৪:২৬ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ ৬:২৩ অপরাহ্ন
সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২১ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা: সুনীল অর্থনীতি ও রুপকল্প ২০৪১ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) এ সেমিনার আয়োজন করে।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেস্ট ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রায় সমপরিমাণ সমুদ্রসীমায় আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সমুদ্র আমাদের সুনীল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সম্ভার। সমুদ্রে থাকা জলজ সম্পদ তথা প্রচলিত বা অপ্রচলিত মাছ, সীউইড সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে পারলে এগুলো বহির্বিশ্বে রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় যোগান হবে। সুনীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে হলে প্রচলিত মৎস্য, অপ্রচলিত মৎস্য এবং সীউইডকে পরিচর্যা করে এ ক্ষেত্রকে উপযুক্ত করে নিয়ে আসতে হবে। সামুদ্রিক এ মৎস্যসম্পদ আমাদের খাদ্য ও পুষ্টির যোগানের পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে”।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “রূপকল্প ২০৪১ হচ্ছে সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে পারলে বাংলাদেশ উন্নত হবে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে হলে আমাদের অর্থনীতিকে জাগ্রত করতে হবে। আর অর্থনীতিকে জাগ্রত করতে আমাদের সম্পদ রপ্তানি করতে হবে। এজন্য সুনীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে হবে। সুনীল অর্থনীতিকে কার্যকর করতে হবে। আর এ কাজে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে”।

এ সময় তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তীতে দূরদৃষ্টি দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। একসময় নানা কারণে দেশে মাছের সংকট দেখা দিয়েছিল। মাছ দুর্লভ হয়ে গিয়েছিল, হারিয়ে যাচ্ছিলো। সে জায়গা থেকে গবেষণা ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ৩১ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ আমরা ফিরিয়ে এনেছি। সরকারের সঠিক ভূমিকা ও ব্যবস্থাপনার কারণে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।”

মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ আহরণে সরকার গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় মাছ অহরণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইলিশ ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, পার্বত্য অঞ্চলসহ ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে স্থান উপযোগী প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মৎস্য খাতে রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।”

“উপকূলীয় মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হতে পারে, উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারে, খাবারের বড় জোগান তৈরি হতে পারে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হতে পারে। এ জন্য মৎস্যসম্পদের উন্নয়সে সবাই মিলে কাজ করতে হবে”- যোগ করেন মন্ত্রী।

“মৎস্য খাতে যারা গবেষণা করছেন, বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করছেন, মাঠে কাজ করছেন এবং যারা ব্যবস্থাপনা করছেন তাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। তাদের নিজ নিজ কাজের ক্ষেত্রকে ধারণ করতে হবে, দায় নিতে হবে। সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রত্যেককেই অবদান রাখতে হবে।”-জানান মন্ত্রী।

বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআই-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আব্দুল লতিফ। মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর ও বিএফআরআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, মৎস্য বিজ্ঞানী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৩১, ২০২১ ৬:২১ অপরাহ্ন
শেখ হাসিনা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি বলেছেন, “শেখ হাসিনা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন, রাষ্ট্রের সকলেই সমান সুযোগ লাভ করবেন। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে অধিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করা হবে না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সকল ধর্ম, সকল শ্রেণি, সকল বর্ণের মানুষের জন্য সমান রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। তিনি মনে করেন এটা বাঙালিদের রাষ্ট্র। রাষ্ট্রীয়ভাবে সবাই সমঅধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে তার অধিকার ভোগ করবেন”।

মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা ও প্রার্থনা রাজধানীর সচিবালয়ের নিজ দপ্তর কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, “মানুষের কল্যাণে ও দেশের সেবায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং সত্যের পক্ষে আমরা যাতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারি, অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারি সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। কোন ধর্মই খারাপ কোন কিছু বহন করে না। সর্কল ধর্ম-মতের মানুষদের ভালো চিন্তা-চেতনার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদের ‍সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা পালন করছে।”

“মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে ধ্বংস করে ফেলা হয়। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার প্রতিষ্ঠিত করে। শেখ হাসিনা যতদিন আছেন, আওয়ামী লীগ যতদিন আছে ততদিন সব ধর্মাবলম্বীদের একই অধিকার থাকবে। আমরা চাই বাংলাদেশ হোক হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের জন্য শান্তির ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল।”-যোগ করেন মন্ত্রী।

প্রত্যেক ধর্মের মোলিক সত্তা একই উল্লেখ করে শ ম রেজাউল করিম আরো যোগ করেন, “মত ও পথ ভিন্ন হলেও আমাদের সবার বিশ্বাসের জায়গা এক। মৌলিক জায়গায় কোন পার্থক্য নেই। আমাদের ব্রত হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়ন।”

একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে আবির্ভূত হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “মাঝে মাঝে দুষ্ট প্রকৃতির লোকরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। তবে তাদের সংখ্যা নগন্য। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সুন্দর বাংলাদেশ অর্জনের ক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়ের মানুষেরা রক্ত দিয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের অধিকার একইভাবে লেখা রয়েছে। এ অধিকার বাস্তবায়নের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। ”

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুরঞ্জিত দত্ত লিটুর সভাপতিত্বে সভায় পিরোজপূর জেলা পূজা উদাযাপন পরিষেদের সভাপতি বিমল চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌতম নারায়ণ চৌধুরী, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকল্প পরিচালক প্রিয়াংকা সিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ৩০, ২০২১ ৬:২৮ অপরাহ্ন
এবারের ‘ডিজিটাল হাটে’ চারগুণ বেশি পশু বিক্রি
প্রাণিসম্পদ

পবিত্র ঈদুল আজহায় হাট ঘুরে পছন্দের পশু কেনা চিরায়ত এক ঐতিহ্য। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে পশুর হাটে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খামার থেকেই লাখো পশু বিক্রি করছেন ব্যাপারীরা। ঘরে বসে পছন্দের পশু কিনতে পারছেন ক্রেতারা। আধুনিক এই ব্যবস্থাপনার নাম ‘ডিজিটাল হাট’।

২০২০ সালের ঈদুল আজহার সময় দেশে ডিজিটাল হাটের আনুষ্ঠানিক বিকাশ ঘটে। ডিজিটাল হাট বাস্তবায়ন করেছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ)। এবারের ঈদুল আজহা ঘিরে (জুলাইয়ে) এ হাটের আরও বিস্তৃতি ঘটে। ব্যবস্থাপনায় সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়, সংস্থা, ব্যাংক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়। এতে ডিজিটাল পশুর হাটে মানুষের আস্থা তৈরি হয়। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার চারগুণের বেশি পশু বিক্রি হয়। আগামীতে এ হাটের আরও প্রসার ঘটবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিজিটাল হাট
গত ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উদযাপিত হয় দেশে। কোরবানির এ ঈদ ঘিরে গত ৪ জুলাই এক লাখ পশু অনলাইনে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ঢাকায় যাত্রা শুরু হয় ডিজিটাল কোরবানি হাটের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তত্ত্বাবধানে এই হাট বাস্তবায়ন করেছে ইক্যাব এবং বিডিএফএ। এই প্ল্যাটফর্মে সারাদেশের এক হাজার ৮৪৩টি অনলাইন হাট যুক্ত হয়। ঈদের আগ দিন পর্যন্ত তারা তিন লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৮টি পশু বিক্রি করেছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ৯৬ হাজার ৭১০টি এবং ছাগল ও ভেড়া ৯০ হাজার ৮৬৯টি। পশুগুলোর মোট মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৩৫ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।

ইক্যাব সূত্র জানায়, এবার ডিজিটাল হাটে পশু বিক্রির পাশাপাশি স্লটারিং সেবাও (জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ) চালু করেছিল তারা। এ পদ্ধতিতে ২৬৫টি পশু স্লটারিং করে যথাসময়ে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য পশু ক্রেতাদের বাসায় সরাসরি ডেলিভারি করা হয়েছে। ৮০ শতাংশ পশু ঈদের একদিন আগে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ পশুর ডেলিভারি সম্পন্ন হয় ঈদের আগের দিন। এভাবে গত বছর ঈদুল আজহার সময় তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৮৭ হাজার পশু অনলাইনে বিক্রি হয়েছিল।

ইক্যাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমাদের প্ল্যাটফর্মে সারাদেশের এক হাজার ৮৪৩টি অনলাইন হাট থেকে তিন লাখ ৮৭ হাজার পশু বিক্রি হয়েছে। এতে প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা যেমন লাভবান হয়েছেন, তেমনি ন্যায্যমূল্যে পশু কিনতে পেরেছেন ক্রেতারা। ডিজিটাল কোরবানির হাট করোনাকালীন চাপে থাকা গ্রামীণ অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও প্রাণের সঞ্চার করেছে।

গত জুনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৩টি হাট ইজারা দেয় ডিএনসিসি। কিন্তু জুলাইয়ে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনে সংস্থাটি। তখন ডিজিটাল হাট ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, করোনার কারণে এবার অনলাইনে পশু বিক্রি প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া সরকারি সেবাগুলো দিন দিন আধুনিক হচ্ছে এবং সেটির সুফল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। প্রযুক্তির সুবিধায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দেওয়ার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। এবার ডিজিটাল হাট মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। আগামী বছরও ঈদুল আজহায় ডিজিটাল পশুর হাট আয়োজন করা হবে।

 

সূত্র: জাগো নিউজ
শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৯, ২০২১ ১২:৩২ অপরাহ্ন
হেলিকপ্টারে নামানো হলো গরু
প্রাণিসম্পদ

হেলিকপ্টারের সাহায্যে পাহাড় থেকে আহত গরু নামানো হয়েছে। এভাবে একে একে নামিয়ে আনা হয়েছে ১০টি গরু। এরই মধ্য গরু উদ্ধারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।

সুইজারল্যান্ডের আল্পস পার্বত্য এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পায়ে চোট লাগায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল গরুটি। এই অবস্থায় পাহাড় থেকে হাঁটিয়ে সমতলে নামালে আঘাত আরো বাড়তে পারত। তাই পাহাড় থেকে গরু নামাতে হেলিকপ্টার ডেকে আনেন গরুর মালিক কৃষক ড্যাং।

পরে হেলিকপ্টারের সাহায্যেই পাহাড় থেকে সমতলে নামিয়ে আনেন প্রিয় পোষ্যকে। খবর এসবিএস নিউজের।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ের ওপর অনেক জায়গাতেই গাড়ি নিয়ে প্রবেশ সম্ভব না। তাই বিকল্প হিসেবে আহত গরুদের উদ্ধারে ব্যবহার করা হয়েছে হেলিকপ্টার।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মাঝ আকাশে হেলিকপ্টার থেকে ঝুলছে আহত গরুটি। তার সারা শরীরে হার্নেস লাগানো। এভাবেই সুইস আল্পস থেকে সমতলে নামানো হয় গরুটিকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৯, ২০২১ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
গরুর খামার পরিদর্শনে ৩ দেশের রাষ্ট্রদূত
প্রাণিসম্পদ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ গরুর খামার ‘ডাচ ডেইরি ফার্ম’ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিল, কসোভো ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত। খামারটিতে বর্তমানে দেশি-বিদেশি ১২ শতাধিক গরু পালন করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে খামারটি পরিদর্শন করেন তারা।

পরিদর্শন শেষ ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি ওলিভেইরা জুনিয়র বলেন, বাংলাদেশ এখনো দুগ্ধ উৎপাদনে শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তবুও যত বেশি দুগ্ধ উৎপাদন করতে পারবে তত কম আমদানি করবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ শক্তিশালী হবে।

তিনি আরো বলেন, ডাচ ডেইরি ফার্ম খুবই উৎপাদনশীল। এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি একটি আদর্শ ও মডেল খামার। ব্রাজিলের আবহাওয়া বাংলাদেশের চেয়েও বেশ গরম। আমি বিশ্বাস করি ব্রাজিলের গবাদিপশু এখানে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে এবং তারা বেশ উৎপাদনশীল হবে।

পরিদর্শনে আরো ছিলেন, কসোভোর রাষ্ট্রদূত গুনার ইউরিয়ার ও মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত শিরুজিমাত সামির ও ডাচ ডেইরি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও পরিচালক গিয়াসউদ্দিন।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ১২৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক মডেলের খামার ডাচ ডেইরি ফার্ম। খামারটিতে বর্তমানে দেশি-বিদেশি ১২ শতাধিক গরু পালন করা হচ্ছে। খামারটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি। খামারটিতে প্রতিদিন দুই হাজার ২০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৮, ২০২১ ৯:৪১ অপরাহ্ন
বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছ ফিরিয়ে আনা হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং মাছগুলো সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

আজ শনিবার রাজধানীর মৎস্য ভবনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হচ্ছে ভাতে-মাছে বাঙালির চিরন্তন বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের মৎস্য খাতকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বিকশিত করছেন এ ধারাকে অব্যাহত রেখে মৎস্য সম্পদে বিশ্বে আমরা অনন্য জায়গায় পৌঁছে যাব। এ লক্ষ্য নিয়ে মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এবারের মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন হতে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ভাতে-মাছে বাঙালির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গাতে আমরা শুধু পরিপূর্ণতাই আনব না, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

‘করোনার কারণে অনেক প্রবাসী বেকার হয়ে দেশে ফিরেছেন’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় সৃষ্ট বেকারদের পুনর্বাসনে আমাদের মৎস্য খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব লাঘব হচ্ছে, আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে ও উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। আবার মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমরা দেশে আনতে সক্ষম হচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের গৃহীত পদক্ষেপে ইলিশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, জাটকা নিধন বন্ধ হয়েছে, দেশের মানুষের কাছে যে মাছগুলো দুর্লভ ছিল, সেগুলো ফিরে এসেছে। বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি এবং সেটা আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি।’

তিনি জানান, বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ ৩য়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ উৎপাদনে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ।

বিগত এক দশকে আমাদের মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ধারা নয় দশমিক এক শতাংশ, যা বিশ্বের মূল উৎপদানকারী দেশসমূহের মধ্যে ২য় বলেও জানান তিনি।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিএফআরআই এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৮, ২০২১ ৪:০১ অপরাহ্ন
হাঁস পালনে ঘুরে দাঁড়ালেন তালেব
প্রাণিসম্পদ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বৈরিহরিণমাড়ী গ্রামের গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব মিয়া। দরিদ্রের কষাঘাত থেকে রেহাই পেতে শুরু করে হাঁসের খামার। বাড়ির পাশে উন্মুক্ত জলাশয়ে দলবেঁধে ভাসছে তার হাঁস।

জানা যায়, বৈরিহরিণমাড়ী গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান আবু তালেব মিয়া। দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে তার। এই সংসার চালাতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছিল। এমনি এক পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকটি হাঁসের খামার অনুসরণ করেন তিনি। প্রায় ৬ মাস আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে ক্যাম্বেল জাতের ৫০০ পিস হাঁসের বাচ্ছা কিনে বাড়িতে শুরু করে খামার। এসব হাঁস বর্তমানে প্রতিদিন ২০০টি করে করে ডিম দিচ্ছে। এরপর থেকে আর কখনো পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। উৎপাদিত ডিম ও হাঁস বিক্রির লাভের টাকা দিয়েই সুখে চলছে তার সংসার।

উদ্যোক্তা আবু তালেব মিয়া জানান, প্রশিক্ষণ ছাড়াই হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল নিয়ে খামারটি পরিচালনা করে চলেছেন। বর্তমানে হাঁসের খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য খরচ বাদে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাভ থাকছে তার। তবে কিছুদিন আগে টানা লকডাউনের কবল ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এক সময়ে স্ত্রী-সন্তানের মুখে তেমন অন্ন যোগাতে পারিনি। এখন হাঁসের খামার করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। পরিবার নিয়ে প্রতিদিন খাওয়া হয় মাছ-মাংস-ডিম।

পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, যে কোন কাজ পরিকল্পিভাবে করলে অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব। উদ্যোক্তা আবু তালেব মিয়ার খামারে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তাকে আরও লাভবান করতে সর্বাত্নক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৮, ২০২১ ১০:১২ পূর্বাহ্ন
টিফিনের টাকা জমিয়ে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মুরগির খামার
পোলট্রি

করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কাল চলছে অনলাইনে। আর এই অনলাইনে ক্লাসের পাশাপাশি ৫ বছর ধরে স্কুলের টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে নিজের বাড়ির ছাদে বিভিন্ন জাতের মুরগি ও কবুতরের ক্ষুদ্র খামার করলেন উপজেলার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন তাহসিন (১৫)।

তাহসিন বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাগির হোসেনের পুত্র। তাহসিন স্হানীয় শাকপুরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী তাহসিন জানান, ছোটবেলা থেকে আমি এলাকায় বড়দের দেখেছি বিভিন্ন প্রকার হাঁস-মুরগি, কবুতরের খামার করতে। সেগুলো দেখে আমার খুব ইচ্ছে হতো আমিও যদি একটা খামার করতে পারতাম।

সেই থেকে আমি পরিকল্পনা শুরু করি। আমার আম্মু-আব্বু, ভাইয়া স্কুলে যাওয়ার সময় টিফিন করার জন্য যে টাকা দিত এবং প্রতি ঈদে আমাকে বড়রা ঈদ সালামি হিসেবে যে টাকা দিত সেগুলোও আমি জমিয়ে রাখতাম। এভাবে ৫ বছর পর্যন্ত টাকা জমিয়ে এক পর্যায়ে দেখলাম আমার ৩০ হাজার টাকা হয়েছে।

তারপর কোন প্রকারের মুরগি-কবুতর কিনবো এবং কীভাবে মুরগী-কবুতর লালন-পালন করবো বিস্তারিত জেনে নিলাম মোবাইলের ইউটিউবে। এরপর গত ৬ মাস আগে আমি ৩০ হাজার টাকায় মুরগির ঘর তৈরিসহ ফাউমি জাতের ৫০টি ডিমের মুরগী ও বিভিন্ন জাতের কবুতর ক্রয় করি। আমার খামারের মুরগীগুলো এখন দিনে ৩০ টারও বেশি ডিম দিচ্ছে।মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই আমার লাভ এবং মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার টাকা। আগামী সপ্তাহে নতুন করে আরও ৫০টি ডিমের মুরগী কিনবো। সেই সাথে আমার মুরগী-কবুতরের খামার ধীরে ধীরে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা করেছি।

খামার করলে তো পড়াশোনার সমস্যা হয়? এই প্রশ্নে তাহসিন জানান, আমার পড়াশোনার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। নিয়মিত বিদ্যালয়ের এসাইনমেন্ট ও অনলাইন ক্লাস ও টিউটোরিয়াল চালিয়ে নিচ্ছি। পড়ালেখার যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেভাবে আমি সময় করে রুটিন করেছি।

তাহসিনের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, তাহসিনের খামারের ইচ্ছে শিশুকাল থেকে। পড়া-লেখার পাশাশাশি সে নিজে নিজেই মুরগীর খামার গড়ে তুলেছে। এটি করতে গিয়ে লেখাপড়ায় তার মনোযোগ কমেছে বলে মনে হচ্ছে না। আমরা চাই পড়ালেখার পাশাপাশি এখন থেকেই সে নিজেকে গড়ুক।

বোয়ালখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ জানান, তাহসিন আসলে সমাজের জন্য একটা মডেল। সত্যিই আমি আনন্দিত। এত ছোট্ট ছেলে নিজের প্রতিভা ও চেষ্টায় খামার করছে। এ বয়সী খামারি আমি আগে আর দেখিনি। ‘এমন খামারিদের আমরা সহযোগিতার জন্য খুঁজছি। তাকে সরকারি যত ধরনের সহযোগিতা রয়েছে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা করবো। আমার তরফ থেকে এবং প্রাণী-সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তার তাহসিনের জন্য শুভ কামনা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৭, ২০২১ ৫:৫৭ অপরাহ্ন
গরু খাদ্য ঠিকমতো না খেলে যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

অনেক সময় পালন করা গরু ঠিকমতো খাদ্য খেতে চায় না। তখন খামারিরা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়।গরু খাদ্য ঠিকমতো না খেলে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সেগুলো ডেইরি খামারিদের ভালোভাবে জেনে রাখতে হবে।

খাদ্য না খাওয়ার কারণ:
হজম করা কঠিন এরূপ খাবার খেলে। পশু যে খাদ্য খেয়ে অভ্যস্ত হঠাৎ তার ব্যতিক্রম হলে।
নিম্নমানের খাদ্য, বিনষ্ট খাদ্য এবং শস্য জাতীয় খাদ্য অধিক গ্রহণে পশুর এমন হতে পারে।
অত্যধিক খাবার খেলে।

লক্ষণসমূহ:
দেহের ওজন কমে যায় ও পশু দুর্বল হয়ে পড়ে। খাদ্যের প্রতি পশুর আকষ্মিক অরুচি হয়।রক্ত স্বল্পতা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

প্রাকৃতিক উপায়ে চিকিৎসা:
গরুকে আদা বাঁটা, বিট লবণ, খাওয়ার সোডা ইত্যাদি একসাথে মিশিয়ে একটি কলাপাতায় মুড়ে দিনে দুইবার খাইয়ে দেয়া যেতে পারে।এভাবে ৩/৪ দিন খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।এ ক্ষেত্রে প্রতি ১০০-১৮০ কেজি দৈহিক ওজনের একটি গরুকে আদা বাটা দিতে হবে ৫০ গ্রাম, সোডা গুড়া ২০ গ্রাম, বিট লবণের গুড়া ২০ গ্রাম।

প্রতিরোধ করণীয়ঃ
গরুকে খারাপ মানের, হজম করা কঠিন এরূপ খাবার বা নষ্ট খাদ্য খাওয়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে।নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ প্রদান করতে হবে। এছাড়াও গরুর খাদ্যে বিভিন্ন এনজাইমের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অগাস্ট ২৭, ২০২১ ৪:০০ অপরাহ্ন
পাখি পালন করে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় আরিফুলের
প্রাণিসম্পদ

রংপুর জেলার তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম(৩২) ছোট ভাইয়ের পরামর্শ আর শখের বসে শুরু করেন পাখি পালন। শুরুতে শখের খাঁচায় পাখি ছিল মাত্র তিন জোড়া। ৬ মাস পর নতুন করে যোগ হয় আরও দুই জোড়া। এরপরই শুরু হয় ডিম দেওয়া। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পাখির জোড়া দাঁড়ায় ত্রিশে। এখন বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন ও বিক্রি করছেন এই তরুণ। বর্তমানে প্রতি মাসে পাখি বিক্রি করে তার আয় হচ্ছে ২৫-৩০ হাজার টাকা।

জানা যায়, আরিফুল চার বছর ধরে নিজের গ্রামের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন পাখির খামার। শখের বসে খাঁচায় পাখি পালন শুরু হলেও এখন আরিফুল পুরোদমই বাণিজ্যিক। প্রতিদিন তার খামারে পাখি দেখতে ও কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসেন। বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন করে নিজে সফল হওয়ায় অন্যদেরও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আরিফুল।

আরিফুল জানান, তার খামারে বর্তমানে বাজরিকা, ফিঞ্চ, মুনিয়া, ডায়মন্ড ডোভ জাতের ৫০-৬০ জোড়া পাখি রয়েছে। এসব পাখির অনবরত কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখরিত থাকে। সঠিক পরিচর্চা ও রক্ষণাবেক্ষণে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর পর তা বড় করা হয়। এরপর বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়।

তার খামারে বাজরিকা পাখির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই পাখি প্রাথমিক অবস্থায় ৪-৫টি ডিম দেয়। পরে সংখ্যা বেড়ে ১০-১২টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। ডিম থেকে বাচ্চা হতে ১৭-১৮ দিন সময় লাগে। বাচ্চাগুলো উড়তে সক্ষম হয় ৩০-৩৫ দিন বয়সে। প্রজনন উপযোগী হতে সময় লাগে ৪ মাস। তবে ৪-৮ মাস বয়সে প্রজনন ক্ষমতা অনেক বেশি হয়। অন্যান্য জাতের পাখিগুলোও কাছাকাছি সময় নেয়।

বাজরিকা পাইকারি ৮০০ টাকা, খুচরা ১২০০-১৬০০ টাকা জোড়া বিক্রি করছেন। ফিঞ্চ পাইকারি ৬০০ টাকা ও খুচরা ৭০০-৮০০ টাকা জোড়া। মুনিয়া জোড়া ৪০০-৪৫০ টাকা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি ৫০০-৬০০ টাকা। ডায়মন্ড ডোভ জোড়া প্রতি পাইকারি ১৫০০-১৬০০ ও খুচরা ২০০০-২২০০ টাকা বিক্রি করছেন।

এসব পাখিকে খাবার হিসেবে চিকন ধান, কাউন, চিনা ও সূর্যমুখী ফুলের বীজ দেওয়া হয়। প্রতি মাসে একেক জোড়া পাখির জন্য তার ৭০-৮০ টাকা খরচ হয়। বর্তমানে খরচ বাদে আরিফুল মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করছেন। তবে করোনা মহামারির কারণে ঠিক মতো পাখি সংগ্রহ করতে পারছেন না জানিয়ে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগে স্বাভাবিক সময়ে তার ব্যবসা ভালো ছিল। মাসে চল্লিশ হাজারের কাছাকাছি আয় হতো। কিন্তু করোনাকালে পাখি বিক্রি কমে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করা সম্ভব।

কিভাবে পাখি পালন শুরু করলেন, জানতে চাইলে আরিফুল সেই গল্প শোনান। তার ভাষ্য মতে, লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে ছোট ভাই হাফেজ আসিফের পরামর্শে মাত্র তিন জোড়া পাখি দিয়ে শুরু করি। ছয় মাস পর নতুন করে আরও দুই জোড়া পাখি আনি। এরপর তিন জোড়া পাখি ডিম দিয়েছিল ৬-৭টি করে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ৩০ জোড়া পাখির পরিবার হয়ে যায়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

পশু-পাখি পালনে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানালেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম ফরহাদ নোমান। ঢাকা পোস্টকে তিনি জানান, বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন করার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প পুঁজি ও স্বল্প জায়গাতেই পালন করা যায়। আরিফুলের মতো অনেক বেকার যুবক বাড়িতে কবুতর ও পাখি পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop