১২:০২ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ১৪, ২০২২ ৪:০২ অপরাহ্ন
নাটোরের চলনবিলে শ্রমিক সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক
কৃষি বিভাগ

শস্যভাণ্ডারখ্যাত নাটোরে এবার বোরো ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে চলনবিলের চাষিরা। নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নলডাঙ্গায় শ্রমিক সংকটে পড়েছেন চাষিরা।

চলতি বোরো মৌসুমে নাটোরের চলনবিলে কয়েক দফা ঝড় আর বৃষ্টিতে মাঠের বেশিভাগ পাঁকা ধান এখন পানির নিচে। অন্যদিকে, শ্রমিকের মজুরিও গুণতে হচ্ছে গত বছরের প্রায় দ্বিগুণ। জনপ্রতি ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা মজুরিতেও পর্যাপ্ত ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিক পাওয়া না গেলে অনেক নিচু অঞ্চলের ধান বৃষ্টিতে নষ্ট হবার আশঙ্কা করছেন তারা। বৃষ্টির কারণে অনেকে আধা পাকা ধান কেটে ঘরে তুুুুলছেন।

অন্যদিকে, ঘূণিঝড় অশনির কারণে গত কয়েকদিন ধরে নাটোরের বিভিন্ন উপজেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে জমির ধান নিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।

সুকাশ ইউনিয়নের বনকুড়ইল গ্রামের আফসার আলী বলেন, অনেক কষ্টে দৈনিক ১১’শ টাকা চুক্তিতে ধান কাটার কাজের জন্য শ্রমিক পেয়েছি। এবছর ধান চাষে এ খরচ অনেক বেশি গেছে।

সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের চৌগ্রামের কৃষক ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ৫০ বিঘা জমিতে ধান করছি। ৩ হাজার টাকা বিঘা চুক্তিতে শ্রমিক দিয়ে জমির ধান কাটাইছি। এত খরচ হইলে কিভাবে সংসার চলব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক বলেন, নাটোর জেলায় প্রায় ৭০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। এখন চলছে মাড়াই ও ধান সংগ্রহের কাজ। কিছুদিনের মধ্যই বাকী জমির ধান কাটা শেষ হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১৩, ২০২২ ১২:০৬ অপরাহ্ন
বরিশালের বাবুগঞ্জে ব্রি উদ্ভাবিত বোরো ধানের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের বাবুগঞ্জে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল বোরোর জাত প্রদর্শনীর শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাবুগঞ্জ উপজেলার গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রির ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. প্রিয় লাল বিশ্বাস এবং ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান কবীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাবুগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহ মো. আরিফুল ইসলাম।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিকের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্রির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সায়েম, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম, ব্রির বৈজ্ঞানিক সহকারি আশিক ইকবাল, প্রদর্শনীচাষি মো. মোমিনুল ইসলাম, আব্দুল জলিল প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রধান খাদ্য ধান। তাই আমাদের চাহিদা পূরণে এর উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য দরকার উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহার। ব্রি উদ্ভাবিত বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে, যার ফলন হয় শতাংশপ্রতি ১ মন প্রায়। তবে এর পূর্বশর্ত সময়মতো চারা লাগানো। সে সাথে প্রয়োজন সুষ্ঠু সার প্রয়োগ আর সঠিক পরিচর্যা।

অনুষ্ঠানে অধিক ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন, গবেষণা ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতাধীন শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১২, ২০২২ ২:১২ অপরাহ্ন
শরীয়তপুরে নিরাপদ পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে
কৃষি বিভাগ

মোঃ আব্দুল মান্নান: জৈবসার এবং বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে শরীয়তপুরের সবজি চাষিদের। জেলার জাজিরা, নড়িয়া এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে, দেখা যায় সবজি উৎপাদনের জন্য চাষীরা ফসলের ক্ষেতে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ বোর্ড সহ জৈব বালাইনাশক বিভিন্ন উপকরণ তারা ব্যবহার করেছে।

এমনই একজন নিরাপদ সবজি চাষী ইদ্রিস মোল্লা। তিনি জানান, এসডিএস এর ভাইদের পরামর্শে ধুন্দল ক্ষেতে ফেরোমন, হলুদ বোর্ড লাগানোর পর পোকা-মাকড়ের আক্রমণ অনেকটা কমে গেছে। ক্ষেতে তেমন পোকা-মাকড় নাই বললেই চলে। ফাঁদ লাগানোর পর কীটনাশক তেমন দিতে হয়নি ফলে খরচ আমার কিছুটা কমেছে। আর জৈব সার ব্যবহার করাতে রাসায়নিক সারও আমার বেশি লাগেনি। আমি মনে করি,সবার এগুলো ব্যবহার করা উচিত। এতে খরচ কম হয় লাভ বেশি থাকে এবং নিরাপদ সবজি পাওয়া যায়।

ইফাদ এর অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগীতায় Promoting Agricultural Commercialization and Enterprises (PACE) Project এর আওতায় নিরাপদ পদ্ধতিতে সাধারন ও উচ্চমূল্যের সবজি চাষের মাধ্যমে কৃষকের আয়বৃদ্ধিকরণ উপ-প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সাল থেকে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা, নড়িয়া এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১২ হাজারের বেশি কৃষকদের নিয়ে নিরাপদ পদ্ধতিতে সাধারণ (ধুন্দল, চিচিঙ্গা, শসা, করলা লাউ, বেগুণ,টমেটো ইত্যাদি) এবং উচ্চ মূল্যের স্কোয়াশ, ব্রোকলি, লেটুস, ক্যাপসিকাম সহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ, জৈব সার, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার পদ্ধতি, ভার্মি কম্পোস্ট,অনুজীব সার তৈরিসহ কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, পরামর্শসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে এসডিএস (শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি)।

জানা যায়, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের আঘাতে আঘাতে জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক,ক্ষুধা, দারিদ্রতা, অসহায়ত্বের বেড়াজালে আবদ্ধ কৃষি নির্ভর এ মানুষগুলোর ভাগ্যন্নোয়নে ১৯৯১ সাল থেকে নিরলসভাবে কাজ করছে স্থানীয় এই বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এসডিএস (শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি)।

এসডিএস এর পরিচালক (এমএফ) বি এম কামরুল হাসান (বাদল) বলেন, শুরু থেকেই নিরাপদ ও উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনে কৃষকের আগ্রহ সৃষ্টি করতে আমরা কাজ করছি। এ জন্য উপকরণ সরবরাহ, কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান এবং মনিটরিং করছি। এ কাজে আমাদেরকে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সহযোগিতা করছে। গঙ্গানগর, কাঁচিকাটা ও চরআত্রা এই তিনটি এলাকাতেই এ প্রকল্পের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ ও এ সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে কৃষকেরা পরিমিত মাত্রায় রাসায়নিক সার প্রয়োগে অভ্যস্ত হচ্ছেন। বিষমুক্ত ও কম খরচে সবজি উৎপাদনে শরীয়তপুরের তিনটি উপজেলার চরাঞ্চলে সবজি ক্ষেতে হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন বসানো হয়েছে। ফলে পোকা দমনে কৃষককে কীটনাশক বা বিষ ব্যবহার করতে হয় না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি ক্রেতার হাতে তুলে দেয়া।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, আমরা নিরাপদ ফসল উৎপাদনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি ও ফল উৎপাদনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছি। এ কাজ আমরা সংস্থা ও ব্যক্তিপর্যায়ে আরো বেশি বেশি করার জন্য উৎসাহিত করছি। আমার জানা মতে, শরীয়তপুরের বেসরকারি সংস্থা এসডিএস দুর্গম চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায় অনেক আগে থেকেই জৈব কৃষি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তারা ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার, হলুদ ফাঁদ ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদসহ বিভিন্ন জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১২, ২০২২ ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
তেলবীজের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর
কৃষি বিভাগ

ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে তেলবীজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

১১ মে (বুধবার) সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) মিলনায়তনে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন এর সাম্প্রতিক অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ভোজ্যতেল আমদানিতে বছরে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে। ডাল আমদানি করতে হচ্ছে ৬ থেকে ৭ লাখ টন, তাতেও প্রচুর অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।আমাদের দেশে পটুয়াখালী সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে ডাল ও তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন হচ্ছে। ধানের উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে অতিরিক্ত ফসল হিসাবে আরও কোথায় কোথায় এসব ফসলের উৎপাদন করা যায় এসব খুঁজে বের করতে হবে এবং একই সঙ্গে গবেষণা বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। আমরা আমদানির অর্ধেকও উৎপাদন করতে পারি কি না সেটা দেখতে হবে, আমাদের সে সক্ষমতা রয়েছে। কোথায় কোথায় সরিষার উৎপাদন বাড়ানো যায় সেটা নির্ধারণ করতে হবে। এক্সটেনশন সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে, যাতে দ্রুত এর উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এটি করতে পারলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে ভোজ্যতেলের চাহিদার ৪০ ভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

তবে এসব পণ্যের উৎপাদান বাড়াতে হলে ভালো মানের গবেষণার দরকার বলে জানান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, সরকারের গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিচ্ছে। এ টাকা দিয়ে কি মানের গবেষণা হচ্ছে, কোন কোন জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলো মানসম্পন্ন কিনা এ বিষয়গুলো দেখা হবে। শুধু গবেষণা করলে হবেনা, মাঠ পর্যায়ে তা কি ফলাফল বয়ে আনছে সে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

পেঁয়াজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কদিন আগেই পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে কৃষকরা দাম পাচ্ছিল না। এখন একটু দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা একটু মূল্য পাচ্ছে। কৃষককে দাম পাওয়ার জন্যই আমদানি কিছুটা বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ, কৃষকেরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পারলে আগামী বছর পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিসচিব মো . সায়েদুল ইসলাম বলেন, দেশে এখনো গবেষণা সরকারি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ। বিদেশে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেরও ভূমিকা আছে । বেসরকারি খাতেও গবেষণা বাড়াতে হবে।

বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২২ ১:২৭ অপরাহ্ন
শ্রীনগরের আড়িয়াল বিলে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষক
কৃষি বিভাগ

শ্রীনগরের আড়িয়াল বিলে দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে জমির পাকা ধান কাটতে শুরু করেছে কৃষকেরা। ধান কাটতে কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি হিসাবে কৃষকের গুনতে হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা। ধানের জমিতে জলাবদ্ধতা, কৃষি শ্রমিকের অভাব ও ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। 

কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় এ বছর বোরো মৌসুমে ৯ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে আড়িয়াল বিলের শ্রীনগর অংশেই ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম ধান চাষ করা হয়েছে।

ঝড়-বৃষ্টিতে অসংখ্য জমিতে পাকা ধান নুয়ে পড়ায় চাষিদের ভোগান্তি বেড়েছে। উপজেলার আলমপুর, শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মদনখালী, গাদিঘাট এলাকায় হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন শ্রমিকরা। পরে মাথায় কিংবা ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে লোকালয়ে নিয়ে আসছেন। এসব ধান সড়ক কিংবা বাড়ির বোঙ্গা (শ্যালো ইঞ্জিতচালিত) মেশিনে মাড়াই করা হচ্ছে।

জানা যায়, আড়িয়াল বিল ছাড়াও উপজেলার অন্যান্য বিলে পাকা ধান কাটা হচ্ছে। এ অঞ্চলে অধিকাংশ জমিতে হাইব্রিড ২৮ ও ২৯ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এলাকায় মাড়াই করা ভিজা ধান সাড়ে ৭০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকেরা জানায়, আড়িয়াল বিলের বেশিরভাগ জমিতেই পানি উঠায় ধান কাটায় ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকের অভাবে অতিরিক্ত মজুরী দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ৩ বেলা খাবার দিয়ে একজন শ্রমিককে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা রোজ দিতে হচ্ছে। কিন্তু ১ মণ ধান বিক্রি হচ্ছে  মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার সান্ত্বনা রানী জানান, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি জমিতে উঠে গেছে। ঈদের ছুটির কারণে কৃষি শ্রমিকদের আসতে বিলম্ব হচ্ছে। জমিতে নুয়ে পড়া ধান আগে কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১১, ২০২২ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
ঘাতসহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে সহযোগিতা করবে ইরি: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

লবণ, খরাসহ বিভিন্ন ঘাতসহনশীল (স্ট্রেস টলারেন্ট) ধানের জাত উদ্ভাবন ও গবেষণায়  বাংলাদেশকে আরও বেশি করে সহযোগিতা করবে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)। এছাড়া, ভারতের বারানসিতে অবস্থিত ইরি দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক অফিসে স্থাপিত বিশ্বমানের গবেষণাগারে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা দ্রুত ধানের জাত উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।

মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপির সাথে বৈঠকে ইরির এশিয়া প্রতিনিধি নাফিস মিয়া (Nafees Meah) এ কথা জানান। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: সায়েদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহজাহান কবীর, ইরির বাংলাদেশ প্রতিনিধি হোমনাথ ভাণ্ডারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে লবণ, খরাসহ বিভিন্ন ঘাতসহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ইতোমধ্যে দেশের বিজ্ঞানীরা উন্নতমানের অনেকগুলো জাত উদ্ভাবন করেছে। তারপরও আরও জাত দরকার। এ বিষয়ে আমরা ইরির সহযোগিতা চাই।

ইরির  প্রতিনিধিদল এসময় বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইস রিলিজের বিষয়ে জানতে চান ও রিলিজের অনুরোধ জানান। দেশে গোল্ডেন রাইস রিলিজের বিষয়টি বর্তমানে পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন আছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে গোল্ডেন রাইস রিলিজের বিষয়ে পরিবেশবাদী ও সুশীল সমাজের আপত্তি রয়েছে।

২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ধান সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ করা হবে বলে জানান ইরির এশিয়া প্রতিনিধি নাফিস মিয়া।

পরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে দেশে খাদ্য সংকট হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এই মুহূর্তে মাঠে ধানের অবস্থা ভাল। এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৯০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হাওরে ৪ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে আগাম বন্যায় প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সময়মতো বাঁধ রক্ষা, অনুকূল আবহাওয়া ও যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে ধান কাটার ফলে ইতোমধ্যে হাওরের ধান ঘরে তোলা গেছে।

সরিষার আবাদ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে কাজ চলছে বলে জানান মন্ত্রী।  তিনি বলেন, আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে  ভোজ্যতেলের চাহিদার ৪০ ভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১০, ২০২২ ৫:১৫ অপরাহ্ন
বরিশালের বাবুগঞ্জে বিনাধান-২৪’র আবাদ বিষয়ক মাঠ দিবস
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে বোরো ধানের চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিনাধান-২৪’র ওপর কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ উপজেলার পাংশায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্যোগে এই মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক উদ্বোধনী (ভার্চুয়ালি) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

বিনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসির উদ্দিন।

উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোসা. নুরুন্নাহারের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার পপি, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফাতেমা আক্তার লিপি, কৃষক আবুল বাশার প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, বিনাধান-২৪ বোরো ধানের একটি সম্ভাবনাময় জাত। ধানগাছ সহজে হেলে পড়ে না। পাকা অবস্থায়ও ডিগ পাতা সবুজ থাকে। সেজন্য ধান চিটা হওয়ার তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। ফলন হয় বেশ। তাই এ জাতের ধানের আবাদ সম্প্রসারণ করা দরকার।

মাঠদিবসে অর্ধশতাধিক কিষাণ-কিষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১০, ২০২২ ৪:২৬ অপরাহ্ন
লিচু ফেটে যাওয়ার কারণ ও তার প্রতিকার
কৃষি বিভাগ

বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার ফল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফলের ফেটে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। সাধারণত: ফল বড় হওয়ার পর অর্থাৎ ফল পুষ্ট হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ফাটা শুরু করে। ফল বড় হওয়ার পর কোন কারণে নষ্ট হলে কৃষকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পড়ে। প্রায় সব ফলকেই ফাটতে দেখা যায়। তবে আমাদের দেশের ফল গুলোর মধ্যে লিচু ও ডালিম বেশী ফাটে। অন্যান্য ফলের মধ্যে কলা, আম, পেয়ারা, কাঁঠাল ইত্যাদি ফেটে যেতে পারে। ফল ফেটে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং উক্ত ফাটা জায়গায় রোগ জীবানুর আক্রমণ ঘটতে পারে। ফলে গোটা ফল নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়। ফল ফেটে গেলে তার বাজার মূল্য কমে যায়। তাছাড়া কোন কোন সময় তা খাওয়ার অনুপযুক্ত হয়ে যায় ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

ক্ষতির ধরণ বা প্রকৃতি:
লিচুর ফল ফাটা বিভিন্ন রকম হতে পারে। সামান্য ফাটা, কেবলমাত্র খোসা ফাটা, লম্বালিম্বভাবে গোটা ফল ফাটা ইত্যাদি। ফল ফেটে গেলে তার অপক্ক শাঁস অনাবৃত হয়ে পড়ে এবং সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে আসে ফলে শাঁস দ্রুত শুকায়ে যায়। পরবর্তীতে তা রোগ ও পোকার আক্রমণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। লিচুর ফাটা লম্বালম্বি বা আড়াআড়ি দু রকমই হতে পারে।

ফল ফাটার পদ্ধতিঃ
খরা বা অনাবৃষ্টির সময় ফলের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কোষে অনাকাংখিত আবহাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু শক্তিশালী কোষের উৎপন্ন হয় যা বিভক্ত হওয়ার বা বৃদ্ধি পাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যদি শুস্ক আবহাওয়ার পর পানি/সেচ সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয় তখন বর্ধনশীল কোষ (Merstematic tissuc) খুব দ্রুত বাড়া শুরু করে । কিন্তু , জাইলেম ও ফ্লোয়েমের শক্ত কোষগুলো সমভাবে বাড়তে পারে না। এমতাবস্থায়, কোষ বৃদ্ধির এই তারতম্যের কারণে ফলের আবরণের শক্তকোষগুলো ফেটে যায়।

ভারতের কানোয়ার ও তার সহযোগী বিজ্ঞানীবৃন্দ ব্যাখ্যা করেছেন যে, লিচুর ফল বৃদ্ধি দুটি পর্যায়ে ঘটে থাকে। প্রথম পর্যায়ে, ফল তার সম্ভাব্য দের্ঘ্য পর্যন্ত দ্রুত বাড়ে। বিশেষতঃ ফলের বীজ দ্রুত বাড়ার কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ে ফলের শাঁস দ্রুত বাড়া শুরু করে যে সময় (মে মাসে) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং আপেক্ষিক আদ্রতা কম থাকে। এ সময় ফলের যে অংশে সরাসরি রোদ্র পায় সে দিকে ফলের খোসায় হালকা বাদামী দাগ পড়ে। দাগযুক্ত খোসার রং গাঢ় হয় এবং জায়গাটা শুকিয়ে যায়। একই সময় দ্রুত বর্ধনশীল শাঁসের চাপে দাগযুক্ত আক্রান্ত খোসার জায়গাটি ফেটে যায়। শাঁস বৃদ্ধির হার বেশী হলে ফাটল দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং ফাটল সুস্পস্ট হয়ে উঠে।

ফল ফাটার কারণঃ

ফল ফাটার বিভিন্ন কারন রয়েছে। তবে, লিচু ফল ফেটে যাওয়ার নিম্নের এক বা একাধিক কারণ থাকতে পারে।

(ক) আবহাওয়া জনিতঃ আবহাওয়ার মুল উপাদান তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আদ্রতা এবং বৃষ্টিপাত। লিচুর ফল ফাটার সঙ্গে আবহাওয়ার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গোছ। কানোয়ার, সিংহ প্রভৃতি বিজ্ঞানীদের মতে গরম বাতাস/ আবহাওয়া লিচুর ফল ফাটার প্রধান কারণ। তারা বলেন ফল পাকার আগে গরম আবহাওয়া তৎসহ গরম বাতাস ফল ফাটাতে সহায়তা করে। ফলের শাঁস দ্রুত বৃদ্ধির সময় তাপমাত্রা ৩৮০ সে. বা অধিক এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬০ % বা কম হলে ফল ফাটা তরান্বিত হয়। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক তারতম্য, তৎসহ গরম আবহাওয়ার পর হঠাৎ পর্যাপ্ত সেচ প্রদান বা বৃষ্টিপাত ফল ফাটতে সহায়তা করে। ফল পাকার পূর্ব মুহূর্তে উচ্চ তাপমাত্রা, নিম্নমাত্রার আপেক্ষিক আর্দ্রতা তৎসহ দীর্ঘ বৃষ্টিপাত ফল ফাটার অন্যতম কারণ বলে বিজ্ঞানী মিশ্র মনে করেন।

(খ) হরমোনজনিতঃ সুস্থ্য ও ফাটা লিচুর রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুস্থ্য লিচুর তুলনায় ফাটা লিচুর খোসা ও বীজে কম মাত্রায় এবং শাঁসে বেশী মাত্রায় অঙিন বিদ্যমান থাকে। জিবারেলিন এর মাত্রা খোসা, বীজ ও শাঁসে স্বাভাবিক ফলের তুলনায় বেশী থাকে। এছাড়া সাইটো কাইনিন ও এবসিসিক এসিড ফাটা ফলে বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

(গ) জাতের বৈশিষ্ট্য জনিতঃ লিচুর সব জাতে একইরকম ফাটল দেখা যায় না। কোন কোন জাত বেশী সংবেদনশীল আবার কোন কোনটি ফাটা প্রতিরোধক। ভারতে বেশ কিছু জাতের উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, জাতভেদে ফল ফাটার পরিমাণ ০.৩-৩৬.২% । এর মধ্যে সর্বোচ্চ ফাটল দেরাদুন জাতে এবং সর্বনিম্ন ফাটল সীডলেস নং-২ জাতে লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের দিনাজপুর ও ঈশ্বরদী এলাকায় আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে বোম্বাই ও স্থানীয জাতের ফল ফাটার পরিমান বেশী হয়ে থাকে। চায়না -৩ ও বেদানা জাতে ফল ফাটার পরিমাণ বেশ কম, নাই বললেই চলে। গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম পাকে এমন জাতের ফল ফাটার পরিমাণ নাবী জাতের তুলনায় বেশী। ভারতেও একই রকম ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে।

(ঘ) পুষ্টির অভাব জনিতঃ কিছু কিছু পুষ্টি উপাদান যেমন পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, দস্তা, বোরণ, তামা, মালিবডেনাম ও ম্যাঙ্গানিজ ফল বৃদ্ধির সময় শারীরতাত্বিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় এদের অভাবে ফল ফাটা ত্বরান্বিত হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে ফাটা লিচুতে স্বাভাবিক লিচুর তুলনায় বেশী পরিমাণে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম থাকে। অপরদিকে ক্যালসিয়াম ও দস্তা কম পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। স্বাভাবিক ও ফাটা ফলের অম্লতা (পিএইচ) এবং মিষ্টতার (টিএসএস) কোন তারতম্য ঘটে না । তবে, ফাটা ফলে পানির পরিমাণ বেশী থাকতে দেখা গেছে।

(ঙ) মাটির আর্দ্রতাজনিতঃ ত্রুটিপূর্ণ সেচ ব্যবস্থাপনার কারণে ফল ফাটা বেড়ে যেতে পারে। ফলের শাঁস বৃদ্ধির সময়ে মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং পরিমিত মাত্রায় সেচ প্রদান না করার কারণে মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় লিচুর ফল ফেটে যেতে পারে।

(চ) রোগ পোকার আক্রমণ ও আঘাত জনিতঃ কোন কোন সময় রোগ ও পোকার আক্রমণ বা শারীরিকভাবে ফল ফল আঘাত প্রাপ্ত হলে তা ফেটে যায় এবং পচনকারী জীবানুর আক্রমণ দেখা দিতে পারে । তবে, এসব কারণে ব্যাপক আকারে ফাটল দেখা যায় না।

প্রতিকারঃ
১। যে সব জাত ফাটল প্রতিরোধক/ সংবেদনশীল সে গুলোর চাষাবাদ করতে হবে।
২। বিভিন্ন প্রকার হরমোন সেপ্র করে ফলের পরিপক্কতা দীর্ঘায়িত করা এবং খোসার সমপ্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে

ফলের ফাটা দমনের ক্ষেত্রে ভাল ফলাফল পাওয়া গেছে। ন্যাপথালিন এসিটিক এসিড ((NAA) ২৫ পিপিএম হারে এর সাথে জিবারেলিক এসিড ৫০ পিপিএম হারে ১০ দিন পর পর সেপ্র করে ফাটল রোধ করা সম্ভব।

৩। ফল বৃদ্ধির সময় জিংক সালফেট ( প্রতি লিটারে ৫ গ্রাম), রোবাঙ/ বরিক এসিড ( প্রতি লিটারে ৫ গ্রাম) একত্রে বা আলাদা আলাদা ভাবে সেপ্র করলে ফল ঝরে পড়া ও ফাটা উভয় সমস্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
৪। ফল বৃদ্ধির সময় গাছে নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণ সেচ প্রদান করলে মাটির আর্দ্রতা / রস বৃদ্ধি এবং বাতাসের তাপমাত্রা কমে যাবে। ফলে লিচুর ফাটল কমে যাবে।
৫। মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। জৈব সার প্রয়োগে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যাবে। ফলে বিরুপ আবহায়ায় মাটির রস দ্রুত হ্রাস বৃদ্ধির হার কমে যাবে। উপরন্ত, জৈব সারে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকায় মাটির অপুষ্টি জনিত সমস্যাও দুর হবে।

অনেক সময় চাষীরা ফল ফাটার প্রকৃত কারন নির্ণয় করতে পারেনা । সে জন্য একক ভাবে কোন চেষ্টার উপর নির্ভর না করে উপরের আলোচিত প্রতিকারগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থা নিলে কার্যকর ভাবে লিচুর ফাটল রোধ করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ১০, ২০২২ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
আবারও বরিশাল হবে বাংলার শস্য ভান্ডারে পরিণত- কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): আবারও বরিশাল হবে বাংলার শস্য ভান্ডারে পরিণত। তবে এ হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পতিত জমি চাষের আওতায় আনা জরুরি। অন্যান্য এলাকার ন্যায় দক্ষিণাঞ্চলেরও একই জমিতে তিন থেকে চারটি ফসল আবাদ করতে হবে। এ নিয়ে কৃষি বিজ্ঞানী এবং সম্প্রসারণবিদগণ কাজ করছেন। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন হবে।

সোমবার (৯ মে) বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোরো ধানের ফসল কর্তন এবং কৃষক মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি এসব কথা বলেন।

ব্রি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার।

ব্রির ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রিয় লাল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সদস্য পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ, ব্রির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, ভাসমান কৃষি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার, বাকেরগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায়, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মুছা ইবনে সাঈদ, কৃষক আবু দাউদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপকূলীয় শস্য নিবিড়তা কর্মসূচির আওতাধীন এ অনুষ্ঠানে ৩ শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৯, ২০২২ ৪:১৯ অপরাহ্ন
বিএআরসিতে কৃষি প্রযুক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে কৃষি প্রযুক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা (Agricultural Technology and Food Security) শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৮ মে) বেলা ১১.০০ টায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ও গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি (জিআইএফএস), সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা (Global Institute for Food Security (GIFS), University of Saskatchewan, Canada এর যৌথ উদ্যোগে উক্ত  অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, এমপি. এবং কৃষি সচিব জনাব মো: সায়েদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য যে, গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি, কানাডা এর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কর্মশালায় অংশগহণ করেন। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মো: রুহুল আমিন তালুকদার।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, এমপি কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি জমির হ্রাস, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ক্রমহ্রাসমান জমির উর্বরতা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বাংলাদেশের কৃষি জলবায়ু ফসল উৎপাদনের জন্য বেশ অনুকূল এবং এই অনুকূল পরিবেশকে বিজ্ঞান-ভিত্তিকভাবে কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষি গবেষণায় কানাডার উন্নত কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশে কৃষি আরো এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কারিগরি সেশনে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ যথা: ড. বালজিট সিং, ভাইস প্রেসিডেন্ট (গবেষণা), জিআইএফএস এর পরিচালক ড. স্টিফেন ভিসার, বঙ্গবন্ধু রিসার্চ চেয়ার এট জিআইএফএস ড. এন্ড্রু সার্প এবং জিআইএফএস এর ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম ডেভলাপমেন্ট ম্যানাজার জনাব মো: হাসান পারভেজ আহমেদ বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান বিষয়ে পৃথক পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তাছাড়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড মো: তফাজ্জল ইসলাম Bangabandhu – Pierre Elliot Trudeau Agricultural Technology Centre (BP-ATC) স্থাপন ও এর অধীনে ৫ টি থিমের (Genomics Phenomics for Plant Breeding, Soil Health and Quality, Soil Water Regime and Adaptation, Agro-processing and Postharvest food handling, and Data Management) সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম ও গবেষণায় বিনিয়োগ বিষয়ে অপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

উল্লেখ্য যে, GIFS-Canada BP-ATC এর অধীনে এসব গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। উল্লেখ্য এ লক্ষ্যে বিএআরসি কমপ্লেক্স এ GIFS Regional Office ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় কানাডা ও নেদাল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, FAO, IFAD, IsDB, World Bank, ADB সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন, কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন আন্তজার্তিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রধান/ প্রতিনিধিবৃন্দসহ ৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop