১০:১৯ অপরাহ্ন

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ৭, ২০২১ ৬:৩৮ অপরাহ্ন
অ্যাকুরিয়ামে মাছ পালন করা নিয়ে ইসলাম কি বলে?
মৎস্য

শহর-নগর ও গ্রাম-গঞ্জ সবখানে বেশ জনপ্রিয় অ্যাকুরিয়ামে মাছ পালন করা। শখের বসত এখন প্রায় হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও বাসাবাড়িতে অ্যাকুরিয়াম দেখা যায়। এখন জানার আগ্রহ এই অ্যাকুরিয়ামে মাছ পালন করা নিয়ে ইসলাম কি বলে?

উত্তরে বলা যায়, অ্যাকুরিয়ামে মাছ পোষার ব্যাপারে শরিয়তে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। সাহাবায়ে কেরাম শৌখিনতা ও শখের বশে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী পুষেছেন বলে বিভিন্ন কিতাবপত্র ও ঐতিহাসিক গ্রন্থগুলোতে বর্ণনা পাওয়া যায়।

মাছের পরিচর্যা ও নিয়মিত যন্ত্র নেওয়া
অ্যাকুরিয়ামে মাছ পালন করতে গেলে অবশ্যই মাছের পরিচর্যা জরুরি। চাহিদামাফিক নিয়মিত খাবার দেওয়া, নিয়মতান্ত্রিক পানি পরিবর্তন করা ইত্যাদিতে যেন কোনো অবহেলা না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখাটা জরুরি।

আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) আমার ছোট ভাই আবু উমায়েরকে খুব পছন্দ ও স্নেহ করতেন। আমার এখনো মনে আছে, সে তখন মায়ের বুকের দুধ ছেড়েছে মাত্র– এমন শিশু। রাসুল (সা.) তার কাছে আসতেন এবং বলতেন, ‘হে আবু উমায়ের! কী করেছে তোমার নুগায়ের?’ নুগায়ের হলো এমন একটি ছোট পাখি, যেটির সঙ্গে আবু উমায়ের খেলা করত। নুগায়ের মারা যাওয়ায় সে খুব চিন্তিত ও ব্যথিত ছিল। তাই রাসুল (সা.) তার সঙ্গে খেলা করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬২০৩)

অ্যাকুরিয়ামে মাছ পালনে সওয়াব আর গুনাহঃ
যথাযথভাবে খাবার না দিলে এবং পরিচর্যা ও যত্ন না নিলে, অ্যাকুরিয়ামে মাছ পোষা জায়েজ নেই। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের জন্য শািস্ত দেওয়া হয়েছে। সে নারী বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল এবং পরে সেটি মারা গিয়েছিল। নারীটিকে এই কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়। সে যখন বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল, তখন তাকে পানাহার করাত না এবং ছেড়েও দিত না– যাতে কীটপতঙ্গ ধরে খাবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩৬৫; মুসলিম, হাদিস : ২২৪২; দারেমি, হাদিস : ২৮১৪)

যথাযথভাবে খাবার দিলে এবং পরিচর্যা ও যত্ন নিলে সওয়াব লাভেরও সম্ভাবনা রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! জীবজন্তুর জন্যও কি আমাদের পুরস্কার দেওয়া হবে?’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রত্যেক দয়ার্দ্র হৃদয়ের অধিকারীদের জন্য পুরস্কার রয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩৬৩)

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২১ ৩:১১ অপরাহ্ন
ধুনটে ৪ পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ নিধন
মৎস্য

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ৪টি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মাছ নিধন করেছে দূর্বৃত্তরা। সোমবার দিবাগত রাতে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শৈলমারী গ্রামে এঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শৈলমারী গ্রামের বজলুর রহমানের কাছ থেকে ৫০ শতক, ১৬ শতক ও ৮ শতক আয়তনের ২টি পুকুর সহ মোট ৪টি পুকুর বার্ষিক ১ লাখ ২৫ টাকায় লীজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন একই গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মালেকের ছেলে মনজু, মনছের আলীর ছেলে আব্দুর রউফ ও এসহাক মন্ডলের ছেলে রেজাউল হোসেন।

কিন্তু সোমবার দিবাগত রাতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কে বা কারা ওই ৪টি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে এবং একটি নৌকা ভাংচুর করে। দূর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগের কারনে মঙ্গলবার ওই সকল পুকুরের সব মাছই মরে ভেসে ওঠে। এতে ওই মৎস্যচাষীদের প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এব্যাপারে মৎস্যচাষী আনোয়ার হোসেন ও মনজু জানান, আমাদের পুকুরের পাশেই একই গ্রামের হযরত আলীর ২০ শতক, আবু বক্কারের ১৬ শতক ও শাহআলমের ১৬ শতক পুকুর থাকলেও তাদের একটি মাছও মারা যায়নি।

ভুক্তভোগিদের অভিযোগ , এক সপ্তাহ আগে ওই পুকুর মালিক হযরত আলীর ছেলে রাজন ও তার বন্ধুদেরকে আমাদের পুকুরে জাল ফেলতে নিষেধ করায় তারাই এঘটনাটি ঘটিয়েছে। তাই নিরুপায় হয়ে তারা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান ক্ষতিগ্রস্থ এই মৎস্যচাষীরা।

এব্যাপারে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২১ ৩:৪৮ অপরাহ্ন
তেলাপিয়া মাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
মৎস্য

আমাদের দেশে এখন তেলাপিয়া খাঁচায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। তবে খাঁচায় চাষ করা তেলাপিয়া মাছ কিছু রোগে আক্রান্ত হয়। জেনে নিন তেলাপিয়া রোগে আক্রান্ত হলে প্রতিকারের জন্য যা করবেন।

জেনে নিন কিছু রোগের লক্ষণ:
মাছের কানকোর কিছু অংশ বিবর্ণ হয়ে যায়, অঙ্কীয়দেশে কিছু দাগ দেখা যায় ও মাছের পিত্তথলী স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বড় হয়ে যায়। কেবল ১০০ থেকে ৪০০ গ্রামের মাছেই এই রোগ দেখা যায় আক্রান্ত-হওয়ার সাথে সাথে মাছ দ্রুত মারা যায়। মৃত্যুর আগে মাছগুলো কুণ্ডলি আকারে ঘোরাফেরা করে।

যেসব কারণে তেলাপিয়া এসব রোগো আক্রান্ত হয়,- কোনো অনুজীবের যেমন,- ভাইরাস, ব্যকটেরিয়া আক্রমণ করলে রোগে মাছ আক্রান্ত হয়। এছাড়া আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পরিমাণ রাসায়নিক সার কিংবা আগাছা নাশকের ব্যবহার ও খাঁচায় মাছের জন্য অতিরিক্ত খাবার সরবরাহ হলে মাছ রোগাক্রান্ত হয়।

অন্যদিকে প্রতিটি খাঁচায় মাছের অধিক ঘনত্ব, খাঁচার ভেতরের পানির পিএইচ মানের এর তারতম্য ও খাঁচায় অক্সিজেন সরবরাহ কম ইত্যাদি কারণেও মাছের রোগ দেখা দেয়।

মাছ রোগাক্রান্ত হলে যা করবেন,-
খাঁচায় বেশি পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হবে, খাঁচায় মাছের ঘনত্ব কমাতে হবে এবং খাদ্য সরবরাহ কমাতে হবে। এছাড়া নেট পরিস্কার রাখতে হবে, এন্টিবায়োটিক ডোজ বাড়াতে হবে ও খাঁচাগুলো সারিবদ্ধভাবে না রেখে আঁকাবাঁকা করে রাখা যেতে পারে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২১ ৬:৩৮ অপরাহ্ন
মা ইলিশ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড এর অভিযান
মৎস্য

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে।

সোমবার (৪ অক্টোবর) বিকালে কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. খন্দকার মুনিফ তকি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমকে লক্ষ্য রেখে ‘মা ইলিশ’ রক্ষার্থে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুমে দেশের নির্দিষ্ট উপকূলীয় এলাকায় ০৪ অক্টোবর ২০২১ থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২১ (সর্বমোট ২২ দিন) পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উক্ত সময়ে আইনানুযায়ী সারাদেশে ইলিশ মাছের আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং কেনা বেচা নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়াও একই দিনে ভেদরগঞ্জ, সোনারগাঁও, গজারিয়া, হাইমচর, মেঘনা নদী ও তৎসংলগ্ন এলাকা ভোলা জেলার মেঘনা নদী সংলগ্ন ইলিশা ঘাট এলাকার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারনা চালানো হয়।

চট্টগ্রামের মীরসরাই, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ, রায়পুর ও কমলনগর এবং খুলনা জেলার দাকোপ ও রূপসা বাগেরহাট জেলার মোংলা, মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা এলাকার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারনা চালানো হয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর দ্বায়িত্বাধীন উপকূলীয় ও নদী এলাকার মৎস্য অভায়শ্রমগুলোতে মা ইলিশ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের টহল অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩, ২০২১ ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
ইলিশ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
মৎস্য

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো ভোলায়। আর এই নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে সাগর ও নদী থেকে ফিশিংবোট, ট্রলার, নৌকা ও মাছ শিকারের সব সরঞ্জাম নিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নামে বরাদ্দ করা চাল দ্রুত বিতরণ এবং এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকের হাট এলাকার বাসিন্দা মো. মালেক মাঝি জানান, সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ট্রলার, নৌকা, জালসহ মাছ শিকারের সব সরঞ্জাম উঠিয়ে নিয়েছেন তিনি। অভিযানের সময় মাছ ধরতে নদীতে যাবেন না তিনি।

ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার বাসিন্দা নুরু ইসলাম মাঝি জানান, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় তো আমরা জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারবো না। তাই আমাদের তো কোন আয় ইনকামও থাকবো না। তাই এবছর সরকার যদি আমাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত আমাদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমাদের অনেক উপকার হবে।’

ভোলা সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান, ২২ দিনের মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞাকে সফল করতে এরই মধ্যে প্রচার-প্রচারণা করেছেন তারা। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি চাল দ্রুত বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিষেধাজ্ঞার সময়ে এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।‘আমরা ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞার কঠোর করার জন্য সকল প্রস্তুত গ্রহণ করেছি। যারা সরকারি আইন অমান্য করে নদীতে গিয়ে মাছ শিকার করবে তাদের জেল ও জরিমানা করা হবে বলে জানান তিনি।’

ভোলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ভোলার মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এসময় ইলিশ আহরণের পাশাপাশি পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ওপরেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া, এদিকে ভোলা জেলায় প্রায় আড়াই লাখ জেলে থাকলেও সরকারিভাবে এ পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার জেলের। বর্তমানে জেলে নিবন্ধন চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২১ ১:৩০ অপরাহ্ন
চায়না দুয়ারী জালে অবাধে মাছ নিধন
মৎস্য

চলনবিলে চায়না দুয়ারী জাল পেতে অবাধে মাছ নিধন করা হচ্ছে। এতে জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে সাপ, কুইচা, কাঁকড়া, ব্যাঙ, শামুকসহ অধিকাংশ জলজ প্রাণী। এতে হুমকিতে পড়েছে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য।

গত এক সপ্তাহ সরজমিনে চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার বিল পাড়ের কামারশন, মাকরশন, কুন্দইল, ভেটুয়া, নাদোসৈয়দপুর ও ধামাইচ গ্রাম এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠ, ডোবা, নালা, খাল সব জায়গাতেই চায়না দুয়ারী জাল পেতে মাছ ধরছেন জেলেরা। বেশিরভাগ জালে মাছের চেয়ে অন্যান্য জলজ প্রাণীই আশঙ্কাজনকহারে মারা পড়ছে।

এদিকে চলনবিল অঞ্চলের মৎস্য চাষিরাও চায়না দুয়ারী জাল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এই জাল পুকুরে পেতে রেখে দু থেকে তিন দিনের মধ্যে এক পুকুরের প্রায় সব মাছ সাবাড় করে দেওয়া সম্ভব।

জানা গেছে, চায়না জালের দুপাশে দুহাত পর পর লোহার তৈরি গোল রিং পড়ানো থাকে। তার মাঝখানে এক হাত পর পর ৩০ টির মতো চারকোনা রিং পড়ানো। চারকোনা রিংয়ের মাঝে একটি করে দুয়ার রয়েছে। এসব দুয়ার দিয়ে মাছ ও জলজ প্রাণী একবার ঢুকে পড়লে বেড় হতে পারেনা। এই জালের বিশেষ বৈশিষ্ট হলো পানির তলদেশে লম্বালম্বিভাবে পড়ে থাকে। ফলে কোন প্রকার খাদ্য দ্রব্য ছাড়াই দুই দিক থেকে মাছ ও জলজ প্রাণী জালের ভেতরে ঢুকে পড়ে। চায়না দুয়ারী জাল দেখতে অনেকটা ঢলুকের মতো। এই জাল অনেকের কাছে ঢলুক জাল নামেও পরিচিত।

তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মর্জিনা ইসলাম জানান, চায়না দুয়ারী জালে দেশীয় প্রজাতির সব মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধরা পড়ছে। এর মধ্যে বিপন্ন প্রজাতির অনেক মাছ ও জলজ প্রাণীও রয়েছে। জেলেরা মাছ ও কুইচা বিক্রি করছেন। এরপর সাপ, কুইচা, কাঁকড়া, ব্যাঙ, শামুক, ঝিনুকসহ অধিকাংশ জলজ প্রাণীই তারা মেরে ফেলছেন। ফলে সেসব মাছ ও জলজ প্রাণী বংশ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারছে না। চায়না দুয়ারী জাল কারেন্ট জালের চেয়েও মারাত্মক ক্ষতিকর।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মসগুল আজাদ জানান, চলনবিলে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। মাছ নিধন ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি আইনত অপরাধ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২, ২০২১ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন
বাগাতিপাড়ায় মাছ শিকারের উৎসব
মৎস্য

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় টিকিট কেটে বাহারি রকমের ছিপ দিয়ে পুকুরে মাছ শিকারের উৎসবে মেতেছেন শৌখিন মৎস্য শিকারিরা। এলাকায় এ ধরনের আয়োজন নতুন হওয়ায় অনেকে তা দেখতে সকাল থেকে পুকুর পাড়ে ভিড় করেন।

শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁকা ইউনিয়নের শালাইনগর গ্রামের আবুল হাশেমের দরগার পুকুরে মাছ শিকারের এই আয়োজন করা হয়।

জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১২টি সিটে ৬০ এর অধিক শৌখিন মাছ শিকারি মাছ শিকার করতে আসেন। প্রতিটি সিট সাড়ে সাত হাজার টাকা হারে কিনেছেন তারা।

মাছ শিকার দেখতে আসা তকিনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক তরিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার ছুটির দিন বাড়িতে বসে না থেকে মাছ শিকারের কথা শুনে মনের প্রফুল্লতার জন্য দেখতে এসেছি।

মাছ শিকারি বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, হুইল দিয়ে মাছ শিকারের শখে অন্যদের সঙ্গে তিনিও মাছ ধরার উৎসবে এসেছেন।

পুকুর মালিক আবুল হাসেম জানান, বিভিন্ন এলাকার মৎস্য শিকারিদের সাথে যোগাযোগ করে এবারই প্রথম টিকিটের মাধ্যমে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়েছে। মাছ শিকারিদের ছিপে রুই, কাতলা, মৃগেল, ব্লাড কার্প, জাপানি রুই মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে।

তিনি জানান, পুকুরে সাড়ে নয় কেজি পর্যন্ত মাছ আছে। শুক্রবার দুপুরে একজনের ছিপে ৭ কেজি ওজনের একটি মাছ ধরা পড়ে।এছাড়া অনেকেই তিন-চার কেজি ওজনের মাছ পেয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২১ ১০:১৯ অপরাহ্ন
দুর্গাসাগর দিঘিতে বড়শিতে ধরা পড়ল ৩৩ কেজির ব্রিগেড
মৎস্য

বরিশালের বাবুগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর দিঘিতে শৌখিন মত্স্য শিকারির বড়শিতে প্রায় ৩৩ কেজি ও ১৯ কেজি ওজনের দুইটি বিশাল আকৃতির ব্রিগেড মাছ ধরা পড়েছে। এর আগে একই দিন বিকাল ৩টায় ১৯ কেজি ওজনের আরো একটি ব্রিগেড মাছ শিকার করেন তারা।

বুধবার সন্ধ্যায় ধরা পড়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর মাছটি ডাঙ্গায় তুলতে সক্ষম হন মৎস্য শিকারিরা।

বরিশাল সদর উপজেলার কলসগ্রাম (ছয়মাইল) এলাকার শৌখিন মত্স্য শিকারি নাছিম শরিফ বলেন, মাছ শিকারের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে দেখে বরিশালের ব্যবসায়ীদের একটি দল পিকনিকের জন্য মাছ দুইটি ১ লাখ টাকায় ক্রয় করতে চেয়েছিল। আমরা মাছ দুইটি বিক্রি না করে নিজেদের মধ্যে কেটে ভাগ করে নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ৫ হাজার টাকায় টিকিট কেটে বুধবার সকাল থেকে দিঘির উত্তর পাশের ৭৪ নম্বর সিটে বড়শি ফেলি। টিকিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে মাছ দুইটি বড়শিতে বাঁধে। আমার সঙ্গে অভিজ্ঞ মত্স্য শিকারি সোহেল জমাদ্দার থাকায় মাছ দুইটি ওপরে তুলতে সক্ষম হয়েছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২১ ৮:১৬ অপরাহ্ন
তিন বছর পর চাতলাপুর দিয়ে ভারতে গেল ৪ মেট্রিক টন ইলিশ
মৎস্য

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে তিন বছর পর আবারও মাছ রপ্তানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে এই স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় ৪ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রপ্তানি করা হয়েছে।

চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনের ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ৪ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ বছর ভারতে ৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের কাস্টমস থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলিশের এসব চালান রপ্তানি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আমদানি ও রপ্তানিকারক এবং ক্লিয়ারিং এজেন্ট শাহজাহান এন্টারপ্রাইজের মালিক সোহেল রানা চৌধুরী জানান, তার মাধ্যমে গত ২ দিনে প্রতি কেজি ইলিশ মাছ ১০ মার্কিন ডলার করে ৪০ হাজার ডলারের বিনিময়ে ৪ হাজার কেজি ইলিশ ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহরের মনিকা এন্টারপ্রাইজ এসব বাংলাদেশি ইলিশ মাছ গ্রহণ করে। সোহেল রানা চৌধুরী আরও জানান, ৪ অক্টোবর থেকে দেশে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে এ পথে আরও ইলিশ মাছ রপ্তানি করা হবে।

তিনি আরও জানান, গত দুই দিনে বাংলাদেশি তিনটি প্রতিষ্ঠান ভারতের উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশহরে চার হাজার কেজি ইলিশ মাছ রপ্তানি করে। বৃৃহস্পতিবার এ পথে আরিফ ট্রেডিং ও জারা এন্টারপ্রাইজ দুই হাজার কেজি ইলিশ মাছ রপ্তানি করে। শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিডিএস করপোরেশন কৈলাশহরে দুই হাজার কেজি ইলিশ মাছ রপ্তানি করে।

চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন দুই দিনে চার হাজার কেজি ইলিশ মাছ রপ্তানির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১, ২০২১ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নতুন মহাপরিচালক ড. খলিলুর রহমান
প্রাণিসম্পদ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নতুন মহাপরিচালক হয়েছেন ড. মো. খলিলুর রহমান।  বৃহস্পতিবার এ পদে যোগ দেন তিনি।এর আগে তিনি একই ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) ছিলেন।

ড. রহমান কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে স্বাদু পানি কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও স্বাদু পানি উপকেন্দ্র যশোরের উপকেন্দ্র প্রধান ছিলেন। এ ছাড়া তিনি অ্যাকুয়া ড্রাগস ও হালদা নদী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. রহমান দেশে প্রথমবারের মতো পাঙ্গাস মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রপতি পদক লাভ করেন। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop