৯:২১ অপরাহ্ন

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মার্চ ৩১, ২০২১ ১:৪৫ অপরাহ্ন
মাছ চাষে কোটিপতি সোহরাব
মৎস্য

রাজশাহী পবা উপজেলায়বছরে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার মাছ উৎপাদন হয়। এখানকার উৎপাদিত পোনা ছড়িয়ে যায় জেলার সবখানে। এখানকা মাছ উৎপাদন ও বিপণন-বিক্রির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় কমেছে বেকারত্বে হার। কর্মসংস্থান ও আর্থিক মুনাফার আশায় বাড়ছে মাছ চাষ। ফলে রাজশাহী সারাদেশে কার্পজাতীয় মাছ উৎপাদনে শীর্ষে রযেছে।

পারিলার বাসিন্দা সোহরাব হোসেন (৫৫)। বাবা নূর মোহাম্মদ মারা যাওয়ার পর ছয় ভাইয়ের মধ্যে হাওয়া বদলের ধাক্কা লাগে। প্রকৃতির নিয়মে একে একে আলাদা হয়ে যান তারা। বাবার পঞ্চম পুত্র হওয়ায় বিপাকে পড়েন সোহরাব। ছোটভাই গোলাম মোস্তফাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন কৃষি কাজ। একসময় দেখলেন নিজেদের পুকুরে মাছের পোনা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অন্য মানুষ। স্থির করলেন মাছ চাষ শুরু করবেন।

সময়টা ১৯৯৪। নিজস্ব তিন বিঘা পুকুরে ছাড়লেন মাছের পোনা। এক বছরের মধ্যে ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে ছাড়লেন সেই পোনা। বছর শেষে ৮০ হাজার টাকা খরচে পকেটে উঠল দেড় লাখ টাকা। এখন তিনি প্রায় ২৮০ বিঘা জমিতে চাষ করছেন কার্প জাতীয় মাছ। শূন্য হাতে শুরু করে বর্তমানে বছরে গুনছেন কোটি টাকা। জেলার সেরা মৎস্য চাষি হিসেবে পেয়েছেন পুরস্কার।

প্রায় ২৭ বছর ধরে মাছ চাষ করছেন সোহরাব হোসেন। ছোট বড় মিলিয়ে তার পুকুর ২৫টি। এর আয়তন ২৮০ বিঘার ওপরে। প্রতি বছর এসব পুকুর থেকে আয় হয় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। পুকুরে উৎপাদিত মাছ বিক্রি করে তিনি এখন কোটিপতি। চাষ করেন রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাসকার্প, ব্লাডকার্প, সিলভারসহ কার্প জাতীয় নানা ধরনের মাছ। পুকুরের এসব তাজা মাছ কৌশলে ট্রাকে করে কয়েকবার পানি বদলিয়ে পাঠান রাজধানীর ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারে।

সফলতার গল্প শোনালেন অভিজ্ঞ মাছ চাষি সোহরাব হোসেন। জানালেন মাছ চাষ ব্যস্থাপনার নানা কৌশল, ঝুঁকি ও সমস্যার কথা। জানান, এই গ্রামের প্রায় ৯৫ ভাগ মানুষ মাছ চাষ করেন। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রচুর বেকার মানুষের। রাজশাহীর মোট মৎস্য উৎপাদনের বেশিরভাগ এখানের।

দু-দশক আগের তুলনায় এখন মাছ চাষে পরিবর্তন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন মাছ চাষের খরচ বেড়ে গেছে। সার, খৈল, প্রো-বায়োটিকের দাম আকাশছোঁয়া। প্রতিবিঘা জমিতে মাছ চাষে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ পড়ছে। কোনো সময় লাভ হয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ, আবার লোকসানও হয়। এক হাজার টাকার সারের বস্তা অনেক সময় ১৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। মাছের দামের ঠিক নাই। অথচ আগে কম খরচে মাছ চাষ করে বেশি লাভ হতো।

আরও বলেন, মাছের লেজ, পাখনা, পায়ুপথে পচন রোগ হয়। বাজারে ভালো ওষুধ নাই। পোলট্রির ওষুধ ব্যবহার করতে বলে কোম্পানির লোকজন, এতে কাজ হয় না। তাছাড়া আবহাওয়ার পরিবর্তনে মাছ মরে ভেসে উঠে। আমাদের কিছু করার থাকে না। লোকসান হলে সরকারি সহযোগিতা তো দূরের কথা, ঋণ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। তাই অনেকটাই অনিশ্চিত এ ব্যবসা।

তিনি জানিয়েছে, ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করতে দুই কোটি টাকা খরচ হয়। ১০ লাখ টাকা ঋণ নিতে গেলে জমির দলির চায়। নিজের জমিতে তো আর মাছ চাষ করি না, লিজ নেয়া থাকে। মাছ চাষের কৌশল অবলম্বন হিসেবে আবহাওয়ার দিকে খেয়াল রেখে খাবার দেয়া, পানির অক্সিজেনের দিকে লক্ষ্য রেখে মাছ মজুত করা, নিয়মিত প্রো-বায়োটিকের ব্যবহার করা, জাল টেনে মাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। সার্বক্ষণিক মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও বাড়িতে অক্সিজেন মজুত রাখা উচিত, যাতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। সম্ভব হলে পুকুরে অ্যারেটর যন্ত্র লাগনোর পরামর্শ দেন সোহরাব হোসেন।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে উৎপাদিত মাছের মধ্যে কার্প জাতীয় মাছ প্রায় ৮৫ শতাংশ। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন প্রায় ১৫০ ট্রাক মাছ রপ্তানি হয়ে থাকে। জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ৫০ হাজার পুকুর রয়েছে। এখানে বছরে মাছ উৎপাদন হয় প্রায় ৮৪ হাজার টন। আর স্থানীয়ভাবে মাছের চাহিদা রয়েছে ৫২ হাজার টন। ফলে রাজশাহীতে চাহিদার বিপরীতে ৩২ হাজার টন বেশি মাছ চাষ হয়। এই মাছের বেশিরভাগ পবার।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা বলেন, পারিলার মাছ চাষি সোহরাব হোসেন একজন পাইওনিয়ার। তিনি নিয়মিত যোগাযোগ করেন। পরামর্শ নিতে আসেন।

পবা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আমি এখানে নতুন। এখন মাঠেই আছি। বগুড়া থেকে মাছ চাষে অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য একটা টিম এসেছে। তাদের সঙ্গে আছি। ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেয়া ও পাশে থাকাই আমাদের কাজ।-শেয়ার বিজ

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩০, ২০২১ ৯:৩০ অপরাহ্ন
সিরাজগঞ্জে কীটনাশক দেওয়া পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু
পাঁচমিশালি

কীটনাশক দেওয়া পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভায়াট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিথী (১১) উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভায়াট গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে ও রিথী (১২) একই এলাকার শাহজাহান প্রামানিকের মেয়ে। উভয়ই ভায়াট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভায়াট গ্রামে লিজ নেওয়া পুকুরে রবিবার রাতে বিষ দেয় মালিক আব্দুল বরাত। মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্থানীয়রা ওই পুকুরে নেমে মাছ মারছিল। এতে বিথী ও রিথীসহ বেশ কয়েকজন শিশুও ওই পুকুরে মাছ ধরতে যায়। সেখানে মাছ ধরার একপর্যায়ে তারা দুই জনই পানিতে ডুবে যায়। মাছ মারা শেষে অন্যরা উঠে গেলেও তাদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ওই পুকুরে নেমে খোঁজ শুরু করে। এ সময় পুকুরের ডোবা থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তবে স্থানীয়দের ধারণা, কীটনাশক দেওয়া পুকুরের বিষাক্ত পানিতে ডুবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

শুনেছি পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ৩০, ২০২১ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
সাতক্ষীরায় ঘের থেকে মাছ চুরির দায়ে ৫ জনের সশ্রম কারাদণ্ড
মৎস্য

সাতক্ষীরায় ঘের থেকে মাছ চুরির অভিযোগে পাঁচজনকে দু’হাজার টাকা জরিমানাসহ পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরো তিনমাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

সোমবার (২৯ মার্চ) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিাচরক এসএম নুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খুলনার পাইকগাছার নগর শ্রীপুর গ্রামের আবু বক্কর গাজীর ছেলে মিন্টু গাজী, একই গ্রামের আকের গাজীর ছেলে আজিজুল গাজী, শওকত সরদারের ছেলে টুকু সরদার, উত্তর শলুয়া গ্রামের মোকাম বিশ্বাসের ছেলে ফারুক বিশ্বাস ও গোদাকাটি গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে রামপদ বিশ্বাস। এদের মধ্যে টুকু সরদার পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাছিয়াড়া গ্রামে মোস্তফা গাজীর একটি মাছের ঘের রয়েছে। গফফার গাজীসহ কয়েকজন ওই ঘেরের পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করতেন। ২০১০ সালের ২৭ মে দিবাগত রাত ২টায় মাছ চুরি করে পালানোর সময় আব্দুল গফফার গাজী মোবাইল ফোনে বিষয়টি পার্শ্ববর্তী রায়পুর গ্রামের প্রকাশ ডাক্তারকে জানান।

এসময় প্রকাশ ডাক্তারের ডাক-চিৎকারে চোরচক্রের সদস্যরা ঘেরের পানিতে ঝাপ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। পরে মিন্টু গাজী, আজিজুল গাজী, ফারুক বিশ্বাস, রামপদ বিশ্বাস ও আবুল কালাম বিশ্বাসকে আটক করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। গণপিটুনিতে মারা যান আবুল কালাম বিশ্বাস। তবে টুকু সরদার ও জামারুল গাজীসহ তিনজন পালিয়ে যান।

মাছ চুরির ঘটনায় ২০১০ সালের ২৮ মে ঘেরের পাহারাদার আব্দুল গফফার বাদী হয়ে গ্রেফতার চারজনসহ টুকু সরদার ও জামারুল গাজীর নাম উল্লেখ করে তালা থানায় মামলা করেন। তালা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমান ওই বছরের ২৮ আগস্ট এজাহারভুক্ত ছয়জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার ছয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথি পর্যালোচনা শেষে জামারুল গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাকে বেকসুর খালাস প্রদানের নির্দেশ দেন।

পলাতক আসামী টুকু সরদার অভিযোগত্রে উল্লেখিত অপর চার আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত প্রত্যেককে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড, দু’ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে, প্রত্যেককে আরো তিন মাস করে কারাদন্ডের আদেশ দেন। তবে দুই ধারার সাজা একসাথে চলবে।

আসামীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. খান মাহাফুজুর রহমান ও অ্যাড. দীলিপ কুমার মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২১ ৩:০৯ অপরাহ্ন
নওগাঁয় মাছের আড়তে সরবরাহ বেশি হলেও লোকসানে চাষিরা
মৎস্য

নওগাঁর আড়তগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে পুকুর জলাশয় পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বেড়েছে মাছের সরবরাহ। কিন্তু সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা না থাকায় সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ থেকে ৩০ কেজি টাকা পর্যন্ত কমেছে মাছের দাম। আর এতে করে চাষ করা মাছের খাবারের দাম বাড়লেও দফায় দফায় মাছের দাম কমাতে লোকসানে মাছ চাষিরা।

নওগাঁর সান্তাহার মাছের আড়তে মিলছে নদীর চেয়ে বেশির ভাগ চাষের মাছ। মিলছে রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙাশসহ নানা ধরনের মাছ। বিল, জলাশয় ও পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের সরবরাহ ভালো বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ফলে গেল সপ্তাহ থেকে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমে চলছে বেচাকেনা।

সান্তাহার পৌর আড়ত সমিতির সহসভাপতি জিয়াউল হক জিয়া জানান, বাজারে মাছের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। কিন্তু রুই, কাতলসহ সব ধরনের মাছের ধর কম।

এদিকে চাষিদের দাবি, দফায় দফায় খাদ্যর দর বাড়লেও মাছের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তারা। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মাছ চাষ করে লাভ নেই। যেভাবে মাছের খাবার দাম বেড়েছে সামনে চাষ করা যাবে না।

জেলায় ৩৩ হাজার ২৭৬ জন নিবন্ধিত চাষি রয়েছেন। আর ৪৮ হাজার পুকুর ও জলাশয়ে মাছ হয় বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য অফিস।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৯, ২০২১ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
যেভাবে করবেন শোল মাছের চাষ
মৎস্য

শোল মাছ একটি জনপ্রিয় মাছ। এই মাছকে অনেকে রাক্ষুসে মাছ বললেও এর চাহিদা রয়েছে অনেক। এই মাছ সব ধরনের দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। এই মাছ চাষে অনেকেই লাভবান হতে পারবেন খুব সহজে।

পুকুর প্রস্তুতি
যেকোনো পুকুরেই শোল মাছ চাষ করা যায়। তবে তাকে উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। যে পুকুরে শোল চাষ হবে সে পুকুরে কচুরিপানা অথবা কলমিলতা থাকলে ভালো হয়। কারণ শোল মাছ আড়ালে থাকতে পছন্দ করে। তবে কচুরিপানায় যেন পুকুর ভরে না যায়। পুকুরের চারদিকে কমপক্ষে ৫ ফুট উচ্চতায় জাল দিয়ে বেড়া দিতে হবে। তা না হলে বর্ষাকালে শোল মাছ লাফিয়ে চলে যাবে।

পোনা মজুত
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহের ওপর জোর দিতে হবে। বৈশাখ মাস শোল মাছের প্রজনন মৌসুম। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকে শোল মাছ বাচ্চা দিতে শুরু করে। বাচ্চাগুলো এক ঝাঁকে থাকে। সেই সময় হাওর-বাঁওড়, পুকুর থেকে সপ্তাহখানেক বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। পোনা পাওয়া না গেলে বড় শোল মাছ সংগ্রহ করে পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। এককভাবে প্রতি শতাংশে ১০টি দেয়া যেতে পারে। মিশ্র পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রতি শতাংশে ৪টি। একটি প্রাপ্তবয়স্ক শোল মাছ লম্বায় ২.৫-৩ ফুট হতে পারে।

খাদ্য
শোল মাছ সাধারণত খৈল বা কুড়া দিয়ে বানানো খাবার খায় না। ছোট মাছই এর প্রধান খাদ্য। পোনা মাছের প্রিয় খাদ্য শুঁটকির গুঁড়া। সেজন্য পোনা মাছকে খাবার হিসেবে চিংড়ি শুঁটকির গুঁড়া ভালোভাবে পিষে দিতে হবে। এভাবে ১৫ দিন খাওয়ানোর পর পোনাগুলো প্রায় ২/৩ ইঞ্চি হবে। ২/৩ ইঞ্চি পোনা মজুদের পর খাদ্য হিসেবে কার্পজাতীয় মাছের ধানীপোনা দেয়া যেতে পারে; সঙ্গে ছোট ছোট ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি দেয়া যেতে পারে। আর বড় মাছের জন্য ছোট ছোট মাছ, তবে মরা টাটকা মাছ খেতে দিলে এরা খুব খায়।

মিশ্র চাষ
আমাদের দেশে শোল মাছের একক চাষের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এত কাঁচা মাছ, শুঁটকি, ব্যাঙ বা ব্যাঙাচি জোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই মিশ্র মাছের সঙ্গে শোল মাছের চাষ করা যেতে পারে। ৬ মাসে একেকটি শোল মাছের ওজন ৭০০-১০০০ গ্রাম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০২১ ১০:১০ পূর্বাহ্ন
দেশি মাগুরের পোনা উৎপাদনে যেভাবে তৈরি করবেন পুকুর
মৎস্য

দেশে মাছ চাষিদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর মাছ চাষিদের অন্যতম চাহিদার জায়গা হলো মাগুরের চাষ। পুকুরে তৈরি হচ্ছে এই মাগুরের পোনা চাষ। এতে লাভবানও হচ্ছেন তারা। পুকুরে এই মাছ চাষে কতগুলো নিয়ম পালন করলে আরো লাভবান হবেন চাষিরা।

দেশি মাগুরের পোনা উৎপাদনে পুকুর তৈরিতে করণীয়ঃ
দেশি মাগুরের রেনু থেকে পোনা উৎপাদনের জন্য পুকুর তৈরি একটা বড় ভূমিকা পালন করে। পুকুর তৈরিতে কোনো ত্রুটি থাকলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না। পুকুরের তলায় পানি থাকলে প্রথমেই সেচ দিতে হবে।

প্রতি শতকে ১ কেজি হারে চুন পানির সাথে মিশিয়ে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এরপর মই দিয়ে রোদে শুকিয়ে পুকুরের চারপাশ পরিষ্কার করতে হবে। পুকুরের পাড়ে জাল দিয়ে ভালভাবে বেড়া দিতে হবে। মাটি থেকে এ জালের উচ্চতা হবে কমপক্ষে চার ফুটের মত।

স্যালো মেশিন দিয়ে ১ ফুট থেকে ১.৫ ফুট পরিষ্কার পানিতে পুকুর ভরতে হবে।

মনে রাখতে হবে, অপরিষ্কার পানি কিছুতেই পুকুরে দেয়া যাবে না আবার বেশি পানিও দেয়া যাবে না। অনেক খামারি ২/৩ ফুট পানির মধ্যেই রেনু ছাড়েন বলে দশ ভাগের একভাগ পোনাও উৎপাদন হয় না শুধুমাত্র পানির উচ্চতার কারণে।

চুন প্রয়োগ: পুকুরের তলদেশ শুকিয়ে হালকাভাবে চাষ দিয়ে তলার মাটির অম্ল বা খরতা পরীক্ষা সাপেক্ষে প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের পর পুকুর ১৫ সেন্টিমিটার (৬ ইঞ্চি) পরিমাণ পানি ঢুকিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে রাখতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ: চুন প্রয়োগের ৭ থেকে ১৫ দিন পর প্রতি শতাংশে ১০ কেজি হারে গোবর সার অথবা ৫ কেজি হারে মুরগির বিষ্ঠা ছিটিয়ে দিতে হবে।

অজৈব সার প্রয়োগ: জৈব সার প্রয়োগের সাত দিন পর পানির উচ্চতা ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বজায় থাকা অবস্খায় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম এমওপি সার ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, পানির রঙ বাদামি সবুজ, লালচে বাদামি, হালকা সবুজ, লালচে সবুজ অথবা সবুজ থাকাকালীন অজৈব সার (রাসায়নিক) প্রয়োগের কোনো প্রয়োজন নেই।

পোনা মজুদ: ৫ থেকে ৮ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যরে সুস্থ্য সবল পোনা প্রতি বর্গমিটারে ৫০ থেকে ৮০টি হারে পুকুরে ছাড়া যেতে পারে। মে থেকে জুন মাস মাগুরের পোনা ছাড়ার যথার্থ সময়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৮, ২০২১ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
পুর্ব শত্রুতার জেরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন
মৎস্য

পুর্ব শত্রুতার জেরে কুড়িগ্রামের উলিপুরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

শনিবার ভোররাতে জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়, উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদুল্যা মাইলডাঙার পাড় গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মৎস্য চাষী শিপুল মিয়া বাড়ির পাশের্^ ৩০শতক জমির পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন।প্রতিদিনের মত শনিবার মধ্যরাতে শিপুল তার বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ভোররাতে কোন এক সময় একদল দুর্বৃত্ত তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে।

পুকুরটি বিলে অবস্থিত হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মাছ মারা যায় বলে শিপুলের পরিবার জানায়।ভুক্তভোগী শিপুল মিয়া বলেন,আমি দীর্ঘদিন ধরে নিজের এবং অন্যের পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছি।একটি মহল বিভিন্নভাবে আমার এবং আমার পরিবারের ক্ষতি করার জন্য এ ধরনের কাজ করেছ। গত দুই বছর আগেও তারা আমার পুকুরে বিষ দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাছ ধব্বংস করেছে।

ভূক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উলিপুর থানার ওসি ইমতিয়াজ কবীর।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৪, ২০২১ ৮:৩০ পূর্বাহ্ন
৪ মণ ওজনের বাঘাইড় মাছ, বিক্রি করতে চান ৪ লাখ টাকা!
মৎস্য

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে ধরা পড়েছে বিশাল আকৃতির ৪ মণ ওজনের বাঘাইড় মাছ। আড়ৎ কাজির বাজার থেকে মাছটি কিনে নেয়া বিল্লাল বিক্রি করতে চান ৪ লাখ টাকা।

মাছটি দেখে অনেকেই বলছেন, ‘এত বড় মাছ জীবনে দেখিনি’। বিশাল মাছটি বিক্রির জন্য সিলেটের বন্দরবাজারের লালবাজারে নিয়ে এসেছেন বিল্লাল মিয়া।

ফেঞ্চুগঞ্জে যারা মাছটি ধরেছেন তারা এটি সিলেট নগরীর বৃহৎ মাছের আড়ৎ কাজির বাজারে বিক্রি করেন। সেখান থেকে কিনে এনেছেন বিল্লাল মিয়া। তবে কত টাকায় কিনেছেন তা তিনি জানাতে চাননি।

বিল্লাল মিয়া বলেন, ‘কুশিয়ারায় বড় মাছ ধরা পড়লে আমার কাছে খবর আসে। একইভাবে মঙ্গলবার সকালে খবর আসে অনেক বড় মাছ ধরা পড়েছে। পরে জানতে পারি মাছটি কাজিরবাজার আড়তে তোলা হয়েছে। সেখান থেকে মাছটি কিনে লালবাজারে নিয়ে আসি’। বিল্লাল মিয়া জানান, বাঘাইড় মাছটির ওজন প্রায় ৪ মণ। তিনি এটি ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান।

এদিকে লালবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বিশাল বাঘাইড় মাছটি দেখতে বাজারে নানা বয়সী মানুষ ভিড় করেছেন। অনেকে মাছটি ছুঁয়ে দেখছেন, পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

আবদুস সালাম বলেন, ‘এত বড় মাছ সচরাচর দেখা যায় না’।

বিক্রেতা বিল্লাল মিয়া জানিয়েছেন, একক ক্রেতা না পেলে বুধবার সকালে মাছটি তিনি কেটে কেজি দরে বিক্রি করবেন। এর আগে নগরীতে মাইকিং করা হবে। তবে ইতিমধ্যেই কেজি দরে মাছ নিতে ৩০-৩৫ জন নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ২৯ অক্টোবর ফেঞ্চুগঞ্জে হাকালুকি হাওরে ধরা পড়ে একজোড়া বড় বাঘাইড়। গত ৪ সেপ্টেম্বর কুশিয়ারায় ধরা পড়েছিল প্রায় ৪ মণ ওজনের আরেকটি বাঘাইড়। গভীর জলের নদী কুশিয়ারায় বাঘাইড়, বিশাল আকৃতির বোয়াল, চিতলসহ বড় বড় মাছ প্রায়ই ধরা পড়ে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসুত্রঃ প্রথম আলো

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২৩, ২০২১ ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
হালদা নদীতে মাছ রক্ষায় আরো নজরদারি বৃদ্ধি
মৎস্য

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিলে প্রজনন মৌসুম শুরু হয়। ওই সময়টাতে মা মাছ ধরতে অবৈধভাবে জাল বসায় চোরা শিকারিরা।

এ ছাড়া নিয়ম না মেনে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল ও বালু উত্তোলনের কারণে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন বেশ ক্ষতি হয়। এসব বন্ধে, নৌ থানার আওতায় হাটহাজারী উপজেলার রামদাস মুন্সিরহাটে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প।

ডলফিন হত্যা রক্ষায়, তাই নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নৌ-পুলিশ। নদীর সীমানায় স্থাপন করা হয়েছে ৮টি উচ্চক্ষমতার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। যা দিয়ে হালদার প্রায়ই সাত কিলোমিটারেরও বেশি জায়গায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। মাছের অভয়ারণ্য রক্ষায়, দূষণ রোধ, বালু উত্তোলন এবং চোরা শিকারিদের আটকাতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পুলিশ।

হালদা নৌ-পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মো. মাহবুবুল আলম জাজান, সিসি ক্যামেরা বসানোর মূল উদ্দেশ্য হলো হালদা নদীতে যাতে কেউ অবৈধভাবে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চালিয়ে বালু উত্তোলন করতে না পারে, কোনো মাছ শিকার করতে না পারে।

হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ডিম ছাড়ার আগের মাস নয়, পুরোটা বছর যেন নিরাপদ থাকে। হালদা দিয়েই আমাদের দেশে নদীতে প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে সরকার। এই ব্যবস্থা সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। তাই এদিকে গুরুত্ব দিলে নদী রক্ষা সহজ হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মার্চ ২২, ২০২১ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
পদ্মা ও বিলের মাছে একাকার রাজশাহীর মাছ বাজার
মৎস্য

ভোর হলেই হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়াতে বসা নতুন মাছ বাজারের আড়তগুলো। নদীর পুঁটি, কই, শিং, বোয়াল, আর চাষ করা পুকুরের রুই, কাতল, মৃগেরসহ নানা প্রজাতির মাছের সরবরাহে জমে উঠে বেচাকেনা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নামে হাঁক-ডাক।

আধুনিক সুবিধা ও নিরাপত্তা থাকায় পুকুর, নদী ও খাল-বিলের মাছ কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এসব আসে মাছ পদ্মা নদী, বিল ও উপজেলাগুলোর পুকুর থেকে। তাতে বাজারে বেড়েছে মাছের সরবরাহ।

মাছের বেচাকেনা করতে সকাল থেকে শতাধিক জেলে আসেন এ বাজারে। তবে মাছের সরবরাহ বেশি থাকায় কমেছে দাম। উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম না পেয়ে হতাশ মাছ চাষিরা।

আর স্থানীয়ভাবে চাহিদা কম ও বাইরের পাইকার না থাকায় মাছের দাম কমেছে বলে জানান আড়তদাররা।

মাছের নতুন এ বাজারে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে জেলার বাইরের পাইকারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন বলে জানালেন ইজারাদার রুহুল কুদ্দুস। জেলায় ৫১ হাজার পুকুরে চাষ করে বছরে মাছ উৎপাদন হয় ৮০ হাজার টন। স্থানীয় মাছের চাহিদা ৫৩ হাজার টন বলে জানা যায়।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop