২:৩৫ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ১৩, ২০২২ ১:২৯ অপরাহ্ন
নীলফামারীতে সুপার ফুড চিয়া ও কিনোয়ার চাষ শুরু
কৃষি বিভাগ

উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ ও সারাবিশ্বে সুপার ফুড হিসেবে পরিচিত চিয়া ও কিনোয়ার চাষ শুরু হয়েছে নীলফামারীতে। ওষুধি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই দানাশস্য পুষ্টিহীনতা রোধে তৈরি করেছে নতুন সম্ভাবনা।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের কৃষক শাহাজান আলী চিয়া সিড ও কিনোয়া চাষ শুরু করেছেন। দানাদার এ ফসল মানবদেহে বিভিন্ন রোগের কার্যকরী মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া চিয়া চাষে উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কিনোয়া একটি অত্যন্ত উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন খাবার। এক কাপ কিনোয়ায় ৮ থেকে ১০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যায়। এছাড়াও কিনোয়া হচ্ছে একমাত্র উদ্ভিজ্জ প্রোটিন উৎস, যাতে ৯ ধরনের এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড উপস্থিত থাকায় নাসার মহাকাশচারীরা এটি খেয়ে থাকেন। গ্লাইসেন ইনডেক্স কম থাকায় ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্যও এটি বেশ উপকারী।

কৃষক শাহাজান আলী জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতাংশ জমিতে চিয়া ও কিনোয়ার চাষ করেছি। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এর চাষ পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। রোগবালাই না থাকায় ও পরিচর্যা কম লাগায় ২০ শতাংশ জমিতে খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা। জমিতে ফলন হবে ৪০ থেকে ৫০ কেজি। ৬শ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, ফসল দুটি উদ্ভাবনের পর যে চার-পাঁচটি উপজেলায় আবাদ হচ্ছে, তার মধ্যে কিশোরগঞ্জ একটি। চিয়া সাধারণত একটি তিল ও রাই সরিষার শস্যদানার মতো। ফসলটি দেশীয় পদ্ধতিতে সারিবদ্ধ কিংবা বীজ ছিটিয়ে চাষাবাদ করা যায়। অক্টোবর মাসে বীজ রোপণ করতে হয়। গম বা সরিষার মতো মাড়াই করে চালুনি, মশারির কাপড়, কুলা দিয়ে সহজে পরিষ্কার করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, পুষ্টিপরিপূরক আর অধিক মানসম্পন্ন হওয়ায় বহির্বিশ্বের সুপার ফুড দুটির চাহিদা অনেক বেশি। চিয়া ও কিনোয়া ফসল দুটি আমরা কৃষকদের কাছে ছড়িয়ে দিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু এই চাষাবাদ প্রক্রিয়া অনেক সহজ এবং ৩ মাসেই ঘরে তোলা সম্ভব তাই আমরা সামনে যেন এই চাষের পরিধি বৃদ্ধি পায় সে বিষয়ে কাজ করছি।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২২ ১২:৫২ অপরাহ্ন
ভেজাল সার চেনার উপায়
কৃষি বিভাগ

অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফসল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারে ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে নকল সার বা ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রি করছেন। কৃষকভাইয়েরা একটু সতর্ক হলেই আসল সার ও ভেজাল সারের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এখানে কয়েকটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে আসল বা ভেজাল সার শনাক্ত করার উপায় সম্পর্কে জানানো হলো:

ইউরিয়া সার চেনার উপায়:
আসল ইউরিয়া সারের দানাগুলো সমান হয়। তাই কেনার সময় প্রথমেই দেখে নিতে হবে যে সারের দানাগুলো সমান কিনা। ইউরিয়া সারে কাঁচের গুড়া অথবা লবণ ভেজাল হিসাবে যোগ করা হয়। চা চামচে অল্প পরিমান ইউরিয়া সার নিয়ে তাপ দিলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরি হয়ে সারটি গলে যাবে। যদি ঝাঁঝালো গন্ধ সহ গলে না যায়, তবে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

টিএসপি সার চেনার উপায়:
টিএসপি সার পানিতে মিশালে সাথে সাথে গলবে না। আসল টিএসপি সার ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পানির সাথে মিশবে। কিন্তু ভেজাল টিএসপি সার পানির সাথে মিশালে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গলে যাবে বা পানির সাথে মিশে যাবে।

ডিএপি সার চেনার উপায়:
ডিএপি সার চেনার জন্য চামচে অল্প পরিমান ডিএপি সার নিয়ে একটু গরম করলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ হয়ে তা গলে যাবে। যদি না গলে তবে বুঝতে হবে সারটি সম্পূর্ণরুপে ভেজাল। আর যদি আংশিকভাবে গলে যায় তবে বুঝতে হবে সারটি আংশিক পরিমান ভেজাল আছে। এছাড়াও কিছু পরিমান ডিএপি সার হাতের মুঠোয় নিয়ে চুন যোগ করে ডলা দিলে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে। যদি অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

এমওপি বা পটাশ সার চেনার উপায়:
পটাশ সারের সাথে ইটের গুড়া ভেজাল হিসাবে মিশিয়ে দেয়া হয়। গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে এমওপি বা পটাশ সার মিশালে সার গলে যাবে। তবে ইট বা অন্য কিছু ভেজাল হিসাবে মিশানো থাকলে তা পানিতে গলে না গিয়ে গ্লাসের তলায় পড়ে থাকবে। তলানি দেখে সহজেই বুঝা যাবে সারটি আসল নাকি ভেজাল।

জিংক সালফেট সার চেনার উপায়:
জিংক সালফেট সারে ভেজাল হিসাবে পটাশিয়াম সালফেট মেশানো হয়। জিংক সালফেট সার চেনার জন্য এক চিলতে জিংক সালফেট হাতের তালুতে নিয়ে তার সাথে সমপরিমান পটাশিয়াম সালফেট নিয়ে ঘষলে ঠান্ডা মনে হবে এবং দইয়ের মতো গলে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১১, ২০২২ ৭:৫৯ অপরাহ্ন
পাঁচটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ঢাকায় এফএওর ৩৬ তম আঞ্চলিক সম্মেলন সমাপ্ত
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) চার দিনব্যাপী ৩৬ তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন (এপিআরসি) আজ শেষ হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সম্মেলনে ডিজিটাল হাব স্থাপন, গবেষণার জন্য বিশেষ ফান্ড গঠন, সবুজায়ন বৃদ্ধি, জলবায়ুসহনশীল কৃষি, টেকসই কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানুষ, প্রাণি ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব ও আন্তনির্ভরশীল হিসেবে বিবেচনা করে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচকে অগ্রাধিকার দিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট গ্রহণ করেছে এপিআরসির সদস্য ৪৬টি দেশ।

আজ শুক্রবার ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি এসব কথা বলেন। এসময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলাম ও খাদ্যসচিব নাজমানারা খানুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ পরবর্তী দুই বছরের জন্য এপিআরসির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। পরবর্তী ৩৭তম এপিআরসি সম্মেলন শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা যেরকমটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে। মানবজীবনের সবকিছুকেই এটি প্রভাবিত করবে, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি। আর কোভিডের প্রভাবে এ অঞ্চলের কৃষি, খাদ্য ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। সারের উৎপাদন কমে গেছে। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এ ব্যাপারে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালদ্বীপ তাদের অস্থিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রী জানান, এ অবস্থায়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও কোভিড মোকাবেলা করে টেকসই কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণার মাধ্যমে ফসলের নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা সম্প্রসারণে একসাথে কাজ করার কথা রিপোর্টে বলা হয়েছে। এখানে এফএও বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

কৃষিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য একটি ‘ বিশেষ ফান্ড’ গঠনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে এটিকে চূড়ান্ত রিপোর্টের মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলে কৃষিমন্ত্রী জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ সম্মেলনে ডিজিটালাইজড কৃষি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এফএওকে একটি ‘ডিজিটাল হাব’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল, সকল দেশ এটি গ্রহণ করেছে। ডিজিটাল হাবে ৪৬টি দেশের কৃষিপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী তথ্যসমৃদ্ধ থাকবে, যাতে সকলদেশ উপকৃত হতে পারে। জাপানের উদাহরণ তুলে মন্ত্রী বলেন, জাপান কৃষিতে ড্রোন, রোবট ব্যবহার বা প্রিসিশন কৃষি করছে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, মানুষ, প্রাণি ও পরিবেশের স্বাস্থ্য রক্ষায় ‘ ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণ করা হয়েছে। ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচে গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার চিহ্নিতকরে রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়। জুনোটিক বা প্রাণি থেকে মানুষে সংক্রমিত রোগের প্রকোপ দিনদিন বেড়ে চলেছে। চলমান কোভিড এর অন্যতম উদাহরণ। এ অবস্থায় এ অঞ্চলে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে দেশগুলো।

ভালো পরিবেশেই শুধু ভালো জীবনযাপন করা সম্ভব উল্লেখ করে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, এশিয়া প্যাসিফিকে যে খাদ্য যতটা পাওয়া যাচ্ছে সেটা যেন নিরাপদ এবং পুষ্টিকর হয়-সেটা নিশ্চিত করতে সকল দেশ একমত রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্মেলন আয়োজনের জন্য সদস্যদেশসমূহ বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তারা বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৯, ২০২২ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
বরিশালের বাবুগঞ্জে বিনাসরিষা-৪’র চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের বাবুগঞ্জে বিনাসরিষা-৪’র চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিনা উপকেন্দ্রের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিকের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহ মো. আরিফুল ইসলাম, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম, প্রদর্শনী চাষি মো. গোলাম কবীর প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, আমাদের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আনতে হয়। অথচ অন্যান্য তেলফসলের পাশাপাশি সরিষার আবাদ বাড়িয়ে আমরা এর আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশেই কমাতে পারি। আর এ জন্য প্রয়োজন উন্নত জাত ব্যবহার। সেই হিসেবে বিনাসরিষা-৪ বেশ উপযোগি। এর ফলন ভালো। ঝাঁঝ এবং তেলের পরিমাণ বেশি। কিছুটা দেরিতেও চাষ করা যায়। তাই বরিশাল অঞ্চলের জন্য এই জাতটি যথেষ্ট সম্ভবনাময়।

মাঠদিবসে শতাধিক কিষাণ-কিষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৮, ২০২২ ৪:৩৭ অপরাহ্ন
ঢাকায় জাতিসংঘের এফএওর ৩৬তম আঞ্চলিক সম্মেলন শুরু
কৃষি বিভাগ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আহ্বানে বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ৩৬ তম এশিয়া প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন ঢাকায় শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হোটেলে ৪দিন ব্যাপী এই সম্মেলন আজ মঙ্গলবার (৮ই মার্চ) শুরু হয়ে আগামী শুক্রবার(১১ই মার্চ) শেষ হবে। এফএওর সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সচিব পর্যায়ের ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠকের উদ্বোধন করা হয়। বৈঠকে মালদ্বীপের প্রস্তাবে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ডি সাইদুল ইসলামকে বৈঠক পরিচালনার জন্য সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া নেপালকে সভাদূত করা হয়েছে।

এসময় খাদ্যসচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, এফএও’র সহকারী মহাপরিচালক জং-জিন কিম, কনফারেন্স সেক্রেটারি শ্রীধর ধর্মপুরীসহ অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে কৃষিসচিব বলেন, মুজিববর্ষে বাংলাদেশে এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজন দেশের কৃষি উন্নয়নের সাফল্যে মাইলফলক হয়ে থাকবে। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর কৃষি জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের কৃষিতেও এর বিরাট প্রভাব পড়বে। এ অবস্থায়, এ সম্মেলন সদস্য দেশসমূহের মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র প্রসারিত করবে ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

সচিব সাইদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমাদের দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের জাতীয় জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষি থেকে আসে। এ ছাড়া করোনা সংক্রমণের মাঝেও বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে তৃতীয় স্থান দখল করেছ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

এফএও’র সহকারী মহাপরিচালক জং-জিন কিম তাঁর বক্তব্যে সম্মেলনে আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য চারটি বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানান। তিনি বলেন, উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ ও উন্নত জীবনের জন্য কৃষিখাদ্য ব্যবস্থাকে টেকসই করা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও জলবায়ুসহনশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

মন্ত্রিপর্যায়ের মিটিং বা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন। শেষ দুই দিন (১০-১১ মার্চ) কৃষিমন্ত্রীদের মিটিংয়ের কথা বলা হয়েছে। বুধবার (৯ মার্চ) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এবং আগামী রোববার (১৩ই মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এফএও’-র মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

ভার্চুয়াল এবং সশরীরে আয়োজিত সম্মেলনে ৪২টি দেশ ও এসব দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ৪২ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ১২ জন মন্ত্রী সশরীর অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া, সদস্য রাষ্ট্র, এফএও’র মহাপরিচালক, জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও ও সিভিল সোসাইটির প্রায় ৯০০ জন নিবন্ধন করেছেন, যা এপিআরসি সম্মেলনে অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কান্ট্রি শোকেসিং থাকছে। কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে ১৭টি প্রদর্শনী স্টল রয়েছে।

উল্লেখ্য, এফএওর ৩৫তম এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন ২০২০ সালে ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে ২০২২ সালে অনুষ্ঠেয় ৩৬তম এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন বাংলাদেশে অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা নিরসনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ এফএও’র সদস্যভুক্ত হয়। এফএও’র একটি আনুষ্ঠানিক ফোরাম হিসেবে প্রতি দুই বছর পর পর এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়; যেখানে সদস্য দেশসমূহের কৃষিমন্ত্রী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ খাদ্য ও কৃষির চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করে থাকেন।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৭, ২০২২ ২:০৪ অপরাহ্ন
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) ৩৬তম এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৩৬তম এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন (এপিআরসি৩৬) শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন ০৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ১১ মার্চ। এ সম্মেলনে ৪৩টি দেশ ও এসব দেশের প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ৪২ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া, সদস্য রাষ্ট্র, এফএও’র মহাপরিচালক, জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও ও সিভিল সোসাইটির প্রায় ৯০০ জন নিবন্ধন করেছেন, যা এপিআরসি সম্মেলনে অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আজ সোমবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এফএও’র ৩৬তম এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। বাংলাদেশ প্রথমবারের মত এ ধরনের একটি সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এশিয়া এবং প্যাসিফিকভুক্ত ৪৬টি দেশের কৃষিমন্ত্রী, কৃষি সচিব, এফএও’র মহাপরিচালক এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে আনবে এবং বাংলাদেশের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ এফএও’র সদস্যভুক্ত হয়। তারপর থেকে এফএও দেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের কৃষিতে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবেলা করে কৃষিকে টেকসই করা, জলবায়ুসহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ভ্যালু চেইন আধুনিকীকরণ ও কৃষিপণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। এছাড়া, কৃষিখাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, এ বৃহৎ সম্মেলনটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের কাতারে শামিল হতে জোরে অগ্রসর হচ্ছি। এ সম্মেলনটিকে সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সক্ষমতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই, যাতে করে ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশে সম্মেলন আয়োজনে আগ্রহী হয়।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, এবারের সম্মেলনে কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে খাদ্য ও কৃষির বর্তমান অবস্থা, এ অঞ্চলে জলবায়ুসহনশীল কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে করণীয়, এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইন ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিতকরণ, জুনোটিক বা প্রাণিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচে গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার চিহ্নিতকরণ ও হেলথ অ্যাপ্রোচ গড়ে তুলতে করণীয়, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত বিনিয়োগ প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

জানান হয়, সম্মেলনের মূল অধিবেশন/প্লেনারি সেশন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কান্ট্রি শোকেসিং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) হবে। ৪ দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দুই দিন (৮-৯ মার্চ) সিনিয়র অফিসিয়াল/কৃষি সচিব ও উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের মিটিং এবং শেষ দুই দিন (১০-১১ মার্চ) মন্ত্রিপর্যায়ের/কৃষিমন্ত্রীদের মিটিং হবে।

মন্ত্রিপর্যায়ের মিটিং বা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কান্ট্রি শোকেসিং থাকবে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে ১৭টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। ০৯ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া, ০৯ মার্চ রাষ্ট্রপতির সাথে এবং ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সাথে এফএও’র মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) একটি বিশেষায়িত সংস্থা; যা বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা নিরসনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ এফএও’র সদস্যভুক্ত হয়। এফএও’র একটি আনুষ্ঠানিক ফোরাম হিসেবে প্রতি দুই বছর পর পর এশিয়া ও প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়; যেখানে সদস্য দেশসমূহের কৃষিমন্ত্রী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ খাদ্য ও কৃষির চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করে থাকেন। প্রথম আঞ্চলিক সম্মেলন ১৯৫৩ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ব্রিফিংয়ে জানান হয়, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষায় ও কোভিড প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুসরণ করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৪, ২০২২ ৪:৪০ অপরাহ্ন
মরিচের ফুল ঝরে পড়ার কারণ ও তার প্রতিকার
কৃষি বিভাগ

মরিচ একটি ভিটামিন সি মসলা জাতীয় ফসল। কাঁচামরিচ সবজি ও সালাদ হিসেবে এবং বিভিন্ন ধরনের ভাজি ও তরকারিতে ব্যবহৃত হয়।মরিচ ছাড়া আমাদের চলেই না! বাংলাদেশে জনপ্রিয় একটি ফসল মরিচ।  মরিচ চাষ করে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছে, আবার  চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সমুক্ষিন হচ্ছে বেশ কয়েকটি কারণে ।

মরিচ উৎপাদনে রোগবালাই একটি প্রধান প্রতিবন্ধক।এর মধ্যে অন্যতম মরিচের ফুল ঝরে যাওয়া।এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ফলন অনেক বৃদ্ধি পায়।একটি ভুল ধারণা হলো বোরন সার এর অভাবেই গাছে ফুল ঝরে যাওয়া। কিন্তু না, আরো অনেক কারণ রয়েছে  ফুল ঝরার । চলুন জেনে নেয়া যাক মরিচের ফুল ঝরার কারণ  এবং এর প্রতিকার।

মরিচের ফুল যেসব কারণে ঝরে পড়ে:

১) দিনের তাপমাত্রা ৩০℃ এর বেশি হলে এবং রাতের তাপমাত্রা ১৬℃ এর  নিচে হলে ।
২) অতিবৃষ্টি হলে।
৩) গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে ।
৪) ফুল এর পরাগায়ন হতে না পারলে।
৫) ফুল আসা গাছে মাটিতে সার প্রয়োগ করলে ।
৬) NPK এর পরিমাণ কমে গেলে।
৭) শোষক জাতীয় পোকা( সাদামাছি, জাব , জ্যাসিড)  যাদের খালি চোখে সহজে দেখা যায় না তাদের আক্রমণে ফুল ঝরে যায়।
৮) মাটিতে যদি বোরণ সার না দেয়া হয় তাহলেও ফুল ঝরে যাবে।

রোগের প্রতিকার

১) গাছের মাটি বেলে দোয়াশ হতে হবে এবং মাটির পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা ভালো থাকা জরুরি।  গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে।
২) অতি পরিমানে কীটনাশক স্প্রে করলে উপকারী পোকা মারা যায়, তখন পরাগায়ন হয় না।
৩) সুষম পরিমানে সার প্রয়োগ।
৪) জাব পোকা, জ্যাসিড পোকা, সাদা মাছি, ইত্যাদি শোষক পোকার আক্রমণ রোধে ইমিডাক্লোপ্রিড স্প্রে  ১মিলি/লিটার হারে স্প্রে করতে হবে ।
৫) হরমোন স্প্রে করা যেমন জিব্রেলিক এসিড অথবা ট্রায়াকন্টোনল ৭ দিন পর পর ৩-৪ বার।
তাছাড়া অন্যান্য ফল গাছের ফুল ঝরে পড়ার জন্য শোষক পোকা,অতি বৃষ্টিপাত , সার ব্যবস্থাপনা, বোরন সার এর ঘাটতি, পরাগায়ন এর অভাব, উপকারী পোকার মৃত্যু দায়ী।

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ইশমাম
বিএসসি ইন এগ্রিকালচার( চলমান)
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল: [email protected]

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৪, ২০২২ ১২:৫৫ অপরাহ্ন
লাউ চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

লাউয়ের ইংরেজী নাম gourd। শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে লাউ অন্যতম। এর পাতা সরল ও একান্তর, বোঁটা লম্বা এবং ভেতরে ফাঁপা থাকে। আমাদের দেশে অনেক ধরনের লাউ চোখে পড়ে। ফলের আকার-আকৃতি ও বর্ণের কারণে বিভিন্ন জাত নির্ণয় করা যায়। বর্তমানে সারাবছরই এ সবজিটি পাওয়া যায়। এর ব্যবহার হয় অনেক ধরনের খাবারে। তাই আগাম ফসল পেতে হলে এখনই লাউ চাষ করা দরকার।

জলবায়ু : আমাদের দেশে শীতকালে এ সবজিটি ভালো হয়। পরিবেশের দিক থেকে এটিই হচ্ছে উপযুক্ত সময়। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়, আলো-বাতাস এবং তাপমাত্রা ভালো ফল উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।

মাটি : সব ধরনের মাটিতেই লাউ হয়। দো-আঁশ মাটিতে ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। বেলে মাটিতে লাউয়ের ফলন পেতে হলে প্রচুর পরিমাণ জৈবসার আর পানির প্রয়োজন হবে। বর্তমানে বেলে মাটিতে লাউয়ের ভালো ফলন হচ্ছে, তা চরাঞ্চলের দিকে খেয়াল করলে বোঝা যায়।

জাত : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি লাউ-১ নামে উচ্চফলনশীল একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে লাউয়ের কোনো অনুমোদিত জাত নেই। এ জাতটি সারা বছরই চাষ করা যায়। বর্তমানে ইস্টওয়েস্ট সিড কোম্পানির হাইব্রিড লাউ মার্টিনা ও জুপিটার ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।

মাদা তৈরি-বীজ বপন : ভালো মাদা তৈরি করতে দরকার হয় উঁচু জমি। মাদায় প্রয়োজনীয় সার দেয়ার ৭ থেকে ১০ দিন পর প্রতি মাদায় ৩-৪টি করে বীজ বপন করতে হয়। জমিতে আইল তৈরি করে লাউয়ের চারা রোপণ করা যায়। এক্ষেত্রে আইলের প্রতি মাদায় একটি করে চারা রোপণ করতে হবে।

বীজ বপন ও চারা উৎপাদন : লাউ চাষের জন্য দুইভাবে বীজ বপন করা যায়। সরাসরি ক্ষেতে তৈরী মাদায় বীজ বপন করে অথবা পলিথিনের ব্যাগে চারা তৈরি করে। ৫০ ভাগ পচা গোবর অথবা জৈবসার সমপরিমাণ বেলে মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে পলিথিন ব্যাগের জন্য মাটি তৈরি করে নিতে হবে। পলিথিন ব্যাগের ব্যাস ৭.৫ সেন্টিমিটার ও উচ্চতা ১২-১৫ সেন্টিমিটার হবে। পানি বের হওয়ার জন্য ব্যাগের তলায় দুই-তিনটি ছিদ্র করে দিতে হবে। অপর দিকে সরাসরি মাদায় বীজ বপন করতে হলে প্রথমে ৩০×৩০×৩০ সেন্টিমিটার পরিমাপের মাদা তৈরি করে সার প্রয়োগ করার পর প্রতি মাদায় চার-পাঁচটি বীজ বপন করতে হবে। বীজ বপনের ১০-১৫ দিন পর প্রতি মাদায় দু’টি করে সুস্থ ও সবল চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।

বীজ বপনের গভীরতা : ২.০-২.৫ সেন্টিমিটার। ৪-৫ দিনের মধ্যেই চারার অঙ্কুরোদ্গমন হবে।

বীজ বপনের সময় : শীতকালীন লাউ চাষের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে বীজ বপন করতে হয়। তবে আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য আগস্টের মাঝামাঝি সময়েও বীজ বপন করা যায়।

চারা রোপণ : লাউ চাষের জন্য ২ী২ মিটার দূরত্বে প্রতি মাদায় দু’টি সুস্থ ও সবল চারা রোপণ করতে হয়। মাদার ওপরে মাচা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। রবি মওসুমে লাউ মাচাবিহীন অবস্থায়ও চাষ করা যায়।

মাচা : বীজ বপনের পর মাচা তৈরি করা হলে সহজে বীজের অঙ্কুরোদ্গমন হবে।

স্থান পূরণ : কোনো স্থানে চারা না গজালে বা চারা মরে গেলে সে স্থান পূরণ করতে নতুন করে বীজ বা চারা রোপণ করতে হয়।

গাছ পাতলাকরণ : চারা গজানোর পর প্রতি মাদায় একটি করে সুস্থ-সবল চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।

সারের উপরি প্রয়োগ : সময়মতো সারের উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

মাটি আলগাকরণ : জমির আগাছা পরিষ্কার করার সময় নিড়ানি দিয়ে মাটি আলগা করে দিতে হয়। তার ফলে গাছের গোড়ার মাটি নরম এবং ঝুরঝুরে থাকে। এতে গাছের গোড়ায় আলো-বাতাস সহজে প্রবেশ করে।

বাউনি বা মাচা দেয়া : গাছ যখন ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বড় হবে তখন গাছের গাড়ার পাশে মাচা বা বাউনি হিসেবে বাঁশের ডগা কুঞ্চি পুঁতে দিতে হবে।

পরাগায়ন : সকাল বা বিকালে স্ত্রী ফুলের গর্ভকেশরের মাথায় পুরুষ ফুলের পরাগরেণু খুব আস্তে আস্তে ২-৩ বার ছুঁয়ে দিলে সহজে পরাগায়ন হয়। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে ৫-৬টি স্ত্রী ফুলের পরাগায়ন করা সম্ভব।

পরিচর্যা : পানি সেচ আর বাউনি দেয়া লাউয়ের প্রধান পরিচর্যা। লাউ ফসলে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়।
আগাম ফসলের জন্য শুষ্ক মৌসুমে জমি অনুযায়ী সেচ দিতে হবে। এর জন্য প্লাবন সেচ প্রয়োজন হয় বেশি। বাউনি বা মাচায় লাউ গাছ বাধাহীনভাবে যাতে বাইতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
পোকা ও রোগ দমন

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা : লাউগাছ প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে। তাই নিয়মিত গাছের গোড়ায় সেচ দেয়া, মাটির চটা ভেঙে দেয়া, বাউনি দেয়া ও গাছের গোড়ার শাখাগুলোও ভেঙে দেয়া বাঞ্ছনীয়। বারি লাউ-১-এর জন্য মাচা দেয়া ভালো।

মাছি ও জাবপোকা : এ পোকা গাছের কচি ডগা বা পাতার রস শুষে খেয়ে গাছকে দুর্বল করে দেয়। ফলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। মাছি পোকা লাউয়ের ওপর খোসার নিচে দিকে ডিম পারে। ডিম পাড়ার কয়েকদিনের মধ্যেই কীড়া রেব হয়ে আসে এবং লাউয়ের কচি অংশ খেয়ে ফেলে।

পাউডারি বা ডাউনি মিলউড : এ রোগে আক্রমণ করলে গাছের পাতায় পাউডারের মতো আবরণ দেখতে পাওয়া যায়। মাটিতে রস থাকলে এ রোগ হয়। ডাউনি মিলউড রোগে গাছের পাতা বাদামি রঙ ধারণ করে। ছত্রাক আক্রমণে পাতা কুঁচকে যায়।

প্রতিকার : এ রোগের প্রতিকারের জন্য আপনার কাছের কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিন।

ফলের মাছিপোকা : পূর্ণবয়স্ক মাছিপোকা বাদামি বর্ণের গাঢ় হলুদ দাগযুক্ত হয়ে থাকে। স্ত্রী মাছি কচি ফলের গায়ে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে পোকার কিড়া আক্রান্ত ফলের ভেতর ঢুকে পড়ে এবং লাউয়ের কচি অংশ খেয়ে নষ্ট করে। ফলে আক্রান্ত লাউ পচে যায় এবং অকালে ঝরে যায়। বিষটোপ তৈরি করে এর আক্রমণ রোধ করা যায়।

কীটনাশক ব্যবহার করে এ পোকা দমন করতে হলে গাছে কচি ফল দেখা দেয়ার সাথে সাথে প্রতি লিটার পানিতে ডিপটেরক্স-৮০ এসপি ১.০ গ্রাম অথবা ডিপটেরক্স-৫০ ইসি ১.৫ মিলিলিটার মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর গাছে স্প্রে করতে হবে।

সূত্রঃএগ্রোবাংলা

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৪, ২০২২ ১২:০৮ অপরাহ্ন
বরিশালের গৌরনদীতে বিনাসরিষা-৪’র চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের গৌরনদীতে বিনাসরিষা-৪’র চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার উপজেলার খাঞ্জাপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মামুনুর রহমান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা দিপঙ্কর বাড়ৈ, স্থানীয় ইউপি. সদস্য মো. গিয়াস মৃধা, প্রদর্শনী চাষি জসিম মৃধা প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, সরিষা চাষে রয়েছে নানান সুবিধা। স্বাস্থ্যসম্মত তেল পাওয়া যায়। আরো পাওয়া যায় খৈল আর জ্বালানির উপকরণ। তাই এর আবাদ বাড়ানো দরকার। এর মাধ্যমে দেশের ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি কৃষকরাও হবেন লাভবান। মাঠদিবসে শতাধিক কিষাণ-কিষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২, ২০২২ ১২:০০ অপরাহ্ন
কম খরচে অধিক ধান উৎপাদনে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ
কৃষি বিভাগ

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভায় কম খরচে অধিক উৎপাদন সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেওয়া এবং কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে নতুন ধানের বীজ কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া সুপারিশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ মার্চ) জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ কথা বলা হয়েছে৷

স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধুরী’র সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য কৃষি মন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রাং, মো. মামুনুর রশীদ কিরন, আনোয়ারুল আবেদীন খান, উম্মে কুলসুম স্মৃতি এবং হোসনে আরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে নতুন ধানের বীজ কৃষকদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া এবং কম খরচে অধিক উৎপাদন সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেয়ার সুপারিশ করা হয়। খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তৈল বীজ ইত্যাদি দেশী ফসল নিয়ে গবেষণালব্ধ বীজ সকল কৃষককে উৎপাদনে উৎসাহিত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, বিগত ১৩ বছরে ৭৩টি ধানের উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে ব্রি ধান ৯৬, বঙ্গবন্ধু ধান ১০০, ব্রি ধান ১০১ এবং ব্রি ধান ১০২ সর্বস্তরে উৎপাদনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আমদানী নির্ভরতা কমাতে এবং তেল বীজ ও আউশের বিভিন্ন ভ্যারাইটি উৎপাদন ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

স্বাধীনতার মাসে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে জাতির পিতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ও আহত সবার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার প্রধানসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop