১:৫২ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
মাগুরায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আউশের ফলন
কৃষি বিভাগ

চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাগুরা জেলায় বেশি জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দুই হেক্টর জমিতে এ চাষ বেশি হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর আউশ মৌসুমে জেলায় মোট ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। চাষকৃত এ জমিতে ১৯ হাজার মেট্রিকটনের বেশি চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

এর মধ্যে উপজেলা ভিত্তিক আউশের আবাদ হচ্ছে,- মাগুরা সদর উপজেলায় আউশের আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। শালিখায় আউশের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৫১০হেক্টর জমিতে, মহম্মদপুরে ১ হাজার আটশো হেক্টর ও শ্রীপুরে ৩০০ হেক্টর জমি এ চাষের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে জেলার চার উপজেলায় ক্ষেত থেকে পুরোদমে আউশ ধান কাটা চলছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামানিক জানান, ইতিমধ্যেই জেলায় ৬৫ শতাংশ জমির আউশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন
৩০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করবেন ওলিয়ার!
কৃষি বিভাগ

বিদেশি ফল মাল্টা চাষে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলার ওলিয়ার রহমান। চার বছর আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিজের তিন বিঘা জমিতে শখের বশে গড়ে তোলেন মাল্টা বাগান। এ বছর বাগান থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন ওলিয়ার।

ওলিয়ার রহমান জানান, তার ছোটবেলা থেকেই নানান ধরনের গাছের বাগান করার নেশা। ৪ বছর আগে হর্টিকালচারিস্ট ড. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি পরিকল্পনা করেন একটি মাল্টা বাগান করার। সে অনুযায়ী যশোর ঝুমঝমপুর থেকে সংগ্রহ করেন বারি-১ মাল্টার চারা।

তিন বিঘা জমিতে শুরু করেন মাল্টার চাষ। এ বছর তার বাগান ভরে ওঠে মাল্টায়। সব মিলে ৮০০ মণ মাল্টা সংগৃহীত হয়েছে তার বাগান থেকে। দারুণ সুস্বাদু এ মাল্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা আসছেন মাল্টা কিনতে। ইতোমধ্যে ২৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন তিনি। আরও ৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে ধারণা তার।

ওলিয়ার রহমান জানান, চার বছর আগে আমি এই বাগানের পেছনে ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। তখন মূলত শখের বশেই করেছিলাম। আমি ভাবিনি এই বাগান থেকে এক বছরেই ৩০ লাখ টাকার ফল পাবো। এখন আমার বাগান পরিচর্যার জন্য ৮ জন লোক কাজ করছেন। এ বাগান থেকে আরও ১২ বছর ফল আসবে। আমি স্বপ্ন দেখছি আরও লোকজনকে কাজে নেবো। এই বাগান আরও সম্প্রসারণ করবো।।

মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ রোকনুজ্জামান জানান মাগুরার মাটি বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির। এ ধরনের মাটি মাল্টা উৎপাদনে সহায়ক। এ ছাড়া এই মাটিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অম্লের উপস্থিতি এবং লবণাক্তহীনতা মাল্টাকে সুস্বাদু করে তুলেছে। আমরা মাগুরায় মাল্টা চাষ নিয়ে আশাবাদী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৫:৪৫ অপরাহ্ন
বরিশালে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে সরেজমিন উইংয়ের পরিচালকের মতবিনিময়
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক একেএম মনিরুল আলমের সাথে এক মতবিনিময় সভা ৪ সেপ্টেম্বর বরিশালের খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, করোণার প্রভাব এখনও বিদ্যমান। আমরা একটি সংকটময় মুহূর্ত পার করছি। যে কারণে বিশ্বের সকল দেশে কৃষিউৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। কাজেই আমদানির ওপর আর ভরসা করা যাবে না। নিজেদেরকেই সাবলম্বী হতে হবে। এর অংশ হিসেবে পারিবারিক পুষ্টি বাগান ও প্রদর্শনী বাস্তবায়নে আরো সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা জরুরি।

ডিএইর উপপরিচালক হৃদয়েশ^র দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএইর জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মো. মোশাররফ হোসেন, কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তাপস কুমার ঘোষ, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার (বরিশাল অঞ্চল) রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মোসাম্মৎ মরিয়ম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সাবিনা ইয়াসমিন, বরিশাল সদরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোসা. ফাহিমা হক, মুলাদীর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রেজাউল হাসান, বাবুগঞ্জের উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসির উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৪০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৫:০৪ অপরাহ্ন
পাটের বাম্পার ফলনে খুশি মোল্লাহাটের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

পাট কাটা, পাট জাগ, আশ সংগ্রহ, খড়ি শুকানোসহ পাট পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পাট চাষিরা।মৌসুমের শুরুতে ভাল দামে খুশি চাষিরা। তবে পাট চাষিদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি প্রধান বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে পাট চাষ হয়ে থাকে। এই উপজেলায় এবছর ৯৬০ হেক্টর জমিতে প্রায় চার হাজার চাষি পাট চাষ করেছেন। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামে পাট জাগের গন্ধ। আশ সংরক্ষণ শেষে কেউ কেউ পাট বিক্রিও শুরু করেছেন। এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে দুই থেকে সোয়া দুই টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা। মৌসুমের শেষে এই পাটের মণ অন্তত সাত থেকে আট হাজার টাকা হবে বলে দাবি কৃষি কর্মকর্তার। শুধু আশ নয়, প্রতি বিঘা জমির পাটখড়ি বিক্রি হয় ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায়।

চাষিরা বলছেন, ধার-দেনা করে চাষ করা হয়। তাই ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই দেনাদাররা হানা দেয়। দাম কম হলেও দেনাদারের পাওনা পরিশোধ করার জন্য পাটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করতে হয় তাদের। যার ফলে ইচ্ছে থাকলেও কষ্টার্জিত ফসল থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে পারে না কৃষকরা। এরপরেও ভাল ফলনে খুশি কৃষকরা।

তরিকুল ইসলাম নামে এক কৃষক জানান, বাংলাদেশের জন্য পাট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থকরী ফসল। কিন্তু আমরা যারা চাষি, তারা এই পাট চাষ করে তেমন লাভবান হই না। ধার-দেনা ও সুদে টাকা এনে চাষ করি। দাম বৃদ্ধির আগেই দেনা পরিশোধের জন্য পাট বিক্রি করে দিতে হয়। পাট চাষিদের বীজ ও সার কেনার জন্য যদি সরকার কিছু সহযোগিতা করত তাহলে চাষিরা খুবই লাভবান হত বলেন দাবি করেন তিনি।

মোল্লাহাটে তোষা, দেশি, মেস্তা তিন ধরণের পাট চাষ হয়। মার্চের শেষ থেকে মে পর্যন্ত পাট লাগানো যায়। আগস্টের প্রথম থেকে পাট সংগ্রহ শুরু করেন চাষিরা। পাট চাষের জন্য প্রথমে জমি নির্বাচন ও বীজ সংগ্রহ করেন চাষিরা। পরে জমি চাষ ও আগাছা পরিস্কার করতে হয়। এরপরে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বীজ বপন করেন কৃষকরা। বীজ বপনের পরেই শুরু হয় সেচ দেওয়া। ৫২ শতাংশের প্রতি বিঘা জমিতে চাষের জন্য ব্যয় হয় ২০০০ টাকা। এছাড়াও একই পরিমাণ জমিতে সেচ (পানি) দিতে ২০০০, বীজে ২০০ থেকে ৫০০, আগাছা পরিস্কারে ২০০০, সার প্রয়োগে ২০০০ টাকা ব্যয়। পাট পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পরে কাটা, জাগ ও আশ আলাদা করার জন্য ব্যয় হয় ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা।

মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিমেষ বালা জানান, মোল্লাহাটের ভান্ডারকোলা, বাসুরিয়া, আটজুড়ি, চর আস্তাইল, শাসনসহ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকায় পাট চাষ হয়েছে। প্রায় ৯৬০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আমরা চাষিদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছি। এবছর কাঁচা পাটের মণ ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আস্তে আস্তে এই দাম ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা মণে পৌঁছাবে। এ জন্য চাষিদের একটু ধৈর্য্য ধরে পাট বিক্রি করার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৪:৫২ অপরাহ্ন
সবজি চারার চাহিদা কম হওয়ায় লোকসানে চাষিরা
এগ্রিবিজনেস

বরিশাল ও পিরোজপুরের কৃষকরা বছরের পর বছর ধরে ভাসমান ক্ষেতে সবজি চারা উৎপাদন করে আসছেন। তবে, এবার মহামারি করোনা ও বন্যার কারণে চারার বাজারে চলছে মন্দা।চাষি পর্যায়ে ভালো দর না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সবজির চারা পাইকার মো. শহিদ জানান,পুরো বিশারকান্দি ও পিরোজপুরের নাজিরপুর এলাকার ফসলি জমি বর্ষায় পানির নিচে ডুবে থাকে। এ সময় জলজ উদ্ভিদ অর্থাৎ শ্যাওলা, কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান ক্ষেত তৈরি করেন কৃষকরা। এভাবেই ডুবে থাকা ফসলি জমির ওপর সবজি চারা উৎপাদন করা হয়ে থাকে।

এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ সবজি চারা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত চারা বরিশালের বিভিন্ন এলাকাসহ পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হয়। তবে এবার বন্যার কারণে এসব অঞ্চলে সবজি চারার বাজারে মন্দা চলছে।

তুলাতলা এলাকার কৃষক শামসুল হক জানান, করোনার কারণে এবার বিশারকান্দিতে স্থানীয় পাইকার ছাড়া দূরের পাইকারদের তেমন দেখা যাচ্ছে না। দূরের পাইকার না থাকায় বাজার স্থানীয় পাইকারদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে লোকসান ঠেকাতে তারা যে দর দিচ্ছেন তাতেই চারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।

রাসেল নামে এক কৃষক জানান, মৌসুমে একটি ক্ষেত থেকে ৩-৫ বার চারা উৎপাদনের চেষ্টা করেন কৃষকরা। সেক্ষেত্রে ভাসমান ক্ষেতে নির্ধারিত সময়ের পর চারাগাছ রাখা বিপদ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ ৩:২১ অপরাহ্ন
আতা ফলের বাণিজ্যিক বাগান করে তাক লাগিয়েছেন বাদশা মিয়া
কৃষি বিভাগ

বাণিজ্যিকভিত্তিতে আতা ফল চাষ করে বাজিমাত করেছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের চাষি শাহজাহান আলী বাদশা ।

জানা যায়, আজ থেকে ১৫ বছর আগে বাণিজ্যিকভিত্তিতে এ বাগানটি শুরু করেন বাদশা মিয়া। এখন এ বাগানের আয়তন ৪০ বিঘা। ২০১২ সাল হতে তিনি এ বাগান থেকে ফল পাওয়া শুরু করেন। এখন তার বাগান থেকে পরিপূর্ণ ফলন যাচ্ছে। বাজারে ফল বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন।

বাদশা মিয়া জানান, বিলুপ্তপ্রায় দেশি ফলকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা থেকেই বাণিজ্যিকভিত্তিতে শুরুতে এক একরের বাগান গড়ে তুলেছিলেন। তার বাগানই দেশে বাণিজ্যিকভিত্তিতে গড়ে তোলা প্রথম আতা ফল বাগান বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছরে তা ৪০ বিঘার বাগানে রূপ নিয়েছে। শ্রমে-ঘামে তিনি আতা ফলিয়েছেন। ১৫ বছর আগে ২০০৬ সালে ঢাকার বায়তুল মোকারম এলাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে তিন কেজি আতা ফল কিনেছিলেন। প্রায় হাজার টাকার ঐ ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা করেন।

বাদশা মিয়া জানান, বৈশাখ মাসে ফুল আসে আর ভাদ্র মাসে ফল সংগ্রহ করা যায়। আতা ফল চাষের উৎপাদন খরচ ও লাভ সম্বন্ধে জানতে চাই বাদশা মিয়ার কাছে। তিনি জানান, উৎপাদন খরচ বলতে চারা লাগানো, যত্ন-পরিচর্যা সব কিছু মিলিয়ে বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়।

ফলন পাওয়ার আগে অর্থাৎ ৫-৬ বছর পর্যন্ত সাথী ফসল হিসেবে ওল কচু ও অন্যান্য শাক-সবজি আবাদ করা যায়। এ দিকে বিঘা প্রতি ২০০ গাছে গড়ে একশ-দেড়শ ফল ধরে। গাছ প্রতি গড়ে একশ, ফল হিসেব করে বিঘা প্রতি অন্তত দুই লাখ টাকা লাভ থাকে বলে তিনি জানান।

বাদশা মিয়া জানালেন, বাগানের গাছের উচ্চতা ৭ থেকে ৮ ফুট থাকলে ভালো হয়। উচ্চতা এর চেয়ে বাড়ানো যায়। তবে উচ্চতা একটু কম থাকলে ঝড়ে ডালপালা ভেঙে যাওয়া আশঙ্কা কম থাকে। যত্ন-পরিচর্যা সম্বন্ধে তিনি জানান, আগাছা দূর করা ও সার দেয়া ছাড়া তেমন যত্ন-পরিচর্যা করতে হয় না। কাটিং করে গাছের আকৃতি ছোট রাখা যায়।

রোগ-বালাইয়ের মধ্যে মিলিব্যাগ নামক ছোট ছোট পোকার আক্রমণ দেখা যায়। তবে প্রতিষেধক দ্বারা সহজেই তা দমন করা যায়। পাকা আতা ফল পাখি খেতে আসে। এ জন্য পাকা ফল দ্রুত তোলাই ভালো। ফল পাকলে এটি সাদা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক আবদুল কাদের জানান, বাদশা মিয়া আতা বাগানটি যখন শুরু করেন তিনি তখন ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। তাই তিনি বাগানটি সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অবগত।

তিনি জানান, দেশীয় প্রজাতির এ ফলটি যেমন শরীরের জন্য খুবই উপকারী তেমনি এর চাষ করাও লাভজনক। পাবনা জেলা শহরের ফলের দোকানেই প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকায় এর দাম আরো বেশি। তিনি জানান, পাবনা অঞ্চলের মাটি এ ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ৫:৫০ অপরাহ্ন
কালিহাতীতে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ
কৃষি বিভাগ

কামরুল হাসান, কালিহাতী (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চাষীদের মাঝে বিনামূল্যে ভিত্তি নাবী পাটবীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ উৎপাদন মৌসুমে প্রকল্পভূত নির্বাচিত পাট বীজ উৎপাদনকারী চাষীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বি.কম।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফারহানা মামুন ও উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান প্রমুখ।

উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ফারুকুজ্জামান জানান ১০০ জন চাষীদের মাঝে ভিত্তি নাবী পাটবীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও ২০ জন চাষীদের মাঝে স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ৩:২৯ অপরাহ্ন
আগাম জাতের শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

শিম বাংলাদেশের অন্যতম লতা জাতীয় শীতকালিন সবজি। জেলায় গ্রীস্মকালিন সবজি হিসেবে আগাম জাতের শিমের আবাদ হচ্ছে। শিম লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা দিন-দিন এই আবাদের দিকে ঝুঁকছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৯৫০ হেক্টর জমিতে আগাম অটো জাতের শিম আবাদ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪০০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫০ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩০০ হেক্টর ও জীবনগর উপজেলায় ২০০ হেক্টর। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৮৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছিল চলতি মৌসুমে ১০০ হেক্টর বেশি জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হেক্টর প্রতি ১২ টন।

চুয়াডাঙ্গার বাজারে আগাম শিম উঠতে শুরু করেছে। অসময়ে শিমের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। ফলে ফলন যেমন বেশি তেমনি বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকরা বেশ খুশি।

গ্রামের মাঠের দিকে তাকালেই দেখা যায় জমি জুড়ে শিম আর শিমের মাচা। মাটি থেকে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ ফুট উচু বাঁশের মাচা তৈরী করে আবাদ করা হয়েছে উচ্চ ফলনশিল অটো জাতের শিম। বিকেল হলেই চাষীরা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে শিমের পরিচর্চায় ব্যাস্ত থাকেন। কারন বিকেলের দিকে শিমের পরিচর্চার উপযুক্ত সময়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুঁকিয়া চাঁদপুর গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম জানান, তিনি ১৩ বছর ধরে শিম আবাদ করছেন। এ বছর তিনি দেড় বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন । তিনি বলেন, আবহাওয়ায় ও বাজার দরও বেশ ভালো। তার দেখাদেখি অন্যান্য কৃষকরা আগ্রহী হয়ে শিমের আবাদ করেছেন বলে তিনি জানান। প্রথমে অল্প-অল্প জমিতে শিমের আবাদ করতে করতে কৃষকরা এখন ব্যাপক হারে শিম আবাদ করেছেন। প্রতিবছর শিম বিক্রি করে লাখ-লাখ টাকা আয় করছেন । তিনি গত বছরের মত এবছর দেড় বিঘা জমিতে অটো জাতের শিম চাষ করেছেন। আশা করেছেন বিঘাপ্রতি ১ লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে। এরই মধ্যে কয়েক মন শিম বিক্রি করে ফেলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকলে দেড় বিঘা জমিতে কমপক্ষে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।।

একই গ্রামের শিমচাষী সাহাবুদ্দিন, গৌতমসাহা, আব্দুল আজিজ ও আহম্মদ আলী জানান, বিঘা প্রতি খরচ বাদে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়।

বর্তমানে শিমের আবাদে নানা উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেশি। বীজ লাগানোর পর থেকে এক বিঘা জমিতে শিম আবাদ করতে বীজ, সার, বাঁশ, তার, শ্রমিক, সেচ খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। শিমের গাছ মাচায় উঠে গেলে ফুল এবং ফল ধরার সময় পোকা দমন এবং পচন রোধে প্রায় প্রতিদিন ওষুধ ¯েপ্র করতে হয়। ৫০ থেকে ৫৫ দিনে গাছে শিম ধরা শুরু করে।
এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত শিম বাজারজাত করতে অন্য কোন স্থানে যেতে হয়না। পাইকারি ক্রেতারা এসে তাদের কাছ থেকে শিম কিনে নিয়ে যায় বলে তারা জানান।

কুঁকিয়া চাঁদপুর গ্রামের শিম ব্যবসায়ী ফিরোজ আহম্মদ বলেন ,আমাদের এলাকায়(বারী -১ বাস্থানীয় অটো জাতের) শিমের অগ্রিম আবাদ হয়। এই শিমের ঢাকা, চট্ট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ জেলায় ব্যপক চাহিদা। আমি কৃষকদের জমি থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে পাইকারি দরে ক্রয় করে কখনো ঢাকা, চট্্রগ্রামে বা ময়মনসিংহ জেলায় পাঠায়, আবার কখনো কমিশনে বিক্রয় করি।

ঠাকুরপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন বলেন, এই ব্লকে ৬৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালিন শিমের চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের সব সময় পাশে থেকে পরামর্শ দিচ্ছি ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকি ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুফি রফিকুজ্জামান বলেন, জেলার কৃষকরা সবজি আবাদে সব সময় অগ্রগামী। গত বছর ৮৫০ হেক্টর জমিতে গ্রীস্মকালিন শিমের আবাদ হয়েছিল আর এ বছর ৯৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে শিমের উত্তোলন শুরু হয়ে গেছে এবং বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

অসময়ে শিমের দামটা বেশি পাওয়া যায়, এই জন্য কৃষকরা আগ্রহী এবং লাভটা ভাল পায়। অসময়ে শিমের আবাদ করতে গেলে কিছু পোকা-মাকড়ের সমস্যা হয়। এ ব্যাপরে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি আইটেম পদ্ধতিতে পোকা মাকড় দমন করা যায়। যেহেতু শিমটা অসময়ে বাজারে আসে, তাই আমরা নিরাপদে যদি শিমটা বাজারে তুলতে পারি। তাহলে একদিকে কৃষকরা যেমন লাভবান হবে তেমনি ক্রেতারা নিরাপদ সবজি পাবে। যার কারণে আমাদের জেলায় দিন-দিন শিমের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উৎপাদনের লক্ষমাত্রা হেক্টর প্রতি ১২ টন। এখন শিমের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা । গড়ে ৫০ টাকা দাম ধরে এ জেলার কৃষকরা ৯৫০ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকার শিম বিক্রয় করতে পারবে।বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ২:৩৬ অপরাহ্ন
তরমুজ আবাদে ঝুঁকছে কৃষক
কৃষি বিভাগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় অফ সিজনেও তরমুজের বাম্পার ফলন। উপজেলার বড় জোড়া গ্রামে আবাদ হয়েছে ১০ একর জমিতে সুপার কুইন জাতের তরমুজ। ফেব্রুয়ারি-মে মাস পর্যন্ত গরমকালে সুস্বাদু তরমুজ বাজারে পাওয়া যায়। তবে এখন আর মৌসুমি ফল নয় এটি। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি (বেশি শীত) মাস বাদে বছরের বাকি ১০ মাসই চাষ হচ্ছে অফ সিজনের তরমুজ।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, সারা বছর জল ও স্থলে পতিত জায়গায় মাটি কেটে বেড তৈরি করে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজের চারা রোপণ করা হয়। চারাগুলো বেড়ে ওঠার জন্য বেডের পাশে পানির উপর মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। চারা রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে ফুল ও ফল ধারণ করে এবং ৪৫ থেকে ৫০ দিন পর ফল পরিপক্ব হয়।

তরমুজ চাষী আমানুল্লাহ জানান, জমিতে ধান পাট চাষ করতে যে খরচ হয় তরমুজ চাষে খরচ হয় তার অর্ধেক মুনাফা হয় বেশি। তাই তিনি ৪৫ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তাকে অনুসরণ করে একই গ্রামের কৃষক শাহ জাহান ১০শতক, শফিকুল ইসলাম ৩৩ শতক, নজরুল ইসলাম ১০ শতক ও শান্ত মিয়া ৪০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার জানান, তরমুজ একটি অর্থকরী ফসল। এ ফল ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। অর্থনৈতিক ভাবে বেকার যুবক ও কৃষককে স্বাবলম্বী করে তুলতে অফ সিজনে তরমুজ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ ২:৪২ অপরাহ্ন
কুষ্টিয়ায় পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

কুষ্টিয়া জেলায় চলতি মৌসুমের শুরুতেই ‘সোনালি আঁশ’ পাটের মূল্য গত বছরের চেয়ে বেশি পাচ্ছে। ভালো মূল্য পাওয়ায় এ জেলার ছয় উপজেলার কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। করোনার সংকটময় সময়ে স্বস্তি ও খুশিতে আত্মহারা পাটচাষিরা। এতে কৃষক পরিবারে বইছে আনন্দ। সব শঙ্কা কাটিয়ে এবার হাসি ফুটেছে হাজারো পাটচাষির মুখে।

কুষ্টিয়ায় পাট প্রধান চাষ এলাকা সদর, মিরপুর, দৌলতপুর, খোকসা উপজেলার কৃষকরা জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর পাটের দাম বেশি। গত বছর এ সময় প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু এ বছর মৌসুমের শুরুতেই বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়।

প্রতি বিঘায় শুধু পাট বিক্রি করেই কৃষক লাভবান হচ্ছেন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে পাটখড়ির দাম যুক্ত করলে প্রতি বিঘায় এখন কৃষকের লাভ হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। করোনাভাইরাসের সংকটময় সময়ে গত বছরের চেয়ে বেশি দামে পাট বিক্রি করে ভালো লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এতে পাটচাষিদের মধ্যে খুশির বন্যা বইছে। সবার মুখে ফুটেছে হাসি। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক সুযোগ-সুবিধা এবং ভালো দাম পেলে আগামীতে পাটের চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলায় এ বছর ৪০ হাজার ৯৯৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত বছর ৩৯ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছিল। জমিতে দেশি, রবি-১, মোস্তা, জেআরও এবং তোষা জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। তবে উচ্চ ফলনশীল তোষা জাতের পাট চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্তসময় পার করছেন কুষ্টিয়ার চাষিরা। বৃষ্টিতে নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবাতে পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়ার কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি তাদের। গত বছরের তুলনায় আবহওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের চাষ বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর পাটের দাম ও ফলন বেশি হয়েছে। ফলে লাভবান হচ্ছেন পাটচাষিরা। সূত্র আরও জানায়, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘায় আট থেকে দশ মণ পাট উৎপাদিত হচ্ছে। গত বছরের এ সময় প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এ বছর প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকায় পাটচাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমি থেকে পাট কাটছেন, কেউ পাটের বোঝা বাঁধছেন, কেউ কেউ মাথায় করে সেই বোঝা নিয়ে যাচ্ছে নদী-খাল কিংবা পুকুরে। আবার অনেক জায়গায় পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। অনেকে আঁশ ছাড়িয়ে, পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে বিক্রির জন্য বাজারে নিচ্ছেন। দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের কৃষক সুজন আলী বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছরের পাটের দাম বেশি।

গত পাটের মণ ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া এবার ফলনও ভালো। এতে আমরাও খুব খুশি। একই উপজেলার কৃষক হামিদুর হক বলেন, এ বছর চার বিঘা পাটের চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। খরচ বাদে ডাবল লাভ হয়েছে।

দাম ভালো পাওয়ায় আমরা লাভবান। মিরপুর উপজেলার চাষি খাদেমুল ইসলাম বলেন, গত বছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। তাতে ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়েছিল। এবার দুই বিঘায় ২০ থেকে ২২ মণ পাট ঘরে তুলেছি। এবার লাভে ভালো হয়েছে। কারণ আগের বছরের চেয়ে দামও বেশি, ফলনও বেশি।

এলাকার কৃষকরা জানান, বিগত বছরের তুলনায় দাম ভালো পেয়েছেন তারা। ফলনও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়াও উপযোগী ছিল। ভালো দাম পেলে আগামীতেও আগ্রহ বাড়বে। ফলে পাট চাষ বাড়বে।

পাটের সঙ্গে সঙ্গে পাটখড়ির চাহিদাও বেশি। প্রতি বিঘায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকার পাটখড়ি পাওয়া যায়। সব মিলে চাষিরা খুশি। জ্বালানির কাজ ও বেড়া দেওয়ার কাজে পাটখড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ জন্য দিন দিন পাটখড়ির দাম ও চাহিদা বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শ্যামল কুমার চৌধুরী জানান, গত বছরের চেয়ে উৎপাদন, চাষের পরিমাণ ও দাম এ বছর বেশি। পাট চাষের উপযোগী আবহাওয়ার ফলে ফলন বেশি পেয়েছেন কৃষক। বাজারে পাটের দাম ভালো যাচ্ছে। আশা করি আগামী বছর কৃষকরা পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন। আগামীতে আবাদ আরও বাড়বে। বাসস

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop