বিএলআরআই-এ ২০২১-২০২২ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পসমূহের মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত
প্রাণিসম্পদ


২:৪৭ পূর্বাহ্ন


সাভারের রানি নামে গরুর পর এবার রাজশাহীতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ছোট’ জীবিত গরু পাওয়া গেছে বলে দাবি উঠেছে। গরুটির মালিক আরাফাত রুবেল এর নাম দিয়েছেন মাফিন। রাজশাহী মহানগরীর রামচন্দ্রপুর কালুমিস্ত্রির মোড়ে নিজ বাড়িতেই রেখেছেন গরুটি। গরুটিকে দেখার জন্য অনেকেই এখন রুবেলের বাড়িতে ভিড় করছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে সম্প্রতি পরিচিতি পায় সাভারের রানি। ২০ ইঞ্চি উচ্চতার রানি মারা যাওয়ার পর বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তার নাম উঠে। রানির ওজন ছিল ২৬ কেজি। এর মৃত্যুর পর গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘টুনটুনি’ নামে ২৪ ইঞ্চির একটি গরু পাওয়া যায়। এর ওজন ২২ কেজি, লম্বায় ৩৩ ইঞ্চি। তবে টুনটুনির বয়স ১৪ মাস। দাঁতও উঠেনি। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে টুনটুনির উচ্চতা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
আরাফাত রুবেল জানান, রানি ছিল মেয়ে গরু। সেটি এরমধ্যে মারা গেছে। এদিকে তার মাফিন ষাঁড়। এর উচ্চতা সাড়ে ২৩ ইঞ্চি। দুই দাঁতের প্রাপ্তবয়স্ক মাফিন লম্বায় ২৮ ইঞ্চি। ওজন ১৮ কেজি। বয়স দুই বছরের বেশি হওয়ায় দুটি দাঁত উঠেছে। এর আর বড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সে হিসেবে দেশ এবং বিশ্বের সন্ধানপ্রাপ্ত সবচেয়ে ছোট গরু এখন মাফিন।
রুবেল জানান, রানি মারা যাওয়ার পর তিনি এ ধরনের ছোট গরু খুঁজছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তি সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে এই গরুটি ঢাকার গাবতলী হাটে তোলেন। তার কাছ থেকে গরুটি তিনি ২৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। এরপর তিনি গরুটির নাম রাখেন মাফিন।
গিনেস রেকর্ডের তথ্য অনুসারে, ২০১৫ সালে ভারতের কেরালা রাজ্যে পাওয়া ‘মানিক্যাম’ নামে গরুর উচ্চতা ছিল ২৪ ইঞ্চি। ওজন ছিল ৪০ কেজি। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে গিনেজ বুকে স্বীকৃতি পেয়েছিল এটি। এরপরই মানিক্যামের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে ছোট গরুর তালিকায় উঠে রানির নাম।
আরাফাত রুবেল বলেন, হিসেবে অনুযায়ী জীবিত গরুর মধ্যে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মাফিন। গিনেস বুকে নাম উঠতে হলে গরুটিকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। আমার গরুটি প্রাপ্তবয়স্ক। তাই সবচেয়ে ছোট গরুর স্বীকৃতি দিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আমি গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব।
শনিবার সকালে মাফিনকে দেখতে রুবেলের বাড়িতে এসেছিলেন মহানগর প্রাণিসম্পদ দপ্তরের (বোয়ালিয়া) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফজলে রাব্বী। তিনি বলেন, মাফিন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পুরোপুরি সুস্থ্য একটি গরু। এটা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু কি-না, তা বলতে পারব না। তবে গরুটা ছোটই আছে। জেনেটিক কারণে গরুটি ছোট বা বেটে আকৃতির।
আরাফাত রুবেল এও বলেন, গরুটি বিক্রির কোনো চিন্তা নেই। তবে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনামূল্যে এটি দান করব। তবে দাতা হিসেবে আমার নাম লেখা থাকতে হবে। এছাড়া যদি প্রাণিসম্পদ বিভাগ গবেষণার জন্য চায়, তাদেরও দিয়ে দেব।
সমবায়ের নামে অসহায় মানুষদের হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
শনিবার (৬ নভেম্বর) পিরোজপুরের নেছারাবাদে জাতীয় সমবায় দিবস ২০২১ উপলক্ষে নেছারাবাদ উপজেলা সমবায় বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সমবায়ে উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল যৌথ মালিকানা ও যৌথ নেতৃত্ব। সে কারণে তিনি সমবায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু করতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন রাষ্ট্রের সম্পত্তি হবে সকলের। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক, জেলে, শ্রমিক এবং খেটে খাওয়া মানুষদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যেই বঙ্গবন্ধু সমবায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন এবং সমবায়ভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা কায়েম হয় বাংলাদেশে। সমাজে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা আনার জন্য বঙ্গবন্ধুর যে লক্ষ্য ছিল সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে আবার মেহনতি মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, জেলে ও খেটে খাওয়া মানুষের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আবার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
দেশে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থা অনেক জোরদার উল্লেখ করে মন্ত্রী আরোওবলেন, দেশে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে মাইক্রোক্রেডিটের নামে একটা শ্রেণি মানুষদের নিষ্পেষণ করছে, চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নিচ্ছে। এদের জন্য নীতি-নিয়মের মধ্যে যে সব সমবায় প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদের বদনাম হচ্ছে। এ বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। বিধি ভঙ্গ করে মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন নীল চাষিদের মতো অসহায় মানুষদের নির্যাতন করতে না পারে। সমবায়ের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন এর অপব্যবহার না করে। সমবায় হোক আমাদের শক্তির একটি প্লাটফর্ম। সমবায় হোক দরিদ্র-অসহায় মানুষদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, সমবায়ভিত্তিক মৎস্যজীবীদের সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সমবায় দল গঠন করে মৎস্য চাষ বা গবাদিপশু পালন করতে চাইলে রাষ্ট্র তাদের সহজশর্তে, স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেনের সভাপতিত্বে নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হক, স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম কবির, নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্ত জয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগনের সাথে বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস ইম্পোটার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন (বাফিটা) এর কার্য্যনির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগনের সাথে বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস ইম্পোটার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন (বাফিটা) এর কার্য্যনির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত।

অদ্যকার নভেম্বর ০৩, ২০২১ খ্রিঃ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নব-নিযুক্ত মহাপরিচালক মহোদয় জনাব ডা: মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা, পরিচালক (প্রশাসন) ডা: দেবাশীষ দাশ, পরিচালক (উৎপাদন) ডা: রেয়াজুল হক ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগনের সাথে বাফিটা’র পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় এবং কার্য্যনির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। মহাপরিচালক মহোদয় ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগনের সাথে প্রতিনিধিগণ শুভেচ্ছা বিনিময় ও প্রাণীজসম্পদ বিষয়ক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস ইম্পোটার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন এর কার্য্যনির্বাহী পরিষদের মহাসচিব জনাব হেলাল উদ্দিন, সহ-সভাপতি জনাব আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মোঃ গিয়াস উদ্দিন খান, উপদেষ্টামন্ডলী জনাব এ.এম আমিরুল ইসলাম ও জনাব জয়ন্ত কুমার দেব সহ এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ ইফতেখার হোসেন বৃহস্পতিবার (০৪ নভেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর সেমিনার হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর আওতায় খামারিদের নিয়ে প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও সংহতকরণ সংক্রান্ত বিভাগীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে ঢাকা বিভাগে এ কর্মশালা আয়োজন করেছে।
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে কাজ করছে। এ জন্য সরকার প্রাণিসম্পদ খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে সরকার উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। প্রাণিসম্পদ খাতে সম্পৃক্ত জনশক্তি দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে”।

তিনি আরো বলেন, “প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধারায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হতদরিদ্র, বঞ্চিত ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার মানুষদের ভালো রাখার জন্য এ রাষ্ট্র ব্যবস্থা। এ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রাণিসম্পদ খাতে সম্পৃক্তরা এক একজন কারিগর। এ খাতে সম্পৃক্তদের হতে হবে গ্রামীণ মানুষদের সহায়ক শক্তি। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রান্তিক মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। তৃণমূল মানুষদের দক্ষ জনশক্তিকে পরিণত করতে না পারলে জাতিকে সামনে এগিয়ে নেয়া যাবে না। আমাদের জনসংখ্যা বর্তমানে জনশক্তিতে পরিণত হয়েছে। আগামীর লক্ষ্য তৃণমূল মানুষদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা। এভাবে আমরা টেকসই উন্নয়ন করতে চাই”।

তিনি আরো যোগ করেন, “প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প সারাবিশ্বে প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম বড় প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। বৈদেশিক অর্থায়নের এ প্রকল্পের অর্থ যাতে অপব্যবহার না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ মেধার ব্যবহার করতে হবে”।
প্রাণিসম্পদ খাতে অপার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, “প্রাণিসম্পদ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসায় বেকাররা কর্মোদ্যক্তা হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। বিদেশে মাংস রফতানির সুযোগ এসেছে”।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদার সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবোল বোস মনি কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিয়ান বার্জার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সহকারী এফএও প্রতিনিধি নূর আহমেদ খন্দকার। এলডিডিপি প্রকল্প নিয়ে উপস্থাপন করেন প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর ড. গোলাম রাব্বানী। অন্যান্যের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার বক্তব্য প্রদান করেন ।
উল্লেখ্য, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬১টি জেলায় গাভীর ৩ হাজার ৩৩৪টি, গরু মোটাতাজাকরণের ৬৬৬টি, ছাগল ও ভেড়ার ৫০০টি এবং দেশি মুরগির ১ হাজারসহ মোট ৫ হাজার ৫০০টি প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও সংহতকরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ প্রডিউসার গ্রুপসমূহে ১ লাখ ৬৫ হাজার পরিবার সংযুক্ত হবে। এর মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতের প্রান্তিক খামারিদের বিভিন্ন ভেল্যু চেইনভিত্তিক প্রডিউসার গ্রপে যুক্ত করে তাদেরকে জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত, বাজারজাতকরণ, ঋণ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তারা যাতে এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয় সে বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
ইউরোপের বাজারে কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে কৃষিমন্ত্রীর নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য (ইউকে) ও নেদারল্যান্ড সফরে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বরার্ট চ্যাটারসন ডিকশনের সঙ্গে বৈঠকের পর কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এক সময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। এখন আমাদের প্রধান খাদ্য ভাতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের শাক-সবজি ফলমূল, তেল-ডাল, পেঁয়াজ সব কিছুরই উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা এখন চিন্তা করছি কৃষকের আয় কিভাবে বাড়ানো যায়। সেটি করতে হলে আমাদের বাণিজ্যিক কৃষিতে যেতে হবে। বাণিজ্যিক কৃষিতে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় তুলনামূলকভাবে কম।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শাক-সবজি ও ফলমূলের উৎপাদন বেড়েছে তাই এগুলো রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। আমরা কিছু কিছু রপ্তানি করি যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে, সেখানে বাঙালি যারা কাজ করে তাদের জন্য। আমরা চাচ্ছি ইউরোপীয় দেশে উন্নত দেশের মূল মার্কেটে যাওয়ার জন্য।’
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এজন্য আমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে (ইউকে) যাচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, ফ্রেস গ্রুপের মোস্তফা কামাল, এসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এফ এইচ আনসারী এবং বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রতিনিধিদলে থাকছেন। লিডিং বিজনেস হাউজগুলোর প্রায় সবাই যাচ্ছেন।’
এছাড়া প্রতিনিধিদলে সরকারি কর্মকর্তারা থাকবেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।
পরিচিতিঃ জয়পুরহাট জেলায় ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত গবেষণার ফলে সোনালী মুরগি উদ্ভাবন করা সম্বব হয়। এ মুরগি উদ্ভাবনকারীর নাম ডা. মোঃ শাহ জামাল। যিনি R.I.R (Rhode Island Red) জাতের মোরগের সাথে Fayoumi জাতের মুরগির মিলনের মাধ্যমে সোনালী জাতের উদ্ভাবন করেন।
শারীরিক বৈশিষ্টঃ সোনালী মোরগের রং সোনালীর মাঝে কালো ,পাখায় সাদা ফোটা ফোটা। মুরগির রং হলুদ কালো এবং আকারে মাঝারী। ডিমের খোসা ক্রিম বর্ণের। একটি পূর্ণ বয়স্ক মোরগ ২-২.৫ কেজি এবং মুরগি ১.৫-২ কেজি হয়ে থাকে। সোনালি মুরগি বছরে ডিম দেয় ১৫০-২০০টি।
বাসস্থানঃ সোনালী মুরগি সাধারণত ৬০ দিন পালন করা হয় , সে অনুযায়ী প্রতি মুরগির জন্য জায়গা লাগে ০.৮৫-.৯০ বর্গফুট । ঘরের ভেতর বাঁশ ঝুলিয়ে দিলে ২০০-৩০০ মুরগি বেশি পালন করা যায়। জায়গার তুলনায় বেশি মুরগি তুললে রানিক্ষেত ও গাম্বোরো রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে, এছড়া মুরগি সর্দি কাশি হতে পারে। অতিরিক্ত মুরগির জায়গা না থাকলে ঠোকরাঠুকরি করে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সেডের মেঝেতে এবং সেডের বাহিরে ৫ফুট দূরত্ব পর্যন্ত ১০০লিটার পানিতে ৫০০গ্রাম লবণ ও শুকিয়ে যাওয়ার প ১ কেজি চুন ১০০০ বর্গফুট জায়গায় লেপে দিতে হবে। তারপর জীবাণূনাশক দিয়ে স্প্রে করতে হবে।
ঘর পূর্ব – পশ্চিম লম্বা হবে।
দৈঘ্য ৪০ ফুট ও প্রস্থ ২০ ফুট: ৮০০ বর্গফুট
বা ৪৫*১৮ঃ৮১০ বা ৩৫*২২: ৭৭০বর্গফুট
এভাবে নিজের মত করে মিলিয়ে বানাতে হবে, তবে দৈঘ্য ২৫ ফুটের বেশি ঠিক নয়, লম্বা যা খুশি করা যায়। চারদিকে বাঁশে বেধে দিলে অনেক মুরগি বাঁশে বসতে পারে এতে জায়গা কম লাগে। উচ্চতা ৮-৯ ফুট ভাল তবে অধিকাংশ সময় ৭-৮ ফুট হলেই চলে। ফ্লোর পাকা হলে ভালো হয় তবে কাচা হলেও চলে, সেক্ষেত্রে ইটের খোয়া এবং বালি, তারপর এটেল মাটি দিয়ে লেপে দিতে হবে।
বিভিন্ন ভাবে খরচ করে ফার্ম করা যায়। তবে সাবলিল হিসেব দেখানো হলোঃ-
পিলার- ১৬ টি – ১৬০০০টাকা
কাঠ – ২০০০০
টিন – ২০০০০
পর্দা বা ত্রেপল – ৩০০০
মিস্ত্রি – ৭০০০
নেট – ১০০০০
পাত্র ও ব্রুডার – ৮০০০
মাটি কাটা ১০০০০
ইলেক্ট্রিকেল – ৪০০০
সিলিং – ২০০০
সাইড ওয়াল – ১০০০০
টোটালঃ ১, ১০, ০০০ টাকা
খাবার লাগবে ৪০ ব্যাগ, ১৯০০ : ৭৬০০০
বাচ্চা ১০০০, ৩০= ৩০০০০
মেডিসিন = ৭০০০
টিকা = ২০০০
বিদ্যুৎ = ২০০০
লিটার = ৪০০০
কর্মচারী = ১০০০০
টোটালঃ- ১৩১০০০ টাকা
(সোনালী ৬০-৭০দিন পালা হয় তাই খাবার ৪০-৪৫ ব্যাগ এবং ওজন ৭৫০-৮৫০গ্রাম হয়)
৬০ দিন পর ওজন গড়ে ৮০০ গ্রাম করে ১০০০-৫০ : ৯৫০ টির ওজন ৭৬০ কেজি *
১৮০ টাকা দরে: ১৩৬৮০০টাকা ( ৫০ টা মৃত ধরে) (এখন ৩৫০ টাকা)
তাহলে লাভ : ১৩৬৮০০- ১৩১০০০: ৫৮০০
যদি এমন হয় কর্মচারী ছাড়া ১০০০০ টাকা সেভ হবে
খাবার নগদ হলে ৪০০০ (বস্তা প্রতি ১০০ টাকা কম লাগবে)
লাভ নির্ভর করে বাচ্চার দাম, রেডি মুরগির দাম, ওজন বেশি আসার উপর মানে ৮৫০(৪৭ কেজি * ১৮০:৮৫০০টাকা এবং ওষধ খরচ কমানোর উপর(৩০০০)
মুরগি যদি ৩০ টা কম মরে তাহলে ৩০*৮০০:২৪*১৮০: ৪৩২০ টাকা
বাচ্চার দাম যদি ৫ টাকা কম হয় ২৫ টাকা হয় তাহলে ৫০০০ টাকা
সবকিছু ঠিক থাকলে লাভ হবে: ৫৮০০+ ১০০০০+৪০০০+ ৮৫০০+৩০০০+৪০০০+ ৫০০০:৪০৩০০ টাকা
তাছাড়া রেডি মুরগির দাম যদি ২৩০ টাকা ধরি তাহলে আরো ৩৮০০০ টাকা বেশি লাভ হবে মানে ৪০৩০০+৩৮০০০ঃ৭৮৩০০টাকা।
আবার ওজন অনেকের কম মানে ৭০০-৭৫০ আসলে লাভ কম বা লস হতে পারে।
আবার সমস্যা হলে ৫০০০০ টাকা লসও হতে পারে তাই সবকিছু মাথায় রেখে ব্যবসা শুরু করা উচিত। তবে সঠিকভাবে পরিচালনা করলে লাভ বেশি না হলেও লস হবেনা ( আল্লাহ যদি চায়)
এখন বাচ্চার দাম ১৫-১৬ টাকা,তার আগে ছিল ৩০-৩৩ টাকা। বাচচার রেট ১০-৩৫টাকা এর মধ্যে থাকে।
রেডি সোনালী ব্রিডের দাম এখন ২০০ টাকা
মাংসের রেট ১৭০-২৫০ টাকা এর মধ্যে থাকে। এখন ২00টাকা কেজি তাই লাভ লস কম বেশি হবে।
১-৩ দিন= আই বি + এন ডি
৭-৮ দিন= ঠোটে ছেকা
৮-১২ দিন= গাম্বোরো
১৫-১৭ দিন= গাম্বোরো
২০-২৫ দিন= রানিক্ষেত
৪-৫ সপ্তাহ= পক্স
৬ সপ্তাহ= রানিক্ষেত
৬-৭ সপ্তাহ= কৃমিনাশক
তবে অনেকে ৮-১২দিনে এন ডি কিল্ড বা এন ডি +গাম্বোরো কিল্ড দেন।
কেউ কেউ ১ম দিনে ভেক্টরমিউন ( এন ডি +মেরেক্স ) দেয়।
১ম দিকে রানিক্ষেতের লাইভ দিতে হবে । কিল্ড দিলে ৪০ দিনের পর লাইভ দিতে হবেনা।যেসব এলাকায় রানিক্ষেতের প্রাদুর্ভাব বেশি সেখানে রানিক্ষেতের কিল্ড টিকা দিতে হবে।ঠোকরাঠুকরি করলে ঠোট ছেকা দিতে হবে ৭-১০দিনে।
খাবার পাত্র: ১-৭ দিন ১০০টির জন্য ১ টি
পানির পাত্র ১০০ টির জন্য ১ টি
প্রথম ১-২ দিন পেপারে খাবার দিতে হবে (যদি লিটার ভাল থাকে তাহলে পেপারে না দিলেও চলে) যাতে খাবার চিনতে পারে এবং লিটারে যাতে খাবারে না পড়ে ও বাচ্চার জন্য সহজ হয়।
৩০ দিন পর্যন্ত ৪০ টির জন্য ১ টি খাবার পাত্র এবং ৫০ টার জন্য ১ টি পানির পাত্র।
৩০ দিন পর ৩০ টির জন্য ১ টি খাবার পাত্র
এবং ৪০ টির জন্য ১ টি পানির পাত্র.
খাবার এবং পানির পাত্র কিছু কম বেশি হতে পারে তবে বেশি দেয়াই ভাল বিশেষ করে বাচ্চা অবস্তায়.
বাচ্চা আসার আগে ঘরের তাপমাত্রা ৯৫’ ফারেনহাইট বা ৩৩’ সেন্টিগ্রেট করতে যা করার তাই করতে হবে.(স্টোভ,কাঠের গুড়ি দিয়ে তাপ, বালব,হারিকেন,কয়লা, হিটার,গ্যাস ব্রুডার,ইনফ্রারেট বাল্ব) । আলাদা ব্রুডিং ঘর হলে ভাল হয় কারন গঠনগতভাবে ব্রুডিং ঘর আলাদা, সেখানে সাইড ওয়াল,পরদা নিচ হতে উপর পরযন্ত থাকে. তাছাড়া দুটি ব্যাচ পালা যায়.
ব্রুডিং এর তাপমাত্রা
১ম সপ্তাহে ৯৫’ ফারেনহাইট
২য় সপ্তাহে ৯০
৩য় সপ্তাহে ৮৫
৪থ সপ্তাহে ৮০
৫ম থেকে শেষ পর্যন্ত ৭৫ ‘ ফারেনহাইট
শীতের সময় লিটার ২ ইঞ্চি এবং গরমের সময় ১ ইঞ্চি করে দিলে ভাল হয় কারন লিটার পাতলা হলে বাচ্চার শরীরের তাপ বের হয়ে লিটারে চলে যায়.
লিটার ভিজা হলে আমাশয় হয়, আমাশয় হলে গামবোরু এবং রানিক্ষত হবার সম্বাবনা থাকে.
লিটার বেশি শুকনা হলে তুত বা শুকনা গুড়া নিম পাতা প্স্রে করে দিতে হবে কারণ ধুলা বালি নাকে গিয়ে মুরগির ঠান্ডা লাগে,বিশেষ করে বাচ্চার ব্রুডার নিউমোনিয়া হবার সম্বাবনা থাকে তাছাড়া রানিক্ষতে এবং গাম্বোরুর বিরুদ্ধে কাজ করবে।
খাবার পাত্র দিতে হবে পিঠ বরাবর আর পানির পাত্র দিতে হবে চোখ বরাবর তাহলে মুরগি সহজে খেতে পারবে এবং পানি ও খাবারে ময়লা পড়বে কম ফলে পানি বাহিত রোগ কম হবে, পেঠ ভাল থাকবে. পাতলা পায়খানা হবেনা । ওজন ভাল হবে। লিটার যদি খাবার এবং পানিতে পড়ে তাহলে আমাশয় হয় যা সব রোগকে দাওয়াত করে নিয়ে আসে। প্রতিদিন পানির পাত্র পরিস্কার করতে হবে এবং সপ্তাহে ১ বার খাবার পাত্র পরিস্কার করতে হবে। মুরগির অধিকাংশ রোগ পানির মাধ্যমে আসে।
পর্দার নিচের অংশ ফিক্স থাকবে এবং উপর হতে নিচে নামানো হবে,অথবা উপরে চটের অংশ এবং নিচে কাপড়ের অংশ থাকা উচিত যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী উঠানো নামানো যায়। শীতের সময় দরজায় এবং পরদার উপরের অংশ ঢেকে দিতে হয়।
পর্দা উপরে ফিক্স থাকলে সঠিকভাবে উঠানো নামানো যায়না ফলে ভিতরে গ্যাস হয়, গ্যাস হলে ধকল পড়ে এবং শ্বাস নালির ক্ষতি করে ফলে মাইকোপ্লাজমা,ব্রংকাইটিস এবং রানিক্ষেত হতে পারে।
খাবার হিসেবে সোনালি খাবার এবং ব্রয়লার খাবার দুটিই চলে,অনেকে ১৫-২০ দিন ব্রয়লার খাওয়ায় তারপর সোনালি,কেউ আবার দুইটা মিক্সার করে খাওয়ায়. কেউ শুধু সোনালি বা শুধু ব্রয়লার খাওয়ায়।
শুধু ব্রয়লার খাওয়ালে আমাশয় এবং নেক্রোটিক এন্টারাইটিস হওয়ার সম্বাবনা থাকে কারণ এতে প্রোটিন,এনারজি এবং অন্য ভিটামিন বেশি থাকে।
সোনালি মুরগি ব্রয়লারের মত বাড়েনা, তাই তাদের খাবারটাও সেভাবে তৈরি করা হয়েছে মানে প্রোটিন কম দেয়া আছে। সোনালী মুরগি যত খায় তত বাড়ে না তাই খাবার হিসেব করে দেয়া ভাল।
১ম ২ দিন ৪ ঘন্টা পর পর খাবার দেয়া উচিত এবং খাবার যাতে সব সময় থাকে তা নাহলে মুরগি ছোট বড় হয়ে যাবে। ৩-১০ দিন দিনে ৪ বার খাবার দিতে হবে এবং ১১ দিন থেকে দিনে ৩ বার খাবার। ৩০ দিন পর দিনে ২ বেলাও দেয়া যায়। ২০-২৫ দিন যতটুকু খায় ততটুকু খাবার কিন্তু ২৫ দিন পর প্রতি সপ্তাহে প্রতি মুরগিতে ৪-৬ গ্রাম করে বাড়াতে হবে। এমন ভাবে খাবার দিতে হবে যাতেঃ-
সকালে ৪ ঘন্টয় শেষ হয় (৪০%)
দুপুরে ৩ ঘন্টা খায় (২০%)
রাত্রে ৫ ঘন্টায় শেষ হয় (৪০%)
শীতে ওজন বেশি হয়।
গরমের সময় ঠান্ডা সময় মানে সকালে এবং বিকালে খাবার দিতে হবে।
৪৫ -৬০ দিনে ৭০০-৮৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয় আর খাবার খাবে ১০০০ মুরগিতে ৩৫-৪০ ব্যাগ.ওজন অনেকটা বাচ্চার মানের উপর নির্ভর করে. ইনব্রিডিং সমস্যার কারনে প্রায়ই বাচ্চার মান ভাল হয়না.
সোনালীর এফ সি আর সোনালীর খাবারে ২.২-২.৪ মানে ২২০০-২৪০০ গ্রাম খাবার খেয়ে ১কেজি ওজন । ব্রয়লার খাবারে ১.৮ -২ মানে ১৮০০-২কেজি খাবার খেয়ে ১কেজি ওজন। ব্রয়লার ও সোনালী এক সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে ব্রয়লার ৩৫% আর সোনালী ৬৫% দেয়া ভাল।তাহলে আমাশয় কম হবা
রেট ১০-৩৩ টাকার মহ্যে উঠানামা করে। রেডি মুরগির দাম ও উঠানামা করে ১৭০-২৪০ টাকা তাই লাভ টা ও উঠানামা করে.এখন রেট ১৯০-২০০টাকা খাবারের দাম বাকিতে ১৯৫০-১৮০০ টাকা,নগদে ১৭৫০-১৯০০ টাকা ব্রয়লার খাবার দিলে ওজন টা তাড়াতাড়ি আসে তবে আমাশয় বেশি হয়।
রোগব্যাধি :
প্রধান রোগ হলঃ- আমাশয়, গাম্বোরো, রানিক্ষেত, পক্স, এন্টারাইটিস, কৃমি, ক্যানাবলিজম
তাছাড়া মাইকোপ্লাজমা এবং ব্রংকাইটিস। ডিম পাড়ার সোনালিতে মেরেক্স বেশি হয়।
বর্তমানে বেশি যে সমস্যা হচ্ছে
ওজন ভাল আসেনা
বেশি মারা যায়
( মারেক্স , এ আই বেশি দেখা যাচ্ছে ) কখন কোন বাচ্চা ভাল না খারাপ তা বোজা যাচ্ছেনা ফলে রিক্স বেড়ে যাচ্ছে।
মেডিসিন:
আমাশয় বেশি হয় তাই
১৩-১৫দিনে
২৩-২৫ দিনে
৩৫-৩৭দিনে মোট তিন বার আমাশয়ের ডোজ করা উচিত।
৩৫-৪০ দিনে কৃমির ডোজ করলে ভাল হয়,
অনেক সময় ঠোটে ছেকা দিতে হয় ৫-১০ দিনে.
ব্রুডিং এর সময় প্রথম দিন, গুড়,ইলেক্টোলাইট, প্রবায়োটিক। সি এবং গ্লোকো্জ,মাল্টিভিটামিন দেয়া যায় ,পরের দিন থেকে লাগলে এন্টিবায়োটক দেয়া যায়.
প্রতি সপ্তাহ ২ দিন করে প্রবায়োটিক দিলে ভাল হয় এতে পায়খানা ভাল থাকবে.
১. রেডি মুরগির দাম উঠানামা করে
২. ওজন কম আসা
৩. মুরগির ঘর যদি সঠিকভাবে করা না হয়।
৪. পালন সম্পর্কিত সঠিক ধারনা না থাকা
৫. রোগ বালাই
৬. বায়োসিকিউরিটি না থাকা
৭. বাচ্চা ভাল মানের না হওয়া
৮. টিকার মান এবং দেয়ার পদ্ধতি ভাল না হওয়া
৯. বাচ্চার দাম বেশি
১০. খাবারের দাম বেশি
১১. মুক্ত বাজারনীতি মানে দামের উপর সরকারের কোন নীতিমালা নেই.
১২. দেশে কতগুলো ফার্ম আছে,কতগুলো বাচ্চা উৎপাদিত হয় এবং আমাদের চাহিদা কতটুকু তার কোন সঠিক হিসেব নেই ও সে অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা নেই.
তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি সঠিকভাবে পালন করতে পারলে লস হবেনা হয়ত কম লাভ হবে কিন্তু বাংলাদেশে দক্ষ লোক এবং ভাল পরিবেশ নাই তাই ফারম চালানো কঠিন.
অধিক লাভের আশায় এখন অনেকেই খামারে দিকে ঝুঁকছেন। গ্রামের প্রায় প্রতিটি এলাকায় খামাদের দেখা মিলে। পোল্ট্রির পাশাপাশি এখন অধিক লাভের আশায় সোনালি মুরগির খামারের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন। সোনালি মুরগি পালনের পাশাপাশি যদি তার যত্ন কিভাবে করতে হয় তা জানা থাকে তাহলে আরো লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে।
সোনালি মুরগির খাদ্য প্রদানে যা রাখবেন:
সোনালি মুরগিকে ব্রয়লার মুরগির মত সব সময় খাবার দেয়া দরকার বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু এটা একটা ভুল ধারণা। মনে রাখা দরকার ব্রয়লার মুরগি খাদ্য রূপান্তরের হার এবং সোনালি মুরগির খাদ্য রূপান্তরের হার এক নয়।
সাধারণত সোনালি মুরগি ক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ মুরগিতে ৪০ ব্যাগ হিসেবে সোনালি খাদ্য হিসাব করে ৮০০ গ্রাম গড় ওজন হিসাব করা হয়। কিন্তু সোনালি খাদ্যে কখনো কখনও ২ ব্যাগ বা ৩ ব্যাগ বেশি লাগতে পারে। আবার খুব ভাল হলে ২ ব্যাগ বা ৩ ব্যাগ কম লাগতে পারে।
যদি সোনালি মুরগিকে ব্রয়লার খাদ্য খাওয়ানো হয় তবে ১০০০ মুরগিতে সর্বোচ্চ ৩৪-৩৫ ব্যাগ খাদ্যে ৮০০ গ্রাম গড় ওজন হিসাব করা হয়। এক্ষেত্রেও আগের মতই ২ থেকে ৩ ব্যাগের যোগ বা বিয়োগ ধরে নেওয়া যেতে পারে।
সারাদিনে খাদ্য দেয়ার নিয়ম:
দিনে ৩ বার খাবার দিতে হবে। বিশেষ করে মনে রাখতে হবে যেন সকালে সর্বোচ্চ ৪ ঘন্টার মধ্যে খাদ্য খাওয়া শেষ হয়ে যায়, দুপুরে যেন সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টার মধ্যে খাদ্য শেষ হয় ও রাতে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা যেন খাদ্য খায়।
প্রয়োজনে মুরগি ক্রপ(খাদ্য থলি) পরীক্ষা করে খাদ্য দিতে হবে। যদি খাদ্য থলি ভর্তি থাকে তবে খাদ্য দেয়া কোন দরকার নাই। কারণ মনে রাখবেন, সোনালি মুরগিকে আপনি যতই খেতে দিবেন তারা ততই খাবে। কিন্তু এতে খাদ্য অপচয় হবে আপনাদের। খেয়াল করে দেখবেন ঘরে নিমপাতা বা যেকোন পাতা ঝুলিয়ে রাখলে তারা সেগুলোও খেয়ে শেষ করে। সেজন্য খাবার দেয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
৩য় সপ্তাহ বয়সে পরে মুরগিকে ২০-২২ গ্রাম/ মুরগি হিসেবে খাদ্য পরবর্তী প্রতি সপ্তাহে ৪-৬ গ্রাম/মুরগি হারে খাদ্য বৃদ্ধি করে চলতে হবে। দিনের মোট খাদ্যের পরিমাণকে তিন ভাগে ভাগ করে ৪০%(সকাল)+২০%(দুপুর)+৪০%(রাত) খাদ্য প্রদান করতে হবে সোনালি মুরগিকে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় হাসেন আলী আকন্দ (৪৫) নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুঠোফোনে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। সোমবার ভোরে উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম সরলিয়া চরের একটি ডুমুরের গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।
নিহত হাসেন আলী সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলতাইড় আশ্রয়ণে বসবাস করতেন। তাঁর বাড়ি শিমুলতাইড় ইউনিয়নের যমুনায় বিলীন হওয়া নোয়ারপাড়া চরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়ারপাড়া চর যমুনা গর্ভে বিলীন হওয়ায় গত বর্ষায় হাসেন আলী শিমুলতাইড় আশ্রয়ণ প্রকল্পে এসে ঠাঁই নেন। তিনি গরুর ব্যবসা করতেন।
নিহত হাসেন আলীর স্ত্রী আঙ্গুর বেগম জানান, তাঁর স্বামী গতকাল রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর স্বামীকে ফোন করা হয়। এরপর তিনি অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাড়ির বাইরে দেখা করতে যান। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। আজ সকালে তাঁর লাশ পাওয়া গেল। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এর বিচার চান।
শিমুলতাইড় গ্রামের বাসিন্দা ও চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিমুলতাইড় আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশেই সোনাতলা উপজেলার সরলিয়া চর। ভোরে চরের জমিতে কাজ করতে যাওয়া কৃষকেরা সেখানকার ডুমুর গাছে হাসেন আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে তাঁর পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন এসে লাশ শনাক্ত করেন। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। গলায় গামছা প্যাঁচানো লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হলেও পা মাটিতে লেগে ছিল।
চালুয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, শিমুলতাইড় চরের বাসিন্দারা গরু ব্যবসায়ী হাসেন আলীর লাশ পাওয়ার বিষয়টি জানালে সোনাতলা থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুলিশ চরে এসে পৌঁছায়নি।
ঝিনাইদহে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫টি ছোট-বড় গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার সকালে জেলার কালীগঞ্জ থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকার আকব্বর কাজীর ছেলে উজ্জ্বল কাজী (৩৫), চিতলমারী উপজেলার শ্যামপাড়া এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে সুজন খান (৪২), ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আল আমিন কাজী (২৯), বড় খাজুরা এলাকার মৃত মজিদ শেখের ছেলে শেখ ওহাব (৫০), খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামের আব্দুল্লাহ শেখের ছেলে জিয়া শেখ (৪২), ডুমুরিয়া উপজেলার জিলেরডাঙ্গা এলাকার আজিজ ফকিরের ছেলে সেকেন্দার আলী ফকির (৪৫) ও একই উপজেলার খলসি এলাকার হালিম গাজীর ছেলে রুবেল গাজী (৩৫)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানায় সম্প্রতি দুটি গরু চুরির ঘটনায় মামলা হয়। এর পর ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে রোববার খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে সেই অভিযানে চোর চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার গরু আদালতের মাধ্যমে মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানায় পুলিশ।