১:২৮ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২২ ৩:১৪ অপরাহ্ন
নীলফামারীতে জনপ্রিয় হচ্ছে জৈব বালাইনাশক পদ্ধতি
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ধান ক্ষেতের পোকা দমন করার বিশেষ পাচিং পদ্ধতি।পোকামাকড় দমনে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের জীব-বৈচিত্র, পরিবেশ, পশু-পাখি ও মানুষের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বোরো ধান রক্ষা করতে পরিবেশবান্ধব পাঞ্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে ঝুঁকে পড়েছে। যা কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় এ পদ্ধতি একটি কৃষিবান্ধব প্রযুক্তি।

কৃষকেরা জানালেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা বোরো ফসলের জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে শাখা-প্রশাখা সংযুক্ত গাছের মরা ডাল,বাঁশের কঞ্চি,ত্রিকোণাকৃতির বাঁশের বাতা পুঁতে পাখি বসার জায়গা করেছেন। এর উপর নানা ধরনের পাখি বসে দৃষ্টি সীমার মধ্যে ক্ষতিকর পোকা ধরে খাচ্ছে। এভাবে কীটনাশক ছাড়াই সহজে দমন হচ্ছে ক্ষতিকারক পোকা, ধান উৎপাদনে কমে আসছে খরচ।

চাঁদখানা ইউপি’র সরঞ্জাবাড়ি গ্রামে রানা সরকার চলতি বছর ৮বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষেতে মাজরা পোকা, পামড়ি পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা ও ঘাষ ফড়িংসহ কীটনাশক প্রয়োগ করলে অনেক সময় তা মরে না। ফসল উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। পাচিং পদ্ধতির ফলে পাখি ডালে বসে ধান ক্ষেতের পোকা খেয়ে ফেলছে। এতে পোকা দমনে খরচ নেই। ফলে ধান উৎপাদন খরচ কমছে। বিনা খরচে অধিক লাভজনক পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, চলতি বছর ১১ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের অযাচিত কীটনাশকের খরচ কমাতে পাচিং পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহী করা হচ্ছে। এতে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে ধানের জমিতে গাছের মরা ডাল, বাঁশের কঞ্চি, আগালি,পুঁতি দিয়ে তার উপর পাখি বসার জায়গা করায় পোকার মথ, ডিম,বাচ্চা খেয়ে ফেলছে। ফলে ধান উৎপাদনে খরচ কমছে পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ রোধসহ স্প্রেকারীরাও মানবদেহের নানা রোগব্যধি থেকে রক্ষা পাচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২২ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
নাটোরে ব্যাপক পরিসরে বোরো ধানের আবাদ
কৃষি বিভাগ

শস্য ভান্ডারখ্যাত নাটোরে চলতি বোরো মৌসুমী ব্যাপক পরিসরে ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আশা করছেন এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন,চাষাবাদের জন্য তেল,সার ও কীটনাশক এর দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলে তারা চাষাবাদ করে লাভবান হবেন।

নাটোরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু সবুজের সমারোহ। চোখ জুড়ানো সবুজে ছেয়ে গেছে নাটোরের বিল ও মাঠগুলো। চলছে ব্যাপক পরিসরে বোরো ধানের আবাদ। শস্য ভান্ডারখ্যাত চলনবিল এবং হালতিবিলেও বোরো ধানের আবাদে ব্যস্ত চাষীরা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলোতে দাম ভালো পাওয়ায় এবার বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন তারা। সঠিকভাবে পরিচর্যা করায় ভালো ফলনেরও আশা করছেন। তবে, কারো কারো অভিযোগ-ডিজেল,সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। এসবের দাম কমানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাটোর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক জানালেন, এ’বছর জেলায় ৫৮ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সার ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় ঘাটতি নেই বলে জানান তিনি। ধানের মূল্য বেশি থাকায় কৃষকরা পূর্বের থেকে অধিক জমিতে বোরো ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

জেলায় হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ধানের উৎপাদনও আশানুরূপ বৃদ্ধি পাবে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২২, ২০২২ ৩:০৭ অপরাহ্ন
রংপুরের উৎপাদিত আলু যাচ্ছে বিদেশে
কৃষি বিভাগ

আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা রংপুর থেকে উন্নত জাতের আলু রফতানি শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা।। একদিকে আলুর বাম্পার ফলন, অন্যদিকে বিদেশে বেড়েছে আলু রপ্তানি। আলু নিয়ে চিন্তায় থাকা চাষিরা এখন ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকরা আশা করছেন, গত দুই বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার বাজারে ভালো দাম পাবেন তাঁরা

সম্প্রতি রংপুর থেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আবর, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আলু পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো রাশিয়াতেও যাচ্ছে এখানকার আলু। রপ্তানি বাড়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক অবস্থায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন আলু রফতানির অর্ডার পাওয়া গেছে। সাদা জাতের প্রতিটির ওজন একশ গ্রামের উপরে আলু মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পছন্দ হওয়ায় এ আলু রফতানি শুরু করেছে। আলু রফতানি করতে পেরে আলুচাষিরাও বেজায় খুশি।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, রংপুর জেলায় এবার রেকর্ড ৫২ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে আলুচাষ হয়েছে। যা গতবারের চাষাবাদের তুলনায় এবার প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি।

সাদা জাতের প্রতিটির ওজন একশ গ্রামের উপরে আলু মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পছন্দ। এই চাহিদা বিবেচনায় সান্তা, ডায়মন্ড, কুমারিকা, গ্রানুলা, কুম্বিকা এলুয়েট, এস্টারিকস, সানসাইনসহ উন্নত জাতের সাদা আলু উৎপাদনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বীজ সরবরাহ করে কৃষি বিভাগ।

আলু চাষী রহমান বলেন, গত বছর থেকে আমি রপ্তানিযোগ্য আলু উৎপাদন করছি। বিভিন্ন দেশ আমাদের আলু ‍কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে আমরা অন্যান্য কৃষকের তুলনায় বেশি লাভবান হবার সুযোগ পাচ্ছি।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানির অর্ডার পাওয়া গেছে। সান্তা, ডায়মন্ড, কুমারিকা, গ্রানুলা, কুম্বিকা এলুয়েট, এষ্টারিকস, সানসাইনসহ যে আলু আছে তা আমরা নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় রপ্তানি করছি। এছাড়া মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আমরা সাদা আলু রপ্তানি করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২২, ২০২২ ১১:২১ পূর্বাহ্ন
কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কৃষি ও কৃষকের অকৃত্রিম বন্ধু। স্বাধীনতার পরপরই তিনি দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেন। সেটিকে অনুসরণ করে তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষকের কষ্ট লাঘব ও কৃষককে লাভবান করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ,কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, বিশাল ভর্তুকিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছর শুধু সারের জন্য কৃষককে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে- যা সারা বিশ্বের বিরল ঘটনা।

সোমবার (২১ মার্চ) বিকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষকলীগ।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই কৃষি উৎপাদন কমতে থাকে। উৎপাদনে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি শুরু হয়। তারা কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান না করে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কৃষকের দুর্দশা ও কষ্ট শুরু হয়। বিএনপি সবসময় ভিক্ষাবৃত্তির মানসিকতা নিয়ে দেশ পরিচালনা করেছে। যে কারণে তারা ক্ষমতায় থাকাকালে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চেষ্টা করে নি এবং তাদের আমলে দেশে সবসময়ই বিশাল খাদ্য ঘাটতি ছিল।

ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, দেশে কেউ খাদ্যের জন্য কষ্ট করবে না। মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  এক কোটি পরিবারের পাশে কমমূল্যে নিত্যপণ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। আরও ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে। ভিজিএফসহ আরও সহায়তা দেয়া হবে, যাতে দেশের একজন মানুষকেও খাদ্যের জন্য কষ্ট করতে না হয়।

বাংলাদেশ কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী,কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, সহসভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এসময় বাংলাদেশ কৃষকলীগের সারা দেশের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাসভার আগে কৃষিমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২২ ১০:১১ অপরাহ্ন
খুবিতে আন্তর্জাতিক বন দিবস উদযাপিত
কৃষি গবেষনা

‘বন সংরক্ষণের অঙ্গীকার, টেকসই উৎপাদন ও ব্যবহার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক বন দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ ২১ মার্চ (সোমবার) বেলা ১১টায় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য এক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি হাদী চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবন ঘুরে অদম্য বাংলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মো. ইফতেখার শামস, সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর এ কে ফজলুলসহ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে থ্রি মিনিটস টক কম্পিটিশনের গ্র্যান্ড ফিনালে ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফরেস্ট্র সার্ভিসের মানবসম্পদ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (কমপাস প্রোগ্রাম) মোসা. শারমিন খানম। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মো. ইফতেখার শামস। কি-নোট স্পিকার হিসেবে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও আলোচনা করেন প্রফেসর ড. মো. গোলাম রাক্কিবু। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত ও সহযোগী অধ্যাপক ড. অরুণ কান্তি বোস।

অনুষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতা ও থ্রি মিনিটস টক কম্পিটিশনের গ্র্যান্ড ফিনালের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি। টক কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ ও পিপলস চয়েজ হিসেবে মোট তিনজনকে পুরস্কারস্বরূপ ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও প্রাইজমানি প্রদান করা হয়। এছাড়া বাকি অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ফেসবুক পেজ

মোঃ আমিনুল খান

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২২ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
ব্যবসায়িক লক্ষ্যে পেঁপের চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

পেঁপে( বৈজ্ঞানিক নাম :Carica papaya),এরা Caricaceae পরিবারের সদস্য। একটি ফল যা মানুষ কাঁচা তথা সবুজ অবস্থায় সব্জি হিসেবে এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসাবে খেয়ে থাকে। এর অনেক ভেষজ গুণও রয়েছে। এর ইউনানী নাম পাপিতা, আরানড খরবূযা। গ্রামবাংলায় বাড়ির উঠোনে পেঁপে গাছ পরিচিত ছবি। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যবসায়িক লক্ষ্যে পেঁপে চাষ বিশেষ হয় না। অথচ, অতি উপকারী এই সব্জির চাহিদা সারা বছরই থাকে, ফল হিসাবে আরও বেশি উপকারী, আরও বেশি সুস্বাদু।

পুষ্টি মূল্য: পাকা পেঁপে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ একটি ফল। কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর পরিমানে পেপেইন নামক হজমকারী দ্রব্য থাকে।

ভেষজ গুণ: অজীর্ণ,কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনি ও পাকস্থলীর ক্যান্সার নিরাময়ে কাজ করে।

ব্যবহার: পাকা পেঁপে ফল হিসেবে এবং কাঁচা পেপে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়।

উপযুক্ত জমি ও মাটি : উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি ভাল।

জাত পরিচিতি:

বারি পেঁপে-১ (শাহী পেঁপে): স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা গাছে ধরে। চারা লাগানোর ৩-৪ মাস পর ফুল আসে। কান্ডের খুব নিচ থেকেই ফল ধরা শুরু হয়। প্রতিটি ফলের ওজন ৮৫০-৯৫০ গ্রাম। চারা লাগানোর ৩-৪ মাস পর ফুল আসে, ফুল আসার ৩-৪ মাস পর পাকা পেঁপে সংগ্রহ করা যায়। এ জাতটি প্রায় সার বছরই ফল দিয়ে থাকে।

চারা তৈরি: বীজ থেকে চারা তৈরি করা যায়। পলিথিন ব্যাগে চার তৈরি করলে রোপণের পর চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

চারা রোপণ: দেড় থেকে দুই মাস বয়সের চারা রোপণ করা হয়। ২ মিটার দূরে দূরে চারিদিকে ২ ফুট পরিমান গর্ত তৈরি করে রোপণের ১৫ দিন আগে গর্তের মাটিতে সার মিশাতে হবে। পানি নিকাশের জন্য দুই সারির মাঝখানে  ৫০ সে.মি নালা রাখা দরকার। বানিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষের জন্য বর্গাকার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রতি গর্তে  ৩ টি করে চার রোপণ করতে হয়। ফুল আসলে ১ টি স্ত্রী গাছ রেখে বাকি গাছ তুলে ফেলা দরকার। পরাগায়ণের সুবিধার জন্য বাগানে ১০% পুরুষ গাছ রাখা দরকার।

সার ব্যবস্থাপনা: প্রতি গাছে ১৫ কেজি জৈব সার, ৫৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার, ৫৫০ গ্রাম টিএসপি সার, ৫৫০ গ্রাম এমওপি সার, ২৫০ গ্রাম জিপসাম সার, ২৫ গ্রাম বোরাক্স সার এবং ২০ গ্রাম জিংক সালফেট সার একত্রে ভালভাবে প্রয়োগ করতে হয়।  ইউরিয়া ও এমওপি সার ছাড়া সব সার গর্ত তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর পর গাচে নতুন পাতা আসলে ইউরিয়া ও এমওপি সার ৫০ গ্রাম করে প্রতি ১ মাস পর পর প্রয়োগ করতে হয়। গাছে ফুল আসলে এ মাত্রা দ্বিগুণ করা হয়।

অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা:  ফুল হতে ফল ধরা নিশ্চিত মনে হলে একটি বোঁটায় একটি ফল রেখে বাকিগুলো ছিড়ে ফেলতে হবে। গাছ যাতে ঝড়ে না ভেঙ্গে যায় তার জন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে গাছ বেঁধে দিতে হয়।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা: চারা রোপণ এবং সার প্রয়োগের পর প্রয়োজনমতো পানি দিতে হবে। খরা মৌসুমে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর হালকা সেচ দিতে হবে।

রোগ ব্যবস্থাপনা:

রোগের নাম: পেঁপের ড্যাম্পিং অফ রোগ দমন।

ভূমিকা: মাটিতে যে ছত্রাক থাকে তার দ্বারা এ রোগ হতে পারে। এ রোগটি সাধারণত: চারা অবস্থায় অথবা বীজ গজানোর সময় হয়ে থাকে। বীজের অংকুর গজানোর সময় এ রোগের জীবাণু অতি সহজেই বীজ অথবা অংকুরকে আক্রমণ করে।

ক্ষতির নমুনা: এ অবস্থায় বীজ পচে যায় এবং চারা মাটির উপর বের হয়ে আসতে পারেনা। এভাবে অংকুর গজানোর আগেই পচন হতে পারে। চারা গজানোর পরেও জীবাণুর আক্রমণ ঘটে। এ পর্যায়ে চারার গোড়া বা শিকড় পচে গিয়ে আক্রান্ত চারা মাটিতে পড়ে যায় এবং মারা যায়। চারার বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ রোগের প্রকোপ কমে যায়।

অনুকূল পরিবেশ: বর্সা মৌসুমে ঢলে পড়া রোগের প্রকোপ খুব বেশি।

বিস্তার: বৃষ্টির পানিতে অথবা সেচের পানিতে এ রোগের জীবাণু ছড়ায়।

ব্যবস্থাপনা: গাছের গোড়ার পানি নিকাশের ভাল ব্যবস্থা রাখা দরকার। রোগাক্রান্ত চারা গাছ মাটি থেকে উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে। আক্রমন বেশি হলে রিডোমিল এমজেড-৭২ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর গাছের গোড়ার চারিদিকের মাটিতে প্রয়োগ করা দরকার। জিংকের ঘাটতির জন্য মোজাইক লক্ষণ দেখা দিলে গাছের গোড়ায় গাছপ্রতি ৫-১০ গ্রাম জিংক প্রয়োগ করলে এবং ০.২% জিংক গাছের পাতায় স্প্রে করলে এ সমস্যা কমে যায়।

ফসল তোলা: সবজি হিসেবে কচি ফল সংগ্রহ করা হয়। পাকানোর জন্য ফলের ত্বক হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করলে সংগ্রহ করতে হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২১, ২০২২ ১২:৪৫ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গলে মড়কে নষ্ট হচ্ছে শাকসবজির ক্ষেত, কৃষকদের মাথায় হাত
কৃষি বিভাগ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ৫৮ একর জমির শাকসবজির ক্ষেত। ইতোমধ্যে মড়ক ধরেছে বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা,বরবটি, টমেটো সহ নানা প্রজাতির শাকসবজিতে। বিষয়টি নিয়ে কৃষি অফিসে গিয়েও কোন দিকনির্দেশনা পাননি ওই এলাকার কৃষকরা।

অন্যদিকে কৃষিবিভাগ বলছে, তাদেরকে বিষয়টি কেউ অবহিত করেনি। তবে পানির সমস্যার কারণে ওই এলাকায় চাষাবাদে সমস্যা হতে পারে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের পারেরটং গ্রামের ৬০ জন কৃষক প্রায় ৫৮ একর জমিতে বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় সবজি সরবরাহ করে আসছে। গতবছর পারেরটং গ্রামে শিলাবৃষ্টিতে সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেটা পুষিয়ে উঠার আগেই এবারও বিপাকে কৃষকরা। ক্ষেতের অধিকাংশ গাছেই মড়ক দেখা দিয়েছে যা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে কৃষকদের।

এ ব্যাপারে কৃষকরা শ্রীমঙ্গল কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা কৃষকদের কোন প্রকার সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষকরা বলেন, যদি কৃষি বিভাগ আমাদের দিকে নজর না দেন তাহলে আমরা সাধারন কৃষকরা কৃষিকাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য পেশার দিকে যেতে বাধ্য হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুকুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে তাদেরকে বিষয়টি কেউ অবহিত করেনি। তবে পানির সমস্যার কারণে ওই এলাকায় চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৯, ২০২২ ২:৪৭ অপরাহ্ন
ঢেঁড়শ চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

ঢেঁড়শ এদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। ঢেঁড়শে প্রচুর পরিমাসে ভিটামিন নি ও সি এবং এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমানে আয়োজিন, ভিটামিন “এ“ ও বিভিন্ন  খনিজ পদার্থ রয়েছে। ঢেঁড়শ নিয়মিত খেলে গলাফোলা রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে না এবং এটা হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

মাটি:
দোআশ ও বেলে দোআশ ঢেঁড়শ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা  থাকলে এটেল মাটিতেও চাষ করা যায়

জাত:
শাউনি,পারবনি কানি-, বারী ঢেঁড়শ, পুশা সাওয়ানী, পেন্টা গ্রীন, কাবুলী ডোয়ার্ফ, জাপানী প্যাসিফিক গ্রীন এসব ঢেঁড়শের চাষ উপযোগী জাত। শেষের দুটো জাত সারা বৎসর ব্যাপী চাষ করা চলে।

সময়:
সারা বছরই চাষ করা যায়। তবে সাধারণতঃ গ্রীষ্মকালে এর চাষ করা হয়। ফাল্গুন চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমাণ:
প্রতি শতকে  ২০ গ্রাম, হেক্টর প্রতি ৪- ৫ কেজি বীজ লাগে।

বীজ বপন:
বীজ বোনার আগে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে নিতে হয়। গভীরভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে চাষের জমি তৈরি করতে হয়। মাটি থেকে সারির দুরত্ব হবে ৭৫ সেমি.। বীজ সারিতে ৪৫ সেমি. দূরে দূরে ২-৩ টি করে বীজ বুনতে হয়। জাত অনুযায়ী চারা থেকে চারা এবং সারি থেকে সারির দুরত্ব ১৫ সেমি. কমানো বা বাড়ানো যেতে পারে। শীতকালে গাছ ছোট হয় বলে দূরত্ব কমানো যেতে পারে। চারা গজানোর পর প্রতি গর্তে একটি করে সুস্থ সবল চারা রেখে বাকী চারা গর্ত থেকে উঠিয়ে ফেলতে হবে।

সারের পরিমাণ:
সার               এক শতকে              হেক্টর প্রতি
গোবর            ৭৫ কেজি               ১৮ টন
সরিষার খৈল      ১.৭৫ কেজি            ৪২৫ কেজি
ইউরিয়া          ২৩০ গ্রাম গ্রাম         ৫৫-৬০ কেজি
টিএসপি          ৩৫০ গ্রাম গ্রাম         ৮৫-৯০ কেজি
এমও পি         ২৩০ গ্রাম গ্রাম          ৫৫-৬০ কেজি

সার প্রয়োগের নিয়ম:
জমি তৈরি করার সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানের ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়শ বীজ বপন করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু‘কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং ২ য় কিস্তিতে দিতে হবে চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর।

পরিচর্যা:
নিড়ানী দিয়ে মাটির উপরিভাগ মাঝে মাঝে আলগা করে দিতে হবে। জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। মাটির প্রকার ভেদ অনুযায়ী ১০/১২ দিন পর পর সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রতি কিস্তিতে সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা:
ঢেঁড়শের ফল ছিদ্রকারী পোকাই সবচে বেশি ক্ষতি করে। এ ছাড়া জাব পোকা, সাদা মাছি, ছাতরা পোকা, লাল গান্ধি ইত্যাদিও ক্ষতি করে।

রোগ ব্যবস্থাপনা:
হলদে শিরা স্বচ্ছতা ঢেঁড়শের প্রধান ক্ষতিকর রোগ। এ ছাড়া মোজেইক ও পাতায় দাগ রোগও দেখা যায়।

ফসল সংগ্রহ:
বীজ বোনার ৬-৮ সপ্তাহের  মধ্যে এবং ফুল ফোটার ৩-৫ দিনের মধ্যে ফল আসা শুরু হয়। জাত ভেদে ফল ৮-১০  সেমি. লম্বা হলেই সংগ্রহ করতে হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৯, ২০২২ ১২:৪৮ অপরাহ্ন
মুকুল কম আসায় চিন্তিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা
কৃষি বিভাগ

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার আমের মুকুল কম আসায় কম আসায় চিন্তিত আম চাষিরা। শীতের সময় টানা কুয়াশা এবং কয়েক দফা বৃষ্টির কারণে এবার সময়মতো মুকুল আসেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানগুলোতে। আবার শিলা বৃষ্টিতেও বেশ ক্ষতি হয়েছে।এ পর্যন্ত ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ গাছে মুকুল এসেছে।  এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বাগান মালিক, আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, মুকুল কম আসার কারণ হিসেবে এবার ঠাণ্ডা আবহাওয়াকে দায়ী করছে কৃষি বিভাগ। নিয়মিত মুকুল পরিচর্যা ও সঠিকভাবে বালাইনাশক ব্যবহারে এখনও ভাল ফলন পাওয়া সম্ভব।

ঘন কুয়াশায় এ মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলার আম বাগানে কম এসেছে মুকুল। এর উপর শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতি তো আছেই। আবার মুকুল এসেছও দেরিতে। সবমিলে এ মৌসুমে ভাল ফলনের আশা হারিয়ে দুঃশ্চিন্তায় বাগান মালিক,আম চাষিরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে এসব বাগান থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। তবে শীতের সময় টানা কুয়াশা ও শেষ দিকে কয়েক দফা বৃষ্টিতে সময়মতো  মুকুল ফোটেনি আমের গাছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের মুকুল ৪০ ভাগ কম এসেছে।

বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন গাছে মুকুল কম, যেটুকু বের হয়েছে তাও ছোট হয়ে আছে, মুকুল বড় হচ্ছে হচ্ছে না। তাই তারা গাছে স্প্রে করছেন, যাতে মুকুল তাড়াতাড়ি বড় হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে, পরিসংখ্যানগত ভাবে আমরা বলতে পারি প্রায় ৫৫ লাখ আম গাছ রয়েছে এ জেলায়। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের মুকুল ৪০ ভাগ কম এসেছে। এ বছর শীত একটু বেশি এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে আমের মুকুলটা কম এসেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলার বাগানে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ গাছে এসেছে মুকুল। তাতে লক্ষ্যমাত্রার তিন লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৮, ২০২২ ১২:৩০ অপরাহ্ন
ক্যাপসিকাম চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ একটি জনপ্রিয় সবজি। ক্যাপসিকামে ভিটামিন এ এবং সি প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এতে ফাইবার, আয়রন এবং অন্যান্য খনিজ উচ্চ পরিমাণে রয়েছে আর ক্যালরির পরিমাণ সামান্য। ক্যাপসিকামের আকার-আকৃতি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। তবে সাধারণত ফল গোলাকার ও ত্বক পুরু হয়। এটি আমাদের দেশের প্রচলিত সবজি না হলেও সম্প্রতি এর চাষ প্রসারিত হচ্ছে। সারা বিশ্বে টমেটোর পরই দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে মিষ্টি মরিচ বা ক্যাপসিকাম। এটি অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া মিষ্টি মরিচ বা ক্যাপসিকাম বিদেশে রপ্তানীর সম্ভাবনাও রয়েছে প্রচুর।

চাষের সময়:

বীজ বপণের উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। তবে বর্তমানে ঘরোয়া কৃষকরা ১২ মাসই এটি চাষের চেষ্টা করছেন। ক্যাপসিকাম উৎপাদনের জন্য ১৬০-২৫০সে. তাপমাত্রা ও শুষ্ক পরিবেশ সবচেয়ে উপযোগী। রাতের তাপমাত্রা ১৬০- ২১০সে. এর কম বা বেশি হলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ফুল ঝরে পড়ে, ফলন ও মান কমে যায়, কোন কোন ক্ষেত্রে একেবারেই ফলন হয় না।

জাত:

আমাদের দেশে আবাদকৃত জাতগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে–California Wonder, Tender Bell (F1)এবং Yolow Wonder ইত্যাদি । প্রতি বছর এগুলোর বীজ আমদানি করতে হয়। তবে আমাদের দেশে California Wonder এর বীজ উৎপাদন করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্যাপসিকাম চাষ পদ্ধতি:

ক্যাপসিকাম চাষ করার জন্য বাজার থেকে কেনা ক্যাপসিকাম থেকেই বীজ সংগ্রহ করতে পারেন। আবার বাজারে বীজ কিনতেও পাওয়া যায়। ক্যাপসিকাম থেকে বীজ সংগ্রহ করতে চাইলে পরিপক্ক ক্যাপসিকাম থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। এরপর মাটি দিয়ে একটি পাত্র পূর্ণ করুন এবং বীজগুলি বপন করুন। আপনি যে কোন পাত্রে এই উদ্ভিদ লাগাতে পারেন, তবে গভীরতা কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি হতে হবে। উদ্ভিদ লাগানোর পরে, আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত জল দিন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর থেকে বীজ অঙ্কুরিত হবে।

আর বীজ দিয়ে চাষ করতে চাইলে বীজ থেকে প্রথমে চারা তৈরি করে নিতে হয়। প্রতি শতকের জন্য ১ গ্রাম বীজ দরকার হয়। বীজগুলোকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে আগে থেকে তৈরি করে রাখা বীজতলায় ১০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে লাইন করে বীজ বুনতে হবে। বীজতলায় প্রয়োজনানুসারে ঝাঝরি দিয়ে হালকাভাবে সেচ দিতে হবে। বীজ গজাতে ৩-৪ দিন সময় লাগে। বীজ বপনের ৭-১০দিন পর চারা ৩-৪ পাতা বিশিষ্ট হলে ৯-১২ সে.মি. আকারের পলি ব্যাগে স্থানান্তর করতে হবে। পটিং মিডিয়াতে ৩:১:১ অনুপাতে যথাক্রমে মাটি, কম্পোস্ট এবং বালি মিশাতে হবে। পরে পলিব্যাগ ছায়াযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করতে হবে, যাতে প্রখর সূর্যালোকে এবং ঝড় বৃষ্টি আঘাত হানতে না পারে।

গাছের পরিচর্যা:

অঙ্কুরোদগমের আগে গাছটি যেন কম সূর্যালোকে থাকে, এই সময়ে আপনি সেটিকে বাড়ির ভিতরে রাখতে পারেন। অঙ্কুরোদগম হওয়ার পরে, আপনি টবটিকে বারান্দায় সূর্যালোকে রাখতে পারেন।

তবে এই গাছটি প্রখর সূর্যের আলো যেন না পায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। যে টবে বা পাত্রে আপনি এই গাছটি রোপণ করেছেন, তার মাটিতে যেন ভাল পরিমাণে আর্দ্রতা বজায় থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। চারা পড়ন্ত বিকেলে রোপণ করা উত্তম । চারা রোপণের পর গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে।ক্যাপসিকামের গাছ বৃদ্ধি পেতে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে।

আর জমিতে চাষ করলে মনে রাখতে হবে মিষ্টি মরিচ খরা ও জলাবদ্ধাতা কোনোটিই সহ্য করতে পারে না। মাঠে চারা লাগানোর জন্য বেড তৈরি করতে হবে। প্রতিটি বেড প্রস্থে ৭৫ সে. মি. হতে হবে এবং লম্বায় দুটি সারিতে ২০টি চারা সংকোলনের জন্য ৯ মিটার বেড হবে। দু’টি সারির মাঝখানে ৩০ সে. মি. ড্রেন করতে হবে। জমিতে প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে। আবার অতিরিক্ত সেচ দিলে ঢলে পড়া রোগ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সে জন্য সুষ্ঠু নিকাশ ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো কোনো জাতে ফল ধরা অবস্থায় খুঁটি দিতে হয় যাতে গাছ ফলের ভারে হেলে না পড়ে। আগাছানাশক বা হাত দিয়ে অথবা নিড়ানি দিয়ে প্রয়োজনীয় আগাছা দমন করতে হবে।

কীটপতঙ্গ এবং পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ:

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচে কিছু পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে আছে জাবপোকা. থ্রিপস পোকা, লালমাকড়, এ্যানথ্রাকনোজ রোগ, ব্লাইট রোগ ইত্যাদি। কোনও রোগ বা পোকার আক্রমণ হলে টক্সিন মুক্ত দ্রবণ ব্যবহার করাই শ্রেয়। এক চামচ সাবান গুঁড়া এবং নিম তেল এক টেবিল চামচ নিন, উভয় এক লিটার পানিতে মিশ্রিত করুন। প্রতি সপ্তাহে এই দ্রবণ একবার স্প্রে করুন।

সার ব্যবহার:

সারের জন্য শাকসব্জী এবং ফলের খোসা পচা জল, পাতা পচা ইত্যাদি মাটিতে প্রয়োগ করতে পারেন। এগুলি মাটির গুণমানকে উন্নত করে এবং উদ্ভিদকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

আর যদি জমিতে চাষ করা হয় তাহলে মিষ্টি মরিচ চাষে প্রতি শতাংশে গোবর ৪০ কেজি, ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ১.৪ কেজি, এমপি ১ কেজি, জিপসাম ৪৫০ গ্রাম এবং জিংক অক্সাইড ২০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর, টিএসপি, জিংক অক্সাইড, জিপসাম, ১/৩ ভাগ এমপি এবং ১/৩ ভাগ ইউরিয়া চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ২/৩ ভাগ ইউরিয়া এবং এমপি পরবর্তীতে দুই ভাগ করে চারা লাগানোর যথাক্রমে ২৫ এবং ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ:

মিষ্টি মরিচ সাধারণত পরিপক্ক সবুজ অবস্থায় লালচে হওয়ার আগেই মাঠ থেকে উঠানো যায়। সাধারণত সপ্তাহে একবার গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ গাছে একবারে প্রায় ৪ থেকে ৫ টি ক্যাপসিকাম আসে। একবার গাছ ভালো করে বিকশিত হয়ে গেলে প্রথম যখন ফল আসবে তখন তা সংগ্রহ না করাই ভালো। এতে গাছ দৃঢ় হয়। দ্বিতীয়বার থেকে ফল সংগ্রহ করাই ভালো। ফল সংগ্রহের পর ঠান্ডা অথচ ছায়াযুক্ত স্থানে বাজারজাতকরণেল পূর্ব পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়। তবে ফল সংগ্রহের সময় প্রতিটি ফলে সামান্য পরিমাণে বোটা রেখে দিতে হবে।

 

সূত্র:এগ্রোবাংলা 

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop