২:৪১ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২২ ১২:৪৫ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গলে মড়কে নষ্ট হচ্ছে শাকসবজির ক্ষেত, কৃষকদের মাথায় হাত
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ৫৮ একর জমির শাকসবজির ক্ষেত। ইতোমধ্যে মড়ক ধরেছে বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা,বরবটি, টমেটো সহ নানা প্রজাতির শাকসবজিতে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি অফিসে গিয়েও কোন দিকনির্দেশনা পাননি ওই এলাকার কৃষকরা।

অন্যদিকে কৃষিবিভাগ বলছে, তাদেরকে বিষয়টি কেউ অবহিত করেনি। তবে পানির সমস্যার কারণে ওই এলাকায় চাষাবাদে সমস্যা হতে পারে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের পারেরটং গ্রামের ৬০ জন কৃষক প্রায় ৫৮ একর জমিতে বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় সবজি সরবরাহ করে আসছে। গতবছর পারেরটং গ্রামে শিলাবৃষ্টিতে সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেটা পুষিয়ে উঠার আগেই এবারও বিপাকে কৃষকরা। ক্ষেতের অধিকাংশ গাছেই মড়ক দেখা দিয়েছে যা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে কৃষকদের।

এ ব্যাপারে কৃষকরা শ্রীমঙ্গল কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা কৃষকদের কোন প্রকার সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষকরা বলেন, যদি কৃষি বিভাগ আমাদের দিকে নজর না দেন তাহলে আমরা সাধারন কৃষকরা কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য পেশার দিকে যেতে বাধ্য হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে তাদেরকে বিষয়টি কেউ অবহিত করেনি। তবে পানির সমস্যার কারণে ওই এলাকায় চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৯, ২০২২ ২:৪৭ অপরাহ্ন
ঢেঁড়শ চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

ঢেঁড়শ এদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। ঢেঁড়শে প্রচুর পরিমাসে ভিটামিন নি ও সি এবং এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমানে আয়োজিন, ভিটামিন “এ“ ও বিভিন্ন  খনিজ পদার্থ রয়েছে। ঢেঁড়শ নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে না এবং এটা হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

মাটি:
দোআশ ও বেলে দোআশ ঢেঁড়শ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা  থাকলে এটেল মাটিতেও চাষ করা যায়

জাত:
শাউনি,পারবনি কানি-, বারী ঢেঁড়শ, পুশা সাওয়ানী, পেন্টা গ্রীন, কাবুলী ডোয়ার্ফ, জাপানী প্যাসিফিক গ্রীন এসব ঢেঁড়শের চাষ উপযোগী জাত। শেষের দুটো জাত সারা বৎসর ব্যাপী চাষ করা চলে।

সময়:
সারা বছরই চাষ করা যায়। তবে সাধারণতঃ গ্রীষ্মকালে এর চাষ করা হয়। ফাল্গুন চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমাণ:
প্রতি শতকে  ২০ গ্রাম, হেক্টর প্রতি ৪- ৫ কেজি বীজ লাগে।

বীজ বপন:
বীজ বোনার আগে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে নিতে হয়। গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে চাষের জমি তৈরি করতে হয়। মাটি থেকে সারির দুরত্ব হবে ৭৫ সেমি.। বীজ সারিতে ৪৫ সেমি. দূরে দূরে ২-৩ টি করে বীজ বুনতে হয়। জাত অনুযায়ী চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দুরত্ব ১৫ সেমি. কমানো বা বাড়ানো যেতে পারে। শীতকালে গাছ ছোট হয় বলে দূরত্ব কমানো যেতে পারে। চারা গজানোর পর প্রতি গর্তে একটি করে সুস্থ সবল চারা রেখে বাকী চারা গর্ত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে।

সারের পরিমাণ:
সার               এক শতকে              হেক্টর প্রতি
গোবর            ৭৫ কেজি               ১৮ টন
সরিষার খৈল      ১.৭৫ কেজি            ৪২৫ কেজি
ইউরিয়া          ২৩০ গ্রাম গ্রাম         ৫৫-৬০ কেজি
টিএসপি          ৩৫০ গ্রাম গ্রাম         ৮৫-৯০ কেজি
এমও পি         ২৩০ গ্রাম গ্রাম          ৫৫-৬০ কেজি

সার প্রয়োগের নিয়ম:
জমি তৈরি করার সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানের ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়শ বীজ বপন করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু‘কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২ য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর।

পরিচর্যা:
নিড়ানী দিয়ে মাটির উপরিভাগ মাঝে মাঝে আলগা করে দিতে হবে। জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাটির প্রকার ভেদ অনুযায়ী ১০/১২ দিন পর পর সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রতি কিস্তিতে সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা:
ঢেঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকাই সবচে বেশি ক্ষতি করে। এ ছাড়া জাব পোকা, সাদা মাছি, ছাতরা পোকা, লাল গান্ধি ইত্যাদিও ক্ষতি করে।

রোগ ব্যবস্থাপনা:
হলদে শিরা স্বচ্ছতা ঢেঁড়শের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। এ ছাড়া মোজেইক ও পাতায় দাগ রোগও দেখা যায়।

ফসল সংগ্রহ:
বীজ বোনার ৬-৮ সপ্তাহের  মধ্যে এবং ফুল ফোটার ৩-৫ দিনের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। জাত ভেদে ফল ৮-১০  সেমি. লম্বা হলেই সংগ্রহ করতে হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৯, ২০২২ ১২:৪৮ অপরাহ্ন
মুকুল কম আসায় চিন্তিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা
কৃষি বিভাগ

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার আমের মুকুল কম আসায় কম আসায় চিন্তিত আম চাষিরা। শীতের সময় টানা কুয়াশা এবং কয়েক দফা বৃষ্টির কারণে এবার সময়মতো মুকুল আসেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে। আবার শিলা বৃষ্টিতেও বেশ ক্ষতি হয়েছে।এ পর্যন্ত ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ গাছে মুকুল এসেছে।  এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বাগান মালিক, আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, মুকুল কম আসার কারণ হিসেবে এবার ঠাণ্ডা আবহাওয়াকে দায়ী করছে কৃষি বিভাগ। নিয়মিত মুকুল পরিচর্যা ও সঠিকভাবে বালাইনাশক ব্যবহারে এখনও ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব।

ঘন কুয়াশায় এ মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলার আম বাগানে কম এসেছে মুকুল। এর উপর শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি তো আছেই। আবার মুকুল এসেছও দেরিতে। সবমিলে এ মৌসুমে ভাল ফলনের আশা হারিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বাগান মালিক,আম চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে এসব বাগান থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তবে শীতের সময় টানা কুয়াশা ও শেষ দিকে কয়েক দফা বৃষ্টিতে সময়মতো  মুকুল ফোটেনি আমের গাছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের মুকুল ৪০ ভাগ কম এসেছে।

বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন গাছে মুকুল কম, যেটুকু বের হয়েছে তাও ছোট হয়ে আছে, মুকুল বড় হচ্ছে হচ্ছে না। তাই তারা গাছে স্প্রে করছেন, যাতে মুকুল তাড়াতাড়ি বড় হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে, পরিসংখ্যানগত ভাবে আমরা বলতে পারি প্রায় ৫৫ লাখ আম গাছ রয়েছে এ জেলায়। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের মুকুল ৪০ ভাগ কম এসেছে। এ বছর শীত একটু বেশি এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে আমের মুকুলটা কম এসেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলার বাগানে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ গাছে এসেছে মুকুল। তাতে লক্ষ্যমাত্রার তিন লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৮, ২০২২ ১২:৩০ অপরাহ্ন
ক্যাপসিকাম চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ একটি জনপ্রিয় সবজি। ক্যাপসিকামে ভিটামিন এ এবং সি প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এতে ফাইবার, আয়রন এবং অন্যান্য খনিজ উচ্চ পরিমাণে রয়েছে আর ক্যালরির পরিমাণ সামান্য। ক্যাপসিকামের আকার-আকৃতি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। তবে সাধারণত ফল গোলাকার ও ত্বক পুরু হয়। এটি আমাদের দেশের প্রচলিত সবজি না হলেও সম্প্রতি এর চাষ প্রসারিত হচ্ছে। সারা বিশ্বে টমেটোর পরই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে মিষ্টি মরিচ বা ক্যাপসিকাম। এটি অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া মিষ্টি মরিচ বা ক্যাপসিকাম বিদেশে রপ্তানীর সম্ভাবনাও রয়েছে প্রচুর।

চাষের সময়:

বীজ বপণের উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। তবে বর্তমানে ঘরোয়া কৃষকরা ১২ মাসই এটি চাষের চেষ্টা করছেন। ক্যাপসিকাম উৎপাদনের জন্য ১৬০-২৫০সে. তাপমাত্রা ও শুষ্ক পরিবেশ সবচেয়ে উপযোগী। রাতের তাপমাত্রা ১৬০- ২১০সে. এর কম বা বেশি হলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ফুল ঝরে পড়ে, ফলন ও মান কমে যায়, কোন কোন ক্ষেত্রে একেবারেই ফলন হয় না।

জাত:

আমাদের দেশে আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে–California Wonder, Tender Bell (F1)এবং Yolow Wonder ইত্যাদি । প্রতি বছর এগুলোর বীজ আমদানি করতে হয়। তবে আমাদের দেশে California Wonder এর বীজ উৎপাদন করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি:

ক্যাপসিকাম চাষ করার জন্য বাজার থেকে কেনা ক্যাপসিকাম থেকেই বীজ সংগ্রহ করতে পারেন। আবার বাজারে বীজ কিনতেও পাওয়া যায়। ক্যাপসিকাম থেকে বীজ সংগ্রহ করতে চাইলে পরিপক্ক ক্যাপসিকাম থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর মাটি দিয়ে একটি পাত্র পূর্ণ করুন এবং বীজগুলি বপন করুন। আপনি যে কোন পাত্রে এই উদ্ভিদ লাগাতে পারেন, তবে গভীরতা কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি হতে হবে। উদ্ভিদ লাগানোর পরে, আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত জল দিন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর থেকে বীজ অঙ্কুরিত হবে।

আর বীজ দিয়ে চাষ করতে চাইলে বীজ থেকে প্রথমে চারা তৈরি করে নিতে হয়। প্রতি শতকের জন্য ১ গ্রাম বীজ দরকার হয়। বীজগুলোকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে আগে থেকে তৈরি করে রাখা বীজতলায় ১০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে লাইন করে বীজ বুনতে হবে। বীজতলায় প্রয়োজনানুসারে ঝাঝরি দিয়ে হালকাভাবে সেচ দিতে হবে। বীজ গজাতে ৩-৪ দিন সময় লাগে। বীজ বপনের ৭-১০দিন পর চারা ৩-৪ পাতা বিশিষ্ট হলে ৯-১২ সে.মি. আকারের পলি ব্যাগে স্থানান্তর করতে হবে। পটিং মিডিয়াতে ৩:১:১ অনুপাতে যথাক্রমে মাটি, কম্পোস্ট এবং বালি মিশাতে হবে। পরে পলিব্যাগ ছায়াযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করতে হবে, যাতে প্রখর সূর্যালোকে এবং ঝড় বৃষ্টি আঘাত হানতে না পারে।

গাছের পরিচর্যা:

অঙ্কুরোদগমের আগে গাছটি যেন কম সূর্যালোকে থাকে, এই সময়ে আপনি সেটিকে বাড়ির ভিতরে রাখতে পারেন। অঙ্কুরোদগম হওয়ার পরে, আপনি টবটিকে বারান্দায় সূর্যালোকে রাখতে পারেন।

তবে এই গাছটি প্রখর সূর্যের আলো যেন না পায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। যে টবে বা পাত্রে আপনি এই গাছটি রোপণ করেছেন, তার মাটিতে যেন ভাল পরিমাণে আর্দ্রতা বজায় থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। চারা পড়ন্ত বিকেলে রোপণ করা উত্তম । চারা রোপণের পর গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে।ক্যাপসিকামের গাছ বৃদ্ধি পেতে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে।

আর জমিতে চাষ করলে মনে রাখতে হবে মিষ্টি মরিচ খরা ও জলাবদ্ধাতা কোনোটিই সহ্য করতে পারে না। মাঠে চারা লাগানোর জন্য বেড তৈরি করতে হবে। প্রতিটি বেড প্রস্থে ৭৫ সে. মি. হতে হবে এবং লম্বায় দুটি সারিতে ২০টি চারা সংকোলনের জন্য ৯ মিটার বেড হবে। দু’টি সারির মাঝখানে ৩০ সে. মি. ড্রেন করতে হবে। জমিতে প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে। আবার অতিরিক্ত সেচ দিলে ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সে জন্য সুষ্ঠু নিকাশ ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো কোনো জাতে ফল ধরা অবস্থায় খুঁটি দিতে হয় যাতে গাছ ফলের ভারে হেলে না পড়ে। আগাছানাশক বা হাত দিয়ে অথবা নিড়ানি দিয়ে প্রয়োজনীয় আগাছা দমন করতে হবে।

কীটপতঙ্গ এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ:

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচে কিছু পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে আছে জাবপোকা. থ্রিপস পোকা, লালমাকড়, এ্যানথ্রাকনোজ রোগ, ব্লাইট রোগ ইত্যাদি। কোনও রোগ বা পোকার আক্রমণ হলে টক্সিন মুক্ত দ্রবণ ব্যবহার করাই শ্রেয়। এক চামচ সাবান গুঁড়া এবং নিম তেল এক টেবিল চামচ নিন, উভয় এক লিটার পানিতে মিশ্রিত করুন। প্রতি সপ্তাহে এই দ্রবণ একবার স্প্রে করুন।

সার ব্যবহার:

সারের জন্য শাকসব্জী এবং ফলের খোসা পচা জল, পাতা পচা ইত্যাদি মাটিতে প্রয়োগ করতে পারেন। এগুলি মাটির গুণমানকে উন্নত করে এবং উদ্ভিদকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

আর যদি জমিতে চাষ করা হয় তাহলে মিষ্টি মরিচ চাষে প্রতি শতাংশে গোবর ৪০ কেজি, ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ১.৪ কেজি, এমপি ১ কেজি, জিপসাম ৪৫০ গ্রাম এবং জিংক অক্সাইড ২০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর, টিএসপি, জিংক অক্সাইড, জিপসাম, ১/৩ ভাগ এমপি এবং ১/৩ ভাগ ইউরিয়া চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ২/৩ ভাগ ইউরিয়া এবং এমপি পরবর্তীতে দুই ভাগ করে চারা লাগানোর যথাক্রমে ২৫ এবং ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ:

মিষ্টি মরিচ সাধারণত পরিপক্ক সবুজ অবস্থায় লালচে হওয়ার আগেই মাঠ থেকে উঠানো যায়। সাধারণত সপ্তাহে একবার গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ গাছে একবারে প্রায় ৪ থেকে ৫ টি ক্যাপসিকাম আসে। একবার গাছ ভালো করে বিকশিত হয়ে গেলে প্রথম যখন ফল আসবে তখন তা সংগ্রহ না করাই ভালো। এতে গাছ দৃঢ় হয়। দ্বিতীয়বার থেকে ফল সংগ্রহ করাই ভালো। ফল সংগ্রহের পর ঠান্ডা অথচ ছায়াযুক্ত স্থানে বাজারজাতকরণেল পূর্ব পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়। তবে ফল সংগ্রহের সময় প্রতিটি ফলে সামান্য পরিমাণে বোটা রেখে দিতে হবে।

 

সূত্র:এগ্রোবাংলা 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২২ ২:০০ অপরাহ্ন
পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণের কলাকৌশল
কৃষি বিভাগ

পেয়ারা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল। বাংলাদেশের সর্বত্রই কম বেশি এ ফল জন্মে থাকে। প্রাথমিকভাবে পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষাবাদ পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসব জেলায় কিছু কিছু এলাকায় চাষ হয়। বর্তমানে পেয়ারার কতগুলো উন্নতজাত ও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এখন সারা দেশেই এ ফলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ হচ্ছে। বহুবিধ গুণাগুণের সমন্বয়ের জন্য পেয়ারাকে নিরক্ষীয় এলাকার আপেল বলা হয়। মুচমুচ করে টাটকা পেয়ারা খাওয়ার মজাই অন্যরকম। তাছাড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে জ্যাম, জেলি, জুস এসব তৈরি করেও পেয়ারা খাওয়া যায়।

পেয়ারার জাতসমূহঃ  আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি উন্নত জাতের পেয়ারা যেমন কাজী পেয়ারা, বারি পেয়ারা-২, বারি পেয়ারা-৩ (লাল শাঁস বিশিষ্ট), বাউ পেয়ারা-১ থেকে বাউ পেয়ারা-৯ পর্যন্ত, ইপসা পেয়ারা পাওয়া যায়। স্থানীয় জাতের মধ্যে স্বরূপকাঠি, কাঞ্চননগর ও মুকুন্দপুরী অতি জনপ্রিয় জাত। সাম্প্রতিক সময়ে থাই পেয়ারা চাষে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

পেয়ারা গাছের বৈশিষ্ট্যঃ

পেয়ারা খেতে খুবই সুস্বাদু, মুচমুচে ও সুমিষ্ট। পেয়ারাকে ভিটামিন সি এর ব্যাংক বলা যায়। পেয়ারা গাছ মাঝারি আকারের শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট আকৃতির হয়ে থাকে। শীতের সময় পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শেষের দিকে পেয়ারা গাছে নতুন পাতা ও ডগা আসে। সাধারণত বর্ষা ও শীত ঋতুতে গাছে পেয়ারা হয়। তবে শীত অপেক্ষা বর্ষাকালে ফলন একটু বেশি হয়। বর্ষাকালে জলীয়ভাব বেশি থাকায় ফলের মিষ্টতা ও অন্যান্য গুণাগুণ শীতকালের ফলের থেকে অনেকাংশেই কম থাকে। তাছাড়া জলীয়ভাব বেশি থাকায় পাকা ফল তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে দাম থাকে কম। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সব জাতের পেয়ারার গুণাগুণ শীতকালে বেড়ে যায়, রোগ ও পোকার আক্রমণও কম থাকে। ফলের আকৃতি এবং রঙ সবদিক থেকেই সুন্দর হওয়ায় এ সময়ে পেয়ারার দামও থাকে বেশি। এসব দিক বিবেচনায় রেখেই বর্ষাকাল বাদে কিভাবে অন্যান্য ঋতুতে অত্যাধিক হারে উৎপাদন বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে গবেষণা শুরু হয়। অত্যন্ত আশার কথা যে, গবেষকরা আজ এ ব্যাপারে সার্থক হয়েছেন। পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণ এখন খুব সহজেই সম্ভব হয়।

পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণের পদ্ধতিগুলোঃ

বর্তমানে পেয়ারা গাছে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের জন্য কৃষি বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। সেগুলো হলো শিকড় উন্মুক্তকরণ পদ্ধতি, হরমোন জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ পদ্ধতি ও শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতি।

ক. শিকড় উন্মুক্তকরণ পদ্ধতিঃ পেয়ারা গাছের গোড়ার মাটি তুলে বা আলগা করে দিতে হবে। মাটি তুলে গাছের শিকড়গুলো বের করে নাড়াচাড়া দিতে হবে। গাছের গোড়া থেকে ০১ থেকে ১.৫ মিটার (পেয়ারা গাছের ক্যানপি) পর্যন্ত মাটি কোদাল, শাবল বা নিড়ানি দ্বারা খুব ভালোভাবে সাবধানতার সাথে মাটি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। মাটি তুলে দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, গাছের শিকড়গুলো কেটে না যায়। বিশেষ করে গাছের আসল মূল (টেপ রুট) কাটা ও উৎপাটন করা যাবে না। গাছ নাড়ানো যাবে না। সাধারণত যে কোনো বয়সের পেয়ারা গাছে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। গোড়ার মাটি উন্মুক্ত করার কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পরিচর্যা করতে হবে। পরিচর্যাকালে পরিমাণমতো সার ও সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ পদ্ধতিতে গাছের পাতা লাল হয়ে ঝড়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে এপ্রিল-মে মাসে পেয়ারা গাছে শিকড় উন্মুক্ত করতে হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পেয়ারা গাছে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ফলধারণ করে।

খ. হরমোন জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ পদ্ধতিঃ সাধারণত ২ থেকে ৫ বছর বিশিষ্ট পেয়ারা গাছে হরমোন প্রয়োগ করতে হয়। এপ্রিল-মে মাসে হরমোন প্রয়োগ করার উৎকৃষ্ট সময়। এ সময়ে হরমোন জাতীয় পদার্থ হিসেবে ২,৪-ডি; ন্যাপথালিন এসিটিক এসিড (এনএএ), ১০% ইউরিয়ার দ্রবণ এসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। স্প্রে মেশিন বা ফুটপাম্প দিয়ে খুব ভালো করে পেয়ারা গাছের পাতা ভিজিয়ে দিতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই গাছের পাতা লালচে হয়ে ঝড়ে যেতে পারে। পরবর্তীতে গাছে সঠিক পরিচর্যা নিলে নতুন পাতা জন্মাবে এবং অসময়ে ফলধারণ হবে।

গ. শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতিঃ শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতি সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি। পেঁয়ারার ডাল বাঁকালেই প্রায় দশগুণ বেশি ফলন হয়। তাছাড়া একই প্রযুক্তিতে বছরের বার মাসই ফল ধরানো সম্ভব হয়। ফলের মৌসুমে গাছের ফুল ছিঁড়ে দিয়ে এ প্রক্রিয়াকে আরও প্রভাবিত করা যায়, যার ফলে সারা বছরই ফলের মৌসুমের তুলনায় কমপক্ষে আট থেকে দশগুণ ফল ধরবে গাছে। এ লক্ষ্যে ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গবেষণার মাধ্যমে ‘গাছের ডাল বাঁকানো’ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বছরে দুইবার অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে এবং হেমন্তকালে শাখা-প্রশাখার নিয়ন্ত্রিত বিন্যাসের মাধ্যমে সারা বছর পেয়ারার ফুল ও ফলধারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গাছের বয়স দেড় থেকে দুইবছর হলেই এ পদ্ধতি শুরু করা যাবে এবং পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে ফলন বাড়ানো সম্ভব। ডাল বাঁকানোর ১০ থেকে ১৫ দিন আগে গাছের গোড়ায় সার ও পানি দিতে হয়। ডাল বাঁকানোর সময় প্রতিটি শাখার অগ্রভাগের প্রায় এক থেকে দেড়ফুট অঞ্চলের পাতা ও ফুল-ফল রেখে বাকি অংশ ছেটে দিতে হয়। এরপর ডালগুলোকে সুতা দিয়ে বেঁধে তা বাঁকিয়ে মাটির কাছাকাছি করে সাথে অথবা খুঁটির মাধ্যমে মাটিতে বেঁধে দিতে হয় । গ্রীষ্মকালে মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন পরেই নতুন ডাল গজানো শুরু হয়। নতুন ডাল ১ সেমি. লম্বা হলে বাঁধন খুলে দেয়া হয়। আর হেমন্তকালে নতুন ডাল গজাতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগে। ডাল বাঁকানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিন পরে ফুল ধরা শুরু হয়। এভাবে গজানো প্রায় প্রতি পাতার কোলেই ফুল আসে। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই ফলন পাওয়া যায়।

বিশেষ ব্যবস্থাপনাগুলোঃ

পেয়ারা গাছের আকার আকৃতি, কাঠামো ও গুণগত মানের ফলধারণের জন্য গাছে বিশেষ কতগুলো ব্যবস্থাপনা করা যায়। এ ব্যবস্থাপনাগুলোর মধ্যে অঙ্গ ছাঁটাই, ডাল নুয়ে দেয়া, ফুল ছিঁড়ে দেয়া, ফল পাতলাকরণ, ফল ঢেকে দেয়া এসব পদ্ধতি।

অঙ্গ ছাঁটাই : গাছের মরা, শুকনা, চিকন, লিকলিকে, রোগাক্রান্ত ও প্রয়োজনহীন ডালপালা ছাঁটাই করাকে অঙ্গ ছাঁটাই বলা হয়। রোপণকৃত চারা বা কলমের আকার, আকৃতি ও কাঠামো সুন্দর করার উদ্দেশ্যে মাটি থেকে ১.০ থেকে ১.৫ মিটার ওপরে বিভিন্ন দিকে ছড়ানো ৪ থেকে ৫টি ডাল রেখে গোড়ার দিকের সব ডাল ছাঁটাই করে দিতে হবে। বয়স্ক গাছের ফল সংগ্রহের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। এতে গাছে নতুর ডালপালা গজায়, প্রচুর ফুল হয় এবং গুণমানের উৎকৃষ্ট ফলধারণ করে।

ডাল নুয়ে দেয়া : পেয়ারা গাছের খাঁড়া ডালে সাধারণত ফুল ও ফল খুবই কম ধরে। তাই খাঁড়া ডালগুলোকে যদি ওজন বা টানার সাহায্যে নুয়ে দিলে প্রচুর পরিমাণ নতুন শাখা গজায়। নতুন ডালপালায় গুণগতমানের ফলধারণ ও ফলন বৃদ্ধি পায়।

ফুল ও ফল পাতলাকরণ : কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২ এর গাছে প্রতি বছর প্রচুরসংখ্যক ফুল ও ফল আসে। ফল আকারে বড় হওয়ার গাছের পক্ষে সব ফল ধারণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলের ভারে ডালপালা ভেঙে যায় এবং ফল আকারে ছোট ও নি¤œমানের হয়। এ অবস্থায়, গাছকে দীর্ঘদিন ফলবান রাখতে ও মানসম্পন্ন ফল পেতে হলে প্রথমেই কিছু ফুল এবং পরে ফল ছোট থাকা অবস্থায় (মার্বেল অবস্থা) ৫০ থেকে ৬০% ফল পাতলা করে দেয়া দরকার। কলমের গাছের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই প্রথম বছর ফল নেয়া উচিত হবে না। তাই ফুল আসার সাথে সাথে ছিঁড়ে ফেলে দেয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয় বছর অল্প পরিমাণ ফল নেয়া ভালো। এভাবে গাছের বয়স ও অবস্থা বুঝে ফল রাখতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে ফুল বা ফল পাতলা করে প্রায় সারা বছর কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২ জাতের গাছে ফল পাওয়া যাবে।

ফ্রুট ব্যাগিং বা ফল ঢেকে দেয়া : পেয়ারা ছোট অবস্থাতেই ব্যাগিং করলে রোগ, পোকামাকড়, পাখি, বাদুড়, কাঠবিড়ালি এসব থেকে সহজেই রক্ষা করা যায়। ব্যাগিং করা ফল অপেক্ষাকৃত বড় আকারের এবং আকর্ষণীয় রঙের হয়। ব্যাগিং বাদামি কাগজ বা ছোট ছিদ্রযুক্ত পলিথিন দিয়ে করা যেতে পারে। ব্যাগিং করলে সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে প্রতিহত হয় বিধায় কোষ বিভাজন বেশি হয় এবং ফল আকারে  বড় হয়। ব্যাগিং করার আগে অবশ্যই প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ০.৫ মিলি হারে টিল্ট ২৫০ ইসি মিশিয়ে সব ফল ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে পেয়ারার উৎপাদন মাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার টন। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটি এসব পেয়ারা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়া অসময়ে ফলধারণের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলো গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনাসমূহের মাধ্যমে সহজেই পেয়ারা চাষে আর্থিক লাভবান করা সম্ভব। তাই পরিকল্পিত উপায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক পেয়ারা চাষের প্রতি কৃষক ভাইদের উদ্বুদ্ধ ও বাস্তবায়ন করার জন্য গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণবিদ, কৃষিকর্মী সর্বোপরি সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

 

 

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৬, ২০২২ ৯:১৪ অপরাহ্ন
কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে সহায়তা করবে মার্কিন কৃষি বিভাগ
কৃষি বিভাগ

কৃষিখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। সমঝোতা স্মারকের জন্য শীঘ্রই একটি খসড়া প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে আম, সবজি ও আলু নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় ইরাক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আব্দুসসালাম সাদ্দাম মুহাইসেন (Abdussalam Saddam Mohaisen)।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপির সাথে বৈঠকে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আব্দুসসালাম সাদ্দাম মুহাইসেন এ আগ্রহের কথা জানান। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এসময় কৃষিসচিব মো: সায়েদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে ইরাকের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কীভাবে আরও বাড়ান যায়- তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরাক ভারত ও তুরস্ক থেকে কৃষিপণ্য আমদানি করে। ইরাকের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন ভাল। তারা কৃষিখাতে সহযোগিতা করার জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা বাংলাদেশ থেকে সবজি, আম, আলু নিতে চায়। আমরা আলু রপ্তানি করতে পারবো।

পরে কৃষিমন্ত্রীর সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে মেগান ফ্রান্সিসের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (USDA) একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। এসময় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে বাংলাদেশকে মার্কিন কৃষি বিভাগ কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে বলে প্রতিনিধিদল জানায়। এছাড়া, তারা বাংলাদেশে কৃষিপণ্য পরিবহণ ও কোল্ড চেইনের জন্য রেফ্রিজারেটেড ভেহিকল প্রদান করবে বলেও জানান হয়।

এসময় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ও ভ্যালু অ্যাড করতে বদ্ধপরিকর। আমরা সেই লক্ষ্যে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পূর্বাচলে দুই একর জমিতে বিশ্বমানের প্যাকিং হাউজ এবং অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন কনসালটেন্টকে নিয়োগ করা হয়েছে। এই প্যাকিং হাউজ নির্মাণ ও অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব স্থাপনে মার্কিন কৃষি বিভাগ আমাদেরকে সহযোগিতা করতে পারে।

উল্লেখ্য, মার্কিন কৃষি বিভাগ ২৭ মিলিয়ন ডলারের ‘বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করছে। ২০২১-২৫ মেয়াদে চার বছরব্যাপী এ প্রকল্প মূলত বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গুণগতমান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২২ ৩:৩৩ অপরাহ্ন
ঝালকাঠি সদরে মৃত্তিকা বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ঝালকাঠি সদরে মৃত্তিকা নমুনা সংগ্রহ, সুষম সার ব্যবহার ও ভেজাল সার সনাক্তকরণ বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ছাব্বির হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এসআরডিআই’র ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিক এলাহি, এসএসও কাজী মো. আমিনুল ইসলাম, বিনয়কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজেডএম মঈন উদ্দিন পলাশ প্রমুখ।

মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ছাব্বির হোসেন বলেন, কৃষি হচ্ছে সর্বোত্তম পেশা। তাই কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার। এর অংশ হিসেবে মাটি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতি মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে রোগ-পোকার তীব্রতা বাড়ে। সে জন্য জমিতে সুষমভাবে সার প্রয়োগ জরুরি। আর তা করার আগে মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে। এর মাধ্যমে মাটির গুণাগুণ বজায় থাকে। তাই ফসলের উৎপাদন আশানুরূপ হয়।

মৃত্তিকা গবেষণাগার ও গবেষণা সুবিধা জোড়দারকরণ প্রকল্পের আওতাধীন ৪৫ জন কৃষক-কৃষি উদ্যোক্তা, সার ব্যবসায়ী ও মাঠ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২২ ৫:২৫ অপরাহ্ন
ঝালকাঠিতে জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ঝালকাঠিতে জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ নগরীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএইর উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম।

ডিএইর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. অলিউল আলমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (আরএআরএস) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ সাজিদুর রহমান, আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন, ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল হোসেন, পটুয়াখালীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএফএম মামুন, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন, ঝালকাঠি সদরের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মঈন তালকদার, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, ব্র্যাকের জেলা সমন¦য়ক মো. মোতাহার হোসেন প্রমুখ।

ডিএইর উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, খরিফ মৌসুমে ঝালকাঠিতে এবার ১৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ২শ’ হেক্টর। অন্যান্য ফসলের মধ্যে শাকসবজি ৩ হাজার ৬শ’ হেক্টর, মরিচ ১২ হেক্টর, হলুদ ৭০ হেক্টর, পান ১ শ’ ৮০ হেক্টর, কলা ৮ শ’ হেক্টর এবং পাটশাকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ শ’ হেক্টর প্রায়।

সভায় খরিফ মৌসুমে চাষযোগ্য বিভিন্ন ফসলের কর্মপরিকল্পনার ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। পরে একই স্থানে জেলার মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২২ ১:৩০ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় এফএও’র ডিজিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব
কৃষি বিভাগ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাকে (এফএও) একটি আন্তর্জাতিক বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এটি প্রতিষ্ঠা করা হলে শতবর্ষে যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

এফএও’র মহাপরিচালক (ডিজি) কু ডংইউ রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তিনি এ প্রস্তাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এ প্রসঙ্গে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতাকে উদাহরণ হিসাবে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এফএও’র ডিজিকে একটি ডিজিটালাইজেশন এবং উদ্ভাবনের প্রকল্প গ্রহণের জন্য সমন্বিত তহবিল গঠনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চাষের উপযোগী পর্যাপ্ত জমি না থাকায় সিভিএফ (ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) দেশগুলো, বিশেষ করে এসআইডিএস (ছোট দ্বীপ উন্নয়ন রাজ্য) অর্জনের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এফএও মহাপরিচালক এ বছর ইতালির রোমে ৩-৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব খাদ্য ফোরামে প্ল্যানারি স্পিকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এফএও মহাপরিচালক বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় তার সংস্থার অবিরাম সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও শক্তিশালী, উদ্ভাবনী এবং ডিজিটাল পদ্ধতির সাথে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২২ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
সিলেটের কানাইঘাটে “নিরাপদ ফসল উৎপাদন” প্রকল্পের আওতায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৩ নং দিঘির পার পূর্ব ইউনিয়নের খুলুর মাটি গ্রাম মাঠে “নিরাপদ ফসল উৎপাদন” প্রকল্পের আওতায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ১৩ মার্চ (রোববার) বিকাল ৩ ঘটিকার সময় ২০২১-২২ অর্থ বছরের পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কৃষক মাঠ স্কুল(এফ এফ এস) মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃআবুল হারিছ এর সঞ্চালনায় এবং প্রবীন সমাজ সেবক আলহাজ্ব আব্দুস সুবহান এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃএমদাদুল হক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন  উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃনজরুল ইসলাম, আজাদ মিয়া,কৃষক প্রতিনিধি আলি হোসেন,আবুল কালাম, আব্দুল্লাহ এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মধ্যে সনদপত্র ও সম্মানি ভাতা বিতরণ করা হয়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop