৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ৬, ২০২১ ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
বর্তমান সরকারের আমলে দেশে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

বর্তমান সরকারের আমলে দেশে নারীর ক্ষমতায়নে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক।

শুক্রবার (৫ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী সরকারি কলেজে ‘নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী; তিনি ১৭ কোটি মানুষকে অত্যন্ত সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকারসহ অনেক শীর্ষপদে নারীরা আজ অধিষ্ঠিত। তবে কয়েকজন নারীর ক্ষমতায়ন হলেই হবে না। ১৭ কোটি মানুষের অর্ধেক—প্রায় সাড়ে আট কোটি নারীর ক্ষমতায়ন করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তারই অংশ।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় ধনবাড়ী উপজেলার চারটি ভেনুতে মোট ৪০০ নারী তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দুই মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ পাবেন বলেও তিনি জানান।

এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি। স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা।

ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউল আলম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হারুনার রশীদ হীরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর ফারুক আহম্মদ, আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ড. মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৫, ২০২১ ১২:৩০ অপরাহ্ন
করোনায় কর্মহীন, করোনাতেই উদ্যোক্তা ছয় তরুণ
কৃষি বিভাগ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা কর্মহীন করেছে অনেক মানুষকে। সুনামগঞ্জ শহরতলির লালপুর গ্রামের ছয় তরুণ তাদের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কর্ম হারিয়ে তারা ভাবতে থাকেন কী করা যায়। অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন সূর্যমুখী ফুলের চাষ। গড়ে ওঠে বাগান। নাম দিয়েছেন ‘স্বপ্ন ছোঁয়া সানফ্লাওয়ার গার্ডেন’। এখন তাদের বাগানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

এই ছয় তরুণ হলেন- নজরুল ইসলাম, রেজাউল করিম, রুকনউদ্দিন, ফরহাদ আহমদ, পারভেজ আহমদ ও রুবেল হোসেন। প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার টাকা আয় করছেন আসা দর্শনার্থীদের কাছে টিকিট বিক্রি করে।

গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের স্বাধীন বাজারের পাশে প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে এ বাগান করেছেন তারা। জমি তৈরি ও বীজ কেনা বাবদ খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। বাগানের ভেতরে বাচ্চাদের দোলনা ও অন্যান্য আসবাবপত্র দিয়ে সাজাতে খরচ হয়েছে আরও ২৫ হাজার টাকা। এই দুয়ের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে তাদের ‘স্বপ্ন ছোঁয়া সানফ্লাওয়ার গার্ডেন’।

বাগানে প্রতিটি গাছে ফুল ফোটায় পুরো জমিজুড়ে তৈরি হয়েছে অভাবনীয় এক সৌন্দর্য। সূর্যের দিকে মুখ করে ফুটে থাকা ঘন ফুলের সমারোহ সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষদের সড়ক থেকে বাগানে টেনে আনছে। পুরো বাগানে এখন হলুদের আগুন। শিমুল বাগান, শহীদ সিরাজ লেক, টাঙ্গুয়ার হাওর ও বারেকের টিলায় যাওয়ার রাস্তায় পড়ে বাগানটি। এসব জায়গায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা যাত্রাপথে বাগানে নেমে ছবি তুলছেন, সেলফি তুলছেন, ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে সূর্যমুখী বাগানের ছবিতে ফেসবুক সয়লাব। অনেকেই নিজের বা বন্ধুবান্ধব সমেত ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। এসব পোস্ট দেখে বাগান দেখতে আগ্রহী লোকের সংখ্যা বাড়ছে।

বাগানের মালিক ফরহাদ আহমদ জানালেন, তিনি ছোটখাটো একজন ব্যবসায়ী। করোনাকালে ব্যবসায় লোকসান হয়। কী করবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। তখন মাথায় এই পরিকল্পনা আসে। গেল বছরের ডিসেম্বরে জমি তৈরি করে সূর্যমুখী ফুলের বীজ বপন করেছেন। এখন বাগানের প্রায় সব গাছেই ফুল চলে এসেছে। দর্শনার্থীও আসছেন। আয়ও হচ্ছে। বাগানের ভেতরে বাচ্চাদের দোলনা, ছবি তোলার ফ্রেম, বসার ব্যবস্থাও রয়েছে। এখন ফুল ফুটেছে। অনেক দর্শনার্থী আসছেন। তাদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নিচ্ছেন। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৬০০ দর্শনার্থী হয় বাগানে। এতে এক দিনে সর্বোচ্চ ছয় হাজার টাকা আয়ও হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩, ২০২১ ১০:২৪ অপরাহ্ন
সেচ সংকটে বাউফলে বোরো ধানের চাষাবাদ ব্যাহত
কৃষি বিভাগ

পটুয়াখালীর বাউফলে সেচ সংকটে বোরো ধানের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি সুযোগ না পেয়ে অধিকাংশ কৃষক চড়া দামে পাম্প ভাড়া নিয়ে বোরো ধান চাষ করছেন।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে সেচনালা নির্মাণ করায় তা কৃষকের কোনো উপকারে আসছে না বলে অভিযোগ। কৃষকরা জানান, জৌতা-নওমালা-বগা খালটি খনন না করায় স্থানীয় কৃষকরা বোরো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বাউফল উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর করোনাভাইরাস ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে কাক্সিক্ষত আমন ধানের উৎপাদন হয়নি। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বোরো ধান চাষে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাউফলে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হলেও এ বছর ৩ গুণ বাড়িয়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে।

চন্দ্রপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন সূর্যমণি গ্রামের মিজান গাজী জানান, তিনি এ বছর দেড় একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ টাকা করে পাম্প ভাড়া করে এনে তিনি খেতে পানি দিচ্ছেন। পানির কারণে বোরোর উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

এদিকে বাউফলের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে সেচনালা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সূর্যমণি ইউনিয়নের রামনগর ক্লাবঘর এলাকায় ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ করে বিএডিসি। নির্মাণের পর থেকে একদিনের জন্য এ সেচনালা ব্যবহার হয়নি বলে জানান রামনগর সেচ প্রকল্পের সভাপতি হাফিজুর রহমান মুন্সি। একই অবস্থা বীরপাশা ও সূর্যমণি সেচ প্রকল্পের।

বিএডিসি সূত্র জানায়, বাউফল উপজেলায় ২২ কিলোমিটার সেচনালা নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় ১৯ কিলোমিটার সেচনালা কৃষকের কোনো উপকারে আসছে না। এভাবে নির্মাণের পর অধিকাংশ সেচ প্রকল্পই চালু করা হয়নি।

তবে অপরিকল্পিতভাবে সেচনালা নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে বাউফল বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোশারেফ হোসেন বলেন, শুধু বিদ্যুৎ বিল দিয়ে কৃষকরা প্রতিটি সেচ প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। কৃষকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকায় তারা সেচ প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারছেন না বলে দাবি তার।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, সেচনালা নির্মাণের ক্ষেত্রে বিএডিসির সঙ্গে কৃষি বিভাগের কিছুটা সমন্বয়হীনতা রয়েছে। যেখানে চাহিদা বেশি সেখানে সেচনালা নির্মাণ করা হয় না বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩, ২০২১ ৮:৩০ অপরাহ্ন
পাহাড়ে বেড়েছে আগাম জাতের আনারস চাষ
কৃষি বিভাগ

পাহাড়ের টিলা ভূমিতে জুম চাষের পরিবর্তে এখন চাষ হচ্ছে আগাম জাতের রসালো ফল আনারস। ফল চাষে অধিক লাভের সম্ভাবনার মুখ দেখছেন চাষিরা। টিলা ভূমিতে চাষ করা আনারস রসালো ও সুমিষ্ট হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে সমতলের বিভিন্ন হাট-বাজারে।

জানা যায়, পাহাড়ি জেলাগুলোতে আনারসের মৌসুম ছাড়াই বিগত কয়েক বছর ধরে আগাম ফলন আসায় আনারস চাষ হচ্ছে ব্যাপক হারে। এতে মৌসুমে উৎপাদিত আনারসের থেকে আগাম আনারসে বাড়তি লাভ করতে পারেন চাষিরা।

মৌসুমের আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে ‘হানিকুইন’ জাতের আনারস। এতে বাড়তি লাভের মুখ দেখছেন পাহাড়ি কৃষক পরিবারগুলো। খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে বাহির থেকে আসা ব্যবসায়ীরা আনারস কিনে নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। এতে করে লাভবান হচ্ছে কৃষক এবং ব্যবসায়ী দুজনেই।

এদিকে-নানিয়ারচর বিভিন্ন এলাকা থেকে আনারস চাষিরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে আনারস নিয়ে আসছেন মহালছড়ি ভাসমান পাইকারি বাজারে। সেখান থেকে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পাইকাররা পাইকারি দরে আনারস কিনছেন।

মহালছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার জানান, আগাম আনারস চাষ হওয়ায় কৃষকরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। পাইকারদের কাছে তারা এখন ১৪-২০ টাকা দরে আনারস বিক্রয় করছেন। পাইকাররা বাহিরে নিয়ে সেই আনারস ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রয় করছেন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। এখানকার আনারস এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। এতে চাষিরা আনারস চাষের দিকে ঝুঁকছে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ১১:৫৮ অপরাহ্ন
বাড়ির ছাদে হরেক রকম ফুল-ফল-সবজি চাষে সফল মিন্টু
কৃষি বিভাগ

পেশায় ঠাকুরগাঁও শহরের ঘোষপাড়া এলাকার মিন্টু আহমেদ একজন ব্যবসায়ী। শহরে দুই হাজার ১০০ স্কয়ার ফিট আয়তনের পাঁচতলা ছাদে জলপাইসহ ২০০টি টবে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের ফুল, ফল ও সবজির গাছ লাগিয়ে ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন তিনি। মিন্টুর মতো ঠাকুরগাঁও শহরে অনেকেই ছাদ কৃষিতে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন।

মিন্টুর ছাদে দেখা যায়, কয়েক রকমের আম, জাম, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, সফেদা, তেঁতুল, আঙুর, ড্রাগন, করমচা। শাকসবজির মধ্যে লাউ, টমেটো, শসা, তরই, ক্যাপসিকাম, কারিপাতা, লেটুস পাতা ও ধনেপাতা। ওষধি গাছের মধ্যে রয়েছে অ্যালোভেরা, তুলসী, আমলকী, অর্জুন। ফুলের মধ্যে আছে ক্যাকটাস, ডালিয়া, নাইটকুইন, অর্কিড, কাটা মুকুট, অপরাজিতা ইত্যাদি। আঙুর ফলের মাচায় ঝুলছে শসা, লাউ আর তরই।

মিন্টু বলেন, প্রথম ২০১৫ সালে কয়েকটি ফুলের গাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। তারপর আস্তে আস্তে সবজি ও ফল গাছ লাগাই। পরিমাণে কম হলেও বছরের সব সময়ই কোনো না কোনো গাছের ফল খেতে পারি। তার এই বাগানের পরিচর্যা দেখে আশপাশের অনেকেই এখন ছাদ কৃষি গড়ে তুলেছেন। অনেককে তিনি চারা ও বীজ সরবরাহও করেন।

ছাদে শতাধিক টবে গাছ লাগানো আছে গোয়ালপাড়া এলাকার তুহিন প্রধানের। তিনি বলেন, অন্য সময়ে তেমন যত্ন নিতে না পারলেও বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতে থাকায় ছাদ বাগানের যত্ন নিতে পারছেন।

ঠাকুরগাঁও শহরে দুই তলা থেকে শুরু করে পাঁচতলা তিন শতাধিক ভবন আছে বলে জানান পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বলেন, ছাদ কৃষি যেহেতু পরিবেশে রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। গুরুত্ব দিয়ে কেউ এই ছাদ কৃষির উদ্যোগ গ্রহণ করলে সেই বাড়ির পৌর করের বিষয়েও শিথিলতা আনা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও শতাধিক ভবনের ছাদে ছাদ কৃষি আছে। প্রতিটি ছাদে ৬০ থেকে শুরু করে তিন শতাধিক ফুল ও ফলের গাছ রয়েছে। তবে শহরের ঘোষপাড়া, হাজীপাড়া, শাহাপাড়া, সরকারপাড়া, ইসলামনগর এলাকায় ছাদ কৃষিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, ছাদ কৃষির একটি বড় সুবিধা হচ্ছে, ছাদ সব সময়ের জন্য ঠাণ্ডা থাকে। এক দিকে পরিবেশ রক্ষা হয়। অন্যদিকে পারিবারিক সবজি চাহিদা ও পুষ্টির জোগান দেওয়া সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা কৃষির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন। সেই জায়গা থেকে ছাদ কৃষির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যারা ছাদ কৃষি শুরু করেছেন, তাদের নিয়ে একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়েছে। গাছের টবে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা ছাড়াও নিয়মিত গাছের পরিচর্যার কথা বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ইতোমধ্যে ছাদ কৃষির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলার সব সরকারি অফিসের ছাদে এই ছাদ কৃষি গড়ে তুলতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ১১:০৯ অপরাহ্ন
মেছড়ার চরে এসএমইর প্রদর্শনীর মাঠ দিবস ও প্রণোদনা কার্যক্রম পরিদর্শন
কৃষি বিভাগ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ সদর এর আয়োজনে মেছড়ার চরে এসএমইর প্রদর্শনীর মাঠ দিবস ও প্রণোদনা কার্যক্রম পরিদর্শনীর উপর মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে কৃষক পর্যায়ে উন্নত মানের ডাল,তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) এর আওতায় এসএমই প্রদর্শনীর উপর মাঠদিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মেছড়া ইউনিয়নের রুপসা গ্রামে রুপসা স্কুল মাঠে মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপ পরিচালক, কৃষিবিদ মোঃ কামাল উদ্দিন তালুকদার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জ জেলার উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আবু হানিফ। উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ আরিফুর রহমান, অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান), কৃষিবিদ মোঃ রোস্তম আলী, উপজেলা কৃষি অফিসার, সিরাজগঞ্জ সদর ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আব্দুল মজিদ ভুঁইয়া।

মাঠ দিবস শেষে কর্মকর্তাগণ মেছড়া ইউনিয়নের প্রণোদনা ও পুর্নবাসন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী গম,ভুট্টা,সুর্যমুখীসহ
বিভিন্ন ফসল ক্ষেত পরিদর্শন করেন। অতিথিবৃন্দ চরের বৈচিত্রময় ফসল পরিবেক্ষণ ও সফল ভাবে প্রণোদনা ও পুর্নবাসন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মেছড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সদর উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ১০:০০ পূর্বাহ্ন
খুলনায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিনা চাষে আলু আবাদ
কৃষি বিভাগ

খুলনার কয়রা উপজেলায় বিনা চাষে আলুর আবাদ করা হচ্ছে। দিন দিন এই পদ্ধতি কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো চাষ ছাড়াই কাদার মধ্যে রবি ফসল আলু উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে কৃষক।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ এমএলটি সাইট কয়রা কৃষকদেরকে আলু উৎপাদনে দিচ্ছেন ফ্রি বীজ, সার, কীটনাশক ও নানান রকম পরামর্শ।

২০২০ সালে কয়রা উপজেলার কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩নং কয়রা গ্রামে রবীন্দ্র ঢালী ১৬ শতাংশ জমিতে বিনা চাষে আলু আবাদ শুরু করেন। তার এ অভিনব চাষাবাদ দেখে এলাকার অনেক কৃষক সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগের পরামর্শক্রমে বিনা চাষে আলু আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন।

কৃষক আব্দুল হালিম জানান, বিগত বছর স্থানীয় কৃষক রবীন্দ্র ঢালীর বাড়িতে বিনা চাষে আলু উৎপাদন দেখে তার মধ্যে আগ্রহ জাগে। তিনি বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরই সরেজমিন গবেষণা বিভাগের সহযোগিতায় পানি সরে যাওয়ার পরই কাদার মধ্যে ৩৩ শতক জমিতে বিনা চাষে আলু রোপন করেন। উক্ত আলুর খেতে খড়কুটা দিয়ে ঢেকে দেন।

মহারাজপুর গ্রামের আব্দুল হালিম ও রবীন্দ্র ঢালী বিনা চাষে আলু চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এদিকে, বিনা চাষে আলুর বাম্পার ফলন দেখে আগামীতে এ ধরনের আলু আবাদ বৃদ্ধি পাবে এমনটি ধারণা অনেকের।

উপকূলীয় লবণাক্ত জমিতে আলুর ভালো ফলন দেখে কৃষি গবেষণা বিভাগ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা এ পদ্ধতিতে আলু চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন।

তারা বলছেন, কম খরচ, কম সার ও পানি ব্যবহার করে বেশি ফসল পাওয়া যাবে।

ওই বিভাগের এমএলটি সাইটের কয়রার দায়িত্বরত বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান এলাকায় পতিত জমি দেখে বিনা চাষে আলু রোপন করতে উদ্বুদ্ধ করেন কৃষকদের।

প্রথমে কেউ রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে ঝুঁকি নেন কৃষক আব্দুল হালিম। ৩৩ শতক জমিতে রোপন করেন ২২০ কেজি আলুর বীজ। কৃষক আব্দুল হালিমের বিশ্বাস ছিল না বিনা চাষে গাছের গোড়ায় এত আলু হবে।

আব্দুল হালিমের স্ত্রী তানজিলা বিনা চাষের আলুর খেতের নাড়া সরিয়ে গাছ তুলে দুই হাত ভরে আলু দেখিয়ে বলেন, আলুর আকার বেশ বড়। কয়েকদিন পর বাজারে বিক্রি করা যাবে।

চাষের ধরণ ব্যাখ্যা করে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শাহাদাৎ বলেন, ধান কাটার পর জমি তখনো পুরোপুরি শুকায় না, জমিতে কাদা থাকে। সেই কাদা মাটির ওপর দড়ি টানিয়ে সারি সোজা করে বীজ আলু বসিয়ে দিতে হয়। আলুর ওপর গোবর ছড়িয়ে তার ওপর নাড়া দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলে আমন ধান কাটার পর বিস্তীর্ণ জমি পতিত থাকে। মূল কারণ দীর্ঘ জীবনকাল সম্পন্ন আমন ধান, এটেল মাটি, স্বল্পমেয়াদি শীত এবং জমিতে ‘জো’ না আসা। এই সব প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত লবণ ও তাপ সহনশীল আলুর জাত বারি আলু- ৭২, ৭৩, ও ৭৮ এ ধানের খড় ব্যবহার করে বিনা চাষে আলু উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। যা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য মুজিব শতবর্ষের এক নতুন উপহার।

তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে খরচ কম, চাষের প্রয়োজন নেই। মাটিতে লবণ উঠার আগেই বাড়তি একটা ফসল ঘরে তুলতে পারা যায়।সূত্র : ইউএনবি

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২১ ৮:৪০ পূর্বাহ্ন
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে কৃষি অর্থনীতিবিদদের শ্রদ্ধা
কৃষি বিভাগ

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।

সোমবার (১ মার্চ) দুপুরে তারা শ্রদ্ধা জানায়। সমিতির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান, সমিতির সহ-সভাপতি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, খাদ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ।

এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিজানুল হক কাজল, যুগ্ম-সম্পাদক মিটুল কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মো. গোলাম ফারুকসহ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১, ২০২১ ১০:৩৫ অপরাহ্ন
রাঙ্গুনিয়ায় সরিষা ক্ষেতে মধু উৎপাদনে সফল চাষিরা
কৃষি বিভাগ

রাঙ্গুনিয়ায় সরিষা ক্ষেতে মধু উৎপাদন করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন চাষিরা। এতে তারা আর্থিকভাবেও দারুণ লাভবান হয়েছেন। ভালো লাভ হওয়ায় এলাকায় সরিষা ও মৌচাষে আগ্রহ বাড়ছে। বসন্ত বাতাসে মাঠে দোল খাচ্ছে সরিষা গাছ। সরিষা ক্ষেতে স্থাপন করা হয়েছে মৌ-বাক্স। কিছুদিন পরপর সরিষা ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে মধু। ক্ষেতে মৌমাছির আনাগোনা বেড়ে যায়, সরিষার ফলনও হয়েছে দারুণ।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ায় সরিষার আবাদ ভালো হয়। তাই যারা সরিষা চাষাবাদ করেন তাদের মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করা গেলে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। এতে একদিকে সরিষার উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে অল্প খরচে মৌচাষ করে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রাঙ্গুনিয়ায় সরিষার চাষ বেড়েছে। গত বছর ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। এবার ১০২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে সরিষার। অল্প পরিশ্রম, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সরিষা চাষে দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে কৃষকদের সরিষার পাশাপাশি মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে একজন কৃষককে প্রায় ৫৪ হাজার টাকার মৌচাষের সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে মৌ-বাক্স, মধু সংগ্রহের মেশিন, ড্রাম, ওজন মেশিন।

স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের সরিষা চাষি আবদুল সালাম বলেন, ‘আমি এবার ১ একর জমিতে সরিষার চাষ করেছি। এতে আমার ৫-১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবাদের মাত্র ৭০-৭৫ দিনের মধ্যে ফলন এসেছে। ১ হেক্টর জমিতে ২ থেকে আড়াই টন সরিষা পাওয়া যায়।’ তিনি বলেন, প্রতি কেজি সরিষা ৬০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। ৩ কেজি সরিষা থেকে ১ কেজি তেল এবং ১ কেজি খৈল পাওয়া যায়। খৈল গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১ কেজি তেলের দাম ২৫০-২৮০ টাকা এবং ১ কেজি খৈল ২৫-৩৫ টাকায় বিক্রি করা যায়। সরিষার পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে মৌ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, ‘রাঙ্গুনিয়ায় আগে মৌ-চাষ হতো না বললেই চলে। তাই এখন মৌ-চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ কার্যক্রম শুরুহয়েছে। এবার একজন কৃষকের মাধ্যমে সরিষার পাশাপাশি মৌ-চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি মধু আহরণ শুরু করেছেন। তার সাফল্যের কথা শুনে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।’ এবছর সরিষার পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়ায় নতুন করে পেঁয়াজ, গমসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ ভালো হয়েছে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান জানান, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে সরিষার চাষাবাদ ও ফলন হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার চাষাবাদ বেড়েছে, সরিষা ক্ষেতে মৌ-চাষে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন চাষিরা। সরিষার ক্ষেতে মৌমাছি ফুলের ওপর বসলে পরাগায়নে ফসলের পুষ্টি বৃদ্ধি হয়। শুধু সরিষাই নয়, মৌমাছি ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে নানা ধরনের রবি শস্যের ফলন বৃদ্ধি করে।”

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১, ২০২১ ৯:১৬ অপরাহ্ন
মেহেরপুরের কপি এখন বিশ্ববাজারে
কৃষি বিভাগ

মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের পর এবার তাইওয়ানের বাজারে মেহেরপুরে উৎপাদিত নিরাপদ সবজি পাতাকপি যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬’শ মেট্রিকটন কপি রপ্তানী হয়েছে। বিশ্ব বাজারে কপি রপ্তানিতে চাষিরা উৎসাহ পাচ্ছে কীটনাশকমুক্ত কপি চাষে। সঠিক দাম পেলে আগামীতে মেহেরপুরের মাঠময় কপিচাষ হবে বলে কৃষিবিভাগসহ সব শ্রেণীর মানুষ আশা করছেন।

কৃষিনির্ভর মেহেরপুর জেলায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। দেশের সবজি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে মেহেরপুরের কৃষকদের। এবার নিরাপদ সবজি হিসেবে অগ্রাধিকার পেয়েছে গাংনী উপজেলার চাষিদের উৎপাদিত পাতাকপি। গাংনীর পাতাকপি এখন মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানে যাচ্ছে। এ রপ্তানীতে সবজি চাষের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কৃষিবিভাগ। আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ও বিদেশে নিরাপদ সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে মেহেরপুর। এভাবে বিদেশে বেশি বেশি রপ্তানী করতে পারলে চাষিরা যেমন উপকৃত হবে তেমন আর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা। এ লক্ষ্যে কীটনাশক সহনশীল ও নিরাপদ সবজি হিসেবে পাতাকপি চাষ করছেন মেহেরপুরের চাষিরা। ইতোমধ্যে ৬শ মেট্রিকটন পাতা কপি সংগ্রহ করছেন রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান। ক্ষেত থেকে সাদা কাগজে মুড়িয়ে বস্তা ভর্তি করে রপ্তানী উপযোগী করা হচ্ছে। রপ্তানীকারকদের মাধ্যমে বাঁধাকপি বিক্রি করে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভবান হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চুক্তিবদ্ধ বেশ কয়েকজন কৃষক। রপ্তানীকারকরা কৃষকের জমি থেকেই নিরাপদ বাঁধাকপি সংগ্রহ করেছেন।

এগ্রো ফ্রেশ নামের একটি রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানটি গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুধুমাত্র গাংনী উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে বাঁধাকপি সংগ্রহ করছেন।

সরেজমিনে গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি গ্রামের কৃষক আজগর আলীর পাতাকপির জমিতে গিয়ে দেখা যায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনায় পাতাকপি ক্ষেত থেকে সংগ্রহের আগেই নিরাপদ সবজির প্রক্রিয়া করা হয়। কপি সংগ্রহর পর সাদা কাগজে জড়িয়ে নেট বস্তায় ভর্তি করা হচ্ছে।

কপিচাষি আজগর আলী বলেন, প্রতি বছরেই শীতকালের সবজি চাষে আমাদের লোকসান হয় প্রতিবছর এভাবে সবজি বিদেশে রপ্তানী করতে পারলে আমরা অতি আনন্দে সবজি চাষ বৃদ্ধি করতে পারবো। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সবজি গ্রামখ্যাত সাহারবাটির নিরাপদ সবজি চাষি আবুল কাশেমসহ অনেকেই।

এগ্রো ফ্রেশ নামের রপ্তনীকারক প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার রুবেল আহমেদ বলেন, এবছর চুক্তিবদ্ধ ৪৫ জন কৃষকের ৭৫ একর জমি থেকে নিরাপদ উপায়ে চাষ করা হয়েছে পাতাকপি। জমিতে চারা রোপণের পর থেকে কপি সংগ্রহ করা পর্যন্ত নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে রপ্তানী উপযোগী করা হয়। এ বছর রপ্তানীতে বেশ চাহিদা আছে। গত বছর মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানী করা হয়েছিলো। এবছর নতুন দেশ হিসেবে তাইওয়ানেও রপ্তানী করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬শ মেট্রিক টন বাঁধাকপি রপ্তানী করা হয়েছে। এখনো ৪শ টনের চাহিদা রয়েছে তাই নিবন্ধিত চাষি ছাড়াও অন্যান্য নিরাপদ সবজি চাষির থেকে কপি নেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর আরও অনেক বেশি সবজি রপ্তানী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, কৃষিবিভাগ সব সময়ই নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করে। বিদেশে রপ্তানীর জন্য নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি কর্মকর্তা।-বাসস

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop