৬:২০ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ২৬ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ২৬, ২০২১ ৩:২৯ অপরাহ্ন
শরণখোলায় পানিবন্দি ৩ হাজার পরিবার, মারা যাচ্ছে হাঁস-মুরগি!
প্রাণ ও প্রকৃতি

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ভোলানদীর তীরবর্তী শরণখোলা উপজেলার পাঁচটি গ্রামের তিন হাজার পরিবার রাতের বৃষ্টি এবং সকালের জোয়ারে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে । এতে করে শোবার ঘর, রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়াসহ হাঁস-মুরগি মারা গিয়েছে অনেক। চরম বিপাকে পড়া এসব মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

খুড়িয়াখালী গ্রামে কয়েকজন জানান, রাতেও বুঝতে পারনি এতো পানি হবে। সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ পানি এসে আমাদের বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। সবাইকে নিয়ে রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। ভাটিতে পানি কমলে বাড়ি যাবো। না হয় রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হবে।

চরগ্রামের জলিল গুরু ও সাইদুল শিকদার জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিটি ঝড়েই আমাদের ডুবতে হয়। মূল্যবান মালামাল নষ্ট হয়। হাঁস, মুরগি মারা যায়। সকালের হঠাৎ পানিতে চরগ্রামের সবার বাড়ি ঘর তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মুন্সি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের অন্তত ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীর পাশে বাড়ি হওয়াই আমাদের কাল হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া পানিতে শরণখোলা উপজেলার কিছু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আমরা তাদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি।

এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করবেন। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ লিখে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৫, ২০২১ ৯:১২ অপরাহ্ন
মতলব উত্তরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
প্রাণিসম্পদ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খামারিদের ভুয়া তালিকা তৈরি করে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) করোনাকালীন প্রণোদনার প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এর সঙ্গে জড়িতরা হলেন, মতলব উত্তর উপজেলা অফিসের সুপারভাইজার’সহ অন্যান্যরা।

শুধু তাই নয়, নানা কৌশলে ও তালিকা তৈরির নামে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রথম ধাপে ৮শ’ খামারির নাম অর্ন্তভুক্ত করতে টাকা নেয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ২শ ৯৩ জনের কাছ থেকে প্রায ৯ লক্ষ টাকা নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও সিজিএসপি কমিটির জন্য ৩১০ জন সদস্যের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন।

জানা গেছে, করোনাকালীন এলডিডিপির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত খামারিদের মাঝে প্রণোদনা হিসাবে তিনটি ক্যাটাগরিতে তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়। এ তালিকা তৈরি করেন ওই প্রকল্পের সুপারভাইজার’সহ সংশ্লিষ্টরা।

খামারিদের জন্য এ-ক্যাটাগরিতে তাদের ১০টি গবাদি পশুর ঊর্ধ্বে তাদের ২২ হাজার টাকা। বি-ক্যাটাগরিতে যাদের ছয় থেকে নয়টি গবাদি পশু তাদের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার টাকা। সি-ক্যাটাগরিতে যাদের দুই থেকে পাঁচটি গবাদি পশু তাদের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এজন্য উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন থেকে তালিকা প্রস্তুত করে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তালিকাভুক্তদের মোবাইল সিম অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হলে দেখা দেয় অনিয়ম-দুর্নীতি।

এদিকে তালিকা তৈরির শুরুতেই উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন উৎকোচ নিয়ে খামারি নয়, এমন লোকদের তালিকা তৈরি করেন। এমনকি যাদের গবাদি পশু ও ঘর নেই, তারাও ঠাঁই পান তালিকায়।
সম্প্রতি প্রণোদনার এসব অর্থ খামারি নন এমন লোকজনকে দেওয়া হলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। খামারিদের মাঝে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দুর্নীতির ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।

খামারি সোহেল অভিযোগ করেন প্রকৃত খামারিদের চেনেই না প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা লুটপাটে ব্যস্ত। ভেঙে পড়েছে এ দপ্তরের কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান, মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কিছুটা অনিয়ম করতে পারে। আমি কোনো টাকা গ্রহণ করিনি। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে আমার জানা নেই।

চাঁদপুর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, মতলব উত্তরে প্রণোদনার তালিকা করতে অনিয়ম হয়েছে, আমি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।সূত্র: বাংলাদেশ বার্তা

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৫, ২০২১ ৫:০৬ অপরাহ্ন
ডিবি পরিচয়ে গরু-মহিষ ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২
প্রাণিসম্পদ

গাজীপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী ও চালকসহ পাঁচজনের হাত-পা বেঁধে গজারী বনে ফেলে রেখে ট্রাকসহ গরু ও মহিষ ছিনতাই করেছে আন্তজেলা ডাকাতদল। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর দিয়াবাবাড়ী এলাকা থেকে ট্রাকসহ গরু ও মহিষ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে।

আজ মঙ্গলবার (২৫ মে( এক সংবাদ সম্মেলনে জেলার পুলিশ সুপার এসএম শফি উল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঢাকার তুরাগ থানার দিয়াবাড়ী এলাকার আবুল কাশেম (৪৩) ও জামালপুর জেলা সদর থানার নান্দিনা গ্রামের মনির হোসেন (২৫)।

পুলিশ সুপার জানান, গতকাল সোমবার রাজশাহী সিটিহাট থেকে ট্রাকে ১৫টি গরু ও দুটি মহিষ নিয়ে মুন্সিগঞ্জ যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী রিমন হোসেন। পথে ভোর ৪টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছালে একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা ট্রাকটি সড়কের পাশে দাঁড় করান।

এ সময় সাত থেকে আটজন ডাকাত একটি মাইক্রোবাস নিয়ে সেখানে আসে। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাকের আরোহী ব্যবসায়ী রিমন, চালক তারিক হোসেন, হেলপার ওয়াসিম, রাখাল নুরে আলম ও মামুনকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর এলাকার গজারী বনের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। এদিকে ডাকাতদের কয়েকজন গরু ও মহিষভর্তি ট্রাকটি রাজধানীর দিকে নিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ খবর জানতে পেরে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আমির হোসেন এবং এসআই শহিদুল হক ও এসআই জাহিদুল হকের নেতৃত্বে দুটি টিম অভিযানে নামে। তারা গজারী বন থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আহত ওই পাঁচজনকে উদ্ধার করে।

পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা পুলিশ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী এলাকার আবুল কাশেমের খামারে অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত ১৫টি গরু ও দুটি মহিষসহ ট্রাক জব্দ করে। এ সময় ওই খামারের মালিক আবুল কাশেম ও মনির হোসেনকে আটক করে। অসুস্থ একটি গরু মারা যায়।

এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রাব্বানী শেখ, মো. আমিনুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আল মামুন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৫, ২০২১ ২:০৯ অপরাহ্ন
প্রকল্পের ফলাফলের সাথে রাষ্ট্রের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

“গবেষণাধর্মী প্রকল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্র লাভবান না হলে সে প্রকল্প নেওয়ার কোন অর্থ হয় না। এজন্য প্রকল্প শেষে এর ফলাফলের সাথে যাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা যায় সে বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

সোমবার (২৪ মে) রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ২০২০-২১ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রকল্পসমূহের এপ্রিল, ২০২১ অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সভায় প্রকল্প পরিচালকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “প্রকল্প পরিচালকদের আবশ্যিকভাবে প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করে প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় না থাকলে গুণগতমানের কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় না। যেকোন মূল্যে প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে। অনিবার্য কারণে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধি করা হলেও অর্থ কোনভাবেই বৃদ্ধি করা হবে না।”

এসময় তিনি বলেন, “করোনাকালে মৎস্য খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মিটিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ খাত ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। মৎস্য খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আশাবাদী। এজন্য করোনাকালেও মৎস্য খাতের সকল প্রকল্প তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। এ বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে নিষ্ঠাবান হতে হবে। প্রকল্পের কাজে কোন ধরণের ফাঁকি দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও মোঃ তৌফিকুল আরিফ, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নীলুফা আক্তার, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকগণ এবং পরিকল্পনা কমিশন ও আইএমইডি এর প্রতিনিধি সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য উপখাতে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ১৩টি, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ৪টি, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ৩টি এবং মন্ত্রণালয কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ১টিসহ মোট ২১ টি প্রকল্পের এপ্রিল, ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ প্রকল্পসমূহের এপ্রিল, ২০২১ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি ৬৯.০২ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৪৯.০৯ শতাংশ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৪, ২০২১ ৫:৫৮ অপরাহ্ন
নওগাঁয় অজ্ঞাত রোগে ১২ হাজার মুরগির মৃত্যু,১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি!
পোলট্রি

অজ্ঞাত রোগে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় হঠাৎ খামারে ১২ হাজার সোনালি মুরগির মৃত্যু হয়েছে। পাঁচটি শেডের ১২ হাজার ৭০০ মুরগির মধ্যে মাত্র এক সপ্তাহে ব্যবধানে বর্তমানে ৭০০টি বেঁচে আছে। এতে তার প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে ওই খামারির।বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে ওই খামার করেছিলেন উপজেলা জালুয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩০)। এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

সোমবার ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম জানান, একসময় প্লাস্টিকের দোকান করতেন তিনি। তবে দোকানে বেচাকেনা কম হওয়ায় লাভের পরিমাণটা ছিল কম। বাধ্য হয়ে দোকান ছেড়ে দিয়ে উদ্যোক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ২০১৮ সালে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্রয়লার মুরগি দিয়ে খামার শুরু করেন। সেবার তিনি প্রায় ১২ হাজার টাকা লাভ করেন। ব্রয়লারে পরিশ্রম ও খরচের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তা বাদ দিয়ে এবার ঝুঁকেন সোনালির দিকে। এর পর আর পেছনে ফিরতে হয়নি।

তিনি জানান, লভ্যাংশ বেশি পাওয়ায় স্বপ্নটাও বড় হয়। খামার সম্প্রসারণ করে পাঁচটি শেড করেন। পাঁচটি শেডে বিভিন্ন বয়সের ১২ হাজার ৭০০ পিস সোনালি মুরগি ছিল। এ ছাড়া বাচ্চা ৯ দিন বয়সের তাপমাত্রায় রাখা হয় তিন হাজার ৫০০টি। তবে ৫৮ দিন বয়সের তিন হাজার ৬০০ পিস, ৪৭ দিন বয়সের দুই হাজার ৯৫০ পিস, ৩১ দিন বয়সের তিন হাজার ৩০০ পিস এবং ১৭ দিন বয়সের দুই হাজার ৮৫০ পিস। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে বড় সাইজের মুরগি বিক্রির উপযোগী ছিল। খামারে পাঁচ কর্মচারী কাজ করত। যারা ৭-৮ হাজার টাকা বেতনে কাজ করত।

গত ঈদুল ফিরতের পর দিন ১৭ মে রাতে হঠাৎ করে একটি শেডে চারটি মুরগি মারা যায়। পর দিন মুরগি মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়। দফায় দফায় এক সপ্তাহে ব্যবধানে সব মরে বর্তমানে ৭০০ পিসের মতো আছে। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে কোনো ওষুধ দিয়েও প্রতিকার মিলছে না। তবে মুরগিতে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও ছোটগুলো এখনও ভালো আছে। মৃত মুরগিগুলোকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

রবিউল ইসলাম জানান, ঈদের পর দিন রাত থেকে হঠাৎ করেই মুরগি মরতে শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ফোনে জানানো হলে তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি। বাধ্য হয়ে জেলা কর্মকর্তাকে অবগত করা হলে তিনি খামার পরিদর্শনে আসেন। তিনি পরামর্শ দেন এবং কিছু মৃত মুরগি পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম কয়েকবার ইতিপূর্বে খামারে এসেছিলেন এবং টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যখন টাকা দেওয়া বন্ধ করি, তিনি আর খামারে আসেন না। এমনকি পরামর্শের জন্য ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন না। তার পরামর্শ পেলে হয়তো মুরগিগুলো কিছুটা হলেও বাঁচাতে পারতাম বলে জানান রবিউল।

রবিউল ইসলাম বলেন, গ্রামের অন্যান্য খামারির পরামর্শ নিয়েই খামার শুরু করেছিলাম। কয়েক দফায় বেশ ভালো লাভ হয়। এতে বড় খামার করার আগ্রহ বেড়ে যায়। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে বড় করে খামার করেছিলাম। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে বড় মুরগি বিক্রি শুরু হতো। কিন্তু রোগের কারণে এখন সব মারা পড়েছে। এতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। মুরগিগুলো বেঁচে থাকলে প্রায় ১৮-১৯ লাখ টাকার মতো বিক্রি হতো। যেখানে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার মতো লাভ হতো। কিন্তু এখন সব শেষ। এনজিও পাবে তিন লাখ ও ফিডের দোকানে বাকি ১০ লাখ টাকা। এসব টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

পোরশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম জানান, মুরগি অসুস্থ হওয়ার ব্যাপারে ওই খামারি বিষয়টি আমাকে আগে জানায়নি। অবগত হওয়ার পর তাকে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। অফিসের বাহিরে কোথায় সেবা দিলে গেলে দূরত্ব ও রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে খামারিরা কিছু টাকা দিয়ে থাকেন। অফিসে কেউ সেবা নিতে এলে কোনো টাকা নেওয়া হয় না বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৪, ২০২১ ২:৫১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের এপিএ পুরস্কার লাভ
প্রাণিসম্পদ

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (APA) বাস্তবায়নে সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দপ্তর-সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএলআরআই)।
গত ২৪/০৫/২০২১ খ্রিঃ তারিখে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ে মাননীয় মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল জলিল মহোদয়ের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে বিশেষ কৃতিত্বের ফলস্বরূপ বিএলআরআই এই সম্মাননা লাভ করেছে। একই অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দ্বিতীয় ও মৎস্য অধিদপ্তর তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
পুরষ্কার বিজয়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল জলিল বলেন, জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএলআরই এদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে চলেছে। পাশাপাশি বিএলআরআই তার সামর্থ্যের সবোর্চ্চটুকু নিয়ে দেশের নানা ক্রান্তিলগ্নেও ভূমিকা রাখছে। এই পুরস্কার আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিলো।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৩, ২০২১ ৫:১৪ অপরাহ্ন
একরাতে আট গরু চুরি
প্রাণিসম্পদ

নীলফামারীর সৈয়দপুরের দুটি ইউনিয়ন থেকে একরাতে আটটি গরু চুরি হয়েছে। এর মধ্যে বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন থেকে পাঁচটি ও কামারপুকুর ইউনিয়ন থেকে তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার রাতে চোরেরা এ গরু চুরি করেছে।

জানা যা, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শুরু হয় প্রচণ্ড বজ্রপাত ও ঝড় বৃষ্টি। চলে ভোর রাত ৪টা পর্যন্ত। এই সুযোগে বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কিসামত কাদিখোল এলাকার আতিয়ার রহমানের বাড়ি থেকে দুটি গাভী, ঠাকুরপাড়ার আজাদের দুটি গাভী এবং কামারপুুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ ফকিরপাড়ার একরামুল হকের দুটি গাভী ও একটি বাছুর চুরি করে চোরেরা।

বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, খবর পেয়েছি। রাতে ঝড় বৃষ্টির মধ্যে গোয়াল ঘরের দরজা ভেঙে গরুগুলো চুরি করা হয়েছে। চোরদের ধরার ব্যাপারে তৎপরতা চলছে। পুলিশকেও অবহিত করা হয়েছে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান জানান, ধলাগাছ ফকিরপাড়ায় একরামুল হকের দুটি গাভী ও একটি বাছুর চোরেরা দরজা ভেঙে চুরি করে নিয়ে গেছে। খবর পাওয়ার পর গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৩, ২০২১ ৪:৫১ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে উপকরণসহ ক্রসব্রিড বকনা গরু বিতরণ
প্রাণিসম্পদ

জয়পুরহাটে সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত সুফলভোগীদের মাঝে উন্নত জাতের ক্রসব্রিড বকনা গরু, খাদ্য ও গরুর সেড তৈরির উপকরণ টিন, খুঁটি ও ইট বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং সুফলভোগীদের মাঝে এসব বিতরণ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি ।

এ সময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার মাসুম আহাম্মদ ভুঞা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট, প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপ প্রকল্প পরিচালক ডাঃ আনোয়ার সাদাত, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মাহফুজুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে তিরানব্বই জন সুফলভোগীদের মাঝে একটি করে বকনা গরু, গরুর সেড তৈরির জন্য পাঁচ টা করে ঢেউটিন, ইট ও একশো পঁচিশ কেজি করে খাদ্য বিতরণ করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৩, ২০২১ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
হাঁস-মুরগি পালনে অর্থনৈতিতে অবদান রাখছেন উপকূলীয় নারীরা
প্রাণিসম্পদ

বাংলাদেশে এখন পুরুষদের পাশাপাশি বাড়ছে নারী উদ্যোক্তাও। উপকূলীয় চরাঞ্চলের বেশির ভাগ নারীরা এখন হাঁস-মুরগি পালনে পরিবারে অর্থনৈতিক অবদান রাখছেন প্রচুর।

জানা যায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের “উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প” বাংলাদেশের উপকূলীয় চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। প্রকল্পটি বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬টি উপকূলীয় উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই প্রকল্পে প্রত্যেক সুফলভোগী শুরুতে তিনদিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০টি করে হাঁস বা ২০টি করে মুরগি বা তিনটি করে ভেড়া বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে হাঁস, মুরগি ও ভেড়া রাখার জন্য শেড, খাদ্য, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন।

বরগুনা সদর উপজেলার মুরগি পালন গ্রুপের সুফলভোগী মোসা. মনিকা জানান, তিনি এই প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত ২০টি মুরগি থেকে গড়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩টি ডিম পান, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি বাচ্চা উৎপাদন করেছেন। তিনি প্রায় ৮ হাজার টাকা পুঁজি গড়েছেন।

সুফলভোগী শামসুন্নাহার বেগম জানান, আমরা তিনদিনের ট্রেনিং শেষে ২০টি মুরগি পেয়েছিলাম, সেখান থেকে এখন মুরগির সংখ্যা ১২০টি। মুরগি থেকে প্রায় ৬০০টি ডিম বিক্রি করেছি।

আরেক সুফলভোগী জানান, আমি তিনদিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সেখান থেকে তিনটি ভেড়া, শেড, খাবার, মেডিসিন আর ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পেয়েছি। এখন আমার ভেড়ার সংখ্যা সাতটি।

উপকূলীয় চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অর্থনীতির মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক জিয়াউল হক রাহাত জানান, এ প্রকল্পটি সরাসরি উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষকে প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে ২০টি করে হাঁস বা ২০টি করে মুরগি বা তিনটি ভেড়া এবং হাঁস, মুরগি ও ভেড়া রাখার জন্য শেড, খাদ্য, মেডিসিন ও ভ্যাকসিন বিতরণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২২, ২০২১ ৯:১৬ পূর্বাহ্ন
গরুর খামার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কিশোরগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান
প্রাণিসম্পদ

কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন ভূঞা নিজ শ্রমে গরুর খামার ও ফিসারি ব্যবসায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে হয়েছেন সফল খামারি। বিগত কয়েক বছর ধরে নিজ খামারে পালন করা গরু বিক্রি করে এখন সফল ব্যবসায়ীদের একজন তিনি।

জানা যায়, চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অংশীদারিত্বের লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বিগত ২০১৯ সালের প্রথম দিকে ‘রেজিয়া ডেইরি ফার্ম’ গড়ে তোলে চারটি গরু পালন শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি নিজ গ্রাম পাঁচধায় ১৪০ কাটা নিজস্ব জমিতে ফিসারি ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। বর্তমানে তার খামারে ১২টি ষাড় ও দুইটি গাভী রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন গরুর খামারে গরু মোটাতাজা করে উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও নিজের খামারে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, ফিসারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার এ সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই গরু পালন করে ও ফিসারী ব্যবসায় নিজেদের সাবলম্বী করার চেষ্টা করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

রোকন উদ্দিন ভূঞা জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে নিজ বাড়ির পাশে আধা পাকা টিনসেট ঘরের খামারে গরু পালন শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন তার খামারে কাঁচাঘাস ও খরকুটো ছাড়াও গরুর খাদ্য বাবদ আরো ২/৩ হাজার টাকা খরচ হয়। খামার পরিচালনায় নিজ শ্রমের পাশাপাশি একজন মাসিক বেতনে অন্যজন তার ভাতিজা এ খামারে শ্রম দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক বছর আগে কোরবানীর জন্য গরু কিনে জবাই করতে গিয়ে দেখা গেল পানিতে ভরপুর। তাই নিজেই উদ্যোগী হই খামার প্রতিষ্ঠায়। একদিকে আমার কোরবানীর গরু কিনতে হচ্ছে না। অন্যদিকে নিজের তদারকিতে গরু লালন পালন করার তৃপ্তিই অন্যরকম। সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দীর্ঘ প্রজেক্ট নিয়ে আরো ব্যাপক আকারে খামার গড়ে তুলে সফলভাবে ব্যবসা করতে পারব বলে জানান তিনি।

খামারে কর্মরত শ্রমিক জানান, ‘আমাদের খামারের গরুর খাবারের জন্য দেশীয় কাঁচাঘাস ও খরকুটো ছাড়াও অন্যান্য সব খাবার ভেজালমুক্ত অবস্থায় নিজ হাতে তৈরি করি। এলাকাতে আমাদের খামারের গরুর আলাদা কদর রয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেছি।

তারা বলেন, আসছে ঈদুল আযহায় কোরবানীর জন্য স্থানীয় এলাকার গরু ক্রেতারা প্রতিদিনই আসতেছে আমাদের খামারে গরু দেখার জন্য। ১৪টি গরু নয় লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছিলাম। আশা করা যায়, লাভবান হব। ইতোমধ্যে চারটি ষাড়ের দাম দুই লাখ টাকা করে দাম হাঁকা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop