১২:৪০ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ২৭ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ১১, ২০২২ ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে বাড়ির আঙ্গিনার ৫৮৫ একর পতিত জমিতে সবজি চাষ
কৃষি বিভাগ

জেলায় বাড়ির আঙ্গিনার ৫৮৫ একর পতিত জমি সবজি চাষের আওতায় এসেছে। এসব জমিতে সারাবছর প্রান্তিক নারী ও কৃষক সবজি উৎপাদন করছে।
এসব শাক সবজি তারা পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। এতে তাদের পুষ্টির চাহিদা পুরণ হচ্ছে। সেই সাথে বাজারে শাক সবজি বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ বলেন, সারা বিশ্বে করোনা মহামারী শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন এক ইঞ্চি জমিও আনাবাদী থাকবে না। সরকার কৃষককে সার, বীজসহ সবধরণের উপকরণ দিয়ে বসত বাড়ির আঙ্গিনার দেড় শতাংশ পতিত জমিতে পাবিরাবিক পুষ্টি বাগান করে দেয়ার প্রকল্প গ্রহণ করে।

প্রান্তিক নারীদের প্রাধান্য দিয়ে আমরা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৯০টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান সৃজন করে দিয়েছি। এতে ৫৮৫ একর জমি শাক সবজি চাষের আওতায় এসেছে। এখানে সারাবছর প্রান্তিক নারী ও কৃষক লাল শাক, ডাটা শাক , পুই শাক, পালং শাক, ঘি কাঞ্চন শাক, বাটি শাক, গিমা কলমী শাক, ধনেপাতা, বরবটি, সিম, লাউ, কুমড়া, চালকুমড়া, বেগুন, টমেটো, মরিচ, ঢ্যাঁড়শ, চিচিঙ্গা, শসা, ধুন্ধল, বিটকপি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁপে, মুলা উৎপাদন করছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, কালিকাপুর মডেলে মাত্র দেড় শতাংশ জমিতে পাবিরারিক পুষ্টি বাগানে ৫টি বেড করা হয়। বাগানের ২ সাইডে মাচা ও অপর ২ সাইডে বেড়া দেয়া হয়। বেডে পাতা জাতীয় সবজির চাষাবাদ করা হয়। মাচায় লতা জাতীয় সবজির আবাদ হয়। আর বেড়ায় বরবটি ও সিমের চাষাবাদ হয়। কৃষক সারাবছর এখানে ২৫ থেকে ৩০ রকমের শাক সবজি উৎপাদন করতে পারেন। এই শাক সবজি দিয়ে প্রান্তিক নারী ও  কৃষক পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পুরণ করছেন। পাশাপাশি বাড়তি সবজি বাজারে বিক্রি করে টাকা কামাচ্ছেন। এতে প্রান্তিক নারী ও কৃষক সাবলম্বী হচ্ছেন।

সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের প্রান্তিক নারী রূপা বিশ্বাস  বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস ১৮ প্রকার শাক সবজির বীজ, ৬ কেজি ইউরিয়া, ১১ কেজি ডিএপি, ৫ কেজি এমওপি ৩ দশমিক ৮ কেজি জীপসাম সার, ১টি নেট, ১টি বীজ পাত্র, ১টি পানি দেয়ার ঝর্না বিনামূল্যে দিয়েছে।

এগুলো পেয়ে আমরা গোবরা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্বতী বৈরাগীর পরামর্শে বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত দেড় শতাংশ জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান করেছি। এখানে সারাবছর শাক-সবজি উৎপাদন করছি। এগুলো আমরা খাচ্ছি। প্রতিবেশী ও স্বজনদের দিচ্ছি। বাড়তি সবজি বাজারে বিক্রি করে টাকা আয় করছি। এতে সংসারের আয় বাড়ছে। আমরা সাবলম্বী হচ্ছি। ছোট এক খন্ড জমিতে পুষ্টি বাগান করছি। কিন্তু এর প্রভাব ব্যাপক। এমন বাগানের চিন্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এসেছে। এই বাগান করে আমরা ভাল আছি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

একই ইউনিয়নের চরগোবরা গ্রামের অনিমা বিশ্বাস বলেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শাক-সবজি। এছাড়া পুষ্টি দেয়। এগুলো সদর উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের জানিয়েছে। তাদের সব ধরণের সহযোগিতা ও উৎসাহে আমি পারিবারিক পুষ্টি বাগান করেছি। করোনার সময় নিজের বাগানে উৎপাদিত শাক-সবজি খেয়ে করোনাকে পরাস্ত করেছি। এই শাক-সবজি আমাদের পরিবারের সারা বছরের পুষ্টির চাহিদা পুরণ করে চলেছে। তাই এই প্রযুক্তিকে আমি গ্রহণ করেছি। সরকার পারিবারিক পুষ্টি বাগানে বীজ, সার সহায়তা বন্ধ করে দিলেও আমি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এই বাগান টিকিয়ে রাখব।

গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক বলেন, মেধাবী জাতি গঠনে পুষ্টির কোন বিকল্প নেই। শাক-সবজি আমাদের পুষ্টির চাহিদা অনেকাংশে পুরণ করে। এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শাক-সবজির পুষ্টি গুন মেধাবী প্রজন্ম গড়তে সহায়তা করে। তাই আমাদের বেশি-বেশি করে শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জিএম পলিউল ইসলাম বলেন, আমরা চলতি অর্থ বছরে সরকারি সহায়তায় বাড়ির আঙ্গিনার পতিত আরো ৬০০ একর জমি সবজি চাষের আওতায় নিয়ে আসব। এতে করে উপজেলায় ১ হাজার ১৮৫ একর পতিত জমি শাক-সবজি চাষের আওতায় আসবে। এভাবে প্রতিবছর আমরা বসত বাড়ির আঙ্গিনার পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এনে শাক-সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি করব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়ন করব।  গোপালগঞ্জে এক ইঞ্চি জমিও আনাবাদী থাকবে না

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১০, ২০২২ ৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৬ পাচ্ছেন মোঃ রোস্তম আলী
কৃষি বিভাগ

ছাদ কৃষিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৬ পাচ্ছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রোস্তম আলী । আগামী ১২ অক্টোবর/২০২২ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কৃষিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
জনাব মোঃ রোস্তম আলী উপজেলা কৃষি অফিসার হিসেবে সিরাজগঞ্জ সদরে নিয়োজিত আছেন। তিনি তাঁর অফিসে ছাদ বাগান স্থাপন করে স্থানীয়দের এ বিষয়ে আগ্রহী করে তুলেছেন। তাঁর অফিসের ছাদ বাগানে প্রায় ২০ প্রজাতির ফল, ১৪ প্রজাতির শাক সবজি এবং ৫০ প্রজাতির ঔষুধী/অরনামেন্টালসহ অসংখ্য গাছ রয়েছে। তিনি ছাদে চারা উৎপাদন করে এলাকার কৃষক ও আগ্রহী ব্যক্তিদের মাঝে বিতরন করেছেন। এ ছাদ বাগানে জৈব সার ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় আউশ ধান, সরিষা, মুগ, মসুর, চিনাবাদাম, মাসকলাই, তিশি, খেশারী, মরিচ, ভুট্টা ইত্যাদির আবাদ বৃদ্ধি, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ, সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা,লাইনে ধান রোপন, পার্চিং, আদর্শ বীজতলা স্থাপন, ভাসমান পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন, ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন।একজন দায়িত্বশীল মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ মোঃ রোস্তম আলী বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৬ এর ব্রোঞ্জ পদক পাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রোস্তম আলী জানান প্রায় ছয় বছর যাবত সিরাজগঞ্জ সদর কৃষি অফিসের ছাদে চারা উৎপাদন ও নিজস্ব অর্থায়নে ফলজ চারা ক্রয়ের মাধ্যমে ছাদ-কৃষিতে-সিরাজগঞ্জ ফেসবুক গ্রুপ ব্যবহারের মাধ্যমে ছাদ বাগানী নির্বাচন ও কৃষি অফিসের ছাদে উৎপাদিত চারা বিনামুল্যে বিতরণ করে আসছি। এ পর্যন্ত ২০০০ জনকে ছাদে উৎপাদিত সবজি ও ফলের আনুমানিক ৭০০০০টি চারা বিতরন করেছি। ছাদ কৃষিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৬ প্রাপ্তিতে দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। আমি সব সময় কৃষি ও কৃষকের পাশে ছিলাম এবং আগামীতেও থাকব।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৮, ২০২২ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
বিরামপুরে আগাম জাতের ধান কাটায় ব্যস্ত চাষিরা
কৃষি বিভাগ

শস্য ভাণ্ডারখ্যাত দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুক্তভাবে এবার আগাম জাতের আমনের আশাতীত ফলন হয়েছে।

আগাম ধান কাটায় খাদ্য চাহিদা পূরণ, বাজারে অধিক মূল্য ও কাঁচা খড় বিক্রিতে অধিক দামের মাধ্যমে কৃষকরা সবদিক থেকে লাভবান হয়েছেন। এর পাশাপাশি একই জমিতে শীতকালীন সবজি রোপণের প্রস্তুতি নিয়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নিকসন চন্দ্র পাল জানান, বিরামপুর উপজেলার পৌর এলাকা ও ৭টি ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ করা হয়। এরমধ্যে ১১ হাজার ২৫০ বিঘা উঁচু শ্রেণির জমিতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। আমনের অন্যান্য ধানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা-৫, ব্রি-৩৪, ৫১, ৭১, ৭৫, হাইব্রিড ও বিনা-১৭.২০ জাত।

উপজেলার হরেকৃষ্টপুর নাপিতপাড়া গ্রামের কৃষক লাবিবুর রহমান জানান, তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের আমন রোপণ করেন। তিনি বিঘা প্রতি ১৪-১৬ মণ হারে ফলন পেয়েছেন।

হাবিবপুর গ্রামের তমিজ উদ্দিন জানান, তিনি ৩ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আমন রোপণ করেছেন। তিনি বিঘা প্রতি বিঘা জমি থেকে ১৫-১৭ মণ হারে ফলন পেয়েছেন।

কৃষকরা বলেন, আগাম জাতের ধান ঘরে তুলতে পেরে খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে ৮-৯শ’ টাকা মন দরে কাঁচা ধান বিক্রি করতে পারছেন। ধানের কাঁচা খড় গো-খাদ্য হিসেবে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

কৃষকরা আরও বলেন, প্রতিবিঘার কাঁচা খড় ৪-৫ হাজার টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া একই জমিতে আবার আলু, সরিষা ও ফুলকপিসহ শীতকালীন বিভিন্ন প্রকার সবজি রোপণের প্রস্তুতিও নিয়েছেন।

হাবিবপুর বাজারের ধান ব্যবসায়ী জিয়া হোসেন জানান, তিনি সদ্য মাড়াই করা কাঁচা ধান ৯০০ টাকা করে ক্রয় করেছেন।

মুকুন্দপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জানান, আমি দিনভর মাঠে মাঠে ঘুরে কৃষকদের আগাম আমন ধান ও শীতকালীন ফসল আবাদে সহায়তা, রোগ-বালাই ও দুর্যোগ প্রতিরোধে দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২২ ৮:০৬ অপরাহ্ন
হরিপুরে ব্ল্যাকরাইস ধান চাষে চমক কৃষক মোস্তাকের
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে এই প্রথম ইন্দোনেশিয়ার ব্ল্যাকরাইস ধান চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন উপজেলার বনগাঁও গ্রামের সাবেক মেম্বার ও কৃষক মোস্তাক আলী সিদ্দিকি।

জানা যায়, কৃষক মোস্তাক ২৫ শতক জমিতে এই ধান চাষ করেছেন। ক্ষেতের ধান পেঁকে বাতাসে দোল খাচ্ছে ও ধান কাটার সময়ও হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ধানক্ষেত দেখতে এলাকার মানুষ ভিড় জমাচ্ছে।

ধানের বীজ ও চাষের বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাক জানান, ফরিদপুর থেকে আমার বন্ধুর মাধ্যমে ২ কেজি ধান ৬’শ টাকায় ক্রয় করি। জুন মাসে বীজ রোপণ করি, চারার বয়স ২৫ দিন হলে ১২ জুলাই চারা মাঠে রোপণ করি। বর্তমান ধানের বয়স ৮০ দিন চলছে ৯০ দিন পূর্তি হলেই ধান কাটতে হবে। ২৫ শতক জমিতে এই ধান আবাদ করতে আমার খরচ হয়েছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। এই ধানে সার ও বিষ ব্যবহার না করলেও চলে।

পোকামাকড়ের কোনো বালাই নেই। ফলন প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ হতে পারে। কিšুÍ এর প্রতি কেজি চালের দাম ৫ থেকে ৬’শ টাকা বলে জানান তিনি। ইন্দোনেশিয়ার এই ধানের (ব্ল্যাক রাইস) বৈশিষ্ট্য হলো, এর গাছ, পাতা দেখতে স্বাভাবিক ধানগাছের মতো হলেও ধানের শিষ এবং চাল সবকিছুই লালচে কালো ও চিকন। এ চাল পুষ্টিগুণে ভরপুর। তাই এ চালের দামও বেশি। শখের বশেই এ ধান চাষ করেছি এবং সফল হয়েছি। এ ধান চাষে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বীজ নেয়ার জন্য মানুষ বাড়িতে ভিড় করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, ব্ল্যাক রাইস ধান বিদেশী জাত। সরকারি ভাবে দেশে এখনো এর চাষাবাদ শুরু হয়নি। এর চাল পুষ্টিগুণে ভরপুর ও দামি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৪, ২০২২ ৩:৫১ অপরাহ্ন
পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে মজিদপুরের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

সারাবছর শাক-সবজির আবাদ করেন কুমিরমারা, মজিদপুর গ্রামের কৃষক। একই দৃশ্য বাইনতলা ও এলেমপুর গ্রামের। নীলগঞ্জ ইউনিয়নের এসব কৃষক তাদের উৎপাদিত অধিকাংশ শাক-সবজি পাখিমারার খাল দিয়ে নৌকায় বাজারজাত করে আসছে। এ খালটির পানি ব্যবহার হয় ধানসহ শাক-সবজির চাষাবাদে। খালপথে নৌকায় যোগাযোগ তাদের অন্যতম মাধ্যম।

বর্তমানে অন্তত ৪০০ ফুট প্রস্থ এ খালের পানি ওঠানামানোর সংযুক্ত যুগীর স্লুইস খালের সামনে আলী মুন্সি এবং জলিল গাজীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় আড়াআড়িভাবে প্লাস্টিকের এবং সুক্ষ্ম ফাঁসের মশারী নেট দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভাষায় একে পাডাগড়া বলা হয়। ফলে টোটাল খালের পানির প্রবাহ চরমভাবে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অপরদিকে কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য নৌকায় বাজারজাত করতে পারছেনা। মাথায় করে নিতে হয়। এলাকার আলমগীর জমাদ্দার গং সোনার বাংলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নিয়ে খালে মাছ চাষ করছেন।

আলমগীর জমাদ্দার জানান, তারা বেড়ার মাঝখানে নৌকা চলাচলের ফাঁক রেখেছেন। কৃষক সুলতান গাজী জানান এই খালটির মিঠা পানি দুই পাড়ের হাজারো কৃষক পরিবারের জীবন জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন। কৃষকরা কৃষি জমি চাষাবাদ করেন। গোসলসহ নিত্য কাজে খালের পানি ব্যবহার করেন। আর কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নৌকায় করে পাখিমারা বাজারে নিয়ে আসেন। বর্তমানে খালে বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়ায় তাদের খুব সমস্যা হয়েছে।

উল্লেখ্য খাল ইজারা নিলেও পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত কিংবা মানুষের খালের পানি ব্যবহার করতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সুযোগ নেই। সবজি চাষিসহ অধিকাংশ কৃষকের দাবি খালটি উম্মুক্ত করে দেয়ার পাশাপাশি স্লুইসগেট প্রকৃত কৃষকের কাছে নিয়ন্ত্রণ করা হোক। সূত্র: জনকণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২ ৫:৫০ অপরাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিন দিন বাড়ছে পুষ্টি বাগানের সংখ্যা
কৃষি বিভাগ

পুষ্টির চাহিদা মিটাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিন দিন বাড়ছে পারিবারিক পুষ্টি বাগানের সংখ্যা।

জানা গেছে,চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় নতুন করে ১হাজার ৬শ’৬০টি বাগান স্থাপিত হয়েছে। বাড়ির আঙ্গিনায় দেড় শতক জায়গা রয়েছে এমন প্রান্তিক কৃষককে প্রকল্পের আওতায় এনে এই বাগান স্থাপন করা হয়।

পুষ্টি বাগানে হরেক রকমের গ্রীম্মকালীন ও শীতকালীন সময়ে সবজি চাষ করা হয়। যা দিয়ে একটি পরিবারের এক বছরের পুষ্টির চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি বাড়িত আয়ও হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পতিত জমি ও বসত বাড়ির আঙ্গিনায় প্রথম পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এই সময় জেলায় ৩হাজার ৪০টি পুষ্টি বাগান স্থাপিত হলেও ২০২১-২০২২ অর্থবছরে নতুন আরো ১হাজার ৬শ’৬০টি বাগান স্থাপিত হয়েছে। বাগান স্থাপনে পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি জেলায় ১০ সহস্রাধিক বাগান স্থাপনের পরিকল্পনার কথা রয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, এসব বাগানে মওসুম ভেদে উৎপাদিত হচ্ছে বিভিন্ন রকমের সবজি। উৎপাদিত গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ঢেঁড়শ, বেগুন, লাউ, লালশাক, পুঁইশাক, কলমি শাক, পালংশাক, ডাটাশাক ছাড়াও শীতকালীন বিভিন্ন সবজি। এরমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাঁজর, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদিত হচ্ছে।

কৃষক হেবজু ভূইঁয়া বলেন, পুষ্টি বাগান করতে বাঁশ, বেত, বেড়া, সার ও বীজ দিয়ে কৃষি বিভাগ আমাদের সহায়তা করছে। বাড়ির পাশে খালি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সবজি চারা লাগিয়ে তা চাষ করছি। এতে সারাবছর সবজির চাহিদা মিটছে।

নারী কৃষক আম্বিয়া বেগম বলেন, আমার পরিবারে পাঁচজন সদস্য রয়েছে। সকলে মিলে বাড়ির আঙ্গিনায় লাউ, ঢেড়শ, টমেটো, ঝিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছি। এতে আমাদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটছে।

বিজয়নগর উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. হাদিউল ইসলাম বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক যাদের দেড়শতক পতিত জমি রয়েছে তাদেরকেই এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে বাগানগুলো পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগ থেকে সহায়তা করছি।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত সাহা বলেন, বাগান স্থাপনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সারাবছর যাতে একজন কৃষক সবজি উৎপাদন করতে পারে সেজন্য সার, বীজ ও বেড়াসহ সার্বিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আগামী দুই বছরের মধ্যেই ১০ হাজার বাগান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেরপুরে সবজির চারা নিয়ে বিপাকে চাষিরা
কৃষি বিভাগ

বগুড়ার শেরপুরের সীমাবাড়ী ইউনিয়নের বৈটখর ও গাড়ীদহ ইউনিয়নের রানীনগর এলাকাটি সবজি চারা গ্রাম নামে পরিচিত। উপজেলার এই দুটি গ্রামের উৎপাদিত চারা প্রায় ২ কোটি কাটার বিক্রয় করা হয় প্রতি বছর।

তবে এবার আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় চারাগুলো বিক্রয় হচ্ছেনা। বিক্রয় করতে না পেরে কপালে চিন্তার ভাজপড়েছে চাষীদের।

জানা যায়,, এই দুইটি গ্রামে আগাম শীতকালীন সময়ের সবজির বাজার দখল করতে বীজতলা পলেথিন দিয়ে মোড়ানোসহ বিশেষ পরিচর্যার মাধ্যেমে বীজ রোপন করে উপযুক্ত চারা তৈরী করেছেন। শেরপুর উপজেলার শীতকালীন সবজির চারা নিজেরা রোপণ করে এবং বাজারেও বিক্রি করে। চারাগুলোর বিশেষ চাহিদা রয়েছে চাষীদের মাঝে। প্রায় ২ কোটি টাকার চারা বিক্রয় হয় এই উপজেলা থেকে। উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের বেগুন, মরিচ, টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপির চারা ময়মনসিং, তেঁতুলিয়া, ঠাকুরগাও কুড়িগ্রাম, নাটোর, জলঢাকা, নন্দীগ্রাম, শাজাহানপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাষীরা চারা সংগ্রহ করে চাষ করে। শীতকালেই শুধু নয়, সারা বছর সবজির চারার চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করেন এ উপজেলার চাষিরা। এরই মধ্যে ভারি বর্ষনে অর্ধেক চারা বিক্রয়রের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছে চাষীরা।

রানীনগর গ্রামের (বীজ রোপন) চাষী শরিফ উদ্দিন মিন্টুর জানান, জৈষ্ঠ মাসের শেষের দিকে জমি প্রস্তুতি শুরু করি। আষাঢ় মাসের শুরুতে বৃষ্টি ও রোদ থেকে বাঁচাতে চারা বীজের বেডের ওপর পলিথিনের ছাউনি দিতে হয়েছে। নিজস্ব প্রযুক্তি, পরিচর্যা, সার ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে এ চারা তৈরী করি। এ চারা ৫ মাস পর্যন্ত বিক্রয় হয়। এই ৫ মাসে তিন থেকে চার বার চারা তৈরী করা যায়। আগাম সবজি চাষের চারা তৈরী হয়েছে। শীতে সবজির বাজার দখল করতে আমরা ব্যস্ত সয়ম পার করছি। চারার চাহিদা থাকলেও এবার আবহাওয়া বর্তমানে অনুকূলে নেই। এ জন্য বর্তমানে চারার চাহিদা কম।

শেরপুর উপজলো কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা. শারমিন আক্তার জানান, এ বছর ৭ হেক্টর জমিতে বীজ চারা তৈরী হয়েছে। শেরপুর উপজেলায় রবি মৌসুমে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেশি ফলনের জন্য আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের সব সময় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও চাষিরা বেশ লাভবান হবেন বলে আশা রাখি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২ ৮:১৩ পূর্বাহ্ন
শীতকালিন সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় যশোরের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ডিজেল, সার-কীটনাশক ও শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়ায় এবার সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তার পড়েছেন যশোরের চাষিরা। শেষ সময়ে সবজি চাষের পরিচর্যায় তারা ব্যস্ত সময় পার করলেও সবজি উৎপাদনের উপযুক্ত সময়ে দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। এ অবস্থায় প্রান্তিক চাষিরা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

দেশের সবজি উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য জেলার মধ্যে যশোর হচ্ছে অন্যতম জেলা। দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ সবজিই এ জেলা থেকে সরবরাহ করা হয়। প্রায় বছরজুড়েই জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে নানা জাতের সবজি চাষ হয়। তবে শীত মৌসুমকে টার্গেট করে এ জেলার চাষিরা প্রচুর সবজি চাষ করলেও এবছর প্রকৃতির বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা অনেক পিছিয়ে পড়েছেন। অন্যান্য বছরে এ সময় বাজারগুলো আগাম জাতের শীতকালীন সবজিতে সয়লাব হয়ে গেলেও দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে উৎপাদনের সময় প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে বলে জানান চাষিরা। সর্বশেষ বৃষ্টি পেয়ে সবজি চাষ শুরু করলেও চাষিরা খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

চাষিরা জানান, একদিকে প্রকৃতির বৈরিতার কারণে তারা চাষে কোনো লাভ করতে পারছেন না। এরপর সার-কীটনাশকের সংকট ও মূল্য বেশি। একইসঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত শ্রমিকের মূল্য মেটাতে গিয়ে তারা পথে বসতে চলেছেন। এ অবস্থায় সবজির ন্যায্য দাম ও সরকারি সহায়তার দাবি তাদের।

জানা যায়, বিস্তীর্ণ ক্ষেতে কৃষকরা তাদের সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। এ সময় তারা চলতি মৌসুমের সবজি চাষ নিয়ে নানা আক্ষেপ ও উদ্বেগের কথা জানান। কৃষকরা জানান, অন্যান্য বছরে ঠিক এই সময়ে এসব তারা সবজি বাজারে তুলতে পারলেও এ বছর দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে প্রায় এক মাস পিছিয়ে রয়েছি। ফলে সময়মতো এ বছর শীতের এ সবজি বাজারে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা।
গোলাম সরোয়ার নামে আরেক চাষি জানান, বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষে বিঘাপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ এই কপি যখন আমরা বাজারে তুলব, তখন এর দাম পাওয়া যাবে না। এতে নিশ্চিত আমরা ক্ষতির মুখে পড়ব বলে মনে করছি। তিনি বলেন, বাজারে সার কিনতে গেলে সার পাওয়া যাচ্ছে না। গেলেও তা অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকের মূল্যে আগের চেয়ে জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে। এ অবস্থায় আমরা পেরে উঠছি না। তিনি বলেন, সরকার যদি আমাদের প্রণোদনার আওতায় না আনে, তাহলে আগামীতে এ অঞ্চলে অনেক চাষিই ঝরে পড়বে। তারা বিকল্প হিসেবে অন্যকিছু চাষ করতে বাধ্য হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক জানান, আবহাওয়াজনিত সমস্যার কারণে এ বছর শীতকালীন সবজি চাষে কৃষক কিছুটা পিছিয়ে আছে বটে, তবে শেষ সময়ে বৃষ্টি পেয়ে তারা পুরোদমে চাষ শুরু করেছেন। আশা করছি, সামনে কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষক তাদের ক্ষেতে বাম্পার ফলন পাবেন। উৎপাদনের উপযুক্ত সময়ে তারা ভালো দামে সবজি বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি দাবি করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
বস্তা পদ্ধতিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাদারীপুরে সবজি চাষ
কৃষি বিভাগ

সরকারি প্রণোদনা, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে দিন দিন মাদারীপুরে বস্তা পদ্ধতিতে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

জলাবদ্ধ ও পতিত জমিতে কম খরচে বেশি মুনাফা পাওয়ায় কৃষকরা ঝুঁকছেন বস্তা পদ্ধতিতে সবজি চাষে। বাণিজ্যিকভাবে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ভালো ফলন ও বাজারে এসব সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা দিন দিন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন সবজি চাষে।

এখন বস্তা পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিভিন্ন সবজি বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আর এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে অপার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

কৃষক মনতোষ বিশ্বাস বলেন, আমার পতিত জমিতে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে আমি লাভবান হয়েছি। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তা নিয়ে ৩৫টি বস্তা ও ৭টি ডিপি পদ্ধতিতে সবজি চাষে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫-১৬ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। আরও ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, বস্তা পদ্ধতির চাষের শুরুতে ৩০ কেজি মাটির সঙ্গে পরিমাণমতো জৈব সার, খৈল ও রাসায়নিক সারের মিশ্রণ বস্তায় ভরে প্রায় তিন ফুট উঁচু করা হয়। কয়েক দিন পর তাতে লাউ, চিচিঙ্গা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙে, পুঁইশাক, মরিচ, আদা, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, রসুন ও পেঁপেসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির বীজ বপন অথবা চারা রোপণ করা হয়।

বস্তা ও ডিপির ৪ থেকে ৬ ফুট উঁচুতে তৈরি করা হয় বাঁশের চালি বা মাচা। সে চালির ওপর দড়ি দিয়ে বোনা জালের ওপর বাড়তে থাকে বিভিন্ন সবজির লতা পাতা আর সেখানে ঝুঁলতে থাকে বিভিন্ন প্রকারের সবজি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মিল্টন বিশ্বাস জানান, বৃহত্তর বরিশালসহ সাত জেলার কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণসহ সব কলাকৌশল ও উদ্বুদ্ধকরণের মধ্য দিয়ে বস্তা পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করা হয়েছে। এতে কৃষকরা সফল হয়েছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ ৯:০০ পূর্বাহ্ন
গোপালগঞ্জে পূর্ণাঙ্গ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ শেষ পর্যায়ে
কৃষি গবেষনা

গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পূর্ণাঙ্গ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরের মার্চে এ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভাসমান কৃষি, জলমগ্ন কিঞ্চিৎ লবণাক্ত জমিতে বৈচিত্রপূর্ণ ফসল আবাদের পাশাপাশি কৃষির বৈচিত্র নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের কর্মপরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এটি নির্মিত হচ্ছে। এ কেন্দ্রটি গবেষণার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক ভূ’মিকা রাখবে ।

কৃষি মন্ত্রণালয় গোপালগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করণের মাধ্যমে ৫ বছর মেয়াদী কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে।

ওই প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জ জেলা শহরের অদূরে ঘোনাপাড়ায় ২০ একর জমির ওপর ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে গবেষণা কেন্দ্রটি নির্মাণ কাজ ২০২০ সালে শুরু হয়।

গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. এম এম কামরুজ্জামান জানান, কেন্দ্রের ২০ একর জমি অধিগ্রহণ, মাটি কাটা, মাটি ভরাট, বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন সঞ্চালনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মাঠ সরঞ্জাম, অফিস যন্ত্রপাতি, আবসাবপত্র, গাড়ি ও মোটর সাইকেল ক্রয় করা হয়েছে। কেন্দ্রের অফিস কাম ল্যাব ভবন নির্মাণ কাজ ৭৫% ও সম্প্রসারণ ভবনের কাজ ৫০%, সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ভবন, শ্রমিক সেড, ওভারহেট ট্যাকিং ও বাউন্ডারী ওয়ালের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কেন্দ্রর অভ্যন্তরে ৩ হাজার ৬০০ বর্গমিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণ ও অফিস কাম ল্যাব ভবনে ৩টি লিফট স্থাপনের কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা ল্যাবের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছি ।

প্রকল্প পরিচালক জানান, ২০১৮ সালে এ প্রকল্প শুরু হয়। এ প্রকল্প শেষ হবে আগামী বছরের ৩০ জুন। ২০২৩ সালের শুরুতেই গোপালগঞ্জ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শেষ হবে। আশা করছি ওই বছরের মার্চ মাসে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। সে লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে চলছে।

গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. এম এম কামরুজ্জামান আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ অঞ্চলের কৃষি ও কৃষক হুমকির মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি বিভাগের ৫ জেলার ৩৮টি উপজেলার কৃষি উন্নয়নই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

প্রকল্প পরিচালক জানান, পূর্ণাঙ্গ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রটি কৃষির উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, গুণগতমান সম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ, নতুন জাতের ফসলের উপযোগিতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই, ফল, সবজি, ডাল, আলু, তৈল বীজ, গম, ভুট্টা, নারিকেল, তাল ও খেজুরের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের আয়বৃদ্ধিকে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ এ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রটিকে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি রেস্ট হাউস ও রেষ্টুরেন্ট থাকবে। এটিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলার মধ্যে একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত করা হবে।

সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক নির্মাণাধীণ গোপালগঞ্জ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শণ করেছেন। এসময় মন্ত্রী কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। পরে তিনি দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার পরামর্শ দেন। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি গবেষণা, পরমানু কৃষি গবেষণা, কৃষি সম্প্রসারণ, ধানগবেষণা ইনস্টিটিউটের পদস্থ কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop