বাণিজ্যিকভাবেই তরমুজের আবাদ করেছি। তরমুজের ভালো ফলনে আমার জীবন বদলে গেছে।

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন, শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বাতেন। তিনি পেশায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের গাড়িচালক।

পাহাড়ের এটেল মাটিতে আব্দুল বাতেনের তরমুজ ক্ষেত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিনই আশপাশের উপজেলা থেকে অনেকে এখানে আসেন তরমুজের ক্ষেত দেখতে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তরমুজ চাষে আগ্রহও দেখিয়েছেন।

আব্দুল বাতেন জানান, বাড়তি আয়ের আশায় ২০১৩ সালে হলদি গ্রামে নিজের ৭৫০ শতাংশ জমিতে নানা জাতের ফলের মিশ্র বাগান গড়ে তোলেন। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে আম, কাগজি ক্রস লেবু, সিডলেস এলাচি লেবু, মাল্টা, পেঁপে, জাম্বুরা ও কমলা চাষ করেন। বাগান থেকে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এবং সন্তানকে বিষমুক্ত তরমুজ খাওয়ানোর ইচ্ছা থেকেই ১০০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেন।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় কৃষি অফিসের বীজের ডিলারের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের ট্রপিক্যাল ড্রাগন জাতের ১০০ গ্রাম তরমুজ বীজ সংগ্রহ করেন। মাল্টা বাগানের ফাঁকে ফাঁকে ২৪০০ চারা করেন। প্রতিটি গাছে ৭-৮টি করে তরমুজ আসে। বয়স ভেদে একেকটি তরমুজের ওজন হয়েছে ৩-৫ কেজি। পরিপক্ক হলে প্রতিটি তরমুজের ওজন হবে প্রায় ১২-১৮ কেজি।

আব্দুল বাতেন জানান, পোঁকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পুরো তরমুজ বাগানে বসিয়েছেন সেক্সফেরোমন ফাঁদ। ওই বাগান থেকে ১২ হাজার ৫শ’ পিস তরমুজ পাওয়া যাবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।

পাহাড়ি জমিতে তরমুজের ফলন অবাক করেছেন অনেককে। স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জীবনে প্রথম শুনলাম
পাহাড়েও তরমুজের ফলন হয়। এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। আব্দুল বাতেনকে দেখে অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহী হবেন।

পাহাড়ে তরমুজ চাষের সফলতা দেখতে আসা পাশর্^বর্তী শ্রীবরদী উপজেলার কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, পাহাড়ে তরমুজ চাষ তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আগামী বছর ২০০ শতাংশ জমিতে তিনি তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান।

ঝিনাইগাতী কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, কৃষি বিভাগে চাকরি জীবনে পাহাড়ে তরমুজ ফলনের ঘটনা এবারই প্রথম দেখলাম। আব্দুল বাতেনকে তরমুজের পরিচর্যায় আমরা সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি। এরই মধ্যে তার তরমুজ ক্ষেত কয়েকবার পরিদর্শন করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৬, ২০২১ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
খুলনায় দিনব্যাপি বন সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
প্রাণ ও প্রকৃতি

খুলনায় তালের চারা উত্তোলন, বনায়ন, বনের প্রয়োজনীয়তা ও বন সংরক্ষণ বিষয়ক দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

গত বৃহস্পতিবার খুলনার ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রশিক্ষণে ২৫ জন স্থানীয় প্রশিক্ষণার্থী অংশ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ।

এজাজ আহমেদ বলেন, গাছ না থাকলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না। গাছই একমাত্র নিয়ামক যে বাতাসে অক্সিজেন ছেড়ে দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণের মাধ্যমে সুশীতল বায়ু প্রদান করে। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত গাছের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই সকলকে গাছ লাগানো ও গাছ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আসম হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ সিদ্দীকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্তিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন, ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইযুর হোসাইন প্রমুখ।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন ম্যানগ্রোভ সিলভিকালচার বিভাগের গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ আকরামুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২১ ৭:৩৫ অপরাহ্ন
বিস্ময়কর উদ্ভাবন; এক গাছেই উপরে বেগুন, নিচে আলুু!
কৃষি গবেষনা

গাছ একটাই, কিন্তু উপরের অংশে ফলবে বেগুন আর মাটির নিচের অংশে আলু। এমন উদ্ভাবনের ফল রীতিমতো বিস্ময়ের খোরাক জাগাচ্ছে সবার মনে। একইগাছে একসাথে বেগুন ও আলু ধরে বিধায়, গবেষক এক্ষেত্রে বেগুনের ইংরেজি পরিভাষা ‘ব্রিঞ্জাল’ আর ‘আলু’ একত্রে নিয়ে গাছটির নাম দিয়েছেন ‘ব্রিঞ্জালু বা বেগুন-আলু।’

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ফারুক ব্রিঞ্জালু’র উদ্ভাবক। গত বছরের নভেম্বর মাসে শুরু করা এ গবেষণা চলতি মাসে সফলতার মুখ দেখেছে। ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ক্যাম্পাসের গবেষণা মাঠে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে।

গবেষক ড. ফারুক জানান, ‘এখানে জোড় কলমের মাধ্যমে আলু ও বেগুন গাছের কলম সৃষ্টি  করে একটি স্বতন্ত্রধর্মী গাছে রূপ দেওয়া হয়েছে। গাছটির উপরের অংশে বেগুন ধরবে আর নিচের অংশে আলু।’ বিএডিসি’র সহকারি পরিচালক ফাহাদ উল হক ও আইইউবিএটি শিক্ষার্থী মাহাদী হাসান সংশ্লিষ্ট এ গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

 

ব্রিঞ্জালু নিয়ে গবেষকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে গবেষক ড. ফারুক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে একইগাছে টমেটো ও আলু ধরিয়ে টমালু উদ্ভাবন করেছিলাম। টমালু এ বছরই বগুরার কিছু চাষী বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করছে। নিশ্চয়ই আনন্দের বিষয় এটি। সেই আলোকে ব্রিঞ্জালুকেও বাণিজ্যিকীকরণের উদ্দেশে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেবার সর্বাত্ম চেষ্টা থাকবে। এক্ষেত্রে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন সংস্থার পৃৃষ্ঠপোষকতা গবেষণার সার্বিক দিককে তরান্বিত করবে।

আরও পড়ুনঃ তাল ও ডিম বেগুনের লাভজনক সংযোজন

সূত্রঃবিডি প্রতিদিন

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২১ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন হালিম
কৃষি গবেষনা

পরিশ্রম আর আগ্রহের সমন্বয় ঘটাতে পারলে যেকোনো কাজেই মিলে প্রত্যাশিত সাফল্য। নার্সারি ব্যবসা দিয়ে শুরু করে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনেও সফলতার পথে হাঁটছেন। নিজের নার্সারিতে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহারের পাশাপাশি বাজারজাত শুরু করেছেন এমনই এক উদ্যোক্তা। বলছিলাম পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সীমান্তঘেঁষা পানছড়ির স্বপ্নবাজ তরুণ আব্দুল হালিমের কথা।

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির সীমান্তঘেঁষা পানছড়ির উপজেলা শহর ঘেঁষা টিএন্ডটি ভবন। টিএন্ডটি ভবনের পাশেই সরকারি পরিত্যাক্ত টিলাভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে গাউছিয়া নার্সারি। গাউছিয়া নার্সারিতেই একটি ছোট্ট টিনের ঘরে বিশেষভাবে তৈরি ট্যাঙ্কে ও দশটি রিংয়ে চালার ঘরে চলছে স্বপ্নবাজ আব্দুল হালিমের কেঁচো সার বা বার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন প্রক্রিয়া।

সেখানেই জাগো নিউজকে নিজের বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনের গল্প শোনালেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. আব্দুল হালিম। বললেন মাস ছয়েক আগে বান্দরবানে নার্সারির উপর প্রশিক্ষণে গিয়ে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরির ধারণা লাভ করেন তিনি।

শুরুতেই কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় বান্দরবান থেকে সংগ্রহ করেন এপিজিক নামক তিন কেজি কেঁচো। এর পরপরই শুরু করেন কঁচো থেকে পরিবেশ বান্ধব জৈব সার তৈরির মতো কর্মযজ্ঞ। মা-বাবা আর ডিগ্রি পড়ুয়া ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে গেল নভেম্বর মাসে পানছড়ির টিএন্ডটি ভবন লাগোয়া গাউছিয়া নার্সারিতে শুরু করেন বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন প্রক্রিয়া।

বললেন পরিবারের অভাব-অনটনের কথা চিন্তা করে ২০০৪ সালে স্বল্প পরিসরে প্রতিষ্ঠা করেন গাউছিয়া নার্সারি। নিজের আন্তরিকতা আর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় গত ১৬ বছরে ডালপালা মেলেছে গাউছিয়া নার্সারি। ২০০৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিলেও পাশ করতে পারেননি এ তরুণ।

পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে আর পরীক্ষাও দেয়া হয়নি। ফলে সেখানেই থেমে গেছে তার শিক্ষাজীবন। আর্থিক অস্বচ্ছলতায় লেখাপড়া করতে না পারলেও আক্ষেপ নেই তার।

নার্সারি প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরের মাথায় তার স্বপ্নে নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হয়েছে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদান। বান্দরবান থেকে সংগ্রহ করা তিন কেজি এপিজিক কেঁচো আর চারটি ট্যাঙ্কে ও দশটি রিংয়ে দিয়েই তার পদযাত্রা।

মাত্র ছয় মাসে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদান করে সাফল্য পেয়েছেন পানছড়ির আব্দুল হালিম। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদানের স্বপ্ন দেখছেন এ যুবক। এজন্য তিনি সরকারি ঋণ সহায়তা প্রদানেরও দাবি জানান।

পানছড়ির মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা গাউছিয়া নার্সারির মালিক মো. আব্দুল হালিম বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন ও বিপণনে নিজের সংসারে সমৃদ্ধি এনেছেন। নিজের নার্সারিতে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রতি মাসে এক টনেরও বেশি জৈব সার বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি পানছড়ি বাজারে সার বিক্রেতারাও নেন কেঁচো সার। বার্মি কম্পোস্ট সারের পাশাপাশি সার উৎপাদনকারি বিশেষ কেঁচোও বিক্রি করছেন তিনি। নিজের পাশাপাশি বাবা-মা আর ডিগ্রি পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের ঘামঝরা পরিশ্রমে স্বপ্নের পথে হাঁটছেন আবদুল হালিম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার একটি ফসল বা গাছের সুষম খাদ্যের যোগান দেয়। যেখানে রাসায়নিক সারে কেবল এক বা দুইটি খাদ্য উপাদান থাকে সেখানে বার্মি কম্পোস্টে রয়েছে সুষম খাদ্য উপাদান।

কেঁচো সার উৎপাদনে এপিজিক ও এন্ডিজিক নামক কেঁচো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে মাটিতে অণুজীবের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মাটিতে বাতাসের চলাচলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সাধারণত রিং পদ্ধতিতে বার্মি কম্পোস্ট উৎপাদিত হয়।

কলার বাকলসহ বিভিন্ন ঘাস, লতার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ রেখে দিতে হয়। পরে রিংয়ের মধ্যে ২০০ গ্রাম এপিজিক ও এন্ডিজিক কেঁচো মিশিয়ে রাখতে হয়। এভাবেই তৈরি হয় বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। এ সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ও পরিবেশ বান্ধব।

কেঁচো সার উৎপাদনে তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুল হালিমের সাফল্যে অনেকেই বার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন জানিয়ে পানছড়ির উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুণাঙ্কর চাকমা জানান, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে কৃষকরা বার্মি কম্পোস্ট সার বেছে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে।

সূত্রঃজাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২১ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
সৈয়দপুরে বোরোর আশাতীত ফলনের আশা করছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ইরি-বোরো খেত বেড়ে উঠছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে আশাতীত ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর বন্যায় দীর্ঘদিন পানি আটকে থাকায় সৈয়দপুরে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিনা বেগম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কোনো প্রকার পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা না দিলে চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরকারের খাদ্য ভাণ্ডারে যোগান দেওয়া সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২০, ২০২১ ৮:৫০ পূর্বাহ্ন
লিচু ফেটে যাওয়ার কারণ ও তার প্রতিকার
কৃষি বিভাগ

বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফলের ফেটে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। সাধারণত: ফল বড় হওয়ার পর অর্থাৎ ফল পুষ্ট হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ফাটা শুরু করে। ফল বড় হওয়ার পর কোন কারণে নষ্ট হলে কৃষকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পড়ে। প্রায় সব ফলকেই ফাটতে দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের ফল গুলোর মধ্যে লিচু ও ডালিম বেশী ফাটে। অন্যান্য ফলের মধ্যে কলা, আম, পেয়ারা, কাঁঠাল ইত্যাদি ফেটে যেতে পারে। ফল ফেটে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং উক্ত ফাটা জায়গায় রোগ জীবানুর আক্রমণ ঘটতে পারে। ফলে গোটা ফল নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়। ফল ফেটে গেলে তার বাজার মূল্য কমে যায়। তাছাড়া কোন কোন সময় তা খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে যায় ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

ক্ষতির ধরণ বা প্রকৃতি:
লিচুর ফল ফাটা বিভিন্ন রকম হতে পারে। সামান্য ফাটা, কেবলমাত্র খোসা ফাটা, লম্বালিম্বভাবে গোটা ফল ফাটা ইত্যাদি। ফল ফেটে গেলে তার অপক্ক শাঁস অনাবৃত হয়ে পড়ে এবং সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে আসে ফলে শাঁস দ্রুত শুকায়ে যায়। পরবর্তীতে তা রোগ ও পোকার আক্রমণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। লিচুর ফাটা লম্বালম্বি বা আড়াআড়ি দু রকমই হতে পারে।

ফল ফাটার পদ্ধতিঃ
খরা বা অনাবৃষ্টির সময় ফলের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কোষে অনাকাংখিত আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু শক্তিশালী কোষের উৎপন্ন হয় যা বিভক্ত হওয়ার বা বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যদি শুস্ক আবহাওয়ার পর পানি/সেচ সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয় তখন বর্ধনশীল কোষ (Merstematic tissuc) খুব দ্রুত বাড়া শুরু করে । কিন্তু , জাইলেম ও ফ্লোয়েমের শক্ত কোষগুলো সমভাবে বাড়তে পারে না। এমতাবস্থায়, কোষ বৃদ্ধির এই তারতম্যের কারণে ফলের আবরণের শক্তকোষগুলো ফেটে যায়।

ভারতের কানোয়ার ও তার সহযোগী বিজ্ঞানীবৃন্দ ব্যাখ্যা করেছেন যে, লিচুর ফল বৃদ্ধি দুটি পর্যায়ে ঘটে থাকে। প্রথম পর্যায়ে, ফল তার সম্ভাব্য দের্ঘ্য পর্যন্ত দ্রুত বাড়ে। বিশেষতঃ ফলের বীজ দ্রুত বাড়ার কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ে ফলের শাঁস দ্রুত বাড়া শুরু করে যে সময় (মে মাসে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং আপেক্ষিক আদ্রতা কম থাকে। এ সময় ফলের যে অংশে সরাসরি রোদ্র পায় সে দিকে ফলের খোসায় হালকা বাদামী দাগ পড়ে। দাগযুক্ত খোসার রং গাঢ় হয় এবং জায়গাটা শুকিয়ে যায়। একই সময় দ্রুত বর্ধনশীল শাঁসের চাপে দাগযুক্ত আক্রান্ত খোসার জায়গাটি ফেটে যায়। শাঁস বৃদ্ধির হার বেশী হলে ফাটল দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং ফাটল সুস্পস্ট হয়ে উঠে।

ফল ফাটার কারণঃ
ফল ফাটার বিভিন্ন কারন রয়েছে। তবে, লিচু ফল ফেটে যাওয়ার নিম্নের এক বা একাধিক কারণ থাকতে পারে।

(ক) আবহাওয়া জনিতঃ আবহাওয়ার মুল উপাদান তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আদ্রতা এবং বৃষ্টিপাত। লিচুর ফল ফাটার সঙ্গে আবহাওয়ার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গোছ। কানোয়ার, সিংহ প্রভৃতি বিজ্ঞানীদের মতে গরম বাতাস/ আবহাওয়া লিচুর ফল ফাটার প্রধান কারণ। তারা বলেন ফল পাকার আগে গরম আবহাওয়া তৎসহ গরম বাতাস ফল ফাটাতে সহায়তা করে। ফলের শাঁস দ্রুত বৃদ্ধির সময় তাপমাত্রা ৩৮০ সে. বা অধিক এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬০ % বা কম হলে ফল ফাটা তরান্বিত হয়। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক তারতম্য, তৎসহ গরম আবহাওয়ার পর হঠাৎ পর্যাপ্ত সেচ প্রদান বা বৃষ্টিপাত ফল ফাটতে সহায়তা করে। ফল পাকার পূর্ব মুহূর্তে উচ্চ তাপমাত্রা, নিম্নমাত্রার আপেক্ষিক আর্দ্রতা তৎসহ দীর্ঘ বৃষ্টিপাত ফল ফাটার অন্যতম কারণ বলে বিজ্ঞানী মিশ্র মনে করেন।

(খ) হরমোনজনিতঃ সুস্থ্য ও ফাটা লিচুর রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুস্থ্য লিচুর তুলনায় ফাটা লিচুর খোসা ও বীজে কম মাত্রায় এবং শাঁসে বেশী মাত্রায় অঙিন বিদ্যমান থাকে। জিবারেলিন এর মাত্রা খোসা, বীজ ও শাঁসে স্বাভাবিক ফলের তুলনায় বেশী থাকে। এছাড়া সাইটো কাইনিন ও এবসিসিক এসিড ফাটা ফলে বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

(গ) জাতের বৈশিষ্ট্য জনিতঃ লিচুর সব জাতে একইরকম ফাটল দেখা যায় না। কোন কোন জাত বেশী সংবেদনশীল আবার কোন কোনটি ফাটা প্রতিরোধক। ভারতে বেশ কিছু জাতের উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, জাতভেদে ফল ফাটার পরিমাণ ০.৩-৩৬.২% । এর মধ্যে সর্বোচ্চ ফাটল দেরাদুন জাতে এবং সর্বনিম্ন ফাটল সীডলেস নং-২ জাতে লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের দিনাজপুর ও ঈশ্বরদী এলাকায় আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে বোম্বাই ও স্থানীয জাতের ফল ফাটার পরিমান বেশী হয়ে থাকে। চায়না -৩ ও বেদানা জাতে ফল ফাটার পরিমাণ বেশ কম, নাই বললেই চলে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম পাকে এমন জাতের ফল ফাটার পরিমাণ নাবী জাতের তুলনায় বেশী। ভারতেও একই রকম ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে।

(ঘ) পুষ্টির অভাব জনিতঃ কিছু কিছু পুষ্টি উপাদান যেমন পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, দস্তা, বোরণ, তামা, মালিবডেনাম ও ম্যাঙ্গানিজ ফল বৃদ্ধির সময় শারীরতাত্বিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় এদের অভাবে ফল ফাটা ত্বরান্বিত হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে ফাটা লিচুতে স্বাভাবিক লিচুর তুলনায় বেশী পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম থাকে। অপরদিকে ক্যালসিয়াম ও দস্তা কম পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। স্বাভাবিক ও ফাটা ফলের অম্লতা (পিএইচ) এবং মিষ্টতার (টিএসএস) কোন তারতম্য ঘটে না । তবে, ফাটা ফলে পানির পরিমাণ বেশী থাকতে দেখা গেছে।

(ঙ) মাটির আর্দ্রতাজনিতঃ ত্রুটিপূর্ণ সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে ফল ফাটা বেড়ে যেতে পারে। ফলের শাঁস বৃদ্ধির সময়ে মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং পরিমিত মাত্রায় সেচ প্রদান না করার কারণে মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় লিচুর ফল ফেটে যেতে পারে।

(চ) রোগ পোকার আক্রমণ ও আঘাত জনিতঃ কোন কোন সময় রোগ ও পোকার আক্রমণ বা শারীরিকভাবে ফল ফল আঘাত প্রাপ্ত হলে তা ফেটে যায় এবং পচনকারী জীবানুর আক্রমণ দেখা দিতে পারে । তবে, এসব কারণে ব্যাপক আকারে ফাটল দেখা যায় না।

প্রতিকার
১। যে সব জাত ফাটল প্রতিরোধক/ সংবেদনশীল সে গুলোর চাষাবাদ করতে হবে।
২। বিভিন্ন প্রকার হরমোন সেপ্র করে ফলের পরিপক্কতা দীর্ঘায়িত করা এবং খোসার সমপ্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে

ফলের ফাটা দমনের ক্ষেত্রে ভাল ফলাফল পাওয়া গেছে। ন্যাপথালিন এসিটিক এসিড ((NAA) ২৫ পিপিএম হারে এর সাথে জিবারেলিক এসিড ৫০ পিপিএম হারে ১০ দিন পর পর সেপ্র করে ফাটল রোধ করা সম্ভব।

৩। ফল বৃদ্ধির সময় জিংক সালফেট ( প্রতি লিটারে ৫ গ্রাম), রোবাঙ/ বরিক এসিড ( প্রতি লিটারে ৫ গ্রাম) একত্রে বা আলাদা আলাদা ভাবে সেপ্র করলে ফল ঝরে পড়া ও ফাটা উভয় সমস্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
৪। ফল বৃদ্ধির সময় গাছে নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণ সেচ প্রদান করলে মাটির আর্দ্রতা / রস বৃদ্ধি এবং বাতাসের তাপমাত্রা কমে যাবে। ফলে লিচুর ফাটল কমে যাবে।
৫। মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। জৈব সার প্রয়োগে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যাবে। ফলে বিরুপ আবহায়ায় মাটির রস দ্রুত হ্রাস বৃদ্ধির হার কমে যাবে। উপরন্ত, জৈব সারে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকায় মাটির অপুষ্টি জনিত সমস্যাও দুর হবে।

অনেক সময় চাষীরা ফল ফাটার প্রকৃত কারন নির্ণয় করতে পারেনা । সে জন্য একক ভাবে কোন চেষ্টার উপর নির্ভর না করে উপরের আলোচিত প্রতিকারগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থা নিলে কার্যকর ভাবে লিচুর ফাটল রোধ করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
বরগুনায় ১০ বছর ধরে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী‘র
প্রাণ ও প্রকৃতি

হলুদ রঙের নান্দনিক একটি ফুল সূর্যমুখী। দেখতে সূর্যের মত এবং সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, তাই ফুলকে সূর্যমুখী বলে। সূর্যমুখী থেকে তৈরি তেলও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ। বিশ্বেজুড়েই সূর্যমুখী তেলের চাহিদা এখন ব্যাপক। আমাদের দেশেও ক্রমশ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখীর তেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুবই কম এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। এই তেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

বাসস জেলা প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখী চাষের চিত্রটুকু তুলে ধরার প্রয়াসে ‘দেশজুড়ে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ’ শীর্ষক ধারাবাহিক প্রতিবেদন তুলে ধরা হচ্ছে। আজ থাকছে বরগুনা জেলায় সূর্যমুখী চাষের চিত্র- প্রায় ১০ বছর ধরে বরগুনা জেলায় সূর্যমুখীর চাষ হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশা করছে, অনুকূল আবহাওয়া এবং সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে চলতি মৌসুমে জেলায় সূর্যমুখীর প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ২ দশমিক ১৪ টন হতে পারে। মোট ফলন ৬ হাজার ৭৬৮ দশমিক ৮২ টনের বেশী হবে, যা থেকে ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৬০ লিটার তেল পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, ২০১৬-১৭ মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৮২২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছিলো। সে বছর বরগুনা সদর উপজেলায় ৪৩০ হেক্টর, আমতলীতে ৩৮৫ হেক্টর, বেতাগীতে ৩৭৫ হেক্টর, বামনায় ৩০০ হেক্টর, পাথরঘাটায় ৩৩২ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করেছিলেন জেলার ২৮২৮ জন কৃষক। এর পর ২০১৭-১৮ মৌসুমে ১৫৩২ হেক্টরে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে ১৬২০ হেক্টরে, ২০১৯-২০ মৌসুমে ১৩৬৩ হেক্টরে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বদরুল হোসেন জানান, বরগুনা জেলায় আবাদকৃত জমির প্রায় ৯৫ ভাগ জমিতে ব্রাক কর্তৃক আমদানীকৃত হাইসান-৩৩ জাতের হাইব্রিড সূর্যমুখী ফসলের আবাদ হয়। বাকি জমিতে বারি সূর্যমুখী-১ (কিরণী) ও বারি সূর্যমুখী-২ জাতের সূর্যমুখী ফসলের আবাদ হয়। কৃষকের পছন্দের জাতটি আমদানী নির্ভর ও হাইব্রিড জাতের হওয়ায় বীজের সহজলভ্যতার অভাবে আবাদ হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে।

পুষ্টিবিদদের মতে সূর্যমুখীর ভোজ্য তেল ও সব ধরনের সবজির সঙ্গে খাওয়া যায়। পুষ্টিমান অনেক অনেক গুণে বেশি। এটি কোলেস্টেরলমুক্ত তেল। এছাড়া সর্ষে বাটার মতো করে সূর্যমুখী ফুলের দানা খাওয়া যায়। সূর্যমুখী গ্রামের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছে।

কৃষিবিদ ও কৃষকরা জানিয়েছেন, সূর্যমুখীর চাষে কোন ঝুঁকি নেই। চারা রোপণের ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যায়। মূলতঃ প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখীর চাষ করা হচ্ছে। সূর্যমুখী ফুলের দানা থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদন করা হয়। এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষে খরচ পড়ে প্রায় ১২ হাজার টাকা। একরে সূর্যমুখী উৎপাদন হয় ৩৩-৩৫ মণ। একর প্রতি উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের প্রায় কমবেশি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। সূর্যমুখী ফুলের বীজ সংগ্রহ করার পর বিশাল গাছগুলো জমিতে পঁচিয়ে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে জমির জৈবসারের ঘাটতি পূরণ হয়। অনেক কৃষক পরিবার তার দৈনন্দিন জীবনে রান্নার কাজের জ্বালানি হিসেবে সূর্যমুখীর খড়ি ব্যবহার করে থাকে। এতে করে জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, নতুন লাভজনক ফসল চাষে কৃষককে প্রেরণা যোগাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে মাঠ পর্যায়ে দু’ফসলি জমিতে কিভাবে বছরে ৩টি অর্থকরী কৃষি ফসল খাদ্য শষ্য চাষ করা যায় তা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে; সফলতাও এসেছে।- বাসস।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ১০:১১ পূর্বাহ্ন
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে বাওয়ালী নিহত
প্রাণ ও প্রকৃতি

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মো. আবুল কালাম (৪৫) নামে এক বাওয়ালী নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বেলা ২টার দিকে সুন্দরবনের কাছিকাটা এলাকার পায়রাটুনি খালে গোলপাতা আহরণকালে বাঘের আক্রমণের শিকার হন তিনি।

নিহত আবুল কালাম সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ছোটকুপট গ্রামের মৃত আতিয়ার গাজীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, আবুল কালামসহ কয়েকজন বাওয়ালী বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে অনুমতি নিয়ে কয়েকদিন আগে গোলপাতা আহরণের জন্য বনে যান। মঙ্গলবার বিকেলে পায়রাটুনি খালে গোলপাতা কাটার সময় বাঘের আক্রমণের শিকার হন  কালাম। পরে অন্য বাওয়ালীরা দলবদ্ধ হয়ে বাঘের কাছ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা  সুলতান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বনকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত বলতে পারব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
২ টাকায় মিলছে এক কেজি টমেটো
কৃষি বিভাগ

মুন্সিগঞ্জ সদরে এবছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ২ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে কৃষকের চেয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন বেশি।খুচরা বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫-১০ টাকা দরে। তাই খুচরা বিক্রেতারা লাভবান হচ্ছেন বেশি। পাইকারি বাজার থেকে ২ টাকায় কিনে অধিক লাভে খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া একটু ভালো মানের টমেটো খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি দরে। যা কৃষকের দামের চেয়ে অনেক বেশি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ন্যায্য দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। শহরের মোল্লারচর এলাকায় কিছু কিছু কৃষক জমি থেকে টমেটো তুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। গেল সপ্তাহেও প্রতি কেজি টমেটো ১০-১৫ টাকা দরে বিক্রয় করেছেন কৃষকরা, যা এখন নেমে এসেছে ২-৩ টাকায়।

চরকিশোরগঞ্জ মোল্লারচর এলাকার মনির হোসের মোল্লা জানান, পাইকারি বাজারে এক মণ টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। টমেটো বিক্রি করে লেবার খরচই উঠছে না। একজন লেবারকে দিতে হয় ৩০০ টাকা। অর্থাৎ ৫ মণ টমেটো বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরী দিতে হয়।

একই এলাকার সেরাজল মোল্লা জানান, প্রথম দিকে টমেটো ভালো দাম পাওয়া গেছে। তবে এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ টাকায়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop