২:১৫ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জুন ২৬, ২০২১ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন
বৃষ্টির পানি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জ জেলায় দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে আউশ ধানের আবাদ। বৃষ্টির পানি কাজে লাগিয়ে আউশের আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা। এ বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। এছাড়া যথাসময়ে কৃষি উপকরণ বিতরণ করায় আবাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন ও উৎপাদন আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি প্রণোদনা, বিনামূল্যে আউশ বীজ ও সার বিতরণ করা, উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ ধানের বীজের প্রাপ্যতা এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ ও মনিটরিংয়ের ফলে সেচ সাশ্রয়ী আউশের আবাদে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

সিরাজগঞ্জ সদর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না। প্রতি ইঞ্চি জমিকে কাজে লাগাতে হবে। তাঁর এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে যেসব জমি পতিত থাকত, কোনো আবাদ হতো না, এবার সেসব জমি আউশের আবাদের আওতায় এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বীজ, সার ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া যেখানে সরকারি সেচ প্রকল্পের ব্যবস্থা আছে, সেখানে সেচও ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এবার বোরো ধানের দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক আউশ ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

জেলার কৃষি অফিস সূত্র জানায়, আউশ ধানের আবাদ বৃষ্টি নির্ভর, সেহেতু এ ধান উৎপাদনে সেচ খরচ সাশ্রয় হয়। এবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় দেড় হাজার বিঘা জমিতে আউশের আবাদ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি কৃষককে ৩০ কেজি সার, পাঁচ কেজি বীজ ও সেচ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এবার সিরাজগঞ্জে কৃষকেরা আউশ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। বোরো কাটার পরপরই অনেক কৃষক আউশ ধান রোপণ করেছেন। আউশ ধান আবাদে উৎপাদন খরচ কম। পানি সেচ দেওয়ার দরকার হয় না। সেই সঙ্গে কীটনাশক ও সার প্রয়োগ করতে হয় সীমিত। তাছাড়া এবার বোরো ধানের ভালো দাম পেয়ে আউশ ধান উৎপাদনের উৎসাহ আরও বেড়ে গেছে।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, ‘ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করে বৃষ্টির পানি কাজে লাগিয়ে আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি প্রণোদনায় বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জে যেসব জমি পতিত থাকত, কোনো আবাদ হতো না, এবার সেসব জমি আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। ধানের উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। কৃষককেও নানাভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৪, ২০২১ ৫:৩১ অপরাহ্ন
বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি পেলেন পাটগ্রামের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজন রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলা চত্বরে উক্ত প্রকল্পের আওতায় গঠিত ৭৫টি কৃষক গ্রুপের মধ্যে ১০টি কৃষক গ্রুপকে বিনামূল্যে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (ধান রোপনের যন্ত্র) এবং ১২টি কৃষক গ্রুপকে বিনামূল্যে রিপার (ধান ও গম কর্তন যন্ত্র) বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল, পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পূর্ণ চন্দ্র রায়, পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গাফ্ফার, উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হারুন মিয়া প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৪, ২০২১ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
পদ্মায় পানি বাড়াতে বিপাকে কৃষক
কৃষি বিভাগ

পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে কৃষক। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের পাকা আউশ ধানসহ বহু কৃষি ফসল ডুবে গেছে। ধান ও ফসল নষ্ট হয়ে মাথায় হাত তাদের। ট্রলার ভাড়া ও শ্রমিকের চড়া মজুরি জোগার করতে না পেরে অনেক কৃষকই উত্তাল পদ্মার ওপার গিয়ে ডুবে যাওয়া ফসল সংগ্রহ করতে পারছেন না।

কৃষকরা জানান, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চর বিশ্বনাথপুর, বেথুরী, ধোপাগাথী, উত্তর দৌলতদিয়া, রাখালগাছি, বনভাবৈল, কুশাহাটা, বেতকাসহ বিভিন্ন চরে শত শত বিঘা জমিতে কৃষকরা অনেক আশা নিয়ে বিভিন্ন আবাদ করেন। এসব কৃষক সবাই নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এমনিতেই সর্বস্বান্ত।

দৌলতদিয়া নতুনপাড়া এলাকার কৃষক জিয়া মোল্লা (৫৫) জানান, তিনি পদ্মার ওপারে উত্তর ধোপাগাথী চরে ৩ বিঘা বাদাম, ১৫ বিঘা আউশ ধান এবং ২০ বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছিলেন। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর বেশিরভাগ টাকা সুদে নেয়া।

তিনি বলেন, বাদাম এবং কিছু তিল তোলা সম্ভব হয়েছে। আউশ ধানও পেকে গেছে। এর মধ্যেই হঠাৎ পানি বেড়ে গিয়ে ক্ষেতে কোমর সমান পানি হয়ে গেছে। কামলা নিয়ে গিয়ে যতটা সম্ভব কাটার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাতে মনে হয় শ্রমিকের বেতন ও ট্রলার ভাড়ার টাকাই উঠবে না।

মৃত মজিদ শেখেরপাড়ার বিধবা সাজেদা বেগম (৪৫) বলেন, আমার নিজের কোনো জমি নাই। বার্ষিক লিজ নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে বাদাম ও আউশ ধানের আবাদ করেছিলাম। ৫ মণ বাদাম তুলতে পেরেছিলাম। কিন্তু ধানগুলো ডুবে গেছে। আমার দুই ছেলে চরে গিয়ে পানির মধ্য হতে যতটা সম্ভব কেটে আনছে।এতে তাদের অনেক লোকসান হবে।

ফকিরপাড়ার তালেব মণ্ডল (৬০) বলেন, চরে তার নিজের জমি নাই। বিঘাপ্রতি ২ হাজার টাকা করে বাৎসরিক লিজ নিয়ে ৬০ বিঘা জমিতে তিনি তিল ও আউশধানের চাষ করেছিলেন। ফসলও মোটামুটি ভালো হয়েছিল। আশা ছিল ধার-দেনা শোধ করেও সারা বছর ঘরের ধানের ভাত খাব। কিন্তু সেটা আর হলো না।

বরকত সরদারপাড়ার সম্ভ্রান্ত কৃষক শওকত মোল্লা জানান, বহু বছর পর চরে তাদের অনেক জমি জেগে উঠেছে। অনেক আশা করে ধান-দেনা নিয়ে এবার ৪৮ বিঘা আউশ ধান, ১২ বিঘা বাদাম ও ২৪ বিঘা জমিতে তিলের আবাদ করেছিলেন। সঙ্গে ১০ বিঘা জমিতে বাঙি ও ঝিঙের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু এবার প্রচণ্ড খরা ও হঠাৎ পানি বেড়ে ফসল ডুবে যাওয়ায় তার অনেক লোকসান হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন, চরে কোনো সময় কোনো ফসল করলে বা কীভাবে চাষাবাদ করলে তারা লাভবান হবেন সে বিষয়ে তারা কৃষি বিভাগের কোনো সহায়তাই পায় না।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে ৩ জন করে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার জায়গায় আছেন মাত্র ১ জন করে। অফিসেও লোকবলের সংকট রয়েছে। ফলে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। চরের ডুবে যাওয়া ফসলের বিষয়ে তারা এখনো কোনো খোঁজখবর নিতে পারেননি। তবে দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রণোদনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।সূত্র: যুগান্তর

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২৩, ২০২১ ১২:০৩ অপরাহ্ন
ধানের এক চারায় দুইবার ফসল তুলে চমক দেখালেন কুড়িগ্রামের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী ও রাজারহাট উপজেলায় কেটে নেয়া বোরো ও ইরি-বোরো ক্ষেতের ধান গাছের গোড়া থেকে পুনরায় ধান উৎপাদন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কৃষকরা। প্রথম পর্যায়ে ধান কাটার পর আবারও দ্বিতীয় পর্যায়ে ভালো ফলন পেয়ে চমক লাগিয়েছেন এসব এলাকার কৃষক।

ভুরুঙ্গামারী ও রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের জমিতে কেটে নেয়া বোরো ও ইরি-বোরো ধানের গোড়া থেকে পুনরায় ধানের শীষ বের হয়েছে। সেগুলো পেকে গেছে। ধানের শীষ ছোট হলেও চিটা কম। এতেও ফলন ভালো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের এই পদ্ধতির ধান চাষকে কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় ‘রেটুন শষ্য আবাদ’ পদ্ধতি বলা হয় বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামের কৃষক আতাউর জানন, গত বোরো মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে বি আর-২৮ ধান চাষ করেছিলাম। গত মে মাসের শুরুতে ধান কেটে ঘরে তুলেছি। এরপর ওই জমিতে পড়ে থাকা ধান গাছের মুড়ি (গোড়া) নষ্ট না করে পুনরায় ধান উৎপাদন করতে যত্ন নিয়েছি।

এতে ধান গাছের গোড়া কাঁচা থাকায় দ্রুত নতুন কুশি বের হয়। তবে কোনো প্রকার সেচ ছাড়াই শুধু মাত্র সামান্য পরিমাণে সার প্রয়োগ আর কয়েক বার কীটনাশক স্প্রে করে চাষকৃত এসব মুড়ি ধানের মাঝারি ফলন পেয়েছি।

চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের কৃষক ইউনুছ আলী জানান, একই জমিতে কেটে নেয়া ধান গাছের গোড়া থেকে পুনরায় উৎপাদিত ধান পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। এক বিঘা জমিতে ফলন পেয়েছি প্রায় ৪ মণ ধান। এতে নিজেই শ্রম দিয়ে ৫ কেজি সার ও কীটনাশক প্রয়োগ বাবদ খরচ হয়েছে মাত্র ৩শ টাকা। এই ৪ মণ ধানই আমার অতিরিক্ত লাভ।

রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের কৃষক অশ্বিনী কুমার ও তার ভাই অশোক কুমার জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে আমরা ১৫ একর (৪৫ বিঘা) জমিতে ইরি-বোরো চারা রোপণ করি এবং গত মে মাসের শুরুতে প্রথম পর্যায়ে ফসল কেটে ঘরে তুলি।

প্রথম পর্যায়ে ধান কর্তনের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শম্পা বেগম ও উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমানের পরামর্শে ধানের নাড়াগুলো নষ্ট না করে রেটুন পদ্ধতিতে সামান্য ইউরিয়া ও টিএসপি সার ছিটিয়ে দেই। এতে নতুন গজিয়ে উঠা ধান গাছের পরিচর্যা করলে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা একই জমি থেকে আবার দ্বিতীয় পর্যায়ে ভালো ফলন পাই। এতে আমরা খুবই খুশি।

ভুরুঙ্গামারী কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও রোকনুজ্জামান জানান, ধানের মুড়ি থেকে আবার ধান চাষ করা যায়। বিশেষ করে ব্রি ধান-২৮ ও ২৯ ধানের গোড়া কাঁচা থাকে। এসব ধান কাটার পর ধান গাছের মুড়ি থেকে কুশি বের হয়। আর এসব মুড়ি থেকে পুনরায় ধান উৎপাদন সম্ভব। এতে খরচ নেই বললেই চলে।

চলতি বছর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের অনেক কৃষক কেটে নেয়া বোরো ধান গাছের মুড়ি থেকে পুনরায় ধান চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন।

রাজারহাট কৃষি কর্মকর্তা শম্পা আক্তার বলেন, উপজেলার পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের কৃষক অশ্বিনী কুমার ও তার ভাই অশোক কুমারের জমিগুলো ছিল এক ফসলি। ইরি-বোরো ফসল উৎপাদনের পর দুই থেকে আড়াই মাস জমি পরে থাকার পর পানি বৃদ্ধি পেলে তারা ওই জমিতে মাছ চাষ করতো। এখন থেকে তারা এই পদ্ধতিতে একবার ধান বীজ রোপণ করেই দু’বার ফসল উৎপাদন ও মাছ চাষ করতে পারবেন। এতে দ্বিগুণ ধান ও খড় পাবেন কৃষক।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজামান বলেন, এই পদ্ধতিতে ধান চাষকে কৃষি বিজ্ঞানের ভাষায় ‘রেটুন শষ্য আবাদ’ পদ্ধতি। বিশেষ করে বোরো ধান কেটে নেয়ার পর পরবর্তী আমন আবাদের জন্য প্রায় ২ মাস সময় পান কৃষকরা।

দুই মাস সময়ের মধ্যে পড়ে থাকা পতিত জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করে কৃষকরা বাড়তি ফসল পেতে পারেন। এটি বেশি লাভজনক না হলেও যেসব কৃষক নিজে পরিশ্রম করেন তারা একেবারে সীমিত খরচ করে একই জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদন করে লাভবান হতে পারবেন।

– জাগো নিউজ ২৪

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২২, ২০২১ ৯:২৮ অপরাহ্ন
মুন্সীগঞ্জের সবজি এখন বিদেশের মাটিতেও
কৃষি বিভাগ

মুন্সিগঞ্জ জেলাকে বলা হয় শাকসবজি উৎপাদনের বিখ্যাত জেলা। এ জেলার বজ্রযোগিনী বাজার ও রামশিং বাঁশপট্টিতে প্রতিদিন পাইকারি দামে শাকসবজি বেচাকেনার উৎসব চলে। এই বাজার থেকেই করলা রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। কৃষি অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত এ সকল সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই। সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা ও জৈব সার প্রয়োগ করে উৎপাদন করা হচ্ছে এই সবজি।

জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল, মহাকালী ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন এবং টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ধামারণ, আলদী, কাঠাদিয়া, সোনারং, ধীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা প্রতিদিন ভোরে জমি থেকে করলা, লাউসহ বিভিন্ন সবজি বজ্রযোগিনী বাজার ও রামপাল ইউনিয়নের বাঁশপট্টি পাইকারি বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন।

এ দুটি বাজারে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সবজি বেচাকেনা হয়। বাজার কাছাকাছি হওয়ায় কৃষকেরও তেমন পরিবহন খরচ গুনতে হয় না। করলা ছাড়াও লাউ, জালিকুমড়া, জিঙ্গা, কহি, ধুন্দল, শসাসহ গ্রীষ্ফ্মকালীন সব ধরনের সবজি পাওয়া যায়। বারো মাসই পাইকারি বাজার দুটিতে নানা ধরনের সবজি বেচাকেনা হয়ে থাকে।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আল মামুন জানান, বজ্রযোগিনী ও রামশিং বাজারে গ্রীষ্ফ্মকালীন শাকসবজির উৎসব চলে। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এই দুটি পাইকারি বাজার থেকে করলা বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে এবং কয়েকশ ট্রাক শাক-সবজি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও চলে যায়।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খোরশিদ আলম জানান, কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে একটি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এখন কৃষকরাও সচেতন হয়ে উঠেছেন। তাই রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং জমিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে বিভিন্ন ফাঁদের মাধ্যমে পোকামাকড় দমনের মাধ্যমে সবজি উৎপাদন পদ্ধতির দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২২, ২০২১ ৫:৪০ অপরাহ্ন
হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে কমেছে পেঁয়াজের দাম
কৃষি বিভাগ

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা। দুদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৭ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা কমে বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৮ টাকা দরে। এদিকে পেঁয়াজের দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে নিম্ন আয়ের মানুষজনের মাঝে।

হিলি স্থলবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, বন্দর দিয়ে নাসিক ও ইন্দোর এই দুই জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। দুদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২৭টাকা কেজি দরে।বর্তমানে তা কমে ২৪ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা কেজি দরে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, চলতি জুন মাসের ৩ তারিখ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে পূর্বে বন্দর দিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে আমদানির পরিমাণ কমে ২০ থেকে ২৫ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচামাল তাই কাস্টমসের সকল প্রক্রিয়া শেষে অতি দ্রুত পেঁয়াজগুলো বন্দর থেকে ছাড়করণের সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২২, ২০২১ ৩:৩৬ অপরাহ্ন
কৃষকরা এ্যাপের মাধ্যমে করছেন ধান বিক্রি
কৃষি বিভাগ

চাঁদপুর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকের এ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত কৃষকরা ধান বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। ৭ জুন পর্যন্ত জেলার ৩ টি উপজেলা থেকে এ্যাপের মাধ্যমে ১ হাজার ৭ মেট্রিক টনসহ সরাসরি আরো ৩হাজার ৩৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট৪ হাজার ৪০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হলো।

অন্য বছরের তুলনায় বোরো ধানের ফলন এবছর ভালো হওয়ায় কৃষকরাও সরকারের নিকট ধান বিক্রি করতে আগ্রহী। বাজারের চেয়ে মূল্য বেশী পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন জেলার প্রান্তিক কৃষকরা।

চাঁদপুর জেলা ধান ও চাল সংগ্রহে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্র অর্জনে এখন পর্যন্ত অনেক জেলার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে । এদিকে ধান ও চাল ক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে আরো আড়াই মাস বলে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে।

চাঁদপুর জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানাযায়, পদ্মা মেঘনা ডাকাতিয়া নদী বেষ্টিত চাঁদপুরের ৮ উপজেলায়ই কম বেশী বোরো ধানের আবাদ রয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে সরকার আভ্যান্তরীন খাদ্য শস্য সংগ্রহের জন্য জেলায় ৮হাজার ৮৬ মেট্টিক টন বোরো ধান ও ৭ হাজার ১০১ মেট্টিক টন সিদ্ধ চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৭ টাকা এবং সিদ্ধ চালের মূল্য নির্ধারণ হয় ৪০টাকা। ৯ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ধান ৫৩% সংগ্রহ করা হয়েছে । আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে লক্ষ্যমাত্র অর্জনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছেন।

জেলার শাহরাস্তি উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এ বছরই প্রথম ‘কৃষকের এ্যাপস’র ব্যবহার করে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কচুয়া, শাহরাস্তি, সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার নিবন্ধিত কৃষকরা সরাসরি খাদ্য গুদামে এনে ধান বিক্রি করছেন। বাকী মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলায় কৃষি বিভাগ থেকে দেয়া তালিকা অনুযায়ী সরাসরি খাদ্য গুদামে এসে ধান বিক্রি করেন কৃষকরা। আমার গুদামে গতকাল পর্যন্ত এ্যাপে ৫ হাজার৫.১৬ মেট্রিক টন ও সরাসরি ৪১হাজার .৩৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালেহ জানান, বিক্রি প্রক্রিয়ায় কোন ধরণের মধ্যসত্বভোগী না থাকায় সঠিক মূল্য ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে কৃষককে তার টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। পূর্বেই কৃষকদেরকে মাইকিং করে ধান বিক্রি করার জন্য সরাসরি আসার অনুরোধ করা হয়েছে। যার জন্য কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জেগেছে এবং প্রতিদিন অফিস চলাকালীন সময়ে সরাসরি খাদ্য গুদামে এসে ধান বিক্রি করে যাচ্ছেন। এ গুদামে গতকাল পর্যন্ত ৭হাজার ৪.২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করেছি।

চাঁদপুর সদরের বিষ্ণুপুর উনিয়নের কৃষক মান্নান গাজী ও মজিবুর রহমান জানান, তারা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রে এ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। এরপর তাদেরকে উপজেলা খাদ্য বিভাগ থেকে ফোন করে ধান বিক্রির জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে মান্নান গাজী ২.৬ মেট্রিক টন এবং মজিবুর রহমান ১.৮ মেট্রিকটন ধান বিক্রি করেছেন ২৭ টাকা কেজি দরে।
হাজীগঞ্জ উপজেলার তালিকাভুক্ত কৃষকরা সরাসরি গুদামে এনে ধান বিক্রি করছেন।

কৃষকদের মধ্যে সারোয়ার হোসেন বিক্রি করছেন ১.৮৪ টন এবং মো. বাবুল বিক্রি করেছেন ১.৭৬ মেট্রিক টন। তারা বলেন, এখন আর খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে এসে কোন ধরণের হয়রানি হয় না। বিক্রির পরে রশিদ দেয়া হয়। সরাসরি ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করতে হয়।

শাহরাস্তি উপজেলার মেহের উত্তর ইউনিয়নের বানিয়াচোঁ গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন জানান, তিনি মাইকে ধান বিক্রির প্রচারণা জানতে পেরে এ বছর প্রথম ২.২০ মে: টন মণ ধান বিক্রি করেছেন। প্রচারণা করায় অনেক কৃষকই ধান বিক্রির জন্য আসছেন। কোন ধরণের হয়রানির অভিযোগ নেই বলে জানান তিনি।

একই উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের কৃষক আবু তাহের জানান, তিনি গত কয়েকবছরই খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান বিক্রি করেন। এ বছর বাজার মূল্যের চেয়ে বেশী ১০৮০ টাকায় ধান বিক্রি করে তিনি লাভবান হয়েছেন। সরকার যেন এ ধরণের নিয়ম অব্যাহত রাখেন।

চাঁদপুর খাদ্য গুদামের ইনচার্জ তামিম হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্য সংগ্রহের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমরা তা শতভাগ বাস্তবায়নে সরকারের নিয়ম মেনে কাজ করছি। আশা করি কৃষক ও মিল মালিকরা আমাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

চাঁদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) নিত্যানন্দ কুন্ডু জানান, চাঁদপুর জেলা ৭ জুন পর্যন্ত সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ধান ৫৩% ও চাল ৫০% সংগ্রহ করেছে। সরকারের নির্দেশনা রয়েছে জুনের মধ্যে ৭৫% লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। আশা করা হচ্ছে তা সফল হবে। এছাড়াও জেলার ১৭টি অটো এবং ২টি হাস্কিং রাইস মিলস সিদ্ধ চাল সরবরাহ শুরু করেছেন। সূত্র: বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২১, ২০২১ ১১:৪৫ অপরাহ্ন
ধানে লাভ না হলেও কচুতে খুশি মেহেরপুরের চাষিরা
কৃষি বিভাগ

ধান চাষে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার মেহেরপুরের কচু চাষিরা খুশি। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যাচ্ছে মেহেরপুরের কচু।আবহাওয়া ভালো থাকায় এবছর এ জেলায় কচুর চাষ হয়েছে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রত্যাশা এবার এ জেলার চাষিরা কচুর দামও পাবেন অনেক ভালো।

অন্যান্য বছরের চেয়ে জেলায় এবার আউশ কচুর আবাদে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। বাজারমূল্যও ভালো। বিঘা প্রতি ১৪/১৫ হাজার টাকা খরচ করে ৪০/৪৫ হাজার টাকা ঘরে তুলেছেন চাষিরা। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে এবার জেলায় আউশ কচুর আবাদ হয়েছে এক হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে।

মনোহরপুর গ্রামের কচু চাষি সামাদ আলী জানান- বর্তমানে বাজারে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা মণ দরে কচু বিক্রি হচ্ছে। জমি থেকেই ফড়িয়ারা (পাইকার ব্যবসায়ী) ভালো দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছে কচু।

জেলা সদরের কাঁচা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বলেন- মেহেরপুর জেলার কচু সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার বাজারে এর চাহিদা যথেষ্ট। মেহেরপুরের কচু নামেই কচু বিক্রি হয়। ফলে ব্যবসায়ীরাও চাষিদের জমি থেকে কচু কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ জানান- সবজি উদ্বৃত্ত জেলা মেহেরপুরে প্রতি বছরই চাষিরা আউশ জাতের কচুর চাষ করে থাকেন। কৃষকরা ধান চাষে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কচু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। চাষিদের ভালো বীজের চাষ ও সঠিকভাবে পরিচর্যা করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করাসহ মাঠ পর্যায়ে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শও দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২১, ২০২১ ১:০৮ অপরাহ্ন
আউশ আবাদে ব্যস্ত কুমিল্লার চাষিরা
কৃষি বিভাগ

লাভের আশায় এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমে আউশ আবাদে ব্যস্ত কুমিল্লার চাষিরা। সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই মাঠে মাঠে আউশ রোপণে এখন তারা ব্যস্ত।

স্থানীয় চাষিদের থেকে জানা যায়, টানা বর্ষণ আর গত কয়েকদিনর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিলেন অনেক চাষি। সেই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্যই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা আশায় বুক বেঁধেছেন আউশ আবাদে। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আউশের ফলন অনেক ভালো হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। তাই বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে আউশ ধান রোপণ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা নিয়েও সন্তুষ্ট চাষিরা।

আউশ চাষি কামরুজ্জামান বলেন, লাভবান হওয়ার আশায় ১৮০ শতাংশ জমিতে আউশের আবাদ করেছি, এখন পর্যন্ত ক্ষেতের অবস্থা ভালো।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এ বছর জেলার ১৫ উপজেলায় ১৩ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ও উফশি জাতের আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার ৬৫ ভাগ ধান ইতোমধ্যে রোপণ শেষ হয়েছে। মোট আবাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন চাল।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, কৃষকদের আউশ ধান আবাদে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে কৃষকরা বাড়তি আউশ আবাদ করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। বর্তমানে ধানের দাম ভালো থাকায় অনেকেই আউশ আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন, আমরাও তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব জমি যেন কৃষি আবাদের আওতায় আসে সে লক্ষ্যে কুমিল্লাতে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৪ হাজার ৩২০ জন কৃষককে সবজি বীজও দেওয়া হচ্ছে, যাতে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় এখনো আউশ আবাদ করছেন চাষিরা। আমরাও তাদের উৎসাহ দিচ্ছি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জুন ২০, ২০২১ ১১:০১ অপরাহ্ন
আমতলীর কৃষি রেডিওতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইনোভেশন টীমের পরিদর্শন
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরগুনার আমতলীতে স্থাপিত দেশের একমাত্র সরকারি কৃষি রেডিও পরিদর্শন করলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভাবন, সেবা সহজিকরণ ও ইনোভেশন টীমের কর্মকর্তারা।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৮ জুন) বেতারের নির্মাণাথীন ভবনে রেডিওর কর্মকর্তা এবং কলাকুশলীদের সাথে এক মতবিনিময সভার আয়োজন করা হয়।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপপরিচালক (গণযোগাযোগ) মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপসচিব (প্রশাসন-৫) কাজী আব্দুর রায়হান, উপসচিব (প্রশাসন-১ শাখা) মীনাক্ষী বর্মন এবং উপসচিব (নীতি-১) সাজিয়া জামান, উপপ্রধান (কৃষি অর্থনীতিবিদ) শেখ বদিউল আলম।

আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেনের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর (ডিএই) বরগুনার উপপরিচালক আব্দুর রশীদ, ডিএই পটুয়াখালীর একেএম মহিউদ্দিন, আমতলীর উপজেলা কৃষি অফিসার সি এম রেজাউল করিম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) প্রোগ্রামার মো. মাহফুজ বিন ওয়াহাব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহকারি প্রোগ্রামার পল্লব কুমার রায়, সহকারি বীজতত্ত্ববিদ মানিক চন্দ্র কর্মকার প্রমুখ।

কৃষি রেডিওর স্টেশন ম্যানেজার মো. ইছা বেতারের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। এর আগে প্রধান অতিথি বেতারের স্টুডিও ঘুরে দেখেন। বিকেলে কলাপাড়ার গোলঘরে বেতার শ্রোতাক্লাবের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop