৩:০৬ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ২৯ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ৩:৪৭ অপরাহ্ন
হিলিতে দ্বিগুণ বেড়েছে সরিষার চাষ
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের হিলিতে বেড়েছে সরিষার চাষ। গত বছর হিলিতে ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হলেও এ বছর সেই চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে। ফলে দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহের দেখা মিলছে। দু’চোখ যেদিকে যায় শুধু হলুদ আর হলুদ।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) হিলির বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষে ওই জমিতে কৃষক সরিষার চাষ করেছেন। দেশে ভৈষজ তেলের চাহিদা তুলোনায় উৎপাদন কম। এসব ভৈষজ তেলে আমদানি করতে হয় বাইরের দেশ থেকে। বাহির থেকে আমদানিকৃত তেলের দাম দিন দিন বেড়েই চলছে। তেলের দাম স্বাভাবিক রাখতে এবং চাহিদা দেশের চাহিদা মেটাতে তাই এ বছর সরিষার চাষ বৃদ্ধি করেছেন চাষিরা। আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের পর জমিতে গোবর, ডেব ও ফসফেট সার দিয়ে মাটি তৈরি করে সরিষার বীজ রোপন করেছেন তারা।

ডিজেল তেলের দাম বাড়ায় সরিষার আবাদ বেশি করছেন কৃষক। কারণ হিসেবে চাষিরা জানান, সরিষা চাষ করতে জমি সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে কৃষকের খচর হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় কৃষকরা সরিষা উৎপাদন থাকে ৫ থেকে ৬ মণ।

হিলির জালালপুর গ্রামের সরিষা চাষি তপন কুমার বলেন, ‘দেশে তেলের দাম বেড়েই চলছে। তাই দেশের চাহিদা মেটাতে আমি সরিষার চাষ করছি। আমি প্রতি বছর বাড়ির জন্য ১৫ শতক সরিষা চাষ করতাম। কিন্তু মানুষের চাহিদা পূরণ করতে এ বছর আরও ১৫ শতক বেশি জমিতে সরিষার চাষ করেছি।’

ডাঙ্গাপাড়ার রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রতি বছর আমি এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করি। এ বছর দুই বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছি। তেলের দাম বেশি হওয়ায় আমি এ ফসলটি চাষ করছি।’

হিলি উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষকেরা। তবে গত বছর এই উপজেলায় সরিষার চাষ হয়েছিলো ৮৩০ হেক্টর জমিতে। আমরা মোট ৯৬০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার প্রদান করেছি।’

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহো বলেন, ‘জেলায় সরিষার চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৩ হাজার হেক্টর জমি। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করেছে কৃষক। গত সরিষা মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২০ হাজার মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হয়েছিলো। আশা করছি এ বছর ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিকটন সরিষার ফলন হবে।’

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ১২:৩৩ অপরাহ্ন
গোখাদ্য থেকে সুস্বাদু গুড়
কৃষি বিভাগ

গোখাদ্য চুইন্না থেকে মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গুড়। ব্যতিক্রম স্বাদের এই গুড় কিনতে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ পদ্মার চরাঞ্চলের বাড়িগুলোতে প্রতিদিনই আসছেন। আর এই গুড় তৈরি করে অনেকেই বাড়তি আয় করে পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন।

সরেজমিন পদ্মার চরাঞ্চল ঘুরে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের হাওলাদারকান্দি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির লোকজন মাঠ থেকে গোখাদ্য চুইন্না কেটে বাড়ি আনছেন। তারপর সেই চুইন্না থেকে পাতা কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। আর চুইন্না গাছটি ভালভাবে ধুয়ে পরিস্কার করে একই এলাকার ইব্রাহিমের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে স্যালো মেশিনের তৈরি এক ধরনের মেশিনে চুইন্না ভেঙ্গে তা থেকে রস বের করে দিচ্ছেন। স্থানীয়রা বাড়িতে বসে সেই রস চুল্লিতে ভাল করে পুড়িয়ে তা থেকে তৈরি করছেন সুস্বাদু গুড়। শুধু হাওলাদারকান্দি গ্রামের মানুষই নয় পাঁচ্চর, মাদবরচর, কাঁঠালবাড়ি, বন্দরখোলাসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন প্রতিনিয়তই চুইন্না সংগ্রহ করে ইব্রাহিমের কাছে এনে ভাঙ্গিয়ে রস করে নিয়ে যাচ্ছেন। ইব্রাহিম নিজেও গুড় তৈরি করে বিক্রি করেন। এই সুস্বাদু গুড় কিনতে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ভাঙ্গাসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ হাওলাদারকান্দি গ্রামে ভিড় জমাচ্ছেন। ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। গোখাদ্য চুইন্না থেকে তৈরি এই সুস্বাদু গুড় বিক্রি করে স্থানীয়রা বাড়তি আয় করছেন।

স্থানীয় সুফিয়া আক্তার বলেন, আমরা প্রথমে শখের বসে চুইন্না ধুয়ে শিল পাটায় বেটে রস তৈরি করে তারপর গুড় তৈরি করতাম। দেখতাম গুড় খুবই সুস্বাদু হচ্ছে। পরে ইব্রাহিম ভাই চুইন্না ভাঙ্গানোর মেশিন আনার পর এলাকার প্রায় সবাই তার কাছ থেকে চুইন্না ভাঙ্গিয়ে গুড় তৈরি করে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। অনেক জায়গা থেকে লোকজন এসে গুড় কিনে নিয়ে যায়। আর আমরা এখন এই গুড় দিয়েই পিঠা পায়েস রান্না করে খাই। স্থানীয় বারেক হাওলাদার বলেন, এই গুড় কিনতে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ভাঙ্গাসহ অনেক জায়গা থেকে লোকজন এখানে আসে। আর অন্যান্য গুড়ের চেয়ে এই গুড় খেতে অনেক সুস্বাদু।

ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, এলাকার প্রায় সব বাড়ির নারীদেরকেই দেখি শিল পাটায় বেটে চুইন্নার রস বানিয়ে গুড় তৈরি করছে। গুড় খেতেও সুস্বাদু। তাই স্যালো মেশিনের তৈরি মেশিন কিনে এনে চুইন্না ভাঙ্গার কাজ করছি। নিজেও চুইন্না থেকে গুড় তৈরি করে বিক্রি করছি। পাঁচ্চর, মাদবরচর, কাঁঠালবাড়িসহ অনেক এলাকার মানুষ আমার কাছে চুইন্না ভাঙ্গাতে আসে। কৃষি কাজের পাশাপাশি এই গুড় বিক্রি করে আমার মত অনেকেই বাড়তি আয় করছে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগের সাথে পরামর্শ করে এই কর্মটিকে কিভাবে সামনের দিকে অগ্রসর করা যায় তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো বেশি উৎসাহিত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ১২:০৬ অপরাহ্ন
মাদারীপুরে ‘ডায়না’ লাউয়ের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মাদারীপুরের কৃষকরা। ভালো ফলন হয়েছে সেই সাথে মিলছে ভালো দামও। এখন ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের। 

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শিকারমঙ্গল, নবগ্রাম, ডাসার, রমজানপুর ও বালিগ্রাম ইউনিয়নের ২শ’ ৮০টি স্থানে পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে লাউ। ডায়না ও ময়না নামের উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউ চাষ করে আশাতীত ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। কেউ কেউ খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ের উপর মাঁচা তৈরি করেও লাউ চাষ করছেন।

কৃষকরা জানালেন, ১০ হাজার টাকা খরচ করে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয়। আকার ভেদে এক-একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

অনুকূল আবহাওয়া এবং সময়মতো কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ায় লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানালেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এবার মাদারীপুরে ৭০৫ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
বিএসআরআই আখ-৪১ চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

আখের নতুন জাত বিএসআরআই আখ-৪১ (অমৃত) জাতটি মাঠ পর্যায় প্রদর্শনীর মাধ্যমে সফল হয়েছে বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউিট। মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা গ্রামে জাতটি প্রত্যায়িত বীজ প্লটের ‘ক্রপকাটিং ও মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠানে এ বলেন কৃষি কর্মকর্তারা।
মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপস উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আব্দুল ওয়াহেদ, বিএসআরআই এর মূখ্য বৈজ্ঞনিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোস্তফিজুর রহমান প্রধান, কৃষি তথ্য সর্ভিসের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ড. সুরজিত সাহা রায়সহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিএসআরআই-এর কর্মকর্তা এবং প্রায় শতাধিক কৃষক কৃষাণী।
বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই)-এর রোগতত্ব বিভাগের উদ্যোগে এবং  কেজিএফ এর অর্থায়নে পরিচালিত পাইলটিং অন ‘প্রোডাকটিভিটি এনহ্যান্সমেন্ট অব গুর এন্ড চিউইং টাইপ সুগারকেন থ্রু ম্যানেজমেন্ট অব মেজর ডিজেজেস’  শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে এসব প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কর্মকতা বলেন, আখের-৪১ জাতটি উচ্চ চিনি ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন (১২.৮৯%)। চিবিয়ে এবং রস করে খাওয়ার উপযোগী। উচ্চমান সম্পন্ন গুড় তৈরীর জন্য ভাল এবং খরা সহিষ্ণু। ১০০ কেজি রস থেকে ১০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। চারাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক মো: শামসুল হকের আখের প্রত্যায়িত বীজের প্লটে আখের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে পাওয়া গেছে ৯৫ দশমিক ৩১ টন।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২২, ২০২১ ৫:০০ অপরাহ্ন
চাটমোহরে বাণিজ্যিক ভাবে কফি চাষ শুরু
কৃষি বিভাগ

জনপ্রিয় পানীয় কফির আবাদ হচ্ছে পাবনার চাটমোহরের সমতল ভূমিতে। এক সময় দেশের পার্বত্য তিনটি জেলায় কফির আবাদ হলেও এখন পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী ও রংপুর এবং টাঙ্গাইলে কফির চাষ শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত প্রশিক্ষণ সেমিনার কনফারেন্স চলাকালে স্বল্প সময়ের বিরতির সময় পানীয় হিসেবে কফি পরিবেশন করা হয়। অনেকে বাড়ি বা দোকানে গিয়ে কফি পান করেন। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কফি চাষে আমরা পিছিয়ে থাকায় দেশে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে কিছু মানুষ কফি চাষ শুরু করেছেন। সরকার কফি চাষ সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে চাটমোহরের হরিপুর ইউনিয়নের বরুরিয়া গ্রামে ও মুলগ্রাম ইউনিয়নে দুটি প্রদর্শনী স্থাপিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস চাটমোহর পাবনা প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে ও চাটমোহরে কফি চাষ শুরু হয়েছে।

চাটমোহরের গুনাইগাছা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ঠিকাদার শুকুর আলী নিজ উদ্যোগে তার বাড়িতে কফি চাষ শুরু করেছেন। শুকুর আলী জানান, বেশ কিছু বছর পূর্বে সৈয়দপুরের খ্রিষ্টন মিশনারীতে গীর্জা নির্মাণের কাজ করছিলাম। সেখানকার ইটালিয়ান মাদার ইটালী থেকে দুইটি কফির চারা এনে আমাকে দেন। আমি সেটি আমার বাড়িতে রোপণ করি। তিন বছর পর থেকে আমি ফল পেতে শুরু করি। কফির দানা থেকে এবং গাছের ডালে কলম দিয়ে চারা তৈরী করছি। ২০১৮ সালে ২০ টি, ২০১৯ সালে ৬০ টি এবং ২০২০ সালে ১৫০ টি চারা উৎপাদন করতে পেরেছি। লাগানোর তিন বছর পর থেকেই কফি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়। কিছু চারা ঢাকায় নিয়ে প্রতিটি এক হাজার টাকা করে বিক্রি করেছি। এলাকায় প্রতিটি চারা পাঁচশ টাকায় বিক্রি করছি। ইতিমধ্যে এলাকার প্রায় বিশ জন আমার নিকট থেকে কফির চারা কিনে রোপণ করেছেন এবং কফি চাষে এলাকার কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রকল্পের অধীনে কফি চাষ শুরু করেছেন চাটমোহরের বরুরিয়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন। তিনি জানান, এই প্রথম কফি চাষ করছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চারা ও সার সরবরাহ করেছে। হলুদের জমির মধ্যে জায়গা ফাঁকা করে আপাতত চারা লাগিয়েছি। কেমন হবে, কিভাবে কফি সংগ্রহ করতে হয় এসব বিষয়ে খুব বেশি জানি না আমি। পরীক্ষা মূলক ভাবে কফির চাষ করেছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রায় ১১৮.৩ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫৫.৭৫ টন কফি উৎপাদন হয়। কৃষকেরা সনাতন পদ্ধতিতে কফি চাষ করায় ফলন ও লাভ কম পায়। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩২.৫১৭ টন গ্রীন কফি আমদানী করা হয়। অর্থকরী ফসল কফির আমদানী নির্ভরতা কমাতে সরকার কফি চাষ সম্প্রসারণের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ মাসুম বিল্লাহ জানান, বাংলাদেশের মাটি কফি চাষের উপযোগী। ঝুরঝুরে, জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হালকা অম্লমাটিতে কফি ভাল জন্মে। এটি উঁচু মাটিতে ভাল হয়। কফির সাথে আন্তফসল হিসেবে পেঁপে, আনারস, গোলমরিচ চাষ করা যায়। হালকা ছায়াযুক্ত স্থানে কফি ভালো হয়। খুব বেশি পরিচর্যার দরকার হয় না। রৌদ্রময় স্থানে চাষ করলে সার ও সেঁচের দরকার হয়। কফির ফল সংগ্রহ থেকে পান করা পর্যন্ত অনেকগুলো ধাপ পেরুতে হয়। এখন পরীক্ষা মূলক ভাবে কফি চাষ হচ্ছে। ভাল ফলাফল পেলে অধিক সংখ্যক কৃষককে কফি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২২, ২০২১ ৩:৫২ অপরাহ্ন
পদ্মার চরে পেঁয়াজ চাষে সাফল্য
কৃষি বিভাগ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মার চরে পেঁয়াজ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন চাষিরা। বুধবার পদ্মার কালীদাসখালী চরে চাষিদের পেঁয়াজ জমি পরিচর্যা করতে দেখা গেছে।

সকালে বাঘা উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরে কালীদাসখালী এলাকার কৃষক আবদুস সালাম লেবার দিয়ে কুয়াশার মধ্যে পেঁয়াজের জমি পরিচর্যা করছিলেন।

তিনি জানান, গত বন্যায় পদ্মার পানি নামতে দেরি হওয়ায় দেরিতে পেঁয়াজ রোপণ করতে হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে বন্যার পানি আগে নেমে যাওয়ায় পেঁয়াজ আগাম রোপণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাজারমূল্য ভালো পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় তিন হাজার হেক্টর। চাষ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। আগাম পেঁয়াজচাষিরা ভালো ফলন ও বেশি দাম পাবেন বলে জানান।

চরাঞ্চলের পেঁয়াজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস ও ট্রাকে করে পেঁয়াজ কিনতে আসেন ব্যবসায়ীরা।

পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর চরের পেঁয়াজচাষি বাবলু দেওয়ান ও আকছেদ আলী শিকদার জানান, এবার পদ্মার পানি আগে নেমে যাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে আগাম পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। আশা করছি ফলন ভালো হবে।

চকরাজাপুর চরের পেঁয়াজচাষি গোলাম মোস্তফা জানান, গত বছর তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে বাজারমূল্য পেয়েছিলেন কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকা। এবারও আশা করছেন ওই দামই পাবেন। বর্তমান বাজারে নতুন পেঁয়াজ পাইকারি হিসেবে ৩০-৩৫ টাকা প্রতি কেজি হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, এ বছর উপজেলায় সর্বত্রই কমবেশি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। উপজেলার সমতল এলাকার বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপন্ন হয় পদ্মার চরে। তবে পেঁয়াজচাষিদের সবসময় পরামর্শ দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২১, ২০২১ ১:৫৫ অপরাহ্ন
মানিকগঞ্জে বেগুন চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

মানিকগঞ্জ সকল ধরনের সবজির জন্য বিখ্যাত। মানিকগঞ্জের শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি ও বেগুন অন্যতম। জেলায় এবার ৭ হাজার ২১২ হেক্টর জমিতে কৃষি আবাদ হয়েছে। তারমধ্যে সদরে কৃষি আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৩২০ হেক্টর। এবার অসময়ে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফুলকপির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফুল কফির ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পরে কৃষকরা। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যে বেগুনের ফলন আসায় এবং ভাল দাম পাওয়ায় ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তারা। বাজারে প্রচুর বেগুনের চাহিতা রয়েছে। এখানকার বেগুন জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে।

মানিকগঞ্জ সদরের ঢাকুলি এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, গত বছর ফুলকপিতে তেমন লাভ হয়নি বাজার দর কম ছিল তাই এবার বেশি করে বেগুন চাষ করেছি। বেগুনের ফলন খুব ভাল হয়েছে এবং বাজার দর খুব ভাল যাচ্ছে। এবার বৃষ্টির কারণে ফুলকপিতে যে লোকশান হয়েছে তা বেগুনে পুশিয়ে যাবে।

তিনি আরো জানান, এক বিঘা বেগুন চাষে খরছ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বাজার ঠিক থাকলে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রী হয়ে থাকে।

কৃষক মোঃ তৌফিকুর রহমান সরফ বলেন, ফুলকপিতে লাভ হয়নি। নিচু জমিতে যারা ফুলকপি চাষ করেছিল তাদের অনেকর লোকশান হয়েছে। আমারও ফুল কপিতে ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য জমিতে বেগুন চাষ করে অনেক লাভবান হচ্ছি। সাধারণ বৃষ্টি বাদলে বেগুনের তেমন ক্ষতি হয় না। তাই আগামীতে আরোও জমিতে বেগুন চাষ করবো।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েতউল্লাহ বলেন, ভাল দাম পাওয়ায় এবার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। অসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় সরিষার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সবজির তেমন ক্ষতি হয়নি। যেটুকু ক্ষতি হয়েছে ভাল দাম পাওয়ায় তা পুরন হয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২১, ২০২১ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
সরিষায় পোকার আক্রমণে দিশেহারা চাষীরা
কৃষি বিভাগ

টাঙ্গাইলে পোকার আক্রমণে সরিষার ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, পোকা শেকড় কেটে ফেলায় গাছ মরে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন সুফল মিলছে না। 

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় এবছর সরিষার আবাদ হয়েছে ৪৭ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে। শুরুতে ভাল ফলনের আশা করলেও ক্ষেতে এক ধরণের পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। পোকায় শেকড় কেটে ফেলায় মরে যাচ্ছে গাছ।

বাসাইল উপজেলার রাসড়া, কাঞ্চনপুর, যৌতুকী, জিগাতলীসহ বিভিন্ন গ্রামে মরে গেছে  ক্ষেতের সরিষা গাছ। একাধিকবার চাষ করেও সুফল না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষক।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সরিষা ক্ষেতের পোকা নিরাময়ে চাষীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০, ২০২১ ৫:০২ অপরাহ্ন
চালের বস্তায় লিখতে হবে ধানের নাম
কৃষি বিভাগ

চালের ব্র্যান্ড নাম যাই হোক, বস্তায় ধানের জাতের নাম লেখার বাধ্যবাধকতা রেখে একটি নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সচিবালয়ে সোমবার (২০ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান খাদ্যসচিব মোছাম্মৎ নাজমানার খানম।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি গবেষণা করেছি, সেখানে আমরা পেয়েছি ধান কেটে যে চালই উৎপাদন করা হচ্ছে, তার নাম দেয়া হচ্ছে মিনিকেট। এ কারণে আমরা একটি ছাঁটাই নীতিমালা করছি।’

খাদ্যসচিব  আরও বলেন ‘সাধারণভাবে ধানের সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ ছাঁটাই করা যায়, কিন্তু দেখা যাচ্ছে ৩০ ভাগ পর্যন্ত ছাঁটাই করে মিনিকেট নাম দিয়ে চাল বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকলেও পুষ্টিঝুঁকি আছে। এ কারণে আমরা চেষ্টা করছি চালের ব্র্যান্ড নাম যা-ই হোক, বস্তার গায়ে অবশ্যই ধানের নাম লিখতে হবে।’

এর আগে গত ২১ নভেম্বর পুষ্টিগুণ নষ্ট করে বিভিন্ন অটোরাইস মিলে চাল কেটে বাজারজাত এবং বিক্রি বন্ধ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে চাল কেটে বা ছেঁটে পুষ্টিগুণ নষ্ট করে বাজারজাত বা বিক্রি করা বন্ধে গাইডলাইন তৈরির কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চান আদালত।

জনস্বার্থে করা মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের এক রিটের শুনানি নিয়ে এসব আদেশ দেয় বিচারক মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারক মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ।

রিটে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, খাদ্যসচিব, কৃষি এবং বাণিজ্যসচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, র‌্যাবের প্রধান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের পরিচালক, বিএসটিআই, রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ৭ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং অটোরাইস মিলস মালিক সমিতির সভাপতি বা সেক্রেটারিকে বিবাদী করা হয়।

এ নিয়ে এর আগে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০, ২০২১ ৪:০৮ অপরাহ্ন
নওগাঁয় রবি মৌসুমে ২২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
কৃষি বিভাগ

নওগাঁ জেলায় ২২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষিবিভাগ। জেলায় ৮ হাজার প্রান্তিক গমচাষীকে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে বিনামুল্যে বীজ-সার বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন- জেলায় সবচেয়ে বেশী চাষ হয়ে থাকে বারী-৩০ জাতের গম। এ ছাড়াও বারী-৩২, বারী-৩৩ এবং বারী-২৮ জাতের গম চাষ করছেন কৃষকরা। গম চাষের ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজন কম হওয়ায় জেলায় ক্রমাগত গম চাষের ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে- জেলায় উপজেলা ভিত্তিক গম চাষের জমির পরিমাণ হচ্ছে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৮৫৫ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ৩৬৫ হেক্টর, বদলগাছি উপজেলায় ৮৬৫ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ৫৬৫ হেক্টর,পত্নীতলা উপজেলায় ১ হাজার ৮১০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ১ হাজার ৬১০ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ৪ হাজার ৫৯০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ২ হাজার ১৪০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ৪ হাজার ২৬০ হেক্টর।

উল্লেখিত পরিমাণ জমি থেকে হেক্টর প্রতি ৩ দশমিক ৫২ টন হিসেবে জেলায় চলতি রবি-২০২১-২০২২ মওসুমে ৭৯ হাজার ৯৩৯ টন গম উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা।

এদিকে গম চাষে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জেলার ৮ হাজার প্রান্তিক গম চাষীকে ১ বিঘা জমির বিপরীতে ২০ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি এবং ১০ কেজি করে এমওপি সার বিনামুল্যে প্রদান করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop