হাওরে ধানের ঝুঁকি কমাতে আগাম জাতের ধানের চাষে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ
৯:২০ অপরাহ্ন
সমীরন বিশ্বাস :বিশ্বব্যাংকের হিসাবে জলবায়ুজনিত প্রভাবে ২০০৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন শতকরা তিনভাগ করে কমার আশঙ্কা রয়েছে। সম্মিলিতিভাবে ৪৫ বছরে যার আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে তিন হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। বিশ্বব্যাপী কার্বন নি:সরন কমিয়ে আনার লক্ষ্যে উন্নত দেশগুলোকে আরো অধিকতর মনোযোগী হতে হবে।পৃথিবীর বৈশ্বিক উষ্ণতা দৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নি:সরন কমাতে অবিলম্বে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহন কার জরুরী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগে ২২ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে লিডার সামিট অন ক্লাইমেট। এতে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ ৪০ দেশের নেতারা এতে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন সমাধনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর জোর দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।
ইতি মধ্যে ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম’ – সিভিএফ এবং ভি২০ (ভালনারেবল টুয়েন্টি) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু ঝুকিপূর্ন দেশগুলোর স্বার্থ সমুন্নত রাখাই প্রধান লক্ষ্য এই ফোরামের।এছাড়া গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের দক্ষিন এশিয়ার আঞ্চলিক অফিস বাংলাদেশে যে কারনে স্থানীয় ভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের সংঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টি প্রধান্য পাচ্ছে।
কার্বন নি:সরন কমাতে সুপারিশমালা:
১. অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ ভালসাম্য বজায় রাখতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুকিপূর্ন সম্প্রদায় গুরোর ক্ষয়-ক্ষতি পৃরনে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া।
২. বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অর্থায়নে বিশেষ ভাবে ছাড় দেয়া।
৩. গ্রীন অর্থনীতি ও কর্বন প্রশমন প্রযুক্তিগুলোর ওপর দৃষ্টি দেয়া এবং প্রযুক্তি বিনিময় করা।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আশা একটি বড় ইতিবাচক দিক এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে সফলতার আশা জাগায়।
ইতি মধ্যে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূর্যোগ মোকাবেলায় টেকসই জলবায়ু সহনশীল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষপ গ্রহন করা হয়েছে ।জলবায়ু পরিবর্তন সহনীয় টেকসই পদক্ষপ গ্রহনে বাংলাদেশ, কৃষি, জ্বালানি, শিল্প, ও পরিবহন খাতের পাশাপাশি নতুন খাত অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশ কার্বন নি:সরনে পদক্ষেপ নিয়েছে।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপি ৩০ মিলিয়ন গাছের চারা রোপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে ।কম-কার্বনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ‘মুজিব ক্লাইমেট প্রোসপারিটি প্ল্যান’ প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
লেখক : সমন্বয়কারী, সিসিডিবি, ঢাকা।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হঠাৎ ঊর্ধ্বগতিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কুমিল্লার তরমুজ ব্যবসায়ীরা। তরমুজের ভরা মৌসুম হলেও বিক্রি করতে না পারায় লোকসান গুনতে হচ্ছে জেলার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর।
বাজারে তরমুজের পাইকার নেই বললেই চলে। স্থানীয় বাজারেও ব্যবসায়ীরা তরমুজ উঠাতে পারছেন না। কেউ কেউ আবার বাজারে নিয়ে গেলেও ক্রেতা সংকটে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তরমুজ ব্যবসায়ীরা।
তনু মিয়ার। কুমিল্লার নগরীর পুলিশ লাইন এলাকার ফল ব্যবসায়ী, ১২ বছর ধরে তিনি এই এলাকায় তরমজু ব্যবসা করে আসছেন। গত মৌসুমে করোনার কারণে দোকানপাট বন্ধ ছিলো। এবার তাই রোজা ঘিরে ১ লক্ষ ২০ হাজার দুটি তরমুজের চালান বরিশাল থেকে নিয়ে আসেন। গত কয়েকদিনে মাত্র ১০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করছেন তিনি। ক্রেতা না থাকার এরইমধ্যে চালানের প্রায় ৪০ হাজার টাকার তরমুজ পচে গেছে। বাকিগুলোতেও দ্রুত পচন ধরবে।
জেলার দাউদকান্দি উপজেলার কয়েকজন তরমজু চাষিরা জানান, মৌসুমের এ সময়টায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে তরমুজ কেনার জন্য তাঁদের বাড়িতে ভিড় জমাতেন। অথচ করোনার কারণে এখন একজন ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকের কাছে তরমুজ কিনতে আসা তো দূরে থাক, তাঁদের খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না।
রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ মিয়া বলেন, ‘বর্তমানে আমার দোকানে প্রায় ২ই লাখ টাকার তরমুজ রয়েছে। কিন্তু কঠোর লকডাউনের কারণে ক্রেতা সংকটে সব তরমুজ অবিক্রিত পড়ে আছে।’
মরিচ একটি ভিটামিন সি মসলা জাতীয় ফসল। কাঁচামরিচ সবজি ও সালাদ হিসেবে এবং বিভিন্ন ধরনের ভাজি ও তরকারিতে ব্যবহৃত হয়।মরিচ ছাড়া আমাদের চলেই না! বাংলাদেশে জনপ্রিয় একটি ফসল মরিচ। মরিচ চাষ করে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছে, আবার চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সমুক্ষিন হচ্ছে বেশ কয়েকটি কারণে ।
মরিচ উৎপাদনে রোগবালাই একটি প্রধান প্রতিবন্ধক।এর মধ্যে অন্যতম মরিচের ফুল ঝরে যাওয়া।এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ফলন অনেক বৃদ্ধি পায়।একটি ভুল ধারণা হলো বোরন সার এর অভাবেই গাছে ফুল ঝরে যাওয়া। কিন্তু না, আরো অনেক কারণ রয়েছে ফুল ঝরার । চলুন জেনে নেয়া যাক মরিচের ফুল ঝরার কারণ এবং এর প্রতিকার।
মরিচের ফুল যেসব কারণে ঝরে পড়ে:
১) দিনের তাপমাত্রা ৩০℃ এর বেশি হলে এবং রাতের তাপমাত্রা ১৬℃ এর নিচে হলে ।
২) অতিবৃষ্টি হলে।
৩) গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে ।
৪) ফুল এর পরাগায়ন হতে না পারলে।
৫) ফুল আসা গাছে মাটিতে সার প্রয়োগ করলে ।
৬) NPK এর পরিমাণ কমে গেলে।
৭) শোষক জাতীয় পোকা( সাদামাছি, জাব , জ্যাসিড) যাদের খালি চোখে সহজে দেখা যায় না তাদের আক্রমণে ফুল ঝরে যায়।
৮) মাটিতে যদি বোরণ সার না দেয়া হয় তাহলেও ফুল ঝরে যাবে।
রোগের প্রতিকার
১) গাছের মাটি বেলে দোয়াশ হতে হবে এবং মাটির পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা ভালো থাকা জরুরি। গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে।
২) অতি পরিমানে কীটনাশক স্প্রে করলে উপকারী পোকা মারা যায়, তখন পরাগায়ন হয় না।
৩) সুষম পরিমানে সার প্রয়োগ।
৪) জাব পোকা, জ্যাসিড পোকা, সাদা মাছি, ইত্যাদি শোষক পোকার আক্রমণ রোধে ইমিডাক্লোপ্রিড স্প্রে ১মিলি/লিটার হারে স্প্রে করতে হবে ।
৫) হরমোন স্প্রে করা যেমন জিব্রেলিক এসিড অথবা ট্রায়াকন্টোনল ৭ দিন পর পর ৩-৪ বার।
তাছাড়া অন্যান্য ফল গাছের ফুল ঝরে পড়ার জন্য শোষক পোকা,অতি বৃষ্টিপাত , সার ব্যবস্থাপনা, বোরন সার এর ঘাটতি, পরাগায়ন এর অভাব, উপকারী পোকার মৃত্যু দায়ী।
মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ইশমাম
বিএসসি ইন এগ্রিকালচার( চলমান)
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল: [email protected]
বলেশ্বর নদে জেগে ওঠা বিহঙ্গদ্বীপে বনবিভাগের সংরতি বনাঞ্চলে গরু চরাতে বাধা দেওয়ায় বনবিভাগের বনরী (ওয়াসার) ছগিরকে (৫২) পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে একই এলাকার শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৬টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার সদর পাথরঘাটা ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বনবিভাগের তত্বাবধায়নে ওই বৃদ্ধকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত ছগিরের বাবার নাম মৃত তাছেন উদ্দিন।
আহত বনরী ছগির জানান, বিহঙ্গদ্বীপে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গরু চরানো নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও একই এলাকার হযরত আলীর ছেলে শাহিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে গরু ছেড়ে বনাঞ্চল নষ্ট করে। আমি অনেকবার তাকে নিষেধ করলেও মানেনি। এ কারণে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি থেকে ইফতারি নিয়ে বিহঙ্গদ্বীপে ডিউটিতে যাওয়ার পথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পথরোধ করে আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন।
পাথরঘাটা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শোনা মাত্রই আমরা আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিবো।
এখন পর্যন্ত এ রকমের কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুদ্দিন।
মৌমাছির কামড়ে গোপাল কিশোর পাল (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে। মৃত গোপাল উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে দিন মজুর নিয়ে নিজের ক্ষেতে কাজ করতে যান। দিন মজুরদের কাজে লাগিয়ে পাশের আরেকটি ক্ষেত দেখতে যান।সেখানে বাঁধা দুটি গরু মারামারি করার সময় মৌমাছির চাকে আঘাত লাগে। এতে চাক ভেঙে যায়। এ সময় চাকের মৌমাছি এসে গোপালকে কামড়াতে থাকে।
চিৎকার করে দৌড়াতে থাকলে লোকজন তাকে উদ্ধার করে । সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিছুদিন আগেও মাঠের পর মাঠ বাতাসে দোল খাচ্ছিল লিলিয়াম, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ ও গ্লাডিয়াসসহ নানা জাতের ফুল। এসব এলকার কৃষকরা ফুলের রঙে রঙিন স্বপ্নে বিভোর ছিল।
এছাড়া ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, লাউতলা ও কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড দুপুর গড়ালে ফুলে ফুলে ভরে যেত। এসব বাজারে প্রতিনিদন দূর-দূরান্ত থেকে ফুল কিনতে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ভিড় জমাতেন।ফুলচাষি আর ব্যাপরীর হাকডাকে মুখরিত থাকতো এসব এলাকা।তবে করোনার কারণে সে দৃশ্য পাল্টে গেছে।এসব স্থানে এখন আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। জেলার বড় ফুলের হাট গান্না বাজারও ফুলচাষি আর বিক্রেতার অভাবে খাঁ খাঁ করছে।
প্রায় লক্ষ টাকা খরচ করে তিন বিঘা জমিতে গাঁদা আর দুই বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা চাষ করেছিলেন কলিগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের শাহপুর ঘিঘাটি গ্রামের হোসেন আলী। সবে মাত্র ফুল উঠা শুরু হয়েছিল। সপ্তাহে গড় ৩০-৪০ হাজার টাকার ফুল বিক্রিও করছিলেন তিনি। আরও তিন মাস ফুল বিক্রি হতো। কিন্তু লকডাউনে সব বন্ধ হয়ে গেছে।
হোসেন আলী জানান, লকডাউনে ফুল বিক্রি করতে না পারায় দুই বিঘা গাঁদা ও এক বিঘা জমির রজনীগন্ধা ফুল তুলে ফেলেছেন।কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চিত জেনেই অধিকাংশ জমির ফুল তুলে ফেলেছেন তিনি।
দুই বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল চাষ করেছিলেন একই এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন। এক সপ্তাহ ধরে বেচাকেনা বন্ধ থাকায় জমিতেই নষ্ট হচ্ছে ফুল। এদিকে ফুল তুললে গাছ মরে যাচ্ছে। গাছ থেকে একবার ফুল তুলতে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হয়। পকেটের টাকা খরচ করে এভাবে ফুলগাছ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে ফুল গাছ তুলে ফেলতে হচ্ছে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এবছর ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় ১৭৩ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়েছিল। এরমধ্যে গাঁদা ১১৩ ও রজনী ২৪ হেক্টর, বাকি জমিতে অন্যান্য ফুল চাষ হয়েছে। গেল বছর এ জেলায় চাষ হয়েছিল ২৪৫ হেক্টর। প্রতিবছর সব থেকে বেশি ফুলের চাষ হয় সদর উপজেলার গান্না ও কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে।
গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়। ফলে ফুল বিক্রিতে ধ্বস নামে।এতে ফুলচাষিদের ব্যাপক লোকসান হয়।বিক্রি করতে না পারায় ফুলক্ষেত গরু ছাগল দিয়ে খাইয়েছিল।করোনার প্রভাব কিছুটা কমার পর চাষিরা নতুন করে ফুল চাষ শুরু করে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠার স্বপ্নে সবেমাত্র ফুল বিক্রি শুরু হয়।কিন্তু এবারো সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের শাহপুর ঘিঘাটি গ্রামের ফুলচাষি আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ফুল চাষ করেছিলাম। কিন্তু করোনা সব মাটি করে দিল।
ফুলচাষি শফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর করোনার আগে প্রায় দুই বিঘা জমিতে গরম জাতের গাঁদা ফুল ছিল। লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকায় বাজারে ফুল নিতে পারিনি। ফলে সব গাছ কেটে ফেলি। এতে লোকসান হয় দেড় লক্ষ টাকার মত। এবার সে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে গাঁদা ফুল চাষ করেছিলাম। কিন্তু আবারো স্বপ্ন ধুলিষ্যৎ হয়ে গেল।
জানা যায়, ১৯৯১ সালে ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সৌখিন কৃষক ছব্দুল শেখ সর্বপ্রথম ফুল চাষ করেন। ওই বছর মাত্র ১৭ শতক জমিতে চাষ করে ৩৪ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেন। এরপর এলাকায় ফুল চাষ বিস্তার লাভ করতে থাকে। সেখান থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে জেলার হাজার হাজার কৃষক ফুলচাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান হয়েছে নারী-পুরুষের।
সব থেকে বেশি ফুলচাষ হওয়া বালিয়াডাঙ্গা ও গান্না এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা পকেটের টাকা খরচ করে ক্ষেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিচ্ছে। অনেকে ফুল গবাদি পশুর খাবার হিসাবে ব্যবহার করছেন।
ত্রিলোচনপুর গ্রামের ফুলচাষি লিটন হোসেন জানান, এবছর আমার দুই বিঘা জমিতে লাল ও হলুদ গোলাপের চাষ ছিল। এছাড়া প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে রয়েছে বিদেশি ফুল জারবেরা। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার গোলাপ ও দুই হাজার জারবেরা তুলতাম। প্রতিটি ফুল গড় ৫ টাকা করে বিক্রি হত। কিন্তু করোনার কারণে কোনো বিক্রি নেই। এদিকে ফুল গাছে থাকলে গাছ নষ্ট হয়ে যায় তাই বাধ্য হয়ে খরচ করে ফুল তুলে ফেলে দিচ্ছি। এতে লাভের পরিবর্তে লোকসান হচ্ছে।
সদর উপজেলার গান্না বাজার ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দাউদ হোসেন জানান, ফুলের ভরা মৌসুমে করোনার হানায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কবে নাগাদ ফুল বেচাকেনা হবে তাও অনিশ্চিত। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ফুল গরু ছাগল দিয়ে খাওয়াচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিফতরের উপ পরিচালক মো. আজগর আলী জানান, করোনার কারণে ফুলচাষিরা চরম বিপদে পড়েছে। তারা ফুল বিক্রিও করতে পারছেন না। আবার ক্ষেতে রাখতেও পারছেন না। বাধ্য হয়ে গরু ছাগল দিয়ে খাওয়াচ্ছে। ফুলচাষ দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখলেও দ্রুত পঁচনশীল হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের কৃষকরা।
সূত্রঃ জাগো নিউজ
দেশের চার বিভাগের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এমন কালবৈশাখীর ঝড়ের আবাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
লিচু গাছে আম! অবিশ্বাস্য হলেও এমনটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা সদরের বালিয়া ইউনিয়নের (ছোট বালিয়া) মুটকি বাজার কলোনীপাড়ায়, আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বসতভিটায়। তার ৫ বছর আগে রোপনকৃত লিচু গাছে এমন দৃশ্য ফুটে উঠেছে। আর এমন খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে তা একনজর দেখার জন্য ভিড় জমে তার বাড়িতে। এনিয়ে এলাকায় সৃষ্টি চাঞ্চল্য।
এলাকাবাসী জানান, লিচুর গাছে আমের ফল বিষয়টি অবাক করার মতো। আব্দুর রহমান লিচুর গাছে আম ধরেছে এমন কথা তিনি বললে কেউ বিশ্বাস করতেন না। সবাই মনে করতো হয়তো তিনি লিচু গাছে কলম করে আম গাছের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু তা নয়। আব্দুর রহমানের কথা শুনে এলাকার কয়েকজন মানুষ বাড়িতে গিয়ে দেখেন সত্যিই লিচু গাছে লিচু ফলের সাথে আম ঝুলছে।
এব্যাপারে আব্দুর রহমান জানান, ৫ বছর আগে বাড়িতে লিচু গাছের চারাটি রোপণ করি। এবার লিচু গাছে আশানুরুপ মুকুল আসে। গাছ পরিচর্চা করতে গিয়ে চোখে পড়ে লিচুর সাথে একই ডালে একটি আমও রয়েছে। পরে বিষয়টি আশপাশে লোকদের জানালে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তিনি জানান।
খেজুর সকলেই চিনি এবং পছন্দও করি৷ তবে এতে যে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কত উপাদান রয়েছে, তা হয়ত আপনাদের জানা নেই৷ খেজুরের এতসব গুণের কারণে এই মিষ্টি ও রসালো ফল খাওয়ায় আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে৷ তবে খেজুরের অনেক উপকারিতার মধ্যে রয়েছে কিছুটা অপকারিতা।
জেনে নেয়া যাক খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে-
খেজুরের গুণাগুণ
রোজার সময় খেজুর ছাড়া ইফতার করার কথা যেন ভাবাই যায় না৷ খেজুর খেতে মিষ্টি এবং এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি এ কথা ঠিক৷ তবে এতে রয়েছে প্রচুর খাদ্যগুণ, যেমন ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ আয়রন এবং প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যা হৃদপিণ্ড এবং রক্তচাপের জন্য খুবই উপকারী৷ আরো রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম, অ্যামিনো অ্যাসিড৷ তাছাড়াও ট্রিপটোফেন-মেলাটনিন হরমোন যা, ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে৷
খেজুর মুহূর্তেই শরীরে শক্তি দেয়
শুকনো খেজুরের ওজনের শতকরা ৮০ ভাগই চিনি এবং সে কারণেই সরাসরি রক্তে চলে যায়৷ আর সে কারণেই শুকনো খেজুরকে মরুভূমির গ্লুকোজ বলা হয়ে থাকে৷
ব্লাড প্রেশার কমাতে সহায়তা করে
বিশেষজ্ঞের মতে, খেজুরে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ‘বি’ নার্ভকে শান্ত করে রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে৷
খেজুর মনকে আনন্দিত করে
খেজুরে রয়েছে অ্যামিনো অ্যাসিড ও ট্রিপটোফেন, যা সিরোটোনিন হরমোন তৈরিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এছাড়া এই মিষ্টি ফল মনে আনন্দের অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, খুশি রাখে৷
স্ট্রেস দূর করে
স্ট্রেস ও নার্ভাসনেসের কারণে মাথা ব্যথা হলে তা সহজেই দূর করতে পারে খেজুর৷ খেজুরে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, যা স্ট্রেস দূর করতে সহায়ক৷
হাড় শক্ত করতে খেজুর
ভিটামিন ‘কে’-তে ভরপুর খেজুর৷ হাড়কে মজবুত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে ভিটামিন ‘কে’৷
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খেজুর
মানসিক চাপ, রাগ বা অন্য অনেক কারণেই হঠাৎ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়৷ আবার এর সঙ্গে পেট ব্যথাও হয়ে থাকে অনেক সময়৷ এরকম পরস্থিতিতে শুকনো খেজুর খেলে খুব সহজে পেট পরিষ্কার হতে পারে৷ তবে সাথে প্রচুর পানি পান করতে হবে৷ একমাত্র তবেই সঠিক ফল পাওয়া সম্ভব৷
খেজুর যেভাবে রাখবেন
তাজা খেজুর সরাসরি ফ্রিজে রাখা ভালো এবং কয়েকদিনের মধ্যেই তা খেয়ে ফেলা উচিত৷ তবে শুকনো খেজুর বা খোরমা কিছুদিন রেখে খাওয়া যায়৷ তবে লক্ষ্য রাখতে হবে তাতে যেন পোকা বা ফাঙ্গাস না হয়৷ এরকমটা হলে খেজুর সাথে সাথেই ফেলে দেওয়া উচিত৷