৮:০৫ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১২, ২০২২ ৩:৫৫ অপরাহ্ন
সারের ভর্তুকিতে লাগছে ৩০ হাজার কোটি টাকা: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

এবছর দেশে সারের ভর্তুকিতে ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং ইতোমধ্যে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

এসময় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী, জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, কৃষিসচিব সচিব মো: সায়েদুল ইসলাম, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলাইকৃষ্ণ হাজরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, কোভিড পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সারের মূল্য অস্বাভাবিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে সারের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে সারের ভর্তুকিতে এ বছর ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা গতবছরের তুলনায় চার গুণের বেশি। বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে ভর্তুকিতে লেগেছিল ০৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। করোনা ও যুদ্ধের কারণে দ্রব্যমূল্যের দাম অনেক বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম মার্চ মাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা বিশ্বে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। কানাডার মতো উন্নত দেশ যারা খাদ্য রপ্তানি করে সেখানে মানুষ লাইনে ধরে রুটির প্যাকেট কিনছে। একজনকে ২ প্যাকেটের বেশি রুটি ও ৫ লিটারের বেশি ভোজ্যতেল দিচ্ছে না। পরিবারের সবাই ছেলে-মেয়ে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে রুটি-তেল কিনছে।

এ অবস্থায়, দেশে কৃষির উৎপাদন ও ফলন অব্যাহত রাখতে হবে। কোনক্রমেই খাদ্যের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। খাদ্য নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেলক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

ড. রাজ্জাক আরও বলেন, বছরে সারে ৩০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সারা বিশ্বের বিরল ঘটনা। পৃথিবীর কোন দেশে এতো ভর্তুকি দেয়ার উদাহরণ নেই। ভর্তুকি কমাতে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপও রয়েছে। কিন্তু কৃষকদরদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকের স্বার্থে ও খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তি উপেক্ষা করে ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছেন। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সারের দাম তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষক পর্যায়ে সারের মূল্য বৃদ্ধি করে নি। অব্যাহতভাবে ভর্তুকি দিয়ে সুলভমূল্যে সার সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনের ধারা বজায় রেখেছে।

বর্তমানে সারের মজুদ ও চাহিদা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে দেশে সব ধরণের সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সারের কোন সংকট নেই।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি’র শাসন আমলে সারসহ কৃষি উপকরণের চরম সংকট ছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কৃষকেরা সার পায় নি। সারের জন্য কৃষকদের জীবন দিতে হয়েছিল। সারের জন্য বিএনপি সরকার ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছিল। বিপরীতে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সারের উৎপাদন ও আমদানি অব্যাহত রেখেছে। গত ১৩ বছরে সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের কোন সংকট হয়নি।

এর আগে সভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য মোট রাসায়নিক সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৬৭ লাখ টন। এর মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ টন, টিএসপি ৭ লাখ টন, ডিএপি ১৫ লাখ টন, এমওপি সাড়ে ৭ লাখ টন, জিপসাম সাড়ে ৫ লাখ টন, জিংক সালফেট ১ লাখ ৪১ হাজার টন এবং বাকীগুলো জিপসাম, বোরন প্রভৃতি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১২, ২০২২ ১২:২৮ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীতে বিলীন কৃষকের স্বপ্ন
কৃষি বিভাগ

কুড়িগ্রামে অসময়ের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের কাঙ্খিত ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। আর কদিন পরেই যে ফসল ঘরে তুলে ঋণের বোঝা কমাতে চেয়েছিল, সেই ফসল হারিয়ে এখন দিশেহারা কৃষকেরা।

কৃষকেরা জানালেন, আবার বৃষ্টি হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের কৃষকদের তালিকা করছি।

এদিকে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জেলার ৫ উপজেলায় ২৭৩ হেক্টর বোরো ধান, পেঁয়াজ, তরমুজ, পাট, ভুট্টা, চীনাবাদাম, শাক-সবজির ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

তিস্তার নিচু চরে লাগানো চাষিদের বিভিন্ন ফসলাদি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে এখন পচা গন্ধ ছড়িয়েছে। এবারে চাষিরা বাদাম, পিঁয়াজ, পটল, ঝিঙা, মরিচ, করলা, শসা, চিচিঙ্গা, কালজিরা, ধনিয়া, পালং শাকের বীজ, মিষ্টি কুমড়া, বোরোধানসহ বিভিন্ন ফসল লাগিয়েছিল। চৈত্র মাসের এই অসময়ের বৃষ্টিতে এখন হাঁটু পানির নীচে সেগুলো অবস্থান করছে। ধার-দেনা আর ঋণ করে সার, কীটনাশক, ওষুধ, বীজ কিনে লাখ-লাখ টাকা খরচ করে এখন কৃষকের কাটছে নির্ঘুম রাত।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামগঞ্জ গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করে আড়াই একর জমিতে পিঁয়াজ আবাদ করেছি। মাত্র ৮ মণ পিঁয়াজ তুলতে পেরেছি। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে। এখন আমার আসল টাকাই উঠল না।

কৃষক সেলিম মিয়া বলেন, বন্যায় শুধু ফসলের ক্ষতি করেনি। আমার দেড় একর বোরোধানি জমি তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এখন বাড়িও ভেঙে যাওয়ার উপক্রম। এখন যাই কই, আর খাইবা কী!

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রশীদ জানান, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত বেশি হলে ক্ষতির সম্ভাবনা আরো বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আউশ মৌসুমে সরকারি প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২২ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
ভোলার লবণাক্ত জমিতে ধান, ভু্ট্টা, তেলফসল, ফলমূল আবাদের অপার সম্ভাবনা: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

ভোলার লবণাক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে ব্রি ধান 67, বিনা ধান 10। ভু্ট্রা, মুগ, সয়াবিন, সূর্যমুখী, শশার আবাদ দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া, পেঁয়াজ, বার্লি, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজি ফসল চাষ খুবই সম্ভাবনাময়। সরকারের প্রণোদনা পুনর্বাসন র্কাযক্রমের ফলে এসবের আবাদ দিন দিন বাড়ছে।

এসব ফসলের আবাদ ও সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে রবিবার ( ১০ এপ্রিল) ভোলার সদর উপজেলার চর মনশা গ্রামে সমন্বিত ফল বাগান, বারোমাসি আম, সূর্যমুখী, চিনাবাদমসহতেল জাতীয় ফসল ও পেঁয়াজের মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

মন্ত্রী বলেন, ভোলার মাটি উর্বর। এখানে আমাদের বিজ্ঞানীরা ধান, পেঁয়াজ, ঢেড়স, বেগুন, আম, লিচুসহ বেশ কিছু ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব জাতের ফলন বেশি। এসব ফসল যদি সফলভাবে ফলানো যায়, তবে কৃষক লাভবান হবেন। কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না।

মাঠে কর্মরত কিছু কৃষি শ্রমিকের সাথে মতবিনিময় করেন এসময় কৃষিমন্ত্রী। তাদের কাছে মজুরি, চালের দাম ও কোন অভাব আছে কিনা জানতে চান মন্ত্রী। শ্রমিকেরা জানান, তারা সকাল ০৭টা থেকে বিকাল ৬ পর্যন্ত কাজ করে দিনে ৫০০-৫৫০ টাকা মজুরি পান, মোটা চালের দাম ৪০-৪৫ টাকা আর খাদ্যের কোন অভাব নেই।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগে এক দিনের মজুরি দিয়ে শ্রমিকেরা ২-৩ কেজি চাল কিনতে পারতো, আর এখন কিনতে পারে কমপক্ষে ১০ কেজি চাল। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে এই মুহূর্তে খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে দেশে কিছুকিছু নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। এতে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সেটা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু দেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই, কোনো মানুষ না খেয়ে নেই।’ অথচ কিছু অর্থনীতিবিদ, সুশীলসমাজ ও বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা সারা দিন ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছেন দেশ ডুইবা গেল, মানুষ না খাইয়া মরতেছে। মনে হয় যেন একটা দুর্ভিক্ষ চলতেছে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, কৃষিতে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও কৃষককে লাভবান করা। কিন্তু মুনাফাখোর, পাইকার-আড়তদার, মধ্যস্বত্বভোগী, সামাজিক সমস্যা, চাঁদাবাজি প্রভৃতির কারণে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পায় না। মধ্যস্বত্বভোগী সারা পৃথিবীতেই আছে। কৃষকেরা তো সরাসরি কাওরান বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবে না, কাউকে না কাউকে মাঝখানে দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী যাতে কৃষক এবং ভোক্তাকে শোষণ ও ঠকাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এটি নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

পরিদর্শনকালে কৃষিসচিব মো: সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক মো: শাহজাহান কবীর, ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ১১, ২০২২ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
পেঁয়াজে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয় রপ্তানিও করতে পারব: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

ভোলার লবণাক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে ব্রি ধান ৬৭, বিনা ধান ১০ । ভু্ট্রা, মুগ, সয়াবিন, সূর্যমুখী, শশার আবাদ দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া, পেঁয়াজ, বার্লি, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন সবজি ফসল চাষ খুবই সম্ভাবনাময়। সরকারের প্রণোদনা পুনর্বাসন র্কাযক্রমের ফলে এসবের আবাদ দিন দিন বাড়ছে।

এসব ফসলের আবাদ ও সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে রবিবার ( ১০ এপ্রিল) ভোলার সদর উপজেলার চর মনশা গ্রামে সমন্বিত ফল বাগান, বারোমাসি আম, সূর্যমুখী, চিনাবাদমসহতেল জাতীয় ফসল ও পেঁয়াজের মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

এসময় মন্ত্রী বলেন, বছরে ৮-১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমাদের আমদানি করতে হয়। আমাদের প্রয়োজনের সময় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়, দেশে দাম বেড়ে যায়। আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। ভোলায় বারি উদ্ভাবিত বারি-৪ পেঁয়াজের ফলন ভাল, সুস্বাদু। এটিকে আমরা সারা দেশে ছড়িয়ে দিবো। পেঁয়াজে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন নয়, ২-৩ বছর পরে পেঁয়াজ রপ্তানিও করতে পারব।

পরিদর্শনকালে কৃষিসচিব মো: সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক মো: শাহজাহান কবীর, ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৯, ২০২২ ১:৩৮ অপরাহ্ন
গোবিন্দগঞ্জে সেচ সংকটে ইরি-বোরো চাষ, বিপাকে কৃষক
কৃষি বিভাগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আশংকাজনক হারে ভূ-গর্ভস্থ্য পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। অনেকেই ৮ থেকে ১০ ফুট গর্ত বা কুয়া করে সেচ মেশিন বসিয়ে সেচকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পরেও ঠিকমতো পানি না আসায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। এতে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ইরি-বোরো কৃষকরা।

ভূ-গর্ভস্থ্য পানির স্তর এভাবে নামতে থাকলে সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধার গেবিন্দগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম এলাকা তুলনামূলক উচু এবং লাল মাটি হওয়ায় খরা মৌসুমে সেচ মেশিনে পানি কম পাওয়া যায়। কিন্ত বর্তমান মৌসুমে পানির স্তর আশংকাজনক হারে আরও নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক সেচ মেশিনে পানি ওঠছে না। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ইরি ও বোরো ধানসহ অনান্য ফসলের আবাদ।

সাপমারা ইউনিনের চক রহিমাপুর, রামপুরা, সাহেবগঞ্জ, মেরী, মাদারপুর, কাটাবাড়ী ইউনিয়নের পলুপাড়া, কলোনী, ভেলামারী, কৌচাসহ বেশ কিছু এলাকায় ৮ ফুট, কোথায় ১০ ফুট কূপ খনন করে পাম্প বসিয়ে পানি তুলছেন কৃষকেরা

মাদারপুর গ্রামের কৃষক ধনু মন্ডল বলেন, গত বছর ৫ ফুট গভীর গর্তে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি তুলে ছিলাম। এবছর আরও ৩ ফুট গভীর গর্ত করে পানি তুলতে হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা ই মাহমুদ বলেন, ইরি-বোরো চাষে পানির সংকট নিরসনের জন্য বিএডিসি সেচ প্রকল্প ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন এলাকা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২২ ২:২৫ অপরাহ্ন
পানিকচু বাণিজ্যিক চাষাবাদ প্রযুক্তি
কৃষি বিভাগ

সবজি হিসেবে বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কচুর ব্যবহার বেশ পুরনো। ধারণা করা হয় প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চল, শ্রীলংকা, সুমাত্রা ও মালয় অঞ্চল কচুর উৎপত্তিস্থল। বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর ধর্মীয় আচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজে কচুর ব্যবহার অতি প্রাচীন। সুদীর্ঘকাল ধরে সবজি ও ভেষজ হিসেবে কচু ব্যবহৃত হচ্ছে। কচুতে প্রচুর পরিমাণ শ্বেতসার, লৌহ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন এ ও সি রয়েছে।

সাধারণত যে কচু স্বল্প পানিতে চাষ করা যায় তাকে পানিকচু বলা হয়। আমাদের দেশে স্থান ভেদে পানিকচুর নাম ভিন্ন যেমন নারকেলি কচু, শোলা কচু, জাত কচু, বাঁশকচু, কাঠকচু ইত্যাদি। তবে পানি কচু নামেই সর্বাধিক পরিচিত। পানিকচুর লতি ও কাণ্ড সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্ষার শেষে যখন বাজারে সবজির ঘাটতি দেখা দেয় তখন জুন-সেপ্টেম্বর মাসের বাজারে পানি কচুর লতি বেশ জনপ্রিয়।

পুষ্টি মূল্য: কচুতে ভিটামিন এ এবং প্রচুর পরিমানে লৌহ থাকে।

ব্যবহার: যে সমস্ত কচু দাড়াঁনো পানিতে চাষ করা যায় তাকে পানি কচু বলে। আমাদের দেশে কচু একটি সুস্বাদু সবজি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের পানি কচুর বিভিন্ন নাম রয়েছে যেমন নারিকেল কচু, জাত কচু, বাশঁ কচু ইত্যাদি।

উপযুক্ত জমি ও মাটি: পলি দোআঁশ ও এটেল মাটি পানি কচু চাষের জন্য উপযুক্ত ।

জাত পরিচিতি:

জাতের নাম/লতিরাজ:

বৈশিষ্ট্য: লতি লম্বায় ৯০-১০০ সেমি. সামান্য চেপ্টা, সবুজ । লতি সিদ্ধ করলে সমানভাবে সিদ্ধ এবং গলা চুলকানি মুক্ত হয়। বোঁটা এবং পাতার সংযোগস্থলের উপরিভাগের রং বেগুনি। জীবনকাল ১৮০-২১০ দিন। বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই এর চাষাবাদ করা যায়।

ফলন/(টন/হেক্টর:

লতি : ২৫-৩০
কান্ড : ১৮-২

চারা রোপণ: আগাম ফসলের জন্য কার্তিক (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেস্বর)| নাবী ফসলের জন্য মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য বৈশাখ (মার্চ-এপ্রিল) মাসে লাগানো যায়। দক্ষিণাঞ্চলে বৎসরের যেকোন সময় লাগানো যায়। প্রতি শতকে প্রায় ১৫০টি লতা রোপণের জন্য প্রয়োজন। জমি ভালভাবে তৈরি করে লাইন থেকে লাইন ২ ফুট (৬০ সে.মি) এবং গাছ থেকে গাছ ১.৫ ফুট (৪৫ সে.মি) রাখতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনা:
সারের নাম        সারের পরিমাণ ( প্রতি শতকে)
ইউরিয়া             ৬০০ গ্রাম
টিএসপি             ৫০০ গ্রাম
এমওপি              ৭৫০ গ্রাম
গোবর               ৫০ কেজি

গোবর, টিএসপি এবং এমওপি সার জমি তৈরির শেষ সময়ে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ২-৩ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হয়, তবে প্রথম কিস্তি রোপণের ২০-২৫ দিনের মধ্যে প্রয়োগ করা দরকার।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা:পানি কচুর গোড়ায় দাড়াঁনো পানি রাখতে হবে এবং দাঁড়ানো পানি মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিতে হবে। লতিরাজ জাতের জন্য দাঁড়ানো পানির গভীরতা ৮-১০ সে.মি হওয়া দরকার।

রোগ ব্যবস্থাপনা:কচুর পাতার মড়ক রোগ

ক্ষতির নমুনা:পাতার উপর বেগুনি থেকে বাদামি রংয়ের গোলাকার দাগ পড়ে। পরবর্তীতে এ সমস্ত দাগ আকারে বেড়ে একত্রিত হয়ে যায় এবং পাতা ঝলসে যায়। পরে তা কচু ও কন্দে বিস্তার লাভ করে।

অনুকূল পরিবেশ:উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্র আবহাওয়া ও পর পর ৩-৪ দিন বৃষ্টি থাকলে এ রোগের মাত্রা খুব বেড়ে যায়।

ব্যবস্থাপনা:রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম রিডোমিল এম জেড-৭২ ডব্লিউ অথবা ডাইথেন এম ৪৫ মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ৩ থেকে ৪ বার প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োগ করার আগে ট্রিকস মিশিয়ে নিতে হয়।

ফসল সংগ্রহ:রোপণের ২ মাস পর থেকে ৭ মাস পর্যন্ত লতি হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৮, ২০২২ ১:১৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জে পানির নিচে হাজার হাজার একর জমির ফসল
কৃষি বিভাগ

পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে ভেঙেছে ধিরাই উপজেলার আরও একটি বাঁধ ভেঙে টাংনী হাওরের বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে জেলার ৫ উপজেলায় গত কয়েকদিনে ডুবে গেছে হাওরের তিন হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের ক্ষেত।

একাধিক বাঁধে ফাটল থাকায় হাওরের বাকি ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন তারা।

এদিকে, উজানের ঢলে উজানের ঢলে তিস্তার আকষ্মিক বন্যায় রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলার তিস্তার চরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধারদেনা করে ফসল ফলানো চাষিরা ফসল হারিয়ে হয়েছেন দিশেহারা। বছরের বাকি সময়গুলো তাদের কিভাবে চলবে তা নিয়ে রয়েছেন বড় দুশ্চিন্তায়।

নদীর বুকে কৃষকের লাগানো কয়েক হাজার বিঘা জমির মরিচ-পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া খেত ডুবে গিয়ে নষ্ট হয়েছে।

ফসল হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিস্তাপারের লাখো কৃষক। চরের চাষিরা বলছেন, ৫০ বছরেও তারা চৈত্র মাসে তিস্তায় এরকম পানি দেখেননি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানালেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পায়। তবে পানি কমতে শুরু করেছে । তিনি আরও জানান, এপ্রিলে এই প্রথম তিস্তায় আকষ্মিক বন্যার ঘটনা ঘটল।

এদিকে নেত্রকোণায় নদীর পানি কমতে থাকায় কিছুটা আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। তবে কীর্তনখোলা বাঁধ ঝুঁকিমুক্ত না হওয়ায় শঙ্কা কাটেনি পুরোপুরি। অন্যদিকে, যমুনা, করতোয়া, বড়াল ও হুড়াসাগর নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী প্রায় ২’শ বিঘা জমির বোরো ধান ডুবে গেছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৭, ২০২২ ৩:২১ অপরাহ্ন
চালের উৎপাদন বাড়াতে উচ্চফলনশীল জাতের দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে- কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশে খাদ্যের কোন সংকট নেই, একটি মানুষও না খেয়ে নেই। অথচ বিএনপির একদল নেতা সারাদিন শুধু টেলিভিশনে ও পত্রপত্রিকায় খাদ্য সংকটের কোরাস গেয়ে চলেছে, যা শুনলে মনে হয় দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে, মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে। কিছু বুদ্ধিজীবী ও সুশীলসমাজও এ কোরাসের সাথে সুর মিলিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর ও ঘিওর উপজেলায় ব্রিধান ৮৯ ও ৯২ এর বীজ উৎপাদন মাঠ পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কোরাস গাওয়ার আগে বিএনপি ও সুশীল সমাজকে ২০০১-০৬ সময়ের দিকে ফিরে তাকাতে আহ্বান জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া-তারেক রহমানরা যখন ক্ষমতায় ছিল, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিদিনই মানুষ না খেয়ে থেকেছে, প্রতিবছর মঙ্গায় শত শত মানুষ না খেয়ে মারা গেছে। সেসময়ের পত্রপত্রিকার পাতা উল্টালেই দেখা মিলে খাদ্যের জন্য হাহাকার আর অনাহারে মৃত্যুর খবর। অন্যদিকে গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগের আমলে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায় নি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, চালের উৎপাদন বাড়াতে উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান ৮৯ ও ব্রি ৯২ দ্রুত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এ দুটি বোরো জাতের ধানের উৎপাদন প্রতি শতাংশে প্রায় ১ মণ।  এটিকে দ্রুত মাঠে নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য এসব জাতের বীজ উৎপাদনের জন্য এবার কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বীজ দেয়া হয়েছে। সারা দেশে জনপ্রিয় করতে প্রয়োজনে কৃষকদেরকে আরও প্রণোদনা দেয়া হবে।

কৃষিজমি রক্ষায় সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, একদিকে করোনা মহামারি রয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে গম আসছে না। ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক দেশেই দুর্ভিক্ষের হাতছানি দেখা যাচ্ছে। সেজন্য, কৃষি উৎপাদনে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে হবে। কাজেই কৃষিজমি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সকলের। কৃষিজমি রক্ষায় যে আইন হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সবাই মিলে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। শিল্পায়নও করতে হবে, আবার কৃষিজমিও রক্ষা করতে হবে। এ দুটির মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবছর ধানবীজ উৎপাদনের জন্য মানিকগঞ্জের ১৬টি স্পটে ১০৪৪ বিঘা জমিতে ব্রিধান ৮৯ ও ৯২ এর আবাদ হয়েছে। ৮১৪ জন কৃষক এ বীজ ধান চাষ করেছেন। কৃষকদেরকে নানাভাবে প্রণোদনা ও পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার কেজি বীজ। সমলয়ের আদলে একসাথে ধান রোপণ করা হয়েছে, ধান কাটাও হবে একই সময়ে হার্ভেস্টারের মাধ্যমে।

মানিকগঞ্জের উপপরিচালক এনায়েত উল্লাহ জানান, তাদের হিসাবে (১০৪৪ বিঘা জমি থেকে) এবছর জেলায় প্রায় ১ হাজার টন ব্রিধান ৮৯ ও ৯২ ধানবীজ উৎপাদন হবে। যা দিয়ে আগামীবছর ৪০ হাজার হেক্টর বা ১ লক্ষ একর জমিতে ব্রিধান ৮৯ ও ৯২ চাষ করা যাবে; এবং তাতে ৫০ হাজার টন বাড়তি ধান উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে কৃষিসচিব মো: সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক মো: শাহজাহান কবীর, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহা. আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান, কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৭, ২০২২ ১২:৩৩ অপরাহ্ন
জয়পুরহাটে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ
কৃষি বিভাগ

খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটে চলতি মৌসুমে ৮ শ ৫০ হেক্টর জমিতে ভুূট্টার চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টার ফলন বেশী হওয়ায় এ ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। ভুট্টা চাষে যেমন সেচ খরচ কম তেমনি রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম। এছাড়া পোল্ট্রি, মৎস্য ও গো-খাদ্য হিসাবে দেশজুড়ে ভুট্টার চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। সেইসাথে জ্বালানী হিসাবে ভুট্টাগাছ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, এবছর ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। অধিক হারে চাষ হওয়া ফসল গুলোর মধ্যে রয়েছে আলু, ধান, পাট, সরিষা ও গমের পাশাপাশি ভুূট্টা চাষ করে থাকেন জেলার কৃষকরা। কৃষকদের ভুূট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বিএডিসির পক্ষ থেকে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে কৃষক পর্যায়ে। ভুট্টা চাষে তুলনামূলক শ্রমিক ও পরিচর্যা খরচ কম হওয়ার কারণে এতে লাভ হয় বেশি।

জয়পুরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালজক কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে ভুট্টা, যা গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় একশ হেক্টর বেশী। জেলায় এবার ভুট্রার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার বাম্পার ফলনের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : এপ্রিল ৬, ২০২২ ২:৪৬ অপরাহ্ন
নেত্রকোনায় তরমুজ চাষ করে বিপাকে কৃষকেরা
কৃষি বিভাগ

উন্নত মানের বীজের অভাবে এবছর তরমুজ চাষ করে আশানুরূপ ফলন পায়নি নেত্রকোনার কৃষকরা। ফলন ভাল না হওয়ায় একদিকে লোকসানের আশংকা অন্যদিকে দেনা পরিশোধের দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা।

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী পাহাড়ী এলাকা কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলা। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বেলে-দোআঁশ মাটির কারণে এসব এলাকায় প্রতি বছর তরমুজের ভাল ফলন হয়। তবে, এবছর মৌসুমের শুরুতেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এবছর ভাল বীজ সংগ্রহ করতে পারেনি কৃষকরা। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে তরমুজ চাষে।

পাহাড়ী এলাকার বেলে জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসল ফলন কম হয়। ফলে, তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে। সেই আগ্রহ থেকে এবছর অনেকে ধারদেঁনা করে তরমুজ চাষ করে। কিন্তু এখন ফলন ভাল না হওয়ায় লোকসানে আশংকা করছেন তারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবছর জেলার দুই উপজেলায় ২৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফ এম মোবারক আলী জানিয়েছেন, কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পাশাপাশি আগামীতে যাতে বেশি পরিমাণ জমিতে তরমুজের আবাদ করতে পারে সে বিষয়ে সহায়তা করা হবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop