১২:২০ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ১১ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১৫, ২০২১ ১:৪৫ অপরাহ্ন
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে এক মৌয়ালের মৃত্যু
প্রাণ ও প্রকৃতি

বাঘের আক্রমণে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে হাবিবুর রহমান মোল্যা নামে এক মৌয়াল নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) সকালে গহিন সুন্দরবনের হোগলডুগরিতে এ ঘটনা ঘটে। কৈখালী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হাবিবুর রহমান মোল্যা শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের মীরগাং গ্রামের আজিজ মোল্যার ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম জানান, কৈখালী ফরেস্ট স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে গত ৩ এপ্রিল হাবিবুর ও তার বাবা আজিজ মোল্যাসহ কয়েকজনের একটি দল মধু আহরণের জন্য সুন্দরবনে যান। অন্যান্য দিনের মতো গতকাল বুধবার সকালে দলটি মধু আহরণ করতে সুন্দবনের হোগলডুগরি এলাকার বনে প্রবেশ করলে হঠাৎ একটি বাঘ হাবিবুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে বনের গভীরে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে একপর্যায়ে বাঘটি হাবিবুরকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে সুন্দরবনের গহিন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে লোকালয়ে নিয়ে আসেন অন্যরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১৪, ২০২১ ৪:৫১ পূর্বাহ্ন
পার্বত্য আদিবাসীদের নববর্ষ উদযাপন
পাঁচমিশালি

সুলতান মাহমুদ আরিফ: প্রকৃতি নির্ভর আদিবাসী বলতেই উৎসব প্রিয় এক জনগোষ্ঠীকে বুঝানো হয়। বলা চলে,আদিবাসীরা জন্ম থেকেই বিভিন্ন উৎসবে মেতে থাকে সারা জীবন। এমনকি আদিবাসীরা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পরও মৃত দেহ নিয়ে মেতে উঠে উৎসবে। যার নাম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। মধ্যকথা আদিবাসীরা সামাজিক কালচার এবং ধর্মীয় মনোভাব এই দু‘টোর সংমিশ্রণে সারাজীবন উৎসবমুখর থাকে।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১২টি আদিবাসীদের বসবাস। তাদেরমধ্যে কেউ বৌদ্ধ, হিন্দু, খৃস্টান আবার কেউবা জড়-উপাসক। আর এরা সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্ম আর সংস্কৃতির ধারা মোতাবেক তাদের স্ব স্ব উৎসবগুলো পালন করে থাকে।

উপজাতীয় উৎসবগুলো বেশির ভাগ ঋতুর সাথে সম্পর্কিত। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের উৎসবের মহড়া বেজে উঠে। আদিবাসীদের দেহ মনে ঋতু পরিবর্তনে এক আনন্দের বার্তা জেগে উঠে। বিশেষ করে পুরাতন বছরের বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া যেন তাদের রক্তের সাথে মিশে থাকা এক মহানান্দ। কেবল পার্বত্য আদিবাসী না, পৃথিবীর বহু জাত এবং আদিবাসীরা পুরাতন বছরের বিদায়ের দিনক্ষণ এবং নতুন বছরের শুভ পদার্পনের দিনটিকে বেশ আনন্দময় করে পালন করে থাকে।

বাংলাদেশেও চৈত্র-সংক্রান্তি ও নববর্ষ একটি প্রাচিনতম ঐতিহাসিক ঋতুধর্মী উৎসব। বাংলাদেশে এই নববর্ষ তথা বাংলা নতুন বছরের আগমণে নানা রকম উৎসব হয়ে থাকে।  উৎসবগুলোর মাঝে অন্যতম হলো, হালখাতা, গরুর লড়াই, বলি খেলাসহ নানাবিদ আয়োজনের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা এই দিবসকে পালন করে আরো ভিন্ন আঙ্গিকে আর ভিন্ন পরিক্রমায়।

তাদের উলেখযোগ্য কয়েকটা গুরুত্ববহ উৎসব হল:
মারামা আদিবাসীরা পালন করেন‘সাংগ্রাই’, চাকমা এবং তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতির রয়েছে ‘বিজু’, ত্রিপুরা ও উসুই আদিবাসীরা পালন করেন ‘বৈসুক’। এছাড়াও ম্রো ও খুমীরা পালন করেন ‘ক্লুবং প্রাং’ উৎসব।

বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোতেও এসব উৎসব একইভাবে পালন করে সেই সকল উপজাতীয় জনগোষ্ঠীরা। তবে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে অহমীয়া বাঙ্গালি আর পার্বত্য চট্টগ্রামের মাঝে যেন এক মিলবন্ধনের দৃশ্যপট অবলোকন করা যায়।

নিম্নে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে পালিত হওয়া উপরে উল্লেখিত ৪টি উৎসব নিয়ে আলোকপাত করা হল।

১.মারামা আদিবাসীদের সাংগ্রাই’ উৎসব
মারমা আদিবাসীদের নববর্ষকে ঘিরে অন্যতম উৎসব হলো “সাংগ্রাই উৎসব”। পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণে তারা এই উৎসব পালন করে থাকে। এই উৎসব তারা প্রধানত ৪ দিনব্যাপী পালন করে থাকে। পুরাতন বছরের শেষ তিনদিন আর নতুন বছরের প্রথম দিন।

আর এই চার দিনকে মারমা‘রা তাদের ভাষায় নামকরণ করছেন, যথাক্রমে: সাংগ্রাই আকিয়ানিহ, সাংগ্রাই আক্রানিহ, সাংগ্রাই আতানিহ এবং লাছাইংতারা।

পুরাতন বছরের শেষের তিন দিনের প্রথম দিনকে মারমা ভাষায় বলা হয় ‘সাংগ্রাই আকানিয়াহ’। এই দিনে মারমা আদিবাসীদের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পোষাক পরে মিছিল করতে করতে তাদের বৌদ্ধমূর্তিকে নদীর ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তারা বৌদ্ধ মূর্তিকে চন্দন পানি অথবা দুধ দিয়ে গোসল করায়। তারপর আবার মূর্তিগুলোকে বাড়ি কিংবা মন্দিরে নিয়ে রাখে।

পুরাতন বছরের শেষ ২দিনকে বলা হয় যথাক্রমে-‘সাংগ্রাই আক্রাইনিহ এবং সাংগ্রাই আতানিহ’। এই দু‘দিনে মারমাদের মাঝে যেন নেমে আসে আনন্দের বন্যা। এই দু‘দিন তাদের পাড়ায় পাড়ায় চলে ‘পানি খেলা’ উৎসব আনন্দ। এই দু‘দিনে তারা একেঅপরকে পানি দিয়ে ভিজানোর মাধ্যমে পুরাতন বছরের সকল ব্যর্থতা আর নতুন বছরকে স্বচ্চতার অবয়বে বরণ করে নিতে চাই। এরপর আসে নতুন বছরের প্রথম দিন ‘লাছাইতারা’। এই দিনকেও তারা খুব আনন্দে গ্রহণ করে নেয়। তবে মারমাদের এই দিনে কোন পানি উৎসব হয় না।

সাংগ্রাই উৎসব যেন মারমাদের মনের মাঝে এক অন্যরকম আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। মারমা আদিবাসী মেয়েরা এই ৪দিনের সাংগ্রাই উৎসব শুরুতে আগে বৌদ্ধমন্দিরগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে নেয়। নিজেদের ঘরবাড়িগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখে। মারমা আদিবাসী সাংগ্রাই উৎসবে যেভাবে আনন্দ আর সাজ গোঁজ করে, বছরের আর কোন দিনে তাদের এমন সাজ দেখা যায় না।

এই সাংগ্রাই উৎসব কেবল পার্বত্য চট্টগ্রাম না, প্রতিবেশি রাষ্ট্র মায়ানমারসহ ভিবিন্নদেশে পালিত হয়।

২.চাকমা আদিবাসীদের ‘বিঝু’ উৎসব
নববর্ষকে বরণ করে নিতে চাকমারা পালন করে ‘বিঝু’ উৎসব। এই বিঝু উৎসব চলে তিনদিন ধরে বিভিন্ন আনন্দের মধ্য দিয়ে। প্রতি বছর এই সময় চাকমা জনপদে বি-ঝু-বি-ঝু এক ধরণের পাখির কলকাকলির মত আওযাজ স্মরণ করিয়ে দেয় নতুন বছরের আগমনী বার্তা। ঘরে ঘরে সাড়া পড়ে যায় আনন্দের সমারোহ। সবাই মাতোয়ারা থাকে তিনদিন ব্যাপি বিঝু উৎসব পালনে।

চাকমারা পর্যায়ক্রমে তিনদিন এই উৎসব পালন করে থাকে। মারমাদের মত চাকমাদেরও এই তিনদিনের রয়েছে নিজস্ব নাম। চাকমাদের এই উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিঝু’ আর দ্বিতীয় দিনকে বলা হয় ‘মূল বিঝু’ এবং তৃতীয় দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের দিনকে বলা হয় ‘গোজ্যাই পোজ্যা’।

নিম্নে চাকমাদের এই তিনদিন উৎসবের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল-
ফুল বিঝু: চাকমাদের ভাষায় চৈত্রের শেষ দু‘দিনের প্রথম দিনকে বলা হয় ‘ফুল বিঝু’। এই দিনটাকে ফুল বিঝু বলার রহস্য উম্মোচনে কেউ কেউ বলেন, এই দিনে চাকমারা নদীর ঘাটে গিয়া জলদেবী গংগার উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে পূজা করে বিধায় এই দিনকে বলা হয় চাকমাদের ভাষায় ‘ফুল বিঝু’। এই দিনটা চাকমাদের কাছে খুবই পবিত্র একটা দিন। এই দিনে চাকমা যুবক-যুবতীরা নদী থেকে পানি এনে বুড়া-বুড়িদের গোসল করিয়ে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নিয়ে থাকে। পবিত্র মন নিয়ে সবাই বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে রাতে পূজা আর্চনা করে থাকে। রাতে তারা আবার প্রদীপ পূজাও করে থাকে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে তারা এই দিনটাকে পালন করে থাকে।

মূল বিঝু: পুরাতন বছরের তথা চৈত্রের শেষ দিনকে চাকমারা বলে ‘মূল বিঝু’। চাকমারা এই দিনে প্রায় পাঁচ পদের তরকারী দিয়ে বানায় পাচন তরকারী উৎসব। এই দিনে চাকমারা বিভিন্ন ধরণের পিঠা তৈরী করে। সকাল থেকেই প্রতিটা ঘরে চলে তাদের ভোজন উৎসব। চাকমাদের এই দিনে কেউ কাউকে নিমন্ত্রণ করে না। সবাই সবার মত করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে খাওয়া উৎসবে যোগদান করে আনন্দ করে। এই দিনে তারা মদ পরিবেশন করে থাকে। মেয়েরা তাদরে কোমরে বোনা রাঙা খাদি জড়িয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়। বলা চলে অনেক আনন্দ আর উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা এই দিনটা তথা পুরাতন বছরকে বিদায় জানায়। এদিন কেবল আনন্দ করা ছাড়া তারা আর কোন কাজ করে না।

গোজ্যাই পোজ্যা দিন: নতুন বছরের প্রথম তথা পহেলা বৈশাখকে চাকমারা বলে গোজ্যাই পোজ্যা দিন। চাকমাদের ভাষায় গোজ্যা পোজ্যা অর্থ গড়াগড়ি করা। অতীতে এই দিনে চাকমারা প্রচুর মদ পান করতো। এই দিনের ধারণা ছিলো এটি বছরের প্রথম দিন, তাই এই দিনে যদি ভালো খাওয়া হয়, বছরের প্রতিটা দিন ভালো খাওয়া হবে। তাই তারা এই দিনে প্রচুর ভোজনের আয়োজন করে। তারপর বিছানায় গড়াগড়ি করে থাকে। এই দিনে তারা হাসি তামাশায় কাটিয়ে দেই। অনেকে আবার বৌদ্ধমন্দিরে গিয়ে এই দিনে ধর্মকর্মে ব্যস্ত থাকে।

৩.ত্রিপুরা আদিবাসীদের ‘বৈইসুক/বৈইসু’ উৎসব
পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরা আদিবাসী সমাজে পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগতম জানানোর উৎসবকে বলা হয় ‘বৈইসুক/বৈইসু’। এই উৎসব তারা তিনদিন পর্যন্ত পালন করে থাকে। এই দিনে তারা হাসি আর আনন্দের পাশাপাশি শিবের আশীর্বাদ কামনা করে থাকে। তাদের ধারাবাহিক তিনদিনকে তাদের ভাষায় বলা হয় ‘হারি বৈইসুক, বিসুমা এবং বিসিকাতল’।

হারি বৈসুক: চৈত্র-সংক্রান্তির পূর্বের দিনকে তারা ‘হারি বৈইসুক’ হিসাবে পালন করে। এই দিনে তারা তাদের সকল গবাদি পশুদের গোসল করায়। আবার অনেকে বিভিন্ন রকমের ফুলের মালা দিয়ে তাদের গবাদি পশুদের সাজিয়ে রাখে। খুব ভোরে নদীর ঘাটে গিয়ে তারা দেবতার উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে আসে এই দিনে।

বিসুমা: চৈত্র-সংক্রান্তির দিনকে ত্রিপুরা আদিবাসীরা ‘বিসুমা’ দিবস হিসাবে পালন করে থাকে। এই দিনে খুব প্রত্যুষে তারা তাদের বাড়ি-ঘর এক ধরণের কচুই পানি দিয়ে পরিশুদ্ধ করে থাকে। প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে তারা বিভিন্ন ধরণে পিঠা উৎসব করে থাকে। এই দিনে বিশেষ মুখরোচক খাদ্য হল ‘পচন’ (হাঙ্গর মাছের শুটকিসহ পাঁচ পদের তরকারি দিয়ে এই পচন রান্না করা হয়)। তারা এই দিনে ঘরে ঘরে মদও তৈরী করে থাকে। অতিথিদের এসব পিঠা, পচন আর মদ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এই দিনে তারা সবাই রাগ-অভিমান ভুলে গিয়ে আন্তরিকতার মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।

বিসিতকাল: নববর্ষের প্রথম দিনকে ত্রিপুরা আদিবাসীরা ‘বিসিতকাল’ নামে পালন করে থাকে। এ দিনে সকাল থেকে তাদের ঘরে ঘরে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে সবাই। প্রত্যুষে নব দম্পতিরা কিংবা ত্রিপুরা যুবক-যুবতিরা নদীর ঘাট থেকে পানি এনে তাদের গুরুজনদের গোসল করানোর মাধ্যমে আশীর্বাদ নিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

উপরোক্ত এই তিন আদিবাসী উৎসব যদিও ভিন্ন ভিন্ন। তথাপি পুরো পার্বত্য জেলায় এই তিনটা উৎসব তথা মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ চাকমাদের ‘বিঝু’ আর ত্রিপুরাদের ‘বৈইসুক‘কে এক সাথে বলা হয় ‘বৈসাবি’। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এখানে ‘বৈ’ এসেছে ত্রিপুরা আদিবাসী ‘বৈইসুক’ থেকে, ‘সা’ এসেছে মারাম আদিবাসী ‘সাংগ্রাই’ থেকে আর ‘বি’ এসেছে চাকমা আদিবাসী ‘বিঝু’ থেকে।

বছরের শেষ দু‘দিন আর নতুন বছরের প্রথম দিনই মূলত তাদের বর্ষবরণ উৎসব ‘বৈসাবি’ পালন করা হয়। আর এই বৈসাবি উৎসবে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় নেমে আসে আনন্দের মহড়া। এই তিন আদিবাসী উৎসবকে ঘিরেই মূলত পালিত হয় নববর্ষ উদযাপনের চিত্র।

এছাড়াও নতুন বছরকে বরণ আর পুরাতন বছরকে বিদায়ে আরো একটি আদিবাসী উৎসবমুখর আয়োজন করে থাকে। তারা হলেন ‘ম্রো ও খুমী’ আদিবাসীরা। তারা এই দিনে ‘ক্লুবং প্লাই’ নামক উৎসব পালন করে। চৈত্র মাসের শেষ দিন তারা ফুল-পূজা করে। বনের নানা রঙের ফুল এনে তারা তাদের বাড়ি ঘরসহ নিজেরাও সাজে। ১লা বৈশাখে তারা বুড়ো-বুড়ীদের স্নান করায়। তারপর তারা পচন রান্না করে। এই দিনে তারা নৃত্যগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। যুবতীরা এই দিনে দাঁতে প্রাকৃতিক রঙ লাগিয়ে নৃত্যগীত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। আর যুবকরা তাদের ‘প্লু’ তথা বাঁশী বাজিয়ে আনন্দে মেতে উঠে।

সুলতান মাহমুদ আরিফ
শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মী।
[email protected]

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২১ ১২:২৪ অপরাহ্ন
লাল ও মিষ্টি তরমুজ চেনার উপায়
কৃষি বিভাগ

মিষ্টি তরমুজ কিভাবে চিনব? এই প্রশ্ন এখন খুবই কমন কারণ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে রসালো ফল তরমুজ। এই গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা তরমুজের রস দূর করতে পারে ক্লান্তি। তরমুজ শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে। শরীরে এনার্জি তৈরি করে দেয়। গরমে এই ফলটির চাহিদাও তেমনই থাকে। তরমুজে ২১ শতাংশ ভিটামিন সি, ১৮ শতাংশ ভিটামিন এ, ৫ শতাংশ পটাশিয়াম, ৪ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম এবং ৩ শতাংশ ভিটামিন বি১, বি৫ এবং বি৬ আছে। ত্বক ও চুল প্রাকৃতিভাবে সুন্দর রাখে তরমুজে থাকা ভিটামিন এ ও সি। এর অ্যা‌ন্টিঅ‌ক্সি‌ডেন্ট ক্যান্সার প্র‌তি‌রোধী ও  তারুণ্য ধ‌রে রাখ‌তে খুবই  কার্যকরী।

তবে তরমুজ কিনতে গিয়ে ঠকে যাবেন না আবার! অনেক সময় বাইরে থেকে দেখে ভালো মনে হলেও কাটার পর দেখা যায় তরমুজ ফ্যাকাশে, খেতেও পানসে।

জেনে নিন কীভাবে চিনবেন লাল এবং মিষ্টি তরমুজঃ

১: তরমুজের মাথার দিক খেয়াল করুন। যদি দেখেন হলুদ রঙ ধরেছে, তাহলে তাহলে বুঝবেন তরমুজ পাকা।

২: তরমুজ হাতে নিয়ে দেখুন। যদি ভিতরটা ফাঁপা মনে হয় তাহলে বুঝবেন তরমুজ এখনও কাঁচা রয়েছে। পাকা তরমুজে প্রচুর রস থাকে। ফলে তরমুজ ভারি হয়।

৩: তরমুজের গায়ে টোকা দিন। অতিরিক্ত ভারি আওয়াজ (ঠন ঠন অাওয়াজ) হলে বুঝবেন তরমুজ বেশি পেকে গেছে।

৪ঃ তরমুজের আকৃতি খেয়াল করুন। যদি তরমুজ পুরো সমান হয়, তাহলে বুঝবেন পাকা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৫ঃবাইরের উজ্জ্বল রঙ দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। পাকা তরমুজ সাধারণত গাঢ়, কালচে হয় দেখতে। চকচ‌কে উজ্জল রং হ‌লে সে‌টি কাঁচা তরমুজ।

৬ঃ খুব বড় বা খুব ছোট তরমুজ না কিনে মাঝারি আকারের তরমুজ কেনাই ভালো।

 

সতর্কতা ঃ রাস্তার মোড়ে মোড়ে বা বাজারে খোলা অবস্থায় রাখা কাটা তরমুজ খাবেন না। তরমুজ কেটে ফ্রিজে ভরে রাখবেন না। এতে খাদ্য উপাদান কমে যায়। যেকোন ফল কেটে খোলা অবস্থায় রাখবেন না। এতে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। তরমুজে শাঁস অধিক লাল করার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম রং ভিতরে প্রবেশ করিয়ে থাকে এমন তরমুজ কিনবেন না খাবেন না। তরমুজ কাটার পর শাঁস হাতে লাগলে কিছু রং হাতে লাগে এ তরমুজটি খাবেন না।

কতটুকু খাবেনঃ তরমুজের এত গুণ থাকা সত্ত্বেও একবারে খুব বেশি তরমুজ খাওয়া ঠিক নয়। গবেষক ও পুষ্টিবিদেরা বলেন, ১০০ গ্রাম তরমুজে ৩০ ক্যালরি থাকে। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রামে ৩.৩ গ্রাম চিনি থাকে। তরমুজে যেহেতু পানির পরিমাণ বেশি, তাই ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত তরমুজ খাওয়া অনেকের কাছে সহজ মনে হতে পারে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
ধানে হঠাৎ চিটা হওয়ার কারণ ও সমাধান
কৃষি বিভাগ

বোরো ধান উৎপাদনে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব –
মার্চ মাসের ৩য় সপ্তাহ থেকে দিনের বেলার তাপমাত্রা প্রায়শই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়েও বেড়ে যাচ্ছে। যা ধানের ফুল ফোটা পর্যায়ে চিটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ধান গাছের জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের তাপমাত্রায় গাছের বাড়-বাড়তি প্রভাবিত হয়। আমাদের দেশে চাষকৃত জাতসমূহ সাধারনত: ২০-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রায় বৃদ্ধি ও উন্নয়ন সবচেয়ে ভালো হয়। তাপমাত্রা এর চেয়ে উপরে বা নিচে চলে গেলে ধান গাছের বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ব্যহত হয়।
তবে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সাধারনত: প্রজনন পর্যায় যথাঃ শীষ গঠন ও ফুলফোটা/পরাগায়ন এবং দানা ভরাট/গঠন পর্যায়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর চেয়ে বেশী হলে ধানে চিটা সমস্যা ও দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয়।
ধানের বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও ফুলফোটা পর্যায়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর চেয়ে বেশী হলে ধানে চিটা সমস্যা দেখা দেয়।
সাধারনত: ফুলফোটা পর্যায়ে দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর বেশী হলে ঐদিন যে ফুলসমূহ ফুটবে তা চিটা হয়ে যাবে এ কারনে সম্পূর্ন শীষ চিটা হবে না।
আমাদের দেশে দীর্ঘ জীবনকালের বোরো ধানের জাত সমূহ, নাবী বোরো ও আউস ধানে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে চিটা সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও এসময়ে চাষকৃত জাতসমূহ রাত্রীকালীন উচ্চ তাপমাত্রা এবং ঝড়ের কারণে দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও দানা কালো বর্ণ ধারণ করে ফলে বীজ ও ধানের মান এবং ফলন কমে যায়।
উচ্চ তাপমাত্রার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাবঃ
প্রজনন পর্যায়ে অতি উচ্চ তাপে (৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) শিষে ধানের সংখ্যা কমে যেতে পারে।
ফুল ফোটা পর্যায়ে অথবা পরাগায়ণের সময় উচ্চ তাপে (৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) ধানের পরাগায়ন বাধাগ্রস্থ হয় ফলে চিটার সংখ্যা বেশী হয়।
রাত্রীকালীন উচ্চ তাপমাত্রা (২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা এর বেশী হলে) ও ঝড়ের কারণে দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও দানা কালো বর্ণ ধারণ করে।
ফুল ফোটা পর্যায়ে অথবা পরাগায়ণের সময় ইট-ভাটার আশে-পাশের জমিতে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবের কারণে ধানের শীষ আগুনে-ঝলসে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা যায় ফলে চিটার সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে যায় ও দানার পুষ্টতা বাধাগ্রস্থ হয় ও ফলন ব্যাপকহারে কমে যায়।
ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যবস্থাপনাঃ
চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রা প্রাকৃতিক বিধায় প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে বোরো ধানের জাত নির্বাচন এবং এদের বপন ও রোপন সময় সমন্বয় করে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
স্বল্প জীবনকালের বোরো ধানের জাত যথা: ব্রি ধান২৮, অগ্রহায়ন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বপন এবং ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপন করে প্রজনন ও ফুল ফোটা পর্যায়ে চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
দীর্ঘ জীবনকালের বোরো ধানের জাত সমূহ যথা: ব্রি ধান২৯ ও ব্রি ধান৫৮, কার্তিক মাসের ৩য়-৪র্থ সপ্তাহের মধ্যে বপন এবং ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপন করে প্রজনন ও ফুল ফোটা পর্যায়ে চৈত্র ও বৈশাখ (এপ্রিল) মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব এড়ানো সম্ভব।
জমিতে সেচ প্রদান করে এবং পানি ধরে রেখে চৈত্র ও বৈশাখ মাসের উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব কিছুটা কমানো যেতে পারে।
ধানের জমির আশে-পাশে ইট-ভাটা স্থাপনের অনুমোদন না দেওয়া অথবা ইট-ভাটার আশে-পাশে ধান চাষ না করা।
উচ্চ তাপমাত্রা সহিষ্ণু ধানের জাত চাষ করতে হবে।
এসময় করণীয়:-
ক)জমিতে পানি ধরে রাখুন।
খ) কাইচ থোর পর্যায়ে পটাশ, জিবি বোরন, মাইটিভিট, জিবি জিংক এবং কেমোজল জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে পারেন।
গ) ১০লিটার পানিতে ৬০গ্রাম পটাশ সার+৬০গ্রাম মাইটিভিট একত্রে মিশিয়ে ৫শতক জমিতে স্প্রে করতে পারেন।
বিস্তারিত পরামর্শের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে অথবা ইউনিয়ন/ ব্লক পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিন।
তথ্যসূত্র :
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)
শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২১ ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
বগুড়ায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার!
প্রাণ ও প্রকৃতি

বিষ দিয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীতে অবাধে শিকার হচ্ছে চিংড়ি মাছ। আর এতে করে প্রাকৃতিকভাবে বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে চিংড়ি। শুধ মাছ নয়, পানি বিষাক্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অন্যান্য জলজ প্রাণিও। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অসাধু চক্র এভাবে মাছ শিকার করে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আইনের প্রয়োগ না থাকায় যমুনা নদীতে বিষ দিয়ে চিংড়ি মাছ শিকার বন্ধ হচ্ছে না। সম্প্রতি বিষ দিয়ে মাছ শিকার বেড়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অসাধু চক্র এভাবে মাছ শিকার করে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এসব কীটনাশক যেখানে প্রয়োগ করা হয়, সেখানে ছোট-বড় সব মাছ মারা যায়। সেখান থেকে শুরু বড় মাছগুলো সংগ্রহ করে চক্রটি। ছোট মাছগুলো তারা নেয় না। কিন্তু এই ছোট মাছগুলো নদীতে বড় মাছের খাবার। ফলে ওই এলাকার খাদ্যচক্রেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মাছের খাবার নষ্ট এবং মাছের বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিষ দিয়ে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ শিকার করছে।

যমুনাপাড়ের ভাণ্ডারবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ (বিষ) যা পানিতে প্রয়োগ করলে মাছ গভীর পানি থেকে ওপরে উঠে আসে। এসব মাছের বেশিরভাগই চিংড়ি। বিষয়ক্রিয়ায় অসংখ্য চিংড়ি ভাসতে থাকে। তখন যে কেউ সহজে মাছ ধরতে পারে। এসব মাছ হাতজাল, ঠেলাজাল, চালুনি কিংবা মশারি দিয়ে ধরা হয়। জালে বড় মাছগুলো আটকা পড়লেও ছোট মাছগুলো মরে নদীতে ভেসে ওঠে। ওরা সমাজের প্রভাবশালী শৌখিন মাছ শিকারি। এ কারণে স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ‘যমুনায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য ভীষণ হুমকিস্বরূপ। উন্মুক্ত জলাশয়ে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাসুদ রানা সরকার বলেন, ‘যমুনা নদীতে বিষ প্রয়োগের কারণে মাছ মারা যায়। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে প্রস্তুত মাছের খাদ্য ও প্রজনন নষ্ট হয়। কিন্ত অপ্রতুল লোকবল দিয়ে যমুনায় পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তার পরও যতটুকু সম্ভব আইন প্রয়োগ করার চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৬, ২০২১ ২:২৮ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের ধরলার চরে সূর্যমূখীর হাসি
প্রাণ ও প্রকৃতি

হলুদ রঙের নান্দনিক একটি ফুল সূর্যমুখী। দেখতে সূর্যের মত এবং সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, তাই ফুলকে সূর্যমুখী বলে। সূর্যমুখী থেকে তৈরি তেলও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ। বিশ্বেজুড়েই সূর্যমুখী তেলের চাহিদা এখন ব্যাপক। আমাদের দেশেও ক্রমশ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখীর তেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুবই কম এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। এই তেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখী চাষের চিত্রটুকু তুলে ধরার প্রয়াসে ‘দেশজুড়ে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ’ শীর্ষক ধারাবাহিক প্রতিবেদন তুলে ধরা হচ্ছে। আজ থাকছে কুড়িগ্রাম জেলায় সূর্যমুখী চাষের চিত্র-

কুড়িগ্রামে ধরলার চরে সূর্যমূখীর হাসি। ধরলার চর মাধবরাম। গত বন্যায় এই গ্রামের পুরোটাই ডুবেছিলো থৈ-থৈ পানিতে। উজানে জগমোহনের চরে ছিলো প্রলয়ঙ্করী ভাঙন। তাই বালুপড়ে অনাবাদী হয়েছে এই চরের শত-শত একর জমি। এবার সেই বালুকাময় জমিতে সূর্যমুখীর হাসি দেখে বুক ভরে গেছে কৃষকের। সারি-সারি হৃষ্টপুষ্ট সূর্যমুখী গাছের ডগায় বড়-বড় আকারের ফুল। যেন দিগন্তজুড়ে হলুদের উৎসব।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, কুড়িগ্রামের চর ভূমিতে সুর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করে চরের কৃষকের ভাগ্য বদলে যাবে। সেই সঙ্গে বদলে যাবে অনুন্নত এই জেলার অর্থনৈতিক চিত্র।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে রয়েছে ১৬টি নদ-নদী আর ৫ শতাধিক চর। এই চরের পতিত জমিতে সূর্যমূখী চাষ করে সাফল্য পাচ্ছে চাষীরা। বাড়ছে আবাদ। এতে করে একদিকে যেমন আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে পতিত অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষক।

গতবছর জেলায় ২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হলেও এবার আবাদ হয়েছে ২০০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে ২ টন সূর্যমূখী তেলবীজ উৎপাদন হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের দাম ৮০ টাকা। সে হিসেবে এবার জেলায় কমপক্ষে ৩২ কোটি টাকার সুর্যমুখীর তেলবীজ বিক্রি হবে। দাম বাড়লে এই অংক আরো বাড়বে।

কৃষকরা জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচ পড়ে ৫০-৬০ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার তৈলবীজ। নভেম্বরে বীজ বোনার পর মার্চে ফসল ঘরে ওঠে।

তারা জানান, সূর্যমূখী থেকে পাখির খাবারের পাশাপাশি কোলস্টরেল মুক্ত তেল উৎপাদন করে ক্ষতিকর পামওয়েল ও সয়াবিন এর স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রেহাই পাবেন ভোক্তারা। আর সুর্যমুখীর গাছে চাহিদা মিটছে জ্বালানির। ইতিমধ্যে ভালো মার্কেটিং-এর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সূর্যমূখী চাষ করে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

কুড়িগ্রাম পুরাতন হাসপাতাল পাড়ার কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক সদর উপজেলার চর মাধবরামে গত দু’বছর ধরে চরের জমিবিঘা প্রতি ৫-৬ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে সূর্যমূখির চাষ করেছেন। গতবছর ২১ বিঘা জমিতে আবাদ করে এক লাখ টাকা লাভ করেছেন। এবার ৫০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন সূর্যমুখী। খরচ পড়েছে ৪ লাখ টাকা। প্রায় সব গাছে ফুল ধরেছে। ক্ষেতের অবস্থা দেখে এবং এবছর বাজার ভালো থাকায় উৎপাদন খরচের তিনগুণ টাকা লাভের আশা করছেন। তার সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছেন সুর্যমুখী চাষের দিকে। এদের একজন লালমিয়া।

তিনি জানান, চরের জমিতে সূর্যমুখীর ভালো ফলন দেখে তারাও উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় চাষ করেছেন সুর্যমূখীর। ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে বাণিজ্যিকভিত্তিতে সুর্যমুখীর চাষ বাড়বে বলে জানান কৃষকরা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষি অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, সদর উপজেলার ২০ একর জমিতে এবছর সূর্যমুখীর চাষকরেছেন চাষীরা। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের বীজ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার াজানান, বন্যার পর চর এলাকার বালুকাময় অনেক জমি পতিত থাকে। ফসল চাষের চেষ্টা করে লাভবান না হয়ে উল্টো ক্ষতিরমুখে পড়ে চাষীরা। এসব জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তাই আগামীতে জেলার চরাঞ্চলের পতিত জমি গুলোকে চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, জেলার ৪৬ হাজার চরভূমির বেশির ভাগে সুর্যমুখী চাষের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। জেলার দারিদ্র্য বিমোচনে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার আব্দুল ওয়াহেদ জানান, রংপুর অঞ্চলে এবার ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুর্যমুখীর চাষ হয়েছে। যা গতবছরের চেয়ে চারগুণ বেশি। বর্তমানে দেশে ভোজ্যতেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। সরিষা চাষে সময় মেলানো কঠিন হয়, ফলনও কম। সরিষার চেয়ে সুর্যমুখীর বাজারও ভালো। ভালো মাকের্টিং করতে পারলে এবং উদ্যোক্তরা তেল উৎপাদনে এগিয়ে আসলে সূর্যমুখী তেল দিয়েই দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা অনেকাংশে মেটানো সম্ভব।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৬, ২০২১ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
তরমুজের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ
কৃষি গবেষনা

গ্রীষ্মকালের জনপ্রিয় সুস্বাদু ফল তরমুজ বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এই ফলের ৯২ ভাগই পানি। ৬ ভাগ চিনি এবং অন্যান্য উপাদান ২ ভাগ রয়েছে। এটি ভিটামিন এ জাতীয় ফল।

তরমুজের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. হার্টের সুস্থতায়: তরমুজ খেলে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলকে দূরে রাখা যায় যা হার্ট সংক্রান্ত রোগগুলোকে প্রতিরোধ করতে পারে)। তরমুজে উপস্থিত সিট্রোলিন হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

২. শরীর আর্দ্র রাখতে: তরমুজে রয়েছে ৯০ শতাংশ পানি যা শরীরকে বেশ আর্দ্র রাখে।

৩. হজম ক্ষমতা বাড়াতে: তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি যা হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়া এতে রয়েছে ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও খাবার হজম করিয়ে পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

৪. একটি তরমুজের বড় টুকরোয় মাত্র ৮৬ ক্যালরি, ২২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ১ গ্রামের থেকেও কম ফ্যাট থাকে এবং কোনোরকম কোলেস্টেরল থাকে না। এটি আপনার শরীরের প্রতিদিনের ফাইবারের প্রয়োজনীয়তাকে ৫ শতাংশ মেটায়। যা শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।

৫. ক্যানসার প্রতিরোধে: তরমুজে থাকা লাইকোপেন ক্যানসারের প্রবণতা অনেকটা কমিয়ে আনে। এই লাইকোপেনের জন্যই তরমুজের রং গাঢ় লাল হয় এবং এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর যা ক্যানসার রোধ করে।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

তরমুজ ভিটামিন সি তে সমৃদ্ধ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬ যা অ্যান্টিবডি গঠন করতে সাহায্য করে। এর ফলে শ্বেত রক্ত কণিকা সঠিক পরিমাণে তৈরি হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৪, ২০২১ ১:৩৫ অপরাহ্ন
তিস্তার চরে বাদাম তোলায় ব্যস্ত কৃষক
কৃষি বিভাগ

রংপুর জেলার, গংগাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীতে মাইলের পর মাইল চর পরেছে। বন্যার পর চরের মাটিতে পলি জমায় মাটি র্উবর হওয়ায় অতিরিক্তি সার, সেচ, কীটনাশক দিতে হয় না। ফলে বীজ রোপণে তিন মাসের মধ্যেই বাদাম তোলা হচ্ছে। চরজুড়ে এখন বাদাম তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা।

রংপুরে উৎপাদিত বাদামের মান ভালো হওয়ায় প্রতি বছরই দশেরে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে বাদাম কিনে নিয়ে যায়। গংগাচড়া উপজেলার চর চিলাখাল, মানুষ খাওয়া, নেল্টা, মহিপুর, চালাপাক চরসহ বিভিন্ন চরে কৃষকেরা বাদামের চাষ করেছেন।

কাউনিয়া উপজেলার গড্ডিমারী চরের কৃষক দুলাল মিয়া জানান, গতবার চরের ৩ একর জমিতে বাদাম চাষ করতে সবমিলে খরচ হয়েছে ৪৮ হাজার টাকা। বিক্রি করেছি ২ লাখ টাকা। আশাকরছি এবার ৩ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো। কারণ এবার বাদামের বাজার বেশ চড়া।

মধুপুর চড়ের তাসলিমা জানান, গত বছর শখের বসে বাপ দাদার ১ একর জমিতে বাদাম চাষ করে বেশ লাভোবান হয়েছিলাম। এবার ৫ একর জমিতে বাদামের চাষ করেছি। বাদাম চাষে খুব একটা খরচ হয় না। অল্পতে বেশি লাভ। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাদাম ভালো আছে। লাভও বেশি হবে বলে আশা করছি।

বাদাম চাষিরা জানান, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাদামের বীজ লাগানো হয়। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময় জমি থেকে এই বাদাম তোলার কাজ শুরু হয়। বাদামের বীজ লাগানোর আগে চাষ দিয়ে মাটি সামান্য নরম করে নিতে হয়। আর মাঝে মধ্যে জমির আগাছা পরিস্কার করতে হয়।তারপর সারি করে লাগানো হয় বাদাম বীজ। তিস্তা নদীর চরের মাটি উর্বর হওয়ায় অতিরিক্ত সার, কীটনাশক ও সেচ দিতে হয় না। তিন মাসের মধ্যই বাদাম ঘরে তোলেন চাষিরা । তাই অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভে খুশি বাদাম চাষিরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এ বছর রংপুর জেলায় ৩৯০ হক্টের জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে, গত বছর ছিল ২৫০ হক্টের জমিতে চাষ হয়েছিল। জেলায় এখন স্থানীয় জাতরে বভিনি নাম্নে বাদামরে চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় জেলায় বাদাম চাষ সম্প্রসারণের জন্য কৃষকদের মাঝে বীজ, সার, কীটনাশকসহ নানা ধরনরে উপকরণ দেয়া হচ্ছে।

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন জানান ,সরকারে পক্ষ থেকে প্রত্যেক বাদাম চাষীকে ১০ কেজি করে বীজ দেয়া হয়েছে। আর প্রণোদনা হিসাবে ১০০জনকে কৃষক কেডিএপি ১০ কেজি, ৫ কেজি সার, বারী ৮ বীজ ১০ কেজি করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাদাম জমি থেকে তোলার সঙ্গে সঙ্গে বাজারজাত না করে শুকেিয় গুদামজাত করে পরে বাজারজাত করা হলে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন।

সূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩১, ২০২১ ১২:৪৭ অপরাহ্ন
লিচুর মাইট (মাকড়) রোগ ও প্রতিকার
কৃষি বিভাগ

লিচু বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ফল। উত্তরবঙ্গে উন্নত জাত ও সুস্বাদু লিচুর জন্যে পরিচিত। যদিও আমাদের আবহাওয়া লিচু চাষের জন্যে উপযুক্ত, তথাপি এই দেশে লিচু চাষ এখনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি তেমন।
লিচুর তেমন কোনো মারাত্মক রোগ দেখা যায় না। তবে আর্দ্র ও কুয়াশাযুক্ত আবহাওয়ায় পুষ্পমঞ্জুরি পাউডারি মিলিডিউ ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তা ছাড়া অনেক সময় ছত্রাকজনিত রোগের কারণে ফল পচে যায়।

মাইট লিচুর অন্যতম শত্রু পোকা। মাকড়সা জাতীয় এই পোকা আকারে খুব ছোট হয়।

ক্ষতির স্থান ও লক্ষণ

মাকড় জাতীয় এ পোকা লিচু গাছের নতুন পাতায় আক্রমণ করে এবং পাতার রস চুষে খেয়ে পাতা কুঁকড়ে ফেলে। আক্রান্ত পাতায় গল তৈরি হয়ে থাকে। আক্রান্ত পাতায় মখমলের মত লালচে বাদামী দাগের সৃষ্টি হয়ে থাকে।পুষ্প মঞ্জুরি, ফুলের কুড়ি এবং ছোট ফলও এরা ক্ষতি করে থাকে। অতি মাত্রায় লিচু মাইটের আক্রমণ হলে ব্যাপকভাবে ফলন কমে যায়। এদের আক্রমণ প্রায় সারা বছরই থাকে। নভেম্বর- ফেব্রুয়ারি মাসে আক্রমণ অপেক্ষাকৃত কম থাকে। এপ্রিল – মে মাসে এদের সংখ্যা বেশি থাকে। পূর্ণ বয়স্ক মাকড় আক্রান্ত পাতায় ফেব্রুয়ারি – মার্চ এবং জুন- জুলাই মাসে দেখা যায়।

প্রাকৃতিক শত্রু দ্বারা বালাই দমন
বাংলাদেশ এ তিন ধরণের মাকড়সা (Tetranychus spp) পাওয়া গেছে যা দ্বারা প্রাকৃতিকভাবে মাইটকে দমন করা সক্ষম। প্রকৃতিতে অনেক বল্লা রয়েছে যারা মাজরা পোকার দমনে সহায়তা করে থাকে।

ব্যবস্থাপনাঃ

১। আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলা ।

২। জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা যেমন: নিমবিসিডিন (০.৪%) হারে ব্যবহার করা।

৩। মধ্য ভাদ্র হতে কার্তিক মাস এবং মাঘের শেষ হতে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত গাছে ২-৩ বার অনুমোদিত মাকড়নাশক যেমন: থিওভিট বা কুমুলাস বা রনভিট ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।

এপ্রিল – মে মাসে লিচুর মাইটের (মাকড়) আক্রমণ পাওয়া গেলে কেলথেন ৪০ এমএফ অথবা নিউরণ ৫০০ ইসি অথবা টারকিউ ৫০ ইসি অথবা ওয়েটেবুল সালফার ২ মিলি প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ফুট পাম্প অথবা ভলিউম পাওয়ার স্প্রেয়ার দিয়ে ভালভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে।

কান্ড ও ফলের মাজরা পোকা দমনের পূর্বে জরিপ করে দেখতে হবে কি পরিমাণ লিচু পোকা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। পোকার আক্রান্ত ব্যাতীত ফল রক্ষার জন্য বালাইনাশক প্রয়োগ যে খরচ হবে, তা যদি ফল বিক্রি করার পর বেশি মুল্য পাওয়া না যায় সে ক্ষেত্রে বালাইনাশক স্প্রে না করাই ভাল।সাইপারমেথ্রিন(রিপকর্ড/সিমবুশ/বাসাথ্রিন/এরিভো/অন্যান্য) ১০ ইসি ১ এমএল প্রতি লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ফল পাকার ১৫/২০ দিন পূর্বে লিচু ফলের মাজরা পোকা দমনের জন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে।

করনীয়
১। ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন ।

২। পরিস্কার করার পর একটি ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন ।

৩। নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করুন।

সাবধানতাঃ

বাগান অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩০, ২০২১ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
আমের গুটি ঝরা রোধে করনীয়
কৃষি বিভাগ

গুটি থেকে আমে পরিণত হতে শুরু করেছে মুকুল। এসময় বাড়তি যত্ন বিশেষ করে সেচ, পোকামাকড় ও রোগ দমনে সচেতন হলে ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত আমের ফলন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা: গুটি থেকে আমে পরিণত হতে শুরু করেছে মুকুল। এসময় বাড়তি যত্ন বিশেষ করে সেচ, পোকামাকড় ও রোগ দমনে সচেতন হলে ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত আমের ফলন বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হর্টিকালচারাল উইংয়ের গবেষণা কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ স্বদেশ কুমার পাল বাংলানিউজকে বলেন, পুষ্টিকর এ ফল ঘরে তুলতে হলে অবশ্যই বিশেষ যত্ন নিতে হবে। আমের গুটি ঝরার সমস্যায় বেশি পরেন চাষীরা। তবে সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় গুটি আমের যত্ন নিয়ে আম চাষীদের জন্য কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন তিনি।

পানি সেচ: আমের গুটি যখন মার্বেল আকারের মত হয় তখন সেচ দিতে হবে। এতে গুটি ঝরা কমে যাবে। প্রতিবার সেচ দেওয়ার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মাটি তা শুষে নেয়। পানি যেন জমে না থাকে। আমের গুটি যত বড় হতে থাকে পানির প্রয়োজনও তত বাড়ে। সেজন্য আম পুষ্টতার পর্যায়ে না পৌঁছা পর্যন্ত, মাটির রসের অবস্থা অনুযায়ী হালকা সেচ দিতে হবে।

আমে পোকার আক্রমণ: আমের গুটি আসার পর আম যখন আরো একটু বড় হয় তখন উইভিল পোকা কচি আমের গায়ে ডিম পাড়ে। সে ডিম থেকে বাচ্চা হয় এবং তা ভেতরে প্রবেশ করে আমের আঁটি ছিদ্র করে আঁটির ভেতরের অংশ খেয়ে ফেলে।

আম পুষ্ট হওয়ার আগেই আমের নিচ দিকে ছিদ্র করে পোকা বের হয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং মাটিতে পুত্তলি দশা কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ পোকায় পরিণত হয়। ছিদ্র করা আমটি ছিদ্র বরাবর ফেটে যায়। আক্রান্ত আম পচতে শুরু করে। একবার যে গাছে এ পোকার আক্রমণ দেখা দেয়, প্রায় প্রতি বছরই সে গাছে এ জাতের পোকার আক্রমণ হতে থাকে।

উইভিল পোকা দমন: উইভিল পোকা দমনের জন্য গাছের গোড়াসহ চারদিকের মাটি চাষ করে দিতে হবে এবং আগাছামুক্ত রাখতে হবে, যাতে ওই পোকার পুত্তলি মাটিতে লুকিয়ে থাকতে না পারে। এতে রোদের তাপে পোকা মারা যাবে বা পাখি খেয়ে নষ্ট করে দেবে।

উইভিল পোকার আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত গাছের মরা, পোকাক্রান্ত ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা কেটে দিতে হবে।

তবে মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১৫ দিন পর পর ২-৩ বার প্রতি লিটার পানিতে ১ মি.লি. হারে সাইপারমেথ্রিন (রিপকর্ড/সিমবুস/ফেনম/বাসাথ্রিন) ১০ ইসি জাতীয় কীটনাশক মিশিয়ে গাছের কাণ্ড, ডাল ও পাতায় ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে।

আমে রোগের আক্রমণ: আমের মুকুলের ন্যায় গুটি যখন মটর দানার মত হয় তখন, অ্যানথ্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। আমের ছোট মটর দানায় অ্যানথ্রাকনোজ রোগ হলে আমের গায়ে কালো দাগ দেখা যায়। এ অবস্থায় কচি ফল ঝরে পড়ে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ: আমের আকার মটর দানার মত হলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মি.লি. টিল্ট-২৫০ ইসি অথবা ২ গ্রাম ইন্ডোফিল এম-৪৫ মিশিয়ে গাছের পাতা, মুকুল ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া গাছের নিচ থেকে মরা পাতা কুড়িয়ে তা পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop