৩:০৯ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : মে ২৭, ২০২১ ৪:২৮ অপরাহ্ন
বরিশালে আঞ্চলিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) আয়োজেন বরিশালে আঞ্চলিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়

আজ বৃহস্পতিবার(২৭ মে) বরিশালের খামারবাড়িতে আঞ্চলিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিএই বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিন, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ছাব্বির হোসেন, ডিএই ঝালকাঠির উপপরিচালক মো.ফজলুল হক, ডিএই পিরোজপুরের উপপরিচালক চিন্ময় রায়, ডিএই ভোলার উপপরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ্, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের যুগ্ম পরিচালক ড. একেএম মিজানুর রহমান, বরিশালের জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার , আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

সভায় গত রবি মৌসুমে ফসলের ফলন আশানুরূপ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আসন্ন খরিফ-২ মৌসুমের পরিকল্পনা এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৭, ২০২১ ৪:১৭ অপরাহ্ন
কৃষিযন্ত্র কিনতে কৃষককে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যাতে কৃষকেরা কৃষিযন্ত্র কেনায় সহজ শর্তে ঋণ পেতে পারে, সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এ বিষয়ে কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারী, নির্মাতা ও আমদানিকারকদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে অনলাইনে ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি জানান, অঞ্চলভেদে ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপারসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদেরকে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ভর্তুকি দেয়ার পরও একটি কম্বাইন হারভেস্টার কিনতে ১০-১৫ লাখ টাকা কৃষককে দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে কৃষক যন্ত্র কিনতে পারে না। অন্যান্য কৃষিযন্ত্রের বেলায়ও একই ঘটনা।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো পর্যায়ক্রমে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি করা। বর্তমানে বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তা আমরা কমিয়ে আনতে চাই। এছাড়া, স্থানীয়ভাবে খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামত কারখানা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছি যাতে করে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।

সভায় কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারী ও আমদানিকারকরা কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ, কৃষকের জন্য ঋণ ও গ্রামের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরকে কৃষিযন্ত্র বিতরণের আওতায় আনার দাবি জানান।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে আধুনিকায়ন ও লাভজনক করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প হলো তার অনন্য উদাহরণ। এটি সারা বিশ্বে একটি বিরল ঘটনা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। দেশে কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটবে। কৃষি লাভজনক হবে ও গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে জানান মন্ত্রী।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৬, ২০২১ ৭:৪৩ অপরাহ্ন
ইউরোপে পুনরায় পান রপ্তানি শুরু
কৃষি বিভাগ

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সাড়ে ছয় বছর পর ইউরোপে পুনরায় পান রপ্তানি শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি ঢাকার শ্যামপুরে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজে ‘ইউরোপে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পান রপ্তানি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রথম চালানে আজ রপ্তানি হচ্ছে এক মেট্রিক টন পান।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, আমাদের নিরলস উদ্যোগের ফলে ইউরোপে পান রপ্তানি আবার শুরু হয়েছে। এটি খুবই আশার কথা। ভবিষ্যতে পান রপ্তানি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে কৃষি মন্ত্রণালয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড এলাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিএফভিএপিইএ) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক আরও বলেন, কৃষিপণ্যের রপ্তানির সম্ভাবনা অনেক। সে সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ইউরোপসহ উন্নত দেশে অন্যান্য কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে উদ্যোগ অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে দেশে উত্তম কৃষি চর্চা নীতিমালা (গ্যাপ) বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সারাদেশে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন হচ্ছে। অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব থেকে সনদ দেয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া, ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। ফলে, আমরা আশা করছি, দেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে কৃষিপণ্য বিরাট ভূমিকা রাখবে ও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এছাড়া, কৃষকও লাভবান হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পানে ক্ষতিকর সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ থেকে সাময়িকভাবে পান রপ্তানির উপর ইইউ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যা ধাপে ধাপে ২০২০ পর্যন্ত বর্ধিত করে। এবং ইইউ পান রপ্তানিতে কতিপয় শর্ত আরোপ করে। পান সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হতে হবে, উৎপাদন হতে শিপমেন্ট পর্যন্ত উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ), গুড হাইজিন প্র্যাকটিসেস (জিএইপপি), গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস (জিএমপি) অনুসরণ করত হবে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব হতে সালমোন্যালা ব্যাকটেরিয়া মুক্ত সার্টিফিকেট প্রভৃতি প্রদান করতে হবে।

ইইউ আরোপিত শর্তপূরণে বাংলাদেশ অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে পান আবাদের এলাকা নির্বাচন, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, উত্তম কৃষি চর্চার আলোকে কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, মনিটরিং, ট্রেসিবিলিটি বা শনাক্তকরণ, পানের স্যাম্পল টেস্ট, কৃষক নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ, রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিতভাবে পানের জমির মাটি ও পানি পরীক্ষা, রপ্তানি বাজারের জন্য নিরাপদ ও বালাইমুক্ত পান উৎপাদন নির্দেশিকা প্রভৃতি।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ইইউ’র আরোপিত শর্ত পূরণ করতে পারায় গত ১৫ এপ্রিল ২০২১ সালে পান রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। যার ফলে আজকে পান রপ্তানি আবার শুরু হলো।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ২০১২-১৩ সালে ১৮ হাজার ৭৮০ টন ও ২০১৩-১৪ সালে ১৩ হাজার ২৫০ টন পান রপ্তানি হয়। যার মূল্য যথাক্রমে ৩৮ মিলিয়ন ও ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো: জাফর উদ্দীন ও বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড এলাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ। নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পান উৎপাদন ও রপ্তানির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক সামছুল আলম ও বিএফভিএপিইএ’র এডভাইজার মনজুরুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৬, ২০২১ ৪:৫৩ অপরাহ্ন
সবজি বীজ আবাদের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

অধিক লাভের আশায় রংপু্রের পীরগাছা উপজেলার কৃষকরা এখন প্রতিবছর অন্য ফসল আবাদ ছেড়ে বীজ আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। এই বীজ আবাদের সেখানকার প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষকের বদলেছে ভাগ্যও।

জানা যায় সেখানকার কৃষকরা মাঠে বাঁশের মাচা করে করলা, ঝিংগা, চিচিঙ্গা, লাউ, বরবটি আর মিষ্টি কুমড়ারসহ আরও কয়েক প্রকার সবজি চাষ করছেন। আর এই ভরা মৌসুমে প্রচণ্ড রোদেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সেখানকার কৃষকরা।

সেখানে চৈত্র মাসে ক্ষেত থেকে আলু তোলার পরপরই জমি প্রস্তুত করে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয় এসব ফসল ও সবজির বীজ। এরপর শুরু হয় দুই থেকে আড়াই ফুট উঁচু মাচা করার কাজ। কৃষি বিভাগ ও বিএডিসির পরিমর্শ এবং কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় সবজিগুলো থেকে বীজ বের করে নেন কৃষক। কেউবা আরও অধিক লাভের আশায় কঠিন পরিশ্রমে এসব ফসলের হাইব্রিড জাতের বীজ উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছেন রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে।

বীজ উৎপাদনকারি একজন চাষি জানান, গত ১৩ বছর ধরে বীজ উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এবারও তিনি এক একর হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া, তিন একর লাউ আর দেড় একর করলার বীজ উৎপাদন করেছেন। মিষ্টি কুমড়া একরে ৫০-৫৫ কেজি উৎপাদনের সম্ভাবনার কথা জানান তিনি, যার ক্রয় মূল্য প্রতি কেজি ৮-১০ হাজার টাকা দরে প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা। এছাড়াও করলা আর লাউয়ে একর প্রতি দেড় লাখ টাকা করে লাভের স্বপ্নও দেখছেন কৃষক জিল্লাল।

কৃষক সূত্রে জানা যায়, এসব চাষিকে বিএডিসির পাশাপাশি লালতীর, সুপ্রিম সিড, মেটাল, এসিআই, ম্যাকডোনাল্টসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভিত্তি বীজ দিয়ে তাদের ফিল্ড সুপারভাইজার ভাইজার দ্বারা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পরবর্তী সময়ে উৎপাদিত বীজগুলোর গুণগত মান নির্ণয় করে কোম্পানি ক্রয় করে নেন। কেনা বীজের মূল্য শর্তসাপেক্ষে জমাদানের ছয় মাসের মধ্যে কৃষককে পরিশোধ করে কোম্পানি বা ওই প্রতিষ্ঠান।

পীরগাছা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সামসুজ্জামান জানান, ‘উপজেলার পারুল ইউনিয়নের নাগদাহ, শরিফ সুন্দর, কিং সেচাকান্দি এলাকাসহ উপজেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক এই বীজ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এবছর উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি বীজ চাষ করা হয়েছে। বীজ উৎপাদনে অধিক লাভ হওয়ায় প্রতিবছর বীজ চাষে কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান তিনি।

বিএডিসির কৃষক সমন্বয়ক কৃষিবিদ মোছা. নুপুর আক্তার জানান, ‘হাইব্রিডসহ উন্নত জাতের সবজি বীজ উৎপাদনের জন্য কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে আমাদের ফিল্ড অফিসাররা দেখাশোনা করছেন। অধিক ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা বীজ উৎপাদনে অনেক উৎসাহী হচ্ছে। ’

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল জাতের সবজি বীজ উৎপাদন ভবিষ্যতে ভালো ফলনের সহায়ক। কৃষকরা এই বীজ উৎপাদন করে একদিকে লাভবান হচ্ছেন যেমন, অন্যদিকে বাজার বা দেশে ভালো মানের বীজেরও নিশ্চয়তা বাড়ছে।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৬, ২০২১ ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
বিদেশের মাটিতে রফতানি হচ্ছে কুমিল্লার কচুর লতি
এগ্রিবিজনেস

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কুমিল্লার কচুর লতি এখন রফতানি হচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ ২৫টি দেশে।সারা বছর কচুর লতির ফলন হলেও মূলত এটি গ্রীষ্মকালীন ফসল। বছরের মার্চ থেকে জুন-জুলাই পর্যন্ত ফসল বেশি হয়। এ সময় কৃষকদের ব্যস্ততা বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর কুমিল্লা জেলায় ৩৮২ হেক্টর জমিতে কচুর লতি চাষ করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে বরুড়া উপজেলায়। সেখানকার কৃষকরা জানান, কচুগাছ একবার রোপণ করলে বছরজুড়ে তার ফলন হয়। বরুড়া উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া কচু চাষের উপযোগী বলে বহু বছর ধরে বরুড়ায় কচুর লতির চাষ হয়ে আসছে।

বরুড়ার কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, ৩০ শতক জমিতে তিনি কচু চাষ করেছেন। বিনিয়োগ করেছেন ২০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার টাকার কচুর লতি বিক্রি করেছেন। এখনও আরও অন্তত ছ’মাস কচুর লতি বিক্রি করতে পারবেন। লতি বিক্রি শেষ হলে কচু বিক্রি করবেন।

জানা যায়, কুমিল্লা থেকে ২০২০ সালে দেড় লাখ চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়েছে। ২০২১ সালে এক লাখ চারা বিক্রি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লতি রাজের চারা ৩ টাকা ও পানি কচুর চারা ৪টাকায় বিক্রি হয়।

চারা রোপণের পর ভাদ্র মাসে গাছের মূল থেকে নতুন চারা গজায়। সে চারা বিক্রি হয়; আবার একই চারা দিয়ে বরুড়ার কৃষকরা নতুন নতুন জমি আবাদ করেন। বরুড়ার আগানগরের কৃষক সেলিম মিয়া ৫০বছর ধরে কচু চাষ করেন।

এবার ১৭ শতক জমিতে কচু রাজ লাগিয়েছেন তিনি। খরচ হয়েছে ১০হাজার টাকা। তিনি জানান, এ জমি থেকে ৩০ হাজার টাকার লতি বিক্রি করবো। কচু চাষে লোকসান হয় না বললেই চলে, ফলনও হয় লম্বা সময় ধরে- তাই কচু চাষ করছি।’

বরুড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ‘কৃষকরা চাইলে তাদের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা করবো। উপজেলার নারী-পুরুষ সবাই এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে-এটা বেশ আনন্দদায়ক।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের কন্দাল (মাটির নিচে যেসব উদ্ভিদের ফলন হয়) প্রকল্পের অধীনে বরুড়ার কচু চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথমে কমসংখ্যক চাষিকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। ধীরে ধীরে অন্যান্য চাষিদের প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৫, ২০২১ ৩:৪১ অপরাহ্ন
সিরাজগঞ্জ পৌর পাইকারি সবজি বাজার বেচাকেনায় জমজমাট
কৃষি বিভাগ

সিরাজগঞ্জের সবচেয়ে বড় পৌর পাইকারি সবজির আড়ত নানা রকম সবজি বেচাকেনায় এখন জমজমাট। এখানে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় করেন টাটকা সবজি কিনতে। সরবরাহ ভালো থাকায় ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে রয়েছে সবজির দাম।

ভোর হতে না হতেই ক্রেতা বিক্রেতার ভিড়ে সরগরম সিরাজগঞ্জের সবচে বড় পৌর পাইকারি সবজির আড়ত। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উৎপাদিত টাটকা সবজি আড়তে নিয়ে আসেন চাষিরা। পাওয়া যাচ্ছে আলু, বেগুন, পটল, শশাসহ হরেক রকমের সবজি।

চলতি সপ্তাহে আড়তে সবজির সরবরাহ ভালো। তাই প্রকারভেদে সবজির দামও রয়েছে ক্রয় ক্ষমতার নাগালে।

পাইকার ব্যবসায়ীরা জানান, এখান থেকে ব্যবসায়ীরা সবজি কিনে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়। এ সবজিগুলো টাটকা, কোনো ধরনের ফরমালিন দেওয়া হয় না।

জানা যায়, পৌর পাইকারি সবজির এই আড়তে প্রায় ১০০টি দোকান রয়েছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সবজি কেনা বেচা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৪, ২০২১ ৭:২৫ অপরাহ্ন
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে দেশে উত্তম কৃষি চর্চা নীতিমালা (জিএপি) প্রণীত হয়েছে; যা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় উত্তম কৃষি চর্চার ক্যাটাগরি, সাটিফিকেশন, টেস্টিং, মনিটরিং, রিপোর্টিং ইত্যাদি ব্যবস্থাপনা থাকবে। এর মাধ্যমে ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া, ফলমূল ও শাকসবজির বিদেশে রফতানি বাড়াতে সার্টিফিকেশন সিস্টেম উন্নত করা, পূর্বাচলে অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব প্রতিষ্ঠা, শ্যামপুরে প্যাকেজিং ও প্রসেসিং কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ওয়াসিং ফেসিলিটিসহ ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী সোমবার মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষ থেকে অনলাইনে সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) আয়োজিত এবং কোয়ালিটি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (কিউসিআই) এর সহযোগিতায় দুইদিন ব্যাপী ‘ফলমূল ও শাকসবজির সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া ও গ্যাপ (GAP) শনাক্তকরণ’ শীর্ষক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

ড. রাজ্জাক বলেন, সার্কভুক্ত দেশসমূহে খাদ্য উৎপাদনে প্রশংসনীয় অগ্রগতি হয়েছে। তবে পুষ্টিকর খাবারে মানুষের কম প্রবেশযোগ্যতা এখনও উদ্বেগের কারণ হিসাবে অব্যাহত রয়েছে। অনেকক্ষেত্রে অপুষ্টি এখনও প্রবল আকারে রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে, ফলমূল ও শাকসবজি পুষ্টি চাহিদা পূরণে সবচেয়ে সহায়ক হতে পারে। এ কারণে সার্ক আয়োজিত ফলমূল ও শাকসবজির উপরে উত্তম কৃষি চর্চার (গ্যাপ) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি খুবই সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সার্কভুক্ত দেশসমূহের যৌথ প্রচেষ্টা, উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) বিষয়ে জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতা গ্যাপ নীতিমালা সফলভাবে বাস্তবায়নে এবং সার্কভুক্ত দেশসমূহের বাণিজ্য বাধা দূর করতে সহায়ক হবে।

মন্ত্রী আশা করেন, এ ধরণের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো: বক্তীয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ভারতের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এগ্রিকালচার কমিশনার ড. এসকে মালহোত্রা, ভুটানের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো রিনঝিন দর্জি ও সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (উদ্যানতত্ত্ব) ড. নাসরিন সুলতানা বক্তব্য রাখেন। এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ ও বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

সার্কের ৫টি আঞ্চলিক সংস্থার মধ্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) একটি অন্যতম আঞ্চলিক সংস্থা। বাংলাদেশে অবস্থিত এই কৃষি কেন্দ্রটি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কৃষি বিষয়ক প্রধান সমস্যা শনাক্তকরণ, নীতিমালা নির্ধারণ, ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা ও মানবসম্পদ বিকাশে কাজ করে আসছে। এসএসি আয়োজিত দুদিন ব্যাপী এ প্রশিক্ষণে ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী সার্কভুক্ত আটটি দেশ থেকে অংশ্রগ্রহণ করেন। এছাড়াও, আট দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে খ্যাতিমান প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৪, ২০২১ ৭:২০ অপরাহ্ন
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য কৃষি বিষয়ক বিশেষ পরামর্শ
কৃষি বিভাগ

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এ পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে ২৫-২৭ মে ২০২১ বাংলাদেশের ৩০টি জেলায় (সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া) ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ অবস্থায়, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতির হাত থেকে দণ্ডায়মান ফসলকে রক্ষার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিম্নলিখিত কৃষি আবহাওয়া বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করেছে:

১। বোরো ধান ৮০% পরিপক্ব হয়ে গেলে দ্রুত সংগ্রহ করে ফেলুন।

২। সংগ্রহ করা ফসল পরিবহন না করা গেলে মাঠে গাদা করে পলিথিন শীট দিয়ে ঢেকে রাখুন যেন ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষতি না হয়।

৩। দ্রুত পরিপক্ব সবজি ও ফল বিশেষ করে আম ও লিচু সংগ্রহ করে ফেলুন।

৪। সেচ, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকুন।

৫। দণ্ডায়মান ফসলকে পানির স্রোত থেকে রক্ষার জন্য বোরো ধানের জমির আইল উঁচু করে দিন।

৬। নিষ্কাশন নালা পরিষ্কার রাখুন যেন জমিতে পানি জমে না থাকতে পারে।

৭। খামারজাত সকল পণ্য নিরাপদ স্থানে রাখুন।

৮। আখের ঝাড় বেঁধে দিন, কলা ও অন্যান্য উদ্যানতাত্বিক ফসল এবং সবজির জন্য খুঁটির ব্যবস্থা করুন।

৯। পুকুরের চারপাশ জাল দিয়ে ঘিরে দিন যেন ভারী বৃষ্টিপাতের পানিতে মাছ ভেসে না যায়।

১০। গবাদি পশু ও হাঁসমুরগী শুকনো ও নিরাপদ জায়গায় রাখুন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২৪, ২০২১ ৩:১৬ অপরাহ্ন
১০টি চারা দিয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করে এখন লাখপতি কুমিল্লার নাছিমা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লার মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের অনুকূলে হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগনের চাষাবাদ শুরু হয়েছে সেখানে।অল্প সময়ে অল্প পুঁজিতে ড্রাগন ফল চাষ করে বেকার যুবকদের কোটিপতি হওয়ার বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গেলেই কাদুটির চাঁদসার গ্রামে চোখ পড়ে নাছিমা বেগমের ড্রাগন বাগান। দূর থেকে দেখলে মনে হয় স্ব-যত্নে ক্যাকটাস লাগিয়েছে কেউ। একটু পাশে যেতেই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে অন্য রকম দেখতে এক লাল ফলে। প্রতিটি গাছে রয়েছে ফুল, মুকুল এবং পাকা ড্রাগন।

২০১৯ সালে নাছিমা বেগম এ বাগানের সূচনা করেন। মাত্র ১০টি চারা দিয়ে। যেখানে এখন পায় ৫ হাজার গাছ রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে গাছের চারা। সেই সঙ্গে সপ্তাহে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে ২/৩ মণ। যা বাজারে পাইকারী কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। আর প্রতিটি চারা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে। তার এ চারা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় যাচ্ছে।

কুমিল্লা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ দেশের আবহাওয়া লাল, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এটি লতানো কাটাযুক্ত গাছ, যদিও এর কোনো পাতা নেই। গাছ দেখতে অনেকটা সবুজ ক্যাকটাসের মতো। ড্রাগন গাছে শুধুমাত্র রাতে স্বপরাগায়িত ফুল ফোটে। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙয়ের হয়। তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকা-মাকড় পরাগায়ন ত্বরান্বিত করে। এ গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের/বাঁশের খুঁটির সঙ্গে ওপরের দিকে তুলে দেয়া হয়।

ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়। এপ্রিল-মে মাসে ফুল আসে আর শেষ হয় নভেম্বর মাসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা এবং ফল ধরা অব্যাহত থাকে। এক একটি ফলের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১শ’ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে একটি গাছ হতে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

ড্রাগন চাষি নাছিমা বেগম জানান, নাটোর থেকে মাত্র ১০টি চারা দিয়ে ড্রাগন চাষাবাদ শুরু করি। গত বছর মাত্র ২১ শতাংশ জমিতে বিক্রি হয়েছিল দুই লাখ টাকা। আর এ বছর ৮০ শতাংশ জমিতে ড্রাগনের চাষাবাদ করেছি। ড্রাগন চাষ করে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এ বছর আশা করছি ৫ লাখ টাকার ফল বিক্রি হবে। প্রতিদিন এলাকার অনেক কৌতুহলী মানুষ আসে বাগান দেখতে। অনেকেই চারা কিনছেন, চাষাবাদও করছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রাসারণ বিভাগের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, ড্রাগন ফল কুমিল্লার আবহাওয়া এবং মাটি এটি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কুমিল্লায় বাউ-১, বাউ-২ জাতের ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন গাছে একটানা ৬/৭ মাস ফল পাওয়া যায়। এর বাজার মূল্য বেশি এবং অধিক পুষ্টি সমৃদ্ধ হওয়ায় কুমিল্লায় চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। স্থানীয় বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে এ ফল চাষে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : মে ২২, ২০২১ ১১:৫১ অপরাহ্ন
বরিশালে ভাসমান কৃষির ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্প আয়োজিত ভাসমানকৃষির আধুনিক প্রযুক্তির ওপর কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার(২২ মে) বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলাম।

আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (আরএআরএস) আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএআরআই’র পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. এস এম শরিফুজ্জামান, পরিচালক ( পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. মো. কামরুল হাসান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম।গেস্ট অব অনার ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার।

বিএআরআই’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদারীপুরের আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সালেহউদ্দিন, আরএআরএস’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান, উজিরপুরের কৃষক মো. শামিম হাওলাদার, আগৈলঝাড়ার কৃষক মো. তোফাজ্জেল হক ফকির প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ডিএই বরিশালের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত, বিএআরআই’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া, ঊধর্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনওয়ারুল মোনিম, এসএসও ড. মো. রফিকুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম, এসও মো. মাহবুবুর রহমান, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক প্রমুখ।

মাঠ দিবসে বরিশালের বাবুগঞ্জ, উজিরপুর এবং আগৈলঝাড়ার ৮০ জন কিষাণ-কিষাণী অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি বলেন, দেশের অতিরিক্ত মানুষের খাবার যোগাতে চাই আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ানো। আর এ জন্য দরকার জলমগ্ন এলাকা আবাদের আওতায় আনা। এসব স্থানে ভাসমান পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন হবে। পাশাপাশি হবে পুষ্টি ও খাদ্য নিশ্চিতকরণ।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop