কোভিড-১৯ ক্রাইসিসে বাংলার ভেট সমাজের ভুমিকা ও আমার উপলব্ধি
প্রাণিসম্পদ
৯:৪৮ অপরাহ্ন
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চরবেতকান্দি গ্রামে বজ্রপাতে দুটি গরু মারা যায় দরিদ্র কৃষক ফরিদের। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন এই কৃষক। মারা যাওয়া ষাঁড় দুটির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় লাখ টাকা। তার এই অসহায়ত্ব দেখে ফেসবুকে সহযোগিতা চেয়ে পোস্ট দেন মামুন বিশ্বাস নামের এক যুবক। সকলের করা সহযোগিতায় কৃষককে দুটি ষাঁড় কিনে দিয়েছেন মামুন।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে শাহজাদপুরে চরবেতকান্দি গ্রামে ফরিদের বাড়িতে গিয়ে দুটি গরু তুলে দেন তিনি। এর আগে সকালে এনায়েতপুর হাট থেকে ৬২ হাজার ৩০০ টাকায় গরু দুটি কেনেন।
কৃষক ফরিদ বলেন, ‘ষাঁড় দুটির মৃত্যুতে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আজকে সত্যি অনেক খুশি লাগছে নতুন দুটি ষাঁড় পেয়ে। এই গরু দুটি ভালোভাবে লালন-পালন করে আমার স্বপ্ন পূরণ করবে ইনশা আল্লাহ।’
যুবক মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল রাতে কালবৈশাখীর বজ্রপাতে ফরিদের দুটি গরুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আমি সকালে ফরিদের বাড়িতে গেলে সবার কান্নাকাটি দেখে বিস্তারিত ঘটনা লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেই। পোস্ট দেখে আমার ফেসবুক বন্ধুরা ৬২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। সেই টাকা দিয়ে আজকে গরু দুটি কিনে দিলাম।’
করোনায় জনদূর্ভোগ কমাতে সরকারের উদ্যোগে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করায় বেশ উপকৃত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। আর এসব খাদ্যপণ্য তারা পাচ্ছেন একেবারেই কম দামে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শুধ ঢাকা সিটিতেই ২০টি পয়েন্টে চলছে এই কার্যক্রম।
খামারে উৎপাদিত দুধ প্রতি লিটার ৬০, প্রতিপিস ডিম ৬ টাকা ও এককেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। সরকারের এ উদ্যোগে সন্তুষ্ট সব শ্রেণির ক্রেতা।
ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী রফিকুজ্জামান জানান, দেশব্যাপি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে খামারিদের কাছ থেকে কেনা দামেই সরকার ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অস্থায়ী ডিপো থেকে রাজধানীতে দুই শিফটে ২০টি পয়েন্টে প্রতিটি গাড়িতে বিক্রি করা হচ্ছে সাড়ে তিনশ’ লিটার দুধ, দুই হাজার পিস ডিম ও ৫০ কেজি মাংস।
দীর্ঘদিন থেকে গাইবান্ধায় প্রাণিসম্পদ দফতরের (পশু হাসপাতাল) সেবা না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। আর এতে করে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে তাদের। অনেক পুরাতন খামার বন্ধ হয়ে গিয়েছে আবার সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতার অভাবে অনেক নতুন খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ অবস্থায় সাধারণ খামারি ও পশু পালনকারীরা গবাদিপশুকে বাঁচাতে অর্থের বিনিময়ে ব্র্যাক কিংবা যুব উন্নয়ন থেকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাধারণ পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে একদিকে খামারিরা আর্থিকভাবে হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দফতরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তবে প্রাণিসম্পদ দফতর বলছে, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে খামারিদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা শহরসহ ও বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে সরেজমিনে গেলে প্রাণিসম্পদ দফতরের অসহযোগিতার কথা জানিয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। অনেকে সরকারি দফতরের নাম শুনলেও বাস্তবে কোনো ভেটেরিনারি সার্জনের সেবা তো দূরের কথা, চোখেও দেখেনি বলে জানিয়েছেন। এমন চিত্র জেলার সাত উপজেলাজুড়েই।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার চক মোমরোজপুর গ্রামের খামারি গোলাম মোস্তফা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গরুর খামারের সঙ্গে যুক্ত আমি। আমার খামারে বর্তমানে ৭টি গরু আছে। প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে কোনো পরামর্শ কিংবা সহযোগিতা পাইনি। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতেও তাদের দেখা পাইনি আমরা। বাধ্য হয়ে টাকার বিনিময়ে বেসরকারি পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিই আমি।
রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হরিণসিংহা গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি মতিয়ার রহমান বলেন, পশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা সাধারণত গ্রামে আসেন না। গবাদিপশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে তাদের অফিসে নিয়ে যেতে বলা হয়। অফিসে গরু নিতে গেলে কমপক্ষে ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা খরচ হয়। আমাদের মতো ছোট খামারির পক্ষে এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব নয়। কয়েকবার ফোন করার পর যদি কোনো চিকিৎসক আসেন, চিকিৎসা শেষে তাদের আবার তেল খরচ বাবদ টাকা দিতে হয়।
একই গ্রামের ইসলাম আকন্দ বলেন, পশু হাসপাতালের নাম শুনি। অনেকে সেবা পায়। কিন্তু ৩০ বছর থেকে গরু পালন করি, তাদের কোনো সেবা পাইনি আমি। গত বছর সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার একটা বড় গরু মারা গেছে। গ্রাম্য পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আমরা গরু বাছুর লালন-পালন করি।
আরিফুল ইসলাম নামের একজন বলেন, প্রাণিসম্পদ দফতর জেলার বড় খামারগুলোয় সেবা দেয় শুনেছি। গ্রাম পর্যায়ে তারা কোনো সেবা দেয় না। গ্রামের ছোট খামারিরা তো টাকা দিতে পারেন না। তাই তাদের ভাগ্যে সেবাও জোটে না।
দক্ষিণ ধানঘড়া গ্রামের পারুল বেগম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করি। কোনো দিনও পশু হাসপাতালের কেউ আসেনি। হাঁস-মুরগি ছাগলের অসুখ হলে টাকা দিয়ে ব্র্যাক থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেই।
সেবা না পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে আমাদের সঙ্গে এখন অনেক মানুষ করে। প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে কৃত্রিম প্রজননকারী ও একজন করে ভ্যাকসিনেটর ও লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার গ্রামে গ্রামে ঘুরে খামারিদের সেবা দিয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, এ ছাড়া উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারাও বিভিন্ন খামার ও গ্রাম পর্যায়ের খামারিদের সেবা দেন। ভেটেরিনারি সার্জনরা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কল এলে সেখানে গিয়ে সেবা দিয়ে থাকেন। তা ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একজন ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে সবার কাছে সেবাটা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবু আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।সূত্র: ঢাকা পোস্ট
করোনাকালীন প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বরিশালের উদ্যোগে এবং বরিশাল জেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় গত ৮ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ দুধ, ডিম এবং পোল্ট্রি বিক্রয় কেন্দ্র বরিশাল শহরে এবং ১০টি উপজেলায় চালু করা করা হয়েছে।
এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি এবং সচিব রওনক মাহমুদ এর নির্দশেনায় পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বরিশাল নগরিতে ন্যায্যমূ্ল্যে মাংস বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর, বরিশাল বিভাগ, এডিএম সাইফুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডা.মো. নুরুল আলম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল, ডা. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা,বরিশাল, ডা.প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, বরিশাল সদর, ডা. মো. আশরাফুল আলম,ভেটেরিনারী সার্জন, জেলা ভেটেরিনারী হাসপাতাল,বরিশাল,ডেইরী ফার্মস এসোসিয়েশন,বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ,ভোক্তাগণ এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃ্ন্দ।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিমের কাছ থেকে গরু ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন এক বৃদ্ধা। তিনি শহরের আদর্শ কলোনির বৃদ্ধা মনোয়ারা খাতুন।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম মনোয়ারা খাতুনকে একটি গরু ও কিছু আর্থিক সহায়তা এবং চাল, ডাল তেলসহ শুকনা খাবার উপহার দেন। আশা পূরণের আনন্দে এসময় অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন মনোয়ারা খাতুন।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন-এর আয়োজনে জেলায় কর্মরত ৬১টি দপ্তর এবং কিছু এনজিও ও জনপ্রতিনিধির আর্থিক সহায়তায় শতভিক্ষুককে বকনা বাছুর উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। মনোয়ারা খাতুন তখন ওই উপহার থেকে বঞ্চিত হন। পরে বিষয়টি জানতে পারেন জেলা প্রশাসক।
প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসক যে গণশুনানি করেন, সেখানে উপস্থিত হন মনোয়ারা খাতুন।
গণশুনানিতে সাধারণত স্বল্প পরিসরে চিকিৎসা সহায়তা, বই ক্রয়ের জন্য সহায়তা, ফরম ফিলাপের জন্য সহায়তা, জমি-জমা সংক্রান্ত সহায়তা ইত্যাদি সহায়তা করা হয়। সেখানে কাউকেই গরু-ছাগল বা এ জাতীয় সহায়তা সাধারণত করা হয় না। তবে মনোয়ারা খাতুন গণশুনানিতে জেলা প্রশাসককে এমনভাবে কনভিন্স করেছেন যে, জেলা প্রশাসক তার আবদার ফিরিয়ে দিতে পারেননি।
জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন একইভাবে আনন্দিত মনোয়ারা খাতুনের আনন্দে। এভাবে ছোট ছোট আনন্দ মানুষের মুখে ফুটানোই জেলা প্রশাসনব্রত বলে তিনি জানান।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চরবেতকান্দি গ্রামের দরিদ্র কৃষক ফরিদ হোসেন ঋণ নিয়ে কিনছিলেন দুটি গরু। যার ঋণের কিস্তি এখনও পরিশোধ না হতেই বজ্রপাতে মারা যায় তার দুটি গরু। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন অসহায় কৃষক। গরু দুটির মূল্য আনুমানিক প্রায় লাখ টাকা।
বুধবার (২১ এপ্রিল) রাতে শাহজাদপুর উপজেলার ওই গ্রামটিতে কালবৈশাখীর ঝড় আঘাত হানে।
কৃষক ফরিদ হোসেন জানান, তিনি অন্যের জমিতে দিনমজুর শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরে এনজিও থেকে ৬৫ হাজার লোন নিয়ে আর সঞ্চিত কিছু টাকা দিয়ে ৭৪ হাজার টাকায় গরু দুটো কেনেন।
বুধবার রাত ১০ দিকে বজ্রপাতের বিকট শব্দ হলে গোয়ালঘরে ঢুকে দেখতে পান দুটি গরুই ঝলসে মাটিতে পড়ে আছে। আশেপাশে লোকজন ছুটে আসলেও তার আগেই একটি গরু মারা যায়। আর একটি নড়াচড়া করতে করতেই কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যায়।
ফেসবুকের মাধ্যমে মানবসেবার কাজ করা মামুন বিশ্বাস বলেন, বুধবার রাতে কালবৈশাখীতে ঋণের টাকায় কেনা দু’টি ষাঁড়ের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ফরিদের স্ত্রী মমতা কান্না করছেন। কিভাবে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।
তিনি আরো বলেন, অন্যদিকে তার ছেলেও কিডনি রোগে আক্রান্ত। সব মিলিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি এ অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ান তাহলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তারা।
ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এর জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ, সক্রিয় সদস্য এবং বাছাইকৃত স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত ১২ এপ্রিল অধ্যাপক পরিতোষ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু করে ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এর জাতীয় সমন্বায়ক অধ্যাপক মো. আহসানুল হক, “ওয়ান হেলথ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এর কার্যক্রমের অগ্রগতি” বিষয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে এ যাবতকালীন গবেষণা প্রকল্পটির সকল কর্মকাণ্ডর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়। এবং এই প্রকল্পে ইউকে’র সরকারি উন্নয়ন সহায়তার বাজেট হ্রাসের প্রভাব বিষয়টি উত্থাপন করেন।
সভায় ড্রেস্ড পোল্ট্রি মাংসের মান উন্নয়নের বিষয়ে সুপারিশ করেন ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সাইন্স এসোসিয়েশান এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলএর সম্মানিত সভাপতিবৃন্দ।
তারা বলেন, বাংলাদেশে পোল্ট্রি সেক্টর উন্নয়নের একটি ধাপ হতে পারে ড্রেসড পোল্ট্রি রপ্তানিকরণ। যা শুরু করার জন্যে পোল্ট্রি খামারকরণে জোনিং বা কম্পার্টমেন্টালাইজেশান ও দেশের অভ্যন্তরীণ জবাইখানাগুলোর মান উন্নয়ন এবং প্রচলিত প্রাণি জবাই আইন‘টিকে দৃঢ়ভাবে মাঠ-পর্যায়ে প্রয়োগ করা জরুরি। সেই সাথে প্রয়োজন এর ক্রমবর্ধমান প্রসার।
আলোচনায় উপস্থিত বক্তারা ২৫ দিন বয়সী ব্রয়লার মুরগী বিক্রয় কিংবা জবাই না করে, ৩৫ দিন বয়স পর্যন্ত মুরগী পালন করে তারপর বিক্রয় এবং জবাই করার কথা বলেন।
তারা আরো বলেন, ২৫ দিন বয়সী মুরগীর মাংস পরিপূর্ণভাবে উন্নত হয়না বলে এর স্বাদ অতোটা ভালো হয়না এবং পুষ্টিগত মানও কম থাকে। অতিরিক্ত দিন ব্রয়লার মুরগী পালন করায় খামারীরা যাতে ভালো মূল্যে সেগুলো বিক্রয় করতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা জরুরি।
এছাড়া তারা খামার নিবন্ধনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, খামারের সঠিক জীব-নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা দেখে খামারীকে খামার পরিচালনা করার বৈধতা দেয়া উচিত। এতে করে খামারে যেমন রোগবালাই কম হবে, তেমনি এন্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগও কমে যাবে। এসব বিষয়ে সরকারি নীতিমালা আরো জোরালো করা প্রয়োজন এবং সেগুলোর বাস্তবিক প্রয়োগ আবশ্যক বলে মনে করেন বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচকরা।
সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের পোল্ট্রি সেক্টর আগামি ৫ বছরেরর মধ্যে মাথাপিছু ২১০টি ডিম এবং ১২কেজি মাংস উত্পাদনে সক্ষম হবে। ন্যাশনাল প্ল্যান ফর এভিয়ান এন্ড প্যান্ডেমিক ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপেয়ার্ডনেস প্ল্যান-৩ শিরোনামে তৃতীয় পরিকল্পনা পর্যালোচনা সভা অনলাইনে আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়।
পোল্ট্রি খামারি, মাঠ-পর্যায়ে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ান এবং ভেটেরিনারি মেডিসিন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ দুইটি অনলাইন প্রশিক্ষণ সিরিজ এর আয়োজন করে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
সিরিজ দুইটিতে (১২ টি পর্বের সিরিজ-১ এবং ১৩ টি পর্বের সিরিজ-২) পোল্ট্রি খামারকরণ, রোগবালাই, রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাময় এবং জীব-নিরাপত্তাসহ মাঠ-পর্যায়ে পোল্ট্রি সেক্টরে প্রয়োজনীয় নানা বিষয় আলোচনা করা হয়।
খুব শীঘ্রই পোল্ট্রি খামারী এবং আগ্রহী গ্রাহকদের জন্যে সিরিজ-১ এর উপর একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ এবং অনুষ্ঠানগুলোর রেকর্ড এবং ভিডিও করা সংস্করণগুলো সরবারহ করা হবে।
এই গ্রন্থটিসহ ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ, পোল্ট্রি খামারী, মাঠ-পর্যায়ে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানদের এবং ভেটেরিনারি অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্যে সহায়িকাস্বরূপ আরো একটি গ্রন্থ তৈরী করেছে যাতে রয়েছে পোল্ট্রি খামারকরণ, রোগ সংক্রান্ত তথ্যাদিসহ মাংস এবং পোল্ট্রি প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি হ্রাসকরণ এবং কর্মক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কৌশল নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তাছাড়া, জীবাণুর বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বিষয়ে আইসিডিডিআরবি, ফ্লেমিং ফান্ড এবং ওয়ান হেলথ্ পোল্ট্রি হাব বাংলাদেশ এর যৌথ প্রজেক্ট এবং বাংলাদেশে ওয়ান হেলথ্ এপ্রোচ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সুদূরপ্রসারতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
পরিশেষে, কোভিড-১৯ এর কারণে হাব প্রজেক্টের বাজেট কমে যাওয়ার সত্ত্বেও বর্তমানে এর চলমান কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পোল্ট্রি পণ্য সহজ পরিবহন বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এই আলোচনা সভাটি শেষ হয়।
অনলাইন সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এবং এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ, মেজর জেনারেল ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান (মহাপরিচালক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর), ডা. শেখ আজিজুর রহমান (মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর), ডা. মোঃ আব্দুল জলিল (মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট), অধ্যাপক ড. নিতীশ চন্দ্র দেবনাথ (জাতীয় সমন্বায়ক, ওয়ান হেলথ্ বাংলাদেশ), অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান (সাবেক পরিচালক, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট), অধ্যাপক, ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা (অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়), অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরিন (পরিচালক, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট), অধ্যাপক মো. ড. আব্দুল আলিম (বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ)।
আরো উপস্থিত ছিলেন, মশিউর রহমান (সভাপতি, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল), মো. আবু লুতফে ফজলে রহিম খান (সভাপতি, ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সাইন্স এসোসিয়েশান), ডা. মো. গিয়াসউদ্দিন (সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট), অধ্যাপক ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস (সিভাসু), ড. আব্দুস সামাদ (মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট), ড. মোজাফ্ফর গণি ওসমানি (প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর), ডা. রাশেদ মাহমুদ (সিভাসু), ডা. মাহমুদুল হাসান (বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট), ডা. সুদীপ্তা সরকার (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট), ডা. নুরুন নাহার চিশতী (সিভাসু), ডা. মেহেরজান ইসলাম (সিভাসু), ডা. সৈয়দা মুনিরা দিলশাদ (সিভাসু), ডা. ইশরাত জাহান ইশা (সিভাসু) এবং অধ্যাপক ড. মোঃ আহসানুল হক (সিভাসু)।
এতে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন agriview24.com।
উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মাস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ফার্মাস এসোসিয়েশন এর বাস্তবায়নে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর ব্যবস্থাপনা ও প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় মনপুরায় ভ্রাম্যমান গাড়িতে দুধ ডিম বিক্রি করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল)প্রতি পিস ডিম ৬ টাকা, ১ লিটার দুধ ৫০/- টাকায় বিক্রির ঘোষণা দিয়ে সকাল ৮ টায় মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট বাজারে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামীম মিঞা।
এসময় উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. লোকমান ও ডেইরি ফার্ম ও পোল্ট্রি ফার্মের উদ্যোক্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
করোনাকালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাণিজ পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকারের ন্যায্য মুল্যে দুধ, ডিম বিক্রির এই উদ্যোগ পুরো রমজান মাস জুড়ে চলবে। মনপুরা উপজেলায় হাজির হাট, বাংলা বাজার ও রামনেওয়াজ বাজারে এই কর্মসূচীর আওতায় দুধ, ডিম বিক্রি করা হবে।
সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দুধ, ডিম ক্রয় করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে আহ্বান জানানো হয়েছে।
নরসিংদীতে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে আলী হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হন আরও একজন।
মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে নরসিংদী সদর থানা পুলিশ।
সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালি ইউনিয়নের খোদাদিল্লা গ্রামে সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত জজ মিয়া রায়পুরা উপজেলার সোনাকান্দি এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে ও আহত ব্যক্তি আলী হোসেন(৫০) একই উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার মৃত মহিজউদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাত তিনটার দিকে খোদাদিল্লা গ্রামের কৃষকের গরু গোয়ালে খুঁজে পাচ্ছিল না। এসময় চোর চোর বলে চিৎকার করতে থাকলে অপরিচিত আলী হোসেন ও জজ মিয়াকে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনিতে জজ মিয়ার মৃত্যু ও আলী হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে দুপুর নাগাদ মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে এবং আহত আলী হোসেনকে একই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সরকার জানান, তারা গরু চুরি করেছে কি না তা সঠিক বলতে পারছি না। তবে এলাকাবাসীর দাবী তারা দু‘জনকে গরুসহ ধরেছিল।
নরসিংদী সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, গণপিটুনিতে একজন নিহত এবং একজন আহত হন। আজ সন্ধ্যায় নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে তিনি জানান।