১:০৪ অপরাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ২৫, ২০২২ ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
তিন গরু ব্যবসায়ীকে হত্যা, ১০ জনের ফাঁসির রায়
প্রাণিসম্পদ

বান্দরবানে তিন গরু ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ১০ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে অপহরণসহ বিভিন্ন ধারায় প্রত্যেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দায়রা জজ মো. ফজলে এলাহী ভূঁইয়া এ রায় দেন।

বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সময় সংবাদকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: যোহন ত্রিপুরা, ক্যহিম ত্রিপুরা, জসিন ত্রিপুরা, জীবন ত্রিপুরা, জর্জ ত্রিপুরা, সানি ত্রিপুরা, সালাউ ত্রিপুরা, সেনেদ্র ত্রিপুরা, যোসেফ ত্রিপুরা ও শিগরাম ত্রিপুরা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল যোহন ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তি তার কাছে বেশ কয়েকটি ভালো গরু আছে বলে ব্যবসায়ী আবু নাঈমকে ফোন করে আলীকদম থেকে নয়টি গরু নিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে গরু কেনার জন্য তিন লাখ টাকা নিয়ে থানচি থেকে আলীকদমের ২৮ কিলোমিটার নামক স্থানে যান ব্যবসায়ী আবু বক্কর এবং তার দুই সহযোগী নুরুল আফসার ও সাহাবুদ্দিন। ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর তার ছোট ভাইকে ফোন করে তাদের গরু পছন্দ হয়েছে বলে আরও ৫০ হাজার টাকা গরুর মালিকের বিকাশ নম্বরে পাঠাতে বলেন। এ ঘটনার এক ঘণ্টা পর তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করে ভাইসহ কারো কোনো হদিস না পাওয়ায় ১৬ এপ্রিল দুপুরে আবু নাঈম থানচি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পরপরই রাতে থানচি থানার পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসামি যোহন ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তারা ১০ জন মিলে ব্যবসায়ী আবু বক্কর এবং তার দুই সহযোগী নুরুল আফসার ও সাহাবুদ্দিনকে অপহরণ করেছিলেন। পরে টাকা, মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

পরে যোহন ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু তিনি আবার আদালতের কাছে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। আর অন্য আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ফলে ১০ আসামিই পলাতক রয়েছেন।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সোমবার পলাতক ১০ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৪, ২০২২ ৭:৩১ অপরাহ্ন
ঘূর্ণিঝড়-বন্যায় প্রাণিসম্পদ রক্ষায় যা করবেন
প্রাণ ও প্রকৃতি

প্রতি বছর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের দেশে অসংখ্য গবাদিপশু, পাখি মারা যায়। যার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন খামারিরা। এবারের ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়েও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই প্রাণিসম্পদ রক্ষায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুব জরুরী।

প্রাণিসম্পদ রক্ষার জন্য সারাবছরই প্রস্তুত থাকা উচিত। তাই পশু-পাখির খামারের চাল মজবুত করে রাখতে হবে। দুর্যোগকালীন প্রচণ্ড বাতাস যাতে খামারের চাল উড়িয়ে নিতে না পারে সেজন্য খামার এবং খামারের চাল শক্ত করে বাঁধতে হবে। পরে মাটিতে শক্ত করে খুঁটি পুঁতে শক্ত দড়ি দিয়ে খামারের চাল বেঁধে দিতে হবে। বর্ষাকালে বৃষ্টি বা বন্যার পানি যাতে জমে না থাকে সেজন্য পানি চলাচলের জন্য বিকল্প নালা তৈরি করে রাখতে হবে। কারণ হঠাৎ করে পানি বাড়তে শুরু করলে নালা তৈরি করার সময় পাবেন না। বৃষ্টির পানি শুষে নেওয়ার জন্য খামারের চারপাশে সবজি চাষ করা যায়।

খামার যদি নদী, হ্রদ বা জলাশয়ের নিকটবর্তী হয় তা হলে যেদিক থেকে পানি খামারকে প্লাবিত করতে পারে সেদিকে উঁচু করে বাঁধ তৈরি করতে হবে যাতে বন্যার সময় খামার বন্যার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে। প্রতি বছর খামার সংস্কার করতে হবে। খামারের দরজা, জানালা দেওয়াল সময় থাকতে ঠিক করে নিতে হবে। আবাসন, খাবার পাত্র, পথ বা রাস্তা, স্টোর এসব ঠিকমতো সুরক্ষা করতে হবে।

খামারের ক্ষতিকর রাসায়নিক অপসারণ করতে হবে। খামারের আশপাশে কোথাও কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ কীটনাশক, জীবাণুনাশক, ইঁদুর মারার ওষুধ থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। পুকুর বা অন্য জলাশয়ে এসব রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত পানি প্রবেশের সম্ভাবনা আছে তা চারপাশে উঁচু করে দিতে হবে। যাতে বৃষ্টি বা বন্যার পানি সেখানে ঢুকতে না পারে। এসব পদার্থ গবাদি পশুর মারাত্মক ক্ষতি, এমন কি মৃত্যু কারণও হতে পারে।

দুর্যোগকালীন বা দুর্যোগ পরবর্তী যেসব জিনিস প্রয়োজন হতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি করে দুর্যোগের আগেই সংগ্রহ করে রাখতে হবে। কারণ বিপদের সময় এসব জিনিস নাও পাওয়া যেতে পারে অথবা পাওয়া গেলেও বেশি অর্থ খরচ হতে পারে। প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

সময় মতো গবাদি পশু, পাখিকে প্রয়োজনীয় সব টিকা দিয়ে রাখতে হবে। কারণ দুর্যোগের পরে গবাদি পশুর বিভিন্ন ছোঁয়াছে রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কিন্তু টিকা পশু, পাখিকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করবে।

বিপদকালীন স্থানান্তরের ক্ষেত্রে, কোন পশুগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তার একটি তালিকা তৈরি করে রাখতে হবে। তাছাড়া পশুগুলো চিহ্নিত করে রাখতে হবে। যাতে দুর্যোগ পরবর্তী পশু হারিয়ে গেলে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। গরুর জন্য প্রয়োজনীয় দড়ি, খামার এবং পানি প্রস্তুত রাখতে হবে এবং যদি সম্ভব হয় গাভী স্থানান্তরের সময় সেসব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করতে হবে।

দুর্যোগকালীন গবাদি পশু আশ্রয়ণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করবে নাকি বাইরে ছেড়ে দিতে হবে সেটা আশ্রয়ণ কেন্দ্রের দূরত্ব ও অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। যদি পর্যাপ্ত জায়গা থাকে তাহলে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া যেতে পারে। অন্যথায়, বাইরে ছেড়ে দিতে হবে। পোষা কুকুর-বিড়াল থাকলে সেগুলো নিজের কাছে রাখাই উত্তম।

কখনো কখনো এমন সময় আসে যখন নিজের প্রাণের তাগিদে পোষা পশুপাখিগুলোকে ছেড়ে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে পশুপাখিগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং পানি সরবরাহ রেখে যেতে হবে। কম পক্ষে দুই দিনের খাবার-পানি রাখতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৩, ২০২২ ১০:০৭ অপরাহ্ন
পলাশপুর বিজিবি’র অভিযানে ৮ ভারতীয় গরু আটক
প্রাণিসম্পদ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পলাশপুর বিজিবি জোনের অভিযানে ৮টি ভারতীয় গরু আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪০ বিজিবি)।

আজ রবিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরের দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন বেলছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ শান্তিপুর হাজীপাড়া নামক স্থান থেকে মালিকহীন ভারতীয় গরু আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু সীমান্ত পথে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বেলছড়ি বিওপি’র টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার শহিদুর রহমান এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি।

পরে একই এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা গরু রেখে পালিয়ে যান। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গরুগুলো আটক করে বিজিবি। আটককৃত ৮টি গরুর আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

খেদাছড়া ব্যাটালিয়ন (৪০ বিজিবি), পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে.কর্নেল সোহেল আহমেদ চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বলেন, আটক করা ভারতীয় গরুগুলো সীতাকুণ্ড কাস্টমস অফিসের মাধ্যমে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২২, ২০২২ ৪:৩২ অপরাহ্ন
ঈদগাঁওয়ে গরু চুরি,আটক-২
প্রাণিসম্পদ

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে কসাইখানা থেকে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার ও এতে জড়িত ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ২০ অক্টোবর রাতে এ চুরি সংঘটিত হয়। এর পরদিন গতকাল শুক্রবার গরুটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আপোষ মিমাংসা, ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি চক্র। স্থানীয়রা চুরির সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ঈদগাঁও ইউনিয়নের পালপাড়ার মৃত অরবিন্দ পালের ছেলে কাজল পালের গোয়ালঘর থেকে ২০ অক্টোবর রাতে একটি গাভী চুরি হয়। পরদিন সকালে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিমের নির্দেশে এএসআই গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ ঐ এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ইউনিয়নের দরগাহপাড়া রোডের ব্রিজ সংলগ্ন নুর মঞ্জিল থেকে চোরাই গরুটি উদ্ধার করে এবং জড়িত সন্দেহে ২ জনকে আটক করে। তারা হলেন নুর মঞ্জিলের মালিক ছৈয়দ আহমদ ও দরগাহ পাড়ার মতলবের ছেলে নুর হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নুর মঞ্জিলে ডেইরি ফার্মের সাইনবোর্ড থাকলেও ভেতরে রয়েছে কসাইখানা। পানির পাইপ লাইন দেয়া আছে ব্রিজের নিচ দিয়ে খালে। তারা মনে করেন চোরাইকৃত গরু সেখানে জবাই করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় একটি চক্র এ অপকর্মের সাথে জড়িত। ঐ চক্র ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে।

গরুর মালিক কাজল পাল জানান, গরু উদ্ধার ও চোর আটকের পর বিষয়টি আপোষ মিমাংসার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে স্থানীয় একটি মহল। যার কারণে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। তিনি জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে থানায় এজাহার দায়ের করেন।

স্থানীয়দের দাবি, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে আসছে। এ কসাইখানার সূত্র ধরে তদন্ত করলে প্রকৃত অপরাধীরা বেরিয়ে আসবে।
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২০, ২০২২ ৬:৩৪ অপরাহ্ন
গোপালগঞ্জে বেড়েছে ডিমের উৎপাদন
প্রাণিসম্পদ

গোপালগঞ্জে বিগত ৫ বছরে ডিমের উৎপাদন ২ কোটি ২ লাখ পিস বেড়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জের খামারীরা ডিম উৎপাদন প্রতি বছর বৃদ্ধি করছেন। এখানে লেয়ার মুরগী পালনের প্রতিকূল পরিবেশ রয়েছে। তাই খামারীর সংখ্যাও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোপালগঞ্জের খামারে উৎপাদিত ডিম দিয়ে জেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র সরদার জানান, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে গোপালগঞ্জে ১৫ কোটি ১০ লাখ পিস ডিম উৎপাদিত হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ পিস ডিমের উৎপাদন পাওয়া যায়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ডিমের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ কোটি ১৭ লাখ পিসে। ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ পিস ডিমের উৎপাদন হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৭ কোটি ১২ লাখ পিস ডিম উৎপাদিত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এ জেলার ৫ উপজেলার ডিমের উৎপাদন ২ কোটি ২ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জেলায় ৩৩৮টি লেয়ার মুরগীর খামার রয়েছে। খামারীরা আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে লেয়ার মুরগীর খামার করে ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি করে আসছে। প্রতি বছর খামার যেমন বাড়ছে, সেই সাথে ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও বেধাবী জাতি গঠন ও পুষ্টি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা ,একই সঙ্গে ভোক্তার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ডিম আন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিন একটি ডিম খেলে সারাদিন পুষ্টি পাওয়া যায়। এটি বাস্তবায়নে আমরা প্রচার প্রচারণার চালিয়ে যাচ্ছি। এখন দেশে বছরে ২ হাজার ৫৭ কোটি ৬৪ লাখ পিস ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতিটি মানুষ মাথাপিছু বছরে ১৩৬ টি ডিম খেতে পারছেন। এতে দেশ ডিমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জণ করেছে। পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের মতে একজন মানুষকে বছরে ১০৪টি ডিম খেতে হবে। এর বেশি হলেও ক্ষতি নেই বলে তারা মত দিয়েছেন। সরকার ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নে জনপ্রতি দুধ, মাংস ও ডিম খাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ২৭০ মিলি, ১৫০ গ্রাম ও ১৬৫টি নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তাবায়নে গোপালগঞ্জে দুধ, সাংস ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এটি আমরা এখন বাস্তাবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

গোপালগঞ্জ শহরের মাহিকদহ এলাকার খামারী ইয়াহিয়া বিশ্বাস জানান,আমার খামার থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৪ হাজার পিস ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ খামার গড়ে তুলেছি। লেয়ার মুরগীর খামার করে আমি লাভবান হয়েছি। গোপালগঞ্জ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সহযোগিতা, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করছে।

ওই খামারী আরও জানান, এখন পোল্ট্রিফিড ও বাচ্চার দাম বেশি। অতিরিক্ত দামে খাদ্য ও বাচ্চা কিনে খামার করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের পোল্ট্রি শিল্পের সমস্যা সমাধানে সরকার এগিয়ে আসবে। সরকার সহযোগিতার হাত প্রসারিত করলেই ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি করে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে আমরা ভ’মিকা রাখতে পারব।

পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ এস.এম আউয়াল হক জানান,গোপালগঞ্জ কৃষি নির্ভর এলাকা। এখানে পোল্ট্রি খামার সম্প্রসারণ করে ডিম ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। পরিকল্পিতভাবে এখানে খামার গড়ে তুলতে হবে। এসব খামারে লেয়ার, ব্রয়লার, কক ও সোনালী জাতের মুরগীর খামার করে খামারী লাভবান হতে পারবেন। নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। এখানে বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। সেই সাথে এ অঞ্চলে পোল্ট্রি নির্ভর শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে। এতিমধ্যে এখানে কাজী ফার্ম বড় আকারে বাচ্চা উৎপাদন করছে। এছাড়া রুমি ফিড খাদ্য তৈরি করছে। এখানে পোল্ট্রি শিল্পের বাচ্চার হ্যাচারী, খাদ্য তৈরি ফ্যাক্টরী, পানিরপাত্র, খাবারপাত্র, ব্রুডার, পোল্ট্রির খাঁচাসহ অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে গোপালগঞ্জের মানুষ কর্মসংস্থারে বড় সুযোগ পাবে। সেই সাথে এ জেলায় ডিম ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সরকারের এসডিজি বাস্তবায়িত হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২০, ২০২২ ৪:২০ অপরাহ্ন
সখিপুরে গোয়াল ঘরে আগুন, ২গরু ও তিন ছাগলের প্রাণহানি!
প্রাণিসম্পদ

টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা পূর্ব পাড়া এলাকার কৃষক আনোয়ার বাদশার গোয়াল ঘরে আগুন লেগে পুড়ে দু’টি গরু ও পাঁচটি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৩ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন নেভানোর আগেই গরু ও ছাগলগুলো পুড়ে মারা যায়।

জানা যায়, কৃষক আনোয়ার বাদশা মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিনের মতো গোয়াল ঘরের পাশে লাকড়ির মধ্যে কয়েলে আগুন দেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে এ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।তিনি আরো জানান, আগুন লেগে দুটি গরু, পাঁচটি ছাগলসহ টিনের গোয়ালঘরটিও পুড়ে গেছে। সবমিলে অন্তত ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওতে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আনোয়ার বাদশা বলেন, কৃষি জমি চাষাবাদ করে ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে অভাবের সংসার আমার। গরু ও ছাগলগুলো মারা যাওয়ায় আমি একদম নিঃস্ব হয়ে গেলাম।
সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম কামরুল হাসান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জানান, কৃষক আনোয়ার বাদশার গরুগুলো পুড়ে মারা যাওয়ায় বড় ক্ষতি হয়ে গেল। এ অবস্থায় তার সহযোগিতা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২২ ১০:২৮ অপরাহ্ন
পিপিবি ও শেকৃবির এএসভিএম অনুষদের উদ্যোগে “বিশ্ব ডিম দিবস”পালিত
ক্যাম্পাস

শেকৃবি প্রতিনিধি: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এর এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ এবং পোল্ট্রি প্রোফেশনাল’স বাংলাদেশ (পিপিবি) যৌথভাবে পালন করে বিশ্ব ডিম দিবস ২০২২।

এ উপলক্ষ্যে রবিবার (১৬ অক্টোবর) বিকাল ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

র‍্যালিটি শেখ কামাল ভবন থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন ঘুরে আবার শেখ কামাল ভবনে এসে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে পথচারী, রিকসাওয়ালা সহ আগত সকলের মাঝে সিদ্ধ ডিম বিতরণ করা হয়।

উক্ত র‍্যালি ও ডিম বিতরণ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন শেকৃবির এএসভিএম অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. লাম ইয়া আসাদ, পিপিবি শেকৃবি ইউনিটের প্রধান উপদেষ্টা এবং পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল হক বেগ, এএসভিএম অনুষদের সাবেক ডীন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, পিপিবি শেকৃবি ইউনিটের উপদেষ্টা এবং মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কেবিএম সাইফুল ইসলাম, পিপিবি শেকৃবি ইউনিটের উপদেষ্টা এবং এনিম্যাল প্রোডাকশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম, এনাটমি এন্ড হিস্টলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাসেল, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল মাসুম, এনিম্যাল নিউট্রিশন এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোফাচ্ছারা আক্তার রিমি, ডেইরি সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ড. এমএ মান্নান, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাকসুদা বেগম, সার্জারি এন্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক মামুন, সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোসাঃ নুসরাত জাহান, মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ দেলোয়ার হোসেন।

কর্মসূচীতে আরো উপস্থিত ছিলেন পিপিবির কোর টিম সদস্য ও ইভোনিক বাংলাদেশ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ সঞ্জিত চক্রবর্তী। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন কোর টিম সদস্য ডাঃ আবদুর রহমান রাফি, পিপিবি শেকৃবি শাখার কো-লিডার ডাঃ রূপ কুমার, ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া, পিপিবি শেকৃবি শাখার অন্যান্য সদস্যরা এবং শেকৃবির এএসভিএম অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

র‍্যালি শেষে বক্তারা ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে আলোচনা করেন। এএসভিএম অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. লাম ইয়া আসাদ বলেন, “ডিম একটি সুপারফুড। ডিমের পুষ্টিগুণ একই দামের অন্যান্য খাদ্যের তুলনায় বেশি। ডিমের দাম বাড়া নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে মিডিয়ায় তেমন আলোচনা দেখা যায় না। আমি সংবাদমাধ্যমে ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে আরো বেশি প্রচার করার আহবান জানাচ্ছি”।পিপিবি শেকৃবি ইউনিটের প্রধান উপদেষ্টা ও পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক বেগ বলেন, ” একটি নতুন প্রাণের জন্ম হয় একটি ডিম থেকে। অর্থ্যাৎ, একটি প্রাণের জন্য যে সকল পুষ্টি উপাদান দরকার তার সবই রয়েছে ডিমের মধ্যে৷ আমরা দেখেছি, পৃথিবীর যে সকল দেশে মাথাপিছু ডিম বেশি খাওয়া হয়, ওই সকল জাতি তত বেশি মেধাবী হয়ে থাকে”।

অধ্যাপক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “একটি ডিমে দেহের প্রয়োজনীয় প্রতিটি উপাদান থাকে। মাথার চুলের যে বৃদ্ধি ঘটে সেটা প্রোটিন, এ প্রোটিন আসে ডিম থেকে। আমাদের যে দৃষ্টি শক্তি, যা চোখের সাথে জড়িত। ডিমের মধ্যে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য সরাসরি জড়িত। আমাদের দৃষ্টি শক্তিকে ঠিকঠাক করতে হলে আমাদের প্রতিদিন ডিম খেতে হবে। শুধু তাই নয়, আমাদের দেহের দৈহিক বৃদ্ধি যেমন: অঙ্গের বৃদ্ধি, চুলের বৃদ্ধি, নখের বৃদ্ধির জন্যও ডিমের ভূমিকা অনেক”।

পিপিবি শেকৃবি ইউনিটের উপদেষ্টা ও মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কেবিএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ” ডিম দিবস পালনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে জনসাধারণকে ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন করা। ডিম নিয়ে বিভিন্ন গুজব বিভিন্ন সময়ে ছড়ানো হয়েছে এবং হচ্ছে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের উচিত এ সকল গুজব প্রতিরোধে জনগণকে ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে জানানো এবং জনসচেতনতা গড়ে তোলা। পিপিবি শেকৃবি ইউনিটের উপদেষ্টা ও এনিম্যাল প্রোডাকশন এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরের ন্যায় এবারো পিপিবি এবং এএসভিএম অনুষদের উদ্যোগে ডিম দিবস পালন করা হয়েছে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করে বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে পারবো। পিপিবি’র কোর টিম সদস্য এবং ইভোনিক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ সঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, ” আমি অত্যন্ত আনন্দিত এ ধরনের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে পেরে। পিপিবি ডিম নিয়ে অনলাইনে ও অফলাইনে যে কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করে আসছে এতে জনগোষ্ঠীর বৃহৎ একটি অংশের মাঝে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ডিম ও ব্রয়লারের জেলাভিত্তিক দাম পিপিবি’র পেইজে শেয়ার করার ফলে ডিমের দামের মধ্যে একটা স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে”।

উল্লেখ্য, ডিমকে বিশ্বে একটি উন্নতমানের ও সহজলভ্য আমিষজাতীয় খাদ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) স্থাপিত হয় ১৯৬৪ সালে। বর্তমানে এই সংস্থার সদস্যসংখ্যা ৮০। সংস্থাটি প্রাণিজ আমিষের চাহদিা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠন এবং সর্বোপরি ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রথম ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ পালনের আয়োজন করে, যা পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার পালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত প্রভৃতি দেশসহ সারা বিশ্বের ৪০টি দেশে পালিত হয় ‘বিশ্ব ডিম দিবস’, যার পরিধি ও ব্যাপ্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর সাড়ম্বরপূর্ণভাবে পিপিবি ডিম দিবস পালনে করে আসছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২২ ৭:৫০ অপরাহ্ন
কানাইঘাটে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন
প্রাণিসম্পদ

সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলায় উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে পালিত হলো বিশ্বখাদ্য দিবস।

রবিবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে আয়োজিত সভা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হায়দার আলীর সভাপতিত্বে ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃআবুল হারিছ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলাপরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব খাদিজা বেগম।

 এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোজাদ্দিদ  আহাম্মদ,উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কুমার চন্দ, আলমগীর হোসেন,ওমর ফয়সাল সহ উপজেলা কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি বৃন্দ এবং কৃষক প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২২ ৭:৪৪ অপরাহ্ন
বরিশালে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত
প্রাণিসম্পদ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): নানা আয়োজনে বরিশালে পালিত হলো বিশ্ব খাদ্য দিবস।

আজ রবিবার নগরীর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই দিবসের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. নুরুল আলম।

বরিশাল সদরের অতিরিক্ত কৃষি অফিসার তানজিলা আহমেদের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার মোসাম্মৎ মরিয়ম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মনদীপ ঘড়াই, বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, বিশ্বে সাতশ’ কোটি লোকের বসবাস। এর মধ্যে শতকরা দশ ভাগ ক্ষুধায় কাতর। আফ্রিকার নয় দেশের মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। সে তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি। আর তা কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের সফলতার কারণেই সম্ভব হযেছে। তিনি আরো বলেন, খাদ্যের অভাবে পৃথিবীর একটি মানুষও যেন মারা না যায়। এজন্য আরো উৎপাদন বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি প্রয়োজন এর সুষম বন্টন। এই হোক আমাদের অঙ্গিকার।
এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল: কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়; ভালো উৎপাদনে উত্তম পুষ্টি, সংরক্ষিত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন।

অনুষ্ঠানশেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়। এতে কৃষি , মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২২ ১১:০০ পূর্বাহ্ন
গো-সম্পদ খাতে উন্নয়নে লাম্ফি স্কিন রোগ দমনে পদক্ষেপ জরুরি
প্রাণিসম্পদ

নিতাই চন্দ্র রায়: ভারত ও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধের পর আমাদের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশে গো-সম্পদ খাতে এক অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটেছে। এ কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কুরবানির ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পশু বাংলাদেশেই উৎপন্ন হয়।

এ কারণে কুরবানির পশুর জন্য এখন আর তীর্থের কাকের মতো বাংলাদেশকে ভারত ও মিয়ানমারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। ফলে একদিকে যেমন আমাদের মাংসের উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে বেড়েছে দুধের উৎপাদন।

এছাড়া গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে পশুসম্পদ খাতের রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। মাংস ও দুধ ছাড়াও জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রাণীর মলমূত্র থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনেও রয়েছে খাতটির বিশেষ অবদান।

বর্তমান সরকারের প্রাণিসম্পদবান্ধব কার্যক্রম, প্রাণিবিজ্ঞানীদের নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণা, মাঠকর্মীদের সঠিক কর্মকান্ড এবং খামারি ও কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদের এই অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটেছে। গ্রামের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে দুগ্ধ খামার।

বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থে গ্রামের বহু উদ্যমী যুবক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গো-খামার তৈরি করে, তা থেকে দুধ এবং মাংসের জন্য পশু বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হচ্ছেন। লাল সিন্ধি ও হলস্ট্রেইন ফ্রিজিয়ানের মতো অধিক দুধ প্রদানকারী গাভীও পালন শুরু করেছেন অনেক প্রগতিশীল খামারি। মাংস ও দুধ বিক্রি এবং এর প্রক্রিয়াকরণ কাজে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এককথায় প্রাণিসম্পদ খাতে উন্মোচিত হয়েছে এক বিরাট সম্ভাবনার দ্বার।

কিন্তু সম্প্রতি দেশব্যাপী লাম্ফি স্কিন রোগের (এলএসডি) প্রাদুর্ভাবের কারণে সেই  সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। হঠাৎ এ রোগের প্রাদুর্ভাব খামারিদের বড় দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অনেকে ভয়ে আক্রান্ত পশু পানির দামে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ২০১৬ সালের দিকে প্রথম দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা ঝিনাইদহ ও যশোরে গরুর মধ্যে এলএসডি শনাক্ত করা হয়। ২০২০ সালে প্রায় ২৫টি জেলায় এলএসডির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এবার এ ভাইরাস রোগটির বিস্তার আরও বেশি। বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের ধারণা, এবার কমপক্ষে ৫০টি জেলায় লাম্ফি স্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাদের হিসাবে, সারা দেশে সাড়ে তিন লাখের বেশি গরু-মহিষ এই রোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার গরু এলএসডিতে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মারা গেছে ৫০০ গরু। সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরের পরিস্থিতি আরও খারাপ। ওই জেলায় প্রায় প্রতিটি খামার ও কৃষকের পরিবারেই লাম্ফি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু রয়েছে। অদ্যাবধি ওই জেলায় প্রায় শতাধিক গরু মারা গেছে মারাত্মক ওই রোগে। দেশের উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে নীলফামারী, নাটোর, দিনাজপুর, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এই রোগের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সব ক’টি ইউনিয়নের গরু এলএসডিতে আক্রান্ত হয়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গবাদিপশুর মধ্যে মহামারী আকারে এলএসডির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এসব উপজেলায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে  আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিন শুধু প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে  শতাধিক গরু-বাছুর।

প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, এলএসডি এক ধরনের ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। এটি মশা-মাছি ও খাবারের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়ায়। আবার আক্রান্ত গরুর লালা খাবারের সঙ্গে মিশে এবং খামার পরিচর্যাকারী ব্যক্তির কাপড়-চোপড়ের মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে। আক্রান্ত গরুর দুধেও এই ভাইরাস বিদ্যমান থাকায় আক্রান্ত গাভীর দুধ খেয়ে বাছুরও আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত গরুর সিমেনও এই রোগের অন্যতম বাহন। প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগের লক্ষণ হলো জ¦র। এরপর ত্বকের ওপরে বড় আকারের গুটি তৈরি হয়। মানুষের জলবসন্তের মতো শরীর জুড়েই গুটি তৈরি হয়। কয়েক দিনের মাথায় সেগুলো ফেটে তরল নিঃসৃত হতে থাকে। এর কিছুদিন পর ওই গুটিগুলো ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়। এলএসডি সব গরুর ক্ষেত্রে এক রকম হয় না।  যেসব গরু প্রথম আক্রান্ত হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং মৃত্যুর হার হয় বেশি। আক্রান্ত গরুর শরীরে ফোসকা পড়ে। কোনো কোনো গরুর  পা ও অ-কোষ ফুলে যায়। কোনো গরুর গলায় ঘা হয়। কিছু কিছু আক্রান্ত গরুর  চামড়ার নিচে পচন ধরে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে গরু দুর্বল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গরুর মৃত্যুসহ নানা রকম মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। অনেক গরুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ে। এতে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। গর্ভবতী প্রাণীদের গর্ভপাত হতে পারে। রোগের তীব্রতা কম হলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে এবং তীব্রতা বেশি হলে এক থেকে দেড় মাসে আক্রান্ত গরু সুস্থ হয়ে ওঠে।

গ্রামের বেশিরভাগ কৃষক ও খামারি না বুঝেই হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে গরুর চিকিৎসা করাচ্ছেন। এর ফলে রোগ সেরে গেলেও দেখা দিচ্ছে নানারকম শারীরিক জটিলতা। দেশের বিভিন্ন আক্রান্ত অঞ্চলের জেলা-উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গরু নিয়ে ভিড় করছেন বহু কৃষক ও খামারি। কিছু উপজেলায় আক্রান্ত গরুর চিকিৎসায় মেডিকেল ক্যাম্প করা হচ্ছে। দ্রুত রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় জনবল সংকটে সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। ওষুধ বরাদ্দও রয়েছে অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কেই কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং এর বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়কে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কৃষক ও খামারিদের পাশে দাঁড়াতে হবে। মেডিকেল ক্যাম্পের সংখ্যা ও ওষুধ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সবচেয়ে জরুরি এ রোগ থেকে পশুকে নিরাপদ রাখতে কৃষক ও খামারিদের সচেতন করে তুলতে হবে। করোনা মহামারীর মতো এ রোগ দমনে নানামুখী পরিকল্পনা ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক : সাবেক মহাব্যবস্থাপক (কৃষি), বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন

সূত্র: দেশ রুপান্তর

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop