১:৫২ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ১২:৪১ অপরাহ্ন
নড়াইলে পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের প্রশিক্ষণ
কৃষি বিভাগ

নড়াইল জেলায় খরিপ উচ্চ ফলনশীল পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস, নড়াইলের আয়োজনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক, তাজুল ইসলাম প্রমূখ।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তাগণ, সহায়তা প্রাপ্ত কৃষক- কৃষাণীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জানাগেছে, ৩০ জন কৃষককের মাঝে প্রত্যেককে আধা কেজি পাট বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার, ১০ কেজি ইউড়িয়া সার এবং প্রতিজনের একাউন্টে ২৬৩০ টাকা করে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ১২:৩০ অপরাহ্ন
শাজাহানপুরের নার্সারি পল্লীতে চারা উৎপাদনে বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

করোনা ও বর্ষা ক্ষতিগ্রস্ত শহাজাহানপুরের শাহ নগরের সবজি নার্সারি পল্লীর মালিকরা আবার শীতকালীন সবজির চারা তৈরিতে ঘুরে দাঁড়াতে লড়াই করে যাচ্ছে। বগুড়ার শাজাহানপুরে শাহনগর এলাকায় গড়ে ওঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ নার্সারি পল্লী।

এখানে রীতিমতো সবজির চারা উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে।১৯৮৫ সালের দিকে প্রথমে শাহনগর বড়পাথার এলাকায় নার্সারি ব্যবসা শুরু হয়।বর্তমানে শাহনগর, বড়পাথার, চুপিনগর, দুরুলিয়া, বৃ-কুষ্টিয়া, খোট্রাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামজুড়ে গড়ে উঠেছে ৪০০ শতাধিক ছোট বড় নার্সারি।

এখানে ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, বেগুন, পেঁপেসহ হাইব্রিড জাতের মরিচ। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষসহ কয়েক হাজার মানুষের।অভাব ঘুচিয়ে অনেকে হয়েছেন স্বাবলম্বী। শাহনগরের নার্সারী পল্লী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা খেকে চারা নিতে ভিড় করে। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা কিনতে আশা মানুষের জন্য থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। রাতেবিশ্রাম নিয়ে সকালে চারা নিয়ে রওনা হয় চারার পাইকারি ক্রেতারা।

তবে এ বছর করোনার প্রভাবে আর বৃষ্টিতে নার্সারি পল্লী কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে ।বিগত বছর গুলোতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আগাম শীতকালীন সবজি চারা নিতে দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতায় মুখরিত হত এ অঞ্চল। বৃষ্টিতে চারা রোপণের জমি তৈরি না হওয়ায় ক্রেতা কম।ফলে নার্সারিতেই নষ্ট হচ্ছে উৎপাদিত বিপুলসংখ্যক সবজি চারা।

উপজেলার নার্সারি পল্লীর কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নার্সারি শ্রমিকরা সবজি বীজতলায় চারা তৈরি,বিক্রি ও পরিচর্যা করতে দারুন ব্যস্ত সময় পার করছে।অনেকেই অতি বৃষ্টির কারণে বীজতলা অবিক্রিত নষ্ট চার তুলে ফেলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করছে।

শীতকালীন আগাম সবজি বীজতলা বৃষ্টি থেকে রক্ষায় বাঁশের তৈরি ‘বেতি’গুলো রিংয়ের মতো বসিয়ে উপরে সাদা,কালো পলিথিন দিয়ে পুরো বীজতলা মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।বীজতলা বীজ ফেলার পর ঝুরঝুরে মাটি ছড়িয়ে দিতে হয়।বীজতলা প্রস্তুতে জমির মাঝ বরাবর নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ছোট ছোট আইল ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নালা তৈরি করে বীজ বপন করা হয়েছে।

শাহ-নগরে আঁখি বীজ ভান্ডার নার্সারি,ভাই ভাই নার্সারি ও ফাহিন নার্সারি ক্ষুদ্র পরিসরে বাণিজ্যিক ভাবে গ্রিনহাউজ চারা উৎপাদন শুরু করেছে।গ্রিনহাউজ ঘরে মাটির বদলে কোকোপিট নারকেল ছোপড়া প্লাস্টিকের ট্রেতে বসিয়ে চারা তৈরি করছে। এ পদ্ধতিতে রোগবালাইমুক্ত ও উচ্চ ফলনশীল চারা সারাবছর তৈরি করা সম্ভব বলে জানান ভাই ভাই নার্সারি স্বত্তাধিকারি ফেরদাউস জামান উজ্জল।

শাহ নগর নার্সারি মালিক সমিতর সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান এবার শাহনগরে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে সবজির বীজ বপন করে চারা তৈরি করা হয়েছে। এবার বর্ষায় চারা ব্যাপক ক্ষতি হলেও এখন আবহাওয়া অনকূল থাকায় নার্সারী মালিকরা আবার নতুন উদ্যেমে চারা তৈরি শুরু করেছে। এ মৌসুম তারা প্রায় ১০ কেটি টাকার চারা বিক্রি হয়ে থাকে।শীতকালীন সবজি মধ্যে টমেটো,মরিচ,কপি বীজ বপন করা হয়। এ বছর প্রকার ভেদে সবজি চারা ৩শ থেকে ৬শ টাকা হাজার চারা বিক্রি করেছে।

দুই বোন এক ভাই নার্সারি মালিক আবুজার রহমান জানান,এ বছর তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে ২০ কেজি মরিচ বীজ বপন করেন।প্রতি কেজি মরিচ বীজ ৩৫-৪০ হাজার টাকায় কিনতে হয়।প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত চারা বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ লাখ টাকা চারা। শীতকালীন সবজি চারা রোপণের এখনও সময় আছে। তিনি আশা করনে খরচ বাদ দিয়ে এবার ৩ লাখ টাকা লাভ হবে। যদি বৃষ্টি না হতো হতে এ লাভ আরো বেশি হতো। এবার করোনার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা কিনতে আসতে না পারায় অনেকে টেলিফেনে অর্ডার দিচ্ছে। তাদের চাহিদ মত চারা ট্রাক বোঝাই করে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

শাহনগর ও বড়পাথার গ্রামের দুলাল, লালমিয়া, আব্দুল মোমিন, জাহিদুল ইসলামসহ অনেক চারা চাষিরা নতুন করে বীজতলায় বীজ বপন করেছেন। বৃষ্টি দমাতে পারেনি শাহনগর সবজি নার্সারি মালিকদের সবজি নার্সারী সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সবজি চারা নার্সারি মালিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।কিন্তু তাই বলে নার্সারী মালিকরা থেমে থাকেনি। নার্সারির বীজতলা থেকে চারা তুলে ফেলে দিয়ে নতুনকরে চাারা তৈরি করছে।

শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন,শাহ নগরসহ আশেপাশে গড়ে ওঠা নাসার্রি গুলো দেশের সবজি চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।জুলাই-আগস্ট মাসে বৈরী আবহাওয়ায় বৃষ্টিতে জমি প্রস্তুত করতে না পারায় নার্সারি গুলোতে বিক্রি কিছুটা কম ছিল। এখন আবাওয়া ভালো হওয়ায় তারা আবার আশার আলো দেখছেন। কয়েক দিন হলে আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় নার্সারিগুলোতে নতুন উদ্যোমে সবজি বীজতলায় চারা তৈরি, বিক্রি ও পরিচর্যা ব্যস্ততা বেড়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ১২:১১ অপরাহ্ন
বিষমুক্ত লাউ চাষে তাক লাগিয়েছেন আব্দুস শহীদ
কৃষি বিভাগ

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুরের কৃষক আব্দুস শহীদ। তিনি এ বছর প্রায় ৫২ শতক জমিতে উন্নতজাতের লাউ চাষ করেছেন। চাষে ব্যবহার করেছেন গোবর ও অল্প পরিমাণে সার। বীজ রোপণের দেড় মাস পর থেকে গাছে গাছে ফুল আসে। তিনি শুরু থেকে এ পর্যন্ত লাউ বিক্রি থেকে পেয়েছেন প্রায় ৫২ হাজার টাকা। বাকি সময়ে আরও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আসবে বলে ওই কৃষক আশাবাদী। শুরু থেকে এ পর্যন্ত লাউ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের ডাক্তার মিঠুন রায় জানান, লাউয়ের ৯৬ শতাংশই পানি। ফলে নিয়মিত লাউ খেলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ হয়। লাউ রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। লাউয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা হার্টের জন্য উপকারী। জন্ডিস ও কিডনির সমস্যায়ও খেতে পারেন লাউ। লাউয়ে খুব কম পরিমাণে ক্যালরি ও প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে। এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী সবজি লাউ। এতে রয়েছে দ্রবণীয়, অদ্রবণীয় ফাইবার ও পানি। দ্রবণীয় ফাইবার খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। লাউ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। লাউ পাতার তরকারি মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখে, ঘুমে সমস্যার সমাধান করে ও দেহের তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। ইউরিন ইনফেকশনে খুব উপকারী লাউ। তাই ব্যাপক পরিমাণে লাউ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান, তেমন ঝুঁকি না থাকায় হবিগঞ্জের স্থানে স্থানে লাউ চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের উৎসাহ পেয়ে কৃষকরা লাউ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এ কারণে বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে লাউ। এটি শীতের সবজি হলেও এখন সারা বছরই ফলে। এই সবজি পুষ্টিগুণে ভরপুর। চিংড়ি দিয়ে লাউ বেশ সুস্বাধু। ডাল দিয়েও খাওয়া যায় এই সবজি। আবার অনেকে টাকি মাছ দিয়ে খান। লাউয়ের খোসা শুটকি দিয়ে খাওয়া যায়। যেভাবেই খান না কেন, লাউ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। পুষ্টিগুণে ভরপুর লাউ চাষ করে কৃষক আব্দুস শহীদ সফল। এ কারণে ভালো লাগছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ১১:০৬ অপরাহ্ন
বাকৃবি’তে ইউএন ফুড সিস্টেম সামিট-২১ মুক্তসংলাপ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

কৃষিবিদ দীন মোহাম্মাদ দীনু, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ঃ ফুড টেকনোলজি এন্ড গ্রমীন শিল্প বিভাগ, বাকৃবি এবং গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশান (জিএআইএন) কর্তৃক আয়োজিত সকলের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করণে ইউএন ফুড সিস্টেম সামিট -২০২১ মুক্তসংলাপ ভার্চুয়ালী অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান।

ফুড টেকনোলজি এন্ড গ্রমীন শিল্প বিভাগের প্রধান পলি কর্মকার এর সভাপতিত্বে উক্ত মুক্তসংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. বোরহান উদ্দিন এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পটয়াখালী সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর এবং জার্মান ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রফেসর ড. মোঃ শামস-উদ-দিন। মুক্তসংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম , বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি এর সদস্য প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলীম এবং স্মল ফারমারস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ জাকির হোসেন আকন্দ।

মুক্তসংলাপে প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, ফুড সিকিউরিটিতে আমাদের সফলতা রয়েছে কিন্তু নিউট্রিশানের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সফলতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের আরও জোরালো নজর দিতে হবে। জিএআইএন এর সাথে বাকৃবি যে কাজ করছে তার পরিধিকে যদি আরো বৃদ্ধি করা বা বাড়ানো যায় তবে দেশের প্রান্তিক গ্রাম বাংলার কৃষক-শ্রমিক সমাজের মানুষ বেশ উপকৃত হবে। দারিদ্র্যসীমার ক্ষেত্রে আজকে কোভিড সিচুয়েশানে আমরা যতটুকু পিছিয়েছি যদি আমরা সবাই মিলে একটু চেষ্টা করি তবে আমার বিশ্বাস খুব দ্্রুতই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব। নিরাপদ খাদ্য পেতে আমাদের কি কি প্যারামিটার দরকার এ ব্যাপারে আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে। তিনি আরোও বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরও খাদ্য ঘাটতি পূরণে বাকৃবি গ্রেজুয়েটদের অবদান অনস্বীকার্য। যেখানে গতানুগতিক ফুড প্রসেসিং এর কারণে আমাদের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত খাদ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেখানে আধুনিক ফুড প্রসেসিং এর কোন অল্টারনেটিভ নাই্।

প্রফেসর ড. মোঃ শামস-উদ-দিন বলেন, আমাদের দেশে ফসল তোলার পরের প্রক্রিয়াতেই প্রায় ০.৫% থেকে ৩৫% পর্যন্ত খাদ্যশষ্য ক্ষতি বা নষ্ট হয়ে যায়। যা দিয়ে প্রায় সোয়া ০৪ কোটি মানুষের খাদ্য ঘাটতি পূরণ হয়। তিনি আরও বলেন, খাদ্য চাহিদা এবং পর্যাপ্ত যোগানের দৈরত্ব সমাধানের পূর্ব শর্ত হচ্ছে নতুন উদ্ভাবন এবং টেকসই প্রযুক্তি।

মুক্তসংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশান (জিএআইএন) এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের র্কমর্কতা, বিভিন্ন এনজিও ব্যাক্তিত্বসহ অনেক গুনীজন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ৫:২৭ অপরাহ্ন
বরিশালে ভাসমান কৃষি প্রকল্পের দু’দিনের কর্মশালা উদ্বোধন
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে ‘ভাসমান কৃষি বিষয়ক গবেষণা-স¤প্রসারণ পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন’ শীর্ষক দু‘দিনের কর্মশালা শুরু হয়েছে। আজ রহমতপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (আরএআরএস) সেমিনারকক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মানুষ বাড়ছে। কমছে জমির পরিমাণ। পরিবর্তিত হচ্ছে জলবায়ু। এসব মোকাবেলায় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন আধুনিক চাষাবাদের পাশাপাশি ফসলের নিবিড়তা বাড়ানো। সে সাথে দরকার জলমগ্ন এলাকা আবাদের আওতায় আনা। এগুলো অবশ্যই পরিকল্পনা অনুযায়ী হওয়া চাই। তাহলেই ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হবো।

ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, স¤প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্প আয়োজিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আরএআরএস’র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএআরআই’র পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. তারিকুল ইসলাম, বিএআরআই’র পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. রিনা রানী সাহা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক এবং ডিএই বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার।

আরএআরএস’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএআরআই’র সদর দপ্তরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেলোয়ার আহম্মেদ চৌধুরী, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ পটুয়াখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিলেটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, আরএআরএস বরিশালের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ৪:২৬ অপরাহ্ন
“শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু” চিত্র কর্মে সম্পৃক্ত ১৯৪ ক্যাডেটকে সম্মাননা প্রদান
কৃষি বিভাগ

গিনেজ বুকে স্থান পাওয়া “শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু” নামে সর্ববৃহৎ চিত্রকর্ম তৈরিতে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)র ১৯৪ জন ক্যাডেটকে বিএনসিসির পক্ষ থেকে মেডেল ও সনদ প্রদান করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার(৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়া জিলা স্কুলের মুত্তিযোদ্ধা আমিনুল হক দুলাল অডিটোরিয়ামে এটি প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন শস্য চিত্রে বঙ্গবন্ধুর ৮০ শতাংশ ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সদস্যরা। এ সকল বিএনসিসি’র সদস্যদের এ কৃতিত্ব ইতিহাসের পাতায় লিখা থাকবে । এ চিত্র কর্মের লে-আউট থেকে বীজ বপনের মত কঠিন কাজ করে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শষ্য চিত্রে অবদানের কথা উঠলে সবার আগে নাম উঠবে বিএনসিসি’র সদস্যদের মানুষ স্মরন করবে।প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার সচিব নজরুল ইসলামের জন্য এ চিত্র কর্ম স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন ,বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে ১০০ বিঘা জমিতে সোনালী ও বেগুনী রঙের বিশেষ ধান গাছের চারা দিয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিত্রকর্ম তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিল বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক। বিশেষ অতিধি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তি , বিশিষ্ট সমাজ সেবী ও নারী নেত্রী ড. জেসমিন আরা সুলতানা সাথী।

এ ছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনসিসির মহাস্থান রেজিমেন্টের ভারপ্রাপ্তরেজিমেন্ট কমান্ডার শেখ শাহরিয়ার মোহাম্মদ শাকিল, বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মুস্তাফী অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু যুব ও স্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ম্যাক্সিম গোর্কি সাম্য।

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার সচিব নজরুল ইসলাম , বিএনসিসির মাহপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নহিদুল ইসলাম খান, উপ-পরিচালক(সমন্ময়) মেজর হামিদ ওয়াদুদ,উপ-পরিচালক সেনা) মেজর আতাউল হক এবং প্রেস ও মিডিযা ইনচার্জ ও নর্থ সাউথ বিশ^বিদালয় বিএনসিসির অ্যাডজুটেন্ট ক্যাডেট আন্ডর অফিসার ম্যাক্সিম গোর্কি সাম্য সম্মিলিমত প্রচেষ্টায় এ কাজে প্রায় ১২লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট জায়গা জুড়ে চিত্রকর্মটি ফুটিয়ে তোলার জন্য ম্যাপিং, চারা রোপণ ও লে-আউট ক্রিয়েটিং এরকাজে স্বেচ্ছাসেবার মনন ব্রতে স্বতঃফূর্তভাবে অংশ নেয় বিএনিিসসি ক্যাডেট সদস্যরা। ১৬ মার্চ এ বিশাল চিত্রকর্ম “শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু” নামে বিশে^র সর্ববৃহৎ ক্রপ –ফিল্ড মেজাইক হেসাবে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-এ স্থান করে নেয়।অনুষ্ঠান শেষে ক্যাডেটদের হাতে এ কৃতিত্বের সম্মাননা হাতে তুলে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
গ্রিন মাল্টা চাষে লাখপতি বিদেশফেরত আব্দুর রহমান
কৃষি বিভাগ

গত দুই বছর আগে থেকে বিদেশ ফেরত আব্দুর রহমান গ্রিন মাল্টা চাষ করে এখন বিদেশের কাজের সমপরিমাণ টাকা আয় করছেন দেশে বসেই। এখন তার বাগানের প্রতিটি গাছে গ্রিন মাল্টা নামের সুস্বাদু ফল ধরেছে এবং পাকা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রিও হয়েছে কয়েকশত কেজি মাল্টা। তিনি সারাবছর এই বাগানের ভেতরে মাল্টা গাছের ফাঁকে ফাঁকে সবজি উৎপাদন করে বাড়তি লাখ টাকা আয় করছেন। মাল্টা চাষি আব্দুর রহমানের বাড়ি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামে।

তিনি জানান, প্রায় ১৯ বছর সৌদি আরবে একটি কোম্পানিতে চাকুরি করেছেন। প্রবাস জীবনে থেকে চাকুরি করে আশানুরূপ টাকা উপার্জন করতে পারেননি। হঠাৎ মাটি ও মানুষের টানে চলে আসেন দেশে। তখন ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি। দেশের মাটিতে ফিরে এলেন তিনি। তখন মনে মনে চিন্তা করেন ভালোমানের ফসল উৎপাদন করে বিদেশের সমপরিমাণ টাকা উপার্জন করবেন।

বাড়ির পাশে রেকর্ডিয় পতিত জমি থাকায় মাল্টা চাষের পরিকল্পনা চেপে বসে মাথায়। এভাবে ভাবতে ভাবতে চলে যায় ৬ মাস। ওই বছরের জুন মাসে এই মাল্টা চাষ শুরু করতে পরামর্শ নিতে ছুটে যান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে।

মাল্টা চাষে চান ভালো ফলন, চান সমৃদ্ধশালী কৃষি উন্নয়ন পরামর্শ। তার এই পরামর্শে বেশ আগ্রহ দেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা। তখন আব্দুর রহমানকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্থাপিত ‘মাল্টা ব্লক প্রদর্শনী’ নামে ২০০ গ্রিন মাল্টা গাছের চারা হাতে তুলে দেন।

মাল্টা বাগানের ভালোমন্দ দেখাশোনার দায়িত্বও দেয়া হয় একজন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে। আব্দুর রহমান এই সহযোগিতা পেয়ে খুবই আগ্রহের সাথে বাগানের কাজ শুরু করেন। অফিসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্বে থাকেন ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বিধু।

মাল্টা গাছ রোপণের সাথে সাথে মাটি ভরাটসহ বাগানের চারিদিকে নিরাপত্তা রক্ষায় বেষ্টনি নির্মাণ করেছেন আব্দুর রহমান। বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ করতে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে তার লাখ টাকার উপরে। এই খরচের চিন্তা তার মাথায় রেখে নানা কৃষি উৎপাদন কৌশল কাজে লাগিয়ে মাল্টা বাগানের ভেতরে সবজি চাষ করেছেন। প্রথম বছর সবজি চাষে ভালো লাভ হয়েছে।

এখন সারাবছর বাগানের মাল্টা গাছের ফাঁকে ফাঁকে শসা, ঢেঁড়স, মরিচ, টমেটো, লাউ ইত্যাদি চাষ করে অনেক ফসল উৎপাদন করছেন। এই সবজি বিক্রি করেও ভালো টাকা পাচ্ছেন।

আব্দুর রহমান জানান, দুই বছর আগে রোপণকৃত তার মাল্টা বাগানে ১৪০টি গাছে কাঁচা পাকা মাল্টা ঝুলে আছে। ফলের ভারে গাছ নুয়ে পড়ছে। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে আটকে রেখেছেন। প্রতিটি গাছে মাল্টা ধরেছে অন্তত ৩০ কেজি করে।

প্রতি কেজি পাইকারি হারে বিক্রি করা যায় ১৪০ টাকা দরে। বাজারে খুচরা প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। এই হিসেবে তার বাগান থেকে প্রতিবছর অন্তত ৬ লাখ টাকার মাল্টা পাইকারি হারে বিক্রি করতে পারবেন।

মাল্টা বাগানে এখন তার কোনো খরচ নেই। ফল ধরবে বছর বছর। এছাড়াও সবজি বিক্রি করতে পারবে বছরে প্রায় ২ লাখ টাকার। মাল্টা চাষকে আরও সমৃদ্ধ করে বছরে অন্তত ২০ লাখ টাকা উপার্জনের পরিকল্পনা রয়েছে চাষি মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সাবেক কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস জানান, আমি যখন ওই উপজেলায় ছিলাম তখনই বিদেশ থেকে ফিরে আসা ধনপুরের চাষি আব্দুর রহমানের এই মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখে তাকে ২০০ গ্রিন মাল্টার গাছ দিয়েছিলাম। এখন শুনেছি বাগানে ভালো উৎপাদন হয়েছে। তার এই বাগান দেখে অন্যান্য চাষিরাও এই মাল্টা চাষ করতে উদ্বুদ্ধ হবেন।

ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বিধু জাগো নিউজকে বলেন, আমি এই মাল্টা বাগানে ভালো উৎপাদনের জন্য প্রতিনিয়ত লক্ষ্য রেখেছি, পরামর্শও দিয়ে আসছি। এখন ভালো ফলন হয়েছে। রসে ভরা এই গ্রিন মাল্টা অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুঘ্রাণ রয়েছে। চাষি আব্দুর রহমানের আনন্দে আমিও আনন্দিত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১ ৪:৫৮ অপরাহ্ন
ব্যবসা ছেড়ে মাল্টা ও লেবু চাষে লাখোপতি সালাউদ্দিন
কৃষি বিভাগ

ঢাকায় মিষ্টির ব্যবসা ছেড়ে গ্রামে গিয়ে মাল্টা ও লেবু বাগান করে লাখোপতি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার সখিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনু সরকার কান্দি গ্রামের মো. কাশেম মোল্লার ছেলে সালাউদ্দিন মোল্লা (৪৫)।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ৫০ শতক জমি লিজ নিয়ে ৩০০টি লেবু গাছ দিয়ে লেবু চাষ করেন এবং ২০১৮ সালে দুই একর ৪০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এক হাজার ৩০০টি গাছ দিয়ে মাল্টার বাগান করেন। মাত্র এক বছরে লেবু ও দুই বছরে মাল্টা চাষে তিনি আজ সফল লেবু ও মাল্টা চাষি। বছরে তার বাগান থেকে প্রায় বিশ লাখ টাকার মাল্টা ও লেবু বিক্রি হয়। এই বাগানগুলোতে হওয়া লেবু ও মাল্টা চারা বিক্রি করে তিনি আরও চার লাখ টাকা পান।

টাঙ্গাইল জেলায় লেবু ও মাল্টা চাষের একটি বাগান দেখে তিনি এই ফল চাষে আগ্রহী হন। ২০১৩ সালে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে লেবু ও মাল্টার বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সাত একর ৯০ শতক জমিতে লেবু ও দুই একর ৪০ শতক জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। সেখানে আছে ৭ হাজার ৬০০ লেবু ও এক হাজার ৮০০ মাল্টাগাছ গাছ।

সালাউদ্দিন মোল্লা জানান, লেবু ও মাল্টা চাষে তার বেশ আগ্রহ। তার বাগানে চায়না থ্রি, সিলকেট লেবু এবং পাকিস্তানি বেড়িকাটা মাল্টা ও ভারতীয় প্রলিত মাল্টা জাতের গাছ আছে। চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে লেবু ও দুই বছরের মধ্যে মাল্টা ফলন শুরু হয়। বর্তমানে তার বাগান পরিচর্যার জন্য বারোজন লোক কাজ করেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক বেকার যুবক মাল্টা-লেবু বাগান করে বেকারত্ব দূর করছেন।

সালাউদ্দিন মোল্লার বাবা কাশেম মোল্লা এখন পাশাপাশি ছেলের লেবু ও মাল্টা বাগানেও কাজ করেন। তার বাগানের নাম রেখেছেন ‘মোল্লা লেবু ও মাল্টা বাগান’।

তিনি নিজের বাগানে মাতৃগাছ থেকে বাকল দিয়ে ‘গ্রাফটিং’ করে চারা উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, এ বছর প্রায় ২০ লাখ টাকার লেবু এবং আড়াই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার লেবু ও মাল্টা নিজ এলাকা ছাড়িয়ে শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে গেছে। দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা তার বাগানের লেবু ও মাল্টা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা পাইকারি মাল্টা ১২০ ও ৮০ পিচ লেবু ৩০০ টাকা দরে কিনেন ।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, সালাউদ্দিন মোল্লার বাগানে আমি গিয়েছি। তার উৎপাদিত মাল্টা আকারে বড় ও মিষ্টি। তাছাড়া তিনি লেবু চাষেও বেশ সফল। তিনি কৃষি কার্যালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১ ৮:৪১ পূর্বাহ্ন
ভাসমান বেডে সবজি-চারা উৎপাদনে লাভবান কৃষক
কৃষি বিভাগ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ৮টি ইউনিয়নে ভাসমান বেডে শাকসবজি চাষ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। অত্র উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমি ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় পতিত থাকছে। তাছাড়া ডাকাতিয়া নদীতে চাঁদপুর – ফরিদগঞ্জ অংশে প্রায় ১৮ কিলো মিটার পুরোটাই কচুরিপানা দিয়ে বেষ্টিত রয়েছে। উপজেলার ১,৩,৪, ৫,৬,৯,১০,১৪ নং ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চলছে। ভাসমান বেডে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শষা, লাল শাক, পাট শাক, কলশী শাক, ধনিয়া পাতা ইত্যাদি চাষ হচ্ছে।

স্থানীয় উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, কৃষক-কৃষানীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১.২৫ মিটার প্রস্থ, ৪ থেকে ৫ মিটার উচ্চতার কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে ও পঁচা কচুরি পানা উপরে দিয়ে প্রতিটি বেড তৈরিতে ৭/৮ জন শ্রমিকের লাগে। প্রতিটি বেড প্রস্তুত করতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়।

৪/৫ বার ফসল উৎপাদন করা যায়। তিনটি বেড হতে গড়ে ১৩/১৪ হাজার টাকার আয় করা সম্ভব হচ্ছে। ফসল ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে তোলা যায়। এত পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরন করে বাজারে উদ্বৃত শাকসবজি ও চারা বিক্রি করে কৃষকরা বেশ ভালোই করছে বলে জানায়। তাছাড়া জৈবসারে উৎপাদিত এ শাকসবজিতে কোন ধরনের কিটনাশক ছিটানো হচ্ছেনা।

সোভান এলাকার ভাসমান বেডে শাকসবজি চাষী মো. মিজানুর রহমান তালুকদার জানান, আমার ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ২৫টি বেড রয়েছে। জনতা ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে ও ধার দেনা করে চাষ করে চলছি। স্থানীয় কৃষি দপ্তর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সাথে ৫শত টাকাও দিয়েছে। এছাড়া মাত্র ১ হাজার টাকা পেয়েছি বেড তৈরি বাবত। সরকার আমাদেরকে সুদবিহিন ঋণের ব্যবস্থা চালু করলে আমরা ফরিদগঞ্জে ভাসমান বেডে সবজি চাসে বিপ্লব ঘটাতে পারবো।

বাবুল গাজী জানায়, আমার ১২টি ভাসমান সবজির বেড রয়েছে। এখানে সবজি ও চারা উৎপাদন করে মোটামুটি ভালোই চলছেন বলে জানান। তিনিও সরকারী বরাদ্দ বাড়ানোর দাবী জানান। তিনি আরোও জানান, আমাদেরকে কৃষি অফিস ১ থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে থাকে এতে লেবারের চা-বিস্কুটের পয়সা হয়ে থাকে।

অপর চাষী সিরাজ মিয়া জানান, আমার ৩ টি ভাসমান বেড রয়েছে আমি এক টাকাও পাইনি। তাছাড়া প্রশিক্ষণ ও দিতে পারিনি। আমি কোন রকম সবজি চাষ করেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ জানান, সম্পূর্ন জৈব পদ্ধতিতে ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আয়বর্ধক একটি চাষ প্রক্রিয়া। পারিবারিক ভাবে সবজির চাহিদা মেটায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অপার সম্ভবনা রয়েছে ভাসমান বেডে সবজি চাষে। সরকার বড় ধরনের বরাদ্দ দিলে এ এলাকার ১৮ কি: মি: ডাকাতিয়া নদীর ফরিদগঞ্জের অংশে কচুরিপানা জটকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, ভাসমান বেডে সবজি চাষ করার উপযুক্ত অঞ্চল হচ্ছে, এ উপজেলার বদ্ধজলাশয়ের ভূমিগুলো। আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ভাসমান বেডে সবজি চাষ কিভাবে আরোও ভালো করা যায় এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলবো।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ ২:৩৩ অপরাহ্ন
আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত বগুড়ার কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

শাক, ফুলকপি, বাধা কপি, মুলা, লাউ ও ছিমসহ নানা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রামের কৃষকরা।কয়েক দফা টানা বর্ষণে সবজি উৎপাদন অঞ্চল বগুড়ায় আগাম শাক-সবজি চাষে বিঘ্ন ঘটলেও নতুন উদ্যেমে কৃষকরা সবজি চাষ শুরু করেছে তারা।

আগাম শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করে কৃষক লাভবান হয়ে থাকে। এ কারণে বগুড়ার শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ, সদর গাবতলী উপজেলার কৃষকেরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে শাক-সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচলক দুলাল হোসেন জানান, নির্ধারিত ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ১৬ হাজার মেট্রিকটন নির্ধারন করা হয়েছে। তবে এবার প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমির মাটিতে প্রচুর রস রয়েছে। যা শাক-সবজি উৎপাদনে সহায়ক। এরমধ্যে জেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হবে বলে জানান জেলার কৃষি কর্মকর্তারা। লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাকের জন্য জমি প্রস্তুত করছে কৃষক।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বগুড়ার কৃষকরা আগাম ফুল ও বাঁধা কপি চাষ করে থাকে। ইতমধ্যে কিছু ফুল কপি বাজারে উঠেছে যা প্রতিকেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক কৃষক শীতের আগাম সবজির চারা তৈরিও করছে।

শাজাহানপুরের দাঁড়িগাছা এলাকার বেগুন চাষি মতিউর রহমান জানান, ‘এ বছর তিন বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করছি। বৃষ্টিতে গাছের বৃদ্ধি কম হলেও, এখন বেগুন গাছগুলো স্বাভাবিক আছে। আবহাওয়া এমন থাকলে আগামী মাসে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।’

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop