২:৫৩ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ১৭, ২০২২ ২:০০ অপরাহ্ন
পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণের কলাকৌশল
কৃষি বিভাগ

পেয়ারা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল। বাংলাদেশের সর্বত্রই কম বেশি এ ফল জন্মে থাকে। প্রাথমিকভাবে পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষাবাদ পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসব জেলায় কিছু কিছু এলাকায় চাষ হয়। বর্তমানে পেয়ারার কতগুলো উন্নতজাত ও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। এখন সারা দেশেই এ ফলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ হচ্ছে। বহুবিধ গুণাগুণের সমন্বয়ের জন্য পেয়ারাকে নিরক্ষীয় এলাকার আপেল বলা হয়। মুচমুচ করে টাটকা পেয়ারা খাওয়ার মজাই অন্যরকম। তাছাড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে জ্যাম, জেলি, জুস এসব তৈরি করেও পেয়ারা খাওয়া যায়।

পেয়ারার জাতসমূহঃ  আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি উন্নত জাতের পেয়ারা যেমন কাজী পেয়ারা, বারি পেয়ারা-২, বারি পেয়ারা-৩ (লাল শাঁস বিশিষ্ট), বাউ পেয়ারা-১ থেকে বাউ পেয়ারা-৯ পর্যন্ত, ইপসা পেয়ারা পাওয়া যায়। স্থানীয় জাতের মধ্যে স্বরূপকাঠি, কাঞ্চননগর ও মুকুন্দপুরী অতি জনপ্রিয় জাত। সাম্প্রতিক সময়ে থাই পেয়ারা চাষে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

পেয়ারা গাছের বৈশিষ্ট্যঃ

পেয়ারা খেতে খুবই সুস্বাদু, মুচমুচে ও সুমিষ্ট। পেয়ারাকে ভিটামিন সি এর ব্যাংক বলা যায়। পেয়ারা গাছ মাঝারি আকারের শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট আকৃতির হয়ে থাকে। শীতের সময় পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শেষের দিকে পেয়ারা গাছে নতুন পাতা ও ডগা আসে। সাধারণত বর্ষা ও শীত ঋতুতে গাছে পেয়ারা হয়। তবে শীত অপেক্ষা বর্ষাকালে ফলন একটু বেশি হয়। বর্ষাকালে জলীয়ভাব বেশি থাকায় ফলের মিষ্টতা ও অন্যান্য গুণাগুণ শীতকালের ফলের থেকে অনেকাংশেই কম থাকে। তাছাড়া জলীয়ভাব বেশি থাকায় পাকা ফল তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে দাম থাকে কম। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সব জাতের পেয়ারার গুণাগুণ শীতকালে বেড়ে যায়, রোগ ও পোকার আক্রমণও কম থাকে। ফলের আকৃতি এবং রঙ সবদিক থেকেই সুন্দর হওয়ায় এ সময়ে পেয়ারার দামও থাকে বেশি। এসব দিক বিবেচনায় রেখেই বর্ষাকাল বাদে কিভাবে অন্যান্য ঋতুতে অত্যাধিক হারে উৎপাদন বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে গবেষণা শুরু হয়। অত্যন্ত আশার কথা যে, গবেষকরা আজ এ ব্যাপারে সার্থক হয়েছেন। পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণ এখন খুব সহজেই সম্ভব হয়।

পেয়ারা গাছে অসময়ে ফলধারণের পদ্ধতিগুলোঃ

বর্তমানে পেয়ারা গাছে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের জন্য কৃষি বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েকটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। সেগুলো হলো শিকড় উন্মুক্তকরণ পদ্ধতি, হরমোন জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ পদ্ধতি ও শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতি।

ক. শিকড় উন্মুক্তকরণ পদ্ধতিঃ পেয়ারা গাছের গোড়ার মাটি তুলে বা আলগা করে দিতে হবে। মাটি তুলে গাছের শিকড়গুলো বের করে নাড়াচাড়া দিতে হবে। গাছের গোড়া থেকে ০১ থেকে ১.৫ মিটার (পেয়ারা গাছের ক্যানপি) পর্যন্ত মাটি কোদাল, শাবল বা নিড়ানি দ্বারা খুব ভালোভাবে সাবধানতার সাথে মাটি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। মাটি তুলে দেয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে, গাছের শিকড়গুলো কেটে না যায়। বিশেষ করে গাছের আসল মূল (টেপ রুট) কাটা ও উৎপাটন করা যাবে না। গাছ নাড়ানো যাবে না। সাধারণত যে কোনো বয়সের পেয়ারা গাছে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়। গোড়ার মাটি উন্মুক্ত করার কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন পর পরিচর্যা করতে হবে। পরিচর্যাকালে পরিমাণমতো সার ও সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ পদ্ধতিতে গাছের পাতা লাল হয়ে ঝড়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে এপ্রিল-মে মাসে পেয়ারা গাছে শিকড় উন্মুক্ত করতে হয়। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পেয়ারা গাছে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ফলধারণ করে।

খ. হরমোন জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ পদ্ধতিঃ সাধারণত ২ থেকে ৫ বছর বিশিষ্ট পেয়ারা গাছে হরমোন প্রয়োগ করতে হয়। এপ্রিল-মে মাসে হরমোন প্রয়োগ করার উৎকৃষ্ট সময়। এ সময়ে হরমোন জাতীয় পদার্থ হিসেবে ২,৪-ডি; ন্যাপথালিন এসিটিক এসিড (এনএএ), ১০% ইউরিয়ার দ্রবণ এসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। স্প্রে মেশিন বা ফুটপাম্প দিয়ে খুব ভালো করে পেয়ারা গাছের পাতা ভিজিয়ে দিতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই গাছের পাতা লালচে হয়ে ঝড়ে যেতে পারে। পরবর্তীতে গাছে সঠিক পরিচর্যা নিলে নতুন পাতা জন্মাবে এবং অসময়ে ফলধারণ হবে।

গ. শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতিঃ শাখা-প্রশাখা বাঁকানো পদ্ধতি সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি। পেঁয়ারার ডাল বাঁকালেই প্রায় দশগুণ বেশি ফলন হয়। তাছাড়া একই প্রযুক্তিতে বছরের বার মাসই ফল ধরানো সম্ভব হয়। ফলের মৌসুমে গাছের ফুল ছিঁড়ে দিয়ে এ প্রক্রিয়াকে আরও প্রভাবিত করা যায়, যার ফলে সারা বছরই ফলের মৌসুমের তুলনায় কমপক্ষে আট থেকে দশগুণ ফল ধরবে গাছে। এ লক্ষ্যে ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গবেষণার মাধ্যমে ‘গাছের ডাল বাঁকানো’ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বছরে দুইবার অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে এবং হেমন্তকালে শাখা-প্রশাখার নিয়ন্ত্রিত বিন্যাসের মাধ্যমে সারা বছর পেয়ারার ফুল ও ফলধারণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গাছের বয়স দেড় থেকে দুইবছর হলেই এ পদ্ধতি শুরু করা যাবে এবং পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে ফলন বাড়ানো সম্ভব। ডাল বাঁকানোর ১০ থেকে ১৫ দিন আগে গাছের গোড়ায় সার ও পানি দিতে হয়। ডাল বাঁকানোর সময় প্রতিটি শাখার অগ্রভাগের প্রায় এক থেকে দেড়ফুট অঞ্চলের পাতা ও ফুল-ফল রেখে বাকি অংশ ছেটে দিতে হয়। এরপর ডালগুলোকে সুতা দিয়ে বেঁধে তা বাঁকিয়ে মাটির কাছাকাছি করে সাথে অথবা খুঁটির মাধ্যমে মাটিতে বেঁধে দিতে হয় । গ্রীষ্মকালে মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন পরেই নতুন ডাল গজানো শুরু হয়। নতুন ডাল ১ সেমি. লম্বা হলে বাঁধন খুলে দেয়া হয়। আর হেমন্তকালে নতুন ডাল গজাতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগে। ডাল বাঁকানোর ৪৫ থেকে ৬০ দিন পরে ফুল ধরা শুরু হয়। এভাবে গজানো প্রায় প্রতি পাতার কোলেই ফুল আসে। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই ফলন পাওয়া যায়।

বিশেষ ব্যবস্থাপনাগুলোঃ

পেয়ারা গাছের আকার আকৃতি, কাঠামো ও গুণগত মানের ফলধারণের জন্য গাছে বিশেষ কতগুলো ব্যবস্থাপনা করা যায়। এ ব্যবস্থাপনাগুলোর মধ্যে অঙ্গ ছাঁটাই, ডাল নুয়ে দেয়া, ফুল ছিঁড়ে দেয়া, ফল পাতলাকরণ, ফল ঢেকে দেয়া এসব পদ্ধতি।

অঙ্গ ছাঁটাই : গাছের মরা, শুকনা, চিকন, লিকলিকে, রোগাক্রান্ত ও প্রয়োজনহীন ডালপালা ছাঁটাই করাকে অঙ্গ ছাঁটাই বলা হয়। রোপণকৃত চারা বা কলমের আকার, আকৃতি ও কাঠামো সুন্দর করার উদ্দেশ্যে মাটি থেকে ১.০ থেকে ১.৫ মিটার ওপরে বিভিন্ন দিকে ছড়ানো ৪ থেকে ৫টি ডাল রেখে গোড়ার দিকের সব ডাল ছাঁটাই করে দিতে হবে। বয়স্ক গাছের ফল সংগ্রহের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে অঙ্গ ছাঁটাই করা হয়। এতে গাছে নতুর ডালপালা গজায়, প্রচুর ফুল হয় এবং গুণমানের উৎকৃষ্ট ফলধারণ করে।

ডাল নুয়ে দেয়া : পেয়ারা গাছের খাঁড়া ডালে সাধারণত ফুল ও ফল খুবই কম ধরে। তাই খাঁড়া ডালগুলোকে যদি ওজন বা টানার সাহায্যে নুয়ে দিলে প্রচুর পরিমাণ নতুন শাখা গজায়। নতুন ডালপালায় গুণগতমানের ফলধারণ ও ফলন বৃদ্ধি পায়।

ফুল ও ফল পাতলাকরণ : কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২ এর গাছে প্রতি বছর প্রচুরসংখ্যক ফুল ও ফল আসে। ফল আকারে বড় হওয়ার গাছের পক্ষে সব ফল ধারণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলের ভারে ডালপালা ভেঙে যায় এবং ফল আকারে ছোট ও নি¤œমানের হয়। এ অবস্থায়, গাছকে দীর্ঘদিন ফলবান রাখতে ও মানসম্পন্ন ফল পেতে হলে প্রথমেই কিছু ফুল এবং পরে ফল ছোট থাকা অবস্থায় (মার্বেল অবস্থা) ৫০ থেকে ৬০% ফল পাতলা করে দেয়া দরকার। কলমের গাছের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই প্রথম বছর ফল নেয়া উচিত হবে না। তাই ফুল আসার সাথে সাথে ছিঁড়ে ফেলে দেয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয় বছর অল্প পরিমাণ ফল নেয়া ভালো। এভাবে গাছের বয়স ও অবস্থা বুঝে ফল রাখতে হবে। পরিকল্পিত উপায়ে ফুল বা ফল পাতলা করে প্রায় সারা বছর কাজী পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২ জাতের গাছে ফল পাওয়া যাবে।

ফ্রুট ব্যাগিং বা ফল ঢেকে দেয়া : পেয়ারা ছোট অবস্থাতেই ব্যাগিং করলে রোগ, পোকামাকড়, পাখি, বাদুড়, কাঠবিড়ালি এসব থেকে সহজেই রক্ষা করা যায়। ব্যাগিং করা ফল অপেক্ষাকৃত বড় আকারের এবং আকর্ষণীয় রঙের হয়। ব্যাগিং বাদামি কাগজ বা ছোট ছিদ্রযুক্ত পলিথিন দিয়ে করা যেতে পারে। ব্যাগিং করলে সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে প্রতিহত হয় বিধায় কোষ বিভাজন বেশি হয় এবং ফল আকারে  বড় হয়। ব্যাগিং করার আগে অবশ্যই প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ০.৫ মিলি হারে টিল্ট ২৫০ ইসি মিশিয়ে সব ফল ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে পেয়ারার উৎপাদন মাত্র ১ লাখ ৬১ হাজার টন। বাংলাদেশের আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটি এসব পেয়ারা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাছাড়া অসময়ে ফলধারণের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলো গবেষকরা উদ্ভাবন করেছেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনাসমূহের মাধ্যমে সহজেই পেয়ারা চাষে আর্থিক লাভবান করা সম্ভব। তাই পরিকল্পিত উপায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক পেয়ারা চাষের প্রতি কৃষক ভাইদের উদ্বুদ্ধ ও বাস্তবায়ন করার জন্য গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণবিদ, কৃষিকর্মী সর্বোপরি সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

 

 

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, সিলেট

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৬, ২০২২ ৯:১৪ অপরাহ্ন
কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে সহায়তা করবে মার্কিন কৃষি বিভাগ
কৃষি বিভাগ

কৃষিখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। সমঝোতা স্মারকের জন্য শীঘ্রই একটি খসড়া প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে আম, সবজি ও আলু নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় ইরাক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আব্দুসসালাম সাদ্দাম মুহাইসেন (Abdussalam Saddam Mohaisen)।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপির সাথে বৈঠকে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আব্দুসসালাম সাদ্দাম মুহাইসেন এ আগ্রহের কথা জানান। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। এসময় কৃষিসচিব মো: সায়েদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে ইরাকের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কীভাবে আরও বাড়ান যায়- তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরাক ভারত ও তুরস্ক থেকে কৃষিপণ্য আমদানি করে। ইরাকের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন ভাল। তারা কৃষিখাতে সহযোগিতা করার জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা বাংলাদেশ থেকে সবজি, আম, আলু নিতে চায়। আমরা আলু রপ্তানি করতে পারবো।

পরে কৃষিমন্ত্রীর সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে মেগান ফ্রান্সিসের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (USDA) একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। এসময় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে বাংলাদেশকে মার্কিন কৃষি বিভাগ কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে বলে প্রতিনিধিদল জানায়। এছাড়া, তারা বাংলাদেশে কৃষিপণ্য পরিবহণ ও কোল্ড চেইনের জন্য রেফ্রিজারেটেড ভেহিকল প্রদান করবে বলেও জানান হয়।

এসময় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ও ভ্যালু অ্যাড করতে বদ্ধপরিকর। আমরা সেই লক্ষ্যে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পূর্বাচলে দুই একর জমিতে বিশ্বমানের প্যাকিং হাউজ এবং অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন কনসালটেন্টকে নিয়োগ করা হয়েছে। এই প্যাকিং হাউজ নির্মাণ ও অ্যাক্রেডিটেড ল্যাব স্থাপনে মার্কিন কৃষি বিভাগ আমাদেরকে সহযোগিতা করতে পারে।

উল্লেখ্য, মার্কিন কৃষি বিভাগ ২৭ মিলিয়ন ডলারের ‘বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করছে। ২০২১-২৫ মেয়াদে চার বছরব্যাপী এ প্রকল্প মূলত বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গুণগতমান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৫, ২০২২ ৩:৩৩ অপরাহ্ন
ঝালকাঠি সদরে মৃত্তিকা বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ঝালকাঠি সদরে মৃত্তিকা নমুনা সংগ্রহ, সুষম সার ব্যবহার ও ভেজাল সার সনাক্তকরণ বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ছাব্বির হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এসআরডিআই’র ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিক এলাহি, এসএসও কাজী মো. আমিনুল ইসলাম, বিনয়কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজেডএম মঈন উদ্দিন পলাশ প্রমুখ।

মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ছাব্বির হোসেন বলেন, কৃষি হচ্ছে সর্বোত্তম পেশা। তাই কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার। এর অংশ হিসেবে মাটি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতি মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে রোগ-পোকার তীব্রতা বাড়ে। সে জন্য জমিতে সুষমভাবে সার প্রয়োগ জরুরি। আর তা করার আগে মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে। এর মাধ্যমে মাটির গুণাগুণ বজায় থাকে। তাই ফসলের উৎপাদন আশানুরূপ হয়।

মৃত্তিকা গবেষণাগার ও গবেষণা সুবিধা জোড়দারকরণ প্রকল্পের আওতাধীন ৪৫ জন কৃষক-কৃষি উদ্যোক্তা, সার ব্যবসায়ী ও মাঠ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২২ ৫:২৫ অপরাহ্ন
ঝালকাঠিতে জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): ঝালকাঠিতে জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ নগরীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএইর উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম।

ডিএইর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. অলিউল আলমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (আরএআরএস) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ সাজিদুর রহমান, আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন, ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল হোসেন, পটুয়াখালীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএফএম মামুন, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন, ঝালকাঠি সদরের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মঈন তালকদার, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, ব্র্যাকের জেলা সমন¦য়ক মো. মোতাহার হোসেন প্রমুখ।

ডিএইর উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, খরিফ মৌসুমে ঝালকাঠিতে এবার ১৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ২শ’ হেক্টর। অন্যান্য ফসলের মধ্যে শাকসবজি ৩ হাজার ৬শ’ হেক্টর, মরিচ ১২ হেক্টর, হলুদ ৭০ হেক্টর, পান ১ শ’ ৮০ হেক্টর, কলা ৮ শ’ হেক্টর এবং পাটশাকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ শ’ হেক্টর প্রায়।

সভায় খরিফ মৌসুমে চাষযোগ্য বিভিন্ন ফসলের কর্মপরিকল্পনার ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। পরে একই স্থানে জেলার মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২২ ১:৩০ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় এফএও’র ডিজিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব
কৃষি বিভাগ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাকে (এফএও) একটি আন্তর্জাতিক বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এটি প্রতিষ্ঠা করা হলে শতবর্ষে যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

এফএও’র মহাপরিচালক (ডিজি) কু ডংইউ রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তিনি এ প্রস্তাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এ প্রসঙ্গে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতাকে উদাহরণ হিসাবে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এফএও’র ডিজিকে একটি ডিজিটালাইজেশন এবং উদ্ভাবনের প্রকল্প গ্রহণের জন্য সমন্বিত তহবিল গঠনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী চাষের উপযোগী পর্যাপ্ত জমি না থাকায় সিভিএফ (ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) দেশগুলো, বিশেষ করে এসআইডিএস (ছোট দ্বীপ উন্নয়ন রাজ্য) অর্জনের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এফএও মহাপরিচালক এ বছর ইতালির রোমে ৩-৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব খাদ্য ফোরামে প্ল্যানারি স্পিকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

এফএও মহাপরিচালক বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় তার সংস্থার অবিরাম সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও শক্তিশালী, উদ্ভাবনী এবং ডিজিটাল পদ্ধতির সাথে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৪, ২০২২ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
সিলেটের কানাইঘাটে “নিরাপদ ফসল উৎপাদন” প্রকল্পের আওতায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৩ নং দিঘির পার পূর্ব ইউনিয়নের খুলুর মাটি গ্রাম মাঠে “নিরাপদ ফসল উৎপাদন” প্রকল্পের আওতায় মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ১৩ মার্চ (রোববার) বিকাল ৩ ঘটিকার সময় ২০২১-২২ অর্থ বছরের পরিবেশ বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কৃষক মাঠ স্কুল(এফ এফ এস) মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃআবুল হারিছ এর সঞ্চালনায় এবং প্রবীন সমাজ সেবক আলহাজ্ব আব্দুস সুবহান এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃএমদাদুল হক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন  উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃনজরুল ইসলাম, আজাদ মিয়া,কৃষক প্রতিনিধি আলি হোসেন,আবুল কালাম, আব্দুল্লাহ এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মধ্যে সনদপত্র ও সম্মানি ভাতা বিতরণ করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১৩, ২০২২ ১:২৯ অপরাহ্ন
নীলফামারীতে সুপার ফুড চিয়া ও কিনোয়ার চাষ শুরু
কৃষি বিভাগ

উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ ও সারাবিশ্বে সুপার ফুড হিসেবে পরিচিত চিয়া ও কিনোয়ার চাষ শুরু হয়েছে নীলফামারীতে। ওষুধি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই দানাশস্য পুষ্টিহীনতা রোধে তৈরি করেছে নতুন সম্ভাবনা।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের কৃষক শাহাজান আলী চিয়া সিড ও কিনোয়া চাষ শুরু করেছেন। দানাদার এ ফসল মানবদেহে বিভিন্ন রোগের কার্যকরী মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া চিয়া চাষে উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কিনোয়া একটি অত্যন্ত উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন খাবার। এক কাপ কিনোয়ায় ৮ থেকে ১০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন পাওয়া যায়। এছাড়াও কিনোয়া হচ্ছে একমাত্র উদ্ভিজ্জ প্রোটিন উৎস, যাতে ৯ ধরনের এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড উপস্থিত থাকায় নাসার মহাকাশচারীরা এটি খেয়ে থাকেন। গ্লাইসেন ইনডেক্স কম থাকায় ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্যও এটি বেশ উপকারী।

কৃষক শাহাজান আলী জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতাংশ জমিতে চিয়া ও কিনোয়ার চাষ করেছি। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এর চাষ পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। রোগবালাই না থাকায় ও পরিচর্যা কম লাগায় ২০ শতাংশ জমিতে খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা। জমিতে ফলন হবে ৪০ থেকে ৫০ কেজি। ৬শ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানান, ফসল দুটি উদ্ভাবনের পর যে চার-পাঁচটি উপজেলায় আবাদ হচ্ছে, তার মধ্যে কিশোরগঞ্জ একটি। চিয়া সাধারণত একটি তিল ও রাই সরিষার শস্যদানার মতো। ফসলটি দেশীয় পদ্ধতিতে সারিবদ্ধ কিংবা বীজ ছিটিয়ে চাষাবাদ করা যায়। অক্টোবর মাসে বীজ রোপণ করতে হয়। গম বা সরিষার মতো মাড়াই করে চালুনি, মশারির কাপড়, কুলা দিয়ে সহজে পরিষ্কার করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, পুষ্টিপরিপূরক আর অধিক মানসম্পন্ন হওয়ায় বহির্বিশ্বের সুপার ফুড দুটির চাহিদা অনেক বেশি। চিয়া ও কিনোয়া ফসল দুটি আমরা কৃষকদের কাছে ছড়িয়ে দিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু এই চাষাবাদ প্রক্রিয়া অনেক সহজ এবং ৩ মাসেই ঘরে তোলা সম্ভব তাই আমরা সামনে যেন এই চাষের পরিধি বৃদ্ধি পায় সে বিষয়ে কাজ করছি।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১২, ২০২২ ১২:৫২ অপরাহ্ন
ভেজাল সার চেনার উপায়
কৃষি বিভাগ

অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফসল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সারে ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে নকল সার বা ভেজাল সার তৈরি ও বিক্রি করছেন। কৃষকভাইয়েরা একটু সতর্ক হলেই আসল সার ও ভেজাল সারের পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এখানে কয়েকটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে আসল বা ভেজাল সার শনাক্ত করার উপায় সম্পর্কে জানানো হলো:

ইউরিয়া সার চেনার উপায়:
আসল ইউরিয়া সারের দানাগুলো সমান হয়। তাই কেনার সময় প্রথমেই দেখে নিতে হবে যে সারের দানাগুলো সমান কিনা। ইউরিয়া সারে কাঁচের গুড়া অথবা লবণ ভেজাল হিসাবে যোগ করা হয়। চা চামচে অল্প পরিমান ইউরিয়া সার নিয়ে তাপ দিলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরি হয়ে সারটি গলে যাবে। যদি ঝাঁঝালো গন্ধ সহ গলে না যায়, তবে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

টিএসপি সার চেনার উপায়:
টিএসপি সার পানিতে মিশালে সাথে সাথে গলবে না। আসল টিএসপি সার ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর পানির সাথে মিশবে। কিন্তু ভেজাল টিএসপি সার পানির সাথে মিশালে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গলে যাবে বা পানির সাথে মিশে যাবে।

ডিএপি সার চেনার উপায়:
ডিএপি সার চেনার জন্য চামচে অল্প পরিমান ডিএপি সার নিয়ে একটু গরম করলে এক মিনিটের মধ্যে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ হয়ে তা গলে যাবে। যদি না গলে তবে বুঝতে হবে সারটি সম্পূর্ণরুপে ভেজাল। আর যদি আংশিকভাবে গলে যায় তবে বুঝতে হবে সারটি আংশিক পরিমান ভেজাল আছে। এছাড়াও কিছু পরিমান ডিএপি সার হাতের মুঠোয় নিয়ে চুন যোগ করে ডলা দিলে অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের হবে। যদি অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ বের না হয় তাহলে বুঝতে হবে সারটি ভেজাল।

এমওপি বা পটাশ সার চেনার উপায়:
পটাশ সারের সাথে ইটের গুড়া ভেজাল হিসাবে মিশিয়ে দেয়া হয়। গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে এমওপি বা পটাশ সার মিশালে সার গলে যাবে। তবে ইট বা অন্য কিছু ভেজাল হিসাবে মিশানো থাকলে তা পানিতে গলে না গিয়ে গ্লাসের তলায় পড়ে থাকবে। তলানি দেখে সহজেই বুঝা যাবে সারটি আসল নাকি ভেজাল।

জিংক সালফেট সার চেনার উপায়:
জিংক সালফেট সারে ভেজাল হিসাবে পটাশিয়াম সালফেট মেশানো হয়। জিংক সালফেট সার চেনার জন্য এক চিলতে জিংক সালফেট হাতের তালুতে নিয়ে তার সাথে সমপরিমান পটাশিয়াম সালফেট নিয়ে ঘষলে ঠান্ডা মনে হবে এবং দইয়ের মতো গলে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ১১, ২০২২ ৭:৫৯ অপরাহ্ন
পাঁচটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ঢাকায় এফএওর ৩৬ তম আঞ্চলিক সম্মেলন সমাপ্ত
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) চার দিনব্যাপী ৩৬ তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলন (এপিআরসি) আজ শেষ হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সম্মেলনে ডিজিটাল হাব স্থাপন, গবেষণার জন্য বিশেষ ফান্ড গঠন, সবুজায়ন বৃদ্ধি, জলবায়ুসহনশীল কৃষি, টেকসই কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মানুষ, প্রাণি ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব ও আন্তনির্ভরশীল হিসেবে বিবেচনা করে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচকে অগ্রাধিকার দিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট গ্রহণ করেছে এপিআরসির সদস্য ৪৬টি দেশ।

আজ শুক্রবার ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি এসব কথা বলেন। এসময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষিসচিব মো. সায়েদুল ইসলাম ও খাদ্যসচিব নাজমানারা খানুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ পরবর্তী দুই বছরের জন্য এপিআরসির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। পরবর্তী ৩৭তম এপিআরসি সম্মেলন শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা যেরকমটা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে। মানবজীবনের সবকিছুকেই এটি প্রভাবিত করবে, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি। আর কোভিডের প্রভাবে এ অঞ্চলের কৃষি, খাদ্য ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। সারের উৎপাদন কমে গেছে। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো এ ব্যাপারে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালদ্বীপ তাদের অস্থিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রী জানান, এ অবস্থায়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও কোভিড মোকাবেলা করে টেকসই কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণার মাধ্যমে ফসলের নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা সম্প্রসারণে একসাথে কাজ করার কথা রিপোর্টে বলা হয়েছে। এখানে এফএও বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

কৃষিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য একটি ‘ বিশেষ ফান্ড’ গঠনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে এটিকে চূড়ান্ত রিপোর্টের মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে বলে কৃষিমন্ত্রী জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ সম্মেলনে ডিজিটালাইজড কৃষি গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য এফএওকে একটি ‘ডিজিটাল হাব’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল, সকল দেশ এটি গ্রহণ করেছে। ডিজিটাল হাবে ৪৬টি দেশের কৃষিপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী তথ্যসমৃদ্ধ থাকবে, যাতে সকলদেশ উপকৃত হতে পারে। জাপানের উদাহরণ তুলে মন্ত্রী বলেন, জাপান কৃষিতে ড্রোন, রোবট ব্যবহার বা প্রিসিশন কৃষি করছে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, মানুষ, প্রাণি ও পরিবেশের স্বাস্থ্য রক্ষায় ‘ ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণ করা হয়েছে। ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচে গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার চিহ্নিতকরে রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়। জুনোটিক বা প্রাণি থেকে মানুষে সংক্রমিত রোগের প্রকোপ দিনদিন বেড়ে চলেছে। চলমান কোভিড এর অন্যতম উদাহরণ। এ অবস্থায় এ অঞ্চলে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে দেশগুলো।

ভালো পরিবেশেই শুধু ভালো জীবনযাপন করা সম্ভব উল্লেখ করে ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, এশিয়া প্যাসিফিকে যে খাদ্য যতটা পাওয়া যাচ্ছে সেটা যেন নিরাপদ এবং পুষ্টিকর হয়-সেটা নিশ্চিত করতে সকল দেশ একমত রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্মেলন আয়োজনের জন্য সদস্যদেশসমূহ বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তারা বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৯, ২০২২ ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
বরিশালের বাবুগঞ্জে বিনাসরিষা-৪’র চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের বাবুগঞ্জে বিনাসরিষা-৪’র চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিনা উপকেন্দ্রের ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিকের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহ মো. আরিফুল ইসলাম, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম, প্রদর্শনী চাষি মো. গোলাম কবীর প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, আমাদের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আনতে হয়। অথচ অন্যান্য তেলফসলের পাশাপাশি সরিষার আবাদ বাড়িয়ে আমরা এর আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশেই কমাতে পারি। আর এ জন্য প্রয়োজন উন্নত জাত ব্যবহার। সেই হিসেবে বিনাসরিষা-৪ বেশ উপযোগি। এর ফলন ভালো। ঝাঁঝ এবং তেলের পরিমাণ বেশি। কিছুটা দেরিতেও চাষ করা যায়। তাই বরিশাল অঞ্চলের জন্য এই জাতটি যথেষ্ট সম্ভবনাময়।

মাঠদিবসে শতাধিক কিষাণ-কিষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop