৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২২ ১:১৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে পানির নিচে হাজার হাজার একর জমির ফসল
কৃষি বিভাগ

পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে ভেঙেছে ধিরাই উপজেলার আরও একটি বাঁধ ভেঙে টাংনী হাওরের বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে জেলার ৫ উপজেলায় গত কয়েকদিনে ডুবে গেছে হাওরের তিন হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের ক্ষেত।

একাধিক বাঁধে ফাটল থাকায় হাওরের বাকি ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন তারা।

এদিকে, উজানের ঢলে উজানের ঢলে তিস্তার আকষ্মিক বন্যায় রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলার তিস্তার চরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধারদেনা করে ফসল ফলানো চাষিরা ফসল হারিয়ে হয়েছেন দিশেহারা। বছরের বাকি সময়গুলো তাদের কিভাবে চলবে তা নিয়ে রয়েছেন বড় দুশ্চিন্তায়।

নদীর বুকে কৃষকের লাগানো কয়েক হাজার বিঘা জমির মরিচ-পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া খেত ডুবে গিয়ে নষ্ট হয়েছে।

ফসল হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিস্তাপারের লাখো কৃষক। চরের চাষিরা বলছেন, ৫০ বছরেও তারা চৈত্র মাসে তিস্তায় এরকম পানি দেখেননি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানালেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পায়। তবে পানি কমতে শুরু করেছে । তিনি আরও জানান, এপ্রিলে এই প্রথম তিস্তায় আকষ্মিক বন্যার ঘটনা ঘটল।

এদিকে নেত্রকোণায় নদীর পানি কমতে থাকায় কিছুটা আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। তবে কীর্তনখোলা বাঁধ ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় শঙ্কা কাটেনি পুরোপুরি। অন্যদিকে, যমুনা, করতোয়া, বড়াল ও হুড়াসাগর নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী প্রায় ২’শ বিঘা জমির বোরো ধান ডুবে গেছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৭, ২০২২ ৩:২১ অপরাহ্ন
চালের উৎপাদন বাড়াতে উচ্চফলনশীল জাতের দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে- কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশে খাদ্যের কোন সংকট নেই, একটি মানুষও না খেয়ে নেই। অথচ বিএনপির একদল নেতা সারাদিন শুধু টেলিভিশনে ও পত্রপত্রিকায় খাদ্য সংকটের কোরাস গেয়ে চলেছে, যা শুনলে মনে হয় দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে, মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে। কিছু বুদ্ধিজীবী ও সুশীলসমাজও এ কোরাসের সাথে সুর মিলিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর ও ঘিওর উপজেলায় ব্রিধান ৮৯ ও ৯২ এর বীজ উৎপাদন মাঠ পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কোরাস গাওয়ার আগে বিএনপি ও সুশীল সমাজকে ২০০১-০৬ সময়ের দিকে ফিরে তাকাতে আহ্বান জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া-তারেক রহমানরা যখন ক্ষমতায় ছিল, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিদিনই মানুষ না খেয়ে থেকেছে, প্রতিবছর মঙ্গায় শত শত মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। সেসময়ের পত্রপত্রিকার পাতা উল্টালেই দেখা মিলে খাদ্যের জন্য হাহাকার আর অনাহারে মৃত্যুর খবর। অন্যদিকে গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগের আমলে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায় নি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, চালের উৎপাদন বাড়াতে উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান ৮৯ ও ব্রি ৯২ দ্রুত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এ দুটি বোরো জাতের ধানের উৎপাদন প্রতি শতাংশে প্রায় ১ মণ।  এটিকে দ্রুত মাঠে নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য এসব জাতের বীজ উৎপাদনের জন্য এবার কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বীজ দেয়া হয়েছে। সারা দেশে জনপ্রিয় করতে প্রয়োজনে কৃষকদেরকে আরও প্রণোদনা দেয়া হবে।

কৃষিজমি রক্ষায় সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, একদিকে করোনা মহামারি রয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে গম আসছে না। ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশেই দুর্ভিক্ষের হাতছানি দেখা যাচ্ছে। সেজন্য, কৃষি উৎপাদনে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে হবে। কাজেই কৃষিজমি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। কৃষিজমি রক্ষায় যে আইন হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সবাই মিলে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। শিল্পায়নও করতে হবে, আবার কৃষিজমিও রক্ষা করতে হবে। এ দুটির মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবছর ধানবীজ উৎপাদনের জন্য মানিকগঞ্জের ১৬টি স্পটে ১০৪৪ বিঘা জমিতে ব্রিধান ৮৯ ও ৯২ এর আবাদ হয়েছে। ৮১৪ জন কৃষক এ বীজ ধান চাষ করেছেন। কৃষকদেরকে নানাভাবে প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার কেজি বীজ। সমলয়ের আদলে একসাথে ধান রোপণ করা হয়েছে, ধান কাটাও হবে একই সময়ে হার্ভেস্টারের মাধ্যমে।

মানিকগঞ্জের উপপরিচালক এনায়েত উল্লাহ জানান, তাদের হিসাবে (১০৪৪ বিঘা জমি থেকে) এবছর জেলায় প্রায় ১ হাজার টন ব্রিধান ৮৯ ও ৯২ ধানবীজ উৎপাদন হবে। যা দিয়ে আগামীবছর ৪০ হাজার হেক্টর বা ১ লক্ষ একর জমিতে ব্রিধান ৮৯ ও ৯২ চাষ করা যাবে; এবং তাতে ৫০ হাজার টন বাড়তি ধান উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে কৃষিসচিব মো: সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক মো: শাহজাহান কবীর, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহা. আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান, কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৭, ২০২২ ১২:৩৩ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ
কৃষি বিভাগ

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি মৌসুমে ৮ শ ৫০ হেক্টর জমিতে ভুূট্টার চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টার ফলন বেশী হওয়ায় এ ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। ভুট্টা চাষে যেমন সেচ খরচ কম তেমনি রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম। এছাড়া পোল্ট্রি, মৎস্য ও গো-খাদ্য হিসাবে দেশজুড়ে ভুট্টার চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। সেইসাথে জ্বালানী হিসাবে ভুট্টাগাছ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, এবছর ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। অধিক হারে চাষ হওয়া ফসল গুলোর মধ্যে রয়েছে আলু, ধান, পাট, সরিষা ও গমের পাশাপাশি ভুূট্টা চাষ করে থাকেন জেলার কৃষকরা। কৃষকদের ভুূট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বিএডিসির পক্ষ থেকে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে কৃষক পর্যায়ে। ভুট্টা চাষে তুলনামূলক শ্রমিক ও পরিচর্যা খরচ কম হওয়ার কারণে এতে লাভ হয় বেশি।

জয়পুরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালজক কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে ভুট্টা, যা গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় একশ হেক্টর বেশী। জেলায় এবার ভুট্রার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার বাম্পার ফলনের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৬, ২০২২ ২:৪৬ অপরাহ্ন
নেত্রকোনায় তরমুজ চাষ করে বিপাকে কৃষকেরা
কৃষি বিভাগ

উন্নত মানের বীজের অভাবে এবছর তরমুজ চাষ করে আশানুরূপ ফলন পায়নি নেত্রকোনার কৃষকরা। ফলন ভাল না হওয়ায় একদিকে লোকসানের আশংকা অন্যদিকে দেনা পরিশোধের দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা।

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী পাহাড়ী এলাকা কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলা। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বেলে-দোআঁশ মাটির কারণে এসব এলাকায় প্রতি বছর তরমুজের ভাল ফলন হয়। তবে, এবছর মৌসুমের শুরুতেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এবছর ভাল বীজ সংগ্রহ করতে পারেনি কৃষকরা। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে তরমুজ চাষে।

পাহাড়ী এলাকার বেলে জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসল ফলন কম হয়। ফলে, তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে। সেই আগ্রহ থেকে এবছর অনেকে ধারদেঁনা করে তরমুজ চাষ করে। কিন্তু এখন ফলন ভাল না হওয়ায় লোকসানে আশংকা করছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলার দুই উপজেলায় ২৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফ এম মোবারক আলী জানিয়েছেন, কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি আগামীতে যাতে বেশি পরিমাণ জমিতে তরমুজের আবাদ করতে পারে সে বিষয়ে সহায়তা করা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৬, ২০২২ ১:২৯ অপরাহ্ন
কেঁচো কম্পোষ্ট তৈরির সহজ উপায়
কৃষি বিভাগ

কেচোঁ মানুষের একটি অন্যতম উপকারী প্রাকৃতিক ক্ষুদ্র প্রাণী। এ প্রাণী যে মাটি চাষাবাদের কাজে উপকারে আসে তা আমরা গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করিনি। প্রধানত কেচোঁ উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে তুলে থাকে। এসব কাজের সাথেই কেচোঁর সারও তৈরি হয়। কেচোঁর দ্বারা জৈব সার তৈরির জন্য এ সাথে তরকারির খোসা, গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ও নাড়িভুড়ি, পাতাসহ পচা আবর্জনারও প্রয়োজন হয়।

ভার্মি বা কেচোঁ কম্পোষ্ট সার প্রস্তুত পদ্ধতি: কেচোঁ কম্পোস্ট তৈরি করতে হলে প্রথমে গর্ত তৈরি করতে হয়। এরপর এসব গর্তে ঘাস, আমের পাতা বা খামারের ফেলে দেয়া অংশ এসবের যেকোনো একটি ছোট ছোট করে কেটে এর প্রায় ২৫ কেজি হিসেবে নিতে হয়।

তবে বসেব আবর্জনা গর্তে ফেলার আগে গর্তেও তলদেশসহ চারপাশে পলিথিন দিয়ে মুড়ে দিতে হবে। এতে করে গর্তের কেচোঁ পিট থেকে বাইরে যেতে পারবে না।

কেচোঁ কম্পোস্ট তৈরির জন্য প্রথমেই পলিথিন বিছানোর পরে গর্তের নিচে ১৫ সে. মিটার পুরু করে বেড বানাতে হবে। এ বেড তৈরির জন্য ভাল মাটি ও গোবর সমপরিমাণে মিশাতে হবে এবং এসব মিশানো গোবর ও মাটি পরে কেচোঁর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কেচোঁর জাত: সাধারণত এসব কম্পোস্ট তৈরির কাজে দুই ধরনের কেচোঁর জাত রয়েছে। তাহলো-এপিজিক ও এন্ডোজিক নামের। এপিজিক জাতগুলো দেখতে লাল রংঙের এরা মাটির উপরের স্তরেই বিচরণ করে থাকে। এরা সাধারণত সার উৎপাদন করতে পারে না তবে এরা মাটির ভৌত ও জৈব গুণাবলির উন্নতি করে।

বেডে যেভাবে কেঁচো ছাড়তে হবে: কেচোঁ কম্পোস্ট তৈরির জন্য এসব গর্ত গোবর ও মাটি দিয়ে ভর্তি করার পর এতে প্রায় ২ হাজার কেচোঁ প্রয়োগ করতে হয়। কেচোঁ প্রয়োগের পর গর্তের উপরিভাগ পাটের ভিজানো চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং সারের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য গর্তেও উপরিভাগে ছায়া প্রদানের ব্যবস্থা খুবই জরুরি।

এসব কেচোঁ যেসব খাবার খায় তা গর্তে নিয়মিতভাবে সরবরাহ করতে হবে। কেচোঁর খাবারের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় ঘাস, খামারজাত পদার্থ, আখের ও কলার ফেলে দেয়া অংশ এসব। এয়াড়া এসব অংশ মাটিতে পচে জৈব সারও তৈরি হয়। সাধারণত পিপঁড়া, উইপোকা, তেলেপোকা, মুরগী, ইঁদুর পানি এসব কেচোঁর বড় শত্রু। এরা যেন কেচোঁর কাছে না আসতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হয়।

কেচোঁ কম্পোস্টের উপাদানঃ

উপাদান     শতকরা হার
নাইট্রোজেন   ১.০
ফসফেট       ১.০
পটাশিয়াম    ১.০
জৈব কার্বন  ১৮.০
পানি           ১৫-২৫

অন্যান্য কম্পোস্ট তৈরির চেয়ে কেচোঁ কম্পোস্ট তৈরি করতে সময় কম লাগে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে একটি আদর্শ ভার্মিকম্পোস্ট ১.৫৭% নাইট্রোজেন, ১.২৬% ফসফরাস, ২.৬০% পটাশ, ০.৭৪% সালফার, ০.৬৬% ম্যাগনেশিয়াম, ০.০৬% বোরণ রয়েছে। এছাড়া কেচোঁ কম্পোস্টে অন্যান্য কম্পোস্টের চেয়ে প্রায় ৭-১০ ভাগ পুষ্টিমান বেশি থাকে।

জমিতে কেঁচো কম্পোস্ট ব্যবহারের সুফলঃ-

১.কেঁচো কম্পোস্ট মাটিকে সমৃদ্ধ করে ও মাটির পুষ্টিমান বৃদ্ধি করে।

২.কেঁচো কম্পোস্ট মাটিতে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করে এবং বেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৩.মাটিতে উপকারী অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে এবং সবজি ফসলে মালচিং এর কাজ করে।

৪.কম্পোস্ট সার মাটির ভৌত রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণ বৃদ্ধি করে।

৫.এ সার ব্যবহারে পানির অনুপ্রবেশ ও শিকড়ের বৃদ্ধি ঘটে এবং মাটিতে বায়ু চলাচল বাড়ে।

৬.এ সার ব্যবহারে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং উৎপাদিত ফসলের গুণগতমান ভালো হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৫, ২০২২ ৩:৪২ অপরাহ্ন
হাওরে ঢলের পানিতে ডুবছে বোরো ধান
কৃষি বিভাগ

পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জে নদ-নদীগুলোতে পানি হু হু করে বেড়েই চলছে। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের প্রায় ২ হাজার একর জমির বোরো ধান। পানির চাপে বাঁধের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অসময়ে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

এদিকে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ধনু নদের পানির বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।উজানের পানিতে ডুবে গেছে প্রায় ৫০০ একর জমির বোরো ধান। হাওরের পানিতে ডুবে যাওয়া কাঁচা ধান কাটতে শুরু করেছেন তারা কৃষকেরা।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা প্রায় ছুঁই ছুঁই করছে। নজরখালি বাঁধ ভেঙে টাঙ্গুয়ার হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে তলিয়ে গেছে প্রায় ২ হাজার একর জমির ফসল। এছাড়া, জেলায় ছোট বড় অনেক হাওরের ফসল হুমকিতে রয়েছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলার অনেক বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার কাংলার হাওর এবং ধর্মপাশা ও শাল্লার কয়েকটি হাওরে পানি প্রবেশ করছে। সেগুলো সংস্কারে নেমেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফসল বাঁচাতে স্থানীয়রাও কাজ করছেন স্বেচ্ছাশ্রমে।

বাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জানালেন, নির্ধারিত সময়ে বাঁধের কাজ শুরু হতে বিলম্ব ও কাজ শেষ না হওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে।

এদিকে, নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি বেড়ে হুমকির মুখে পড়েছে হাওরাঞ্চলের ৪১ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরই মধ্যে খালিয়াজুরী এবং মদনে ১২৩ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে।

তবে, পানি আরো বাড়লে নিুাঞ্চলের বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৪, ২০২২ ৪:০৫ অপরাহ্ন
মরিচের ফুল ঝরে পড়ার কারণ ও তার প্রতিকার
কৃষি বিভাগ

মরিচ একটি ভিটামিন সি মসলা জাতীয় ফসল। কাঁচামরিচ সবজি ও সালাদ হিসেবে এবং বিভিন্ন ধরনের ভাজি ও তরকারিতে ব্যবহৃত হয়।মরিচ ছাড়া আমাদের চলেই না! বাংলাদেশে জনপ্রিয় একটি ফসল মরিচ।  মরিচ চাষ করে চাষিরা ব্যাপক লাভবান হচ্ছে, আবার  চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সমুক্ষিন হচ্ছে বেশ কয়েকটি কারণে ।

মরিচ উৎপাদনে রোগবালাই একটি প্রধান প্রতিবন্ধক।এর মধ্যে অন্যতম মরিচের ফুল ঝরে যাওয়া।এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ফলন অনেক বৃদ্ধি পায়।একটি ভুল ধারণা হলো বোরন সার এর অভাবেই গাছে ফুল ঝরে যাওয়া। কিন্তু না, আরো অনেক কারণ রয়েছে  ফুল ঝরার । চলুন জেনে নেয়া যাক মরিচের ফুল ঝরার কারণ  এবং এর প্রতিকার।

মরিচের ফুল যেসব কারণে ঝরে পড়ে:

১) দিনের তাপমাত্রা ৩০℃ এর বেশি হলে এবং রাতের তাপমাত্রা ১৬℃ এর  নিচে হলে ।
২) অতিবৃষ্টি হলে।
৩) গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে ।
৪) ফুল এর পরাগায়ন হতে না পারলে।
৫) ফুল আসা গাছে মাটিতে সার প্রয়োগ করলে ।
৬) NPK এর পরিমাণ কমে গেলে।
৭) শোষক জাতীয় পোকা( সাদামাছি, জাব , জ্যাসিড)  যাদের খালি চোখে সহজে দেখা যায় না তাদের আক্রমণে ফুল ঝরে যায়।
৮) মাটিতে যদি বোরণ সার না দেয়া হয় তাহলেও ফুল ঝরে যাবে।

রোগের প্রতিকার

১) গাছের মাটি বেলে দোয়াশ হতে হবে এবং মাটির পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা ভালো থাকা জরুরি।  গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে।
২) অতি পরিমানে কীটনাশক স্প্রে করলে উপকারী পোকা মারা যায়, তখন পরাগায়ন হয় না।
৩) সুষম পরিমানে সার প্রয়োগ।
৪) জাব পোকা, জ্যাসিড পোকা, সাদা মাছি, ইত্যাদি শোষক পোকার আক্রমণ রোধে ইমিডাক্লোপ্রিড স্প্রে  ১মিলি/লিটার হারে স্প্রে করতে হবে ।
৫) হরমোন স্প্রে করা যেমন জিব্রেলিক এসিড অথবা ট্রায়াকন্টোনল ৭ দিন পর পর ৩-৪ বার।
তাছাড়া অন্যান্য ফল গাছের ফুল ঝরে পড়ার জন্য শোষক পোকা,অতি বৃষ্টিপাত , সার ব্যবস্থাপনা, বোরন সার এর ঘাটতি, পরাগায়ন এর অভাব, উপকারী পোকার মৃত্যু দায়ী।

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ইশমাম
বিএসসি ইন এগ্রিকালচার( চলমান)
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল: [email protected]

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৪, ২০২২ ১০:০০ পূর্বাহ্ন
স্বল্প আলোয় ক্যাপসিকাম চাষে খুবি শিক্ষার্থীর সাফল্য
কৃষি গবেষনা

গবেষণায় স্বল্প আলোয় ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ চাষে সাফল্য পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী মো. সোহেল রানা। খুবির এগ্রো-টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নানের তত্ত্বাবধানে জার্মপ্লাজম সেন্টারে এ গবেষণা করা হয়।

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহেল গবেষণায় লাল, হলুদ, সবুজ, কমলা, বেগুনি ক্যাপসিকাম নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি স্বল্প রৌদ্র-আলোতে মালচিং শিট ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ক্যাপসিকাম চাষ করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, ছায়াযুক্ত স্থানে ক্যাপসিকাম চাষ করা হলেও প্রতিটি গাছে প্রায় ১০-১৫টি ও সর্বোচ্চ ২০টি ক্যাপসিকাম ধরেছে ও প্রতিটি ক্যাপসিকামের ওজন প্রায় ৭০-২০০ গ্রাম। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৭০০-৯০০ গ্রাম পাওয়া গেছে।

দেখতে অনেক সাধারণ হলেও ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ কিন্তু মোটেও সাধারণ নয়। দেখা গেছে প্রতি ১০০ গ্রাম ক্যাপসিকামে রয়েছে- ৮৬০ মিলিগ্রাম প্রোটিন ৪.৬০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ১.৭০ মিলিগ্রাম স্নেহ, ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৩৭০ আইইউ ভিটামিন এ। এছাড়াও এতে আছে ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, থায়ামিন, লেবোফ্লেবিস ও ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিংক, কপারের মত উপকারি সব উপাদান। যা নানাভাবে আমাদের দেহের জন্য ভীষণ উপকারী।

১। ক্যাপসিকামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। আর এই ভিটামিন সি আমাদের দেহে নানাভাবে উপকার করে থাকে। ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সহায়তা করে।ফলে আয়রনের অভাব দূর হয় এবং রক্তাল্পতার মতো রোগও প্রতিরোধ করে।  এছাড়াও ভিটামিন সি আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য অনেক উপকারী। এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দাঁত এবং দাঁতের মাড়ির সুরক্ষায় ভিটামিন সি অনেক উপকারী। এর ভিটামিন-এ ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, দৃষ্টিশক্তি সজাগ রাখতে সাহায্য করে।

২। সবুজ ক্যাপসিকামের আছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম । যা আমাদের পেশির সংকোচন-প্রসারণে সাহায্য করে।ক্যাপসিকামের ক্যাপসাইসিন উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রনে রাখতে সহায়তা করে । এছাড়াও এতে আছে লাইকোপেন নামক এক প্রকার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পিগমেন্ট । যা আমাদের স্তন ও প্রস্টেটের ক্যানসার রুখতে সাহায্য করে। লাল ক্যাপসিকামে থাকা জেক্সানথিন ও লুটেনের সাহায্যে চোখের ছানি প্রতিরোধ হয় এবং এটি পেশির ক্ষয় রুখতে সাহায্য করে।

৩।  ক্যাপসিকাম আমাদের অতিরিক্ত ওজন কমায়। কারণ এতে থাকা অ্যাক্টিভেটিং থার্মোজেনেসিস এবং হজম শক্তি উন্নত করার ক্ষমতা আমাদের তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে সাহায্য করে। একই সাথে ক্যাপসিকাম আমাদের দেহের বাড়তি ক্যালরি পূরণ করে। এতে হাই ফ্যাট থেকে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায় ।ক্যাপসিকাম জুস আমাদের হজম সংক্রান্ত নানা সমস্যা ও পেটের বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়রিয়া, গ্যাস, অ্যাসিডিটি দূর করে। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় ক্যাপসিকাম খুবই উপকারী। এটি পাকস্থলীর আলসার বা ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।

৪। ক্যাপসিকামে আছে অ্যালকালোয়েড, ফ্লেবোনয়েড এবং ক্যানিনের মত উপকারী উপাদান। অ্যালকালোয়েড অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ক্যানিন বিভিন্ন আন্ত্রিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।এছাড়াও ক্যাপসিকাম আমাদের যেকোনো ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। মাইগ্রেন, সাইনাস, ইনফেকশন, দাঁতে ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ইত্যাদি ব্যথা দূর করতে দ্রুত কাজ করে এটি। একই সাথে এটি আমাদের সি সিকনেস বা সমুদ্রে যাওয়ার কারণে  অসুস্থতা, ম্যালেরিয়া, জ্বর ইত্যাদি রোধে  বেশ কার্যকর।

৫। ক্যাপসিকামে রয়েছে লাইকোপেন। যা আমাদের বিভিন্ন কার্ডিওভ্যস্কুলার ডিজিস থেকে দূরে রাখে এবং হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে। এতে থাকা ভিটামিন কে আমাদের দেহের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে। ত্বক পরিষ্কার রাখতে ক্যাপসিকাম বেশ উপকারী। এটি ত্বকের র‍্যাশ ও ব্রণ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এটি বাতের ব্যাথা কমায়। এতে থাকা ভিটামিন-সি আমাদের কোলাজেন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যা আমাদের দেহের ত্বক ও হাড়ের সন্ধিকে পরিপোষণ করে।এছাড়াও এটি হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে এবং কোষের ক্ষয় রোধ করে।

৬। ক্যাপসিকামে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং বিটা ক্যারোটিন।  যা আমাদের দৃষ্টিশক্তির বিভিন্ন সমস্যা দূর করে এবং আমাদের দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী  করে। এতে থাকা ভিটামিন-এআমাদের চোখের জন্য বিশেষত রাত্রিকালীন দৃষ্টির জন্য ভাল। এছাড়াও এতে থাকা ক্যারোটেনয়েড বয়স জনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা ম্যাকিউলার ডিজেনারাইজেশনের সম্ভাবনা অনেক কমিয়ে দেয়।

এ গবেষণার উদ্দেশ্যের ব্যাপারে গবেষক জানান, ক্যাপসিকাম বিদেশি সবজি হওয়ায় বড় বড় হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং দাম অন্য সবজির তুলনায় অনেক বেশি। এর বাজার মূল্য প্রতি কেজি ২০০-৩০০ টাকা এবং প্রতিটি গাছে ৩০-৪০ টাকা খরচ করে ১৫০-২০০ টাকা আয় করা সম্ভব। এটি চাষ করলে কৃষকেরা স্বাবলম্বী হবে ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটাবে।

ক্যাপসিকাম চাষে সবচেয়ে বড় বাধা হল বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ, বিশেষ করে এফিড, থ্রিপস, সাদা মাছি। এ জন্য চারা লাগানোর পরের দিনই ইমিডাক্লোরোফিড বা এসিটামপিড গ্রুপের কিটনাশক যেমন বিল্ডার বা তুন্দ্রা ব্যবহার করতে হয়।

জমি তৈরির সময় রাসায়নিক সারের সাথে কার্বফুরান গ্রুপের ফুরাডান ব্যবহার করলে গাছে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট হয় না। ক্যাপসিকামের প্রথম ফুল অবশ্যই ঝরে পড়ে এবং ফুল ঝরে পরা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্লান্ট গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া চিলি লিফ কার্ল ভাইরাস ক্যাপসিকামের জন্য খুবই ক্ষতিকর। গাছ ভাইরাস আক্রান্ত হলে তা তুলে জমি থেকে দুরে মাটি চাপা বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হয়। এ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষায় এর ভেক্টর দমন করতে হয়। সাধারণত সাদা মাছি, এফিড বা জাব পোকা, থ্রিপস এই ভাইরাসের ভেক্টর হিসেবে কাজ করে।

এফিড ও থ্রিপস দমনে নিম ওয়েল ও কেওলিন (অরগানিক) ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া গেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ভালো মানের কেওলিন সচরাচর পাওয়া যায় না। সাদা মাছি ও এফিড দমনে ল্যাম্বডা সাইহেলোথ্রিন ও যায়ামেথোক্সেম গ্রুপের কীটনাশক ক্যারেট ও অলটিমো প্লাস বা এসিটামিপ্রিড গ্রুপের তুন্দ্রা ব্যবহার করা হয়। থ্রিপস দমনে স্পিনোসীড গ্রুপের ক্যারেট/ম্যনসার/এবেরন।

মাকড়ের আক্রমণ হলে পাতা নিচের দিকে কুচকে যায় এবং ভাইরাসের আক্রমণে পাতা উপরের দিকে কুচকে যায়। মাকড় দমনে ভার্টিমেক/ইন্ট্রাপিড,অ্যাবেমকটিন কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। প্রতিবার কীটনাশক স্প্রে করার সময় ছত্রাকনাশক হিসেবে এন্ট্রাকল বা কার্বেন্ডাজিম, মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক দিতে হয়। পোকামাকড় কীটনাশক প্রতিরোধী হওয়ায় স্প্রে করার সময় কীটনাশক পরিবর্তন করতে হয়।

ক্যাপসিকাম চাষে ভালো ফলনের পূর্বশর্ত জাত নির্বাচন। মানসম্মত ক্যাপসিকাম চাষের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা ১৬-২১° সেলসিয়াস। সাধারণত নভেম্বর মাসে চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।

সবুজ ক্যাপসিকাম ৯০-১০০ দিনের মধ্যে তোলার উপযোগী হয় যেখানে লাল, হলুদ, বেগুনী, কমলা ১২৫-১৩৫ দিন সময় লাগে। সাধারণত সারি থেকে সারি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৪৫ সে. মি. রাখা হয়। ক্যাপসিকাম বৃষ্টি বা উত্তাপ কোনটাই পছন্দ করে না। সবকিছু ঠিক থাকলে হেক্টর প্রতি ২০-২৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

মোঃ আমিনুল খান

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৩, ২০২২ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
বিএনপির আমলে মঙ্গায় প্রতিদিন মানুষ না খেয়ে থেকেছে, মারাও গেছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে বিএনপির আন্দোলন, অনশন করা শোভা পায় না, বরং তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। পত্রপত্রিকা ও রেকর্ড থেকে প্রমাণ দিয়ে বলতে পারি, তাদের শাসনামলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে প্রতিবছর মঙ্গা হয়েছে। লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন চর, নদীভাঙন এলাকায় প্রতিদিন মানুষ না খেয়ে থেকেছে, তাদের হাড্ডিসার পান্ডুর চেহারা আমরা দেখেছি। বিএনপি জোটের আমলে আশ্বিন-কার্তিক মাসে প্রায় প্রতিদিনই মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। কিন্তু অন্যদিকে গত ১৩ বছরে আজকের দিন পর্যন্ত আওয়ামীলীগের আমলে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায় নি। না খেয়ে মানুষ মারা গেছে, এমন একটা খবরও আসে নি, ইনশাল্লাহ আর কোনদিন আসবে না। আওয়ামীলীগের আমলে কোন মানুষ না খেয়ে মারা যাবে না।

শনিবার টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপিজোট, তথাকথিত সুশীল সমাজ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ফায়দা নেয়ার অপচেষ্টা করছে। ১৯৭৪ সালে এই অপশক্তি কুড়িগ্রামের বাসন্তীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাল পরিয়ে দুর্ভিক্ষের অপপ্রচার ছড়িয়ে বিশ্বে দেশের ও বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছিল। তেমনিভাবে বিএনপিসহ এই অপশক্তি দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার ছড়াতে চাইছে। ক্ষমতার জন্য ‘ বাসন্তী প্লট’ তৈরি ও তা প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এ সুযোগ আর তারা পাবে না,দেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না।

কিছুকিছু নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও দেশে খাদ্যের কোন সংকট ও হাহাকার নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, করোনা ও ইউক্রেন- রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি কিছুকিছু নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু খাদ্যের কোন সংকট নেই। দেশে খাদ্য নিয়ে এমন কোন পরিস্থিতি তৈরি হয় নি যার জন্য অনশন, মানববন্ধন বা হরতাল করতে হবে। মোটা চালের দাম গত ২ মাস বাড়ে নি। পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী, কৃষকেরা এখন দাম বাড়াতে চাপ দিচ্ছে। আলুর দাম কম, কৃষকেরা দাম বাড়াতে চাপ দিচ্ছে। রোজা শুরু হচ্ছে, বেগুনের দামও স্থিতিশীল। তারপরও বর্তমান সরকার মানুষের কষ্ট লাঘবে ১ কোটি পরিবারকে কমমূল্যে নিত্যপণ্য দেয়াসহ নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য লে. কর্ণেল (অব) মুহা. ফারুক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মঙ্গার দেশ থেকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো- দেশের মানুষ যখন এগিয়ে যায়, বিশ্বের মানুষ যখন স্বীকার করে বাংলাদেশ উন্নয়নে দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ও উন্নয়নের রোল মডেল, তখন দেশের ভিতরে বিএনপি জামায়াত কুচক্রীরা বাংলাদেশকে ও এ দেশের মানুষকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুজব রটনা করে, মিথ্যাচার করে ও ষড়যন্ত্র করে। দেশের ভিতরে ও দেশের বাইরে তাদের প্রভুদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছার, উদ্বোধক হিসেবে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুনার রশিদ হীরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ২, ২০২২ ৪:০১ অপরাহ্ন
বরিশালের বাবুগঞ্জে ডিজিটাল গ্রাম মেলা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের বাবুগঞ্জে ডিজিটাল গ্রাম মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ উপজেলার মধ্য রাকুদিয়ায় আইপিএম কৃষক ক্লাবের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহ মো. আরিফুল ইসলাম। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি রিতা ব্রহ্মের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর প্রতীক রত্তন আলী শরীফ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক এবং বরিশাল ভোরের আলো প্রত্রিকার সম্পাদক সাইফুর রহমান মিরন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান, মধ্য রাকুদিয়া আইপিএম কৃষক ক্লাবের উপদেষ্টা ডা. সেকান্দর আলী, সমাজ সেবক মো. খাদেম হোসেন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশ এখন ডিজিটালাইজড। ঘরে বসেই কৃষিসহ যেকোনো সেবা পাওয়া যায়। ফসলের প্রাথমিক সমস্যার সমাধান একটি মোবাইলের মাধ্যমে সম্ভব। এ ধরনের সুবিধার কারণে গ্রাম শহরে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা আইসিটির সদ্ব্যবহার করি। দেশকে আরো এগিয়ে নেই।

মেলায় বিনোদনসরূপ ছিল হাড়িভাঙ্গা ও লাঠি খেলার প্রতিযোগিতা। আর সন্ধ্যায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। মেলায় আগত দর্শণার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। সারাদেশে একযোগে ৫৫ টি স্থানে এ ধরনের মেলা উদযাপন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop