২:০৫ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ২৭ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ৪:৪৭ অপরাহ্ন
ব্রয়লার-লেয়ার মুরগী খাদ্যমূল্য ও বাচ্চার দাম বৃদ্ধি, খামারিদের ৮ দফা দাবি
পোলট্রি

পদ্মা সেতুর জাঁকজমক উৎযাপন না করে প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে  প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারীদের দুর্দশা এবং তা থেকে মুক্তির উপায়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করেন বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারী ঐক্য পরিষদ।

পরিষদের সভাপতি মিজান বাশারের সভাপতিত্বে ও শাহিন হাওলাদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতিক, পরিবেশবিদ দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সংগঠনের মহাসচিব কাজী মোস্তফা কামাল, বক্তব্য রাখেন লেখক ও পরিবেশ সাংবাদিক ইরানি বিশ্বাস,খুলনা পোল্ট্রি ফিড ফিসের এস এম সোহরাব, সভাপতি কিশোরগঞ্জ পোল্ট্রি ডিলার শরীফ উদ্দিন, পোল্ট্রি মার্কেট দাউদকান্দি ফিরোজ খান, নরসিংদী পোল্ট্রি সংগঠনের সাধারন সম্পাদক আবু নাসের সবুজ প্রমূখ।

দেশি পোল্ট্রি চাষিদের বাঁচাতে নীতিমালা প্রয়োজন বলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নীতিমালা না হলে সিন্ডিকেটের পাল্লায় পড়ে শিক্ষিত যুব সমাজকে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর। বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭৩ বছর । আজকে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পুষ্টি । যেটি জোগাড় করেছেন প্রান্তিক চাষিরা, খামারিরা। এখানে বড়দের কোন অবদান নেই।

  • অনুষ্ঠানের ৮ দফা দাবি জানান, বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের মহাসচিব কাজী মোস্তাফা কামাল।
    কোন হ্যাচারীর মালিক বাণিজ্যিকভাবে রেডি ব্রয়লার মুরগী ও লেয়ার মুরগী পালন করতে পারবে না। তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
  • খাদ্যের দাম কমাতে হবে। খাদ্য ও বাচ্চার মান প্রানীসম্পদ অধিদপ্তর কতৃক সার্বক্ষনিক মনিটরিং করতে হবে।
  • খামারিদের বিদু ্যত বিল, শিল্প হারে নিতে হবে।
    ৪. বিগত ০৭/০৩/২০১০ তারিখে সরকার কতৃক নিধারিত ১ দিনের ব্রয়লার ও লেয়ার বাচ্চার দাম ৩০ ও ৩২ টাকা হারে দিতে হবে।
  • রানীক্ষেত, গাম্বরো ও বার্ডফ্লু জাতীয় জটিল রোগের টিকা ও ঔষধ বিনামূল্যে খামারিদের দিতে হবে।
    ৬. সকল খামারিদের একটি সমিতির আওতায় এনে জামানত ছাড়া ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • প্রাকৃতিক দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ভূর্তকি দিতে হবে। অথবা ইন্সুরেন্সের আওতাভুক্ত করে ক্ষতি পূরণ দিতে হবে।
  • প্রত্যেক উপজেলার প্রধান বা বড় বাজারগুলিতে খামারিদেরকে সমিতি’র অনুকূলে ২/৩ শতক জায়গা উপর মুরগী ও ডিম বিক্রির দোকান নির্মাণ কর দিতে হবে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ৪:২৪ অপরাহ্ন
ঈদুল আজহা: প্রস্তুত ১ কোটি ২১ লাখ পশু
প্রাণিসম্পদ

আগামী মাসে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ১ কোটি ২১ লাখ পশু কোরবানি দেয়া হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, এ সংখ্যা বিগত বছরের থেকে ৩৩ শতাংশ বেশি।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উপব্যবস্থাপক জিনাত সুলতানা জানান, ‘গত বছর ৯০ লাখ ৮৩ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গরু-মহিষ ছিল ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ও ছাগল-ভেড়া ছিল ৫০ লাখ ২৮ হাজার। মোট ৪৬ হাজার কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘যেহেতু মহামারির মরণ থাবা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে, আমরা আশা করছি, এ বছর বিক্রি আরও বাড়বে। ধারণা করা যাচ্ছে, এবারের ঈদুল আজহায় ১ কোটির ওপরে পশু বেচাকেনা হবে। ব্যবসা হবে ৫০ হাজার কোটি টাকার।’

গবাদি পশু বিক্রির সবচেয়ে লাভজনক বাজার বিবেচনা করা হয় ঈদুল আজহার মৌসুমকে। এবার কোরবানির উদ্দেশ্যে হাটে উঠবে ১ কোটি ২১ লাখ পশু। এর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৬ লাখ ১১ হাজার ও ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭৫ লাখ ১১ হাজার।

কোরবানির হাট সামনে রেখে ইতোমধ্যে ৪২ লাখ ৪০ হাজার গরু-মহিষ ও ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ছাগল-ভেড়া মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে সিংহভাগ গবাদি পশু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ‘এ বছর ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২৯টি গরুর মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার ৩২৫টি গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।’

এদিকে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবারের কোরবানির বাজারে গবাদি পশুর দামও হবে আকাশচুম্বী। খামারিরা জানান, দেড় লাখ টাকা দামের একটি গরুর পেছনে কম করে হলেও ৭০-৭৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

খাবারের দামের ব্যাপারে খামারিরা জানান, এক বছরের মাথায় গোখাদ্যের দাম বস্তাপ্রতি ২০০-৪০০ টাকা বেড়ে গেছে। এতে স্বভাবতই বাড়বে কোরবানির পশুর দাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ২:১৫ অপরাহ্ন
আসন্ন ঈদ, খরচ বাড়ছে গরু পালনে!
প্রাণিসম্পদ

কোরবানির বাজার ধরতে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা। ভালো দামের আশায় খামারের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি ব্যক্তিপর্যায়েও অনেক গরু লালনপালন করা হচ্ছে।

খামারিরা বলছেন, প্রাকৃতিক ও সুষম খাদ্য দেয়ায় এ বছর খরচ বেশি হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে যশোর গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে বেশ এগিয়ে। বিশেষ করে ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হওয়ায় খামার স্থাপনের মাধ্যমে এ জেলায় গরু পালন বেড়েছে।

এ বছর জেলার ৮টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১১ হাজার ছোট-বড় খামারে দেশি পদ্ধতিতে পালন করা হচ্ছে হাজার হাজার গরু-ছাগল। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি ব্যক্তিপর্যায়েও হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে অনেক গরু। দিন-রাতের অবিরাম পরিচর্যা এবং প্রাকৃতিক ও সুষম খাদ্য দিয়ে মোটাতাজা করা গরু-ছাগল এখন বিক্রির জন্য প্রস্তুত।

তাই আসন্ন ঈদের বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন খামারিরা। তারা বলছেন, খামারে যে গরু রয়েছে, তার সর্বোচ্চ মূল্য তিন লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন মূল্য এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এবার করোনার প্রভাব কম থাকায় ভালো মুনাফার আশা করছেন। তারা কোনো ধরনের ইনজেকশন বা ওষুধ খাওয়াননি। গরুকে খুদের ভাত, ফল ও ভুসি খাওয়ান। গরু সুস্থভাবে রাখার চেষ্টা করেন।

খামারিদের দাবি, এ বছর গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তবে বর্তমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে এবং ভারত থেকে গরু না এলে তারা লাভবান হবেন। এ বিষয়ে খামারিরা জানান, গরুর খাদ্যের দাম অনেক বেশি। তারা আশা করেন, বাজারমূল্য এমন থাকলে এবং ভারত থেকে গরু না এলে লাভবান হবেন।

জেলায় এ বছর চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি গরু ও ছাগল পালন করা হয়েছে। এসব প্রাণীর মাংস শতভাগ নিরাপদ বলে জানান যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারব। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ হাজার গরু আমাদের উদ্বৃত্ত থাকবে। এই কোরবানির ঈদে আমরা গবাদি পশু নিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হব না।’

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, কোরবানির জন্য জেলায় ৯৬ হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত করা রয়েছে। যার মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি গরু এবং সাড়ে ৬৫ হাজার ছাগল।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ১২:৩৫ অপরাহ্ন
গবাদিপশু বাঁচাতে মরিয়া বানভাসিরা
প্রাণ ও প্রকৃতি

নেই থাকার নিশ্চয়তা। জানা নেই খাবার মিলবে কিনা। এত অনিশ্চয়তার মাঝেও গবাদিপশুকে বাঁচাতে মরিয়া কুড়িগ্রামের বানভাসি মানুষ। জেলায় বেড়েই চলেছে নদ-নদীর পানি, বাড়ছে দুর্ভোগও।

ঘরের ভেতরে বিছানা ছুঁইছুঁই পানি। নতুন আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন বাবা-মা। দুদিন ধরে জ্বলেনি চুলাও। তাই কুড়িগ্রাম সদরের পোড়ার চরের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোমা, বিস্কুট খেয়ে মেটাচ্ছেন ক্ষুধার জ্বালা।

প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে এমনই যুদ্ধ চলছে কুড়িগ্রামের হাজারো পরিবারের। কারও ঘরে নেই খাবার, আবার কারও নেই ঘুমের জায়গা। অনেকের নৌকাই একমাত্র ভরসা।

নিজেদের জীবন যখন বিপন্ন, তখনও গবাদিপশু রক্ষায় মরিয়া বানভাসি মানুষ। বলছেন, বন্যার পর গবাদিপশুই হবে বেঁচে থাকার সম্বল।

কুড়িগ্রামে বেড়েই চলেছে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর পানি। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। দুর্ভোগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৯, ২০২২ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
পা হারিয়েও থেমে যাননি রুবিনা, সফল হলেন খামার করে
প্রাণিসম্পদ

উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ না হলেও গরুর খামার করে স্থানীয়দের রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী রুবিনা খাতুন।

তার বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের শান্তিনগর জংলিপাড়া গ্রামে। বাবা হারানো রুবিনা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ব্যাপক মেধাবী।

পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেল দুর্ঘটনা। ২০১৮ সালে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের বাড়িতে ফেরার পথে হঠাৎই রেল দুর্ঘটনায় পড়ে দুই পা হারিয়ে পুঙ্গত্ব বরণ করেন। মা রহিমা বেগমও শরীরে টিউমার নিয়ে রয়েছেন শঙ্কায়। বড় বোন মানসিক প্রতিবন্ধী। একমাত্র ছোট ভাই রংপুরে পড়াশোনা করছে।

দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ থেকে ফেরা রুবিনা জানান, দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এক লাখ, রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে দুই লাখ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ৯২ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছে।

ত্রাণ হিসেবে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি তার চিকিৎসার ব্যয় মিটিয়ে হাতে কিছু থাকা টাকা দিয়ে দেশীয় গরু ও একটি বড় গরু কিনেছেন। এখন সেই গরু লালন পালন করে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন রুবিনা।

গরুটিকে অনেক যত্ন আর স্নেহে পালন করায় আদর করে নামও রেখেছেন স্বপ্নরাজ। বর্তমানে গরুটির ওজন ১ হাজার ১০০ কেজি। দাম হেঁকেছেন ৯ লাখ টাকা।

রুবিনা খাতুন জানান, ১ হাজার ১০০ কেজি ওজনের স্বপ্নরাজের কাঙ্ক্ষিত দাম পেলে পরিবারে অনেকটাই সচ্ছলতা ফিরে আসবে। তিনি সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে তার চলাচলের জন্য একটি ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার সহায়তা চেয়েছেন।

রুবিনার মা রহিমা বেগম জানান, দরিদ্রতার কারণে নিজের চিকিৎসা করা তো দূরের কথা; পরিবারের চাহিদা মেটানো দায় হয়ে পড়েছে। রুবিনার স্বপ্নপূরণে এবং তার খামার সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল হাই জানান, রেলপথ দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করা রুবিনার গরুর খামার সম্প্রসারণে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৮, ২০২২ ৫:৫২ অপরাহ্ন
অধিক লাভ পেতে হাঁস-মুরগির যত্ন নিবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

গ্রামীন অর্থনীতির অন্যতম পাথেয় হলো হাঁস-মুরগির পালন।গ্রামের প্রায় সবার ঘরে ঘরে দেখা যায় হাঁস-মুরগি। এবং অনেকেই করছেন বৃহৎ আকারে হাঁস-মুরগির খামারও। আর খামারে লাভবান হওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। সঠিক পরিচর্যা প্রয়োগে আরো লাভবান হওয়া সম্ভব। বর্ষাকালের আগেই প্রাণিসম্পদের যত্ন নিতে রয়েছে প্রস্তুতির প্রয়োজন। আর সেজন্য জানা প্রয়োজন তার সঠিক নিয়ম কানুন।

হাঁস-মুরগির যত্ন যেভাবে নিবেন:

১. বর্ষাকলের আগেই প্রাণিচিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিন দিতে হবে।

২. বাজারে রাণীক্ষেতের জন্য নবিলিস এনডি ল্যাসুটা, এনডিএলএস, সিভেক নিউ এল, আইজোভ্যাক এনডি কিল্ড, নিউক্যাভাক, ইমোপেস্ট, নিউক্যাসেল ল্যাসুটা ওষুধ রয়েছে। এছাড়া গামবোরো রোগে নবিলিস ২২৮, সিভেক গামবো এল, আইজোভ্যাক গামবো-২ রয়েছে। আর বসন্ত রোগে সিভেক এফপিএল, নবিলিস, ওভোড্রিপথেরিন পাওয়া যায়।

৩. হাঁস-মুরগির কৃমির জন্য ওষুধ খাওয়ানো, ককসিডিয়া রোগ হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরুরিভাবে অন্যান্য প্রতিষেধক টিকা দিয়ে দিতে হবে।

৪. মুরগি ও হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর কাজটি ভরা বর্ষার আগেই সেরে ফেলতে হবে।

৫. গবাদি পশুর গলাফোলা, ডায়রিয়া, ক্ষুরারোগ, নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগের টিকা দেওয়াসহ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. বর্ষা আসার আগেই গবাদি পশুর আবাসস্থল পরিপাটি করে পুনসংস্কার, আশপাশ পরিষ্কার করা, জমে থাকা পানির দ্রুত নিকাশের ব্যবস্থা, বর্ষার নিয়মিত এবং পরিমিত গো-খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য কাজ সঠিকভাবে করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৮, ২০২২ ১:০৩ অপরাহ্ন
বন্যায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে সুনামগঞ্জের চাষী-খামারিরা!
কৃষি বিভাগ

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মানুষ গবাদিপশুগুলোকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে। বন্যাকবলিত মানুষ কোনোরকমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করলেও গবাদিপশুদের নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে আসছে।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহখানেক ধরে থেমে থেমে চলা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রবল বেগে নদ–নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে।

গতকাল রাত ৯টার মধ্যেই এ উপজেলার বেশির ভাগ সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষের ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকেই নিজ গ্রাম ছেড়ে পাশের বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

মাইজবাড়ী গ্রামের আলী আজগরের (৫৮) বাড়িতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। কোনোরকমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের ভেতরে থাকলেও গবাদিপশুগুলোকে পাশের বিদ্যালয়ের বারান্দায় রেখেছেন।

ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বীর দক্ষিণ গ্রামের কৃষক ছোটন মিয়া (৩৫)। মাসখানেক আগে বাড়ির গোয়ালঘরে মাচা করে সেখানে ৪০ মণ শুকনা ধান রেখেছিলেন। তবে বন্যার পানিতে তাঁর গোয়ালঘর ও বসতঘরে পানি ঢুকেছে। তড়িঘড়ি করে কোনোরকমে ধান, গবাদিপশুগুলোকে পাশের একটি বিদ্যালয়ে আশ্রয় রেখেছেন।

উপজেলার মধ্যনগর বাজারের বাসিন্দা আলা উদ্দিন বলেন, যত সময় যাচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির ততই অবনতি হচ্ছে। উপজেলার মধ্যে মধ্যনগর বাজারটি সবচেয়ে বড় বাজার। এই বাজারের রাস্তাসহ সবস্থানেই এখন হাঁটুসমান পানি। এই বাজারের ধানের আড়তগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মণ ধান বন্যার পানিতে নষ্ট হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য দ্রুত শুকনা খাবার ও ত্রাণ পাঠানোর জন্য দাবি জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৭, ২০২২ ১:৫০ অপরাহ্ন
গরু বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মা-ছেলের!
প্রাণিসম্পদ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গরু বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুপরে উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের মহিষমুড়ী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মহিষমুড়ী গ্রামের রফিকুল ইসলাম বাবু মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৬) ও ছেলে রিফাত মিয়া (১২)। রিফাত স্থানীয় একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে ফাঁকা জমিতে গরু চরাচ্ছিল শিশু রিফাত। এক পর্যায়ে গরুটি পল্লি বিদ্যুতের পোলের টানার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রিফাত গরুটিকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে মা রহিমা বেগম ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। কিছু সময় পর ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইজার উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৬, ২০২২ ১:১৩ অপরাহ্ন
গরুর খাবারের দাম বাড়ায় খামার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা (ভিডিও)
এগ্রিবিজনেস

ভারত থেকে গরু রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গেলো কয়েক বছরে বাংলাদেশ গবাদি পশু উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে বাংলাদেশে অনেকেই গরুর খামারে আগ্রহী হয় এবং লাভের মুখও দেখেন।কিন্তু, ক্রমাগত গোখাদ্যের দাম বাড়তে থাকায়, অনেকেই এখন খামার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

খরচ চালাতে না পেরে কেউ কেউ লোকসান দিয়ে খামার বিক্রি করে দিচ্ছেন। অনেক খামারি টিকে থাকতে দুধ বা দুগ্ধ পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন, এ কারণে আবার ক্রেতারা তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

এ রকম উভয় সংকটে দিন কাটছে অনেক খামারির।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

গোখাদ্যের দাম বাড়ায় কোরবানির ঈদে এবং দুগ্ধজাত খাবারে কী প্রভাব পড়তে পারে, এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের আমিষের চাহিদার উপর কী প্রভাব পড়বে তা জানতে দেখুন এই ভিডিওটি

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ১৬, ২০২২ ১২:৫৫ অপরাহ্ন
কোরবানির জন্য প্রস্তুত পর্যাপ্ত পশু, তবুও শঙ্কা!
প্রাণিসম্পদ

গবাদি পশু পালনে সাফল্যের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে রাজশাহী। গো-খাদ্যের বাজার চড়া থাকায় বেড়েছে গবাদি পশু লালন-পালন করার খরচ।এর সঙ্গে রয়েছে গরম আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জসহ আরও নানান প্রতিকূলতা। এরপরও গবাদি পশু পালনে সফলতা দেখিয়েছে ‘রাজশাহী’। দেশের মধ্যে কোরবানির জন্য এবার সবচেয়ে বেশি ছাগল রয়েছে- বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে। এছাড়া চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে- কোরবানির গরুও।

সব মিলেয়ে যেই পরিমাণ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে- তা দিয়ে এই ঈদুল আজহায় রাজশাহীর কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ভারত থেকে এবারও গরু আমদানি করার প্রয়োজন নেই।

টানা দুই বছর করোনা মহামারি কাটিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চান এই অঞ্চলের খামারিরা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তাই এবার পর্যাপ্ত পশু লালন-পালন করেছেন। ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ছাড়াই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শে দেশি উপায়ে কোরবানির জন্য গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য বলছে- নানান চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও রাজশাহী পশু পালনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে নিরবেই। এই অবস্থা করোনার দুই বছর আগেও ছিল না। এটি রাজশাহীর একটি অনন্য সাফল্য। বর্তমানে দেশের মধ্যে কোরবানির জন্য সবচেয়ে বেশি ছাগল রয়েছে রাজশাহীতে। এছাড়া কোরবানির জন্য চাহিদার চেয়েও গরু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে রাজশাহীর আট জেলায় এক লাখ ৩০ হাজার ২৬৫ জন খামারি রয়েছেন। জেলাগুলো হচ্ছে- রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট। বর্তমানে এসব জেলার খামারিদের কাছে কোরবানির জন্য ২৮ লাখ ২২ হাজার ৬৩৯টি ছাগল রয়েছে। ভেড়া রয়েছে চার লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৭টি। আর ছাগলের মত ভেড়ার সংখ্যাও বেশি। এছাড়া গরু রয়েছে ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৯টি। মহিষ ২১ হাজার ৫২১টি।

আর রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য বলছে- এখানে কোরবানির জন্য মোট পশু প্রস্তুত হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৮৫২টি। জেলায় এবার সম্ভাব্য চাহিদা ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১৮টি। অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার গরু বেশি রয়েছে। রাজশাহী জেলার নয় উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৯ জন খামারি রয়েছেন। তাদের কাছে কোরবানির জন্য ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭২টি গরু, ২ লাখ ৩৩ হাজার ২৩৫টি ছাগল, ৩৮ হাজার ২৪৫টি ভেড়া আছে। এছাড়া মহিষ রয়েছে ৩ হাজার ২১১টি। যা চাহিদার তুলনায় বেশি।

গেল দু’বছরের মত এবার করোনা সংকট না থাকায় রাজশাহী জেলা ও আশপাশের পশুহাটগুলো একদম দেশি গরুতেই জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রয়েছে। তাই দেশি গরুর খামারিরা করোনার লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন। বাজার পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে পশুর হাটে গিয়ে ভালো দাম পাবেন- রাজশাহী অঞ্চলের খামারিরা।

তবে করোনা সংকট না থাকলেও দেশে এখন নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। তাই পশুর হাট মন্দা যাওয়ার আশঙ্কাও ভর করেছে স্থানীয় খামারিদের মাথায়। আর বাজার মন্দা হলে বছর ধরে লালন-পালন করা গবাদি পশুর ভালো দাম মিলবে না। কারো কারো পশু অবিক্রিতও থেকে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop