৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ২:১৪ অপরাহ্ন
এ বছর ৩ টন মাল্টা উৎপাদন করবেন আল আমিন
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজারের রাজনগরে আল আমিন মাল্টা মাল্টা চাষ করে এখন সফল ও স্বাবলম্বী হয়েছেন। ২০২০ সালে দেড়টন মাল্টা উৎপাদন হয়েছে আল আমিনের । বিক্রি করেন ১ লাখ টাকা। প্রতিবছর মাল্টার উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়ায় আল আমিন অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভের আশায় আছেন। এ বছর ৩ টন মাল্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিকমত বাজারজাত করতে পারলে ৩ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন। তাকে অনুসরণ করে এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

জানা যায়, চার বছর আগে জেলার রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের নন্দিউড়া গ্রামের আল আমিন শখের বশে, কৃষিবিদ শেখ আজিজুর রহমানের পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে মাটি উচুঁ করে মাল্টা চাষ শুরু করেন। কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ৪ বছর আগে রাজস্ব প্রকল্পের আওতায় প্রর্দশনীর দিয়ে আল আমিনকে মাল্টা চাষে উৎসাহিত করা হয়। এখন সে স্বাবলম্বী। নিজ উদ্যাগেই চাষ করে যাচ্ছেন।

আল আমিন জানান, বিগত কয়েক বছর আগে বিভিন্ন জাতের ফলে ফরমালিন ব্যবহারের হিরিক পরে। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক। মানুষ নিরাপদ ফল খাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে ছিল। ভেজালমুক্ত ফল উপহার দেওয়ার কথা চিন্তা করেই কৃষি বিভাগের সহযোগীতা নিয়ে মাল্টার বাগান করেছি। অল্প পরিশ্রমে কম খরচে মাল্টা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়।

তার বাগানে বারি-১ থাইল্যান্ড জাতের ২০০টি মাল্টার গাছ রয়েছে। চারা রোপণের দুই বছর পর ফলন শুরু করে। তিন বছর পর একটি গাছে পূর্ণাঙ্গরূপে ফল ধরা শুরু করে। প্রতিটি গাছে ৩০০ থেকে ৪০০টি ফল আসে। তার বাগান দেখে অনেকেই মাল্টা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ইফফাত আরা ইসলাম জানান, মাল্টা চাষ করে আল আমিন সফল হয়েছেন। কৃষি বিভাগ সব সময় তাকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তার বাগানে গিয়ে দেখেছি মাল্টাগুলো পাকা শুরু হয়েছে। পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত বাজারজাত না করতে বলেছি।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক কাজী লুৎফুল বারি জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় মৌলভীবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। চাষিদের উদ্বুদ্ধ করেছেন আশানুরূপ ফলন হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ১২:৪৫ অপরাহ্ন
বরিশাল সদরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): চলতি খরিফ-২ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১৯ সেপ্টম্বর বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ, সার ও সাইন বোর্ড বিতরণ করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনিবুর রহমান।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. ফাহিমা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান এবং এইও তানজিলা আহমেদ।

প্রধান অতিথি বলেন, পাট আমাদের সোনালী আঁশ। তাই এর হারানো ঐতিহ্য ফিরে আনতে হবে। এ জন্য পাটের উৎপাদন বাড়ানো দরকার। আর তা বাস্তবায়নে এ ধরনের প্রণোদনা যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ শ’ গ্রাম পাটবীজ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ১০ কেজি হারে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি সার এবং ১’টি করে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিচর্যা ও বালাইনাশক বাবদ জনপ্রতি ২ হাজার ৬ শ’ ৩০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তি উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
আউশের বাম্পার ফলনে খুশি শরীয়তপুরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে শরীয়তপুর জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আউশ কাটা ও মাড়াই উৎসব। ভালো ফলনের পাশাপাশি এ ধানের দাম বেশি পেয়ে খুশি কৃষকরা। জানা গেছে, গত বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবং আশানুরূপ দাম পাওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আউশের আবাদ করেছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১২ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে জেলায় মোট ১৩ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৮৩ হেক্টর বেশি। চাষ করা জমিতে ২৭ হাজার ৫৮৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের চাষি সেকান্দর সরদার জানান, ‘কৃষি অফিস থেকে বিনা ধান-১৯-এর একটি প্রদর্শনী করা হয়। সেখান থেকে ওই ধানের নতুন আমি বীজ সংগ্রহে রেখেছি। অনেকেই আমার কাছ থেকে বীজ কিনে নিচ্ছেন। আমার এক বিঘা জমিতে কাঁচা ২২ মণ ধান হয়েছে। বাবুই পাখি কিছু খেয়ে ফেলেছে, না হলে আরও বেশি হতো। আমরা এই জাত পেয়ে খুশি।’

ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর এলাকার কৃষক নুর ইসলাম জানান, ‘আগে ফলন খুবই কম হওয়ায় কৃষকরা আউশ ধান চাষ করতে আগ্রহ হারাচ্ছিলেন। চলতি মৌসুমে আউশের বাম্পার ফলন হওয়ায় তারা ভীষণ উৎসাহিত হয়েছেন। যদিও চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আউশের আবাদে মনোযোগী হন চাষিরা।’

আরেক কৃষক সাত্তার মোল্লা বলেন, ‘বোরো ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকরা আউশ রোপণ করেন। মাত্র ১০০ দিনেই আউশ ধান কৃষকদের ঘরে আসে। ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই একই জমিতে কেউ চলতি আমনের চারা রোপণ করেছেন।’

জাজিরা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জামাল হোসেন জানান, ‘সরকার বৃষ্টিনির্ভর আউশ উৎপাদনের চিন্তা করছে। যাতে গ্রাউন্ড ওয়াটার হার্ভেস্ট কম হয়, সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা যায়। সেই লক্ষ্যে আমরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়ে আউশ উৎপাদনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এই জন্যে স্থানীয় জাতের বদলে আধুনিক উফসী যেমন ব্রিধান ৮২, ব্রিধান ৮৫ এবং বিনাধান ১৯-এর মতো জাত নিয়ে এসেছি, যার গড় ফলন পাঁচ টনের মতো। বর্তমানে আউশ উৎপাদন বাড়াতে জাজিরাতে এক হাজার ৩৯০ জনকে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।’

ভেদরগঞ্জ উপজেলার কৃষি অফিসার ফাতেমা ইসলাম জানান, ‘আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঠ দিবস, উঠান বৈঠক, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। এজন্য সেচনির্ভর বোরো আবাদের পর তারা বৃষ্টির পানিতে আউশ চাষ করেছেন। ফলে আউশের ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ ১০:০১ অপরাহ্ন
রাতের আঁধারে কৃষকের পেঁপে বাগান কাটল দুর্বৃত্তরা
কৃষি বিভাগ

গাজীপুরের শ্রীপুরে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মালম্বী এক কৃষকের অর্ধ শতাধিক পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম শ্রী বিপ্লব চন্দ্র বর্মণ। তিনি ওই গ্রামের শ্রী মাধব চন্দ্র বর্মণের ছেলে।উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের কাওরাইদ মধ্য পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার মধ্য রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা গাছ ভর্তি পেঁপেসহ গাছগুলো কেটে ফেলে। সকালে কৃষক ক্ষেতে গেলে এ ঘটনা চোখে পড়ে। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অবহিত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ গ্রামে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মালম্বী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চার পাঁচটি পরিবার বসবাস করে। তারা সাধারণত কৃষি কাজের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। বিপ্লব চন্দ্র বর্মণ ও বিপুল চন্দ্র বর্মণ দুই ভাই তাদের পৈত্রিক জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। এরি মধ্যে গাছে বেশ পেঁপে ধরেছে।

শনিবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা অর্ধশতাধিক পেঁপে গাছ কেটে ফেলে। সকালে কৃষক ক্ষেতে গেলে এমন চিত্র দেখেন।

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী রাহাত আকন্দ জানান, নিরীহ কৃষকের এমন ক্ষতি চরম অন্যায়। সংখ্যালঘু পরিবারটি কৃষির ওপর নির্ভর করেই চলেন। দুর্বৃত্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন এ মানবাধিকার কর্মী।

কৃষক বিপ্লব চন্দ্র বর্মণ জানান, পৈত্রিক জমির ৭ কাঠা জমিতে পাঁচশতাধিক পেঁপে গাছ রোপন করেন। গাছগুলোর বয়স ছয় মাসের বেশি। এরি মাঝে পেঁপে বিক্রি শুরু করেন তিনি। সকালে ক্ষেতে গেলে পেঁপে ভর্তি অর্ধশতাধিক গাছ কাটা অবস্থায় দেখেন বিপ্লব। পরে তিনি স্থানীয়দেরসহ জনপ্রতিনিধিদের ডেকে ক্ষতিগ্রস্ত পেঁপে বাগানটি দেখান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (৩ নং ওয়ার্ড) আবদুস সামাদ জানান, সকালেই এমন খবর পেয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি। তাদের সকল সহযোগীতা করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ ২:৫০ অপরাহ্ন
মণিরামপুরে ৩ সহস্রাধিক পরিবার সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী
কৃষি বিভাগ

যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার রুহিতা, মশ্মিনগর ও চালুয়াহাটী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৩ সহস্রাধিক পরিবার সবজি চাষ করে এখন স্বাবলম্বী। এ তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে বছরের বারো মাস সবজি চাষ হয়ে থাকে বলে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার শাহপুর ও হায়াতপুর সবজি চাষের জন্য উপযোগী মাঠ। বারো মাস সবজি চাষে উপযোগী এ দু’গ্রামের মাঠের পর মাঠ সবজির ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সবজি চাষিদের সঠিক পরামর্শ ও উৎসাহ দেয়া হয়ে থাকে। এ দ’ুটি গ্রাম ছাড়াও রুহিতা,মশ্মিনগর ও চালুয়াহাটী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সবজি ক্ষেতগুলো ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, ঢেঁড়স, মুলা, লাউ, শিম, বরবটি, ক্ষীরা, মিষ্টিকুমড়া, টমেটো, লালশাক, পালংশাক, কলা, বেগুন, শসা, মেটে আলু, ডাটা, পটল, ঝিংগা, উচ্ছে, কাকরোল, গাজর, চিচিংগা, কাঁচাঝাল, ওলসহ বিভিন্ন ধরণের বারোমাসি সবজিতে ভরপুর। এখানে নিরাপদ ও বালাইমুক্ত সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। এখানে সবজি চাষে জৈব সার ব্যবহার করা হয় বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান।

শাহপুরের সবজি চাষি ইকবাল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, রাহাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, নুর ইসলাম, আতিয়ার রহমান, লুৎফর রহমান বলেন বছরের বারো মাস বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে আমরা অনেকটা স্বাবলম্বী হয়েছি। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করি। বর্তমান সময়ে সবজির দাম ভালো পেয়ে খুব খুশি আমরা। সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যশোর, খুলনা ও ঢাকার বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে জানান তারা। রাজগঞ্জ হাট-বাজারে শাহপুর ও হায়াতপুরের কৃষকরাই তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রির জন্য এনে পাইকারি বিক্রি করেন। রাজগঞ্জ হাট-বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নিয়ে যান সবজি ব্যবসায়ীরা।

রোহিতা ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা এসএম মারুফুল হক জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবজি চাষিদের সবধরণের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া নতুন জাত ও নতুন ফসল সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের পক্ষ হতে প্রর্দশনী প্লটও স্থাপন করা হয় বলে তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মণিরামপুরের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে দৃষ্টি নন্দন সবজি চাষ হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যশোর জেলা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১ ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
ইউটিউব দেখে ড্রাগন চাষে তাক লাগিয়েছেন প্রবাস ফেরত যুবক
কৃষি বিভাগ

দুর্বিসহ প্রবাস জীবনে ইউটিউব দেখে ড্রাগন ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হন যুবক আব্দুল মাবুদ। ফিরে আসেন দেশে। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে উঠে পড়ে লাগেন। পরামর্শ নেন কৃষি বিভাগের। একপর্যায়ে স্বপ্নের সফলতায় মুগ্ধ হন। এখন মাবুদ অন্যকে পরামর্শ দেন বিদেশ নয় দেশেই সমপরিমান শ্রম দিয়ে বৈদেশিক পর্যায়ের অর্থ উপার্জন সম্ভব। এরজন্য দরকার সুন্দর পরিকল্পনার সাথে একাগ্রতা।

মাবুদ পরীক্ষামুলক এক বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল এবং তিনবিঘা জমিতে মাল্টা বাগান শুরু করেন। তার সফলতা দেখে এলাকার অন্যরাও ড্রাগন ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন । এবং ড্রাগণ, মাল্টা, কাগজি লেবু ইত্যাদি চাষ করছেন।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মহিষা খোলা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে আব্দুল মাবুদ। পরিবারে তিন বোন এক ভাই। পিতার সংসারের হাল ধরতে ২০১৫ সালে মালয়েশিয়া যান। পরিবার পরিজন ছেড়ে প্রবাস জীবনে নানা কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। অনেক টাকা ধারদেনা করে বিদেশে গেলেও আর্থিক অনটনের মধ্যেই থাকতে হতো বেশির ভাগ সময়। বিদেশে বসেই স্বপ্ন দেখেন দেশে কৃষি কাজ করেও সাবলম্বী হওয়া যায়।

ইউটিউব আর ইন্টারনেটে দেখতে থাকেন কৃষি প্রকল্পের নানা অনুষ্ঠান। প্রবাসে বসেই পরিকল্পনা করেন দেশে ফিরে ফলের চাষ করার। ২০১৮ সালের শেষদিকে দেশে ফিরে আসেন আব্দুল মাবুদ।

নাটোর জেলা থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজ জমিতে ৪০ শতাংশ ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন। এক বিঘা জমিতে সিমেন্ট আর রডের পিলার, চারা ও পরিচর্যা দিয়ে খরচ হয় প্রায় চার লাখ টাকা। ড্রাগন গাছে ফল দেয়া শুরু করলে তেমন খরচ নেই। একেকটি গাছ এক টানা ১০ থেকে ১৫ বছর ফল দিতে পারবে। প্রথম পর্যায়ে লাভের মুখ দেখেন আব্দুল মাবুদ। বর্তমানে তিন বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ করেছেন। ড্রাগন ফল দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন জেলাতেও চাহিদা রয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায়। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। প্রবাস ফেরত যুবক আব্দুল মাবুদের ড্রাগন ফলের আবাদ দেখে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন ড্রাগন ফল চাষে।

মেহেরপুরের কৃষক বানাত আলী বলেন- আমাদের প্রতিবেশী আব্দুল মাবুদ বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে ড্রাগন ফল চাষ করে লাভবান হয়েছে। আমরাও পরামর্শ নিতে এসেছি ড্রাগন ফল চাষের জন্য।

গাংনী উপজেলার মহিষাখোলা গ্রামের আব্দুল জাব্বার বলেন- আব্দুল মাবুদ ড্রাগন চাষে লাভবান হচ্ছে এমন খবর শুনে আমাদের ছেলেদের পরামর্শে বাগান দেখতে এসেছি। আব্দুল মাবুদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তার কাছ থেকেই ড্রাগন ফলের চারা নিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করবো।

বাগানে ড্রাগন ফল ক্রয় করতে আসা গাংনীর আমজাদ হোসনে বলেন- এ প্রথম ড্রাগন ফল খেলাম। সুস্বাদু পুষ্টিগুণের ড্রাগণ দেখতে সুন্দর। পুষ্টিবিদরাও ড্রাগন ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি। করোনাকালীন মুহুর্তে ড্রাগন ফল খাওয়া দরকার মনে করেই এখানে এসেছি ড্রাগন ফল ক্রয় করতে।

প্রবাস ফেরত বাগান মালিক আব্দুল মাবুদ বলেন- আমি পাঁচ বছর মালয়েশিয়াতে ছিলাম। প্রবাস জীবন অনেক কষ্টের। সেখানে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। বিদেশে আগের মত আর আয় নেই। সেখানে বসেই আমি স্বপ্ন দেখি। দেশে ফিরে সেই পরিশ্রম করতে পারলে অনেক টাকা আয় করা সম্ভব। ইন্টারনেট ও ইউটিউব দেখে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করি। নাটোর জেলা থেকে ৬৫ টাকা করে প্রতি পিস ড্রাগন ফলের চারা ক্রয় করি এবং তা নিয়মানুযায়ী রোপণ করি। এখন আমার তিন বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ রয়েছে। আমি চারা তৈরী করেছি। অনেকেই ছাঁদ বাগানের জন্য এবং আবাদি জমিতে রোপণের জন্য চারা কিনতে আসছেন। এলাকায় ড্রাগন চাষের পরিধি বৃদ্ধিতে খুব কম মূুল্যে চারা বিক্রি করছি। আমি চাই আমার মত অনেক যুবকই শিক্ষিত হয়ে বাড়িতে বসে না থেকে ড্রাগন ফলের চাষ করে লাভবান হোক।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন- ড্রাগন একটি বিদেশী ফল। এ ফলে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। দেখতে সুন্দর এবং খেতেও অনেক মজা। বাজারে চাহিদা এবং দাম দুটোই ভালো পাচ্ছে। প্রবাস ফেরত যুবক আব্দুল মাবুদ হতাশ না হয়ে ড্রাগন চাষে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সর্বাত্মক পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। অনেকেই নতুন করে আবাদের জন্য আমাদের কাছে আসছেন আমরা তাদেরকেও পরামর্শ দিচ্ছি। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ১:৩৪ অপরাহ্ন
প্রান্তিক কৃষকদের সাথে রাবি শিক্ষার্থীরা
কৃষি বিভাগ

গ্রামীণ অর্থনীতির স্থবিরতা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষে কৃষি উপকরণ নিয়ে দরিদ্র্য ও অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘টেকসই কৃষি প্রকল্প-২০২১’-এর আওতায় পর্যায়ক্রমে তিনটি জেলার সাত উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের কাছে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে।

শুক্রবার এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী ইউনিয়নের পূর্বভাটদী গ্রামের ২০ কৃষকের মাঝে সার বিতরণ করে রাবি শিক্ষার্থীরা।

‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ২০২১’ আয়োজনের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীদের নিরলস পরিশ্রম এবং স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার ফলেই আমাদের এই প্রোগ্রামটা সফল হয়েছে, আমি সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’

নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে তাদের নিয়ে আমাদের আরও বড় ধরনের পরিকল্পনা আছে।’

আরো পড়ুনঃ খুবিতে টেকসই কাঁকড়া চাষ এর উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
১৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি করবেন দেলোয়ার!
কৃষি বিভাগ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে ফলের বাগান দেখে তিনি ফল চাষে আগ্রহী হন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন। পরে গ্রামের বাড়ি ফিরে নিজেদের জমিতে পেয়ারা গাছ লাগিয়ে ফলের বাগান শুরু করেন। নিরন্তর চেষ্টা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আরও বড় সাফল্যের পেছনে ছুটে চলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা দেলোয়ার।

জানা যায়, ২০১৫ সালে ১০০ পেয়ারা গাছের চারা দিয়ে ফলের বাগান শুরু করেন দেলোয়ার। ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাগানে প্রথম ৮৫টি মাল্টাগাছ লাগান। বর্তমানে তার বাগানে ১ হাজার ১০০টি গাছে মাল্টা ধরেছে।

চলতি মৌসুমে শুধু মাল্টাই সাত লাখ টাকায় বিক্রি করার আশা করছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, সাত লাখ টাকায় মাল্টা বিক্রি হলে সব খরচ বাদে লাভ থাকবে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাগানের অন্যান্য ফল বিক্রি করেও বেশ মুনাফা পাবে। আগামী বছর উৎপাদন খরচ কমে যাবে, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তখন আরও বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি জানান।

দেলোয়ার পর্যায়ক্রমে বাগানের জমির আয়তন ও বিভিন্ন ধরনের ফলগাছের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে প্রায় ৬০০ শতাংশ জমিতে ৪ হাজার পেয়ারা, ১১০০ মাল্টা, ৬০০ লেবু, ৩০০ কলা, ৩৫০ পেঁপে, বারোমাসি ২৬০ আম, দার্জিলিংয়ের কমলা ৮৫, চায়না কমলা ৬৪, বারোমাসি আমড়া ৪০, লটকন ৩০, কতবেল ২৫, জাম্বুরা ২০, কাশ্মিরিকুল ও বনসুন্দুরী ১৪০টি, ডালিম ৮, চেরি ফল ৬, বাউকুল ও আপেলকুল বরই ও রামবুটানগাছ ৪টি। এসব গাছে বেশ ফলও ধরেছে। এরই মধ্যে তিনি পেয়ারা, বারোমাসি আমড়া, আম ও পেঁপে বিক্রি শুরু করেছেন।

দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘পেয়ারা দিয়ে বাগান শুরু করলেও পরে মাল্টার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। আমি মাটির গুণাগুণ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তবে আমাদের এই মাটি যথেষ্ট উপযুক্ত। ফল খুবই মিষ্টি। বাজারে বর্তমানে বারি–১ জাতের মাল্টা বিক্রি করছি।

সবুজ মাল্টা মিষ্টি হবে কিনা, তা নিয়ে মানুষের সংশয় আছে। তবে লোকজন এসে মাল্টা খেয়ে কিনে নিচ্ছেন।’ আগাছা পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে বাগানের খরচ কমে আসে। পানি দিতে তিনি পাইপ ব্যবহার করেন। যন্ত্রের সাহায্যে তিনি নিড়ানির কাজ করছেন।

দেলোয়ার হোসেন জানান, এ বছর আমার আম বাগানের বিষমুক্ত ৭০ থেকে ৮০ মণ আম কালিয়াকৈরের বোর্ডঘর এলাকার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালে কর্মরত ডাক্তার ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকতাদের কাছে বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ আম ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বারোমাসী আম গাছে আগামী তিন মাসের মধ্যে আম আসবে। আমগুলো ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মণে বিক্রি করার আশা আছে বলে তিনি জানান।

দেলোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত চারা সংগ্রহে তার প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাগানের নিরাপত্তা বেষ্টনিতে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে বেদানা বিক্রি শুরু হয়নি। তিনি ৪ লাখ টাকার পেয়ারা, ৭০ হাজার টাকার লেবু, ৬০ হাজার টাকার কলা ও ৬ হাজার টাকার আমড়া বিক্রি করেছেন। চলতি বছর ২ লাখ টাকার মাল্টা, ২ লাখ টাকার পেঁপে ও ৪ লাখ টাকার কাশ্মিরিকুল ও বনসুন্দরী ফল বিক্রি করবেন বলে তিনি জানান। প্রতি মাসে বাগান পরিচর্যা বাবদ ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, বারি–১ জাতের মাল্টা খুবই রসাল ও মিষ্টি। অপরিপক্ব অবস্থায় মাল্টা খাওয়া উচিত নয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দুই একর জমিতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাকে সার, চারা, ওষুধ, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ৯:২৫ পূর্বাহ্ন
গোমতীর চরে সাদা মুলার হাসিতে খুশি কৃষক
কৃষি বিভাগ

করোনায় অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও এবার সেই রেশ কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে কুমিল্লার চাষিরা।দীর্ঘ এক মাসের শ্রমে-ঘামে সবুজ হয়ে উঠে গোমতীর চর। সবুজ গাছের গোড়ায় মাটি ভেদ করে উঁকি দিয়েছে সাদা মুলা। এই সাদা মুলার এবার গোমতীর পাড়ে বাম্পার ফলন হয়েছে।

জানা যায়, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও বুড়িচং উপজেলার গোমতী নদীর চরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চর থেকে মুলা সংগ্রহ,পরিস্কার করে আটি বাঁধছেন। জমির পাশে অপেক্ষা করছেন পাইকাররা। মুলা সংগ্রহ ও পরিস্কারের পরেই গাড়িতে তোলা হয় মুলা। গোমতী চরের মুলা কুমিল্লা জেলার চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে রাজধানী শহর ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল গ্রামের মুলা চাষী আবুল হোসেন। গোমতী চরে তিনি ৪০ শতক জমিতে মুলা চাষ করেছেন। বীজ সার, কীটনাশক ও কৃষি মজুরি মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এখন সেই মুলা বিক্রি করেছেন ৭৫ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ১ মাসেই তার মুনাফা হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা।

আর এ কারনেই তৃপ্তির হাসি লেগেছে সবজি চাষী আবুল হোসেনের চোখে মুখে। এই মুলা কিনেছেন চট্টগ্রামের পাইকারী সবজি ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান। তিনি বাসসকে জানান, ৭০ হাজার টাকার মুলার সাথে বহন খরচ হবে আরো ১০ হাজার টাকা। এই মুলা বিক্রি করবেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। চট্টগ্রামের মুলার চাহিদা বেশী হওয়ায় সেখানের হাটবাজারে এই মূলা বিক্রি করবেন বলে তিনি জানান।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, গোমতীর চরে মুলার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকের সাথে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখায় বাম্পার ফলন হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ ৬:০৪ অপরাহ্ন
গরু পালনে খামার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যা করবেন
কৃষি বিভাগ

আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকহারে গরু পালন করা হয়ে থাকে। গরু পালনের মাধ্যমে অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী। একটি খামার মানসম্মত ভাবে, সঠিক উপায়ে, লাভজনক ভাবে এবং সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করার নামই খামার ব্যাবস্থাপনা। গরু পালনে লাভবান হওয়ার জন্য যথাযতভাবে খামার ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

খামারের জন্য স্থান নির্বাচনঃ
আমরা পরিবার ভিত্তিক ক্ষুদ্র খামার স্থাপনের জন্য আমাদের বাড়ির অ-ব্যবহারিত স্থান বেছে নিতে পারি। এ স্থানটি সাধারনতঃ বাড়ীর পুর্ব অথ বা পশ্চিম দিকে হলে ভাল হয়। সর্ব মোট ১০ টি গরুর জন্য ৩০০ বর্গ ফুট জায়গার প্রয়োজন। গরুর ঘর থেকে ২০/২৫ ফুট দূরে একটি ছোট ডোবা থাকবে যাতে সেখানে গরুর মল-মূত্র ফেলা যায়। এ ছাড়া মল মুত্র থেকে জৈব সার ও বায়ো গ্যাস উৎপাদনের জন্য বায়ো গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে লাভজনক ভাবে খামারের বর্জ ব্যবস্থাপনা করা যায়।

গরুর শেড নির্মানঃ
একটি পুর্ন বয়স্ক গরুর জন্য সর্ব সাকুল্যে ২৮-৩০ বর্গ ফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। এ হিসেবেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক গরুর জন্য শেড নির্মান করতে হবে। গরুর শেড পূর্ব – পশ্চিমে লম্বা হলে ভাল হয়। শেডের ফ্লোর, খাবার পাত্র, পানিরপাত্র ইত্যাদি পাকা হওয়া প্রয়োজন। উপরে টিন অথবা ছনের ছাউনি দেওয়া যেতে পারে। শেডের নিকটস্থ গাছ ও ডালপালা কেটে ফেলে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। শেডে পানীয় জলের সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশনের ব্যাবস্থা থাকতে হবে। খামারের চারপাশে উচু মজবুত বেষ্টনী তৈরী করতে হবে যাতে চোরের হাত থেকে খামারের গরু ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিষ-পত্র রক্ষা করা যায়।

খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাঃ
গোবর গবাদি পশু থেকে পাওয়া একটি অর্থকরী সম্পদ। গোবর থেকে আমরা বায়ো গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করতে পারি যা থেকে জ্বালানী ও ফসলি জমির উৎকৃ্ষ্ট সারের চাহিদা পুরন করা সম্ভব। এ ছাড়া , মাছের জলজ খাদ্য উৎপাদনে পুকুরে গোবর ব্যবহার করা হয়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop