১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২১ ২:৪৬ অপরাহ্ন
চলছে কোরবানির প্রস্তুতি, সারাদেশে হাট বসবে ২,৪০০টি
প্রাণিসম্পদ

এগ্রিভিউ ডেস্ক: কোরবানির পশু প্রস্তুতির চলছে একেবারে শেষ সময়। খামারিরা ইতোমধ্যে গরু ছাগল করা শুরু করে দিয়েছেন। করোনার প্রাদুর্ভাবে এবারের কোরবানি গুরুর বেচা-কেনা একটু অন্যরকম হলেও থেমে নেই খামারিরা।ইতোমধ্যে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রয়ের প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। অনলাইনে বিক্রিও হচ্ছে অনেক।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গবাদি পশুর খামার রয়েছে ১২ হাজার ৩৭০টি। তারা এবার কোরবানির জন্য প্রায় ১ লাখ গরু প্রস্তুত করেছে। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে পশু বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খামারিরা। জেলার প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের তথ্য মতে জানা যায়, খামারে কোরবানির জন্য এক লাখ ৭৭ হাজার পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার।

ঝিনাইদহের ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮ হাজার খামারি প্রায় ৭১ হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত করেছে। তবে, গত কোরবানিতে গরুর দামে ধস নামলে এবার পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা থাকলেও করোনাভাইরাস এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা কাজ করছে সেখানকার খামারিদের মাঝে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, করোনার প্রভাব থাকলেও অনলাইনে গবাদি পশু বিক্রি হবে। ফলে ভারতীয় সীমান্তের জেলা ঝিনাইদহের চাষিরা সঠিক দাম পাবেন।

ঝিনাইদহের প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ছোট-বড় ও ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র খামার রয়েছে ১৭ হাজার ৪৫০টি। এসব খামারে আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুতকৃত গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৪১৫টি। এছাড়া ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৫৪ হাজার ৪৪৪টি। ঝিনাইদহে সরকারিভাবে বড় ধরনের কোনো খামার বা গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প না থাকলেও গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষগুলো বাড়তি লাভের আশায় কোরবানিকে সামনে রেখে গরু-ছাগল লালন-পালন করে থাকেন। তবে গরু পালনে তারা কোনো ক্ষতিকারক ইনজেকশন ব্যবহার করেন না বলে দাবি করেন।

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলায় এবার পাঁচ হাজার ২১২ জন খামারি ৪৭ হাজার ৭৮৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এই পশুগুলোর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৬৮টি ষাঁড়, দুই হাজার ৩১৯টি বলদ, দুই হাজার ৪০৪টি গাভি, ৯টি মহিষ, ১২ হাজার ২৩৯টি ছাগল এবং দুই হাজার ২৫০টি ভেড়া রয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে খুলনা মহানগরী, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা কয়রায় উত্তরাংশ, দাকোপ, রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও ফুলতলা গবাদি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।

এছাড়াও দেশের বিভিন্নস্থানে চলছে কোরবানির গরু প্রস্তুতের আয়োজন। খামারিদের মাঝে চলছে দারুণ আনন্দ আবার উৎকণ্ঠা। গত বছরের ধস কাটিয়ে এবার ঈদের লাভ করার চেষ্টায় খামারিরা মরিয়া। তবে করোনার ছোবলের কারণেও এবারও কঠোর লকডাউনে নিজেরাই ডাউন হবার শঙ্ক প্রকাশ করছেন অনেক খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গরু, ছাগল, ভেড়া ও উট মিলিয়ে মোট ১ কোটি ১৯ লাখের মতো পশু রয়েছে, যা কোরবানি উপলক্ষে হাটে উঠবে এবার।

জানা যায়, গত বছর দেশে ৯৫ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল, যদিও প্রাক্কলন ছিল ১ কোটি ১০ লাখ। বিপরীতে বাজারে আনার মতো পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ। তবে হাটে কেনাবেচা শুরুর প্রথম দিকে দাম কম থাকায় খামারিরা গরু–ছাগল বিক্রিতে নিরুৎসাহিত হন। এতে ২৩ লাখের মতো পশু অবিক্রীত থাকে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এবার ঈদুল আজহায় ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল ও ভেড়া এবং ৪ হাজার ৭৬৫টি উট-দুম্বা উঠতে পারে। গত বছর গরু–মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছিল ৪৫ লাখ ৩৮ হাজারটি।

এবারের ঈদুল আজহাকেন্দ্রিক গবাদিপশু বিক্রির জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৪০০টি আনুষ্ঠানিক হাট বসানো হবে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে মোট ২৩টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী হাট বসবে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন বলছে, আনুষ্ঠানিক হাটগুলোতে যাতে ভিড় কম হয়, সে জন্য বিভিন্ন এলাকায় খালি ও উন্মুক্ত স্থানে ছোট ছোট অনানুষ্ঠানিক হাট বসানোকেও উৎসাহিত করা হবে। অনলাইনেও গরু বিক্রির জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা যায়।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান জানান, হাটে জনসমাগম কমাতে অনলাইন গবাদিপশু বিক্রিতে জোর দিতে হবে। রাজধানীর মতো দেশের অন্য জেলাগুলোতেও অনলাইনে গরু-ছাগল বিক্রি করা এবং জবাই করে মাংস ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ আরও বাড়ানো দরকার।

এগ্রিভিউ/এসএমএ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২১ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
প্রোটিন কী ও কেন দরকার (পর্ব-১)
প্রাণিসম্পদ

ড. খালেদা ইসলাম, অধ্যাপক, পুষ্টিও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:

বেঁচে থাকা ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজন খাদ্য আর এই খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদন হলো- প্রোটিন বা আমিষ। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় থেকে শুরু করে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। আমিষ বা প্রোটিন মূলত কার্বন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন- এগুলোর সমন্বয়ে গঠিত। প্রোটিন অণু প্রায় ২০টি বিভিন্ন রকম অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত হয়। এই অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলোর সংযুক্তি আমিষের পুষ্টিগত দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে আমিষ খাবারের ভালো উৎস থাকা সত্ত্বেও গুণমান সম্পন্ন আমিষ গ্রহণের পরিমাণে ঘাটতি রয়েছে। অধিক জনগোষ্ঠীর এই দেশে আমিষ ঘাটতির নানাবিধ কারণ রয়েছে। আমিষ জাতীয় খাদ্যের দাম অধিক হওয়ার কারণে ব্যাপক জনগোষ্ঠী তাঁদের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাদ্য অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন না। ফলে আমাদের মত দেশে খাদ্যে আমিষ ঘাটতি থাকাটা অতি স্বাভাবিক একটি ঘটনা।

শতকরা ৬০ ভাগেরও অধিক আমিষ আমরা গ্রহণ করে থাকি বিভিন্ন প্রকার শর্করাজাতীয় খাবার থেকে যেখানে শতভাগ পরিপূর্ণ গুণগতমানসম্পন্ন আমিষ সাধারনত থাকেনা। এমনকি ঐ ধরনের আমিষে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের ঘাটতি থাকায় সুষম আমিষ গ্রহণ থেকেও অনেকে বঞ্চিত হন।

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে আমিষের পুষ্টিমান। যে আমিষে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের মাত্রা মানুষের দেহের চাহিদার যত কাছাকাছি, সে আমিষের পুষ্টিমূল্য তত বেশি। আমিষের জৈব মান দিয়ে এর পুষ্টিমূল্য নির্ধারণ করা হয়। যে আমিষের জৈবিক মান ১০০ সে আমিষকে আদর্শ আমিষ বলা হয়। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে, সাধারণভাবে উদ্ভিজ্জ আমিষের তুলনায় প্রাণিজ আমিষের জৈবিক মান বেশি হয়ে থাকে।

প্রোটিনের উৎস

উৎস অনুযায়ী আমিষকে প্রধানত: দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা:

১. প্রাণিজ আমিষ: যে আমিষগুলো প্রাণিজগৎ থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে প্রাণিজ আমিষ বলে। যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি। এ জাতীয় প্রোটিনকে প্রথম শ্রেণীর প্রোটিনও বলা হয়।

২. উদ্ভিজ্জ আমিষ: উদ্ভিদ জগৎ থেকে প্রাপ্ত আমিষকে উদ্ভিজ্জ আমিষ বলে। যেমন: ডাল, বাদাম, সয়াবিন, শিমের বিচি, ইত্যাদি। উদ্ভিজ্জ আমিষকে দ্বিতীয় শ্রেণীর আমিষ বলে।

প্রতিদিন উদ্ভিজ্জ আমিষের পাশাপাশি কিছু প্রাণিজ আমিষও গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশে সহজলভ্য প্রাণিজ প্রোটিনের মধ্যে অধিক প্রাধান্য পায় মুরগির মাংস ও ডিম। দামে ও গুণের বিচারে এই দু’টো প্রাণিজ প্রোটিন সর্বোৎকৃষ্ট। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাণিজ আমিষের ৪০ শতাংশ আসে পশু-পাখি থেকে এবং এর এক-তৃতীয়াংশ আসে পোল্ট্রি থেকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী- বার্ষিক মাংসের চাহিদা ৭২ দশমিক ১৪ লাখ মেট্রিক টন হলেও প্রকৃত উৎপাদন ৭২ দশমিক ৬০ লাখ মেট্রিক টন। দেখা যাচ্ছে- প্রতিদিন খাবার মেন্যুতে একজন ব্যক্তি মাংস পাচ্ছে ১২২ দশমিক ১০ গ্রাম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালে মাথাপিছু ডিমের বাৎসরিক প্রাপ্যতা ছিল ১০৪ টির কিছু বেশি। ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ১৬৫টি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ২০৮টি তে উন্নীত হবে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সে হিসাব অনুযায়ী ২০৩১ ও ২০৪১ সাল নাগাদ দেশে ডিমের বাৎসরিক উৎপাদন দাঁড়াবে যথাক্রমে প্রায় ৩২৯৩৪ মিলিয়ন এবং ৪৬৪৮৮ মিলিয়ন।

 

কেন প্রোটিন খাবেন?

আমাদের শরীর নিজ থেকে প্রোটিন তৈরি করতে পারে না, তাই বিভিন্ন খাদ্য থেকে প্রোটিন সংগ্রহ করতে হয়। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্লাইকোজেন হিসেবে শরীরে জমা থাকে কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত চর্বিগুলো অতিরিক্ত চর্বি হিসেবেই জমা থেকে যায় আর এর ফলেই নানাবিধ জটিলতা দেখা দিতে থাকে।

প্রোটিন ছাড়া কোনো প্রাণীর অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। তাই প্রোটিনকে সকল প্রাণের প্রধান উপাদান হিসেবেও গণ্য করা হয়। আমাদের শরীরের প্রধান প্রধান কাজগুলো করার জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন হয়।

আমাদের ত্বক, চুল, আঙুল, হাড়, রক্ত ইত্যাদির জন্য প্রোটিনের প্রয়োজন। মূলত দেহের নানা অংশকে একত্রে ধরে রাখে প্রোটিন। আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখার জন্যও প্রোটিন প্রয়োজন।

– এছাড়া দেহের নানা অংশে পুষ্টি পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রোটিন দরকার। সুস্থ চুল ও নখের জন্যও প্রোটিন খুবই প্রয়োজন।
– শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি সাধন ও দেহ গঠন করে।
– আমাদের দেহের কোষগুলো প্রতিনিয়তই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয়প্রাপ্ত স্থানে নতুন কোষ গঠন করে ক্ষয়পূরণ করতে এবং কোনো ক্ষতস্থান সারাতে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।
– দেহে চর্বি ও শর্করার অভাব দেখা দিলে প্রোটিন তাপশক্তি উৎপাদনের কাজ করে।
– রোগ সৃষ্টিকারী রোগজীবাণুকে প্রতিরোধ করার জন্য দেহে অ্যান্টিবডি তৈরী করা আমিষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
– মস্তিস্কের গঠন বা মানসিক বিকাশে আমিষ অপরিহার্য্য।
– দেহে আমিষের অভাব থাকলে বর্ধনশীল শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
– দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যে আমিষের ঘাটতি থাকলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, মেধা ও বুদ্ধি কমে যায়। তাই আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
– দেহস্থ উৎসেচক ও হরমোন তৈরি করা এবং অপরিহার্য্য অ্যামিনো অ্যাসিডের চাহিদা পূরণ করা প্রোটিনের একটি অন্যতম কাজ।
– এটি দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আবশ্যিক উপাদান।
– রক্ত ধারায় প্রবাহিত অক্সিজেনের বাহক। এবং
– কখনও কখনও শক্তির উৎস হিসেবেও কাজ করে।

 

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বনাম প্রাণিজ প্রোটিন

– উদ্ভিজ্জ খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ প্রাণীজ খাবার থেকে কম।
– উদ্ভিজ্জ খাবারে অত্যাবশ্যকীয় নয়টি অ্যামিনো অ্যাসিডর একটি হলেও অনুপস্থিত থাকে।
– প্রাণিজ প্রোটিন থেকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে খাবার এলার্জি ও সেন্সটিভিটি অধিক হয়ে থাকে। আমাদের অতি পরিচিত ৫টি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ফুড এলারজেন হল- গ্লুটেন, সয়া, ভুট্টা, সব ধরণের বাদাম ও চিনাবাদাম।
– প্রাণিজ প্রোটিন থেকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে পরিপাকযোগ্যতা ও জৈবমান কম থাকে। যেমন- প্রাণিজ প্রোটিন যেখানে ৯৪% পরিপাকযোগ্য, সেখানে ভুট্টা ও শুঁটিজাতীয় মাছের পরিপাকযোগ্যতা ৭০%।

 

আমাদের দেহে প্রোটিনের চাহিদা

একজন পুরুষ কিংবা নারীর দৈনিক কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন তার একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। এটি একজন মানুষের সুস্থ্য থাকার জন্য চাহিদার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। তবে দেহের ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক কর্মকান্ডের ওপরও প্রোটিনের চাহিদার কমবেশি হয়ে থাকে। কারো দেহের ওজন যদি ৯০ কেজি হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই ৭০ কেজি ওজনের ব্যক্তির তুলনায় তার প্রোটিনের চাহিদা বেশি হবে। এ ছাড়া যারা সারাক্ষণ বসে কাজ করেন তাদের তুলনায় যারা দাঁড়িয়ে কিংবা অধিক পরিশ্রমের কাজ করেন তাদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেহের প্রতিকেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম থেকে এক গ্রাম অনুপাতে প্রোটিন খাওয়া প্রয়োজন। তাঁরা বলেছেন, একজনের দৈনিক ক্যালরি চাহিদার ৩০ শতাংশ প্রোটিন থেকে মেটাতে হবে।

১ গ্রাম আমিষ থেকে শর্করা সমপরিমাণ চার কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক প্রয়োজনীয় ক্যালরির শতকরা ২০-২৫ ভাগ আমিষ জাতীয় খাদ্য থেকে গ্রহণ করা উচিত। গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে আমিষের চাহিদা কিছুটা বেশি। গর্ভবতী মহিলার জন্য এবং ৭-১২ মাস বয়সী শিশুর মায়ের জন্য স্বাভাবিক আমিষের সঙ্গে বাড়তি দৈনিক ১৩-১৪ গ্রাম আমিষ যোগ করতে হবে। তবে শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মূলত মায়ের দুধের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয় বলে মায়ের জন্য বাড়তি দৈনিক ১৯ গ্রাম আমিষ যোগ করতে হবে।

 

কতটুকু প্রোটিন গ্রহণ করবেন?

আমিষের চাহিদা ব্যক্তি, লিঙ্গ ও দেহের ওজন ভেদে ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক পরিচালিত গবেষণা মতে, এদেশে শতকরা ৬৬ ভাগেরও অধিক মানুষ প্রতিদিন ৫০ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করে থাকে। তবে শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষই শষ্যজাত খাদ্য থেকে এ আমিষ গ্রহণ করে থাকে। বীজ, দানাদার ও শস্যজাত খাবার- আমিষের উৎস হিসেবে তেমন উন্নত নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে মানুষের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিডের ঘাটতি রয়ে যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের কমপক্ষে দৈনিক ৬০ গ্রাম প্রোটিন এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীর কমপক্ষে দৈনিক ৫৫ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত।

আমিষের প্রধান উৎস হচ্ছে- ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, দানাদার শস্য, ডাল, ইত্যাদি। এদের মধ্যে আমিষের মাত্রার তারতম্য রয়েছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) তথ্য অনুযায়ী, দানাদার শস্যে আমিষের পরিমাণ শতকরা ৬-১২ ভাগ, যা ডাল জাতীয় শস্যে ২০-২৫ ভাগ। মাছ, মাংস, ডিম ও দুধে আমিষের পরিমাণ যথাক্রমে শতকরা ১৩-২০ ভাগ, ২০ ভাগ, ১০-১৪ ভাগ এবং ৩-৪ ভাগ।

 

প্রাণিজ প্রোটিনের গুরুত্ব

প্রাণিজ আমিষের প্রধান কয়েকটি উৎস হলো ডিম, মাংস, মাছ, দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য। আমাদের দেশে সাধারণত মাংসের উৎস হচ্ছে- গরু, মহিষ, ছাগল ও মুরগি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গৃহপালিত পশুকে একটি নির্দিষ্ট ওজনে পৌঁছানোর পর জবাই করে বাজারে বিক্রি ও রান্না করা হয়। পশুর মাংসকে অধিকাংশ সময়েই সম্পূর্ণ প্রোাটিন, আয়রণ, জিংক ও ভিটামিন বি এর ভালো উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। রেড মিট বা লাল মাংস- প্রোটিন, ফ্যাট ও শক্তির অন্যতম উৎস হলেও লাল মাংসের অধিকাংশ ফ্যাট সম্পৃক্ত শ্রেণির যেখানে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিডের মাত্রা কম থাকে এবং এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। মুরগির মাংস এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম। এতে কোলেস্টেরল ও চর্বির পরিমাণ কম থাকে এবং এই চর্বি অসম্পৃক্ত শ্রেণির- যা আমাদের দেহের জন্য উপকারী।

দীর্ঘদিন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হার্টের সুরক্ষার জন্য মুরগির মাংস খুবই উপকারি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ১৭২ গ্রামের রান্না করা মুরগির বুকের মাংসে ৫৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে কিন্তু ১৭২ গ্রামের রান্না করা গরুর মাংসে ৪২ গ্রাম প্রোটিন থাকে। আসলে, মুরগির মাংস (হোয়াইট মিট) থেকে লাল মাংসে (রেড মিট), আমিষের তুলনায় চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে।

মাছ সাধারনত প্রকৃতি হতে স্বাভাবিক উপায়ে আহরণ করা হয়। আমাদের দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদার একটা বড় অংশের যোগান দিচ্ছে মৎস্যখাত। মাছ থেকে আমরা সম্পূর্ণ প্রোটিন, আয়রণ, ক্যালসিয়াম ও বি ভিটামিন পাই। সামুদ্রিক মাছ থেতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়োডিন পাওয়া যায়। মাছের লিভার থেকে ভিটামিন এ এবং চর্বিযুক্ত মাছ থেকে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়- যা আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। লবণাক্ত মাছে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে শুটকি মাছে পানির পরিমাণ কম ও অধিক পরিমাণ প্রোটিন থাকে।

দেশের বাজারে সাধারনত মুরগি ও হাঁসের ডিমই বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে- প্রোটিন জাতীয় খাবারের মধ্যে ডিম হলো উৎকৃষ্ট উৎস ও সহজলভ্য। ডিমে ১০০ শতাংশ জৈবিক মান রয়েছে। সম্পূর্ণ প্রোটিন ও ভিটামিন বি ও ডি এর ভালো উৎস হচ্ছে ডিম। ডিমের কুসুমে চর্বি ও আয়রণ পাওয়া যায়। অন্য কোন সমস্যা না থাকলে ডিমের কুসুম কখনই বাদ দেয়া উচিত নয়। ভিটামিন ডি-র জন্য সূর্যের আলোর পাশাপাশি পথ্য হিসেবে ডিমের কুসুম খাওয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।

দুধ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য। তবে গরু ও ছাগলের দুধে প্রোটিন ও ফ্যাট এর পরিমাণ প্রায় সমান। ভেড়া ও মহিষের দুধে প্রোটিন অপেক্ষা ফ্যাট এর পরিমাণ বেশি থাকে। মায়ের দুধেও ফ্যাট অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। দুধের ফ্যাট সম্পৃক্ত ও অল্প কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড ধারণ করে। তবে ব্যতিক্রম মায়ের দুধ। মায়ের দুধে অধিক অসম্পৃক্ত ফ্যাট ও অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। বর্ধনশীল শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ প্রোটিন এর ভালো উৎস হচ্ছে মায়ের দুধ।

প্রোটিন সচেতনতায়:
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এবং ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ৩, ২০২১ ১২:০১ পূর্বাহ্ন
কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৯০০ কেজির “জমিদার”
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারিগণ। তেমনি কোরবানি জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা ‘জমিদার’ নামের ৯০০ কেজির বিশাল আকৃতিরে গরুকে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের জেলার হোসেনপুর উপজেলার ৪ নম্বর আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব তীর ঘেষা পশ্চিম জামাইল গ্রামের কৃষক আমিনুল ভাণ্ডারি গরুটি পালন করেন। গরুটির ওজন সাড়ে ২২ মণ (৯০০ কেজি)। গরুটির বয়স ৪ বছর। গরুটিকে মোটা তাজা করতে বিশেষ কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবে খড়, ভূষি, গম, খৈল, কলা ও প্রাকৃতিক ঘাস খাবারই খেয়ে থাকে।

এছাড়া প্রতিদিন লালি ও খৈল দিয়ে ছানা তৈরি করে খাবার প্রস্তুত করে খেতে দেওয়া হয় গরুটিকে। বাসি বা উদ্বৃত্ত খাবার গরুটি খায় না। সর্বদা আরাম আয়েশ থাকতে পছন্দ করে। সেজন্য গরুটির নাম ‘জমিদার’ রাখা হয়েছে।

গরুর মালিক আমিনুল ভাণ্ডারি জানান, নিজস্ব দেশীয় গাভী থেকে আমেরিকান ব্রাহামা ক্রস বিজ ব্যবহার করে বাছুর উৎপাদন করা হয়েছে। গরুটি বয়স ৪ বছর হয়ে যাওয়ায় এখন পূর্ণ বয়স সম্পন্ন। গরুটিকে এখনো কোনো বাজারে তোলা হয়নি। বাড়িতে থাকা অবস্থাতেই গরু কেনার বেপারিরা গরুটির ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মান্নান জানান, উন্নত জাতের গরু পরিচর্যার ব্যাপারে গরুর মালিককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২, ২০২১ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
গরু মোটাতাজা করবেন যেভাবে
প্রাণিসম্পদ

গরু পালন লাভজনক হওয়াতে এখন আমাদের দেশের অনেকেই গরুর খামার করার প্রতি ঝুঁকছেন। তবে, এই গরু যদি হয় আরেকটু মোটাতাজা তাহলে আর কথা ই নাই। আর এর জন্য দরকার গরুর সুষম খাদ্য। আর সুষম খাদ্য প্রয়োগে আপনি আরো লাভবান হতে পারেন গরু পালনে।

খামারে গরু মোটাতাজাকরণে যেসকল আমিষ খাবার আপনার গরুকে খাওয়াবেন:

শুকনা খড়: ২ বছর বয়সের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে সরবরাহ করতে হবে।

কাঁচা ঘাস: গরুকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি কাঁচা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি খাওয়াতে হবে।

দানাদার খাদ্য: গরুকে প্রত্যেক দিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো- গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি। উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে।

১৫০ কেজি ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা: খড় = ৩ কেজি কাঁচা ঘাস = ৫-৬ কেজি দানাদার খাদ্যের মিশ্রন = ১.৫-২ কেজি চিটাগুড় = ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া = ৪৫ গ্রাম (নিয়মানুয়ায়ী) লবন = ৩৫ গ্রাম।

১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর খাদ্য তালিকা: ধানের খড় = ২ কেজি সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী) চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম লবণ = ২৫ গ্রাম দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কৃমিমুক্তকরণ ও টিকা প্রদান
গরুকে ডাক্তারের নির্দেশনা মত কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। নতুন গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসঙ্গে কৃমিমুক্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রতি ৭৫ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে এনডেক্স বা এন্টিওয়ার্ম ট্যাবলেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

পূর্ব থেকে টিকা না দেয়া থাকলে খামারে আনার পর পরই সব গরুকে তড়কা, বাদলা ও ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে। এ ব্যাপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

ঘর তৈরি ও আবাসন ব্যবস্থাপনা
আমদের দেশের অধিকাংশ খামারী ২/৩ টি পশু মোটাতাজা করে থাকে, যার জন্য সাধারণত আধুনিক শেড করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে যে ধরনের ঘরেই গরু রাখা হোক, ঘরের মধ্যে পর্যন্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ঘরের মল- মূত্র ও অন্যান্য আবর্জনা যাতে সহজেই পরিষ্কার করা যায়, সে দিকে খেয়াল রেখে ঘরে তৈরি করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ২, ২০২১ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
‘কালো টাইগার’ দাম ১২ লাখ টাকা!
প্রাণিসম্পদ

আসছে কোরবানির ঈদ। আর এই ঈদকে ঘিরে যেন গরু-ছাগল খামারিদের মাঝে চলছে ব্যাপক আগ্রহ। খামারিরা তৈরি করছেন তাদের পালিত গরু-ছাগল। আর প্রতিবছরের এবারও গরুর দাম এবং নাম নিয়ে আলোচনায় তোলপাড় মিডিয়া পাড়া। এবা আলোচনায় ঠাঁই পেয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর এলাকার ‘কালো টাইগারের’। যার দাম হাঁকানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

ফ্রিজিয়ান জাতের এ ষাঁড়টি গত চার বছর ধরে লালন পালন করে আসছেন ত্রিশাল উপজেলার পৌর ৬ নং ওয়ার্ড নওধার নদীরপাড় এলাকার নজরুল ইসলাম।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আকর্ষণীয় এ ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিনই নজরুল ইসলামের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। ষাঁড়টির ১২ লাখ টাকায় বিক্রির প্রত্যাশা করছেন নজরুল ইসলাম। কালো টাইগার ছাড়াও তার খামারে আরও ১৫টি গরু রয়েছে। সবগুলো গরু ঈদ উপলক্ষে বিক্রির জন্য তৈরি করা হয়েছে।

করোনার কারণে এবারের কোরবানির ঈদে দেশের বাইরে থেকে গরু আসার সুযোগ থাকছে না। তাই খামারিরা কোরবানির পশুর যথাযথ মূল্য পাবেন বলেই আশা করছেন। তবে করোনার কারণেই খামারিরা বড় গরুর যথাযথ মূল্য পাবেন কি না তা এখন তাদের চিন্তার বিষয়।

কালো টাইগারের মালিক নজরুল ইসলাম জানান, কালো টাইগার আমার পালিত গাভীর বাচ্চা শখের বশে আদর-যত্ন ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করায় তার সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমি ডাকলে বোবা প্রাণী কালো টাইগার আমার দিকে ছুটে আসে।

এবার কোরবানির ঈদে কালো টাইগারকে আশা রাখি ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারব। কালো টাইগারের খাবারের জন্য প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। কৃত্রিম কোনো কিছু ব্যবহার করা হয় না। প্রাকৃতিক খাদ্য খৈল, ভুট্টা, ভুষি, কলা, ভাত ও খড়-ঘাস খাওয়ানো হয়।

পশু চিকিৎসক হামিদ জানান, কালো টাইগারকে আমি নিয়োমিত চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করা হয়েছে। তাই তার মাংস অনেক সুস্বাদু হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১, ২০২১ ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
কালা বাবুর দাম ১৫ লাখ টাকা
প্রাণিসম্পদ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় কোরবানি উপলক্ষে প্রস্তুত করা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের ৩০ মণ ওজন ও দৈর্ঘ ৮ ফুট ও উচ্চতায় ৭ ফুটের ‘কালা বাবু’। যার দাম উঠানো হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ওই খামারে এছাড়া আরও নয়টি বড় জাতের ষাঁড় রয়েছে।

জানা যায়, সাড়ে চার বছর আগে তার ভাই সুমন শিকদারের খামারে কালো রঙের গরুটির জন্ম হয়। সাড়ে সাত মাস বয়সে ভাইয়ের কাছ থেকে গরুটি কিনে নেন খামারি আমিনুল ইসলাম। এরপর শুধু দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালনপালন করেছেন।

আমিনুলের খামারের কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাজারে ওঠানোর চিন্তা করেননি মালিক। গরুটি কিনতে বাড়িতেই লোকজন আসছেন। ১৫ লাখ টাকা দাম হাঁকানো হলেও এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জন বিভিন্ন দাম বলছেন।

নাম শুনে রাগী ও হিংস্র মনে হলেও আসলে শান্ত প্রকৃতির ও গায়ের রং কালো হওয়ায় শখ করে গরুটির নাম রেখেছেন কালা বাবু।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১, ২০২১ ১১:১০ পূর্বাহ্ন
সোনালী মুরগির ডিম উৎপাদনে খামারি যা করবেন
পোলট্রি

আমাদের দেশে মুরগির মাংস এবং ডিমের চাহিদা ব্যাপক। এই মুরগির মাংস এবং ডিমের চাহিদা পূরণে গড়ে উঠেছে নানান মুরগির খামার। আর এসব খামারের মধ্যে অন্যতম হলো সোনালি মুরগির খামার। যা অনেক আগ থেকেই আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে পালন করা হচ্ছে। এরমধ্যে অনেকে কেবল ডিমের চাহিদা পূরণেও এই সোনালি মুরগির খামার করে থাকেন।

ডিম উৎপাদনের জন্য সোনালী মুরগি পালনে যা করা জরুরি:

সোনালি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে শুরুতেই মনে রাখতে হবে এটি একটি ব্যবসা। আর ব্যবসাকে হেলার চোখে দেখার কিছু নেই। সোনালী মুরগি পালনে উদাসীনতা দেখালে মুরগি পালনে লোকসান দেখা দিতে পারে। সেজন্য সোনালি মুরগি পালনের প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।  ব্রূডিং এর সময় “এস্পারজিলোসিস” হবার অনেক সম্ভবনা থাকে। সেজন্য মুরগির ব্রূডিং কালে লিটারে তুঁতের পানি ছিটিয়ে ব্রূডিং করাতে হবে। এতে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

সোনালি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে অনেক খামারিরা ভ্যাকসিন প্রদান নিয়ে অনেকটা উদাসীনতা দেখায়। সময়মতো মুরগিকে ভ্যাকসিন দিনে না পারলে অনেক সময় খামারিদের লোকসানে পড়তে হয়। আর সেজন্য ভ্যাকসিনসূচী অনুযায়ী ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে। লেয়ার মুরগির মতোই আলোকসূচি মেনে চলতে হবে। লেয়ার মুরগির মতোই সোনালি মুরগিতে আলোক নিয়ম মানলে সবচেয়ে ভাল হয়।

বয়স ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ হলে পুরুষ ও স্ত্রী সোনালী মুরগীগুলোকে পৃথক করতে হবে। সাধারনত মুরগী গুলোর ঝুটি ও পালক দেখেই পুরুষ ও স্ত্রী সোনালী মুরগী চেনা যায়। যেহেতু আপনার উদ্দেশ্য ডিম উৎপাদন তাই পুরুষ গুলো রাখার কোন প্রয়োজন নেই। এই মুরগি সাধারণত দিনে ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম খাবার গ্রহন করে। অতিরিক্ত বা কম খাবার দেয়া কোনটিই ঠিক না। এক্ষেত্রে মোট খাদ্যের ৬০% সকালে দিয়ে দিতে হবে। আর বাকি ৪০% খাবার ২০% -২০% করে দুপুরে ও বিকেলে দিতে হবে।

খামারের মুরগিগুলোর বয়স ১৪ থেকে ১৬ সপ্তাহ হলে মুরগীগুলোকে খাঁচায় তুলতে হবে। মেঝেতে মুরগিগুলোকে না রেখে খাঁচায় রাখলে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুলাই ১, ২০২১ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহে প্রস্তুত ৭১হাজার গরু, শঙ্কায় ১৮হাজার খামারি!
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানির জন্য ঝিনাইদহের ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮ হাজার খামারি প্রায় ৭১ হাজার গরু-ছাগল প্রস্তুত করেছে। তবে, গত কোরবানিতে গরুর দামে ধস নামলে এবার পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা থাকলেও করোনাভাইরাস এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে শঙ্কা কাজ করছে তাদের মাঝে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, করোনার প্রভাব থাকলেও অনলাইনে গবাদি পশু বিক্রি হবে। ফলে ভারতীয় সীমান্তের জেলা ঝিনাইদহের চাষিরা সঠিক দাম পাবেন।

ঝিনাইদহের প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ছোট-বড় ও ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র খামার রয়েছে ১৭ হাজার ৪৫০টি। এসব খামারে আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য প্রস্তুতকৃত গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৪১৫টি। এছাড়া ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৫৪ হাজার ৪৪৪টি। ঝিনাইদহে সরকারিভাবে বড় ধরনের কোনো খামার বা গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প না থাকলেও গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষগুলো বাড়তি লাভের আশায় কোরবানিকে সামনে রেখে গরু-ছাগল লালন-পালন করে থাকেন। তবে গরু পালনে তারা কোনো ক্ষতিকারক ইনজেকশন ব্যবহার করেন না বলে দাবি করেন।

কৃষিকাজে তারা যে গম, খৈল ও ভুষি পেয়ে থাকেন, তা থেকেই গরুর খাবার যোগান দেন। এছাড়া মাঠের ঘাস তাদের গরু-ছাগলের প্রধান খাদ্য।

আরও জানান, ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুর পরিচর্যা করেন। সম্পূর্ণ দেশি খাবার দিয়ে তাদের গরু মোটাতাজা করা হয়।

গরুর গ্রাম বলে পরিচিত হরিণাকুন্ডের কুলবাড়ীয়ায় এ বছরও হাজারো গরু রয়েছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলা থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার সড়ক পথে গেলে ফলসি ইউনিয়নে ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে কুলবাড়িয়া গ্রাম। এ গ্রামে প্রায় তিন হাজার লোকের বসবাস। এখানে বাড়ি আছে পাঁচ শতাধিক। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে দুই থেকে ২৫টি গরু। প্রতিবছর এই গ্রাম থেকে এক থেকে দেড় হাজার গরু কোরবানির বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে।

এ গ্রামে বড় খামারি হলেন শামছুল আলী। বর্তমানে তার ২৪টি গরু রয়েছে। হরিয়ানা, নেপালি ও ক্রসবিড জাতের গরু রয়েছে। এরমধ্যে সব থেকে বড় গরুর ওজন ১৩শ’ কেজি। দাম ভালো থাকলে এ বছর ছয়টি গরু ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, করোনার প্রকোপ থাকলে গরু-ছাগলের বাজার অনলাইনভিত্তিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে খামারিদের নাম-ঠিকানা ও গরুর ছবি সংগ্রহ করে অনলাইনে প্রচার করা হবে। ক্রেতারা নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে ছবি দেখে খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পছন্দের পশুটি কিনতে পারবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ৩০, ২০২১ ১১:৪৬ অপরাহ্ন
কোরবানির জন্য প্রস্তুত ‘সাকিব খান’
প্রাণিসম্পদ

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রস্তত করা হয়েছে ‘সাকিব খান’ নামের একটি ষাঁড় গরু। সাকিব খানকে লালন পালন করা হচ্ছে উপজেলার মিরিকপুর গ্রামের কলেজছাত্র জোবায়ের ইসলাম জিসানের খামারে। সাকিব খানের ওজন প্রায় ৩১ মণ। এ ষাঁড় গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। শাকিব খান লম্বায় সাত ফিট। এ ষাঁড় গরুটি দেখতে প্রতিদিনই লোকজন ভিড় করছেন।

জানা যায়, দুই বছর সাত মাস আগে তরুণ উদ্যোক্তা জোবায়ের ইসলাম জিসানের খামারেই জন্ম হয় শাকিব খানের। এরপর থেকে তাকে কোনও ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন-পালন করা হচ্ছে। ষাঁড়টির নাম শাকিব খান ও বেশি বড় হওয়ায় আগ্রহ নিয়ে তাকে দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে ভিড় করছেন। মাঝে মধ্যে ক্রেতারাও আসছেন ষাঁড়টি কিনতে।

জোবায়ের ইসলাম জিসান জানান, ‘ষাঁড়টি দেখতে সাদা। ষাঁড়টি খুবই শান্ত প্রকৃতির। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শক্রমে কোনও ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করেছি। ষাঁড়টির দাম চাচ্ছি ১৩ লাখ টাকা, তবে আলোচনা সাপেক্ষে কম টাকায় বিক্রি করতে পারি।’

তিনি আরও জানান, ‘২০১৭ সালের শেষের দিকে আমার পরিকল্পানায় তিনটি গাভি দিয়ে খামারটি শুরু করা হয়। বর্তমানে খামারে ২৫টি ষাঁড় ও গাভি রয়েছে। এদের মধ্যে ছয়টি ষাঁড় এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তত করা হয়েছে। খামারে শাকিব খান ছাড়াও প্রায় একই ওজনের আরও একটি ষাঁড় রয়েছে। তার নাম রাখা হয়েছে দিপজল। সেটা দেখতে কালো। ষাঁড় দুইটির জন্মের পরপরই খামারের ম্যানেজার তাদের নাম রাখে শাকিব খান ও দিপজল। আমার অবর্তমানে বাবা খামারটি দেখাশোনা করেন। এছাড়াও খামারে একজন কর্মচারি রয়েছে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রৌশনী আকতার জানান, ‘জিসানের খামারে দেশীয় খাবার খাইয়ে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করা হচ্ছে। আমরা ষাঁড়টিকে নিয়মিত দেখাশোনা করছি। উপজেলায় এই ষাঁড়টিই সবচেয়ে বড়।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ৩০, ২০২১ ৪:৩৮ অপরাহ্ন
বাছুরের ডায়রিয়া দেখা দিলে যা করবেন
প্রাণিসম্পদ

আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে এখন শহরেও দেখা মিলে অনেক গরুর খামার। আর গরু পালন করতে গিয়ে খামারিরা নানাবিধ সমস্যায় পড়ছেন। অনেক সময় বাছুরের ডায়রিয়া রোগ দেখা দিয়ে থাকে। আর তখন একজন খামারিকে কি করতে হবে সেটা জানা উচিত।

বাছুরেরডায়রিয়া সমস্যায় খামারিদের করণীয়ঃ

বাছুরের তীব্র ডায়রিয়ার কারণ:
বাছুরকে অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত দুধ খাওয়ানো, অতিরিক্ত দুধ খাওয়ানো বা খেয়ে ফেলা, খাবারের পাত্র এবং ফিডার নোংরা বা ময়লা হলে, বাছুর কৃমিতে আক্রান্ত হলে, শাল দুধের গুণাগুণ ভাল না হলে, বাছুরের থাকার জায়গাটা নোংরা, স্যাঁতসেঁতে হলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে।

বাছুরের এই তীব্র ডায়রিয়ায় খামারি যা করবে:
ডায়রিয়া দেখার সাথে সাথে আলাদা করে শুকনা পরিষ্কার জায়গায় রাখতে হবে বাছুরকে।খাবারের পাত্র এবং ফিডার বোতল পরিষ্কার করে খাওয়াতে হবে। বাছুরকে তার বড়ি ওয়েটের ১০% দুধ খাওয়াবেন অর্থাৎ ৪০ কেজি ওজনের বাচ্ছাকে দুধ খাওয়াবেন ৪ লিটার। শালদুধের গুণাগুণ পরিমাপ করে দেখতে হবে। ডায়রিয়া দেখার সাথে সাথেই স্যালাইন খাওয়াতে হবে দিনে ৩ বার ২৫০ মিলি করে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop