দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গবেষণা অপরিহার্য
প্রাণিসম্পদ
২:৫১ পূর্বাহ্ন
দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে প্রাণিসম্পদ খাতের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
শনিবার (২৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পের ইনসেপশন, অগ্রগতি ও পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে প্রাণিসম্পদ খাতের ব্যাপক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এ খাতের বর্তমান অবস্থাকে ছাড়িয়ে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পোল্ট্রি খাতের উন্নয়ন জোরদার করার জন্য গবেষণাকে সম্প্রসারিত করতে হবে, আরো গভীরে যেতে হবে। বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মেধাকে আরো বিকশিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি খাতে গবেষণায়ে জোর দেওয়ার কথা বলেন। গতানুগতিকতার বাইরে যখনই গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তখনই সারাদেশে পোল্ট্রি খাত বিকশিত হয়েছে। এতে পুষ্টি চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে, গড় আয়ু বেড়েছে, মাতৃমৃত্যু কমেছে, শিশু মৃত্যু কমেছে। এমনকি করোনায় সৃষ্ট বেকাররা পোল্ট্রি খাতে নিজেদের সম্পৃক্ত করে তাদের বেকারত্ব দূর করছে, উদ্যোক্তা হচ্ছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্বপ্ন ও সাধনাকে বাস্তবায়নে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে এসময় মন্ত্রী বলেন, “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাধারণ দূরদৃষ্টি ছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু প্রাণিসম্পদ খাতকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর দৃষ্টি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত ছিল। তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মাংস, দুধ, ডিম সংক্রান্ত খাতকে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পসহ এ খাতের সকল প্রকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।”
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ তৌফিকুল আরিফ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ শেখ আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য ও প্রকল্পের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ সাজেদুল করিম সরকার। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীগণ এবং পোল্ট্রি খাতের বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। জুলাই ২০১৯ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে ১২৭ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ি, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি, যশোর জেলার সদর উপজেলা, ফরিদপুর জেলার ভাংগা এবং নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে পোল্ট্রি প্রজাতি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, জাত উন্নয়ন এবং অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনশীল স্ট্রেইন উদ্ভাবন, অপ্রচলিত ও বিদ্যমান পোল্ট্রি খাদ্য উপাদানসমূহের পুষ্টিমান নিরূপণ এবং গবেষণার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পোল্ট্রির মাংস ও ডিমের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন, গবেষণার মাধ্যমে নিরাপদ মাংস ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধি, পোল্ট্রি খামারিদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং বিএলআরআই-এর পোল্ট্রি বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমের গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ল্যাবের সাথে সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন সীমান্তবর্তী জেলা কুষ্টিয়ার খামারীরা। এই জেলায় যে পরিমাণ গরু ও ছাগল কোরবানি কেন্দ্রিক প্রস্তুত করা হয় তা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপশি দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হয়ে থাকে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির জন্য দেশীয় গরু হিসেবে কুষ্টিয়া জেলার গরুর রয়েছে বিশেষ চাহিদা।
গরু মোটাতাজা করা কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য। এ জেলায় এমন বাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে দু’একটি গরু নেই। এখানকার খামারী ও কৃষকরা কোরবানির ঈদের পরে কমদামে ছোট গরু কিনে লালন পালন শুরু করে। অল্প অল্প করে টাকা বিনিয়োগ করে এসব খামারে ও বাড়িতে বাড়িতে পারিবারিক আদলে গরুকে মোটাতাজা করে তারা। উদ্দেশ্য, পরের কোরবানির ঈদে বিক্রি করে একবারে হাতে টাকা পাওয়া ও কিছু লাভের আশা।
কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুরের খামারী জাকিরুল ইসলাম ও খাজানগরের খামারী ওমর ফারুক জানান, কোরবানির পশু বাজারে তোলার সময় ঘনিয়ে এলেও মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা। আসছে কোরবানির জন্য দেশে যথেষ্ঠ গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তাই এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং খামারীদের লোকসানের হাত থেকে বাঁচাতে ভারত থেকে গরু আমদানি না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, জেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রায় এক লাখ গরুকে মোটাতাজা করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার চাহিদা পূরণ করে প্রায় ৭০ শতাংশ গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাবে। এছাড়াও এবার ৬০ হাজার ছাগল ও কিছু মহিষও কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
কোনো রকম ক্ষতিকর উপাদান ছাড়াই মাঠের ঘাস ও স্বাভাবিক খাবারে এসব গরু মোটাতাজা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আট হাজার খামারীদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। খামারীদের গরু ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির করার জন্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামারীরা এবার কোরবানির গরুর নায্য দাম পাবেন বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে ছাগলের খামারের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। এর মাধ্যমে সফলতা তথা স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক চাষি। তবে এই ছাগল যদি হয় আরো মোটাতাজা তাহলে এর ফলাফল আসবে আরো বেশি। তাই যারা ছাগল পালন করেন তাদের ছাগল মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি জানা দরকার। তাহলে আরো লাভবান হতে পারবেন এই পেশায়।
ছাগল মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে সফল হওয়ার উপায়:
ছাগল পালন করে লাভবান হওয়ার জন্য ভাল মানের ছাগল বাছাই করা সবচেয়ে জরুরী। ছাগল পালন করতে রোগমুক্ত কিন্তু শুকনো শরীরের ছাগল নির্বাচন করতে হবে। এতে এই ছাগলকে পরিচর্যা ও খাদ্য প্রদানের মাধ্যমে সহজেই মোটাতাজা করা যায়। আর এই মোটাতাজা করা ছাগল থেকে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। ভাল মানের ব্রিড সংগ্রহ করতে না পারলে উন্নত মানের ছাগল পাওয়া যায় না। আর ভাল মানের ছাগল সংগ্রহ করার মাধ্যমেই ছাগল পালনে লাভবান হওয়া যায়।
ছাগল পালনে লাভবান হওয়ার জন্য ছাগলের কৃমি দমন করা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। ছাগলকে সঠিক সময়ে কৃমি মুক্ত করাতে না পারলে ছাগলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি হয়ে থাকে। তাই ছাগলকে প্রতি ৪ মাস পর পর কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে।ছাগলকে রোগমুক্ত রাখার জন্য ছাগলকে সময়মতো সংক্রামক রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ছাগলকে প্রতি বছর রোগের ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে।
ছাগলকে মোটাতাজা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়কাল নির্ধারণ করতে হবে। এতে করে একটি সময় অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
এছাড়া ছাগলের খামার থেকে লাভবান হওয়ার জন্য ছাগলকে খাদ্য প্রদান করা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূলত ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করেই ছাগলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে থাকে। তাই ছাগল পালনে লাভবান হবে খাদ্য ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে ছাগলের বয়স অনুযায়ী খাদ্য তালিকা করতে হবে।
ছাগলের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য ছাগলকে যথাসম্ভব ছেড়ে দিয়ে পালন করতে হবে। এর ফলে যেমনি ছাগলের শরীর সুস্থ থাকবে তেমিন আনুসাঙ্গিক খরচও কমে আসবে অনেকগুনে। ছাগল পালনে লাভবান হওয়ার জন্য নিয়মিত ছাগলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত ছাগলের ওজন মাপতে হবে।
ছাগলের নিয়মিত কিছু দুর্ঘটনা ও সাধারণ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা পালনকারীদের জেনে রাখতে হবে। এর ফলে সামান্য সমস্যাতেই ডাক্তার ডাকতে হবে না। যার কারণে চিকিৎসা খরচ থেকে বেঁচে যাওয়া যায়।
করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে কোরবানির ঈদে সবাইকে অনলাইনে কেনাকাটা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
তিনি বলেন, পশুর হাটে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অতিমারি চলছে। যেসব গরু ব্যবসায়ী আসবেন তারা যেন স্বাস্থ্যসম্মতভাবে আসেন সে বিষয়ে আমরা নজর রাখবো।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোভিড পরিস্থিতির ওপর লক্ষ্য রেখে পরে যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে হয় সেজন্য এবার আগেই সভা করেছি। ঈদের বন্ধের সময় সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে জোরদার ব্যবস্থা রাখা হবে। চুরি, ডাকাসিহ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারিসহ পুলিশ-র্যাবের টহল বাড়ানো হবে। স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। করোনা বিবেচনায় অনলাইন কেনাকাটায় উৎসাহ দেওয়া হবে।
‘অস্থায়ী পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হবে। পশুর হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টি যাতে না আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে। ঈদের সময় ব্যবসায়ীদের টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশ সহযোগিতা করবে। যানজট নিরসনে আনসার মোতায়েন করা হবে। ’
যানজটপ্রবণ স্থানে ওয়াচ টাওয়ার থাকবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব জায়গায় বেশি যানজট হয় যেমন টঙ্গী থেকে গাজীপুরের রাস্তা এবং যমুনা ব্রিজের ওখানে যানজট কমাতে সড়ক পরিবহন বিভাগকে অনুরোধ করেছি। কোরবানির পশু পরিবহনের ট্রাক ও নৌযানে চাঁদাবাজি বন্ধে নজরদারি থাকবে। পশু বোঝাই যান জোরপূর্বক যেকোনো জায়গায় থামানো যাবে না।
‘ফেরিঘাটে যাতে যানজট না হয় সেজন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে, নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। এছাড়া ঈদের সময় সড়ক, মহাসড়কসহ যেকোনো জায়গায় দুর্ঘটনা বন্ধে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, কুইক রেন্সপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে। ’
শিল্প এলকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, শিল্প এলাকায় নাশকতা বন্ধে গোয়েন্দা বাহিনী সজাগ থাকবে। গার্মেন্টসহ সব শিল্প কারখানার বেতন নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার জন্য বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারাও নিশ্চয়তা দিয়েছেন সময়মত শ্রমিকদের বেতন দেবেন।
চামড়া বেনাবেচা বিষয়ে তিনি বলেন, চামড়া কেনাবেচনার সিন্ডিকেট রোধে ঈদের আগে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। ঈদের সময় নিত্যপণের মূল্য বাড়ানো বন্ধ করতে বা ভেজালরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। ঈদ উদযাপনে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ যেসব নির্দেশনা দিয়েছে বা দেবে তা মেনে চলার অনুরোধ করা হলো।
পশুর হাটে করোনা নিরাপত্তা বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লকডাউন বাস্তবায়ন সংস্থা নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বাস্তবায়ন সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে তারা অনুরোধ করছেন, সে অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। তারা যেখানে লকডাউন করার কথা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে কাজ করে।
পশুর হাটের সংখ্যা কমছে কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন এবার হাট নিয়ন্ত্রণ করছে, অনেক হাট বন্ধ করে দিয়েছে। এবার ঢাকায় যত্রতত্র হাট বসতে দেওয়া হবে না।
মো. শাকিল আহমেদ এইচএসসি পরীক্ষার্থী একজন তরুণ উদ্যোক্তা। তিনি কুমিল্লা জেলার তিতাশ থানার গাবতলি গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে। এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন নিয়মিত। শুরুতে এন্টিবায়োটিক দিয়ে খামার করে লস দেয়ার পর এন্টিবায়োটিকমুক্ত খামার করে সফল হয়েছেন এই ক্ষুদ্র খামারী শাকিল। এগ্রিভিউ২৪.কম এর সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে উঠে আসে শাকিলের খামারের গল্প।
এত অল্প বয়সে ব্রয়লার খামারের দিকে ঝুঁকার কারণ জানতে চাইলে শাকিল বলেন, চারদিকে বর্তমানে চাকরির অবস্থা দেখে নিজ থেকে কিছু করার আশায় খামারের দিকে মনোযোগ। এর মাধ্যমে একদিকে নিজে স্বাবলম্বী হতে পারবো আর অন্যদিকে মাংসের চাহিদাও পূরণ হবে এবং কয়েকজন লোকের কর্মসংস্থানেও ব্যবস্থা হবে। সেই চিন্তা থেকে কয়েকজন বন্ধু মিলে খামার করার চিন্তা করলে বাকিরা আর সাথে থাকেনি। অবশেষে আমি একাই এই খামার শুরু করি। ইনশাআল্লাহ এখন পর্যন্ত ভালোই চলছে।
শাকিল বলেন, আমি ২০১৯ সালের শেষের দিকে খামার শুরু করি। প্রায় ৯০ হাজার টাকা দিয়ে ঘর বানাই। প্রথমে ২৬ হাজার টাকায় এক হাজার ৫০ মুরগির সেড করি। সেখান থেকে আমার প্রায় ৮ হাজার টাকার মত লাভ আসে। আবার ২০২০ সালের শুরুর সেডে ২৯ হাজার টাকা আবার ১ হাজার মুরগি তুললে সেখানে আমার ১৫ হাজার টাকা লাভ হলেও তারপরের সেডে ৬০ হাজার টাকার মুরগি তুললে সেখানে আমার প্রায় ৪৬ হাজার টাকা লস হয়। যার কারণে আমি মাঝখানে খামার বন্ধ রাখি।
বর্তমানে খামারের অবস্থা জানতে চাইলে শাকিল এগ্রিভিউকে বলেন, দীর্ঘ দিন খামার বন্ধ রেখে আবার ২০২১ সালে এসে ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা ছাড়া আবার সেড শুরু করি। বর্তমানে খামারে ১ হাজার মুরগি আছে। আগের সেডগুলোতে আমার প্রতিদিন গড়ে ১৫টা করে মুরগি মারা যেতো। দিনে ৩০-৩৫টাও মারা গিয়েছে। এখন আমার খামারে মুরগির মৃতের সংখ্যা একেবারেই কম এবং মুরগির ওজনও অনেক। বর্তমান সেডের ২৬ দিন বয়সী মুরগির ওজন প্রায় ২ কেজির মত বলে জানান শাকিল।
এন্টিবায়োটিক না খাওয়ালে কি খাওয়াচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মুরগিতে সামান্য আমাশয় দেখা দিলে আমি ডাক্তারের পরামর্শে মেডিসিন খাওয়ায়। এছাড়া বর্তমানে গরমের কারণে কিছু মুরগি মারা গেলেও অসুস্থ মুরগি দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া আমার খামার আলো বাতাস দিয়ে ভরপুর। একেবারে নিরিবিলি পরিবেশ আমার খামারে। খামার সব সময় আমি পরিষ্কার রাখি। খামারে বাইরের লোকজন ঢুকতে দেই না, বায়োসিকিউরিটি যথাযথভাবে পালন করি। এ জন্য খামারে রোগ বালাই কম হয়।
দেশের আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় উন্নত জাতের মুরগি পালনের দিকে জনগণ উৎসাহিত হয়ে ঝুঁকছেন খুব। অন্যদিকে জনগণের উৎসাহের সাথে সাথে সরকারও করছেন নানাবিধ সহযোগিতা। যার কারণে দেশে আমিষের ঘাটতি পূরণে গড়ে উঠেছে অনেকে মুরগি খামার। আর এই শিল্পে লাভ করতে হলে খামারিদের দরকার নিয়ম মোতাবেক খামার গড়ে তোলা। খামারের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে মুরগিতে লাভবান হওয়ার আর না হওয়া।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, উন্নত বিশ্বে বছরে মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা যেখানে ২০০; সেখানে আমাদের দেশে মাত্র ১৫ থেকে ১৬টি। এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে প্রত্যেক বসতবাড়িতে উন্নতজাতের মুরগি চাষ অপরিহার্য। উন্নত জাতের একটি মুরগি ছয় মাস বয়সে ডিমপাড়া শুরু করে এবং বছরে ২০০ থেকে ২৫০ ডিম দেয়। অন্যদিকে ব্রয়লার (মাংস উত্পাদক মুরগি) মুরগি দুই মাসেই দেড় থেকে দুই কেজি মাংস দেয়। বসতবাড়িতে অল্প শ্রম ও কম খরচে মুরগি পুষে পরিবারের প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের ঘাটতি সহজেই মেটানো যায়।
মুরগির থাকার ঘর : মুরগির থাকার ঘর উচ্চতায় চার ফুট, প্রস্থে সাড়ে ৪ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৬ ফুট করুন। এর ভেতরে ডিম পাড়ার খাঁচি, খাবার পাত্র ও পানির পাত্র রাখুন।
আরও খেয়াল রাখবেন
(১) ঘর সব সময় শুকনো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
(২) খোলামেলা স্থানে ঘর বানাবেন
(৩) ঘরের মেঝে তিন ইঞ্চি পুরু হয় এ পরিমাণ তুস, কাঠের গুঁড়া বা বালির সঙ্গে আধা কেজি গুঁড়া চূর্ণ ভালোভাবে মিশিয়ে সমানভাবে বিছিয়ে দিন।
(৪) মেঝের কাঠের গুঁড়া বা তুস ৭ দিন পরপর ওলট-পালট করে দেবেন। স্যাঁতসঁতে হলে বা জমাট বেধে গেলে তা পরিবর্তন করে দেবেন। ঘরে আটকে না রেখে বাইরেও মুরগি পালন করতে পারেন।
খাদ্য : অধিক ডিম পেতে হলে মুরগিকে দৈনিক সুষম খাবার খেতে দেবেন, প্রত্যহ প্রতিটি মুরগিকে ১১৫ গ্রাম সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও ২৫ গ্রাম সবুজ শাক-সবজি বা কচি ঘাস কুচি কুচি করে কেটে খেতে দিন। আপনি নিজেই সুষম খাদ্য তৈরি করতে পারেন।
সুষম খাদ্যের উপাদানগুলো নিম্নরূপ : খাদ্য উত্পাদন-গম/ভুট্টা ভাঙা বা চালের খুদ ৪০০ গ্রাম। গমের ভুসি ৫০ গ্রাম। চালের কুঁড়া (তুষ ছাড়া) ২৫০ গ্রাম। তিলের খৈল ১২০ গ্রাম। শুঁটকি মাছের গুঁড়া ১০০ গ্রাম। ঝিনুকের গুঁড়া ৭৫ গ্রাম। সুষম খাদ্য মোট ১,০০০ গ্রাম বা ১ কেজি।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা : আপনার মুরগিকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেবেন। পশুসম্পদ বিভাগ থেকে বিনামূল্যে রানীক্ষেত, কলেরা, বসন্ত রোগের প্রতিষেধক টিকা সংগ্রহ করতে পারেন। আরেকটু খেয়াল রাখবেন, আপনার মুরগি অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে পশু চিকিত্সালয়ের পরামর্শ নেবেন। অসুস্থ মুরগিকে চিহ্নিত করে তত্ক্ষণাত্ আলাদা করে রাখুন। তা ছাড়া রোগাক্রান্ত মুরগির বিষ্ঠা ও লালা সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে তা মাটিতে পুঁতে রাখার ব্যবস্থা নেবেন।
আয়-ব্যয় : এক মোরগের সংসারের জন্য একটি ঘর (খাবার পাত্রসহ) তৈরি কর বাবদ প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হবে এবং ঘর কয়েক বছর ব্যবহার করা যাবে। ছয় মাস বয়সের ৯টি মুরগি এবং ১টি মোরগের ক্রয়মূল্য ২ হাজার টাকা। ১ বছর পর এ ১০টি মুরগিকে প্রায় একই দামে বিক্রি করা যাবে। ডিম কিনলে ১টির দাম পড়বে ৮ টাকা। মুরগির বাচ্চা কিনলে ১টির দাম পড়বে ৩০ টাকা। ৯টির দাম হবে ২৭০ টাকা। প্রতি মাসে মুরগির খাবার ক্রয় বাবদ প্রায় ৮০০ টাকা ব্যয় হবে। যদি আপনি নিজেই মুরগির সুষম খাবার তৈরি করেন তাহলে খরচ আরও কম হবে। ৯টি মুরগি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬টি ডিম পাওয়া যাবে। ডিম বিক্রি করে প্রতি মাসে গড়ে ১৪৪০ টাকা আয় করতে পারেন।
১১০০ হাঁসের মৃত্যুতে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের স্বপন মিয়া নামে এক খামারি। তিনি উপজেলার মাওহা ইউপির নয়ানগর বাউশালী পাড়া গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে। পুঁজি হারিয়ে এখন পথে বসলো স্বপন।
সোমবার থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার মাওহা ইউপির নয়াননগর বাউশালী পাড়া এলাকার স্বপন মিয়ার হাঁসগুলো মারা যায়।
কৃষক স্বপন মিয়া জানান, প্রায় চার বছর আগে ঢাকার গার্মেন্টস থেকে চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে কৃষি কাজ শুরু করি। গত বছর এক হাজার হাঁস লালন পালন করে কিছুটা লাভবান হয়েছি। সে আশাতেই এবারো চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর থেকে বাকীতে ৩০ টাকা পিস ১২০০ হাঁসের বাচ্চা ৩৬ হাজার টাকায় কিনে আনি। তখন হাঁসের বাচ্চার বয়স ছিল একদিন। ওই হাঁসের বাচ্চা লালনপালন করার জন্য বাড়ির পাশে সুরিয়া নদীর পাড়ে মাচা ও নেটের বেড়া দিয়ে তৈরি করি খামার। এরপর হাঁসের বাচ্চার খাবার কেনার জন্য এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করি। এরপর প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ই পরিচর্যার জন্য বাড়ির পাশে বিল ও ডোবায় নিয়ে যাই হাঁসগুলিকে।
ধান ও পোল্ট্রি খাবার ক্রয় করে হাঁসগুলিকে খাওয়ানো ছাড়াও প্রয়োজনীয় ওষুধও দিয়েছি নিয়মিত। এ অবস্থায় হাঁসগুলির বয়স হয়েছিল ২ মাস ৭ দিন। তিনদিন পরেই বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। এমতাবস্থায় গত সোমবার সন্ধার পর হাঁস খামাারে তুলি। ওই দিন রাতেই অজ্ঞাত রোগে ছটফট করে প্রায় ১ হাজার হাঁস মারা যায়। এরপর মঙ্গলবার রাতে আরো ১৪০ টি হাঁস মারা যায়। হঠাৎ করে হাঁসের খিঁচুনি দিয়ে মরতে শুরু করে। এত অল্প সময়ে আমি হাঁসের চিকিৎসাও করাতে পারিনি। এভাবেই ১ হাজার ১৫০ টি হাঁস মারা গেছে। এই হাঁসগুলিকে লালনপালন বাবদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এ গুলো সবই ঋণের টাকায়। এখন সরকারের সহায়তা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল করিম জানান, চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ না করে এবং সঠিক নিয়ম-নীতি না জেনে হাঁস পালন করায় অনেক সময় রোগাক্রান্ত হয়ে হাঁস মারা যায়। স্বপন যদি আমাদের পরামর্শ নিয়ে হাঁস পালন করতেন তাহলে হয়ত এই ক্ষতি হতো না। হাঁস পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত্যু কারণ বলা যাবে। এ ছাড়াও আমাদের জনবল কম। তাই, বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের গুরুত্ব দিয়েছেন। ইতিহাসে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা সমার্থক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।
বুধবার (২৩ জুন) সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) প্রাঙ্গণে ইনস্টিটিউ আয়োজিত ‘খামারি মাঠ দিবস ২০২১’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। বিএলআরআই-এর ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়ন গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাঙালি জাতি থাকবে, যতদিন এই ভূখণ্ডে লাল-সবুজের পতাকা উড়বে, ততদিন আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে। ক্রান্তিকালে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে। আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর বাংলার পথে-প্রান্তরে তিনি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণা করে মানুষকে বুঝিয়েছেন ছয় দফা হচ্ছে আমাদের মুক্তি, আমাদের স্বাধীকার, আমাদের অধিকার আদায়ের ম্যাগনাকার্টা। অপরদিকে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন, পুনরুজ্জীবিত করেছেন। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সরিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।”
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী যোগ করেন, “এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু তখন পরিকল্পনা করেছিলেন। সে সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের বিকাশের কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টিই প্রমাণ করে দেশের উন্নয়নের স্বার্থ বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গৌণ কোন খাত নয়।”
প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের উদ্দেশে এ সময় মন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের অসহাযয় মানুষরা কেউই বিপন্ন অবস্থাযয় থাকবে না। নিজেদের কখনো ছোট ভাববেন না। আপনারা নিজ উদ্যোগে স্বাবলম্বী হোন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। করোনায় বিপর্যস্ত খামারিদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আরো প্রণোদনা দেওয়া হবে। সহজশর্তে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হবে। দেশের উন্নয়নে আপনাদের অবদান কোন অংশে কম নয়।”
প্রাণিসম্পদ খাতে টিকা সমস্যাসহ অন্য যেকোন সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো যোগ করেন, “প্রাণিসম্পদের যে রোগের কারণে খামারিরা শঙ্কায় থাকে, মাংস বিদেশে রপ্তানি করা যায় না, সে রোগগুলো নির্মূল করা হবে। সে লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছে। প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহিত প্রকল্প গ্রামীণ নারীসহ দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, বেকারত্ব দূর হচ্ছে এবং উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। দেশের উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষ অবদান রাখছে। এভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্রসরমান বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে চলেছেন।”
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. মোঃ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ্ মোঃ ইমদাদুল হক ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডাঃ শেখ আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএলআরআই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আজহারুল আমিন। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিএলআরআই ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীগণ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রাণিজ (পোল্ট্রি, ডেইরী ও মৎস্য) খাদ্যের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ/মৌলিক কাঁচামাল আমদানীকারক, উৎপাদনকারী, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত ও সরবরাহকারী বৃহত্তর বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ এগ্রো ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস ইম্পোটার্স এন্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশন, বাফিটা (রেজিস্ট্রেশন নং- TO : 944/2017) এর ১৫ সদস্য বিশিষ্ট দুই বছর মেয়াদী কার্য্যনির্বাহী পরিষদের কর্মকর্তা পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুন) বাফিটা’র অফিস কনফারেন্স কক্ষে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং রবিবার (২০ জুন) একই স্থানে পোর্ট-ফোলিও ১০ (দশ) জন ও ০৫ (পাঁচ) জন কার্য্যনির্বাহী সদস্যও নির্বাচিত হন।
নির্বাচিত সদস্যবৃন্দ হলেন- সুধীর চৌধুরী, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ-সভাপতি পদে এবং মোঃ হেলাল উদ্দিন, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স হেলাল এন্টারপ্রাইজ-মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে জনাব মোঃ সবির হোসেন, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স এম.এস ট্রেডিং, সহ-সভাপতি পদে জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স আল-আমিন পোল্ট্রি ফিড, সহ-সভাপতি পদে জনাব মোঃ সৈয়দুল হক খান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, খান এগ্রো ফিড প্রোডাক্টস, যুগ্ন মহাসচিব পদে জনাব মোঃ মাহবুবুল আলম, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স রহমান ট্রেডার্স, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জনাব মোঃ গিয়াস উদ্দিন খান, স্বত্বাধিকারী, এইচ এন্ড কে ফিড প্রোডাক্টস, কোষাধ্যক্ষ পদে জনাব মোঃ ফারুক, স্বত্বাধিকারী, ফয়সাল ট্রেডিং কোম্পানী, সমাজকল্যান সম্পাদক পদে জনাবা মমতাজ হোসেন ইতি, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স ইতি এন্টারপ্রাইজ প্রচার সম্পাদক পদে জনাবা সাদিয়া আফরিন মুন্নি, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স সিনথিয়া এন্টারপ্রাইজ নির্বাচিত হয়।
এছাড়াও কার্য্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচিত ৫ (পাঁচ) জন সদস্যবৃন্দ হলেন – জনাব সৈয়দ কামালুর রহমান খোকন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সি.আার পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিডস লিঃ, জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান, স্বত্বাধিকারী, আল-হাবিব এন্টারপ্রাইজ, জনাব মোঃ আলাল আহমেদ, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স আলাল এন্টারপ্রাইজ, জনাব মোঃ খোরশেদ আলম, স্বত্বাধিকারী, তাজ রেডি ফিডস, জনাব মোহাম্মাদ শাহ্ একরাম, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স একরাম এন্ড ব্রাদার্স।