১১:২৮ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ১৫ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৩, ২০২১ ৩:০২ অপরাহ্ন
নওগাঁয় ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
কৃষি বিভাগ

নওগাঁ জেলায় চলতি রবি মৌসুমে মোট ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহ প্রদানসহ সর্বিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখিত পরিমান জমি থেকে চলতি বছর ৫৪ হাজার ২৬৯ মেট্রিকটন পেঁয়াজ উৎপাদিত হবে বলে কৃষি বিভাগ প্রত্যাশা করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামসুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, প্রান্তিক পেঁয়াজ চাষিদের সরকারী প্রণোদনা প্রদানের আওতায় নেয়া হয়েছে। এসব প্রান্তিক পেঁয়াজ চাষিদের বিনামূল্যে সার ও বীজ প্রদান করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের সুত্রমতে জেলায় উপজেলাভিত্তিক পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৪৫৫ হেক্টর। রানীনগর উপজেলায় ১২৫ হেক্টর। আত্রাই উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর। বদলগাছি উপজেলায় ৫৪০ হেক্টর। মহাদেবপুর উপজেলায় ৫১০ হেক্টর। পত্নীতলা উপজেলায় ১৮০ হেক্টর।

ধামইরহাট উপজেলায় ৫৬৫ হেক্টর। সাপাহার উপজেলায় ৫২৫ হেক্টর। পোরশা উপজেলায় ১৪০ হেক্টর। মান্দা উপজেলায় ১১ হাজার ২৫ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ৩২০ হেক্টর জমিতে।

এসব পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে ১ হাজার প্রান্তিক চাষির প্রত্যেককে ১ বিঘা জমির বিপরীতে বিনা মূল্যে ১ কেজি করে বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৩, ২০২১ ১২:০৪ অপরাহ্ন
সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ
কৃষি বিভাগ

জামালপুরের মেলান্দহে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে ফসলের মাঠ, দৃষ্টিজুড়ে হলুদের অপার সৌন্দর্যের সমারোহ। ভোরে সরিষা ক্ষেতের ওপর ভেসে থাকা কুয়াশা সকালবেলার প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সরিষার ভালো ফলন নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

সোমবার সকালে (১৩ ডিসেম্বর) মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সরিষার সবুজ গাছের ফুল গুলো শীতের সোনাঝরা রোদে যেন ঝিকিমিকি করছে। এ যেন এক অপরূপ সৌন্দযের দৃশ্য। দেখে যেন মনে হচ্ছে প্রকৃতি কন্যা সেজেছে গায়ে হলুদ বরণ মেখে। মৌমাছির গুন গুন শব্দে ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহ আর প্রজাপতির এক ফুল থেকে আরেক ফুলে পদার্পণ এ অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই যেন মনোমুগ্ধকর এক মুহূর্ত।ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সরিষা মাঠ জুড়ে ভিড় করছেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের বিনোদন প্রেমিরা। সরিষা খেত ঘুরে ঘুরে দেখছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১৬০ হেক্টর জমি। উপজেলায় সরিষা চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমি।‌ সরিষাবাড়ী চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বেশি চাষ হয়েছে।

মেলান্দহ উপজেলার বীর ঘোষেরপাড়া এলাকার বলেন কৃষক আলম মিয়া , গতবছর থেকে এবার সরিষা বুনছি কম। সরিষা আবাদে খরচ অনেক কম কিন্তু দাম যদি একটু হয় তাহলে আমাদের একটু ভাল হবে।

বাগবাড়ি এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার সরিষা খেত খুবই ভালো হয়েছে। দুইদিন বৃষ্টি হলো, যদি বেশি বৃষ্টি হয় তাহলে ক্ষেতের ক্ষতি হবে। কারণ বৃষ্টি হলে ফুল নষ্ট হয়ে যায়। যদি বৃষ্টি বাদল না হয়, তাহলে একটু লাভের মুখ দেখতে পারবো।

সরিষা খেতে ঘুরতে আসা নাহিদ হাসান নামে একজন বলেন, সরিষা খেতে ঘুরতে এসেছি খুবই ভালো লাগছে, চোখ যতদূর যায় ততদূর শুধু হলুদ আর হলুদ। গতবছরের ঘুরতে এসেছিলাম। গত বারের থেকে এবার একটু বেশি ভালো লাগছে।

এ ব্যাপারে মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর সবচেয়ে সরিষার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে কোন প্রকার ক্ষতি না হলে মেলান্দহ উপজেলায় সরিষা আবাদের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। শুধু তাই নয় সরিষা চাষের জমিগুলো উর্বরতা বেশি থাকায় কৃষকরা এবার বোরো চাষেও এর ভালো সুফল পাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৩, ২০২১ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
কৃষি বিভাগ

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে গোপালগঞ্জে ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বৃৃৃষ্টির পানিতে ডুুবে গেছে ইরি-বোরো ধানের বীজতলা। কৃষি বিভাগে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

গোপালগঞ্জে চলতি রবি মৌসুমে ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। সে অনুযায়ী বীজতলাও প্রস্তুত করেছিলেন কৃষক। সম্প্রতি টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমিও।

চলতি মৌসুমে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন চাষিরা। এর মধ্যে আট হাজার হেক্টর জমির ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে বীজতলার। ৩শ’ ২২ হেক্টর জমির বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দু কুমার রায় জানালেন, তিনদিনের এই বৃষ্টিতে জেলার প্রায় ৫৩ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর ক্ষতির পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা হতে পারে।

তিনি বলেন, ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইরি বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া নিয়েও শঙ্কা রয়েছে ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১২, ২০২১ ৫:১৫ অপরাহ্ন
সুগন্ধি ধানের সুবাসে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

সুগন্ধি ধানের সুবাসে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। সুগন্ধি তুলসীমালা ও চিনিগুঁড়া ধানচাষ করে খরচ কম এবং ভালো দাম পাওয়ায় মহাখুশি তারা। সুগন্ধি ধান এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য হিসেবে জেলা ভিত্তিক ব্র্যান্ডিং পণ্য তুলসীমালাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে দেড়হাজার হেক্টর জমিতে তুলসীমালা ও একহাজার হেক্টর জমিতে চিনিগুঁড়া ধানের আবাদ হয়েছে। উপজেলার নালিতাবাড়ী, কলসপাড়, যোগানীয়া, বাঘবেড়, কাকরকান্দি, রামচন্দ্রকুড়া, রুপনারায়নকুড়া ও মরিচপুরান ইউনিয়নে এ ধানের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। এক একর জমিতে সুগন্ধি ধান চাষ করতে খরচ হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। আর ধান পাওয়া যায় ৩০-৩৫ মন করে। সে হিসাবে কৃষকের লাভ থাকে ২৫-৩০ হাজার টাকা।

এ মৌসুমে খেতে পোকামাকরের আক্রমন ও আবহাওয়া ভালো থাকায় অল্প খরচেই কৃষকরা ফলন ঘরে তুলতে পেরেছেন। উপজেলায় একসপ্তাহ ধরে বাজারে এ ধান উঠতে শুরু করেছে। বর্তমান বাজারে তুলসীমালা ও চিনিগুঁড়া ধান দেড় হাজার টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে। সামনে এ ধানের দাম আরো বাড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। সুগন্ধি ধান নিজেদের সুগন্ধে মাতিয়ে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তুলসীমালা চাল দেশ জুড়ে বিখ্যাত। অভিজাত শ্রেণির অনুষ্ঠানে, অতিথি আপ্যায়নে পোলাও, বিরিয়ানী, পায়েস, খিচুড়ি, পিঠা ও অন্যান্য খাবার তৈরিতে রসনার তৃপ্তি মেটাচ্ছে তুলসীমালা ও চিনিগুঁড়া চাল। এ চাল চিকন ও সুস্বাদু।

বিন্নিবাড়ী গ্রামের মো. রেজাউল করিম (৬০) বলেন, আমি এ বছর ১৮ কাঠা জমিতে তুলসীমালা ধান আবাদ করেছিলাম। ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে আরো বেশি করে আবাদ করবো। বাজারে এ ধানের দামও ভালো, ১৬৫০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছি।

পৌর শহরের ধান ব্যবসায়ী লিটন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে আমরা ভিজা ধান তুলসীমালা ১৬৫০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে কিনছি। আর চিনিগুঁড়া কিনছি ১৫৫০ টাকা দরে। সামনে শুকনা ধানের বাজার আরো বাড়বে। সুগন্ধি এ ধানের চাহিদা সারা দেশের সব যায়গাতেই থাকায় বিক্রি করতে সমস্যা হয় না।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আলমগীর কবীর বলেন, ফলন ভালো ও ধানের বাজার দর ভালো হওয়ায় তুলসীমালা ধানে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি বিভাগ তৎপর থাকায় রোগবালাই নেই বললেই চলে। সুগন্ধি ধানের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ সব সময়ই কৃষকদের পাশে আছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১২, ২০২১ ৫:০২ অপরাহ্ন
রসুনের কোয়া রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন চলনবিলের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

চলনবিলে সাদা সোনা খ্যাত রসুনের দাম নেই এবার। সর্বশেষ ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তার পরও রসুন চাষেই ঝুঁকেছে কৃষক। আগামী বছর লাভের আশায় নরম কাদামাটিতে রসুনের কোয়া রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন কৃষকরা। অধিকাংশ এলাকায়ই রসুন লাগানো শেষ হয়েছে। তবে শেষ সময়ে কিছু জায়গায় এখনো রসুন লাগানো চলছেই।

গত বছরের তুলনায় সার, কীটনাশক, সেচের দাম বাড়লেও কমেছে বীজের দাম ও জমির লিজ মূল্য। যার ফলে এ বছর রসুন চাষে বিঘায় অন্তত ৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

নাটোর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, তাড়াশ ও চাটমোহর উপজেলায় ২৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সার্বিকভাবে রসুন চাষ করলেও গুরুদাসপুর উপজেলায় গতবারের মতো এবারও ৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রসুনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে রসুনের জমিতে সাথি ফসল তরমুজ, বাঙ্গি, খিরা ও মিষ্টি কুমড়ার দাম ভালো থাকায় মাত্র ৭ হাজার হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হতে পারে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশিদ।

শিধুলী গ্রামের শুকুর আলী, খাদেম আলীসহ অনেক চাষি বলেছেন, বিশ বছর ধরে চলনবিল অঞ্চলে তারা বিনা চাষে রসুন আবাদ করছেন। কিন্তু এ বছর ৮০০ টাকা মণ দরে রসুন বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে মণপ্রতি প্রায় দুই হাজার ৫০০ টাকা। উৎপাদিত রসুনের দাম ভালো পেলে আগামীতে আরো বেশি রসুনের চাষ করবেন বলে তারা জানান। আর ন্যায্য দাম না পেলে পথে বসতে হবে তাদের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১২, ২০২১ ৪:৪৯ অপরাহ্ন
টেকসই খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবে কানাডার ইনস্টিটিউট : কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) চত্বরে কানাডার সাস্কাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি (জিআইএফএস) এর আঞ্চলিক অফিস চালু হয়েছে। এ অফিস স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং কানাডার কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সেন্টারটি দেশের কৃষি গবেষকদের জলবায়ু পরিবর্তনসহ কৃষিতে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনেও সহায়তা করবে।

আজ রবিবার সকালে ঢাকায় বিএআরসিতে এ অফিসের উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। এসময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, বহুমুখী ও মানসম্পন্ন কৃষি-খাদ্য উৎপাদনে সাস্কাচুয়ান অঞ্চলের বিশ্বজুড়ে সুনাম রয়েছে। ঢাকায় এ অফিস চালুর ফলে তাদের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যাবে। বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে কৃষিখাতে সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।

কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে কৃষি উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ও তা আরও বৃদ্ধি করতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে জিআইএফএস আঞ্চলিক অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কানাডার সাস্কাচুয়ান সরকারের কৃষিমন্ত্রী ডেভিড মেরিট অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, এ অফিস স্থাপনের মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তাকে টেকসই করতে হলে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দুদেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকায় অফিস স্থাপন উপলক্ষে জিআইএফএস-কানাডা এবং বিএআরসির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। এতে স্বাক্ষর করেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার ও জিআইএফএসের চিফ অপারেটিং অফিসার স্টিফেন ভিশার। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনোয়েট প্রিফনটেইন, কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. খলিলুর রহমান, জিআইএফএসে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু রিসার্চ চেয়ার ড. অ্যান্ড্রু শার্প, সাস্কাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (গবেষণা) ড. বালজিট সিং, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: রুহুল আমিন তালুকদার বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এবং গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি এর মধ্যে কৃষিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাসহ বঙ্গবন্ধু রিসার্চ চেয়ার, ঢাকায় জিআইএফএস এর আঞ্চলিক অফিস স্থাপন এবং ‘বঙ্গবন্ধু-পিয়ারে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র’ স্থাপনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে জিআইএফএস-কানাডাতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন বিষয়ে চেয়ার নিয়োগসহ সকল বিষয় সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় জিআইএফএস এর আঞ্চলিক অফিস আজ চালু হয়েছে। এছাড়া, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ) এবং জিআইএফএস-কানাডার এর যৌথ অর্থায়নে জীবপ্রযুক্তি বিষয়ে একটি প্রকল্প কেজিএফ বোর্ড কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। জিওবি এর অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘বঙ্গবন্ধু-পিয়ারে ট্রুডো কৃষিপ্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন’ বিষয়ে অপর একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে জিআইএফএস-কানাডা কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ৩:৩০ অপরাহ্ন
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ জানালেন ব্যবসায়ীরা
কৃষি বিভাগ

ভারতের বেশ কয়েকটি প্রদেশে বৃষ্টিপাতের কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা অনেকটা বেশি দামেই ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি করছেন। এতে বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দামের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের ফরিদপুর এলাকায় সম্প্রীতি বৃষ্টির কারণে দেশি পেঁয়াজচাষিরা মাঠ থেকে দেরিতে ফসল তুলছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি এই দুই কারণেই বাজারে পেঁয়াজের মৌসুমেও দাম বাড়েই চলেছে।

কয়েকদিন আগে কাঁচাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ২০ টাকা কেজি। মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকার ভেদে এখন ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।

পেঁয়াজ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মনোয়ার হোসেন বলেন, ভারতের ইন্দর, গুজরাট, মহারাষ্ট্র থেকে প্রতিনিয়তই পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই এলাকাগুলোতে অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকরা মাঠ থেকে নতুন পেঁয়াজ তুলছেন না। এ কারণে বাড়তি দামে সেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতের যে প্রদেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয় সেখানে আগামী জানুয়ারি মাসের দিকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। ওই এলাকায় পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ার কারণে বন্দরে কিছুটা আমদানি কমে গেছে, ফলে বাজারে খুচরা দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

শুক্রবার দুপুরে হিলি বাজারের লুৎফর রহমান বলেন, দু’সপ্তাহ আগেও ২০-২২ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। বর্তমানে পেঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী রায়হান কবির জানান, হিলি বন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ২৮ ট্রাক পেঁয়াজ প্রয়োজন কিন্তু তার বিপরীতে আমদানি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক। এছাড়াও ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। এটা ভারতের পুরানো পেঁয়াজের শেষ সময়।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে গত সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে ১৬ ট্রাকে ৪৩৯ টন পেয়াঁজ আমদানি হয়েছে। তবে গত দু’সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে আমদানি কিছুটা কমেছে।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, দেশে কয়েকদিন আগে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় যাওয়াদের কারণে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর কারণে পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা দাম বেড়েছে। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির কারণে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দামে প্রভাব পড়েছে। তবে আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ১:২৯ অপরাহ্ন
​রায়গঞ্জে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে প্রারম্ভিক কর্মশালা
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্রণালয়ধীন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ) এর সার্বিক তত্বাবধানে “স্কেলিং আপ প্রিমিয়াম কোয়ালিটি রাইস নর্দান রিজিয়ন অব বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রকল্পের প্রারম্ভিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে ব্রক্ষ্মগাছা বাজারে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহ- সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুইটের স্থানীয় কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

এসেডের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন সুইটের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ ইউসুফ রানা মন্ডল।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ফলিত বিভাগের সিএসও এবং প্রধান ড. মোঃ হুমায়ন কবীর, ডিএই এর উপ- পরিচালক মোঃ আবু হানিফ, বগুড়া জোনের ডিএই’র উপ- পরিচালক মোঃ দুলাল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাচ্চু প্রমুখ।

বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট এবং এসেডস’র আয়োজনে এই কর্মশালায় সাংবাদিক,শিক্ষক,প্রান্তিক কৃষক সমাজের একাংশ, সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ১২:২৩ অপরাহ্ন
মৌ-খামারে ভাগ্যবদল
কৃষি বিভাগ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় মাঠের পর মাঠ ছেয়ে গেছে সরিষার হলুদ ফুলে। এ সুযোগে মৌ-খামারিরা খেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসিয়েছেন মৌ-বক্স। বক্স থেকে দলে দলে মৌ-মাছি গিয়ে বসছে সরিষা ফুলে। এতে একদিকে মৌমাছির মাধ্যমে ফুলে পরাগায়ন ঘটায় সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে খামারিরা মধু সংগ্রহ করে বদলাচ্ছেন নিজেদের ভাগ্যের চাকা।

গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। শষ্য বহুমুখী করণে কৃষকদের সরিষা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রায় অধিক সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরজমিনে গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা, রুহাই ও বামনবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃর্ণ মাঠে সরিষা ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন। খেতের পাশেই মৌ-খামারিরা বাক্স পেতে রেখেছেন। মৌমাছিরা সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সের ভিতর ঢুকছে আর বের হচ্ছে।

বিলশা ও রুহাই গ্রামে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন নাজিরপুর ইউনিয়নের জুমাইনগর গ্রামের সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, তার ১৪০টি মৌ-বাক্স রয়েছে। সেখান থেকে সপ্তাহে ৮ মণ মধু সংগৃহ করা যায়। তিনি ছাড়াও আরও দুজন শ্রমিক এ কাজে নিয়োজিত আছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে মধু থেকে তার সাপ্তাহিক আয় প্রায় ৩২ হাজার টাকা।

একই ইউনিয়নের মোল্লা বাজার গ্রামের মৌচাষি বেলাল হোসেন জানান, তাদের উৎপাদিত মধু এপি, ডাবর, কম্বোসহ দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানি ৬-৭ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি কিনে নেন।ডিসেম্বর মাসজুড়ে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগৃহ করা হয়। তার মতো এ উপজেলার অন্তত ৪০ জন মৌ-চাষি এ পেশায় যুক্ত।

খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, স্বল্প সময়ে সরিষা ফসল ঘরে তুলে একই জমিতে বোরো চাষ করা যায়। এ কারণে সরিষা চাষ করে থাকি। এ বছর তিনি ৬ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। গাছ যেভাবে দেখা যাচ্ছে তাতে বাম্পার ফলন আশা করছেন।

রুহাই গ্রামের আতিকুর রহমান বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। এ বছর চলনবিল থেকে দ্রুত বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় তার মতো এলাকার অনেকেই সরিষার আবাদে আগ্রহী হয়েছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশীদ জানান, এ উপজেলায় ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। ভোজ্যতেল ও সরিষার বাজার ভালো কৃষকের আগ্রহ বেশি। এ কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ ও উৎপাদন হবে। আর সরিষা ফুলকেন্দ্রিক মধু সংগ্রহে কৃষক ও মৌ-খামারি উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ডিসেম্বর ১০, ২০২১ ৩:০১ অপরাহ্ন
আগাম জাতের বরই চাষে লাভবান সখীপুরের সিদ্দিক
কৃষি বিভাগ

‘আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে/কাঁচা ইট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে’ বরই পাকা নিয়ে সুকুমার রায় তাঁর ‘পাকাপাকি’ ছড়ায় এমনটাই বলেছিলেন। তবে টাঙ্গাইলের সখীপুরের সিদ্দিক হোসেনের বাগানের বরই অগ্রহায়ণ মাসেই পাকে। আগাম জাতের বরই তিনি প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করেন। নভেম্বর মাসে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন। তার ৩ হাজার গাছে প্রচুর বরই আসায় এ মৌসুমে তিনি কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন।

সিদ্দিক হোসেন সখীপুর উপজেলার নিজ গ্রাম টিকুরিয়া চালা ছাড়াও আশপাশের আরও ৪ গ্রামে মোট ২৭ একর জমিতে ৭টি টক বরইয়ের বাগান করেছেন। উপজেলার গড়বাড়ীতে পাঁচ একর, বিন্নাখাইরাতে ছয় একর, শিরীরচালায় ছয় একর, শ্রীপুরে তিন একর ও নিজ গ্রামের বাড়ির আশপাশের সাত একর জমিতে মোট ৩ হাজার বরইগাছ লাগিয়েছেন। এ বছর তার তিন হাজার গাছেই বরই ধরেছে।

সিদ্দিক হোসেন বলেন, কয়েকটি বাগানে বরইগাছের ফাঁকে-ফাঁকে উন্নত জাতের কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, সফেদা, জাম্বুরা, ডালিম, বেল ও রামভুটানগাছ লাগিয়েছেন। বরইগাছ থেকে বরই তোলা শেষ হলে গোড়ার দিকে দুই ফুট পরিমাণ গাছ রেখে কেটে ফেলা হয়। ওই সময় বরইগাছের ফাঁকে বোনা ফল গাছ থেকেও ফলন পাওয়া যাবে।

সম্প্রতি সিদ্দিকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক বাগান থেকে সংগ্রহ করা বরই বাছাই করে বস্তায় ভরছিলেন। বিকেলে সেগুলো তাঁর নিজস্ব পিকআপ ভ্যানে করে ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও শ্যামবাজারে পাঠান। তার ৭টি বরইবাগানে ২০ জন নারী শ্রমিক ও ১০ জন পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন।

বরই চাষে জড়িয়ে পড়ার গল্প বলতে গিয়ে সিদ্দিক হোসেন আরও বলেন, বিগত ১৯৯২ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। কলেজে ভর্তি হলেও আর পড়াশোনা হয়নি। ২০০৩ সালের দিকে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা জমা দেন। দালাল চক্র তার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। একপর্যায়ে ব্র্যাক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে ‘বিকল্প নার্সারি’ নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। নার্সারি থেকে তার বেশ আয় হতে থাকে। ২০০৯ সালে তিনি নার্সারির মালিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। এরপর তিনি আগাম জাতের বরই চাষে মনোযোগী হন।

সিদ্দিক হোসেন জানান, ১০ বছর আগে তার বাড়িতে একটি আগাম জাতের বরইগাছ ছিল। ওই গাছ থেকেই তিনি পর্যায়ক্রমে কলম করে ৩ হাজার গাছ বুনেছেন। মৌসুম শুরু হওয়ার ২ মাস আগেই এই বরই পাকায় বাজারে এর বেশ চাহিদা থাকে। এখন বাজারে তিনি ১৬০ টাকা কেজি দরে বরই বিক্রি করছেন। ঢাকা শহরে এই বরই ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, সিদ্দিকের বরইয়ের বেশ সুনাম। গ্রামের মানুষ তাকে বরই সিদ্দিক নামে চেনেন ও ডাকেন।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, সিদ্দিক হোসেন একজন সফল বরইচাষি। তার সাফল্য দেখে সখীপুরে শতাধিক ব্যক্তি বরই চাষ করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সফলও হয়েছেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop