১০:২২ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ২:৩৬ অপরাহ্ন
গবাদি পশুর গলাফুলা রোগ ও প্রতিকার
প্রাণিসম্পদ

গলাফুলা একটি তীব্র প্রকৃতির রোগ যা গরু এবং মহিষকে আক্রান্ত করে। এটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যা
Pasteurella multocida দ্বারা সংঘটিত হয়। এ রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি। বর্ষাকালে গলাফুলা রোগ বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশে বর্ষার শুরুতে এবং বর্ষার শেষে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। পশুর শরীরে স্বাভাবিক অবস্থায় এ রোগের জীবাণু বিদ্যমান থাকে। কোনো কারণে যদি পশু ধকল যেমন ঠান্ডা, অধিক গরম, ভ্রমণজনিত দুর্বলতা ইত্যাদির সম্মুখীন হয় তখনই এ রোগ বেশি দেখা দেয়। গলাফুলা রোগের প্রচলিত নাম ব্যাংগা, ঘটু, গলগটু, গলবেরা ইত্যাদি।

চিত্র-১ গলাফুলা রোগে আক্রান্ত পশুর মুখমন্ডলসহ গলা ফুলে উঠেছে

এপিডেমিওলজি ও রোগজননতত্ত্ব
গলাফুলা (hemorrhagic septicemia) এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপের কিছু দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান। তবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এটি বেশি পরিলক্ষিত হয়। গলাফুলা মূলত গরু ও মহিষের রোগ হলেও শুকর, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, বাইসন, উট, হাতী এমনকি বানরেও এ রোগ হতে পারে। এ রোগ বছরের যে কোনো সময় হতে পারে তবে বর্ষাকালে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। বাহক পশুর টনসিল ও ন্যাজো-ফ্যারিনজিয়াল মিউকোসায় এ রোগের জীবাণু থাকে। অনুকূল পরিবেশে রক্তে এ রোগের জীবাণুর সংখ্যা বেড়ে গিয়ে
septicemia করে। এই বৃদ্বিপ্রাপ্ত জীবাণু মরে গিয়ে এন্ডোটক্সিন নিঃসৃত হয় যার ফলে রক্ত দূষিত হয়ে পড়ে। এন্ডোটক্সিন রক্তের ক্যাপিলারিস নষ্ট করে; ফলে এডিমা হয়। এছাড়া এন্ডোটক্সিন একদিকে কোষ কলা বিনষ্ট করে দেহে হিস্টামিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে অন্যদিকে টিস্যু বিনষ্টের ফলে টিস্যুর প্রোটিন ভেঙ্গে রক্তে প্রোটিনের পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে, এডিমার সৃষ্টি হয়। সে কারণে এ রোগে আক্রান্ত পশুর গলা ফুলে যায় ও রক্তে জীবাণুর উপস্থিতির (septicemia) কারণে পশুর দ্রুত মৃতু্য হয়।

লক্ষণ
এ রোগ অতি তীব্র ও তীব্র এ দুই ভাবে হতে পারে। অতি তীব্র প্রকৃতির রোগে হঠাৎ জ্বর (১০৬-১০৭০ ফা) হয়ে মুখ ও নাক দিয়ে তরল পদার্থ বের হতে থাকে। পশু অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়ে ও খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে মৃতু্য ঘটে। তীব্র প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত পশু ২৪ ঘন্টার অধিক বেঁচে থাকে। এ সময় পশুর এডিমা দেখা দেয় যা প্রথমে গলার নিচে, পরে চোয়াল, তলপেট এবং নাক, মুখ, মাথা ও কানের অংশে বিসতৃত হয়।
গলায় স্ফীতি থাকলে গলার ভেতর ঘড় ঘড় শব্দ হয় যা অনেক সময় দূর থেকে শোনা যায়। প্রদাহযুক্ত ফোলা স্থানে ব্যথা থাকে এবং হাত দিলে গরম ও শক্ত অনুভূত হয়। সূঁচ দিয়ে ছিদ্র করলে উক্ত স্থান হতে হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ বের হয়ে আসে। অনেক সময় কাশি হয় এবং চোখে পিচুটি দেখা যায়। নাক দিয়ে ঘন সাদা শ্লেষ্মা পড়তে দেখা যায়। সাধারণত লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে আক্রান্ত পশু মারা যায়। মারা যাবার সাথে সাথে পেট খুব ফুলে উঠে এবং নাক ও মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হতে থাকে। পোস্টমর্টেম করলে পেরিকার্ডিয়াল স্যাক
(pericardial sac) এ রক্ত মিশ্রিত তরল পদার্থ দেখা যায়, যা থোরাসিক (thoracic) এবং এবডোমিনাল ক্যাভিটি
(abdominal cavity) তে বিসতৃত হতে পারে। ফ্যারিনজিয়াল এবং সার্ভাইক্যাল লিম্ফনোডে বিন্দু আকৃতির (petechial) রক্তক্ষরণ পরিলক্ষিত হয়।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব
গলাফুলা রোগের যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে বিশেষত, এশিয়া এবং আফ্রিকার কিছু দেশে। এশিয়াতে ৩০% গবাদিপশু এ রোগের প্রতি সংবেদনশীল। ভারত দুগ্ধ উৎপাদনে এশিয়াতে সর্বোচ্চ যেখানে ৫০% দুধ আসে মহিষ থেকে, যারা এ রোগের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারতে গত চার দশক ধরে গলাফুলা রোগে মৃত্যু হার গবাদিপশুর মৃত্যুহারের ৪৬-৫৫%। ১৯৭৪ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ভারতে গবাদিপশুর ৫টি মহামারীতে আক্রান্ত গবাদিপশুর ৫৮.৭% মারা যায়। এই ৫টি মহামারী হল ক্ষুরারোগ, রিন্ডারপেষ্ট, বাদলা, এনথ্রাক্স এবং গলাফুলা। শ্রীলংকায় ১৯৭০ এর দশকে পরিচালিত একটি অপঃরাব সারভ্যাইল্যান্স স্টাডিতে দেখা গেছে গলাফুলা আক্রান্ত স্থানসমূহে বছরে প্রায় ১৫% মহিষ এবং ৮% গরু গলাফুলার কারণে মারা যায়। পাকিস্তানে একটি রির্পোটে দেখা গেছে সেখানে গবাদিপশুর মোট মৃত্যুর ৩৪.৪% মারা যায় গলাফুলা রোগে। মায়ানমারে পশু রোগ নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দকৃত মোট বাজেটের ৫০ ভাগ ব্যয় হয় গলাফুলা রোগ দমনে। গলাফুলা রোগে শুধু গবাদিপশুর মৃত্যুই ঘটে না, সাথে সাথে বেশ কিছু অপ্রত্যক্ষ ক্ষতিও হয়। যেমন –
উৎপাদন হ্রাসঃ মাংস, দুধ, জোয়াল টানা, হালচাষের বিকল্প উপায়ের জন্য মোট ব্যয় ইত্যাদি। পশুর প্রজনন ক্ষমতা বিঘি্নত হওয়া, চিকিংসা খরচ ইত্যাদি।

প্রতিরোধ
এ রোগ উচ্ছেদ করা অসম্ভব কারণ এ রোগের জীবাণু স্বাভাবিক অবস্থায় পশুর দেহে থাকে। তবে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
• রোগাক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু থেকে আলাদা করে সুস্থ পশুকে টিকা দানের ব্যবস্থা করতে হবে।
• মড়কের সময় পশুর চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
• হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পশুর পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে।
• টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত এল.আর. আই কতৃর্ক প্রস্তুতকৃত টিকার নাম গলাফুলা টিকা। লোকাল স্ট্রেইন দ্বারা প্রস্তুতকৃত এই অয়েল এডজুভেন্ট টিকা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক (৬ মাস বয়সের উপরে) গবাদিপশুকে ২ মিলি মাত্রায় ও ছাগল ভেড়াকে ১ মিলি মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়। এ রোগের প্রাদুর্ভাব আছে এরূপ এলাকায় ৬ মাস বা তদুধর্ব বয়সী বাছুরে প্রাপ্ত বয়স্ক গরুর অর্ধেক মাত্রায় টিকা দিতে হয়। এলাম অধঃপাতিত (Alum precipitated) টিকা মাংসে প্রদান করা হয়। যেহেতু দুই ধরনের টিকাই মাঠপর্যায়ে ব্যবহার হয় তাই বিষয়টির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ অয়েল এডজুভেন্ট টিকা তেল থেকে প্রস্তুতকৃত বিধায় এই টিকা ভুলক্রমে মাংসে প্রদান করলে মাংসে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে মাংসের ক্ষতি হয় এবং সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। টিকা প্রদানের ২-৩ সপ্তাহ পর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মাতে শুরু করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ১ বৎসর কাল পর্যন্ত বজায় থাকে। এই টিকা মৃত জীবাণুর দ্বারা প্রস্তুত বিধায় এই টিকা প্রদানের মাধ্যমে রোগ বিস্তারের কোনো সম্ভাবনা নাই। টিকা প্রয়োগের স্থান ২/৩ দিন পর্যন্ত ফোলা থাকতে পারে। ত্রুটিপূর্ণ ইনজেকশনের কারণে এই ফোলা স্বাভাবিক এর চেয়ে কয়েকদিন বেশি থাকতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে এনাফাইলেকটিক শক দেখা দিতে পারে। কোনো এলাকায় বা খামারে টিকা প্রদানের পূর্বে অল্প কয়েকটি গবাদিপশুকে টিকা প্রদানের পর ২৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা শ্রেয়। যদি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তবে উক্ত বোতলের টিকা পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না। অয়েল এডজুভেন্ট টিকা বেশ ঘন হওয়ায় এই টিকা প্রদানে মোটা বারের নিডল ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

রোগ নির্ণয়
হঠাৎ মৃত্যু হয় এ ধরনের রোগ যেমন বজ্রপাত, সাপে কাটা, বাদলা রোগ, রিন্ডারপেস্ট, এনথ্রাক্স ইত্যাদি থেকে গলাফোলা রোগকে আলাদা করতে হবে। সেরোলজিক্যাল টেস্ট যেমন
Indirect hemagglutination test এ উচ্চ টাইটার লেভেল (১:১৬০ বা তার বেশি) পাওয়া গেলে এ রোগ সমন্ধে নিশ্চিত হওয়া যায়।

চিকিৎসা
আক্রান্ত পশুর চিকিৎসায় বিলম্ব হলে সুফল পাওয়া যাবে না। তাই রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিরোধ
ভ্যাকসিনই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভাল উপায়। মূলত তিন ধরনের ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এগুলো হল প্লেইন ব্যাকটেরিন, এলাম অধ:পাতিত ব্যাকটেরিন এবং অয়েল এডজুভেন্ট ব্যাকটেরিন। এর মধ্যে ৬ মাস বিরতিতে এলাম অধ:পাতিত ব্যাকটেরিন এবং ৯ থেকে ১২ মাস অন্তর অয়েল এডজুভেন্ট ভ্যাকসিন দিতে হয়। ভালো ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খামারে বাছুরকে ৩ থেকে ৬ মাস বয়সে প্রথম, ৩ মাস পরে বুস্টার এবং এরপর বছরে একবার টিকা দিতে হয়। উন্মুক্ত খামারে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বাৎসরিক টিকার কোর্স শুরু করতে হয়।

লেখক: ডাঃ এ, এইচ. এম. সাইদুল হক
এক্সিকিউটিভ, ভেটেরিনারী সার্ভিসেস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২১ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
যে রোগে কৃষক হারাল দুই মাসে ৪‘শ গরু!
প্রাণিসম্পদ

ঝিনাইদহের নিম্ন আয়ের লোকজন একটু বাড়তি আয়ের আশায় ঋণ নিয়ে গরু কিনেছিলেন গরু। উদ্দেশ্য এই গরু দিয়ে বদল করবে তাদের অভাবের ভাগ্য। কিন্তু ভাগ্যবদলের নামে আরো নেমে আসছে একের পর এক বিপর্যয়। ক্ষুরারোগে তাদের ভাগ্য যেন ধ্বংসের পথে। একের পর এক মারা যাচ্ছে গরুর বাছুর। গত দুই মাসে মারা গেছে ৬ উপজেলায় প্রায় চার শতাধিক গরুবাছুর। আক্রান্তও হয়েছে অন্তত ৩০ হাজারের মত।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত দুই মাসে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ৭০টি, শৈলকুপায় ১০৯টি, কালীগঞ্জে ৮৫টি, মহেশপুরে ৬৯টি, কোটচাঁদপুরে ২৬টি, হরিণাকুণ্ডুতে ২৭টি গরুবাছুর মারা গেছে। এ ছাড়াও আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৩০ হাজার গরুবাছুর।

সদর উপজেলার বিষয়খালী ঘোষপাড়ার মোশারফ হোসেন জানান,‘আমি এনজিও থেকে লোন করে গরু কিনিছিলাম। ভ্যান চালায়ে গরুরে খাওয়াতাম। আমার গরু ৭ মাসের গাভিন (গর্ভবতী) ছিল। ‘হঠাৎ করে মুখ আর পায়ে ঘা হয়। খাওয়া বন্ধ করে দ্যায়। ডাক্তার দ্যাখালাম। কোনো কাজ হলো না। কয়দিনের মদ্যিই মরে গেল আমার আড়াই লাক (লাখ) টাকার গরু।’

সদর উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের খামারি মিঠু শেখ জানান, তিনি গরুর লালনপালন করে সংসার চালান। এ বছর তার খামারে ৩৭টি গরু ছিল। খুরারোগে তিনটি মারা গেছে। এখনও পাঁচটি গরু অসুস্থ রয়েছে।

কামরুজ্জামান নামের এক খামারি জানান, ‘আমি গরু বড় করে বিক্রি করি। আশপাশের লোকজনের গরুর খুরারোগ হচ্ছে। আমার গরু নিয়ে আমি খুব চিন্তায় আছি। কী করব বুঝতি পারছিনে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আনন্দ কুমার অধিকারী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রতিবছরই গরুর খুরারোগ হয়। এবার আক্রান্তের সংখ্যা একটু বেশি। এখন পর্যন্ত জেলার সব কয়টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ২৭ হাজার গরুকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত খামারিদের পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

কৃষি তথ্য সার্ভিস অনুযায়ী, ক্ষুরারোগ অতি তীব্র প্রকৃতির সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত পশুর মুখ ও পায়ে ঘা হবার কারণে খেতে পারে না এবং খুঁড়িয়ে হাঁটে। এ রোগ মারাত্মক ছোঁয়াচে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ৫:৪৬ অপরাহ্ন
মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটগণ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটগণকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, “স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে অনন্য রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের অবদান অসাধারণ হিসেবে পরিগণিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ক্যাডেটদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সততা, বিচক্ষণতা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তাই মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটগণ দেশের বাইরে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই বাংলাদেশের একজন অ্যাম্বাসেডর। যেখানেই থাকুক না কেন তাদের সততা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মত উজ্জ্বল অবস্থা সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুবোল বোস মনি ও মোঃ তৌফিকুল আরিফ, যুগ্মসচিব মাহবুবা পান্না, মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ওয়াসিম মকসুদসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি, মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট, সরকারি শিপিং দপ্তরসহ অন্যান্য মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত মেরিন ফিশারিজ একাডেমির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা সহানুভূতি ও আন্তরিকতা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী এসময় বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চান এ একাডেমি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক। এ প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক ক্যাডেট এবং শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে স্বতন্ত্র অবস্থানে পৌঁছে যাক। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এজন্য একাডেমির ক্যাডেটদের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোর্সের সীমা বৃদ্ধি করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ তৈরির জন্য বিভিন্ন ভাষায় ক্যাডেটদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। জাতির পিতা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে যারা শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান নিয়ে যাচ্ছেন তারা দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবেন, এটা প্রত্যাশিত।”

এসময় তিনি আরো যোগ করেন, “এ বছর একাডেমির ৩৯তম ও ৪০তম ব্যাচে নটিক্যাল বিভাগে ৬৩ জন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৬৬ জন এবং মেরিন ফিশারিজ বিভাগে ৩৬ জন ক্যাডেট পাসড আউট হচ্ছে। এদের মধ্যে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৬ জন এবং মেরিন ফিশারিজ বিভাগে ৪ জন মহিলা ক্যাডেট রয়েছে। নারী শিক্ষার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনার একটি ধাপ হিসেবে এ একাডেমিতে মহিলা ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ৪৮ জন মহিলা ক্যাডেট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তারা প্রত্যেকে একজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর । নারীর ক্ষমতায়নের এ সুযোগ শেখ হাসিনা করে দিয়েছেন। অদূর ভবিষ্যতে এ একাডেমিতে আরো বেশি মহিলা ক্যাডেট আসবে বলে প্রত্যাশা করি। তারা দক্ষতা ও কৃতিত্বের সাথে কোর্স সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে এবং দেশে ও দেশের বাইরে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।”

এ একাডেমির ৪৮১ জন ক্যাডেটের অনুকূলে নৌপরিবহন অধিদপ্তর Continuous Discharge Certificate  (CDC) ইস্যু করায় এ ক্যাডেটরা বাণিজ্যিক জাহাজে চাকুরীতে যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন বলেও এসময় মন্ত্রী জানান।

গ্র্যাজুয়েশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “আপনার অনৈতিকতা, মূল্যবোধহীনতা ও অসততা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে দেবে। অপরদিকে আপনার কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা, আন্তরিকতা ও শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পারলে বিশ্বের বুকে আপনিই হবেন বাংলাদেশ। আপনিই হবেন আমাদের লাল সবুজের পতাকা। আপনিই হবেন ত্রিশ লক্ষ শহিদ আর দুই লক্ষ সম্ভ্রম হারানো মা-বোনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কারিগর। বাংলাদেশের  সংবিধান, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আপনাদের সবটুকু পবিত্র আনুগত্য ও দায়িত্বশীলতা থাকতে হবে। আপনি একজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর, প্রয়োজনবোধে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেশমাতৃকার ভাবমূর্তি রক্ষা করা যেন আপনাদের ব্রত হয় । আমরা যেন বলতে পারি দেশের সোনালী সন্তান আপনারা। বিশ্ব পরিমন্ডলে আপনাদের বিকশিত করার জন্য সরকার সবকিছু করবে।”

সুনীল অর্থনীতিতে আমাদের অপার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বের আর কোন দেশ বিনা যুদ্ধে সেরা কূটনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় সমপরিমাণ সমুদ্রে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। যেটা করতে পেরেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি আলোকবর্তিকা হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিকশিত বাংলাদেশ দেখতে চান। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চান। সোনার বাংলা দেখতে চান। সে বাংলাদেশের এক বিশাল অংশের দায়িত্ব মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের কাঁধে আজ থেকে আমরা অর্পণ করলাম।”

এর আগে প্রধান অতিথি প্যারেড পরিদর্শন করেন ও সেরা ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। পরে সার্টিফিকেট প্রদান অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের হাতে সনদ তুলে দেন তিনি।

আরো পড়ুনঃ দেশে গম চাষ ও উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে : কৃষিমন্ত্রী

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২১ ৫:১৪ অপরাহ্ন
অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের ৩টি গরু ও ৫টি ছাগলের মৃত্যু!
প্রাণিসম্পদ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ে তিনটি গরু ও পাঁচটি ছাগল মারা গেছে। কৃষকের চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

রবিবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলা বড়শিমলা গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মামুনুর রশিদ জানান, রাতে শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নের বড়শিমলা গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তারের বাড়ির গোয়াল ঘরের মধ্যে থাকা বৈদ্যুতিক তারে শক সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে মুহুর্তের মধ্যে সেখানে থাকা কিছু কাঠ-খড়িতে ধরে যায়।

তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে গোয়াল ঘরে থাকা তিনটি গরু ও পাঁচটি ছাগল জীবন্ত পুড়ে মারা যায়। এতে ওই কৃষকের চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

খবর পেয়ে স্থানীয় শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন বলে জানা যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২১ ৯:০৫ অপরাহ্ন
সফল খামারী: ৫২০ দিয়ে শুরু করে ৫ বছরে বাচ্চার সংখ্যা ৭ হাজার
পোলট্রি

ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার ঘোষপালা গ্রামের খামারি আকাইদ হোসেন। পড়া-লেখার পাশাপাশি শুরু করেন ব্রয়লারের খামার। আর সেই ব্রয়লার খামার থেকেই লাভ লসের হিসাব কষে শুরু করেন সোনালি মুরগির চাষ। আর এভাবেই ভাগ্যবদল হয় সরকারি শহিদ স্মৃতি আদর্শ কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আকাইদের। এগ্রিভিউ২৪.কম এর একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে আসে আকাইদের ভাগ্যবদলের গল্প।

পড়া-লেখার পাশাপাশি কেন খামার শুরু করলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আকাইদ এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে জানাই, চাকরি না করার নেশা থেকেই মূলত আমার খামার করা। আমার ইচ্ছা হলো চাকরি করবো না। তবে, মানুষকে চাকরি দিবো। আর সেই নেশা থেকেই পেশা হিসাবে নিয়েছি এই খামারকে। আল্লাহর রহমতে দেখেছিও আলোর মুখ।

কিভাবে শুরু করলেন এই খামার? এগ্রিভিউ২৪.কম এর এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি তখন আমার ভাইয়েরা খামার দিয়েছিলো। তবে তখন সেই খামারে তারা তেমন লাভ করতে পারেনি। বরং লস করেছিলো। যার কারণে তারা খামার বন্ধ করে দেয়। তবে আমার ভিতরে খামার করার ছিলো প্রচুর নেশা।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে আমি যখন এসএসসি পাশ করি তখন আবার পরিবারের সহায়তায় শুরু করি ব্রয়লার খামার। ২৫ হাজার ৪৮০টাকা দিয়ে আমি খামার শুরু করি। তখন আমার খামারে ছিলো ৫২০টি বাচ্চা। তবে শুরুতে আমার অভিজ্ঞতা না থাকাই লাভ-লসের হিসাবে আমার লোসের পাল্লাটা ভারি ছিলো। তবে, প্রথমদিকে বাজারে সঠিক দাম পাওয়াতে লাভ হয়েছিলো কিছুটা। আর তাতে করে আমি ৫‘শ থেকে মুরগির খামার আরো বড় করে মুরগির সংখ্যা করি ১ হাজার। আর সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালে আমার লসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিলো প্রায় ২ লাখ টাকার মত।

লস হওয়ার ‍পিছনে কারণ কি বলে আপনি মনে করেন? এমন প্রশ্নে তিনি এগ্রিভিউ২৪‘কে বলেন, আমি প্রাথমিক অবস্থায় অনভিজ্ঞ ছিলাম। সিজনালী বাচ্চাও পাইনি। তারউপর যখন বাচ্চা পেলাম তখন একটি বাচ্চার দাম ছিলো ৭৯ টাকা করে। আর সেই মুরগি আমি বিক্রি করেছি কেজি প্রতি মাত্র ৯৫ টাকা করে। সবমিলিয়ে অনভিজ্ঞতা আর বাজার হিসাব না বুঝাতে আমাকে লসের ভার বহন করতে হয়েছে।

তারপরে কিভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখলেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে এসে আমি পোল্ট্রি খামার বাদ দিয়ে শুরু করি সোনালি মুরগি পালন। আর তাতেই আসে আমার সোনালি দিন। সাথে আছে অভিজ্ঞতাও। আর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সোনালি মুরগিতে ভাগ্যবদল করতে সামর্থ হই।

তিনি বলেন, প্রথমে আমি ২ হাজার বাচ্চা দিয়ে শুরু করে প্রায় ২৪ হাজার লস করি। তারপর ২০১৮‘র শেষের দিকে লস কাটিয়ে ২৬‘শ বাচ্চায় লাভ করি ৭০ হাজার টাকা। ২০১৯ সালে এসে সেড আরো বড় করি। তখন আমার খামারে বাচ্চার সংখ্যা ৫ হাজার।

এরপর ২০২০ সালে এসে ৪৮‘শ বাচ্চার এক চালানে আমার লাভ হয় প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মত। করোনার পরে ৫হাজার বাচ্চার সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭ হাজারে। মোটকথা করোনার আগে-পরে আমার লাভ হয় প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মত। ২০২১ সালে এসে আবার আল্লাহর রহমতে আমার লাভ দিয়ে শুরু হয়। তখন আমি ৪ হাজার বাচ্চায় লাভ করি প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। আর এভাবেই চলছে। আল্লাহর রহমতে এখন খামারের ভালো অবস্থা যাচ্ছে বলেও তিনি এগ্রিভিউ২৪.কে জানান।

শেষের দিকে লাভ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি এগ্রিভিউ২৪.কম‘কে বলেন, এই ব্যবসায় কখনও হতাশ হওয়া ঠিক না। লেগে থেকে কাজ করতে হবে। আমি প্রথমে অনভিজ্ঞ ছিলাম। আর শেষের অভিজ্ঞতার আর বাজার পলিসি জানার কারণে লসের ভার বহন করতে হচ্ছে না। এখন আমি বাচ্চা কখন কিভাবে কিনতে হবে তা বুঝি। এমনকি খামারের বাচ্চার প্রাথমিক চিকিৎসাও আমি দিয়ে থাকি। একান্ত মারাত্মক কোন সমস্যা না হলে তিনি ডাক্তারের কাছে যান না বলেও এগ্রিভিউ২৪‘কে জানান।

সরকার থেকে কেমন সহযোগিতা আশা করছেন? এমন প্রশ্নে তিনি এগ্রিভিউ২৪.কে জানান, বাংলাদেশে খামারিদের জন্য এখনও সহজভাবে কোন ঋণ দেয়া হচ্ছে না। আমরা চাই খামারিদের জন্য কম সুদে সরকার ঋণের ব্যবস্থা করুক। তাতে করে আমরা যারা উদ্যোক্তা আছি আরো ভালো করে কাজ করার সুযোগ পাবো।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২১ ৩:৫৬ অপরাহ্ন
কয়েলের আগুনে দগ্ধ হয়ে ঝিনাইদহে তিন গরুর মৃত্যু!
প্রাণিসম্পদ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় মশার কয়েলের আগুনে দগ্ধ হয়েছে তিনটি গরু ও তিনটি বসতঘর পুড়ে গেছে। সংসার চালানোর মত আরো কোন উপক্রম রইলো না কৃষক আব্দুল মান্নানের।

গত ১৩ই মার্চ, শনিবার রাত ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভড়ুয়াপাড়া গ্রামে বসবাসরত কৃষক আবদুল মান্নানের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুল মান্নান সরাসরি এগ্রিভিউ২৪ প্রতিনিধিকে জানান, ‘রাইতে আমরা ঘরে ঘুমে ছিলাম। রাইত ১২ডার আগে-পরে কুনু একডা সুমায় গুয়ালের (গোয়ালঘর) মশার কয়েল থেকে আগুন ধরি যায়। অল্প সুমায়ের মদ্দি আমার গুয়ালঘর, থাকার ঘর আর ভাই লাল্টুর ঘর পুইড়ে যায়।’

মান্নান তার কান্না জড়িত কণ্ঠে আমাদেরকে জানান, ‘আমার আট দিনের এঁড়ে বাছুরসহ তিনডে গরু পুইড়ে মরে গেছে। আশা ছিল গরুর দুধ বেচে সংসার চালাব। আমার এখন সব শ্যাষ ভাই। আমি তো পথে বসে গেলাম।’

ভুক্তভোগী কৃষকের ভাই লাল্টু বলেছেন, আশে পাশের প্রতিবেশীরা টের পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে কয়েলের আগুনে দগ্ধ হয়ে পুড়ে যায় সব।

এদিকে রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম শাহিন, পাগলা কানাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম নজরুল ইসলাম।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে টিন, শুকনা খাবারসহ আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে বলে এগ্রিভিউ২৪ প্রতিনিধিকে জানান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ।

আরো পড়ুনঃ আগুনে পুড়ে চার গরুর মৃত্যু!

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২১ ১:৫৬ অপরাহ্ন
গবাদিপশুকে কৃমি মুক্ত রাখার উপায়
প্রাণিসম্পদ

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গবাদিপশু পালন লাভজনক ও বেকার সমস্যা সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমাদের খামারিরা গবাদিপশু পালন করতে গিয়ে একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়, তা হলো পরজীবী বা কৃমি। কৃমি এক ধরনের পরজীবী যা পশুর ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করে। তারা পশুর অন্ত্রে, ফুসফুসে, লিভারে, চোখে, চামড়ায় বাস করে ও পশুর হজমকৃত খাবারে ভাগ বসিয়ে পশুর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। অনেক কৃমি পশুর রক্ত চুষে ও আমিষ খেয়ে পশুকে দুর্বল ও স্বাস্থ্যহীন করে ফেলে।

পরজীবী সাধারণত দুই ধরনের-
১. দেহের ভেতরের পরজীবী
২. দেহের বাইরের পরজীবী।

একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের প্রাণিসম্পদ হাসপাতালগুলোতে গত বছর (২০১০) বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর (গরু, ছাগল, ভেড়া) মধ্যে ৫১.৩৬ ভাগ কৃমি বা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত। এর মধ্যে আক্রান্ত গরুর মধ্যে ৬৮.৯২ ভাগ, আক্রান্ত গাভীর মধ্যে ৪৫.১৬ ভাগ, বাছুরের মধ্যে ৫০.০৭ ভাগ, ভেড়ার মধ্যে ৬১.৬৬ ভাগ এবং আক্রান্ত ছাগলের মধ্যে ৩৪.৭৯ ভাগ বিভিন্ন কৃমি বা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হয়। সুতরাং কৃমি বা পরজীবী আমাদের গবাদিপশু পালনের প্রধান শত্রু। কৃমি বা পরজীবীগুলো হচ্ছে কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি, প্রটোজয়া ও বিভিন্ন ধরনের বহিঃপরজীবী উকুন, আঠালী, মাইট ইত্যাদি গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। কৃমির কারণে গাভীর দুগ্ধ উত্পাদন ক্ষমতা কমে যায় অস্বাভাবিকভাবে এবং বাছুরগুলো পেট ফুলে গিয়ে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ে। ফলে দুগ্ধ ও মাংস উত্পাদন ক্ষমতা মারাক্তকভাবে ব্যাহত হয়। এর কারণে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস গবাদিপশুকে আক্রান্ত করার পরিবেশ তৈরি করে।

গবাদিপশুকে কৃমি বা পরজীবী থেকে মুক্ত রাখার উপায়গুলো হচ্ছে-
১) গবাদিপশুর বাসস্থানের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটি শুষ্ক ও আশপাশের জমি থেকে উঁচু হওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে নদীনালা, খালবিল, হাওর-বাঁওড় থেকে দূরে করতে হবে।
২) গবাদিপশুর খামারের আশপাশে যেন বৃষ্টির পানি এবং অন্যান্য বর্জ্য জমে না থাকে ।
৩) খামারের জন্য নির্ধারিত স্থানের মাটিতে বালির ভাগ বেশি হওয়া প্রয়োজন যেন বর্ষাকালে খামারের মেঝে কর্দমাক্ত না হয় ।
৪) পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা অল্প সময় পরপর পরিষ্কার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘরে মলমূত্র ও আবর্জনা জমা না থাকে।
৫) খামারের অনেক দূরে পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা পুঁতে রাখতে হবে।
৬) গবাদিপশুর বাসস্থান প্রতিদিন আদর্শ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে এবং জীবাণুনাশক মেশানো পানি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৭) তিন মাস অন্তর গবাদিপশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।

কলিজাকৃমি, পাতাকৃমি, গোলকৃমি, রক্তকৃমি, ফিতাকৃমি দ্বারা আক্রান্ত পশুকে অ্যালবেনডাজল ইউএসপি ৬০০ মি.গ্রা., হেক্সাক্লোরোফেন ইউএসপি ১ গ্রাম, লিভামিসোল হাইড্রোক্লোরাইড বিপি ৬০০ মি.গ্রা. এবং ট্রাইক্লাবেন্ডাজল আইএনএস ৯০০ মি.গ্রা. জাতীয় ওষুধ ভালো কাজ করে। কর্কসিডিয়াতে সালফোনামাইডস, স্ট্রেপটোমাইসিন ও মেট্রোনিডাজল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।ট্রিপানোসোমা ও ব্যাবেসিওসিস তে ব্যাবকপ খাওয়ালে রোগ ভালো হয়। উঁকুন, আঠালী ও মাইটে আক্রান্ত গবাদিপশুর শরীরে আইভারমেকটিন, সেভিন, নেগুভান ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করলে ওইসব পরজীবী থেকে গবাদিপশুকে রক্ষা করা যায়।পরিশেষে আমাদের গবাদিপশুকে কৃমি বা পরজীবীমুক্ত রাখতে পারলে আমরা দুগ্ধ ও মাংস উত্পাদনের লক্ষ্যে পৌঁছাব।

আরও পড়ুনঃ গবাদি পশুর খাদ্যের কার্যকারিতা বৃদ্ধির পদ্ধতি উদ্ভাবন

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৩, ২০২১ ১:২১ অপরাহ্ন
বোয়ালখালীতে ৩ গরু চোরকে আটক করেছে পুলিশ
প্রাণিসম্পদ

এলাকাবাসীর সহায়তায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তিন গরু চোরকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি চোরাই গরু উদ্ধারের পাশাপাশি গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর-খরনদ্বীপ গুচ্ছগ্রামের ফুতামুরা মাজার এলাকা থেকে গরু চুরি করে সিএনজি অটোরিকশায় তোলার সময় চোরাই গরুসহ তাদের আটক করা হয়। আটক তিনজনের মধ্যে একজন বোয়ালখালী ও অপর দুজন পাশের উপজেলা পটিয়ার বাসিন্দা।

আটককৃতরা হলেন, বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদন্ডী গোয়াজ তালুকদার বাড়ির মো. ইউনুছের ছেলে মো. ইলিয়াছ ও পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও গ্রামের বশির আলমের ছেলে রাশেদুল আলম এবং একই উপজেলার ভাটিখাইনের চিত্ত রঞ্জনের ছেলে বাবুল দে।

জানা যায়, উপজেলার শ্রীপুর-খরনদ্বীপ গুচ্ছগ্রামের পাশে অংসাচিং মার্মার খামার থেকে গরু চুরির খবর পেয়ে এলাকাবাসীরা চারদিক থেকে ছুটে আসে।

এসময় ৩ যুবক খামারের অদুরে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশায় চোরাই গরুটি তুলে পালানোর চেষ্টা করলে তাদেরকে ধরে ফেলে এলাকাবাসী। পরে বোয়ালখালী থানায় খবর দিলে পুলিশের একটি টিম এসে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তথ্যটি নিশ্চিত করেছের বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল করিম।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আটক তিনজন ও অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের নামে থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন গরুর মালিক অংসাচিং মার্মা। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজুর পর আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হবে জানায় ওসি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২১ ৭:৫২ অপরাহ্ন
ধারের টাকা না পেয়ে ‘গরু নিয়ে গেল’ সুদখোররা
প্রাণিসম্পদ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথড় গ্রামে সুদের টাকা দিতে না পারায় দেনাদারের গোয়ালঘর থেকে গরু নিয়ে যাওয়া অভিযোগ উঠেছে কৃষ্ণ তালুকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুদখোরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাহুথড় গ্রামের লিটন বাইন গত চার বছর আগে ক্যাবল ব্যবসার জন্য পার্শ্ববর্তী মুকসুদপুর উপজেলার বরমপাল্টা গ্রামের সমর তালুকদারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা সুদে নেন। কয়েক মাস লাভের টাকা দেওয়ার পর তিনি আর টাকা দিতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সকালে সমর তালুকদারের প্রতিবেশী কৃষ্ণ তালুকদার ও রাহুথড় গ্রামের ঠাকুর বাইন হঠাৎ করে লিটন বাইনের বাড়িতে গিয়ে তার গোয়ালঘর থেকে গরু নিয়ে চলে যায়।

লিটন বাইন অভিযোগ করে বলেন, আমি সাড়ে তিন বছর আগে বরমপাল্টা গ্রামের সমর তালুকদারের কাছ থেকে মাসিক লাভে ৪০ হাজার টাকা সুদে আনি। কয়েক মাস লাভ দেয়ার পর আর্থিক সমস্যার কারণে আসল-লাভ কোনো টাকাই দিতে পারিনি।

বৃস্পতিবার সকালে সমরের প্রতিবেশী কৃষ্ণ তালুকদার ও তার মামা আমার প্রতিবেশী ঠাকুর বাইন আমার গোয়াল থেকে আমার মায়ের পোষা বকনা গাভীটি নিয়ে চলে যায়। এ সময় আমি বাধা দিতে গেলে আমার বাধা উপেক্ষা করে তারা গরু নিয়ে চলে যায়।

তিনি আরো জানান, আমি গরু আনার চেষ্টা করলে তারা আমার ওপর চড়াও হয় এবং আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। পরে বিষয়টি আমি উজানি ইউপি চেয়ারম্যান শ্যামল কান্তি বোস, ইউপি সদস্য খোকন বালাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য লোককে জানাই। তাদের হস্তক্ষেপে ও সামাজিকভাবে সমঝোতার আশ্বাসে গরু ফেরত দিয়ে যায়।

গোয়াল থেকে গরু নিয়ে আসার কথা স্বীকার করে কৃষ্ণ তালুকদার বলেন, গত ৪ বছর আগে আমার প্রতিবেশী সমর তালুকদারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা সুদে নিয়ে লিটন বাইনকে দেই। অনেক দিন হলেও টাকা ফেরত দেয় না। টাকা চাইলে আজকাল করে নানা টালবাহানা করে। বুধবার টাকাটা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আমি ও আমার মা লিটনদের বাড়িতে টাকার জন্য গেলে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। পরে আমার মামা ঠাকুর বাইনের সহযোগিতায় লিটনের বাড়ি থেকে গরু ধরে নিয়ে আসি। রাহুথড় বাজারের কাছে পৌঁছলে লিটন আমাদের দু’জনকে মারধর করে ও কাছে থাকা মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে।

এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২১ ৭:৩৭ অপরাহ্ন
কাঁঠালবাগানে অগ্নিকাণ্ডে গরুর খামার দগ্ধ
প্রাণিসম্পদ

রাজধানীর কাঁঠালবাগানে বক্স কালভার্ট রোডে আব্দুল মোনায়েম ডিস্ট্রিক লিমিটেড ভবনের পেছনে টিনশেড বস্তিতে আগুন লেগে একটি গরুর খামার পুড়ে যায়। অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের ২০-২৫ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১০.০৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

গরুর খামারের ক্ষতিগ্রস্ত নারী ফরিদা জানান, তারা বেশ কয়েকজন দুস্থ নারীরা টিনশেড বস্তিতে গরুর খামার গড়ে তুলেছিলেন। খামারের গরুর দুধ রাজধানীর অনেক এলাকা থেকে মানুষ কিনে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় বস্তির ভিতর থেকে তিনি আগুনের ধোঁয়া দেখতে পান। এরপর হুড়োহুড়ি করে গরুগুলো সবাই উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারি পরিচালক বজলুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, ‘ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পৌঁছানোর আগেই আশেপাশের লোকজন খামার থেকে গরুগুলো নিরাপদে বের করে নিয়ে আসে। এ সময়ের মধ্যে বস্তির গরুর খামারসহ আনুমানিক ৩০ টি টিনশেড ঘর পুড়ে যায়।

তিনি আরো জানান, আগুন লাগা বস্তিটিতে একটি গরুর খামার ছিলো। সেই সেমি পাকা খামারে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে গরুর খাবার শুকানো হতো এবং সেই খামারের ভিতর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন ছিলো। এই দুটির যেকোন একটি থেকে আগুন লাগতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক সালেহউদ্দিন ঘটনাস্থলে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করেছেন বলে বজলুর রশিদ জানান।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop