১:১৪ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ২২, ২০২১ ২:৩২ অপরাহ্ন
হিলি স্থলবন্দরে দাম কমে এক কেজি পেঁয়াজ ২৩ টাকা
কৃষি বিভাগ

পেঁয়াজের আমদানি বাড়ায় দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। একদিনের ব্যবধানে হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে (ট্রাকসেল) পেঁয়াজের দাম আরও এক দফা কমে কেজি প্রতি দাম ২৩ টাকা নেমেছে। একদিন আগেও বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৬ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া নগর জাতের পেঁয়াজের ৩২ টাকা থেকে কমে কেজি প্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকায়। পেঁয়াজের দাম কমে আসায় খুশি বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২২, ২০২১ ১:২৮ অপরাহ্ন
মিরসরাইয়ে আমন ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা আমন ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি তারা।আশা করছেন, মিলবে ন্যায্যমূল্য। 

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে শত হাজার টন ধান পাওয়া যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান পরিপুষ্ট হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা ।

খৈয়াছরা ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুই কানি জমিতে আমন চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে। খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। ঘরের জন্য রেখে অবশিষ্ট ধান বিক্রি করে খরচের টাকা তোলা যাবে।

জানা গেছে, অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে ধানচাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার কাজী নুরুল আলম বলেন, এখানে প্রতি আড়ি (৫ কেজি) ধান ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর ছিল ২০০ টাকা। ইতিমধ্যে ১০ শতাংশ ধান ঘরে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, আমনের ফলন ভালো হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায়  পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা পেয়েছে। আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান মিলবে।

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের জন্য আমন ধান ও চালের  সরকারি সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। ২৭ টাকা কেজি দরে ৩ লাখ টন আমন ধান ও ৪০ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল সংগ্রহ করছে সরকার।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চায় সরকার। পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা মজুতও বৃদ্ধি করতে চায়। বেরো ধান সংগ্রহে সফল হয়েছে সরকার। সে ধারাবাহিকতায় আমন সংগ্রহেও সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২২, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ন
আগাম আলু তুলতে ব্যস্ত, নীলফামারীর কৃষকেরা
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা আগাম আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলন একটু কম হলেও চড়া দামে বিক্রি করে লাভবান হবেন এমনটাই আশা করছেন আলু চাষিরা। দেশের বাজারে এই প্রথম নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। এ আলু ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সরবরাহ করা হয়।

উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি জয়নোনের কোট গ্রামের আলু চাষি আনোয়ারুল ইসলাম ৪ বিঘা ও একই এলাকার হাড়িবেচা পাড়া গ্রামের মমিনুর রহমান ২ বিঘা জমির আগাম আলু উত্তোলন করেছেন। এ সময় কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বরাবরের মত চলতি বছর আমি ৩৫ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। এর মধ্য ৪ বিঘায় লাগানো ছিল আগাম জাতের আলু। ৫৫ থেকে ৬০ দিনে উত্তোলনযোগ্য সেভেন জাতে আলু লাগানোর পর ৬১ দিনের মাথায় আলু তুললাম। জমিতে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। ৪ বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ বস্তা আলু হবে।

অপর কৃষক মমিনুর রহমান জানান, ২ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি ভালো দামের আশায়। তবে জমি উঁচু হওয়ায় আশ্বিনা বৃষ্টিপাতে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। এখন সেই জমির আলু তুলছি। যা ১০ থেকে ১২ বস্তা আলু হবে। এতে খরচ বাদে দ্বিগুণ টাকা আয় হবে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগাম আলুর মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় কারণে আগাম আলু চাষিরা বিপাকে না পড়লে ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ জমির আলু বাজারে চলে আসত। এখন আলু তোলা শুরু হয়েছে।

আর ক’দিন গেলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে আলু উত্তোলন শুরু হবে। তবে বাজার দর ঠিক থাকলে আলু চাষিরা লাভবান হবেন। আলু উত্তোলনের পর ওই জমিতে পুনরায় নমলা আলুসহ সাথী ফসল হিসেবে ভুট্রা, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচামরিচ ও শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ফসলগুলোতে সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাবিবুর রহমান জানান, চলতি বছর ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। বর্তমান আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। কৃষকরা ভাল দাম পেলে আগামীতে আগাম আলু চাষে উৎসাহিত হবেন। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২২, ২০২১ ১০:৫১ পূর্বাহ্ন
কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশার মৃত্যুতে কৃষিমন্ত্রীর শোক
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য এবং বাকৃবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী কৃষিবিদ ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

কৃষিমন্ত্রী আজ এক শোকবার্তায় বলেন, শেরপুরের কৃতি সন্তান তুখোড় ছাত্রনেতা জনাব বদিউজ্জামান বাদশা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন তেমনি
আজীবন সাধারণ মানুষ ও কৃষিবিদদের কল্যাণে এবং কৃষির উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। কৃষিবিদসহ দেশের সকল মানুষের নিকট তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

কৃষিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও তাঁর শোকসসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২১, ২০২১ ২:২১ অপরাহ্ন
পঞ্চগড়ে চাষ হচ্ছে কোরিয়ান ভোজ্য তেলবীজ পেরিলা
কৃষি বিভাগ

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রথম বারের মতো চাষ হয়েছে ভোজ্য তেলবীজ ফসল পেরিলা। সূর্যমুখী ও সরিষার মতো পেরিলার বীজ থেকেও উৎপাদন হয় তেল। উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত তেলের বীজ পেরিলার চাষ করে পঞ্চগড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন রোকনুজ্জামান নামে এক তরুণ কৃষক। তার এমন উদ্যোগে স্থানীয় কৃষকরা আগামীতে পেরিলা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চারিদিকে যখন হু হু করে বেড়ে চলেছে ভোজ্য তেলের দাম। এমন সময় দেশে তেল উৎপাদনের নতুন এক সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন রোকনুজ্জামান। পরীক্ষামূলকভাবে ১২ বিঘা জমির ওপর সাউ পেরিলা ১ নামের বীজ আবাদ শুরু করেন। প্রথমবারের মতো পেরিলা চাষ করে খরচের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।

কৃষি বিভাগ বলছে এটি বাংলাদেশে পেরিলার প্রথম জাত। সাউ পেরিলা ১ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চ ফলনশীল জাত এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপানসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এই তেলের চাহিদা রয়েছে ব্যপক এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এই তেলের মূল্য অনেক।

রোকনের পেরিলার খেতে কর্মসংস্থান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন চাষে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে তাদের অনেকেই পেরিলা চাষ শুরু করবেন।

এই উদ্যোগে উপজেলা কৃষি বিভাগ বীজসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম।

পেরিলা চাষে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হবেন অন্যদিকে মিটবে দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২১, ২০২১ ১২:৫৪ অপরাহ্ন
কৃষক পর্যায়ে জিংক-আয়রন সমৃদ্ধ ধান চাষে সাফল্য
কৃষি বিভাগ

গবেষণায় সাফল্যের পর এবার পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক পর্যায়ে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল বিনাধান-২০ চাষ করে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপকেন্দ্র। প্রথমবারের মতো কৃষকের মাঠে নতুন উদ্ভাবিত ধান চাষ করে অধিক ফলন পাওয়ায় এই ধানে উৎসাহ বাড়ছে সাধারণ কৃষকের।

জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ এই চালে রয়েছে অধিক পুষ্টিগুণ। জেলার ধান চাষিদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল এই ধান আবাদের জন্য বিনামূল্যে এই বীজ দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে বরিশাল বিনা উপকেন্দ্র। আগামীতে বিনা-২০ ধান জেলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলেন মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বরিশাল অঞ্চলে বছরের ৯ মাসে দুটি ফসল ফলিয়ে ভর্ষার সময়ে বাকি ৩ মাস অনাবাদী পড়ে থাকতো কৃষকের জমি। দীর্ঘ ৫ বছরের গবেষণায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বর্ষার সময়ে রোপণযোগ্য জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল বিনাধান-২০ উদ্ভাবন করে। এর আগে ক্ষুদ্র পরিসরে নতুন ধানের পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য পাওয়ায় চলতি মৌসুমে জেলার গৌরনদী উপজেলাতে ২০ বিঘা জমিতে বিনাধান-২০ চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছে কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপ-কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল ধান পুষ্টিগুণে ভরা। এই ধান মানবদেহের জন্য বিশেষ করে গর্ভবতীদের উপকারী। এ অঞ্চলের মাটির চাহিদা অনুযায়ী স্বল্প জীবনকালের এই ধান চাষ করে অল্প দিনে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারবে। এতে কৃষক লাভবান হবেন এবং অন্যান্য ফসল আগাম আবাদ করতে পারবেন। নতুন উদ্ভাবিত এই ধানের জাত কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপ-কেন্দ্র বিনামূল্যে বীজ দিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে বলে জানান এই কৃষি বিজ্ঞানী।

এদিকে, বর্ষা মৌসুমে অসময়ে অনাবাদী জমিতে বিনাধান-২০ চাষ করে অল্প সময়ের মধ্যে অধিক ফসল ঘরে তুলতে পেরে খুশি কৃষকরা। বিনাধান-২০ ১২০ দিনে কর্তন হওয়ায় আগাম সরিষাসহ রবিশষ্য চাষ করলে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব। এ কারনে নতুন ধানে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপ-কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন  জানান, নতুন জাতের ধানের প্রসার ঘটলে আগামীতে খাদ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া বিনাধান-২০ এর চাল দিয়ে মুড়ি, চিড়া, খৈ এবং পিঠা তৈরির গুঁড়া ভালো হয় বলে জানিয়েছেন বরিশাল  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২১, ২০২১ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
সাতক্ষীরায় কৃষি প্রণোদনা পাচ্ছেন ৩২ হাজার প্রান্তিক কৃষক
কৃষি বিভাগ

চলতি ২০২১-২২ রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৩২ হাজার ৩০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষককে শস্য আবাদের জন্য প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। প্রণোদনা হিসেবে এসব কৃষক পাচ্ছেন ধান, গম, সরিষা, ভুট্টা ও খেসারি বীজ এবং প্রয়োজনীয় সার।

এরই মধ্যে জেলার কয়েকটি উপজেলায় এসব উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বাড়াতে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে এ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা বিভিন্ন মৌসুমে ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা পূরণে অবদান রাখবেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামালনগর গ্রামের কৃষক দিলীপ কুমার ঘোষ জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে এক কেজি করে সরিষা বীজ এবং ১০ কেজি করে ড্যাপ ও ১০ কেজি করে পটাশ সার পেয়েছেন। তারা জানান, বিনামূল্যে সার ও বীজ পেয়ে অনেক উপকৃত হয়েছেন। এরই মধ্যে এক বিঘা করে জমিতে বীজ বপন করেছেন।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রণোদনার আওতায় জেলায় মোট ৩২ হাজার ৩০০ কৃষককে বীজ ও সার দেয়া হবে। ১০ হাজার কৃষককে বোরো ধানের (উফশী) বীজ ও সার দেয়া হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় দুই হাজার কৃষককে, কলারোয়া উপজেলায় ১ হাজার ৬০০, তালা উপজেলায় ১ হাজার ৮০০, দেবহাটা উপজেলায় এক হাজার, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৩০০, আশাশুনি উপজেলায় ১ হাজার ৩০০ এবং শ্যামনগর উপজেলায় এক হাজার জনকে এ ধানবীজ দেয়া হবে। প্রত্যেক কৃষক পাঁচ কেজি ধানবীজ, ১০ কেজি ড্যাপ সার ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন।

এছাড়া বোরো (হাইব্রিড) ধান বীজ পাবেন জেলার ১৪ হাজার কৃষক। এর মধ্যে সদর উপজেলায় তিন হাজার জন, কলারোয়া উপজেলায় ২ হাজার ৫০০, তালা উপজেলায় তিন হাজার, দেবহাটা উপজেলায় ১ হাজার ৫০০, কালিগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার, আশাশুনি উপজেলায় দুই হাজার ও শ্যামনগর উপজেলায় এক হাজার জনকে দুই কেজি হাইব্রিড ধানের বীজ দেয়া হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আরো জানায়, চলতি রবি মৌসুমে দুই হাজার কৃষককে গমের বীজ ও সার দেয়া হবে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৬৫০ জন, কলারোয়া উপজেলায় ৫০০, তালা উপজেলায় ৪৫০, দেবহাটা উপজেলায় ১০০, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১০০, আশাশুনি উপজেলায় ১০০ ও শ্যামনগর উপজেলায় ১০০ কৃষককে ২০ কেজি করে গমের বীজ, ১০ কেজি ড্যাপ সার ও ১০ কেজি এমওপি সার দেয়া হবে।

একই মৌসুমে এক হাজার কৃষককে ভুট্টার বীজ ও সার দেয়া হবে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৫০ জন, কলারোয়া উপজেলায় ১৫০, তালা উপজেলায় ১৭০, দেবহাটা উপজেলায় ৮০, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৫০, আশাশুনি উপজেলায় ১০০ ও শ্যামনগর উপজেলায় ১০০ কৃষককে দুই কেজি ভুট্টার বীজ, ২০ কেজি ড্যাপ সার ও ১০ কেজি এমওপি সার দেয়া হবে।

এছাড়াও পাঁচ হাজার কৃষককে সরিষার বীজ ও সার দেয়া হবে। একই মৌসুমে ৩০০ কৃষককে খেসারির বীজ ও সার দেয়া হবে।

সাতক্ষীরার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন মৌসুমের ফসল উৎপাদনে নিয়মিত প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছেন সরকার। প্রণোদনার বীজ ও সার ব্যবহার করে উপকারভোগী কৃষকরা শস্য উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা পূরণে অবদান রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২০, ২০২১ ৩:৪৫ অপরাহ্ন
নীলফামারীতে আগাম আলুর ব্যাপক ফলনের আশা
কৃষি বিভাগ

দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আলু চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বীও হয়েছেন। কিন্তু গত বছরে যারা আগাম আলু চাষ করেছিলেন তারা তেমন লাভবান হতে পারেনি বলে জানা যায়।

তবে এবার আগাম আলু চাষে লাভের আশায় আছেন নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের বাজারে আগাম আলুর জন্য বিখ্যাত এই কিশোরগঞ্জ। কিন্তু হঠাৎ বৈরি আবহওয়ার কারণে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

বড়ভিটার এলাকার আলু চাষি আব্দুল মজিদ বলেন, আমি হতাশায় আছি বৈরি আবহাওয়ায় আলুর পাতা-ডাল মরে যাচ্ছে। এতে করে আলুর ক্ষতি হতে পারে। যদি এই সমস্যা কেটে উঠতে পারি তাহলে ভালোমানের আলু বাজারজাত করতে পারবো এবং ভালো দাম পাবো।

আমি ১০ বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি এতে যদি ভালোমানের আলু ধরে তাহলে ১০০ বস্তার মতো আলু আসবে। বাজার মূল্য যদি ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয় তাহলে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, এবছর পুরো উপজেলায় ছয় হাজার পাঁচশত হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। তবে মাঠে দেখা গেছে বাম্পার ফলন হয়েছে আলুর। ১০ দিনের মধ্যে বাজারে আসবে নতুন আলু।

৯টি ইউনিয়নে শুধু আলুর সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। যদি কৃষকেরা সঠিক মূল্য পান ও বাজারজাতের জন্য ভালো কোনো ব্যবস্থা থাকে তাহলে লাভবান হবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২০, ২০২১ ২:৩০ অপরাহ্ন
ফুলকপিখেতে পোকার আক্রমণ, কীটনাশকেও রোধ হচ্ছে না
কৃষি বিভাগ

মেহেরপুরে পোকার আক্রমণে ফুলকপি ও বাঁধাকপির খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকেরা জানান, খেতে কালো মাথার পোকা ছড়িয়ে পড়েছে, যা কীটনাশক ছিটিয়ে দমন করা যাচ্ছে না।

তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, কপিখেতে লেদাপোকার আক্রমণ হয়েছে। অনেকে বেশি মাত্রায় ছত্রাক ও কীটনাশক ব্যবহার করায় পোকার সহনশীল ক্ষমতা বেড়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার মেহেরপুরে বাঁধাকপি ও ফুলকপির চাষ হয়েছে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে পোকার আক্রমণে এক-তৃতীয়াংশ খেত কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত বুধবার সদর উপজেলার কালিগাংনী, হিজলবাড়িয়া, কুতুবপুর, শোলমারি এবং গাংনী উপজেলার কাথুলী, ধলা, নওয়াপাড়া, জোড়পুকুর ও গাড়াবাড়িয়া এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ কপিখেত পোকার আক্রমণ। কপির পাতায় ছিদ্র ও হলুদ আকার ধারণ করেছে। শিকড় পচে গাছ মরে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার কুতুবপার গ্রামের হারেজ শেখ এ বছর প্রায় চার বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গ্রামের অধিকাংশ কৃষকের ফুলকপি ও বাঁধাকপির খেতে কালো মাথা ও উড়া পোকা আক্রমণ করেছে। পোকা দমনের জন্য তাঁরা দানাদার ও তরলজাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করছেন। কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না আক্রমণ। এক বিঘা জমিতে কীটনাশক বাবদ চার-পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরপরও কোনো কাজ হয়নি।

গাংনী উপজেলার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মোরাদ শেখ সাত-আট বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছরে আগাম জাতের বাঁধাকপি বিঘাপ্রতি ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। এবার মৌসুমের শুরুতে বাঁধাকপির বিঘাপ্রতি দাম ছিল ৭০-৭৫ হাজার। এলাকায় কপিখেতে দুই ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছেন। এতে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলি খাতুন বলেন, ছত্রাকনাশক ও কীটনাশকের অধিক মাত্রার ব্যবহারের কারণে পোকার সহনশীল ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে কীটনাশক যথাযথভাবে কাজ করতে পারছে না।

পোকার আক্রমণ রোধ করতে উপজেলা সহকারী মাঠকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ। তিনি বলেন, পরিমাণমতো কীটনাশক ব্যবহার করলে পোকার আক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : নভেম্বর ২০, ২০২১ ১:১৩ অপরাহ্ন
হিলি স্থলবন্দর কমেছে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের দাম
কৃষি বিভাগ

এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কমেছে ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা। পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ ৪০ টাকা ও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা কেজি দরে। ভারত থেকে আমদানি বৃদ্ধি হওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমে গেছে, আবার দেশে কাঁচামরিচের ভাল ফলন ও উৎপাদন বেশি হওয়ায় ভারতীয় কাঁচামরিচের আমদানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বলেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২০ নভেম্বর) সকালে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ ৬৬ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে তা খুচরা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি দরে। আজ সেই কাঁচামরিচ ৩৬ টাকা দরে পাইকারি ক্রয় করে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।
এদিকে, গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ ৩৬ টাকা কেজি দরে পাইকারি ক্রয় করে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে। আজ সেই ভারতীয় পেঁয়াজ ২৬ টাকা পাইকারি ক্রয় করে তা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে।

হিলি বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে কাঁচামরিচ ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম অনেক কমে গেছে। আজ কাঁচামরিচ ৩৬ টাকা পাইকারি নিয়ে তা ৪০ টাকা করে খুচরা বিক্রি করছি। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ২৬ থেকে ২৭ টাকা পাইকারি নিয়ে তা বিক্রি করছি ৩০ টাকা কেজি দরে। দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে অনেক স্বস্তি ফিরছে এবং আমাদের বেচা-বিক্রিও ভাল হচ্ছে।

হিলি বাজারে পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে বর্তমান পেঁয়াজের আমদানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে দামও কমে গেছে। ২৫ টাকা কেজি দরে আমদানিকারকদের নিকট ক্রয় করে তা ২৬ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করছি। আশা করছি পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে।

 

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop