১০:১৫ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ৩ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ৯, ২০২১ ১২:১৭ অপরাহ্ন
দু‘হাজার হেক্টর জমিতে মেহেরপুরে কচু চাষ
কৃষি বিভাগ

অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক যত্নের কারণে এবার মেহেরপুর জেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে কচু। মেহেরপুরের কচুর চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে মনে করেন এবার এই জেলার চাাষিরা কচু চাষে ভালো দাম পাবেন এবং এতে করে তারা লাভবানও হবেন। ধান চাষে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবার মেহেরপুরের কচু চাষিরা খুশি।

অন্যান্য বছরের চেয়ে জেলায় এবার আউশ কচুর আবাদে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। বাজারমূল্যও ভালো। বিঘা প্রতি ১৪/১৫ হাজার টাকা খরচ করে ৪০/৪৫ হাজার টাকা ঘরে তুলেছেন চাষিরা। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে এবার জেলায় আউশ কচুর আবাদ হয়েছে এক হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে।

সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন কচু চাষি জানান, এবছর সাত বিঘা জমিতে আউশ কচুর চাষ করেছি আমরা। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে ধান চাষের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো।

জেলা সদরের কাঁচা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক জানান- মেহেরপুর জেলার কচু সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার বাজারে এর চাহিদা যথেষ্ট। মেহেরপুরের কচু নামেই কচু বিক্রি হয়। ফলে ব্যবসায়ীরাও চাষিদের জমি থেকে কচু কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার খাঁ জানান- সবজি উদ্বৃত্ত জেলা মেহেরপুরে প্রতি বছরই চাষিরা আউশ জাতের কচুর চাষ করে থাকেন। কৃষকরা ধান চাষে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কচু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। চাষিদের ভালো বীজের চাষ ও সঠিকভাবে পরিচর্যা করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করাসহ মাঠ পর্যায়ে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শও দেয়া হয় বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৯, ২০২১ ১২:০১ অপরাহ্ন
যমুনার বালু চরে কাউন চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা
কৃষি বিভাগ

সাঘাটায় যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বালু চরে কাউন চাষের দিকে ঝুঁকছেন সেখানকার চাষিরা। চরে এখন ব্যাপকভাবে কাউন চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। সারাদেশে কাউন চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে গেলেও আবার কৃষি বিভাগের উদ্যোগে নতুন করে উচ্চ ফলনশীল বারী-২ জাতের কাউন চাষের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর চিনিরপটল, কুমারপাড়া, কালুরপাড়া, হলদিয়া, কানাইপাড়া, গাড়ামারা, দীঘলকান্দি ও পাতিলবাড়িসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকরা নতুন উদ্যোমে কাউন চাষ শুরু করেছে। একসময় যমুনা নদীর ভাঙন আর বন্যার কারণে দরিদ্রসীমার নীচে ছিল চরাঞ্চলের মানুষের বসবাস। সে সময় এই এলাকাকে মঙ্গাপীড়িত অঞ্চল বলা হতো।

তৎকালীন কাউনের চালের ভাত, পায়েস ও পান্তা খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো চরাঞ্চলের মানুষ। সেই কাউন এখন আর দরিদ্র মানুষের খাবার নয়, কাউনের চালের পিঠা, পায়েস ও মলাসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী গ্রাম বাংলার পাশাপাশি শহরের মানুষের শখের খাবারে পরিণত হয়েছে।

একসময় চরাঞ্চল জুড়েই ছিল শুধু বালু আর বালু, এখানে কোনো ফসল হতো না, কিছু কিছু জমিতে কেবল কাউনের আবাদ হতো তখন চরের মানুষের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র ভরসাই ছিল কাউনের আবাদ করা আর নদীতে মাছ ধরা।

এর আগে, দেশি জাতের কাউনের ফলন কম হওয়ায় দিন দিন কাউনের আবাদ সারাদেশের ন্যায় সাঘাটায় চরাঞ্চল থেকেও হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান কৃষি গবেষণায় নতুন উদ্ভাবিত বারী কাউন-২ জাতের বাম্পার ফলন হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষক এখন আবার কাউন চাষে ঝুঁকে পড়েছে।

কৃষক ময়নুল হোসেন জানান, চরের একজন কৃষক ১৫ থেকে ২০ বিঘা পর্যন্ত জমি কাউনের চাষ করে থাকে। এর আগে, ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা ব্যয়ে দেশি জাতের কাউনের আবাদ করে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ কাউন ফলন হতো। ফলনও কম, বাজারে দামও ছিল অনেক কম। ফলে কাউন চাষে তেমন লাভ না হওয়ায় দিনদিন কাউন চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ছিল কৃষকরা। বর্তমানে একই পরিমাণ টাকা ও শ্রম খরচ করে বারী কাউন-২ জাতের প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন হয় ১০ থেকে ১২ মণ। প্রতি মণ কাউন বাজারে বিক্রি হয় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। খরচও কম, লাভও বেশি।

গাইবান্ধা কৃষি গবেষণা বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মাহমুদ জানান, বিগত ৫ বছর ধরে বাংলাদেশ কৃষি গবেণার উদ্ভাবিত বারী কাউন-২ সহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের পরামর্শে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং নতুন নতুন উদ্ভাবিত জাতের শস্য বীজ ব্যবহার করে অধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে চরাঞ্চলের কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কৃষিখাতে আরো এগিয়ে নিতে গাইবান্ধা কৃষি গবেষণা বিভাগের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৮, ২০২১ ৮:০৬ অপরাহ্ন
কৃষির উন্নয়ন হয়েছে কৃষকের হয়নি
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশের শহুরে নিম্নবিত্তের আয়ের প্রায় শতভাগই খাদ্যসংক্রান্ত খাতে ব্যয় হয়ে যায়। মধ্যবিত্তের সিংহভাগ উপার্জনও বাসা ভাড়া ও খাদ্যপণ্য ক্রয়ে ব্যয় হয়।জলাশয়ের পানির স্বল্পতা, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের উচ্চ খরচ কিংবা দুষ্প্রাপ্যতা, ঋতু পরিবর্তন, খরা, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জঞ্জাল, উচ্চ সুদের কৃষিঋণ এবং কৃষি উপকরণের কোম্পানিনির্ভরতার প্রত্যক্ষ কারণে দিন দিন বাড়ছে কৃষি উৎপাদন ব্যয়। মূল্যবৃদ্ধির কিছু পরোক্ষ কারণও রয়েছে।

চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বাম্পার ফলন
বাংলাদেশে বিশেষ এলাকায় বিশেষ ফলন বেশি হয়। সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় বাম্পার ফলন হলেই দাম পড়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক। উৎপাদনমূল্যের বিপরীতে বাজারমূল্য কম হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি স্বাধীনতার ৫০ বছরেও চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ।

সারে সরকারের দেওয়া ভর্তুকিতেও পদ্ধতিগত ত্রুটি আছে। জমির পরিমাণ ও ফসলের চাহিদামাফিক সারের ডিজিটাল সরবরাহব্যবস্থা নেই, ফলে নিবন্ধনের বিপরীতে মোবাইল পের মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া যা না। শেষপর্যন্ত লাভবান হয় দলীয় ডিলার। সরকার–নির্ধারিত মূল্যে কখনোই সার বিক্রি করে না ডিলার, কৃষকের কাছ থেকে আদায় করে ঘুষ ও অতিরিক্ত মূল্য। কৃষিভর্তুকির আমূল ডিজিটাল সংস্কার জরুরি। জাতীয় পরিচয়পত্র, চাষাবাদের জমি ও পেশাভিত্তিক ফলন নিবন্ধন, সার সরবরাহ, ঋণ-প্রণোদনা-ভর্তুকি প্রদানের ডিজিটাল ব্যবস্থায় যেতে হবে। দালালদের পাশ কাটিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় সরাসরি কৃষক থেকে ধান কেনার মডেলে যেতে হবে।

বৈচিত্র্যহীন চাষের একচেটিয়া মডেলে একটি এলাকায় সবাই ধান করলে চাইলেও অন্য ফলন করা যায় না। ফলন বৈচিত্র্য ও বাজার চাহিদামাফিক নিবন্ধন কৃষি প্রশাসনের কাজ। দেশীয় জাতের ফলন থেকে চাষি একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়া বিশেষ জাত দু-তিন বছরে নাই হয়ে যায়। কৃষক জিএমও বীজ ও চারা নির্ভর হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই এরা রোগবালাই এবং পতঙ্গ–প্রতিরোধী নয় বলে অতিরিক্ত সার, কীট-ছত্রাক ব্যবহার করতে হয়। এগুলোর ব্যবহারে উপকারী পোকার প্রজাতি নষ্ট হচ্ছে, শক্তিশালী হয়ে উঠছে ক্ষতিকারক পোকামাকড়-ছত্রাক। ক্রমবর্ধমান রাসায়নিক নির্ভরতার বিপরীতে জৈব-রাসায়নিক সমন্বিত চাষাবাদের দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বানানো দরকার।

এক দিকে মুলা, ফুলকপির অতিরিক্ত ফলন হচ্ছে অথচ অন্য ফসলের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদনই হচ্ছে না। প্রতিবছর আদা, পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

খরুচে এবং নিরানন্দ কৃষিশ্রম
উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন কৃষি অফিসগুলোকে আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে কৃষক সস্তায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ভাড়া নিতে পারতেন। কায়িক শ্রম, উচ্চ মূল্য থেকে মুক্তি পেলে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা কৃষিকে পেশা হিসেবে নিতে উৎসাহিত হবেন। কৃষি সরঞ্জাম ক্রয়ে সরকার ভর্তুকি দেয়, কিন্তু নষ্ট যন্ত্র মেরামত ও সংরক্ষণের কারিগরি সেবা নেই বলে এই ভর্তুকি কাজে আসে না।

পাইকারি বাজারে কৃষকের অধিকার
কারওয়ান বাজারসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক বাজারগুলো পাইকারদের দখলে থাকে, দালালদের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা বাজারসংলগ্ন রাস্তা পর্যন্ত ভাড়া দেয়। ব্যক্তি কৃষকের এখানে ফসল নিয়ে আসার সুযোগ নেই। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদনের পেছনে যে মান, পরিশ্রম, পরিবেশ ও বৈচিত্র্যগত বহু গল্প থাকে, ক্রেতার তা অজানাই থাকে। নেই মূল কৃষক ও দালালদের মধ্যে মূল্য প্রতিযোগিতাও।

মানহীন কৃষিপণ্য পরিবহন
শাকসবজি, ফল, খাদ্যশস্য, মাছ প্রায় সবই খোলা ট্রাকে, বাসের ছাদে কিংবা বাক্সে অত্যন্ত গরমের মধ্যে, অত্যধিক বাতাসে, রোদে পরিবহন করা হয়। শ্রেণীকৃত, হিমায়িত, তাপানুকূল ‘ফুডগ্রেড’ পরিবহন ব্যবস্থা নেই। মহাসড়কের পাশে, ফেরিঘাটে, যানজটে মাইলের পর মাইল দাঁড়িয়ে থাকে কৃষি পণ্যবাহী ট্রাক। এতে শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়, জ্বালানি খরচ বাড়ে, পণ্য নষ্ট হয়, দামও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য শুধু পরিবহনে নষ্ট হয়।

দাম বাড়াচ্ছে চাঁদাবাজি
রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মহাস্থান হাট থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে আসতেই সব ধরনের সবজির দর বেড়ে যাচ্ছে ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত। পথে পথে চাঁদাবাজি। পণ্যবাহী ১০ টনের একটি ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় প্রায় সাড়ে ২২ হাজার টাকা। হাইওয়ে পুলিশের পণ্য পরিবহনে সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া কথা, অথচ তারাই বেশি চাঁদাবাজি করে। যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীই চাঁদাবাজি করে, সেখানে কৃষিপণ্যের দাম কীভাবে কমবে। এর সঙ্গে যোগ হয় স্থানীয় সমিতির চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, পাইকারি বাজারের স্থান ও দালালের খরচ। দালালেরা স্থানীয় বাজারে সিন্ডিকেট নির্ধারিত পাইকারি মূল্যে পণ্য বিক্রিতে কৃষককে বাধ্য করে। কৃষিপণ্যের জন্য বিশেষ সুবিধার সড়ক পরিবহনের চিন্তা সরকারের নেই। দেশের সবজি ও কৃষি উৎপাদনের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোকে বিভাগীয় শহরের সঙ্গে ট্রেন সংযুক্ত করার কাজ এখনো বাকি। বগুড়া-সিরাজগঞ্জের মতো দরকারি কৃষি রেল রুট কিংবা কৃষিপণ্য পরিবহনবান্ধব বিশেষ রেল কোচ এখনো চালু করা যায়নি। কৃষি হাবগুলো থেকে মহানগরে পণ্য পরিবহনের জন্য শ্রেণীকৃত তাপানুকূল, হিমায়িত ট্রেন কোচ বা বিশেষ সড়ক পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলে বহুস্তরের চাঁদাবাজির লাগাম টানা যেত। তরমুজের দাম বাড়ার পর জেলা প্রশাসনকে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ধরনের লোকদেখানো সস্তা কাজ না করে পুলিশের উচিত বহুস্তরের চাঁদাবাজি থামানো। বাজারব্যবস্থায় অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে দালাল ও পাইকার গোষ্ঠী সাময়িকভাবে ক্রয় বন্ধ করে পচনশীল কৃষিপণ্যের সমূহ ক্ষতি করতে সক্ষম।

চাই টেকসই স্টোরেজ অবকাঠামো
ঋণের কারণে ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন না কৃষক, উৎপাদনের অব্যবহিত পরেই বিক্রি করে ঋণের কিস্তি কিংবা দেনা শোধ করতে হয়। তার ওপর উচ্চ আর্দ্রতার এবং উচ্চ তাপমাত্রায় পচনশীল সবজিজাতীয় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের কোনো উপায়ই দেশে নেই, নেই অঞ্চল ও পণ্যভিত্তিক অবকাঠামো। ভিন্ন ভিন্ন ফসলের চাহিদা মোতাবেক আমাদের কোল্ডস্টোরেজ শ্রেণীকৃত নয়, দেখা যায় পুরোটাই আলুর উপযোগী! ফলে কৃষকেরা অ্যান্টি ক্লোরিনেটেড ওয়াটার, কার্বাইড কিংবা ফরমালিন ব্যবহার করছেন! উৎপাদিত পচনশীল শাকসবজি, ফল-ফুল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না–থাকায় মৌসুমের বাইরে ফলনের কোনো বাজার নেই। এতে কৃষক বেশি উৎপাদিত পণ্য মৌসুমেই কম দামে বাজারে ছাড়াতে বাধ্য হন। ভিন্ন ভিন্ন জাতের আম পাড়ার মধ্যে ফারাক তিন-চার সপ্তাহ, লিচুর মাত্র দুই সপ্তাহ, কাঁঠালের তিন-চার সপ্তাহ, সবজি ও ফুলের ক্ষেত্রেও দু-তিন সপ্তাহ। সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই কৃষককে বাজারজাত করতে হয়। তাই সমন্বিত বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার অভাবে বাড়তি পচনশীল পণ্য পানির দরে বিক্রি হয়। অথচ মৌসুমের পরেই কিন্তু বাজারে এগুলোর ভালো দাম থাকে। এতে বিষ মিশিয়ে সংরক্ষণের প্রবণতা বাড়ে। উপরন্তু বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বিক্রির বড় কোন আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরি হয়নি। এর প্রধান কারণ হতে পারে, মানসম্পন্ন বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফুডগ্রেড সংরক্ষণ, মানসম্পন্ন প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় সংযুক্ত হওয়ার বিপণন ব্যর্থতা।

স্বাধীনতার পাঁচ দশকে বাংলাদেশের যত অর্জন, তার মধ্যে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম কৃষি উৎপাদনকারী দেশ। এই অর্জনকে নিবন্ধন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অবকাঠামোগত উৎকর্ষে সঞ্চারিত করে প্রকৃত কৃষকদের ধনী করা গেলে সেটাই হবে টেকসই উন্নয়ন।

 

লেখক

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৮, ২০২১ ৭:১১ অপরাহ্ন
ফেনীতে ধানের বদলে কুমড়া চাষে তিন গুণ লাভ!
কৃষি বিভাগ

দাম ভালো পাওয়ায় ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নে ধানের পরিবর্তে কুমড়া চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। আবহাওয়া ও জমি চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন বেশ পেয়েছেন চাষিরা। এবং তিনগুণ বেশি লাভ হচ্ছে বলে দাবি করছেন তারা।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৪’শ শতক জমিতে মিষ্টি কুমড়া ও চাল কুমড়া চাষ করে অনেক টাকা আয় করেছেন কৃষকরা। আগামীতে তারা আরও বেশি কুমড়া চাষ করবেন বলে জানান। কালিদহ ইউনিয়নে কৃষকদের জন্য আইপিএম নামের একটি ক্লাব রয়েছে। এখন ঐ ক্লাবের সদস্য ২০ জন।

কৃষক মহিউদ্দিন জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আমার ২০ শতক জমিতে কুমড়া চাষ করেছি। সঠিক নিয়মে পরিচর্যা করায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আগামীতে দ্বিগুণ কুমড়া চাষ করার ইচ্ছা আছে। প্রতি শতক কুমড়া চাষে খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা। প্রতি শতক কুমড়া বিক্রি করেছি ১ হাজার টাকায়।

চাষি শাহজালাল অনিক জানান, তিনি এবছর মাত্র ৩০ শতক জমিতে চাল কুমড়ার চাষ করেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। কুমড়া বিক্রি করে তার প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।

উপজেলার কৃষি অফিসার মাসুদ রানা জানান, কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এর ফলন আরও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৮, ২০২১ ৬:২৯ অপরাহ্ন
ঘাটাইলে সরকারি খাদ্য গুদামে বোরো ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন
এগ্রিবিজনেস

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সরকারি খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার(৮ মে) দুপুরে জাতীয় সংসদে খাদ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

ঘাটাইল খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ খোরশেদ আলম মাসুদ জানান, এবারের বোরো মৌসুমে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ও সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ এক হাজার ৮০ টাকা দরে দুই হাজার ৯২৬ মেট্রিক টন ধান ও ৪০ টাকা কেজিতে ছয় হাজার ৭৭১ মেট্রিক টন বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে। যা ধান ও চালের আর্দ্রতা থাকতে হবে ১৪ শতাংশ। সংগ্রহ কার্যক্রম ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলবে বলে জানান তিনি।

এর আগে সকাল ১১ টার দিকে ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম লেবু, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল আবেদীন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকির হোসেন খান, উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক সফিকুল ইসলাম দুলাল চৌধুরী, স্থানীয় কৃষক আব্দুল বাসেত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৮, ২০২১ ৪:২৬ অপরাহ্ন
নতুন করে কৃষি বিপ্লব ঘটবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমাদের বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি ব্রি–৮১, ব্রি- ৮৯, ব্রি ৯২, মুজিববর্ষে ব্রি- ১০০সহ অনেকগুলো উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবিত হয়েছে। ব্রি-৮১, ব্রি- ৮৯ ও ব্রি ৯২ জাতের ধানের ফলন অনেক বেশি। প্রতি বিঘায় ২৫- ৩০ মণ, প্রতি শতকে প্রায় ১ মণ। এ জাতগুলো চাষের মাধ্যমে দেশে নতুন করে সবুজ বিপ্লব ঘটবে। দেশে খাদ্য উৎপাদন অনেকগুণ বাড়বে ও ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট হবে না।
কৃষিমন্ত্রী আজ শনিবার টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি কামারপাড়ায় ‘ব্রি-৮৯ ও ৯২ জাতের ধান কর্তন ও কৃষক সমাবেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ব্রি ৮৯ ও ব্রি- ৯২ চাষের মাধ্যমে উন্নত শস্য বিন্যাসে বোরো ধান ও আমন ধান চাষ করে পতিত সময়ে সরিষা করা যাবে। প্রতিবছর আমাদেরকে বিদেশ থেকে ১৫-২০ হাজার কোটি টাকার বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল আমদানি করতে হয়। এ জাত দুটি চাষ করলে অতিরিক্ত ফসল হিসাবে সরিষা উৎপাদন করা যাবে। ফলে সরিষার উৎপাদন বাড়বে ও তেল আমদানির পরিমাণ কমবে।
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, বারির মহাপরিচালক ড. মো: নাজিরুল ইসলাম, বিনার ডিজি ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো: আতাউল গণি, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
ব্রির তথ্য মতে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রোপণকৃত ব্রি ধান৮৯ ও ব্রি ধান৯২ আজ কাটা হয়। আগে এই এলাকায় ব্রি ধান২৮ এবং ব্রি ধান২৯ আবাদ করা হতো যেখানে ব্রি ধান২৮ ও ব্রি ধান২৯ এর ফলন ছিল বিঘাপ্রতি ১৮ থেকে ২০ মন, সেখানে ব্রি ধান৮৯ ও ব্রি ধান৯২ ধানের ফলন পাওয়া যায় বিঘাপ্রতি ২৫-৩০ মন। এছাড়াও, ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে পাঁচ থেকে সাত দিন পূর্বেই কর্তন করা যায় এই দুটি জাত।
ব্রির তথ্যে জানা যায়, বোরো-পতিত-রোপা আমন বাংলাদেশের একটি প্রধান শস্যবিন্যাস, যা সারাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির প্রায় ২৭% জমিতে চাষাবাদ করা হয়। এই দ্বিফসলী শস্যবিন্যাসের নানাভাবে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে- বিশেষ করে উঁচু এবং মধ্যম উঁচু জমিতে।এ শস্যবিন্যাসের উন্নয়নের জন্য প্রথমত বোরো এবং রোপা আমন ধানের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ  করা হয়। ভোজ্য তেলের জন্য বোরো-পতিত-রোপা আমন শস্যবিন্যাসে সরিষা অর্ন্তভূক্তি করতে পারলে ২.৬০ মিলিয়ন টন সরিষা উৎপাদন সম্ভব, যা থেকে বছরে ১.০৪ মিলিয়ন টন সরিষা তৈল পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে সকালে মন্ত্রী মধুপুরের গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ৩১,১৮৭ টি পরিবারকে ৪৫০ টাকা করে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার ভিজিএফ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, দেশে খাদ্যের কোন সংকট নেই। এখন সারা দেশে বোরো ধান কাটা চলছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ উপলক্ষ্যে এই উপহার দিচ্ছেন যাতে করে কোনক্রমেই একটি মানুষকেও যেন ঈদে খাদ্যের জন্য কষ্ট করতে না হয়। ঈদের আনন্দ যাতে ম্লান না হয়।
শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৭, ২০২১ ১০:৪১ অপরাহ্ন
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে নবাবগঞ্জে বোরোর আবাদ
কৃষি বিভাগ

আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে ঢাকার নবাবগঞ্জে। মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ। ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তুলছেন কৃষকরা। এবার এ উপজেলায় বোরো ধানের বাস্পার ফলন হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবছরের চেয়ে পোকার আক্রমণ কম থাকায় অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এবার নতুন ধান তোলার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষক। এ মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৯২৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাদের পরিমাণ বেড়ে এবছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়।

এর মধ্যে হাইব্রিড এস এল আর -৮, হাইব্রিড রূপালি ধানী গোল্ড, ব্রিধান-২৮, ২৯, ৫০, ৫৮, ৬৩, ৭৪, ৮৮, ৮৯, ৯২, বিনা -১০, বিনা-১৪ এই জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে। এবছর ১০ হাজার ৯২৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় ১০ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।

কৃষকরা আশা করছেন, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে তাদের কাঙ্খিত সোনালী ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ যাবত ১ হাজার হেক্টর জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছে কৃষক। এ ধান ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। দলীয় আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়াও নিয়মিতভাবে রোগ ও পোকার আক্রমণ সংক্রান্ত পূর্বাভাস জরিপ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

এসব কাজ ছাড়াও উপজেলায় ৪২জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকের জমিতে ফসলের তদারকিসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলার ভাঙ্গাপাড়া গ্রামের ধান চাষি মোতালেব খাঁন জানান, এবার ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। গত বোরো মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ছিলাম। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানও খুব ভালই হয়েছে। প্রতিটি শীষ ক্ষেতে সোনার মত জ্বলছে। বাজারে ভাল দাম পেলে লাভবান হতে পারবো।

মাদলা গ্রামের খামাতপাড়ার ধান চাষি ফজলু মিয়া জানান, এবার ১২ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি। এর মধ্যে ব্রি-২৮ জাতের ধান আছে ৫ বিঘা। বাকি ৭ ব্রি-২৯ জাতের। ভাল ফলনে এবার স্বপ্ন দেখছি ভাল দামের। আর কিছু দিন পরেই সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠবে কৃষকের বাড়ির উঠান।

জৈনতপুর গ্রামের বর্গাচাষি সমির মিয়া জানান, প্রতিবেশীর নিকট দেড় বিঘা জমি বর্গা নিয়ে হাইব্রিড ধানের চাষ করছি। এ দোলায় (মাঠে) আমার মতো ধান কারো ফলেনি। বিঘায় ২৫ মণ ধানের আশা করছি। প্রতিদিন আসি আর ধান কাটার স্বপ্ন দেখি। ধানের বাজার ভাল পেলে বাকি দিনগুলি মোটামুটি ভালই চলে যাবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকা মাকড়ের উপদ্রপ ছাড়াই কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকের মাঝে গিয়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছে। এবার ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-২৮ জাতের ধানের আবাদ এবার বেশি হয়েছে। বেশি ফলন পাওয়ায় কৃষক এখন হাইব্রিড ও উপসি জাতের ধানের আবাদ বেশি বেশি করছে। আশা করি, এসব ধানে এবারও বাম্পার ফলন হবে। বাজারে ধানের দাম ভাল পেলে কৃষকের স্বপ্ন পূরণ শতভাগ পূরণ হবে।-বাসস

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৭, ২০২১ ৭:০৭ অপরাহ্ন
কামারখন্দে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজের চাষ
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের জামতৈল কলেজপাড়ায় কয়েক জন তরুণের উদ্যোগে উপজেলায় ১০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজের।

উদ্যোক্তা হাবিব জানান, আমরা চুয়াডাঙ্গা থেকে উন্নত জাতের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজের বীজ এনে চাষাবাদ শুরু করি। ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছি। তবে এক ধরনের পোকার আক্রমণে কিছু তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, তরমুজের একটি উন্নতমানের জাত হচ্ছে গোল্ডেন ক্রাউন। কিছু কিছু তরমুজে মাসি পোকার আক্রমণ হওয়ায় কৃষকদের ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৭, ২০২১ ২:৫৬ অপরাহ্ন
ইউটিউব দেখে ফল চাষে ঘুরে দাঁড়ালেন রশিদ
কৃষি বিভাগ

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার আব্দুর রশিদ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের সহযোগীতায় শুরু করেন কৃষি কাজ। ইউটিবে কৃষি কাজ সংক্রান্ত ভিডিও দেখে তিনি হয়ে উঠেন একজন সফল চাষা। বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে গোল্ডেন কালারের এক নতুন জাতের তরমুজ “তৃপ্তি” চাষ করেছেন তিনি। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এখান থেকে খরচ বাদে দেড় লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তার শখ কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন সবজি, ফল ও ফসলের চাষ করা। আর এর জন্য তিনি ইউটিবে কৃষি কাজ সংক্রান্ত ভিডিও দেখতেন। এভাবে দেশের যে কোন প্রান্তে নতুন কোন চাষের সংবাদ পেলে। মাসে একদিন সময় করে সেখান থেকে ঘুরে অসেন। এভাবেই তিনি তার চাষে সফলতা দেখিয়ে চলেছেন। সাথে নিজের পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। আব্দুর রশিদ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যুগিহুদা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।

বর্তমানে তার দুই বিঘা জমিতে গোল্ডেন কালারের এক নতুন জাতের তরমুজ “তৃপ্তি” চাষ করেছেন। রোজার ১০ দিন থেকে তরমুজ বিক্রি শুরু করেছে। স্থানীয় ও ঢাকার ব্যাপারিরা খেতে এসে তরমুজ নিয়ে যাচ্ছে। এই দুই বিঘা তরমুজ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এখান থেকে খরচ বাদে দেড় লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

মাত্র দুই মাসে ভিন্ন জাতের এ তরমুজ চাষ দেখে জেলার অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এছাড়া কৃষক আব্দুর রশিদ তরমুজের পাশাপাশি তার পাঁচ বিঘা জমিতে মাল্টা, কমলা লেবু ও আঙ্গুরের চাষ করেছেন। আঙ্গুর চাষ এবারই প্রথম শুরু করেছেন তিনি। ১০ কাঠা জমিতে ছমছম ও সুপার সনিকা জাতের ৭৫ টি আঙ্গুরের গাছ রোপণ করেছেন।

ভারত ও ইটালি থেকে এসব চারা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। যদি আশানুরূপ ফল পান তাহলে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ বছর এসব গাছ থেকে ফল পাবেন। তবে এখনো পর্যন্ত দেশে চাষ হওয়া আঙ্গুরের স্বাদ ভালো না হলেও সফল এ কৃষকের দাবি তার আঙ্গুর সুস্বাদু হবে।

এর আগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্লাক বেরি (কালো রঙের) ও গোল্ডেন ক্রাউন (হলুদ রঙের) জাতের তরমুজ চাষ হতে দেখা গেছে। বর্তমানে সদর উপজেলায় ৪ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে এবং জেলায় এ সংখ্যা প্রায় ১৫ হেক্টর।

তরমুজ চাষি কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, বিভিন্ন সময় ইউটিবে কৃষি কাজ সংক্রান্ত অনেক ভিডিও দেখতাম। এছাড়া বিভিন্ন কৃষকদের মাধ্যমে খোঁজ রাখতাম কোথায় কোন চাষ হচ্ছে। নতুন কিছু মনে হলেই সেখানে ছুটে যেতাম। সেখান থেকে চাষ পদ্ধতি রপ্ত করে নিজে চাষ করতাম।

এভাবে চলছে আমার চাষকর্ম। তিনি আরো জানান, বর্তমানে আমার দুই বিঘা জমির তৃপ্তি জাতের তরমুজ বিক্রি শুরু করেছি। জমিতে যে তরমুজ আছে তা প্রায় দুই লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো। তাতে খরচ বাদে লাভ হবে দেড় লাখ টাকা।

বিষয়টি নিয়ে মহেশপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমিত বাগচী জানান, পানি নিষ্কাষণ ও বেলে দো-আঁশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য বেশি উপযোগী যা ঝিনাইদহে বিদ্যমান। আর মান ভালো হওয়া ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ জেলার তরমুজের চাহিদা রয়েছে অনেক।-জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ৭, ২০২১ ২:৩৪ অপরাহ্ন
বরগুনাসহ বরিশাল বিভাগে বাড়ছে খাদ্যশস্য ও মাছ উৎপাদন
কৃষি বিভাগ

বরগুনাসহ বরিশাল বিভাগে কয়েক বছর ধরে খাদ্যশস্য চাল ও ফসলের উৎপাদন বাড়ছে। চলতি বছর বোরো আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে। নদী, সাগর থেকে আহরণ করা ও মিঠা পানির মাছের পরিমাণও চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি পাওয়া গেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর তিন ফসল মিলিয়ে এই বিভাগে প্রায় ৩১ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়। একইভাবে দেশের ৮০ ভাগ মুগ ডাল, ৬৫ ভাগ তরমুজ উৎপাদন হয় এই বিভাগে। চলতি বছর বোরো আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ টন চাল। মুগ আবাদ হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টরে। লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ লাখ মে. টন। এ ছাড়া ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে রবি আবাদ হয়েছে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলিমুর রহমান জানান, জমিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। তাই এটা রোধে দ্রুত সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শুধু কৃষি নয়, বেশ কয়েক বছর ধরে দেশের মোট ইলিশের ৬৬ ভাগের জোগান দেয় বরিশাল অঞ্চল। একইভাবে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনেও এই বিভাগের অবদান অনেক। তবে লবনাক্ততার কারনে নদীতে নদী, খালে হঠাৎ করে মাছের প্রাপ্যতা কমে গিয়েছে বলে জেলেরা জানিয়েছেন।

মৎস্য বিভাগের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হালিমা সরদার জানান, জেলেরা চরগড়া, কারেন্ট, বেহুন্দি এসব অবৈধ জালের ব্যবহার করায়, নদীতে চর পড়ে স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘœ ঘটায়, লোনা পানি, বৃষ্টি কম হওয়া, জেলের সংখ্যা কয়েকগুন বৃদ্ধি পাওয়াতে মাছের আধিক্য কমেছে। তবে আশা করছি বৃষ্টি হলেই কয়েক দিনের মধ্যে নদীগুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop