১:৫৯ অপরাহ্ন

শুক্রবার, ১ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ৪:৫০ অপরাহ্ন
বরিশালে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি শীর্ষক দিনব্যাপী এক কৃষক প্রশিক্ষণ আজ বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএআরআই’র পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. মুহাম্মদ সামসুল আলম।

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্ত মো. হাফিজুল হক খান, ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, স¤প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার এবং আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্মৃতি হাসনার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি বলেন, প্রতিদিন বাড়ছে মানুষ। কমছে আবাদি জমি। পরিবর্তিত হচ্ছে জলবায়ু। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে ফসলের ওপর। এসব চ্যালেন্স মোকাবেলায় শস্য উৎপাদনের লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। প্রতিটি ফসলের খাবারউপযোগীর সময়সীমা রয়েছে, যা অতিক্রম করলে নষ্ট হয়ে যায়। অথচ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা রক্ষা করা সম্ভব। এর অংশ হিসেবে আম, পেয়ারা, আমড়াসহ বিভিন্ন ফলকে জ্যাম, জেলি, জুসে পরিণত করে খাবারের যোগান বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ক্যাম্পাসে তাল-খেজুরের চারা রোপণ করেন। প্রশিক্ষণে বরিশাল সদর, বাবুগঞ্জ ও বানারিপাড়ার ৩০ জন কিষাণী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ৩:৩৫ অপরাহ্ন
আগাম জাতের রবি শস্য চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

রংপুরের ৩ উপজেলার কৃষক মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব আর তিন দফা বন্যায় হয়ে পড়েছেন দিশেহারা। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে বন্যায় রোপণকৃত আমনের ক্ষত-বিক্ষত চারা নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তবে সব ধকল কাটিয়ে কাটিয়ে বিভিন্নভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। নতুন করে আমনের চারা রোপণ ছাড়াও বিভিন্ন সবজি ও আগাম জাতের রবিশস্যের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

আমনের ভরা মওসুমে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে প্রথম দফা বন্যা হয়। এতে জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া এবং পীরগাছা উপজেলার প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন শাক-সব্জিসহ আগাম জাতের রবিশস্যের।

প্রথম দফার বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আগষ্টে পর পর দুই দফা বন্যা হয়। প্রথম দফার বন্যায় আমনের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় চারা রোপন করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

কিন্তু দ্বিতীয় দফার বন্যায় রোপনকৃত এসব চারা আবারও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় দফায় রোপন করতে গিয়ে অনেকেই আমনের চারার সংকটে পড়েন। দূর দূরান্ত থেকে চড়া দামে আমনের চারা সংগ্রহ করে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন অনেকেই। এতে করে বেশ ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। তারপরও কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের কৃষকরা আমর চাষে স্বপ্ন বুনছেন। অন্তত পরিবারের খাবারের চালটুকু যাতে ঘরে আসে সেজন্য দিন রাত পরিশ্রম করছেন তারা।

কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী বন্যায় রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা এই তিন উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এই তিন উপজেলার চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী এলাকার অপেক্ষাকৃত নিচু জমিগুলোর ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সরচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গঙ্গাচড়া উপজেলায়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমন ধান ছাড়াও বিভিন্ন শাক-সব্জিসহ আগাম রবি শস্য চাষে মনোযোগ দিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শীত ও গ্রীষ্মকালীন সব্জিতে অধিক মুনাফা পাওয়ায় সব্জি চাষ এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে অনেক আগেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তাই বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে আমনের পাশাপাশি আগাম জাতের শীতকালীন সব্জি চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা।

ফলে ফসলি জমিতে আগাম জাতের সবজি চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, বন্যার কারনে পলি পড়া এসব জমিতে সব্জিসহ আগাম জাতের রবিশস্যের ফলন বেশ ভালো হবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সব্জি ও রবিশস্য স্থানীয় বাজারে চড়া মূল্যে বিক্রি করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ১২:০০ অপরাহ্ন
ইতিহাসের শিক্ষকের কৃষিতে সৃষ্টি ইতিহাস
কৃষি বিভাগ

শিক্ষকতার পাশাপাশি শখের বশে বাসার পাশে পতিত জমিতে ড্রাগন, মাল্টা ও পেঁপের যৌথ বাগান করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ঠাকুরগাঁও জেলার সদর গড়েয়া ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম।এছাড়াও বাগানের পাশাপাশি মসলা জাতীয়, আদা, রসুন ও হলুদ একই বাগানে চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।

জানা যায়, বাসার পাশে ফেলে রাখা জমিতে মাল্টা, পেঁপে ও ড্রাগন ফলের সারি সারি গাছ। ড্রাগন ফলের গাছের সাথে উর্বর মাটিতে মসলার চাহিদা পূরণে করেছেন আদা, রসুন ও হলুদ চাষ। সদর উপজেলার গড়েয়া বাজার এলাকায় চোখ জুড়ানো এমন ফলের বাগান দেখতে এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছেন।

শিক্ষক সাদেকুল তিন বছর আগে শখের বশে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প কিছু জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান শুরু করেন। বাগানে আশানুরুপ ফল হওয়ায় পরবর্তী সময়ে সেখানে মাল্টা গাছের চারা রোপণ করেন। এখন তিন বছরের মাথায় তার একই বাগানে মাল্টা, পেঁপে, নারিকেল, আদা, রসুন ও হলুদ চাষ করছেন। গত ২ বছর যাবৎ মাল্টার ফলন অনেক ভালো হওয়ায় বাজারে বিক্রয় করে লাভবান হয়েছেন তিনি।

সাদেকুল বলেন, পতিত জমি ফেলে না রেখে সহজেই ফল বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্ররা এসব বাগান করে লাভবান হতে পারবে। ৬০ শতক জমিতে মাল্টা, পেঁপে ও ড্রাগন ফলের যৌথ বাগান করতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু গত দু’বছরে মাল্টা, ড্রাগন, আদা, পেঁপে বিক্রয় করে ইতিমধ্যে আমার কয়েক লাখ টাকা আয় হয়েছে। আগে শখের বসে এই আবাদ শুরু করেছিলাম। এখন শখ নেশায় পরিণত হয়েছে। আর এই নেশাকে পেশায় পরিণত করতে চাই কারণ আমার আর্থিক অবস্থা ও অবস্থান এই বাগান দিয়েই পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, জেলায় এভাবে বাগান করে অনেকে লাভবান হচ্ছে। সাদেকুল অনেক স্বাবলম্বী ও অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন ফল বাগানে। তার সাথে এই বাগানের ফল জেলার পুষ্টির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি অফিস থেকে সবসময় এসকল কৃষকে সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আর এই সাদেকুলের কাজ দেখে অনেক কৃষক উৎসাহিত হয়ে এই শখের বা ফল বাগানের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ১১:১৯ পূর্বাহ্ন
নার্সারির ব্যবসায় কোটি টাকায় আয়
কৃষি বিভাগ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি গ্রাম পরিহল পাড়া। এ পরিহল পাড়াকে কুমিল্লার নার্সারির গ্রাম বলা হয়। এ গ্রামে ছোট বড় নার্সারি আছে ৪০টি। গড়ে ১৫ লাখ টাকা করে সেখানে বছরে ছয় কোটি টাকার চারা বিক্রি হয় বলে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

এককভাবে কুমিল্লার কোনও গ্রামে এত বেশি নার্সারি নেই।এ গ্রামের চারাগুলো কুমিল্লা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহে বিক্রি হয়। পাইকাররা এসে ভ্যান ও মিনি পিকআপে করে চারা নিয়ে যান। কুমিল্লার বাইরে চাঁদপুর, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালীতে বেশি বিক্রি হয় পরিহল পাড়ার নার্সারির চারাগুলো।

সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাকিম এ গ্রামে নার্সারি শুরু করেন। আবদুল হাকিম একটি আমেরিকা প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি দেখতে পান, ময়মনসিংহের মানুষ নার্সারি করে বেশ সফলতা পাচ্ছেন। তখন মনে মনে চিন্তা করেন, কুমিল্লায় এসে নার্সারি করবেন। গাছের বীজ বপন, রক্ষণাবেক্ষণ, কলম করাসহ চারার পরিচর্যার বিষয়গুলো আয়ত্তে নেন তিনি। একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দেন আবদুল হাকিম। চাকরি ছাড়ার সময় ৮০ হাজার টাকা পুঁজি ছিল তার কাছে। ওই টাকার কিছু অংশ খাটান নার্সারির কাজে। বাকি টাকা ব্যয় করেন অন্যান্য কাজে।

ছোট পরিসরে শুরু করলেও আবদুল হাকিম কম সময়ের মধ্যে সফলতার মুখ দেখতে থাকেন। প্রকল্পের সাবেক সহকর্মীরা আসেন তার কাজ দেখতে। এতে আরও উৎসাহ পান তিনি। ছোট পরিসরে শুরু করলেও একসময় প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে নার্সারি করেন তিনি। তার দেখাদেখিতে গ্রামের মানুষেরাও শুরু করেন নার্সারি করা।

১৯৯৪ সালের দিকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় পরিহল পাড়ার নার্সারি। দূরদুরান্ত থেকে মানুষ আসেন গাছের চারা কিনতে। নার্সারির সংখ্যাও বাড়তে থাকে। নার্সারির জন্য একটি আদর্শ জায়গায় রূপ নেয় পরিহল পাড়া। বর্তমানে এ গ্রামের চারশ মানুষ কাজ করছেন নার্সারির সাথে। অনেক নার্সারিতে যৌথ মালিকানা আছে। কর্মীরা দৈনিক শ্রমভিত্তিক ও মাসিক বেতনে চাকরি করেন।

গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, নার্সারির শুরুর দিকে কাঠের চারার কদর ছিল। সবাই বাড়িতে চারা লাগাতে পছন্দ করতেন। একপর্যায়ে ফল আর সবজির চারার চাহিদা বেড়ে যায়। বর্তমানে বেশি চাহিদা ফুলের। বৈশাখ-কার্তিক পর্যন্ত প্রচুর ফুলের চারা বিক্রি হয়। স্থানীয়ভাবে কলম করেও চারা উৎপাদন করেন তারা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাকিম জানান, তখনও কুমিল্লায় নার্সারি করার কথা মানুষের মাথায় আসেনি। আমি নার্সারিতে ভালো সম্ভাবনা দেখতে পাই। তাই শুরু করি। গ্রামের মানুষ এটাকে ইতিবাচকভাবে নেন। তুচ্ছতাছিল্য না করে সবাই এগিয়ে আসেন নার্সারি করতে। এ গ্রামে কোনও চুরি-ডাকাতি নেই। নার্সারির সাথে যুক্ত হয়ে সবাই সচ্ছল।

হারুনুর রশীদ নামে অপর নার্সারি মালিক বলেন, ১৯৯৪ সালে শুরু করি। আমি বেশ সফল। অন্যান্য ফসলের চেয়ে নার্সারি ব্যবসা বেশি লাভজনক। মহাসড়কের পাশে হওয়াতে চারার বেচা বিক্রিতে কোনও ঝামেলায় পড়তে হয়নি। পরিবহন সুবিধা আমাদের বাড়তি সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, পরিহল পাড়ার নার্সারি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তারা ভালো করছে। বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ ৭:৫০ অপরাহ্ন
তারাগঞ্জে পেঁপের দামে খুশি চাষিরা
কৃষি বিভাগ

হাট-বাজারে পেঁপের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় খুশি তারাগঞ্জের চাষিরা। উপজেলার খাঁরুভাজ নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় দুই একর জমিতে তাইওয়ান কিং জাতের হাইব্রিড পেঁপের চাষ করেছেন ইকরচালি ইউনিয়নের নদীরপাড় গ্রামের কৃষক আছাদুল হক।

তিনি জানান, গত বছর নিজস্ব ৩৫ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করেন এবং ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন। তাই তিনি এবারও পেঁপে চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাস্সুম জানান, পেঁপে অত্যন্ত সুস্বাদু ফল। বাড়ির আনাচে-কানাচে এবং ভিটেমাটির আইলে পেঁপে গাছ লাগানো যায়। এই চাষে চাষিদের উত্সাহ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ৪:৫৩ অপরাহ্ন
কৃষি অফিসের অবহেলায় বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করে ক্ষতির মুখে কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

গাজীপুরের শ্রীপুর কৃষি অফিস থেকে উপজেলার গোদারচালা গ্রামের রেজাউল করিমসহ অর্ধশত কৃষককে বিনা-১৭ ধানের বীজ বিনামূল্যে দেয়া হয়। রেজাউল দেড় বিঘা জমিতে এ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। রোপণের সাত দিন পরই দেখেন ধানের শীষ বের হয়ে আসছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক রেজাউল। পরে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, রোপণ প্রক্রিয়া না জানার কারণে তার জমিতে এমন অবস্থা হয়েছে।

সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ প্রদান করলেও চাষ ও রোপণ প্রক্রিয়ায় কৃষি অফিসের অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন রেজাউলসহ এলাকার অনেক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্তরা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেবল দুঃখ প্রকাশ করে চলে যান।

একই গ্রামের নিজাম উদ্দিন ৫০ শতাংশ জমিতে এ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। তারও একই অবস্থা। ধানের জমি চাষ, রোপণ ও সারসহ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ধারদেনা করে এ টাকার জোগাড় হলেও ফের তাঁকে এ ধানের জমি ধ্বংস করে অন্য জাতের ধান রোপণ করতে হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শ পাননি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার আমন মৌসুমে উপজেলাজুড়ে ১৩ হাজার ৫৩৭ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের কথা বিবেচনা করে ২১ জন কৃষকের মধ্যে সাত একর জমি চাষের জন্য সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করা হয়।

এছাড়া আরো অর্ধশত কৃষক তাঁদের জমিতে ডিলারদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে বিনা-১৭ জাতের আমন ধানের চাষ করেছেন। তবে বীজ ক্রয়ের সময় কৃষকদের এ বিষয়ে তেমন কোনো নির্দেশনা কৃষি বিভাগ না দেয়ায় এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য মতে, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন আমন মৌসুমে উচ্চফলনশীল ধান হচ্ছে বিনা-১৭। ভালো ফলনের আশায় তারা আমন চাষ করলেও এ জাতের চাষপদ্ধতিসহ স্থানীয় কৃষি অফিস তাঁদের কোনো কিছু অবহিত করেনি। ফলে অন্যান্য ধানের জাতের মতো তারা বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ করেছেন। ৭ থেকে ১০ দিন পরে দেখেন, ধানের শীষ বের হয়ে গেছে। অনেকটা ক্ষতি হয়ে গেলেও বাঁচার তাগিদে ফের বাধ্য হয়েই বিনা-১৭ ধানের জমি ধ্বংস করে অন্য জাতের ধানের চারা রোপণ করতে হচ্ছে। শুধু রোপণ প্রক্রিয়া না জানার কারণেই তাদের এ ক্ষতি। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে না পাওয়ার অভিযোগ কৃষকদের।

আজুগীরচালা গ্রামের শরাফত আলী বলেন, তিনি স্থানীয় এক ডিলারের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে দুই বিঘা জমি চাষ করেছেন। অপরিপক্ব অবস্থায় ধানের শীষ বের হয়ে যাওয়ায় তার ধানের সব জমিই নষ্ট হয়ে গেছে। পরে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে ফের অন্য জাতের ধান রোপণ করেছেন। তার দাবি, তিনি এমন অবস্থার সম্মুখীন হলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ বা তাদের পাশে পাননি।

তেলিহাটি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুন্নাহার বলেন, তিনি ভুলে কৃষকদের এ ধানের রোপণ প্রক্রিয়া (চারা তৈরি) অবহিত করতে পারেননি। ফলে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে সেজন্য সবার কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামসুন্নাহার বেগম বলেন, আমন মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের ধানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিনা-১৭। এ জাতের ধানকে সুপার ক্রপ বলা হয়। স্বল্প সময়ে অধিক ফলনে এ ধানের বিকল্প খুব কম। তবে এ জাতের ধান চাষে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। বীজতলায় চারার বয়স ২০ দিনের মধ্যেই তা রোপণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কৃষক হয়তো অন্যান্য ধানের চারার মতো এ জাতটিও রোপণ করেছেন। এর ফলেই চারা গাছে শীষ বের হয়ে আসছে। এটা কৃষকের অজ্ঞতা ও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অবহেলার ফল।

এ বিজ্ঞানীর পরামর্শ, যেসব কৃষকের জমিতে দ্রুত ধানের শীষ বের হয়ে গেছে, তাদের জমি ধ্বংস করতে হবে না। দ্রুত দ্বিগুণ ইউরিয়া প্রয়োগ করলে শীষগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। পরে সেখান থেকে নতুন কুশি বের হবে তাতে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এএসএম মুয়ীদ উল হক বলেন, এ জাতের ধান রোপণে অল্প সময়ের চারা রোপণ করতে হয়। উচ্চফলনশীল জাতের কথা বিবেচনা করে আমরা কৃষকদের বিনামূল্যের বীজ সরবরাহ করেছি। স্বল্প সময়ে আমাদের বার্তাটি হয়তো কৃষকরা বুঝতে পারেননি। তারা অন্যান্য জাতের মতো মনে করে ধানের চারা রোপণ করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের উপসহাকরী কৃষি কর্মকর্তার অবহেলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: বণিক বার্তা

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ১২:৪১ অপরাহ্ন
নড়াইলে পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের প্রশিক্ষণ
কৃষি বিভাগ

নড়াইল জেলায় খরিপ উচ্চ ফলনশীল পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

সম্প্রতি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস, নড়াইলের আয়োজনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক, তাজুল ইসলাম প্রমূখ।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তাগণ, সহায়তা প্রাপ্ত কৃষক- কৃষাণীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জানাগেছে, ৩০ জন কৃষককের মাঝে প্রত্যেককে আধা কেজি পাট বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার, ১০ কেজি ইউড়িয়া সার এবং প্রতিজনের একাউন্টে ২৬৩০ টাকা করে দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ১২:৩০ অপরাহ্ন
শাজাহানপুরের নার্সারি পল্লীতে চারা উৎপাদনে বিপ্লব
কৃষি বিভাগ

করোনা ও বর্ষা ক্ষতিগ্রস্ত শহাজাহানপুরের শাহ নগরের সবজি নার্সারি পল্লীর মালিকরা আবার শীতকালীন সবজির চারা তৈরিতে ঘুরে দাঁড়াতে লড়াই করে যাচ্ছে। বগুড়ার শাজাহানপুরে শাহনগর এলাকায় গড়ে ওঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ নার্সারি পল্লী।

এখানে রীতিমতো সবজির চারা উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে।১৯৮৫ সালের দিকে প্রথমে শাহনগর বড়পাথার এলাকায় নার্সারি ব্যবসা শুরু হয়।বর্তমানে শাহনগর, বড়পাথার, চুপিনগর, দুরুলিয়া, বৃ-কুষ্টিয়া, খোট্রাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামজুড়ে গড়ে উঠেছে ৪০০ শতাধিক ছোট বড় নার্সারি।

এখানে ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, বেগুন, পেঁপেসহ হাইব্রিড জাতের মরিচ। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষসহ কয়েক হাজার মানুষের।অভাব ঘুচিয়ে অনেকে হয়েছেন স্বাবলম্বী। শাহনগরের নার্সারী পল্লী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা খেকে চারা নিতে ভিড় করে। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা কিনতে আশা মানুষের জন্য থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। রাতেবিশ্রাম নিয়ে সকালে চারা নিয়ে রওনা হয় চারার পাইকারি ক্রেতারা।

তবে এ বছর করোনার প্রভাবে আর বৃষ্টিতে নার্সারি পল্লী কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে ।বিগত বছর গুলোতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আগাম শীতকালীন সবজি চারা নিতে দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতায় মুখরিত হত এ অঞ্চল। বৃষ্টিতে চারা রোপণের জমি তৈরি না হওয়ায় ক্রেতা কম।ফলে নার্সারিতেই নষ্ট হচ্ছে উৎপাদিত বিপুলসংখ্যক সবজি চারা।

উপজেলার নার্সারি পল্লীর কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নার্সারি শ্রমিকরা সবজি বীজতলায় চারা তৈরি,বিক্রি ও পরিচর্যা করতে দারুন ব্যস্ত সময় পার করছে।অনেকেই অতি বৃষ্টির কারণে বীজতলা অবিক্রিত নষ্ট চার তুলে ফেলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করছে।

শীতকালীন আগাম সবজি বীজতলা বৃষ্টি থেকে রক্ষায় বাঁশের তৈরি ‘বেতি’গুলো রিংয়ের মতো বসিয়ে উপরে সাদা,কালো পলিথিন দিয়ে পুরো বীজতলা মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।বীজতলা বীজ ফেলার পর ঝুরঝুরে মাটি ছড়িয়ে দিতে হয়।বীজতলা প্রস্তুতে জমির মাঝ বরাবর নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ছোট ছোট আইল ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নালা তৈরি করে বীজ বপন করা হয়েছে।

শাহ-নগরে আঁখি বীজ ভান্ডার নার্সারি,ভাই ভাই নার্সারি ও ফাহিন নার্সারি ক্ষুদ্র পরিসরে বাণিজ্যিক ভাবে গ্রিনহাউজ চারা উৎপাদন শুরু করেছে।গ্রিনহাউজ ঘরে মাটির বদলে কোকোপিট নারকেল ছোপড়া প্লাস্টিকের ট্রেতে বসিয়ে চারা তৈরি করছে। এ পদ্ধতিতে রোগবালাইমুক্ত ও উচ্চ ফলনশীল চারা সারাবছর তৈরি করা সম্ভব বলে জানান ভাই ভাই নার্সারি স্বত্তাধিকারি ফেরদাউস জামান উজ্জল।

শাহ নগর নার্সারি মালিক সমিতর সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান এবার শাহনগরে প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে সবজির বীজ বপন করে চারা তৈরি করা হয়েছে। এবার বর্ষায় চারা ব্যাপক ক্ষতি হলেও এখন আবহাওয়া অনকূল থাকায় নার্সারী মালিকরা আবার নতুন উদ্যেমে চারা তৈরি শুরু করেছে। এ মৌসুম তারা প্রায় ১০ কেটি টাকার চারা বিক্রি হয়ে থাকে।শীতকালীন সবজি মধ্যে টমেটো,মরিচ,কপি বীজ বপন করা হয়। এ বছর প্রকার ভেদে সবজি চারা ৩শ থেকে ৬শ টাকা হাজার চারা বিক্রি করেছে।

দুই বোন এক ভাই নার্সারি মালিক আবুজার রহমান জানান,এ বছর তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে ২০ কেজি মরিচ বীজ বপন করেন।প্রতি কেজি মরিচ বীজ ৩৫-৪০ হাজার টাকায় কিনতে হয়।প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত চারা বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ লাখ টাকা চারা। শীতকালীন সবজি চারা রোপণের এখনও সময় আছে। তিনি আশা করনে খরচ বাদ দিয়ে এবার ৩ লাখ টাকা লাভ হবে। যদি বৃষ্টি না হতো হতে এ লাভ আরো বেশি হতো। এবার করোনার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারা কিনতে আসতে না পারায় অনেকে টেলিফেনে অর্ডার দিচ্ছে। তাদের চাহিদ মত চারা ট্রাক বোঝাই করে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

শাহনগর ও বড়পাথার গ্রামের দুলাল, লালমিয়া, আব্দুল মোমিন, জাহিদুল ইসলামসহ অনেক চারা চাষিরা নতুন করে বীজতলায় বীজ বপন করেছেন। বৃষ্টি দমাতে পারেনি শাহনগর সবজি নার্সারি মালিকদের সবজি নার্সারী সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো সবজি চারা নার্সারি মালিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।কিন্তু তাই বলে নার্সারী মালিকরা থেমে থাকেনি। নার্সারির বীজতলা থেকে চারা তুলে ফেলে দিয়ে নতুনকরে চাারা তৈরি করছে।

শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন,শাহ নগরসহ আশেপাশে গড়ে ওঠা নাসার্রি গুলো দেশের সবজি চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।জুলাই-আগস্ট মাসে বৈরী আবহাওয়ায় বৃষ্টিতে জমি প্রস্তুত করতে না পারায় নার্সারি গুলোতে বিক্রি কিছুটা কম ছিল। এখন আবাওয়া ভালো হওয়ায় তারা আবার আশার আলো দেখছেন। কয়েক দিন হলে আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় নার্সারিগুলোতে নতুন উদ্যোমে সবজি বীজতলায় চারা তৈরি, বিক্রি ও পরিচর্যা ব্যস্ততা বেড়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১ ১২:১১ অপরাহ্ন
বিষমুক্ত লাউ চাষে তাক লাগিয়েছেন আব্দুস শহীদ
কৃষি বিভাগ

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুরের কৃষক আব্দুস শহীদ। তিনি এ বছর প্রায় ৫২ শতক জমিতে উন্নতজাতের লাউ চাষ করেছেন। চাষে ব্যবহার করেছেন গোবর ও অল্প পরিমাণে সার। বীজ রোপণের দেড় মাস পর থেকে গাছে গাছে ফুল আসে। তিনি শুরু থেকে এ পর্যন্ত লাউ বিক্রি থেকে পেয়েছেন প্রায় ৫২ হাজার টাকা। বাকি সময়ে আরও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আসবে বলে ওই কৃষক আশাবাদী। শুরু থেকে এ পর্যন্ত লাউ চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের ডাক্তার মিঠুন রায় জানান, লাউয়ের ৯৬ শতাংশই পানি। ফলে নিয়মিত লাউ খেলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ হয়। লাউ রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। লাউয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা হার্টের জন্য উপকারী। জন্ডিস ও কিডনির সমস্যায়ও খেতে পারেন লাউ। লাউয়ে খুব কম পরিমাণে ক্যালরি ও প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে। এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী সবজি লাউ। এতে রয়েছে দ্রবণীয়, অদ্রবণীয় ফাইবার ও পানি। দ্রবণীয় ফাইবার খাবার সহজে হজম করতে সাহায্য করে। লাউ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। লাউ পাতার তরকারি মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখে, ঘুমে সমস্যার সমাধান করে ও দেহের তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। ইউরিন ইনফেকশনে খুব উপকারী লাউ। তাই ব্যাপক পরিমাণে লাউ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান, তেমন ঝুঁকি না থাকায় হবিগঞ্জের স্থানে স্থানে লাউ চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের উৎসাহ পেয়ে কৃষকরা লাউ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এ কারণে বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে লাউ। এটি শীতের সবজি হলেও এখন সারা বছরই ফলে। এই সবজি পুষ্টিগুণে ভরপুর। চিংড়ি দিয়ে লাউ বেশ সুস্বাধু। ডাল দিয়েও খাওয়া যায় এই সবজি। আবার অনেকে টাকি মাছ দিয়ে খান। লাউয়ের খোসা শুটকি দিয়ে খাওয়া যায়। যেভাবেই খান না কেন, লাউ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। পুষ্টিগুণে ভরপুর লাউ চাষ করে কৃষক আব্দুস শহীদ সফল। এ কারণে ভালো লাগছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১ ১১:০৬ অপরাহ্ন
বাকৃবি’তে ইউএন ফুড সিস্টেম সামিট-২১ মুক্তসংলাপ অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

কৃষিবিদ দীন মোহাম্মাদ দীনু, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ঃ ফুড টেকনোলজি এন্ড গ্রমীন শিল্প বিভাগ, বাকৃবি এবং গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশান (জিএআইএন) কর্তৃক আয়োজিত সকলের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করণে ইউএন ফুড সিস্টেম সামিট -২০২১ মুক্তসংলাপ ভার্চুয়ালী অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান।

ফুড টেকনোলজি এন্ড গ্রমীন শিল্প বিভাগের প্রধান পলি কর্মকার এর সভাপতিত্বে উক্ত মুক্তসংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. বোরহান উদ্দিন এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পটয়াখালী সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর এবং জার্মান ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রফেসর ড. মোঃ শামস-উদ-দিন। মুক্তসংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম , বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি এর সদস্য প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলীম এবং স্মল ফারমারস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ জাকির হোসেন আকন্দ।

মুক্তসংলাপে প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, ফুড সিকিউরিটিতে আমাদের সফলতা রয়েছে কিন্তু নিউট্রিশানের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সফলতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের আরও জোরালো নজর দিতে হবে। জিএআইএন এর সাথে বাকৃবি যে কাজ করছে তার পরিধিকে যদি আরো বৃদ্ধি করা বা বাড়ানো যায় তবে দেশের প্রান্তিক গ্রাম বাংলার কৃষক-শ্রমিক সমাজের মানুষ বেশ উপকৃত হবে। দারিদ্র্যসীমার ক্ষেত্রে আজকে কোভিড সিচুয়েশানে আমরা যতটুকু পিছিয়েছি যদি আমরা সবাই মিলে একটু চেষ্টা করি তবে আমার বিশ্বাস খুব দ্্রুতই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব। নিরাপদ খাদ্য পেতে আমাদের কি কি প্যারামিটার দরকার এ ব্যাপারে আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে। তিনি আরোও বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরও খাদ্য ঘাটতি পূরণে বাকৃবি গ্রেজুয়েটদের অবদান অনস্বীকার্য। যেখানে গতানুগতিক ফুড প্রসেসিং এর কারণে আমাদের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত খাদ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেখানে আধুনিক ফুড প্রসেসিং এর কোন অল্টারনেটিভ নাই্।

প্রফেসর ড. মোঃ শামস-উদ-দিন বলেন, আমাদের দেশে ফসল তোলার পরের প্রক্রিয়াতেই প্রায় ০.৫% থেকে ৩৫% পর্যন্ত খাদ্যশষ্য ক্ষতি বা নষ্ট হয়ে যায়। যা দিয়ে প্রায় সোয়া ০৪ কোটি মানুষের খাদ্য ঘাটতি পূরণ হয়। তিনি আরও বলেন, খাদ্য চাহিদা এবং পর্যাপ্ত যোগানের দৈরত্ব সমাধানের পূর্ব শর্ত হচ্ছে নতুন উদ্ভাবন এবং টেকসই প্রযুক্তি।

মুক্তসংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশান (জিএআইএন) এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের র্কমর্কতা, বিভিন্ন এনজিও ব্যাক্তিত্বসহ অনেক গুনীজন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop