৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১২:৫৫ অপরাহ্ন
কালো জাতের ধান চাষে তাক লাগিয়েছেন কৃষক শাহাবুদ্দিন
কৃষি বিভাগ

এই প্রথম পরীক্ষামূলক মাগুরার মুহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের আদর্শ কৃষক শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ লিটন কালো চালের ধান চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত দামি এই ধান চাষ করেছেন ৬৫ শতক জমিতে। ব্লাক রাইস চাষাবাদ অন্যান্য আধুনিক ধান চাষের মতো দেখতে দৃষ্টি নন্দন ফলনও বেশি। এতে কোনো অতিরিক্ত সার বা পানির প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না অতিরিক্ত পরিচর্যার। ব্যতিক্রমী এবং দুর্লভ এই ধান চাষে এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে অনেক দামি ও দুর্লভ এই ধান রোপণ করে কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ। এই ধানের চালের ভাত খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজাপুর ইউনিয়নের নাওভাঙ্গা এলাকায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধমূলক নতুন কালো ধানের ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সোবহান, রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বিশ্বাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার, রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. শাখারুল ইসলাম প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিজ অর্থায়নে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঁচ জন আর্দশ কৃষককে ৫ কেজি করে কালো ধানের বীজ প্রদান করা হয়।

উপজেলায় বিভিন্ন এলকায় প্রায় আট বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক এই কালো ধানের চাষ করা হয়েছে। সফল চাষ ও ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। আর সফলতার সম্ভাবনা দেখতে পেয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ এই জাতের ধান চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াতে পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন।

কৃষক লিটন বলেন, ‘প্রথমে ইউটিউবে দেখে কালো ধান সম্পর্কে জানতে পেরে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে বীজ সংগ্রহ করি। শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তারা ফসলের তদারকিসহ আমাকে সব ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। আগামি মৌসুমে বেশি জমিতে এই ধানের চাষ করে স্বাবলম্বী হতে চাই।’

বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কালোধান চাষি মাসুদ শেখ জানান, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে কালো ধান চাষ করেছি। ফলনও ভালো পেয়েছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোকছেদুল মোমিন বলেন, এই জাতের ধানের চালে বিভিন্ন ওষুধি গুণ রয়েছে। এই চালের ভাতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণসহ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

কালো ধানের গুণাগুণ সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুস সোবহান বলেন, মূলত এসব জাতের ধানের রঙ সোনালি বা কালচে হয়। তবে চাল একেবারে কুচকুচে কালো। কালো চালে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। কালো ধানে ডায়াবেটিস প্রতিরোধক ক্ষমতা রয়েছে। এ চাল অনেক উপকারী।

পুষ্টিসমৃদ্ধ এই চাল কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন কৃষিবিদ মো. আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, এই মূল্যবান ধানের জাত খুব দ্রুত দেশের কৃষকের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
ভোর থেকেই বসছে আমন চারার হাট
কৃষি বিভাগ

আমন ধানের চারা কুমিল্লার হাট-বাজার বেচা-কেনা জমে উঠেছে। জেলার মাধাইয়া হাট-বাজারটি বিশাল এলাকা জুড়ে ভোর থেকেই বসছে আমন চারার হাট। তবে বর্তমানে আমন ধানের চারার দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় ক্রেতারাও খুশি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লার বেশীর ভাগ এলাকায় এখন চলছে আমন ধান আবাদের ভরা মৌসুম। তবে প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে এ অঞ্চলের কৃষকরা রোপা আমন ধান চাষ করে থাকেন। কৃষক এখন মাঠে ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় চাষে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আমনের চারা কিনতে কৃষক ছুটছেন কুমিল্লার চারার হাট গুলোতে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় জাতের আমনের চারা ভালো মানের এবং বেশ লম্বা। এটি লবণসহিষ্ণু জাত। কুমিল্লার দোল্লাই নবাবপুর, মাধাইয়া, ইলিয়টগঞ্জ চারা বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় চারা কিনতে বহু দূরদূরান্তে কৃষকরা হাটে এসেছেন। মাধাইয়া হাটে আসা কৃষক কাউসার খন্দকার বাসসকে বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিসারগণের পরামর্শে বিএডিসি অফিস থেকে ৪৫ কেজি ধান সংগ্রহ করে ১৫ শতক জমিতে ফলাই। এতে যে ধানের চারা হয়েছে তা দিয়ে আমার ১২০ শতক জমিতে চারা রোপণ করে বাকি চারা আমি ৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি এবং আমি আরো ৫ হাজার টাকার চারা বিক্রি করতে পারবো।

এ প্রসঙ্গে দোল্লাই নবাবপুর হাট-বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাজারে অনেক বড় চারার হাট বসে। তবে অন্য বারের চেয়ে এবার হাট আরো জমজমাট হয়েছে। দূর -দূরান্ত থেকে যে সব কৃষক আসে তাদের কেউ যেন কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়ে তার জন্য আমরা কঠোর নজরদারি রেখেছি।

এ ব্যাপারে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, বীজতলা তৈরী থেকে শুরু করে ধানের বীজ সংগ্রহ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করেছি। করোনা পরবর্তী খাদ্য সংকট মোকাবেলায় আমাদের কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আমন ধান রোপণের জন্য বর্তমান সরকারের নিদের্শনা অনুযায়ী আমরা জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে ধানের বীজ, সার প্রণোদনা দিয়ে আসছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১ ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
লাউয়ের ভালো দাম পাচ্ছে লালমাইয়ের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা লালমাই উপজেলাকে বলা হয় সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। এখানে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ হয়। তার মধ্যে অন্যতম লাউ। প্রতি বছরের মত কৃষকরা এবারো লাউয়ের চাষ করেছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম ভালো পাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। এখানকার লাউয়ের কদর দেশব্যাপী। খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়া লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার সব এলাকায় লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এখন চট্টগ্রাম শহর, ফেনী, নোয়াখালী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লালমাই উৎপাদিত লাউ সরবারহ করা হচ্ছে। চাষিরা বলেছেন, অন্য সবজির চেয়ে লাউ চাষ লাভজনক। লাউ চাষে উৎপাদন ব্যয় কম অথচ আয় বেশি হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা লাউ চাষের দিকে ঝুঁকছে। লালমাই এলাকার কৃষক গফুর মিয়া বাসসকে বলেন , ৫০ শতক জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ শুরু করি। লাউ চাষে আমাদের খরচ হয়ে ৩৪ হাজার টাকা। ইতিমেধ্যে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। আরো কিছুদিন বিক্রি করতে পারবেন বলে জানায়।

একই এলাকার কৃষক জামিল হোসেন জানান, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় লাউ চাষের মাচাং তৈরির প্রয়োজনীয় শলাকা ও খুঁটি হাতের কাছে পাওয়া যায়। ফলে এ এলাকায় লাউ চাষের মাচাং তৈরি ও খেত পরিচর্যায় খরচ কম। উপজেলার মধ্যম লালমাই ঘুরে দেখা গেছে, সকাল নয়টার মধ্যে বাজারে নেয়ার জন্য জমি থেকে লাউ তুলে সেখানে জমা করেছেন প্রায় ২৫ জন কৃষক। তারা সেখান থেকে পিকআপ যোগে নিমসার নিয়ে যাবেন। এখন প্রতি পিস লাউ প্রথমে ৫০ টাকা করে পাইকারী বিক্রি করেছেন। এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি করছেন। ভালো দাম পাওয়ায় তার খুশি। সেখানে আবার পাইকারী চাষিদের থেকে পাইকারী লাউ কিনে নিচ্ছেন ইমাম হোসেন নামে একজন পাইকার। ইমাম বলেন, আমি চাষিদের কাছ থেকে ৩০-৩৫ টাকা ধরে লাউ কিনে নিয়ে তা বাজারের শহরের থেকে আসা পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করবো। গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক খরচ, বাজারের টোল দেয়ার পর প্রতি পিস লাউয়ে আমার ৮-১০ টাকা লাভ হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, লালমাই এলাকার আবহাওয়া লাউ চাষের অনুকূল। তাছাড়া প্রয়োজনীয় কৃষি সামগ্রী এখানে সহজলভ্য। এসব সুযোগ সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে কৃষকরা লাউ চাষ করছেন। কৃষি অফিস থেকেও চাষিদের নিয়মিত বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ ১০:১০ পূর্বাহ্ন
কানাইঘাটের কৃষি কর্মকর্তার বদলী জনিত বিদায়
কৃষি বিভাগ

কানাইঘাট উপজেলার কৃষি বান্ধব কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকারের অন্যত্র বদলি জনিত উপলক্ষে কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিক ও বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্থরের কৃষকগণ তাকে আবেগঘন বিদায় জানিয়েছেন।

রবিবার বিকাল ৪ টায় কর্ম দিবসের শেষ দিনে কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কানাইঘাট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ উপজেলার কৃষি সেক্টরের যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত করায় কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকারকে আনুষ্টানিক ভাবে এ বিদায় জানান।

এ সময় কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকার বলেন কানাইঘাটে প্রায় দুই বছর দায়িত্বকালীণ সময়ে বিশেষ করে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা কৃষির উন্নয়নে আমাকে যে ভাবে সহযোগীতা করেছেন তা আমি সব সময় মনে রাখবো।

কানাইঘাট অঞ্চল কৃষির জন্য উর্বর এলাকা। এখানকার কৃষকদের পাশে থেকে কৃষিকে যান্ত্রীকীকরন করার লক্ষে সমলয় চাষাবাদ সহ সব ধরণের কৃষির উন্নয়নে আমি চেষ্টা করেছি। কৃষক সহ সবাই আমাকে সহযোগীতা করেছেন। কানাইঘাটে মানুষের কথা সব সময় আমি মনে রাখবো।

দায়িত্ব পালন কালে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। বিদায় বেলায় উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সহ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ, দপ্তর সম্পাদক মুমিন রশিদ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহীন আহমদ, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সদস্য মাহফুজ সিদ্দিকী।

এ সময় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ বিদায়ী কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকার কানাইঘাটে কর্মরত থাকাকালীণ সময়ে অত্যান্ত নিষ্টার সাথে কাজ করায় কৃষি জমির চাষাবাদ বৃদ্ধি সহ ধানের রেকর্ড উৎপাদন ও সবজির বাম্পার ফলন এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি বরাদ্ধ বৃদ্ধি সহ তার কর্ম তৎপরতার প্রশংসা করেন।

এর আগে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এক সংবর্ধনা অনুষ্টান কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হায়দার আলীর সভাপতিত্বে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো:আবুল হারিছ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সভায় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিদায়ী কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ সরকারকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা বৃন্দ।

এদিকে দিনভর বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিসিআইসি সার ডিলারদের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ ৮:৪০ অপরাহ্ন
তরুণ ও শিক্ষিত মেধাবীদের দলে জায়গা দিতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিগত ১২ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সময়ে সকল ক্ষেত্রে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। সারা পৃথিবীতে যা প্রশংসিত হচ্ছে।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আব্দুর রাজ্জাক জানান, ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সঠিক পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ পেয়েছেন। কিন্তু উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রাকে বিএনপি ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তারা অতীতের মতো এখনও অপতৎপরতায় ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নের এ ধারাকে ধরে রাখতে চাই। এটি করতে হলে আগামী দিনেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। দলের জন্য আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। সেজন্য তরুণ ও শিক্ষিত মেধাবীদেরকে দলে বেশি করে সুযোগ দিতে হবে, তাদের হাতে দলকে তুলে দিতে হবে। তরুণদেরকে আওয়ামী লীগের আদর্শে উজ্জীবিত করতে হবে। একইসাথে প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের বুদ্ধি-পরামর্শ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ড. রাজ্জাক আরও বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থে দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে না গিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ ৭:৪২ অপরাহ্ন
কৃষি সম্প্রসারণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীফ পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

দেশে বেসরকারিভাবে সম্প্রসারণ সেবা দিচ্ছে প্রায় দেড় লাখ জনবল। এরা অনেক ক্ষেত্রেই অনভিজ্ঞ কিংবা ব্যবসায়িক মোটিভে পরিচালিত হয়ে থাকেন। ফলে সব ধরনের সম্প্রসারণ কর্মীদের একই ছাতার নিচে নিয়ে আসতে উদ্যোগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সম্প্রসারণ কর্তৃপক্ষ গঠন কিংবা আলাদা তদারকি প্রতিষ্ঠান গঠন করা যেতে পারে। দেশের গবেষণা বাদে প্রায় সবকিছুই এখন বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে যেমন সরকারি খাতের অংশগ্রহণ থাকতে হবে তেমনি গবেষণাতেও বেসরকারি খাতের এগিয়ে আসতে হবে। এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যৌথ উদ্যোগে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

গতকাল (২৫ সেপ্টেম্বর) ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পলিসি অ্যান্ড ইটস রোল ইন এগ্রিকালচার এক্সটেনশন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেমিনারটি বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন নেটওয়ার্ক (বিএইএন) আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় গত কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৭৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু দেশের সার্বিক কৃষি খাতের উন্নয়নে সম্প্রসারণ সেবার উন্নয়ন প্রয়োজন। গত কয়েক বছরে এ খাতে প্রায় দেড় লাখ বেসরকারি সম্প্রসারণ কর্মী যুক্ত হয়েছেন। তাই এখন সময় এসেছে কৃষির সম্প্রসারণ সেবায় অধিক পরিমাণে পিপিপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রলণালয়ের মাননীয় সিনিয়র সচিব কৃষিবিদ জনাব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহা-পরিচালক ও বায়েনের (BAEN) সভাপতি কৃষিবিদ জনাব মোঃ হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসিআই এগ্রিবিজনেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. এফ এইচ আনসারি।

আলোচ্য অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ ছাড়াও প্রাইভেট সেক্টরের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে ডায়ালগে অংশগ্রহণ করেন।

উক্ত ডায়ালগে কৃষি সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারিসহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব- এ সম্পর্কে বক্তাগণ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে মতামত এবং বক্তব্য পেশ করেন।

আলোচনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে Public – Private Partnership (PPP) সম্পর্কিত একটি সেল তৈরী করে কৃষি সম্প্রসারণের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে বক্তাগণ অভিমত ব্যক্ত করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এস এম বখতিয়ার , কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মোঃ আসাদুল্লাহ। ইফাদ (ওঋঅউ) এর আর্থিক সহায়তায় Last Mile Program (LMP) এর আওতায় ডায়ালগটি অনুষ্ঠিত হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
কালিহাতীতে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

কামরুল হাসান, কালিহাতী (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কর্তৃক উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল আমন ধান চাষাবাদের সম্ভবনা এবং সরিষার জাত পরিচিতি ও চাষাবাদ কৌশল” শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলার আগচারান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) জামালপুর উপকেন্দ্রের আয়োজনে এবং উপকেন্দ্র সমূহের গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ কর্মসূচির অর্থায়নে ওই কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)’র মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম।

এসময় বিনা’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কর্মসূচি পরিচালক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিনা’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার, বিনা’র জামালপুর উপকেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহম্মেদ প্রমুখ।
এসময় বক্তারা এক ফসলী জমিকে চার ফসলী জমিতে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এবং বিনা চাষে সরিষা উৎপাদনের মাধ্যমে ভোজ্য তেলের উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানী কমানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
গোয়ালন্দে পাট ও পাটকাঠিতে স্বস্তিতে আছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ একটি অতি প্রাচীন বাজার।এখানে ভোর থেকেই পাট বেচাকেনার বাজার শুরু হয়ে যায়। উপযুক্ত দামও পেয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। ফলে বাড়তি আয় হচ্ছে তাদের। হাট-বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাটকাঠির বাজার জমে উঠেছে। কৃষকের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বাজারে পাট বিক্রি করতে আসা সামছু মন্ডল জানান, পাট চাষে ব্যয় খুবই কম। একবিঘা পাটে ব্যয় মাত্র পাঁচ/সাত হাজার টাকা। অপরদিকে এক বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ মণ পাট পাওয়া যায়। বর্তমানে গোয়ালন্দ বাজারে পাটের বাজার ৩০০০ টাকা থেকে প্রকারভেদে ৩২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এখন মাঠে যেমন কৃষক ব্যাস্ত পাঠ কাটতে তেমনি বাড়িতে মহিলারাও এখন কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন পুরুষের সাথে। রিয়াজুদ্দিন পাড়া ও মৃধা ডাঙ্গা ঘুরে দেখা যায় তারা ও পুরুষের সাথে পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মহিলারা। পানিতে পাট জাগ দেওয়া হয়েছে আর রাস্তার উপর সারি সারি মহিলারা গাছ থেকে পাট ছাড়াচ্ছেন। নিজেদের পাশাপাশি অনেকেই পাটকাঠির বিনিময়ে পাট ছাড়িয়ে দিচ্ছে।

কুলছুম বিবি নামে একজন মধ্যবয়সী মহিলা জানান,পাটকাঠি জ্বালানির জন্য লাগে, বুদে বানাতে লাগে তাই ছাড়াতে এসেছি। যতগুলো ছাড়াব সবই আমার। তবে আবারও পাটের সুদিন ফিরে আসছে। পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পাট ও পাটজাতদ্রব্যে ব্যবহার বাড়াতে ভোক্তাদের আগ্রহী করা হচ্ছে। অপরদিকে পাটচাষে আগ্রহী করতে চাষিদেরকে সরকার থেকে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। গত বছর থেকে আবারও পাটের ন্যায্যদাম পাচ্ছেন চাষিরা। মাঝখানে পাটের আবাদ কমলেও আবারও পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মন্জুর রহমান জানান, আমরা পাটচাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। কৃষক পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে এবং পাটের ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছে। আমরা পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। গতবছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে গোয়ালন্দ উপজেলায় ৩২.৭২ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। কিন্তু এ বছর পাট চাষ লাভবান হওয়ায় কৃষকেরা পাট চাষের দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২.৮০ হেক্টর জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ ১০:২২ পূর্বাহ্ন
প্রণোদনার টাকা পেল না কৃষক
কৃষি বিভাগ

প্রণোদনার ৭০৫ কোটি টাকা কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে পারল না বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনা মহামারীর মধ্যে চার শতাংশ সুদে কৃষককে এ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পাঁচ হাজার কোটি টাকার স্কিমের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ৪২৯৫ কোটি টাকা। ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে এ টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। বার বার সময় বৃদ্ধি করার পরও বিতরণ না হওয়ায় স্কিম বন্ধ করতে হলো বাংলাদেশ ব্যাংককে।

করোনা মহামারীর মধ্যে কৃষি ও কৃষককে সহায়তার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা স্কিম গঠন করে সরকার। এ জন্য ৪৩টি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তির শর্ত অনুয়ায়ী কৃষকের কাছে চার শতাংশ হারে ঋণ বিতরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দাবি করলেই বিতরণকৃত ঋণের অর্থ এবং চার শতাংশ হারে অপারেটিং চার্জ দিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২০ সালের ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ঋণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিতরণ না হলে কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়। তারপরও এ টাকা কৃষকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। কিš’ এ সময়ের মধ্যেও প্রণোদনা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। দেড় বছরের অধিক সময়ে এ ৭০৫ কোটি টাকা থেকে যায়। বিতরণ না হওয়া টাকা রেখেই পাঁচ হাজার কোটি টাকার স্কিম বন্ধ করতে হয়। গঠন করা হয় নতুন অন্য একটি স্কিম।

কৃষি প্রণোদনা বিতরণের জন্য ৪৩টি ব্যাংকের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার সর্বনি¤œ প্রণোদনা বিতরণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে চুক্তি করা ২০ বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে আইএফআইসি বিতরণ করে লক্ষ্যমাত্রার ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, ফাস্ট সিকিউরটি ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ১৫ শতাংশ বিতরণ করে, সাউথইস্ট ব্যাংক ১৬ শতাংশ বিতরণ করে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ২৭ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ৩৪ শতাংশ, কমার্স ব্যাংক ৩৫ শতাংশ, যমুনা ব্যাংক ৩৮ শতাংশ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ৩৮ শতাংশ এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ৮০ শতাংশ, সোসাল ইসলামী ব্যাংক ৪০ শতাংশ ও ইউনিয়ন ব্যাংক ৪৩ শতাংশ বিতরণ করে। এ সব ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে কৃষকের কাছে প্রণোদনার টাকা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

ব্যাংকগুলোর তথ্যে দেখা যায়, এ সব ব্যাংকের ২০২১-২২ অর্থ বছরের কৃষিঋণ বিতরণও সন্তোষজনক নয়। ব্যাংকগুলো অন্যান্য সময়েও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ঋণ বিতরণে অনীহা দেখিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষি ঋণ বিতরণের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশও বিতরণ করতে পারেনি। জুলাই-আগস্ট দুই মাসে এ সব ব্যাংকের পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার আট শতাংশের বেশি বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেছে দুই থেকে তিন শতাংশের মধ্যে।

করোনা মহামারীর মধ্যে শিল্প কারখানা এবং সেবা খাতে উৎপাদন-সেবা ব্যাহত হলেও কৃষি সচল ছিল। সরকারও চেয়েছিল যে কোন উপায়ে খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ সচল রাখতে। করোনা মহামারী প্রলম্বিত হলেও আবাদযোগ্য সকল জমি চাষের আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি খাতে প্রণোদনার পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। ফসল কেটে ঘরে তোলা, সরবরাহ ও বাজারজাত করার মতো কার্যক্রম সচল ছিল। কিš’ প্রণোদনার পুরো টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। ৭০৫ কোটি টাকা বিতরণ না করেই বন্ধ করতে হলো স্কিম। খোলা কাগজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ ১০:০১ পূর্বাহ্ন
এক পেঁপে গাছেই ভাগ্যবদল কৃষক মোতালিবের!
কৃষি বিভাগ

কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবু হানিফার ছেলে কৃষক আব্দুল মোতালিব। বাড়ির আঙিনায় কলা বাগানের ফাঁকে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এক পেঁপে গাছেই ভাগ্য বদলেছে তার। সেই একটি পেঁপে গাছ থেকে বর্তমানে ১ হাজার ৪০০ পেঁপে গাছের মালিক মোতালিব। সেই গাছ থেকেই ১৫ বছরে পেঁপে চাষ করে তৈরি করেছেন বাড়ি, কিনেছেন চাষের জমি, পিকআপভ্যান, এমনকি গরুর খামারও।

আব্দুল মোতালিব জানান, আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে তার বাড়ির আঙিনায় কলা বাগানে প্রাকৃতিকভাবে দুটি পেঁপে গাছ জন্মায়। তার থেকে একটি পেঁপে গাছ ঝড়ে ভেঙে পড়ে। ওই পেঁপে গাছের ভালো ফলন ও পেঁপে সুস্বাদু হওয়ায় সেই পেঁপের বীজ সংগ্রহ করেন তিনি।

পরবর্তীতে জমির একটা অংশে সেই বীজ থেকে চারা তৈরি করে পেঁপে চাষ শুরু করেন। সেই বীজের চারা থেকে তার চাষ করা জমিতে সে বছর পেঁপের ভালো ফলন হয়। এরপর থেকেই পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠে কৃষক মোতালিব।

এ বছর করোনার কারণে কম জমিতে ৬৩ শতাংশ পেঁপে চাষ করলেও এর আগে তিনি ৩/৪ একর জমিতেও পেঁপে চাষ করেছেন। আর এই পেঁপে চাষের মাধ্যমে তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ১৫ বছরে পেঁপে চাষ করে করেছেন পরিবর্তন ঘটিয়েছেন আর্থ সামাজিক অবস্থার।

মোতালিবের বিশ্বাস, তার বাড়ির আঙিনায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো দুটি পেঁপে গাছই তার ভাগ্য বদল করে দিয়েছে।

তিনি জানান, এ বছর ৬৩ শতাংশ জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন, এই চাষ করতে তার মোট খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মতো। ইতোমধ্যে তিনি এই জমি থেকে দেড় লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি করছেন এবং আরও ৪/৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছেন।

তার এই সাফল্যে কৃষি অফিস ও সরকারি কোনো সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষক মোতালিব জানান, কৃষি অফিস বা সরকারি কোনো অফিস বা কর্মকর্তা থেকে কখনোই তিনি কোনো পরামর্শ বা কোনো ধরণের সহায়তা পাননি। সমস্যা হলে প্রথম দিকে তিনি স্থানীয় পিরোজপুর বাজারে বিভিন্ন কৃষি ফার্মেসি ও স্থানীয় কৃষকের সহায়তা নিয়েছেন। তবে বর্তমানে গাছের যে-কোন সমস্যা তিনি নিজেই বুঝতে পারেন এবং ঔষধ প্রয়োগ করতে পারেন।

স্থানীয় এক পেঁপে চাষি আ. জব্বার বলেন, মোতালিবের পেঁপে চাষ দেখে এলাকার অনেকে এই চাষে এগিয়ে এসে সবাই কম বেশি লাভবান হয়েছেন, তবে মোতালিব ব্যতিক্রম।

কুলিয়ারচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পেঁপে একটি লাভজনক কৃষি পণ্য। তাছাড়া মানুষ এখন অনেক স্বাস্থ্য সচেতন, তাই দিন দিন কাঁচা ও পাকা পেঁপের চাহিদা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর উপজেলার ৪০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে, যা পূর্বের যেকোনো বছর থেকে বেশি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop