৪:০৯ অপরাহ্ন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১৫, ২০২১ ১:৩৬ অপরাহ্ন
ছাগলের কৃমি দমনে যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন বাংলাদেশের খামারীদের ভাগ্যবদলের অন্যতম পাথেয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস যেমন সুস্বাদু, চামড়া তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নতমানের বলে স্বীকৃত। তবে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলেও নিতে হয় আলাদা যত্ন। বিশেষ করে কৃমি দমনে কার্যকরী পদক্ষেপ খামারীদের জন্য বেশ উপকারী।

ছাগলের বাচ্চার কৃমি দমনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:

কৃমি দমন : কৃমি ছাগলের মারাত্মক সমস্যা। বয়স্ক ছাগল ও বাচ্চার কৃমি দমনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই আশানুরূপ উৎপাদন পাওয়া যায় না।

কৃমির জন্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কাজেই কাছের প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল থেকে ছাগলের মল পরীক্ষা করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছাগলকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।

১-৪ মাস পর্যন্ত বাচ্চা দের কৃমি মুক্ত করার পদ্ধতি:

১। বাচ্চা ছাগল, ভেড়া, গাড়ল:- বিভিন্ন খামারী এরং ছাগল পালন কারীর সাথে আলোচনা করে এবং নিজে অভিজ্ঞতা থেকে একটি সাধারণ বিষয় লক্ষ্যণীয় হল ছাগলের ক্ষেত্রে বাচ্চা জন্মানোর প্রথম ১ মাস বাচ্চা গুলোর দৈহিক বৃদ্ধি ভাল থাকে এবং দেখতে খুব সুন্দর থাকে কৃমি মুক্ত না করা বাচ্চাগুলো দ্বিতীয় মাস থেকেই আস্তে আস্তে দৈহিক বৃদ্ধি এবং সৈন্দর্য কমতে থাকে, দিন দিন শুকিয়ে যায় আর পেটের সাইজ বড় হতে থাকে,খুবই ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হয়, আবার পায়খানার সাথে সাদা সাদা ফিতা কৃমি,হুক কৃমি,চাবুক কৃমি বের হতে থাকে ।

বাচ্চাগুলো খুবই দূর্বল হয়ে ধীরে ধীরে হাড় চামড়ার সাথে ভেসে উঠে কিছু বাচ্চা মারা যায় আবার কিছু বাচ্চা বছর পার হলেও শরির স্বাস্হ্য খারাপ হতেই থাকে । আমারা খামারে সাধারণতঃএই সমস্যার সন্মুখিন হচ্ছি বা হতে পারি। সেজন্য নিচের নিয়মে ছাগল,গাড়লের বাচ্চাদের কৃমি মুক্ত করতে পারলে খামার কে লাভবান করা সম্ভব।

বাচ্চাকে ১ মাস বয়স হলে নিওট্যাক্স,বা এক্সট্রাস মানুষের সিরাপ জেনেরিক নেইম লিভামিসোল প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ এমএল হিসেবে খাওয়াতে হবে । (বিঃদ্রঃ কৃমির প্রভাব দেখা দিলে ১৫দিন বয়স থেকেও দেওয়া যেতে পারে।) দুই মাস বয়স পূর্ন হলে এলটিভেট জেনেরিক নেইম লিভামিসোল + ট্রাইক্লাবেন্ডাজল ৪০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি ট্যাবলেট হিসেবে খাওয়াতে হবে ।

তিন মাস বয়স হলে এমেকটিন প্লাস জেনেরিক নেইম আইভারমেকটিন + ক্লোরসুলন ২৫ কেজি হিসেবে ১ এমএল চামড়ার নীচে ইঞ্জেকশন দিতে হবে। চার মাস বয়স হলে প্যারাক্লিয়র ফেনবেন্ডাজল গ্রুপের ট্যাবলেট ১০-২০ কেজির জন্য ১ টি । তার ৭-৮ মাস পূর্ণ হলে বড় ছাগলের রুটিনে কৃমি মুক্ত করতে হবে ।

বাচ্চা গাড়ল, ভেড়া, ছাগলের ক্ষেত্রে যেহেতু ১-২ মাসের অধিক সময় পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে তাই কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর পর লিভারটনিক না খাওয়াতে পারলে তেমন কোন সমস্যা হবে না আর ৩-৪ মাসে কৃমির ঔষধের দেওয়ার পর লিভারটনিক খাওয়াতে হবে ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১০:৪০ অপরাহ্ন
কোরবানি পশুর হাটে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় নিম্নলিখিত নির্দেশনাসমূহ পালনের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

নির্দেশনাগুলো হলো:

  • আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে অনলাইনের পাশাপাশি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি অন্যান্য নির্দেশনা মেনে কোরবানির পশুর হাট বসাতে হবে।
  • কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের একমুখী চলাচল থাকতে হবে অর্থাৎ প্রবেশপথ এবং বহির্গমন পথ পৃথক করতে হবে।
  • হাতে পর্যাপ্ত সময় রেখে পশু ক্রয় নিশ্চিত করতে হবে।
  • বৃদ্ধ ও শিশুদের পশুর হাটে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্তরণে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • হাটে আগত সকলে যাতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেকের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র, হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত বেসিন, পানি এবং জীবাণুনাশক সাবান রাখতে হবে।
  • অনলাইনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। অনলাইনের মাধ্যমে পশু কেনা-বেচার জন্য সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও ই-ক্যাবের যৌথ উদ্যোগে এবং এটুআই এর কারিগরি সহায়তায় এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর আওতায় www.digitalhaat.net প্ল্যাটফর্মে সারাদেশের ২৪১টি ডিজিটাল হাট যুক্ত করা হয়েছে।
  • যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এমন স্থানে পশুর হাট বসানো যাবে না। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
  • পশুর হাটে সামাজিক দূরত্ব মেনে লাইনে দাঁড়ানো, প্রবেশ ও বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
  • সরকার নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি দিতে হবে।
  • পশু কোরবানির পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদেরকে বর্জ্য অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১০:১৫ অপরাহ্ন
কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা ও ফেরিতে অগ্রাধিকার প্রদানে চিঠি
প্রাণিসম্পদ

কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা বিধান ও যানবাহনসমূহকে ফেরি পারাপারে অগ্রাধিকার প্রদানের জন্য চিঠি দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বিপণনে বিকল্প বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে কোরবানির পশুবাহী যানসমূহ যাতে কোনো চাঁদাবাজি বা হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ ধরনের যানবাহন যাতে ফেরি পারাপারে ও রাস্তায় অগ্রাধিকার পায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অপরদিকে কোরবানির পশু পরিবহন, বিক্রয় ও বিক্রয় পরবর্তীতে গবাদিপশুর ব্যবসায়ীরা যাতে ছিনতাই, ডাকাতি বা কোন প্রকার নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আজ জননিরাপত্তা বিভাগে অপর একটি চিঠি পাঠিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ৬:১৭ অপরাহ্ন
কোরবানি নিয়ে কোন ধরনের অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানি নিয়ে কোন ধরনের অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

বুধবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বিপণনে বিকল্প বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণিজ পণ্যের বিপণন বিষয়ে মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “পবিত্র ঈদুল আযহা বাঙালিসহ বিশ্বের অন্যান্য মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। তবে কোরবানি উদযাপন করতে গিয়ে যাতে আমরা বিপদ ডেকে না আনি সেটা খেয়াল রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়কে উৎসাহিত করছেন। সেটি বাস্তবায়নে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। সে কাজের প্রক্রিয়ায় যদি কেউ বাধা সৃষ্টি করে তাহলে ধরে নেওয়া হবে করোনাকালে মানুষের সমাগম এড়িয়ে সুন্দরভাবে কাজ করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এটা আমরা কঠোরভাবে নেবো। কোরবানির ডিজিটাল ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার কর্মকান্ডে কেউ সম্পৃক্ত হলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এ বিষয়ে তিনি আরো যোগ করেন, “অনলাইন পদ্ধতিতে বিক্রি হওয়া কোরবানির পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে যাদের প্রমাণাদি আছে তাদেরকে যাতে পথে হয়রানি করা না হয় সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হয়রানি করলে সেটা চাঁদাবাজি হবে, ফৌজদারি অপরাধ হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। বাজারের নির্ধারিত এলাকার বাইরে পশু পরিবহন ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনভাবেই হাসিল আদায় করা যাবে না। এটা নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার সকল প্রকার সহযোগিতা দিতে মানুষের পাশে আছে।”

কোরবানির হাট-বাজারে যাতে চাঁদাবাজি বা ডাকাতি না হয় এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগে সম্পৃক্তদের নজরদারি বাড়ানোর জন্য এসময় নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সরকার এ বিষয়ে সহায়তা করবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসময় মন্ত্রী বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পরিশ্রম আশা করি। আমাদের কাজের জায়গা কোনভাবেই স্থবির করা যাবে না। তবে সবাইকে স্বাস্থাবিধি অনুসরণ করে কাজ করতে হবে। কোরবানি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সকল প্রস্তুতি নিতে হবে। বাজারে যাতে অসুস্থ বা রুগন্ পশু বিক্রয় না হয় সে বিষয়ে ভেটেরিনারি সার্জনরা কাজ করবে।”

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বরেন “আমরা চাই কোরবানির জন্য প্রস্তুতকৃত ১ কোটি ১৯ লাখ গবাদিপশুর একটিও অবশিষ্ট থাকবে না। অনলাইনে ২৫ শতাংশ গবাদিপশু বিক্রয় হবে বলে আমরা আশা করছি।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও মোঃ তৌফিকুল আরিফসহ মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ শেখ আজিজুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনারগণ, জেলা প্রশাসকবৃন্দ, বিভাগীয় মৎস্য দপ্তর ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রধানগণ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি শমী কায়সার, জেলা ও উপজেলা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাগণ, গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি প্রমুখ সভায় ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

এদিন সকালে মন্ত্রী নিজ নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মানবিক সহায়তা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ৬:০০ অপরাহ্ন
গরু কেনার সময় ওজন মাপার সহজ পদ্ধতি
প্রাণিসম্পদ

ঈদুল আজহার আর বেশিদিন বাকি নেই। জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের কোরবানীর পশুর হাটগুলো। করোনাকালীন এ সময়ে হাটে গিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত পশু কিনে ফেলাই ভালো।

ওজন হিসাব করেই গরুর দাম হাঁকাতে হয়। তাই আপনি যত নিখুঁতভাবে ওজন নির্ধারণ করতে পারবেন, তত সহজে সাশ্রয়ী মূল্যে পশু ক্রয় করতে পারবেন। মোট যা ওজন হবে তার ৬০-৬৫ শতাংশ পর্যন্ত মাংস হবে। তাই দ্রুত ওজন নেওয়ার কৌশলটা জানা থাকা ভালো।

ওজন মাপার প্রধানত ২টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। প্রথমটি হলো ডিজিটাল স্কেল বা মিটার। এর মাধ্যমে সহজেই ওজন নেয়া যায়। এটির সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই রয়েছে। সুবিধা হলো, সবচেয়ে কম সময়ে ওজন মাপা যায় এবং ওজনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। অন্যদিকে অসুবিধা হলো, অপ্রাপ্তি। এই মিটার সব জায়গায় থাকে না৷ বড় ধরনের স্কেল না হলে গরুর ওজন নেয়া সম্ভব হয় না।

আরেকটি পদ্ধতি হলো, ফিতা দিয়ে মেপে ওজন নির্ণয় করা। মনে প্রশ্ন আসতে পারে ফিতা দিয়ে ওজন মাপা যায় নাকি? ফিতা তো দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মাপার জন্য। তবে এই পরিমাপকে নির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্রে প্রয়োগ করে কম সময়ে ওজন নির্ধারণ করা যায়।

ফিতা পদ্ধতিতে ওজন মাপতে যা প্রয়োজন

* মাপার ফিতা বা স্কেল টেপ।
* ক্যালকুলেটর বা আপনি মোবাইল ব্যবহার করেও করতে পারবেন।

পদ্ধতি: যে গরুর ওজন নিতে চাচ্ছেন তাকে ভালোভাবে সোজা করে দাঁড় করাতে হবে। তারপর ফিতা দিয়ে প্রথম তার লম্বা দৈর্ঘ্য বের করতে হবে। এজন্য গরুর লেজের গোড়া থেকে শুরু করে সামনের পায়ের জোড়ার গিট পর্যন্ত ফিতা ধরে দৈর্ঘ্য বের করতে হবে। এরপর সামনের দুই পায়ের কাছ দিয়ে ফিতার সাহায্যে বুকের বেড় কত ইঞ্চি তা পরিমাপ করতে হবে। এটি প্রস্থ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তা সঠিকভাবে লিখে রাখতে হবে। এবার সূত্রে প্রয়োগ করে দ্রুত ওজন নির্ধারণ করতে পারবেন।

গরুর ওজন মাপার সূত্র
গরুর মোট ওজন= গরুর দৈর্ঘ্য X বুকের বেড় X বুকের বেড়/৬৬০
ধরা যাক, গরুটির দৈর্ঘ্য ৭০ ইঞ্চি এবং বেড় ৬০ ইঞ্চি। তাহলে গরুর আনুমানিক ওজন হবে (৭০X৬০X৬০)/৬৬০ = ৩৮১ কেজি (উল্লেখ্য, প্রধান সূত্রে পাউন্ডে হিসাব করা হয়েছে কিন্তু আমরা হিসাবের সুবিধার জন্য কেজিতে রূপান্তর করে ৬৬০ দ্বারা ভাগ করেছি)। এই সূত্রের সাহায্যে যে ওজন পাওয়া যাবে তা হলো গরুর নাড়িভুড়ি সহ সবকিছুর ওজন।

মোট ওজন থেকে মাংসের পরিমাণ নির্ধারণ পদ্ধতি.
অল্প সময়ে হাটের মধ্যে আপনি এই সূত্র ব্যবহার করে যা ওজন পেয়েছেন তার ৫৫-৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ওজনই হবে পশুটির মাংসের ওজন। এটি নির্ভর করবে গরুর শারীরিক গঠনের উপর, পেট খুব বেশি বড় না হলে অধিকাংশ গরুর শতকরা ৬৫ শতাংশ ওজনই মাংস হয়ে থাক।

এই সূত্রের মাধ্যমে ওজন নির্ধারণ সাধারণত ৯৫-১০০ ভাগই সঠিক হয়ে থাকে। তাই আপনি নিশ্চিন্তে এই সূত্র অনুসরণ করে পশুর ওজন নির্ধারণ করে ক্রয় করতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত দামে।

যদি আপনি নিজে ফিতা ধরে মাপতে গিয়ে ভয় বা সংকোচ করেন, সেক্ষেত্রে যারা গরুর বিক্রেতা তাদের দিয়েই ফিতার মাপটা আপনি দেখিয়ে নিতে পারবেন৷ যা আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং সহজ হবে।

লেখক: ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান
প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল
ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১২:২৫ অপরাহ্ন
আশুলিয়ায় ২ গরুসহ আটক ৫ চোর
প্রাণিসম্পদ

সাভারের আশুলিয়ায় অভিযান করে পাঁচ চোরকে দুই চোরাই গরুসহ আটক করেছে পুলিশ। তারা সবাই আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকার বিভিন্ন বাসায় ভাড়া থাকতো। কোরবানির সময় আসলে এমন চোরদের উৎপাত দেখা যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকৃতরা হলো- বগুড়া জেলার কাহলু থানার আরোলা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আলী আজম (৩০), একই জেলার সদর থানার কাঠনাল পাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে মকুল শেখ (৪৫), সাজাহানপুর থানার শাহাপাড়া গ্রামের মৃত নুর হোসেন মিয়ার ছেলে শাকিল হাসান (২০), একই জেলার নন্দী গ্রাম থানার শহরপুড়ী গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ (৩৮) ও আশুলিয়ার ধলপুর এলাকার ইমান আলী শেখের ছেলে সমেজ শেখ (৪০)। এদের ভেতর আব্দুল মজিদ ও আলী আজমের বিরুদ্ধে ১৪ টি চুরিরসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে৷

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার কাঠগড়ায় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চুরি হওয়া দুই গরুসহ তাদেরকে আটক করা হয়েছে। সেই সাথে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে৷

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন উর রশিদ জানান, কিছুদিন আগে আশুলিয়ার বাগবাড়ি থেকে গরু চুরি হয়। আজ সন্ধ্যায় সেই গরুগুলো দেখতে পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তারা সঙ্ঘবদ্ধ চোর চক্র।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১২:১১ অপরাহ্ন
রাজধানীতে আসছে কোরবানির গরু
প্রাণিসম্পদ

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা। আর এই ঈদুল আজহার অন্যতম আনন্দ হলো গরু কোরবানি। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউান। এর মধ্যেই কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলীসহ অন্যান্য হাটগুলোতে।

জানা যায়, অনেক ব্যবসায়ী গরু-ছাগল নিয়ে বসে আছেন। তবে, আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না। ক্রেতার উপস্থিতি কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দামও উঠছে না কোরবানির পশুর। বিক্রিও তেমন হচ্ছে না।’

মাহাতাব হোসেন নামের একজন জানান ‘আমি চারটি গরু নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে একটি গরু আকারে অনেক বড়। অনেকেই সেটা দেখতে আসছেন।’

তিনি বলেন, ‘এ গরুর বয়স এখন প্রায় তিন বছর। এ গরুর খাবারের জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।’‘এখনো দাম নির্ধারণ করিনি। তাছাড়া, অনেক বেশি দাম দিয়ে গরু কেনার মতো ক্রেতা এখনও হাটে আসেননি। তাই, অপেক্ষায় আছি বলে জানান তিনি।

গাবতলীতে গরু কিনতে আসা একজন ক্রেতা জানান, ‘হাট এখনও পুরোপুরি জমেনি। করোনার মধ্যেও এসেছি, কারণ কোরবানি তো দিতেই হবে। তাই, হাট পুরোপুরি জমে ওঠার আগেই যদি সম্ভব হয়, তাহলে গরু কিনে ফেলব। কারণ, শেষদিকে মানুষ অনেক বেশি হবে। তখন করোনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। এখানে এসে দেখি বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম চাইছেন। এখনও হাটে বেশি গরু আসেনি।’

গাবতলী পশুর হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন জানান, ‘গাবতলীতে বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই গরু পাওয়া যায়। তবে, ঈদকে ঘিরে চলে ভিন্ন রকম আয়োজন। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতা ততই বাড়বে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
কোরবানির পশু সুস্থ ও স্টেরয়েড মুক্ত কিনা বুঝবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

ডা. আব্দুর রহমান রাফি, শেকৃবিঃ যিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা পালিত হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী এ বছর জুলাই মাসের ২১ তারিখ বাংলাদেশের মানুষ ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন। ঈদুল আযহার অন্যতম একটি আনুষ্ঠানিকতা হলো পছন্দের পশুকে কোরবানি করা।

মুসলিমদের এই উৎসবে সামর্থ্যবানরা পছন্দমতো পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর কাছে তার তাকওয়া প্রদর্শন করে সামর্থ্যবানদের কোরবানি গরুর মাংসের একটি অংশ থাকে গরিবদের জন্য। আর এই কোরবানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সুস্থ ও সবল পশু নির্বাচন করা।

সারাদেশে ১ কোটিরও বেশি পশু কোরবানিতে জবেহ করা হয়। সবাই ভালো গরুটিই পছন্দ করতে চায়, এজন্যে সবার নজর থাকে গরুর স্বাস্থ্যের প্রতি। এই উৎসবকে পুঁজি করে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করে দ্রুত গরু মোটাতাজাকরণের দিকে ঝুঁকছে।

কোরবানির গরু সুস্থ ও রোগমুক্ত কিনা তা চেনার উপায়:

১) স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গরু স্বাস্থ্যবান দেখাবে কিন্তু এরা তেমন চটপটে হবে না। খুব বেশি নাড়াচাড়া করতে দেখা যাবে না। গরুর শরীরে আঙ্গুল দিয়ে হালকা চাপ দিলে ঢেবে যাবে। কিন্তু সুস্থ গরুর শরীরে আঙ্গুলের চাপ দিয়ে আঙ্গুল সরিয়ে নিলে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্বের অবস্থায় ফেরত আসবে।

২) পশুর চোখ উজ্জ্বল ও তুলনামূলক বড় আকৃতির হবে। অবসরে জাবর কাটবে (পান চিবানোর মতো), কান নাড়াবে, লেজ দিয়ে মাছি তাড়াবে। বিরক্ত করলে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সহজেই রেগে যাবে।

৩) সুস্থ গরুর নাকের সামনের কালো অংশ ভেজা থাকবে, অসুস্থ গরুর ক্ষেত্রে শুকনো থাকবে। এছাড়া অসুস্থ গরুর শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকে।

৪) সুস্থ গরুর গোবর স্বাভাবিক থাকবে, পাতলা পায়খানার মতো হবে না।

৫) সুস্থ গরুর সামনে খাবার এগিয়ে ধরলে জিহ্বা দিয়ে তাড়াতাড়ি টেনে নিতে চাইবে। অপরদিকে অসুস্থ পশু ভালোমতো খেতে চাইবে না।

৬) অসুস্থ গরু ঝিমায়, নিরব থাকে। খুব বেশি আশেপাশের কোলাহলে সাড়া দেয় না।

কোরবানির জন্য দেশে গরু,মহিষ, ছাগল প্রভৃতি পশু বা প্রাণীর চাহিদা ব্যাপক। পূর্বে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও অনেক পশু আমদানি করা হত। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, কোরবানির চাহিদা মোতাবেক দেশে এখন পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু বা প্রাণী রয়েছে। পশু ক্রয় থেকে শুরু করে মাংস ভক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে সর্বক্ষেত্রে। রোগব্যাধির প্রকোপ বেশি হলে প্রাণী চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।

কোরবানির পশু কেনার পর আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষই পশুর প্রতি বেশি দরদ দেখাতে গিয়ে জবাইয়ের পূর্বে বেশি করে খাবার খাওয়ায়, যা বিজ্ঞানসম্মত নয়। এতে করে মাংসের গুণগত মান কমে যেতে পারে৷ পশু জবাইয়ের ১২ ঘণ্টা পূর্ব থেকে পশুকে কোনো খাবার না দেওয়াই ভালো এবং বেশি করে পানি খাওয়াতে হবে৷ এতে করে চামড়া ছাড়ানো সহজ হবে৷

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১ ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
পঞ্চগড়ে চোরাকারবারির বাড়ি থেকে ভারতীয় গরু উদ্ধার
প্রাণিসম্পদ

পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধপথে দেদারছে আসছে গরু। জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশে কড়াকড়ি না থাকায় উভয় দেশের চোরাকারবারিরা নিয়ে ভারতীয় গরু নিয়ে আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ দুই চোরাকারবারির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ভারতীয় গরু উদ্ধার করেন।

গতকাল সোমবার (১২ জুলাই) পুলিশ অভিযান করে ভারতীয় গরু উদ্ধর করেন।

পুলিশ জানায়, জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী মালকাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে নিয়ে আসা এই পাঁচটি ভারতীয় গরু উদ্ধার করা হয়। মালকাডাঙ্গা এলাকার গরু চোরাকারবারী ডালিমের (৩৬) বাড়ি থেকে দুটি মাঝারি এবং তার ছোট ভাই মামুনের (৩২) বাড়ি থেকে তিনটি বড় আকৃতির ভারতীয় গরু উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। উদ্ধার গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। বর্তমানে গরুগুলো বোদা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী পাঁচটি ভারতীয় গরু উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর মামুন ও ডালিমসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। পরে গরুগুলোকে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১৩, ২০২১ ১০:১১ অপরাহ্ন
চামড়াখাত নিয়ে এবারও শঙ্কা
প্রাণিসম্পদ

গত বছর একেকটি গরুর চামড়া মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনেছেন মৌসুমি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ এলাকায় ছাগলের চামড়া বিক্রিই হয়নি। এরপর আবার সেই চামড়া আড়তে নিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বড় বিপদে পড়েছিলেন। প্রতিটি গরুর চামড়া ১০০ টাকা, এমনকি ছাগলের চামড়া ১০ টাকায়ও বিক্রি করতে হয়েছিল অনেককে।

ওই সময় চামড়া নিতে আড়তদারদের অনেক অনুরোধ করেন লোকসানে থাকা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাতে তেমন কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাগে-দুঃখে কেউ কেউ সড়কের ওপর চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে যান। এসব ঘটনা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন চামড়া আড়তেই ঘটেছে।

আসন্ন কোরবানি ঈদ নিয়ে চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঈদেও এমন পরিস্থিতির শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বরং এবার সেই আশঙ্কা আরও বেশি রয়ে গেছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

এর কারণ হিসেবে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে করোনার কারণে চাহিদা না থাকায় ট্যানারিগুলোতে এখনও ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার চামড়া জমে রয়েছে। যদিও রফতানি বাজার কিছুটা বেড়েছে। তারপরও পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে আরও সময় লাগবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রচুর চামড়া আমাদের গুদামে রয়ে গেছে। ২০১৯ সাল থেকে করোনার কারণে চায়নায় একই সময়ে একশ কন্টেইনারের বেশি অর্ডার বাতিল হয়েছিল। সে চামড়া বিভিন্ন উপায়ে বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে পরে। কিন্তু এর পরপরই ইউরোপের বাজারেও করোনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেক চামড়া কম দামে বিক্রি হয়েছে। লোকসান দিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।’

তিনি বলেন, ‘যদিও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রফতানির বাজার কিছুটা ভালো। ইউরোপ মার্কেট খুলেছে। বিক্রি ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি।’

আসন্ন ঈদে কি পরিস্থিতি দাঁড়াতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘আগামী বছর ভালো যাবে। এবারের ঈদ কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেই আসছে। চামড়া সংগ্রহ হবে, কিন্তু বিক্রি না করতে পারলে এত চামড়া কী করব? রফতানি এতটা বাড়েনি এখনও, যত চামড়া এখন ঈদে কেনা দরকার। নিজেদের অবিক্রীত চামড়াই বিক্রি হচ্ছে না।’

এদিকে যারা আড়তে কাঁচা চামড়া কেনেন, তাদের সংগঠনের অভিযোগ ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে। ওই সংগঠনের ভাষ্য, বাড়তি চামড়া মজুতের অজুহাতে তারা বাজারে বিপর্যয় তৈরি করছেন।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ট্যানারি বলছে তাদের চামড়া মজুত রয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো তাদের যথেষ্ট বিক্রি রয়েছে, অর্ডার হচ্ছে। ট্যানারি মালিকরা ২০ হাজার মজুত থাকলে বলে ৮০ হাজার আছে। কারণ কেউ তো দেখতে যায় না। এরা এসব বলে চামড়া কেনার টাকা আটকে রাখেন। বাজার ওঠে না।’

আসন্ন ঈদের পরে চামড়ার বাজার কেমন হবে এ প্রশ্নের জবাবে এ ব্যবসায়ীরাও শঙ্কার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা গত চার বছরের চামড়ার দাম বাবদ ১১০ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছেন আড়তদারদের কাছে। এ টাকা পরিশোধ করলে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক দামে চামড়া কিনতে পারবেন। বাজার ঠিক হবে।’

এদিকে গত বছর চামড়ার দাম খুব কমিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৫-৪০ টাকা। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর ২৮ থেকে ৩২ টাকা। যেখানে তার আগের বছর (২০১৯) এই দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা। অর্থাৎ গত বছর দাম কমানো হয়েছিল তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ। এ বছরও দাম বাড়ছে না বলে আভাস দিয়েছে একাধিক সূত্র।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহায় সম্ভাব্য কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা এক কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭২ লাখ ৫৬ হাজার।

গত বছর দাম নির্ধারণের পর তা নিয়ে অসন্তোষ ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে ঈদের পরে সেই দামও পায়নি মানুষ। চামড়া নিয়ে শুরু হয়েছিল বিপত্তি। অনেকে বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিয়েছে। চামড়ার এমন সংকট শুধু গত বছর নয়, ২০১৭ সালের পর থেকেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি সপ্তাহেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠকে চামড়ার দাম নির্ধারণ করবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা চামড়ার দাম এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এ বছর দাম নির্ধারণ হবে। ব্যবসায়ীরা দাম কমিয়ে নির্ধারণ করতে চাচ্ছে। ট্যানারি মালিকরা নির্ধারিত দামে কাঁচা চামড়া কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলছে, চামড়ার দাম ঠিক রাখতে ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে প্রায় ৩০ বছর পর। যদিও সেটা সীমিত পরিসরে শর্তসাপেক্ষে। গত ১০ জুলাই এক কোটি বর্গফুট চামড়া রফতানির অনুমতি পেয়েছে পাঁচটি ট্যানারি। প্রয়োজনে আরও কাঁচা চামড়া ও ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানি করা হবে।

এছাড়া ঈদের দিন থেকে দেশব্যাপী কঠোরভাবে বিষয়গুলো মনিটরিং করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত মনিটরিং টিম। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বছর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জেলা পর্যায়ে চামড়ার দাম মনিটরিং করবে।

চামড়া রফতানি বেড়েছে

এদিকে চার বছর পর সদ্য সমাপ্ত অর্থবছর প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে চামড়াজাত পণ্যের রফতানি। বাংলাদেশে করোনার প্রভাব থাকলেও এর প্রধান বাজার ইউরোপের দেশগুলোতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এ কারণে রফতানি আদেশও বেড়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, গত অর্থবছর (২০২০-২১) চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে আয় হয়েছিল ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। ফলে বছরের ব্যবধানে রফতানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ।

তথ্য বলছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে ১১৩ কোটি ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ১১৬ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ আয় আরও বেড়ে হয় ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে চামড়াশিল্প থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি আয়।

এরপর থেকেই ধস নামে এ খাতের রফতানিতে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা ১০৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলারে নেমে আসে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা আরও কমে ১০২ কোটি ডলারে নামে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা আরও কমে ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলারে নেমে আসে।

বড় সংকট ট্যানারি স্থানান্তরে

কয়েক বছর ধরে চামড়ার দামে এ বিপর্যয়ের আরেকটি বড় কারণ রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সে সমস্যা চামড়া শিল্পনগরী সাভারে স্থানান্তরে প্রকল্পের ধীরগতি। আবার শিল্পনগরীর কাজ অসম্পূর্ণ রেখে হাজারীবাগের ট্যানারি উচ্ছেদ।

সাভারে বিসিকের চামড়া শিল্পনগরীর যে প্রকল্প তিন বছরের মধ্যে শেষের কথা ছিল, তা ১৯ বছর পার হলেও শেষ হয়নি।

কিন্তু ২০১৭ সালে উচ্চ আদালত হাজারীবাগের চামড়া কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেন। ফলে সব কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বেশকিছু চামড়া কারখানার বৈশ্বিক প্লাটফর্ম লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ ছিল। এ সনদের সুবাদে তারা জাপান, কোরিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকায় চামড়া রফতানি করতে পারত। হাজারীবাগে কারখানা বন্ধ হওয়ায় সেই সনদ ও বায়ার (বিদেশি ক্রেতা) হারায় চামড়া শিল্প।

অন্যদিকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরী পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত না থাকায় এখনও এলডব্লিউজির সনদ লাভ ও নতুন বাজার সৃষ্টি হয়নি। ফলে সনদ না থাকায় চীন ছাড়া জাপান, কোরিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকায় এলডব্লিউজির ভিত্তিতে চামড়া রফতানি বন্ধ রয়েছে ২০১৭ সাল থেকে। মূলত তখন থেকেই চামড়া শিল্পে ধস নামে।

এ বিষয়ে সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘২০১৭ সালের আগ পর্যন্ত চামড়া রফতানিতে অগ্রগতি ছিল। এ শিল্পের কোনো মালিক উল্লেখযোগ্য ঋণ খেলাপি ছিলেন না। আসলে চামড়া শিল্পনগরীর স্থানান্তর যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। এ কারণে অসম্পূর্ণ রেখে একদিনে হাজারীবাগ থেকে ২২২টি ট্যানারি বন্ধ করা হয়। ফলে যাদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবসা ছিল, সেসব বায়ার চলে যায়। এখনও সে বাজার ফেরেনি।’

তিনি বলেন, ইতালি, স্পেন, কোরিয়া বা জাপান সীমিত আকারে নিলেও এলডব্লিউজির সার্টিফিকেট না থাকায় বড় বড় বায়ার আসেনি। এটাই মূল কারণ।

বড় পরিসরে চামড়া রফতানি প্রয়োজন

কয়েক দিন আগে স্বল্প পরিসরে চামড়া রফতানির সুযোগ দেয়া হয়েছে। চামড়া খাতের দীর্ঘ জটিলতা কাটাতে বড় পরিসরে রফতানি প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

গত বছরের চামড়া পরিস্থিতির পরে এ সংস্থাটি ঈদুল আজহায় পশুর কাঁচা চামড়া নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করে রফতানির সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করে।

সংস্থাটি বলছে, ঈদে চামড়া নষ্ট হচ্ছে যার বড় কারণ ছিল চামড়া কিনতে অনীহা। এছাড়া দেশের চামড়া প্রক্রিয়াকারী ট্যানারি মালিকেরা চামড়া কেনার জন্য বাজারে পর্যাপ্ত টাকা ছাড়েননি। এ জন্য তারা ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়াকে দায়ী করেছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে ট্যারিফ কমিশন তাদের সুপারিশে বলেছে, চামড়ার ন্যূনতম দাম ঠিক করে রফতানির সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এতে দেশের মানুষ ও খামারিরা উপকৃত হবে। চামড়ার চাহিদা তৈরি হবে।

সুত্র – জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop