৫:৪১ অপরাহ্ন

বুধবার, ১৮ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২১ ৬:৪৭ অপরাহ্ন
শেখ রাসেলের হত্যাকারীরা পশুতুল্য ও নর্দমার কীট: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের হত্যাকারীদের পশুতুল্য ও নর্দমার কীট বলে অভিহিত করেছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত শেখ রাসেল দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শেখ রাসেলের মতো নিষ্পাপ শিশুকে যারা অত্যন্ত নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল, তারা মানুষ না, তারা হলো নর্দমার কীট ও পশুতুল্য। আজকে শেখ রাসেল দিবসে আমাদের সকলকে শপথ নিতে হবে ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে-এ রকম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে আর কখনো না ঘটতে পারে।

ধর্মের নামে অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিষয়ে সচেতন ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, মানবতার শত্রু, ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এখনো বাংলাদেশে তৎপর। এখনো তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে উন্নয়নের বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চায়। অতীতেও এই সাম্প্রদায়িক শক্তি বার বার বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর আঘাত করেছে ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে স্ব স্ব জায়গা থেকে সজাগ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, যারা সাম্প্রদায়িকতা লালন করে তাদের বঙ্গবন্ধু পশুতুল্য বলেছিলেন। এই অপশক্তি ও সংকীর্ণমনা পশুদের রুখতে হবে। যে কোনো মূল্যে এদের দেশের মাটি থেকে নির্মূল করতে হবে। শেখ রাসেল দিবসে এটিই হোক আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনাটি যড়যন্ত্র ও নীলনকশার বহিঃপ্রকাশ। হিন্দু ধর্মালম্বীদের কেউ তাদের দেবতার পায়ের নিচে পবিত্র কোরআন রাখবে- সুস্থ মস্তিষ্কের কেউই এ ঘটনাকে বিশ্বাস করবে না, করতে পারে না। একজন বেকুবও বুঝবে যে, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যড়যন্ত্রের অংশ। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে চোরাগলি পথে ক্ষমতায় আসতে চায়- তারাই এ কাজ করেছে। রংপুরে ও কুমিল্লার ঘটনায় জড়িত ও দোষীদের খুঁজে বের করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ওয়াহিদা আক্তার। অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, সাবেক মহাপরিচালক হামিদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে মন্ত্রী শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে কেক কাটেন এবং বিএআরসি চত্বরে তাল গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকালে বনানীতে শেখ রাসেলের সমাধিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২১ ৪:০৭ অপরাহ্ন
১১৪ দিনের মাথায় বিঘাপ্রতি ২২ মন ধান পেয়ে খুশি কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

পোকামাকড়ের বালাই নেই সুগন্ধি জাতের এমন ধান চাষের পরও জমিতে সরিষা লাগানোর সুযোগ থাকে। ফলে কৃষকরা ব্রি-৭৫ জাতের নতুন ধান চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। মাত্র ১১৪ দিনের মাথায় বিঘাপ্রতি ২২ মন ধান পেয়ে খুশি সাতক্ষীরার কৃষকরা।

কৃষকরা জানান এই ধানের চাল চিকন। এর ভাত হয় ঝরঝরে। আমরা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে ব্রি-ধান ৭৫ চাষ করেছি। উচ্চ ফলন এবং আরও কিছু সুবিধা হওয়ায় আমাদের দেখাদেখি অন্যান্য কৃষকও এতে আগ্রহী হয়েছেন।

কৃষক আবুল হোসেন, আবুল বাশার, সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, আমরা আগামী বছর আরও বেশি এলাকায় এই চাষ করতে চাই।

সাতক্ষীরার বেনেরপোতা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শেখ মফিজুল ইসলাম জানান, এ বছর সাতক্ষীরায় ২০০ বিঘা জমিতে ব্রি-ধান ৭৫-এর চাষ হয়েছে।

আমরা কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহ ছাড়াও অনেক সহায়তা দিয়েছি। মাঠ থেকে এই ধান কর্তন উপলক্ষ্যে সদর উপজেলার লাবসায় এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চাষিরা ব্রি-৭৫ জাতের সুগন্ধি ধান চাষে লাভবান বলে উল্লেখ করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২১ ৭:১৮ পূর্বাহ্ন
নীলফামারীতে কফি বাগান পরিদর্শনে কৃষি কর্মকর্তারা
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় সম্ভাবনাময় কফি বাগান পরিদর্শন করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।রোববার বিকালে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামে তারা এ কফি বাগান পরিদর্শন করেন।

এ উপলক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদর উপজেলা কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মো. মশিউর রহমান।

জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক মো. আবু বক্কর ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক মো. মেহেদী মাসুদ, রংপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শষ্য) মো. আফজাল হোসেন ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান প্রমুখ।

জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, জেলায় ৪২ জন কফি চাষির ৬০ বিঘা জমিতে ১৫ হাজার চারা রোপন করা হয়েছে। রোপিত চারার মান ভালো হওয়ায় দু’বছরের মধ্যে ফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার নয়জন কফি চাষির মাঝে একটি করে বালাইনাশক স্প্রে মেশিন ও কফি গাছে পুষ্টি সরবরাহের জন্য ২৫০টি করে সিলভামিক্স ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এসব ট্যাবলেট গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা হলে টানা একবছর পুষ্টি সরবরাহ করতে পারবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২১ ১২:১৮ অপরাহ্ন
৫০ হাজার ইঁদুর মেরে পুরস্কার পেলেন কৃষক মহিবুর
কৃষি বিভাগ

কৃষক মো. মহিবুর রহমানকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এক বছরে ৫০ হাজার ৫‘শ ইঁদুর নিধন করায় পুরস্কৃত করা হয়েছে। ইঁদুর নিধনে মহিবুর আঞ্চলিক পর্যায়ে দ্বিতীয় এবং নরসিংদী জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষক মহিবুর রহমানের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়া ৬১ হাজার ২৫০টি ইঁদুর নিধন করে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও ৫৫ হাজার ৭৮০টি ইঁদুর নিধন করে অঞ্চল পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় শিবপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামানের হাতেও সম্মাননা সনদ তুলে দেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান।

এ সময় নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইদুর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ইঁদুর নিধনে কৃষক পর্যায়ে প্রথম হওয়া মো. মহিবুর রহমান জানান, ২০১৭-২০১৮ সালে তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেন। পুরো জমির ইঁদুর এসে তার গমক্ষেতে বাসা বাঁধে। ফলে তিনি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হন, মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ গম ঘরে তুলতে পেরেছেন। সেই থেকে জমির ফসল রক্ষায় তিনি ইঁদুর নিধন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে নিজের জমি ছাড়াও অন্যান্য কৃষকের জমিইয়র ফাঁদ পেতে ইঁদুর নিধন করেন মহিবুর।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, একটি ইঁদুর দৈনিক খাবার খায় ২৭ গ্রাম। নষ্ট করে তার পাঁচগুণ। ইঁদুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে গম ও ভুট্টার। ইঁদুরের জন্য কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই ব্যাপক পরিসরে ইঁদুর নিধন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২১ ৯:৩১ পূর্বাহ্ন
ড্রাগন চাষের দিকে ঝুঁকছেন শেরপুরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

শেরপুর জেলায় ড্রাগন চাষের দিকে ঝুুঁকছে কৃষকরা। ড্রাগন চাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। ​ড্রাগন ফণি মনসা প্রজাতির উদ্ভিদ। এর ফুল রাতে ফোটে, তাই একে নাইট কুইনও বলা হয়।

জেলার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ড্রাগন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফল। দুই দশক ধরে আমাদের দেশে এ ফল আমদানি করা হতো। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও চীনেও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষাবাদ জনপ্রিয়। বাংলাদেশে এর চাষাবাদ শুরু হয় ২০০৭ সালে।

২০১২ সালে নকলা-নালিতাবাড়ীর সংসদ সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্দেশে জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টার নকলায় ৩২০ জন প্রান্তিক কৃষককে ফলের কাটিংকৃত চারা সরবরাহ করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ বিনা খরচে প্রয়োজনীয় উপকরণও সরবরাহ করা হয়।

​ওই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে বানের্শ্বদী ইউনিয়নের মোজারবাজার, পোলাদেশী, বাওসা, চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর, বাছুরআলগা এলাকার ১০ থেকে ১২ জন কৃষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ও অনেকেই বসতবাড়ির আঙিনা ও অনাবাদি জমিতে গত কয়েক বছর ধরে ড্রাগন চাষ করছেন। এখন এ কৃষকদের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের কালাকুড়ার মো. আল-আমিন গত বছর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত লাল বারী-১ জাতের ড্রাগনের খামার শুরু করে। প্রথম অবস্থায় ৪৫০টি চারা রোপণ করে এক বছরের মধ্যে তার বাগানে ফল উৎপন্ন শুরু হয়েছে। তিনি এখন নিয়মিত চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছেন।

ড্রাগন ভিটামিন সি, মিনারেল ও আঁশসমৃদ্ধ। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ডায়াবেটিস, প্যারালাইসিস ও হার্টের রোগ প্রতিরোধেও এটি কার্যকর। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম।

কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, শেরপুরের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী। ফলে এ অঞ্চলে ড্রাগন চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে জেলার কৃষিতে বৈপ্লবিক উন্নতি ঘটবে।

শেরপুরের খামারবাড়ী উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে জানান,ড্রাগন চাষের জনপ্রিয়তা কৃষকদের মাঝে বেড়েছে। তার কারণ ড্রাগন চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২১ ৭:৫২ পূর্বাহ্ন
পানছড়িতে জুমের তিলে ভরে গেছে পাহাড়
কৃষি বিভাগ

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার জুমে এবার অনেক ফসল উঠে গেলেও তিল, আদা, হলুদ এখনো জুমেই শোভা পাচ্ছে। উঁচু-নিচু পাহাড়ের বুকে মৃদু হাওয়ায় দুলছে তিল গাছ। তিল মূলত জুমের সাথী ফসল। ধানের সাথে মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, মরিচ, ভুট্টা, বেগুন, কাউন, সিনরা ও মামরার সাথী ফসল কালো তিল ও সাদা তিল। একই সাথে বাঁশের নির্মিত মাচার ওপর ঝোলে শশা, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা। এসব ফসল একসাথে রোপন করা হলেও তোলা হয় পর্যায়ক্রমে।

জুমচাষী নিপুন ত্রিপুরা, সন্তোষ ত্রিপুরা এবার অনেক খুশি। অনুকূল আবহাওয়া ও উপযোগী বৃষ্টির ফলেই ফলন ভালো হয়েছে। তিল জৈষ্ঠ্য মাসের শুরুতে রোপন করা হলেও তুলতে তুলতে কার্তিক মাসের শেষ ও অগ্রহায়ণ চলে আসে বলে জানান।

মরাটিলা এলাকার বাদশা কুমার কার্বারী জানান, এলাকার বেশিরভাগ মানুষ জুম চাষের ওপর নির্ভর। চাষিদের পরিশ্রমের ফল হিসেবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের ফলন বাম্পার বলে জানালেন।

পানছড়ির উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুনাংকর চাকমা জানান, পানছড়ির শুধু জুমেই তিল চাষ হয়। আনুমানিক ১৫ হেক্টর জুমে তিল চাষ হয় যার সম্ভাব্য উৎপাদন ২২.৫ মেট্রিক টন। তবে সব তিল জেলার বাইরে রপ্তানি হয় বলে জানান। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাণিজ্যিকভাবেও তিল চাষ সম্ভব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৬:৩১ অপরাহ্ন
কানাইঘাটে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন
কৃষি বিভাগ

কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ ।ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি
আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন এ প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে কানাইঘাটে উদযাপিত হলো বিশ্ব খাদ্য দিবস।

শনিবার(১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কানাইঘাট উপজেলার উদ্যোগে আলোচনা সভা উপজেলা কৃষি অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) হায়দার আলীর সভাপতিত্বে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো:আবুল হারিছ এর পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা বেগম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন,উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আহমদ চৌ:,ইউসুফ আহমদ,আলমগীর হোসেন,ওমর ফয়সাল ,দেলওয়ার হোসেন,আজাদ মিয়া সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ।

এর আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কানাইঘাট উপজেলার উদ্যোগে র্যালির মাধ্যমে খাদ্য দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৪:০১ অপরাহ্ন
বীজ উৎপাদন করেই অর্ধকোটি টাকার মালিক হায়দার
কৃষি বিভাগ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের চলনবিল অধ্যুষিত গ্রাম কাটেঙ্গা। পানি নামলেই এখানে জেগে ওঠে কৃষিজমি। দুই দশকের বেশি সময় আগে কাটেঙ্গায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেক। আর সেই প্রশিক্ষণ দেখে দেখে বীজ উৎপাদন করেই এখন অর্ধকোটি টাকার মালিক হায়দার।

জানা যায়, কৃষিক্লাবে যখন প্রশিক্ষণ চলতো, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতেন হায়দার আলী নামে এক কৃষিশ্রমিক। নিজের জমি-জমা না থাকা এবং অন্যের ক্ষেতে কাজ করায় ‘কৃষক’ পরিচয় দিতেও হীনম্মন্যতায় ভুগতেন। ফলে প্রশিক্ষণ নিতে ক্লাবে প্রবেশ করতেন না। বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতেন কৃষি কর্মকর্তার কথা।

তাতে মন ভরছিল না হায়দার আলীর। একদিন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেককে বলেন, ‘স্যার আমাকে কী একটু প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় না।’ আকুতি শুনে হায়দারকে কৃষিক্লাবে ভর্তি করেন আব্দুল খালেক। অন্য কৃষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন হায়দারও। ওই প্রশিক্ষণই হায়দারের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পলিসমৃদ্ধ জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে কৃষিশ্রমিক হায়দার আলী এখন স্বাবলম্বী। ১৩ বছর পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে এখন অর্ধকোটি টাকার মালিক।হায়দার আলী লেখাপড়া করেননি। পোড় খাওয়া জীবনে অনেক কষ্ট ভুলে গেছেন। তবে যে কৃষি প্রশিক্ষণ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, তা এখনো ভোলেননি। কৃষি কর্মকর্তা খালেকের নির্দেশনা এখনো তার কানে বাজে।

নিঃস্ব থেকে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা হায়দার আলী চাটমোহরের চলনবিল পাড়ের কাটেঙ্গা গ্রামের সরু প্রামাণিকের ছেলে। বীজ উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা এ কৃষক তার সাফল্যের গল্প জানাতে গিয়ে জাগো নিউজকে এসব কথা জানান।

হায়দার আলী জানান, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন দিয়ে শুরু করলেও পরে তিনি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের কাছ থেকে ধান, সবজি, পাট, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও রসুন চাষ ও এর বীজ উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তিনি পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে বেশি নজর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে চার কাঠা জমিতে পেঁয়াজ বীজ করেছিলেন। ১৬ কেজি ফলন পেয়েছিলেন। তার পরের বছর ১৬ কাঠা জমিতে ৯৩ কেজি পেঁয়াজ বীজ হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৫ কেজি বিক্রি করেছিলেন। বাকি আট কেজি নিজে আবাদের জন্য রাখেন। পেঁয়াজ বীজ (কদম চাষ) চাষ করার পর যে পেঁয়াজ পাওয়া যায়, তা বিক্রি করেই আবাদের খরচ ওঠে।’

হায়দার জানান, চলতি বছর তার ঘরে এসেছে আট মণ ২০ কেজি পেঁয়াজ বীজ। মৌসুমের শুরুতে যদি তিনি এ পেঁয়াজ বীজ বিক্রি করতেন, তবুও অন্তত চার লাখ টাকা পেতেন। বীজ ঘরে সংরক্ষণ করায় মৌসুমের শেষে এসে বীজের দাম বেড়েছে। কেজিপ্রতি চার হাজার টাকা দরে বিক্রির আশা করছেন তিনি। প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পেলে এবার প্রায় ১০-১১ লাখ টাকার পেঁয়াজ বীজ বিক্রি করতে পারবেন হায়দার।

সফল এ কৃষক বলেন, ‘মূলত আমি লাখপতি হয়ে উঠেছি ২০১২ সালেই। ওই সময় আমার চাষি হিসেবে সফল হয়ে ওঠার শুরু। প্রায় এক যুগ পর এখন আমার নিজের নামে আড়াই বিঘা জমি। বাড়ির সঙ্গে জমি কিনেছি। কিছু জমি লিজ নিয়েছি। ঘর পাকা করেছি, মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করেছি। বাড়িতে গরু পালন করছি। পুরো বাড়িটা এখন খামার। অথচ এক সময় আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করতাম।’

হায়দার আলী আরও বলেন, ‘আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণে আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের পরামর্শে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করেই সফলতা এসেছে। বছরে এখন সর্বসাকুল্যে আমি প্রায় ৬০ লাখ টাকা আয় করতে পারছি। নিজে পড়ালেখার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছি। তাদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাই।’

জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, ‘অন্যের বাড়িতে কাজ করে আইপিএম প্রশিক্ষণ নেওয়াটা হায়দার আলীর জন্য অনেক কঠিন ছিল। তার আগ্রহের কারণে তাকে পরামর্শ দিয়ে আজকের অবস্থানে আনা সম্ভব হয়েছে।’

চাটমোহর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, ‘আমি নিয়মিত হায়দার আলীর কৃষিকাজের খোঁজখবর রাখি। গত মৌসুমেও হায়দারকে এক একর পেঁয়াজ বীজ করার প্রদর্শনী প্লটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও তিনি সফল হয়েছেন।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৩:০৭ অপরাহ্ন
একই জমিতে ধান-মাছের চাষ, লাভ হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি!
কৃষি বিভাগ

ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া অন্যতম মৎস্য উৎপাদন খ্যাত হিসেবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে। এ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষই অর্থনীতি উন্নয়নে মাছ চাষ করে এক অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা বিল, পুকুর, জলাশয় ও ফসলি জমিতে বাঁধ দিয়ে তারা মৎস্য চাষ করছেন। পাশাপশি নিচু এলাকার এক ফসলি ধান জমিতে করছেন বাঁধ দিয়ে মাছ চাষও।

স্থানীয় মৎস্য চাষি ও কৃষকরা এ পদ্ধতিতে মাছ ও ধান চাষ করে এলাকায় এক নীরব বিল্পব ঘটিয়েছে। সমন্বিত এ চাষে বর্তমানে স্থানীয় চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, এ উপজেলায় বৎসরে উৎপাদিত হচ্ছে ৪ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন মাছ। এখানে মাছের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন। উদ্ধৃত থাকছে ১ হাজার ১৪৫ মেট্রিক টন। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বাইরে সরবরাহ করা হয়।

জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিগুলোতে প্রতি বছর এক ফসলি ধান চাষ করা হয়। বর্ষার সময় ওইসব জমিতে অন্তত ৫-৬ মাস পানি থাকে। ধান কাটার পর ওইসব জমিগুলো প্রায় ৭ মাসের বেশি সময় খালি পড়ে থাকে। তখন নিচু জমিগুলোতে বাঁধ দিয়ে বা প্রজেক্ট তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ শুরু করছে স্থানীয় কৃষকরা। চাষকৃত মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া,পাঙাশ, স্বরপুটি, কার্ফ, গ্রাসকাপ, বোয়ালসহ নানা প্রজাতির মাছ। দিনের পর দিন বাড়ছে চাষের পরিধিও।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একই জমিতে ধান ও মাছ চাষে জমি উর্বর থাকে। ফলনও ভালো হয়। তবে বেশি ভাগ মৎস্য চাষি রয়েছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ধান ও মাছ উৎপাদনে কোনো সমস্যায় চাষিরা আমাদের কাছে আসলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে থাকি।

মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, এ উপজেলায় অনেক মৎস্য চাষি একই জমিতে দুই চাষ করে বেশ চমক সৃষ্টি করেছেন। একই জমিতে পৃথক দু’চাষে জমি উর্বর থাকে। যা ফসলের জন্য খুবই উপকারী। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে চাষিদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৮:৪২ পূর্বাহ্ন
বারোমাসি টমেটো চাষে শাওনের বাজিমাত
কৃষি বিভাগ

৩৫ শতাংশ জমিতে বারোমাসি টমেটো চাষ করেছেন কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাওন সরকার। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার টমেটোও বিক্রি করেছেন তিনি।

জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ৩৫ শতাংশ জমিতে টমেটোর চারা রোপণ করেন শাওন। বর্তমানে পাকা টমেটো স্থানীয় বাজারে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করছেন। খুচরা প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর পাইকারী প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে।

শাওন জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে বারোমাসি টমেটো চাষ বাবদ তাঁর দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ৫০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, গাছে যে পরিমাণ টমেটো রয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও তিন লাখ টাকার মতো টমেটো বিক্রি করতে পারবেন।

শাওন আরও জানান, কসমেটিক দোকান পরিচালনা করার পাশাপাশি তিনি এ টমেটো চাষ করেছেন। ভবিষ্যতে আরও ১০ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে তাঁর টমেটো ক্ষেত দেখে যাচ্ছেন। অনেকে পর্রামশ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাবিউল্লাহ জানান, শাওনকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ আমরা কৃষি সম্প্রাসারণ অফিস থেকে প্রথম থেকেই দিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন বাজারে টমেটোর দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষক।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop