১০:৩১ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০, ২০২১ ৪:০৮ অপরাহ্ন
নওগাঁয় রবি মৌসুমে ২২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
কৃষি বিভাগ

নওগাঁ জেলায় ২২ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষিবিভাগ। জেলায় ৮ হাজার প্রান্তিক গমচাষীকে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে বিনামুল্যে বীজ-সার বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন- জেলায় সবচেয়ে বেশী চাষ হয়ে থাকে বারী-৩০ জাতের গম। এ ছাড়াও বারী-৩২, বারী-৩৩ এবং বারী-২৮ জাতের গম চাষ করছেন কৃষকরা। গম চাষের ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজন কম হওয়ায় জেলায় ক্রমাগত গম চাষের ক্ষেত্রে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে- জেলায় উপজেলা ভিত্তিক গম চাষের জমির পরিমাণ হচ্ছে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৮৫৫ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ৩৬৫ হেক্টর, বদলগাছি উপজেলায় ৮৬৫ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ৫৬৫ হেক্টর,পত্নীতলা উপজেলায় ১ হাজার ৮১০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ১ হাজার ৬১০ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ৪ হাজার ৫৯০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ২ হাজার ১৪০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ৪ হাজার ২৬০ হেক্টর।

উল্লেখিত পরিমাণ জমি থেকে হেক্টর প্রতি ৩ দশমিক ৫২ টন হিসেবে জেলায় চলতি রবি-২০২১-২০২২ মওসুমে ৭৯ হাজার ৯৩৯ টন গম উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা।

এদিকে গম চাষে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জেলার ৮ হাজার প্রান্তিক গম চাষীকে ১ বিঘা জমির বিপরীতে ২০ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি এবং ১০ কেজি করে এমওপি সার বিনামুল্যে প্রদান করার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০, ২০২১ ৩:২২ অপরাহ্ন
হাওরাঞ্চলে বোরোর সবুজ মাঠে কৃষকের হাসি
কৃষি বিভাগ

আবহাওয়া ভালো থাকায় সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলা সহ হাওর বেষ্টিত ভাটির জনপদে বোরো ধানের চারা এবার ভালো হয়েছে। গত ৫/৭ দিন যাবত শাল্লায় পুরোদমে বোরো চারা রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষকরা এবার কৃষিবিদ, হীরা, নাফকো, জনক রাজ, বিআর-২৮ বিআর-২৯, রূপালী, জাতের ধানের আবাদ করেছেন বেশি। কোন কোন কৃষক নিজের পরিবারের খাবার ও আত্মীয় স্বজনকে খাওয়ানোর সুস্বাদু চাল পেতে পুরোনো দিনের ধান গোবি সাইল, টুপা, লালডিঙ্গি, রাতা ধানের চাষও সামান্য পরিমাণে করছেন।

শাল্লার রামপুর গ্রামের কৃষক কৃপেশ দাস বললেন, হালিচারার বীজতলায় গেলে মন জুড়িয়ে যায়, এবার সুন্দর চারা হয়েছে, অন্যান্য বছর চারা লম্বা কম হতো, সার দেওয়া লাগতো, পোকায় ধরতো; এবার এই ধরণের যন্ত্রণা নাই, সময়মত বৃষ্টি হওয়ায় সেচের সংকট হয় নি, অগ্রহায়ণের প্রথম দিকে বীজতলায় বীজ বপণ করা হয়েছিল। এখন চারা রোপণের উপযোগী হওয়ায় দুইদিন হয় রোপণ শুরু করেছি । তিনি জানালেন, বৃষ্টি হওয়ায় মাটি নরম রয়েছে, এজন্য চারা ওঠাতে কিছু সমস্যা হচ্ছে তার পর ও আমরা খুশি।

মামুদনগর গ্রামের বড় কৃষক হাবিবুর রহমান হবিব বললেন, গত ৬ দিন ধরে চারা ওঠানো শুরু করেছি। এবার বেশি ফলনের ধানের সঙ্গে তিন কেয়ার (এক একর) পূর্বের রাতা ধানও করছি। এই ধান একরে ৩০-৩২ মণের বেশি হয় না।তবে এ ধানের চালের ভাত খুবই স্বাদ হয়।

বাড়িতে অতিথি আসলে বা আচার অনুষ্ঠান হলে এই চাল রান্না করা হয়। তিনি জানান, পৌষ মাস ভরা ধান রোপণের কাজ চলবে।

গ্রাম শাল্লার কৃষক সেলিম মিয়া বললেন, সময়মতো বীজ পাওয়ায় এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ধানের চারা ভালো হয়েছে। চারা রোপণ শুরু হয়েছে, চলবে মাঘ মাস পর্যন্ত। প্রকৃতি সহায় হলে এবার খুব ভাল ফলন হবে বলে তিনি জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ফরিদুল হাসান বললেন, গেল বছরের চাইতে এবার ধানের চারা ভালো হয়েছে। রোপণের কাজও আগে ভাগে শুরু হয়েছে। এবার জেলায় দুই লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো’র চাষাবাদ হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ২০, ২০২১ ২:৫৮ অপরাহ্ন
কৃষক থেকে শিক্ষক সবাই ব্যস্ত ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজে
কৃষি বিভাগ

আমন ধান কাটার সময় হলেই পাহাড়ের ঘরে ঘরে শুরু হয় আনন্দের জোয়ার। প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয় উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে পাহাড়ী পল্লীগুলোর সকল পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসে একে অপরের সহযোগিতায়।

পানছড়ি উপজেলার চৌধুরী পাড়া এলাকার ধানের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কেউ ছাত্র, কেউ শিক্ষক, কেউ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, কেউ চাকুরিজীবি, কেউ ফুটবলার আবার কেউবা ফুটবল কোচ। ধানের মাঠে তারা সবাই কৃষক। ধান কাটা, কাঁধে ভারে করে ধান টানা, ধান মাড়াই, শুকানো, বাতাসের মাধ্যমে ধানের চিটা আলাদা করার পর ধান গোলায় ভরাসহ সকল কাজে একে অপরকে সাহায্য করে।

তাদের দাবি এখানে ধনী-গরীব বলে কোন ভেদাভেদ নেই। সবাই হাসি ঠাট্টার মাধ্যমেই কাজগুলো সম্পন্ন করে দিচ্ছে। গোলায় ধান ওঠার দিন সকলে মিলে রান্না করে একসাথে খাবে আর আনন্দ করবে এতেই সকলের তৃপ্তি। পানছড়ির কৃতি ফুটবলার ও বাফুফের সি লাইসেন্সধারী কোচ ক্যপ্রুচাই মারমা জানায়, ‘এটা আমাদের ঐতিহ্য তাই ফুটবলের মাঠ ছেড়ে কয়েকটা দিন সবার সাথে ধানের মাঠে সহযোগিতার মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করছি।’

পানছড়ি উপজেলার সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুণাংকর চাকমা বলেন, নবান্নে ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা দীর্ঘ দিনের প্রথা। তবে এর আমেজ আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও নবান্নে আমন, বিন্নি ও বিভিন্ন জাতের সুগন্ধি চাউলের গন্ধে কৃষক পরিবার থাকে মুখরিত। এসময় বাড়িতে বাড়িতে জমে ওঠে পিঠা উৎসব। পিঠা বানিয়ে প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রন ও একে অপরের বাড়িতে বিতরণের করে সবাই মিলে নবান্ন উৎসব পালন করে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৯, ২০২১ ৪:৫৭ অপরাহ্ন
মজুদ পর্যাপ্ত, তবুও সারের বাড়তি দাম
কৃষি বিভাগ

বিভিন্ন জেলার কৃষক সরকার নির্ধারণ দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও কর্তৃপক্ষ দাবি করছে দেশে সারের সংকট নেই।সরকারের নির্ধারিত হার অনুযায়ী, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও মিউরেট অব পটাশের (এমওপি) ৫০ কেজি ওজনের বস্তার দাম যথাক্রমে ১ হাজার ১০০, ৮০০ ও ৭৫০ টাকা।

তবে বাজারে টিএসপি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, ডিএপি ৯৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা জানান, এক শ্রেণীর অসাধু পাইকার ও খুচরা বিক্রেতা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সবজি চাষের জমি প্রস্তুত করার কাজে ব্যবহৃত এই সারগুলোর দাম বাড়িয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, টিএসপির ১ লাখ ১৪ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে মজুত রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার টন। ডিএপি ও এমওপির চাহিদা যথাক্রমে ২ লাখ ৮৮ টন ও ১ লাখ ২৯ হাজার টন। আর মজুত যথাক্রমে ৫ লাখ ৯৬ হাজার টন ও ৩ লাখ ১২ হাজার টন।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক গত ৩০ নভেম্বর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সারের দামের দিকে নজর রাখতে, যাতে কেউ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারেন। তারপরেও উচ্চ মূল্যে সার বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, দেশে প্রয়োজন অনুযায়ী সারের মজুত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ৩ গুণেরও বেশি বাড়লেও সরকার দাম বাড়াবে না।

কৃষকের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ সারের সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদেরকে নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করারও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

কিন্তু এসব উদ্যোগ কাজে আসেনি।

সম্প্রতি ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ইতোমধ্যে দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সারের বর্ধিত মূল্যের বোঝা।

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার কৃষক আমিনুর রশিদ বলেন, ‘পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কৃষক মোহাম্মদ নাজিম জানান, ভুট্টা, কলা, তুলা ও চালের আবাদ করার জন্য এক মৌসুমে তার কমপক্ষে ৪০ বস্তা নন-ইউরিয়া সার প্রয়োজন হয়।

সম্প্রতি তিনি এক পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে ১০ বস্তা টিএসপি সার কিনেছেন। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ১০০ টাকার পরিবর্তে বস্তা প্রতি ১ হাজার ৭০০ টাকা দিতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেন, ‘আমি পাইকারি বিক্রেতাকে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন, সরবরাহ সংকট আছে।’

দিনাজপুর সদরের গোপালগঞ্জ হাট এলাকার কৃষক আজিজুর রহমান জানান, তিনি ২ সপ্তাহ আগে এমওপি কেনার জন্য বাজারে গিয়ে সার পাননি।

জেলার এক পাইকারি বিক্রেতা জানান, সরকারি বরাদ্দ স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এ জন্য তাদেরকে বাইরের উৎস থেকে বাড়তি দামে সার সংগ্রহ করতে হয়।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে অপর এক পাইকারি বিক্রেতা জানান, তারা সরবরাহ সংকটে রয়েছেন এবং এ কারণেই দাম বেড়েছে। তারা আমদানিকারকদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে সার কিনেছেন। এ কারণে তারা সরকারের নির্ধারিত মূল্য ঠিক রাখতে পারছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, দেশে এ মুহূর্তে কোনো ধরণের সারের সংকট নেই।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে, কিছু পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা কারসাজি করতে পারে। তবে আমরা এ ধরণের অবৈধ কাজ বন্ধ করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালাচ্ছি। যদি কোনো পাইকারি বিক্রেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তার ডিলারশিপ বাতিল করে দেব।’

দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ইউরিয়া সার। এটিই এখন একমাত্র সার যা সরকার নির্ধারিত ৮০০ টাকা দামে (৫০ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি) বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৯, ২০২১ ৩:৩০ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে ৪০ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
কৃষি বিভাগ

আলু উৎপাদনে দেশের বৃহত্তম জেলা হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাটে চলতি মৌসুমে ৪০ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আলু চাষ সফল করতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলায় ৪০ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতো মধ্যে ৯৮ ভাগ জমিতে আলু লাগানো সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। উপজেলা ভিত্তিক আলু লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে- জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৭ হাজার ১০০ হেক্টর, পাঁচবিবি উপজেলায় ৭ হাজার হেক্টর, ক্ষেতলাল উপজেলায় ৯ হাজার হেক্টর, কালাই উপজেলায় ১১ হাজার ১০০ হেক্টর ও আক্কেলপুর উপজেলায় ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি। এতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩১ টন। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো সম্ভব হয়ে থাকে।

কৃষি বিভাগ জানায়, আলু চাষ সফল করতে জেলায় সারের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। নভেম্বর মাসের মজুদ সারের পরিমান ছিল ইঊরিয়া ২ হাজার ১৬০ টন, টিএসপি ১ হাজার ৯১ টন, এমওপি ১ হাজার ৫৯৩ টন ও ডিএপি ৩ হাজার ১১৯ টন।

সরকারের বিভিন্ন ধরনের আগাম প্রস্তুতি গ্রহনের ফলে রাসায়নিক সারের কোন প্রকার সংকট সৃষ্টি হয়নি এবং বাজারে পর্যাপ্ত বিএডিসি আলুবীজ সরবরাহ কোন সমস্যা হয়নি। ভালো মানের কারণে বিএডিসির আলুবীজের চাহিদা কিছুটা বেশি থাকে।

জেলায় আলু চাষ সফল করতে কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষন সহ উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক মনিটরিং ও কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: শফিকুল ইসলাম।

জয়পুরহাটের আলু উন্নত মানের হওয়ায় গতবছর দেশের গন্ডি পেরিয়ে ৯ টি দেশে রপ্তানী করা সম্ভব হয়। দেশ গুলো হচ্ছে মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, নেপাল ও রাশিয়া। প্রাচীন বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাট জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে আলুর চাষ হয়ে থাকে। গত বছর ৩৮ হাজার ৫শ ৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। এতে আলু উৎপাদন হয় ৮ লাখ ১৫ হাজার টন। ফলন ভাল হওয়ায় জেলায় গ্যানোলা, মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিকস, কার্ডিনাল, ও রোজেটা জাতের আলু বেশি চাষ করে থাকেন কৃষকরা। জেলার ১৫ টি কোল্ড ষ্টোরেজে প্রায় দেড় লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় বলে জানায়, কৃষি বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৯, ২০২১ ১:৩৭ অপরাহ্ন
কৃষি ও পর্যটনে সম্ভাবনার হাতছানি সবুজ পাহাড়ে ঘেরা চাম্বি লেক
কৃষি বিভাগ

চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। যেন সবুজের মেলা বসেছে। পূর্বপাশে সমতল ভূমি, বাকি তিন পাশ সবুজ পাহাড়ে ঘেরা। লাল মাটির উঁচুনিচু টিলা ও আঁকাবাঁকা রাস্তা পার হয়ে দেখা মিলে চাম্বি লেক’র।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির চাম্বি লেক সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন কেন্দ্র। চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা গ্রামের জয়নগরে চাম্বি খালে বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয়েছে চাম্বি রাবার ড্যাম। আর এই রাবার ড্যামকে ঘিরে গড়ে উঠছে পর্যটন। চুনতি চাম্বি রাবার ড্যাম বদলে দিচ্ছে এই এলাকার কৃষি ও পর্যটন।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশার জয়নগর এলাকার চাম্বি খালে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ ও রাবার ড্যামকে ঘিরে একটি পর্যটন এলাকা সৃষ্টির উদ্যোগ নেন। প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনার প্রয়াত সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো: জয়নুল আবেদীন বীরবিক্রম, পিএসসি‘র প্রচেষ্টায় এলজিইডির অংশগ্রহণম‚লক ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ সেক্টর প্রকল্পের অধীনে রাবার ড্যামের বাস্তবায়ন শুরু হয়। ওই সময় দেশের ১০টি রাবার ড্যাম প্রকল্পের মধ্যে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৫ সালে ড্যামের বাস্তবায়ন শুরু হয়। ওই এলাকার কৃষকদের নিয়ে গঠিত হয় চাম্বি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। এলজিইডির অংশগ্রহণমূলক ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ সেক্টর প্রকল্পের অধীনে উত্তর-দক্ষিণে ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের রাবার ড্যামের বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয় এটি। ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারি এটির উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনের পর ড্যামের জমানো পানি দিয়ে পানত্রিশা, ফারাঙ্গা ও নারিশ্চার বহু জমি চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হয়। মূলত এটি একটি সেচ প্রকল্প।

এলজিইডির উক্ত প্রকল্পের নির্দেশনা মোতাবেক চাম্বি খাল ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি রাবার ড্যামের কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন স্পট দেখাশুনা করে এবং এলজিইডি মনিটরিং করেন। এই রাবার ড্যাম প্রকল্পের পর্যটন স্পটে ৯ জন কর্মচারী রয়েছে। রাবার ড্যামের জমানো পানি দিয়ে প্রতিবছর চুনতির পানত্রিশা, ফারাঙ্গা ও নারিশ্চার প্রায় ৫০০ একর জমি চাষাবাদ হয়। আর ৫ শতাধিক একর লেকের জায়গার জমানো পানিতে (যা উজানে প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত) মৎস্য চাষ হয়। একদিকে রাবার ড্যামের জমানো পানি উজানে সৃষ্টি করেছে আকর্ষণীয় চাম্বি লেক। স্থলভাগে গড়ে উঠেছে পর্যটন এলাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এক হাজার বিদেশী পর্যটকসহ বহু দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। উদ্বোধনের পর থেকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাবার ড্যামের বাঁধের উপর মনোরম একটি ফুট ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। রাবার ড্যামের জমানো পানি উজানে সৃষ্টি করেছে আকর্ষণীয় চাম্বি লেক। লেকের জমানো পানি উজানে প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। লেককে আনা হয়েছে মৎস্য প্রকল্পের আওতায়।পূর্বপাশে সমতল, বাকি তিন পাশে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা স্বচ্ছ পানির চাম্বি লেক। চাম্বি লেক থেকে একটু দূরে রয়েছে হাতির প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র। এখানে রয়েছে ৩টি কৃত্রিম পানির ফোয়ারা, ৫টি বিভিন্ন পাখির ভাস্কর্য, ৫টি প্রাণির ভাস্কর্য, ১টি জীবন্ত লজ্জাবতী বানর, খাঁচায় বন্দী আছে সাধারন ৩টি বানর, একটি স্পিড বোট, প্যাডেল বোট ২টি, লাইফ বোট ১টি, নৌকা ৩টি, সম্প্রতি ৯লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে ফ্যামিলি ট্রেন, পর্যটকদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘শুধু আমরাই’ রেস্টুরেন্ট। লেকের মাঝখানে আছে মায়া দ্বীপ। যেখানে যাওয়ার জন্য রয়েছে ড্রামভেলা। পাহাড়ের টিলায় তিনটা গোলঘর; যেখান থেকে পুরো পাহাড়ের নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য এক পলকে উপভোগ করা যায়। এছাড়াও পর্যটকদের অবকাশ যাপনের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে রিসোর্ট। লেকে রয়েছে মনোরম পিকনিক স্পট। এই শীতে চাম্বিলেক পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে ভ্রমণ পিপাসুদের। এ লেকে যারা একবার এসেছেন প্রকৃতি তাদের বারবার আসতে বাধ্য করবে।

চাম্বি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মাহাবুবর রহমান চৌধুরী জানান, চাম্বি রাবার ড্যামের কারণে কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। রাবার ড্যামের জমানো পানি দিয়ে প্রতি বছর ৫০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আহসান হাবিব জিতু জানান, চুনতি পানত্রিশা রাবার ড্যাম প্রকল্প সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র ও এটি কৃষি, মৎস্য সেক্টরে অবদান রাখছে। স্থানীয় সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন এটির আরো সৌন্দর্য্য বর্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৯, ২০২১ ১২:০৭ অপরাহ্ন
নওগাঁয় সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত চাষিরা
কৃষি বিভাগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ফসলের মাঠ সরিষা ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। এখন সরিষার ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত খামারিরা। ক্ষেতের পাশে ও ফাঁকা স্থানে মৌবাক্স স্থাপন করে চাষিরা একদিকে যেমন মধু সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে ফুলের কৃত্রিম পরাগায়নে ফসলের উপকার হচ্ছে।

আগামীতে নওগাঁ মধু উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। এছাড়া এ জেলায় ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিকভিত্তিতে মধু সংগ্রহ সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ৩২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে ৩৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমি থেকে চলতি বছর ২৭ হাজার ৩০০ কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলার মান্দা উপজেলার নুরুল্লাহবাদ ইউনিয়নের কৈইকুড়ি গ্রাম, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রাম ও শংকরপুর গ্রাম, ভারশোঁ ইউনিয়নের ভারশোঁ গ্রামে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা।

মৌমাছি ফুল থেকে রেণু সংগ্রহ করে পরাগায়ন হওয়ায় ফলন বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয়ভাবে কেউ মধু সংগ্রহ না করলেও রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার দর্শনপাড়া থেকে এসে দুই উদ্যোক্তা মধু সংগ্রহ করছেন কৈইকুড়ি ও শ্রীরামপুর গ্রামে।

মধু সংগ্রহের সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সরিষা ক্ষেতের পাশে অভিনব উপায়ে ইউরোপিয়ান মেলিফেরা জাতের মৌমাছি দিয়ে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মৌবাক্স দিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত দেখা যায় তাদের। ৩০০ টাকা কেজি হিসেবে এ মৌসুমে জেলা থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকার মধু সংগ্রহ হবে।

উপজেলার দোডাঙ্গী সরিষা চাষি আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি এবছর আড়াই বিঘা সরিষা আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার আবাদও ভালো হয়েছে। খামারিরা এসে আমার ক্ষেতের পাশেই মৌবাক্সগুলো স্থাপন করেছেন। মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। ফুলে পরাগায়নের ফলে ফলনও ভালো হবে বলে জানিয়েছে কৃষি অফিস।

উদ্যোক্তা রুমিনুল ইসলাম রুস্তম বলেন, ক্ষেতের পাশে ১৩০টি মৌবাক্স স্থাপন করেছেন। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মৌবাক্সগুলো স্থাপন করেছি। প্রতিটি বাক্সে ৮টি করে ফ্রেম আছে। এপর্যন্ত তিনবারে ২৬ মণ মধু সংগ্রহ করেছি। সরিষা মৌসুমে চার মাসে প্রায় ৬০-৭০ মণ মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।

প্রতিকেজি মধু পাইকারি দাম ৩০০ টাকা কেজি। ১২ হাজার টাকা মণ হিসেবে ৭০ মণের দাম ৮ লাখ ৪০ টাকা। সরিষা মৌসুমে বাড়ি আসা যাওয়া, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ হবে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তবে সরিষা মৌসুমে বেশি পরিমাণ মধু সংগ্রহ করা হয়।

বছরে ৭ মাস মধু সংগ্রহ করা হয়। মূলত সরিষা, কালোজিরা ও লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেন। আর বাকি সময় মৌমাছিকে রয়েল জেলি খাইয়ে পুষতে হয়। রাজশাহী থেকে পাইকারি ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন প্রসাধনী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এসে পাইকারি মূল্যে কিনে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, একসময় প্রাকৃতিকভাবে মধু সংগ্রহ করা হত। কিন্তু প্রকৃতিতে বন জঙ্গলের পরিমাণ কমে গেছে। মৌমাছি আর আগের মতো জঙ্গলগুলোতে মৌচাক বাঁধতে দেখা যায় না। কিন্তু বর্তমানে কিছু খামারি কৃত্রিম পদ্ধতিতে ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন।

মধু সংগ্রহ করায় একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। অপরদিকে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে এবং ফসলও ভালো হচ্ছে। শিক্ষিত বেকাররা যদি প্রশিক্ষণ নিয়ে মধু চাষ শুরু করে তাহলে তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল ওয়াদুদ বলেন, গত বছর সরিষার জমিতে ২০ হাজার ২৩২টি মৌবাক্স স্থাপন করা হয়েছিল। যেখান থেকে প্রায় ২৬ হাজার ২৪৫ কেজি মধু উৎপাদন হয়েছিল। এবছর মৌবাক্সের সংখ্যা আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত কিছু মৌচাষি আছে যারা প্রতিবছর কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরিষা মৌসুমে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করেন। ক্ষেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপন করায় ফুলে কৃত্রিম পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলনও ভালো হয়। মধু উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৯, ২০২১ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
বরিশালের বাকেরগঞ্জে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের সাথে কৃষকের মতবিনিময়
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল) : বরিশালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের সাথে কৃষকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ জেলার বাকেরগঞ্জের উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি অফিসের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রুহুল আমিন তালুকদার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও এফএও’র সিনিয়র অ্যাডভাইজার মো. মাহমুদ হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস এম ইমরুল হাসান।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুনীতি কুমার সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মুছা ইবনে সাঈদ, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার নাহিদ আফরিন, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, বাখরকাঠি আইপিএম কৃষক ক্লাবের সভাপতি প্রদীপ কুমার ঘোষ, কৃষক কাঞ্চন হাওলাদার প্রমুখ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, কৃষকরাই খাদ্য-পুষ্টির ধারক ও বাহক। তাইতো দেশ আজ দানাশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখনকার কৃষি হবে বাণিজ্যিকীকরণ। তবেই আমরা উন্নত দেশের অংশীদার হতে পারব।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মিসিং মিডল ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের আওতাধীন কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ৮ টি সেচযন্ত্র এবং ৮টি ভ্যান বিতরণ করেন। এছাড়া বাখরকাঠি আইপিএম কৃষক ক্লাবে স্থাপিত কল সেন্টারের মালামাল দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৮, ২০২১ ৫:০৩ অপরাহ্ন
কৃষক আবদুল কাদিরের অন্য রকম ‘শিল্পকর্ম’
কৃষি বিভাগ

৩৫ শতক জমিতে লাল ও পালংশাকের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি। আরও আছে শহীদ মিনার ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার নকশা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কৃষক আবদুল কাদির তাঁর জমিতে এ শিল্পকর্ম গড়ে তুলেছেন।

আবদুল কাদির (৫০) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াখালবলা গ্রামের বাসিন্দা। খালবলা বাজারের শিববাড়ির সামনে দিয়ে নদীর পাড়ের কাঁচা রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর হাতের বাঁ পাশের একখণ্ড জমিতে চোখে পড়বে আবদুল কাদিরের এ শিল্পকর্ম

কাদির বলেন, তিনি রাজনীতি করেন না। ছা পোষা কৃষক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তাঁর রয়েছে অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুখচ্ছবি ফসলের জমিনে চারা রোপণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। সবার প্রথমে তিনি গড়েছেন নৌকার আদল। এর ওপরে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মুখের আদল ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি এক মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব ফুটিয়ে তুলেছেন। আরও আছে শহীদ মিনারের নকশা।এর আগে ২০২০ সালে তিনি ‘মুজিব ১০০ বর্ষ’ নামে আরেকটি শিল্পকর্ম করেন।

কাদির বলেন, তাঁর জন্ম বাংলাদেশে স্বাধীন হওয়ার পর। তিনি তাঁর বাবা তারা মিয়ার মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা শুনেছেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা জেনেছেন। এসব শুনে শুনে তাঁর মনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জন্ম নেয়। এ কাজে তাঁর কয়েকজন কাছের বন্ধু ও ‘বন্ধুমহল পাড়া খালবালা ডিজিটাল ক্লাবের’ সদস্যরা তাঁকে নানাভাবে পরামর্শ দেন।

কাদির আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কিছু করা যায় কি না, তা নিয়ে তিনি তাঁর সহপাঠী মো. হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। হাফিজুর একজন চিত্রশিল্পী। তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনায় কাদির তাঁর ৩৫ শতক জমি আবাদের উপযোগী করেন। সেই জমিতে মুখচ্ছবির লাইন এঁকে দেন হাফিজুর। তিনি সেই লাইনে লালশাক, পালংশাক, শর্ষে ও গম বীজ বপন করেন।

পাড়াখালবলা গ্রামের পাঁচ-ছয়জন বাসিন্দা বলেন, আবদুল কাদিরের কাজটি দেখার জন্য প্রতিদিন দূর–দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন। ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৮, ২০২১ ৩:৫৯ অপরাহ্ন
সারের অতিমূল্যে বিপাকে কৃষক
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ, নওগাঁ, রংপুর ও কুড়িগ্রামের কৃষক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের বাজারে এমন অস্থিরতার চিত্র পাওয়া গেছে।

সরকার টিএসপি সারের দাম প্রতিবস্তা এক হাজার ১০০ টাকা বেঁধে দিলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায়।

প্রতিবস্তা এমওপি বা পটাশ সার ৭৫০ টাকার জায়গায় ৯৫০ টাকায় এবং ডিএপি ৮০০ টাকার জায়গায় ৯৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক।

দেশে বছরজুড়ে যত রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়, তার অর্ধেকই ইউরিয়া সার। টিএসপি, ডিএপি ও এমওপির মত নন-ইউরিয়া সারগুলো শুকনো মওসুমে ফসলের মাঠ প্রস্তুতের সময় ব্যবহৃত হয়। আর ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয় ফসলের বাড়ন্ত সময়ে।

কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে আলু, ডাল, পেঁয়াজসহ অন্যান্য রবিশস্যের মাঠ প্রস্তুতির জন্য ইউরিয়া ছাড়া অন্য সারগুলোর চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগে এসব সারের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যদিও ইউরিয়া সার সরকার নির্ধারিত দরে প্রতিবস্তা ৮০০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ যে সত্যি কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের কথাতেও তা স্পষ্ট। গত মঙ্গলবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় সভা শেষে তিনি বলেছিলেন, দেশে সারের কোনো সঙ্কট না থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গুজব ছড়িয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘অসাধু এ সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ার করেছেন।

রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিনমণ এলাকার কৃষক মহিকুল ইসলাম বলেন, সরকার এক হাজার ১০০ টাকায় দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দামে সার তিনি পাননি; কিনতে হয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকায়।

“অনেক দোকানে পর্যাপ্ত সারও পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে ১৫ বস্তা চাইলে ১০ বস্তা পাচ্ছি।“

জসিম উদ্দিন নামে এক ডিলার দাবি করেন, বর্তমানে আলুর জমি তৈরিতে যে পরিমাণ নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা তৈরি হয়েছে, বাজারে সেই পরিমাণ সার ‘নেই’। তাই দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। পটাশ ৮০০ টাকা সরকারি মূল্য, সেটা এখন এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop