৮:৪৬ পূর্বাহ্ন

বুধবার, ১৮ মার্চ , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ১১:৩৭ অপরাহ্ন
৫০০ টাকার লোভে সেজেছে কৃষক!
কৃষি বিভাগ

প্রতি কৃষককে ২শ গ্রাম করে পাটবীজ দেওয়া হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। আর দেড় মাস পর সেই পাট বীজ জমিতে ফেলে কীভাবে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করা যাবে সেই কায়দা শেখানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে। এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে উপজেলা পাঠ উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়।

আজ সকাল ১১টার দিকে প্রশিক্ষণস্থল উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে কৃষকের বেশে অনেকেই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। প্রশিক্ষণ গ্রহীতার তালিকায় উপজেলার সরকারি কার্যালয়ের অফিস সহায়কের নামও রয়েছেন।

উপজেলা পর্যায়ের একটি সরকারি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো.জামাল উদ্দিন ও আবু বক্কর সিদ্দিকের নামও প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জামাল উদ্দিন জানান, তিনি ময়মনসিংহ সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। নান্দাইলে চাকরি করেন। তিনি পাট বীজ পাননি। তবে তার নামটি একদিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

দেড় মাস আগে বীজ প্রদান করার পর এখন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে বীজ উৎপাদনকারীদের কী লাভ হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা পাট উন্নয়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টির জন্য কৃষকরা জমিতে বীজ ফেলতে পারেননি। তাছাড়া যথাসময়ে অর্থ বরাদ্দ না আসায় প্রশিক্ষণ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। কৃষক পরিচয়ে অন্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই চাইলে আগামীতে আপনাদেরও রাখা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোট প্রশিক্ষণার্থী ১০০ জন। প্রতিজনকে ৫শ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছে। এই টাকা পেতে কৃষক ছাড়াও সাধারণ লোকজনেরও নাম ওঠানো হয় তালিকায়। আনেছা বেগম নামে এক নারী এসেছেন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের তারাপাশা থেকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সদরে আইছলাম। এক নেকা কইলো এইনো থাকলে ৫শ টেহা পাওয়া যাইবো, তাই…। এখানে কি হবে জানতে চাইলে বলেন, মনে অয় গরুরে কিবায় খাওয়াইবো এইডা শিহাইবো।’ -কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ৮:২০ অপরাহ্ন
চট্টগ্রামে প্রতিটি ওয়ার্ডে বাগান স্থাপন করা হবে: চসিক মেয়র
কৃষি বিভাগ

চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক সম্পর্কে পরিপূর্ণ হলেও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে মুক্ত নয়। মানব সৃষ্ট ও প্রকৃতি সৃষ্ট বিপর্যয়ের অন্যতম ঝুঁকিতে আছে। যার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের দিক দিয়ে চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষের অন্যতম পেশা কৃষি হলেও চট্টগ্রাম খাদ্যঘাটতি এলাকা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খাদ্য আমদানি করতে ঘাটতি পূরণ করতে হয়। সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ডে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও খাদ্য-পুষ্টির জোগান এখনো নিশ্চিত হয়নি।

রোববার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নগরে খাদ্য নিরাপত্তা ও নগর-কৃষি’ শীর্ষক এক বিভাগীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে আধুনিক পরিচ্ছন্ন, সবুজ নগরীতে পরিণত করতে নগরবাসী, বিশেষ করে সচেতন নাগরিকদের আরও বেশি এগিয়ে আসতে হবে। নগরীর প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিত্যক্ত এলাকায় বাগান, ছাদবাগান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার জন্য মাঠ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যারা ছাদবাগান ও নগর কৃষিতে জড়িত হবে তাদেরকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে আইএসডিই বাংলাদেশ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম, পার্টিসিপেটরি অ্যাকশন রিসার্চ নেটওয়ার্ক(প্রাণ) ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি)-বাংলাদেশ আয়োজিত এ বিভাগীয় পরামর্শ সভা সঞ্চালনা করেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন প্যানেল মেয়র আফরোজা কালাম, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ রেয়াজুল হক, কৃষি সম্প্রসরাণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হুদা, কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম হারুনর রশিদ, চট্টগ্রাম ডায়বেটিক জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক পুস্টিবিদ হাসিনা আকতার লিপি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, সাবেক সরকারী কর্মকর্তা কৃষিবিদ সরওয়ার কামাল, পরিবেশবিদ মুক্তিযোদ্ধা ডঃ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব খালেদ মাহমুদ ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ডেপুটি ব্যবস্থাপক অমিত রঞ্জন দে বিশেষ অতিথি ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নেন দক্ষিন জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহেনা বেগম রানু, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য রেহেনা আকতার, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকতা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর অধ্যাপক নেছার আহমদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রোমানা আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক একরাম উদ্দীন, জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী, এডাব চট্টগ্রামের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, বনফুলের নির্বাহী পরিচালক রেজিয়া বেগম, নারী নেত্রী ঝর্না বড়ুয়া, বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সভাপতি জন্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব নেতা মোহাম্মদ জানে আলম, সেলিম জাহাঙ্গীর, হারুন গফুর ভুইয়া, সুচিত্রা গুহ টুম্পা প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রশিকার সহকারী পরিচালক অজয় মিত্র শংকু।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ সবুজায়ন ও বন থাকার কথা থাকলেও ইট-পাথরের ঢেকে যাচ্ছে পুরো দেশ। সেকারণে পুরো দেশজুেড় উত্তপ্ততা বাড়ছে। এছাড়াও প্রতিনিয়তই খাদ্যের দাম সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, দাম বৃদ্ধি নিয়ে সীমিত আয়ের মানুষের উৎকন্ঠা বাড়ছে। এছাড়াও নিরাপদ খাবার নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার শেষ নেই। করোনার কারনে একটি শ্রেণীর মানুষের আয় কমায় নিত্যখাদ্য পণ্য নিয়ে মানুষ দুশ্চিন্তায় থাকেন এবং অনেক মানুষকে একবেলা না খেয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়া দেশ খাদ্য নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও চট্টগ্রামে খাদ্য ঘাটতি লেগেই আছে। নগর-কৃষির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা গেলে এই খাদ্য ঘাটতি কমনো ও একই সাথে নিরাপদ খাদ্যের যোগান ও নিশ্চিত করা সম্ভব হতো বলে মত প্রকাশ করা হয়।

বিভাগীয় পরামর্শ সভায় বক্তারা নগর-কৃষি প্রবর্তন ও উন্নয়নে নীতিমালা, কর্মপরিকল্পনা ও গাইডলাইন তৈরি, নগর-কৃষিকে উৎসাহিত করার জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স রেয়াতসহ অন্যান্য প্রণোদনা প্রদান, নতুন ভবন তৈরির নীতিমালায় ছাদ কৃষি বাধ্যতামূলক করা, সিটি করপোরেশনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নগর কৃষির জন্য সিটি করপোরেশনের পৃথক বাজেট বরাদ্দ করা, মহানগরীতে নগরকৃষি নার্সারি স্থাপন করা, নাগরিকদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে ব্যাপক প্রচারাভিযান পরিচালনা এবং নগর-কৃষির সম্প্রসারণে পৃথক নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে পৃথক তদারকি সেল গঠন করার দাবি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ১২:০৩ অপরাহ্ন
২৫০ উপজেলার কৃষকের আমন ধান কেনা হবে অ্যাপে
কৃষি বিভাগ

চলতি আমন মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫০টি উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার।

এ জন্য কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন ও ধান বিক্রির আবেদন নিতে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ঢাকা, খুলনা, রংপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন আমন, ২০২১-২২, মৌসুমে দেশব্যাপী ২৫০টি নির্বাচিত উপজেলায় পাইলট আকারে ‘কৃষকের অ্যাপ’ বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন ও ধান বিক্রয়ের আবেদন গ্রহণের সময়সীমা আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন ও ধান বিক্রয়ের আবেদন ও নিবন্ধনের সময়সীমা সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বহুল প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।

নির্দেশনাগুলো হলো-
১. নির্বাচিত উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ধান ক্রয় কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে।

২. প্রশিক্ষণ সিডিউল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব ইউএনও/উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ খাদ্য অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট মনোনীত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জুমের মাধ্যমে ভার্চুয়াল কর্মশালায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

৩. খাদ্য অধিদপ্তরের ওয়েবেসাইটের নিচের অংশে সংযোজিত ‘ফটো এবং ভিডিও বক্স’ থেকে ‘গাইড লাইন কৃষকের অ্যাপ’ থেকে ভিডিও টিউটোরিয়াল ডাউনলোড করে অ্যাপ ব্যবহার সম্পর্কে ইউএনও/উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করতে হবে।

৪. কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেট ও তৈরিকৃত অডিও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এবং টিভিসি (ভিডিও) ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় প্রচার করতে হবে।

৫. প্রস্তুতকৃত পোস্টার উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থান, বাজার, মসজিদের প্রধান ফটকের বিপরীতে এবং দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে সেঁটে দিতে হবে।

৬. প্রস্তুতকৃত লিফলেট জনসমাগম হয় এমন স্থানে, যেমন- মসজিদ, স্থানীয় বাজারের দিন, চায়ের দোকানে বিতরণ করতে হবে।

৭. প্রস্তুতকৃত লিফলেট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

৮. উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে প্রস্তুতকৃত লিফলেট বিতরণ করতে হবে।

৯. কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য তৈরিকৃত অডিও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসমাগম স্থানে প্রচার করা করতে হবে।

১০. প্রস্তুতকৃত লিফলেট জেলা/উপজেলার ওয়েব পোর্টালে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১১. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টার/লিফলেট প্রকাশ করে প্রচার করতে হবে।

১২. স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সভা করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার, মহিলা মেম্বার, ইউডিসি উদ্যোক্তাদের অবহিত করতে হবে।

১৩. ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তার মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন উৎসাহিত করতে হবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
বিঘা প্রতি পাট চাষে কৃষকের দ্বিগুণ লাভ
কৃষি বিভাগ

মৌসুমের শুরুতেই সোনালি আঁশ পাটের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কুমিল্লার কৃষক পরিবার। সব শঙ্কা কাটিয়ে এবার হাসি ফুটেছে পাট চাষিদের মুখে। এ কারণে তারা রয়েছেন খোশমেজাজে।

জেলা কৃষি বিপণন অফিস সূত্র জানা যায়, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি বছরে পাটে সর্বোচ্চ মুনাফা ঘরে তুলতে পেরেছেন চাষিরা। বিঘা প্রতি পাট চাষে এবার কৃষকের দ্বিগুণ লাভ হয়েছে।

পাটের উৎপাদন খরচ নির্ণয়ে দেখা গেছে, এক বিঘা বা ৩৩ শতক জমিতে পাট উৎপাদন করতে কৃষকের ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। গড় উৎপাদন বিঘাপ্রতি ১২ মণ হওয়ায় এবং মূল্য বেশি পাওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাভ হয়েছে চাষিদের। বর্তমানে বাজারে ২ হাজার ৩শ’ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে। কুমিল্লার বেশ ক’য়েকজন চাষির সাথে কথা বলে জানা যায়, পাট চাষে দাম ভালো হওয়ায় লাভের দেখা মিলছে বিধায় আবার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে পাঠ চাষে।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর পাটের ফলন হয়েছে আশানারুপ। দামও ভালো মিলছে। কুমিল্লার পাটচাষি শাহজাহান বাসসকে জানান, এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। সেখান থেকে ১০ মণ পাটের ফলন পেয়েছেন।

তিনি জানান, বাজারে তুলে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৫শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এছাড়াও পাটকাঠি বিক্রি করেছেন ৬ হাজার টাকা। শাহজাহান বলেন, সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্ভাবনাময় ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম মাধ্যম কৃষির এ খাতটির দিকে সরকার বিশেষ নজর দেয়ায় হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসছে। পাট উৎপাদন বেশী হওয়ায় পাটকলগুলো সহজে পর্যাপ্ত পাট হাতে পাচ্ছে। জুট মিলের উৎপাদিত চট, সুতা, কার্পেট ও বস্তা রফতানী করে যথেষ্ট সুগম হয়েছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩১, ২০২১ ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন
খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত কুমিল্লার গাছিরা
কৃষি বিভাগ

কুমিল্লা জেলায় কয়েক দিন ধরে শীত পড়তে শুরু করেছে। আর শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস আহরণে কুমিল্লার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে গাছিরা গাছ প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। যারা খেজুরের রস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে গাছ কাটায় পারদর্শী স্থানীয় ভাষায় তাদেরকে গাছি বলা হয়।

এ গাছিরা হাতে দা নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচাছোলা ও নলি বসানোর কাজ শুরু করেছেন। শীত মৌসুম এলেই কুমিল্লার সর্বত্র শীত উদযাপনের নতুন আয়োজন শুরু হয়। খেজুরের রস আহরণ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ এলাকার গাছিরা। তাদের মুখে ফুটে ওঠে রসালো হাসি।

শীতের দিন মানেই গ্রামাঞ্চলে খেজুর রস ও নলেন গুড়ের ম-ম গন্ধ। শীতের সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে বোঝানো যায় না। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েসতো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামাঞ্চলে খেজুর রসের ক্ষির, পায়েস ও পিঠে খাওয়ার ধুম পড়ে যায়।

প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িতে খেজুর রসের তৈরি খাদ্যের আয়োজন চলে। শীতের সকালে বাড়ির উঠানে বসে সূর্যের তাপ নিতে নিতে খেজুরের মিষ্টি রস যে পান করেছে, তার স্বাদ কোনো দিন সে ভুলতে পারবে না। শুধু খেজুরের রসই নয় এর থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু পাটালি, গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার। খেজুর গুড় বাঙালির সংস্কৃতিক একটা অঙ্গ। নলেন গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায় না।

স্থানীয়রা বলছেন, আর মাত্র কয়েক দিন পরই গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হবে। রস থেকে গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় মাঘ মাস পর্যন্ত। হেমন্তের প্রথমে বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করবে সুস্বাদু খেজুরের পাটালি ও গুড়। অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুরের গাছের কদর এখন অনেক বেশি।

বরুড়া উপজেলার আড্ডা গ্রামের কামরুজ্জামান জনি জানান, খেজুর গাছের রস হতে উৎপাদিত গুড় দেশের বিভিন্ন স্থানে চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে জানান, কুমিল্লায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক রস প্রদানকারী খেজুর গাছ রয়েছে, সেখান থেকে গাছিরা খেজুর রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন তৈরি করে নিকটস্থ বাজারে বিক্রয় করে আর্থিকভাবে লাভবান হয় বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ৩০, ২০২১ ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
উপকারী সবজি হিসেবে কদর বেড়েছে কলার মোচার
কৃষি বিভাগ

উপকারী সবজি হিসেবে বেশ কদর রয়েছে কলার মোচার। অনেকের পছন্দের খাবার তালিকায় আয়রণ সমৃদ্ধ সবজি হিসেবে উল্লেখযোগ্য এটি। উৎপাদিত কলাবাগান ছাড়াও দেশের উত্তর জনপদসমূহের প্রায় বাসা বাড়ির পাশে আনাচে কানাচে কলাগাছ চোখে পড়ে।

কলাগাছ বেড়ে ওঠার ৮ থেকে ১০ মাসের মধ্যে গাছের আগায় মোচার বাদাড় দেখা দেয়। মোচা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠার সাথে সাথে এর চারপাশ ঘিরে কলা গজাতে থাকে। এসময় কলার পিড় পরিপুর্ণ হওয়ার আগে মোচা খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠে।

বিশেষ করে সাগর কলা, কাচা কলা ও মালভোগ কলাগাছ থেকে মোচার ফলন খুব ভাল। স্থান ভেদে প্রায় সব ঋতুতেই কলার মোচা পাওয়া যায়।

গ্রাম কিংবা শহরের হাট বাজারগুলোতেও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি স্বল্প দামে কলার মোচা বিক্রি হতে দেখা যায়। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, রোগ প্রতিরোধসহ কলার মোচার রয়েছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৯, ২০২১ ৬:১৩ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ব্রি-ধান ৮৭ চাষে সফলতা পেয়েছে কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ব্রি-ধান ৮৭ চাষে সফলতা পেয়েছে কৃষকরা

করোনার এই সময়ে বন্যা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা দেশের মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। প্রকৃতির এই বৈরীতায় আক্রান্ত হয়েছে দেশের কৃষি ও কৃষক

এরপরেও কম সময়ে, অধিক ফলন পেতে কম খরচে আগাম জাতের ব্রি ধান-৮৭ চাষ করে সফসলতা পেয়েছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর কৃষকরা। এই আগাম জাতের ধানের প্রদর্শনী প্লটে সোনালী শীষের দোলায় কৃষকের চোখে নতুন স্বপ্নের ঝিলিক। এই নতুন জাতের ধানে হাসি ফুটিয়েছে কৃষকের মুখে।

জানা যায়, ব্রি ধান-৮৭ আগাম জাতের ধানে ভরে গেছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। প্রদর্শনী প্লটের উদ্যোক্তা কৃষকরা মনে করেন এই জাতের ধান চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে পাল্টে যেতে পারে দেশের কৃষি অর্থনীতি। পাশাপাশি কৃষকের অবস্থারও পরিবর্তন হবে। এ বছর ধনবাড়ী উপজেলায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বোরো-পতিত-রোপা আমন, শস্য বিন্যাসে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান ৭৫ এবং ৮৭সহ আগাম জাতের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগ বাস্তবায়িত প্রদর্শনী প্লটের ধান বৃহস্পতিবার কর্তন শুরু হয়। কর্তনকৃত এ ধান বিঘা প্রতি কৃষকরা পাচ্ছে ২২ থেকে ২৬ মণ হারে। আগাম জাতের ধান হওয়ায় প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৮শত থেকে ৯শত টাকা দরে। অপরদিকে বিঘা প্রতি ধানের খড় বিক্রয় হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনা খাতুন জানান, ধনবাড়ীতে বোরো-পতিত-রোপা আমন, শস্যবিন্যাস প্রায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এ শস্যবিন্যাসের উন্নয়নের জন্য প্রথমত বোরো এবং রোপা আমন ধানের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ করে কৃষক লাভবান হতে পারে। সরিষা কেন যুক্ত করা হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোজ্য তেলের জন্য আমরা পরনির্ভশীল। প্রতি বছর প্রায় ২.৩ থেকে ২.৪ মিলিয়ন টন ভোজ্য তেল আমাদের আমদানি করতে হয়। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। বোরো-পতিত-রোপা আমন, শস্য বিন্যাসে সরিষা অন্তভুক্তি করতে পারলে ২.৬০ মিলিয়ন টন সরিষা উৎপাদন সম্ভব। যা থেকে বছরে ১.০৪ মিলিয়ন টন সরিষার তেল পাওয়া যেতে পারে। এ উদ্দ্যেশকে সামনে রেখে ধনবাড়ী উপজেলায় বিদ্যমান বোরো-পতিত-রোপাআমন শস্যবিন্যাসে স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন বারি সরিষা-১৪ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালক শাহজাহান কবীর জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগ প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে শস্যবিন্যাসের উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে নিবিড়ভাবে কাজ করে আসছে।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমারা যদি সরিষা-বোরো-রোপা আমন উন্নত শস্যবিন্যাস পদ্ধতি অনুসরণ করি তাহলে প্রচলিত শস্য বিন্যাসের তুলনায় উৎপাদনশীলতা প্রায় ৫৬ ভাগ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে আমন এবং বোরো উভয় মৌসুমে ধানের ফলন বাড়বে এবং কৃষক লাভবান হবে। এতে করে কৃষি অথিনীতির চাঙ্গা হবে। আমি কিছু দিন আগে নিজ বাড়ী মুশুদ্দি গ্রামে গিয়েছিলাম। এ সময় ধান গবেষণার উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান ৭৫ ও ৮৭ আবাদ দেখে আমার বুক ভরে গেছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৯, ২০২১ ২:২৫ অপরাহ্ন
সালথায় ১০ একর জমিতে তোষা নাবী পাটের পরীক্ষামূলক আবাদ
কৃষি বিভাগ

নাবী পাটের বীজ উৎপাদনের লক্ষে এই প্রথম ফরিদপুরের সালথায় পরীক্ষামূলকভাবে ১০ একর জমিতে বীজে আরআই-৮ তুষা জাতের নাবী পাটের আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে পাটের পরিচর্যার কাজ চলছে। পাট গাছ দ্রুত বাড়ছে। পাট চাষের শুরুতেই বীজের ফলন ভালো হবে।

পাট চাষিরা জানান, সালথা উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে এই প্রথম বীজের জন্য পাটের আবাদ করা হয়েছে। অফিস থেকে চাষীদের বীজ ও সার দিয়েছে। বর্তমানে পাটের পরিচর্যা চলছে। আশা করি বীজের ভালো ফলন হবে।

উপজেলা উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, সালথা উপজেলায় এই প্রথম বিজেআরআই-৮ তোষা নাবী পাটবীজ পররীক্ষামুলক করা হয়েছে। তালিকা

ভুক্ত চাষীদের প্রণোদনা হিসাবে বীজ সার কীটনাশক এবং স্প্রে মেশিন বিনামূল্যে বিতরন করা হয়েছে।এছাড়া প্রতিনিয়ত পরামর্শ প্রদান এবং প্লেট পরিদর্শন করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৯, ২০২১ ২:০৮ অপরাহ্ন
চুইঝাল চাষে স্বপ্ন দেখছে মণিরামপুরের ৭০০ তরুণ
কৃষি বিভাগ

চুঁইঝাল রোপণ করে ব্যবসা ও জীবন ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সাত গ্রামের ৭০০ তরুণ ও যুবক। সমবায়ের ভিত্তিতে তারা এক হয়ে গঠন করেছেন খানপুর চুইঝাল প্রজেক্ট।

খানপুর চুইঝাল প্রজেক্ট এর আওতায় মণিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ও ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়নের চার গ্রামে ১০০০০ গাছে চাষ করা হয়েছে চুইঝাল। আরো তিন গ্রামে চলছে চারা রোপণের তোড়জোড়। তিন বছর পর এই চুইঝাল বিক্রির উপযোগি হলে প্রতিটি গাছ গড়ে পাইকারি বিক্রি হবে অন্তত: ২০০০ টাকায়।

উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য আগামি ছয় বছরে এই সাতটি গ্রামের কয়েক লাখ গাছের প্রতিটিতে জড়িয়ে থাকবে চুঁইঝালের লতা। চুঁইঝাল প্রকল্পে এই তরুণ ও যুবকদের একত্রিত করেছেন উদ্যোমী তরুণ মাসুদুর রহমান সবুজ।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে চুইঝালের চাষ হলেও দেশে সমবায় ভিত্তিতে এই লতা ঝালটির চাষ তাদের জানা মতে প্রথম। চুইঝাল মসলা জাতীয় উদ্ভিদ। চুইঝাল গাছ দেখতে পানের লতার মতো। পাতা কিছুটা লম্বা ও পুরু। এর কান্ড বা লতা কেটে ছোট টুকরা করে মাছ-মাংস, ছোলা বা ডাল রান্নায় ব্যবহার করা হয়। রান্নার পর এর টুকরা চুষে বা চিবিয়েও খাওয়া যায়।
মাংস রান্নায় চুইঝালের ব্যবহার বেশি।

এটি মাংসের তরকারিতে আনে বিশেষ স্বাদ। নামে ‘চুইঝাল’ হলেও এটি খেতে খুব বেশি ঝাল নয়। চুইঝালের কিছু ঔষধি গুণের কথাও বলা হয়। আগে মূলত যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা এলাকায় এর ব্যবহার হলেও প্রচারমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে চুইঝালের কথা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদাও। বাজারে চুইঝাল আকৃতি ভেদে ৩০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

মণিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের নিভৃত, মনোরম সবুজে ছাওয়া একটি গ্রাম মুন্সি খানপুর। এই গ্রামের হাজি আনসার মোড়লের ছেলে মাসুদুর রহমান সবুজ। তার বাড়িতে দেখা যায়, আশপাশের বেশির ভাগ গাছেই বেয়ে উঠেছে চুইঝালের লতা।

চুঁই ঝাঁলের প্রজেক্ট উদ্যোক্তা মাসুদুর রহমান সবুজ বলেন, ‘সাতটি গ্রাম নিয়ে এই প্রজেক্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এরই মধ্যে মুন্সি খানপুর, লাউড়ি, সুন্দলপুর ও জামলা—এই চার গ্রামের ১০ হাজার গাছের গোড়ায় চুইঝালের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। প্রজেক্টের বাকি তিনটি গ্রাম তেঘরি, ধলিগাতি ও গোবিন্দপুরে চারা রোপণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবুল হাসান বললেন, মাসুদুর রহমান সবুজ উপজেলার একজন উদ্যোগী তরুণ কৃষক। সবুজের খানপুর চুই প্রজেক্ট ছাড়া দেশে অন্য কোথাও চুইঝাল সমবায় ভিত্তিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। এমন সমবায় ভিত্তিতে চুই চাষ দেখে অন্য এলাকার বেকার বা কৃষক তরুণ-যুবকরাও এতে উৎসাহী হবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ২৮, ২০২১ ২:৪১ অপরাহ্ন
অধিক লাভজনক হওয়ায় মুজিবনগরে বাড়ছে শসার চাষ
কৃষি বিভাগ

চাহিদা এবং লাভ বেশী হওয়ায় মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে শসা চাষে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে প্রায় প্রত্যেক মাঠেই কমবেশি শসা চাষ হচ্ছে। মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে উপজেলার ১’শ ৪০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে।

মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের আনন্দবাস গ্রামের কৃষক আজাদ মোড়ল জানান- বেশ কয়েক বছর জমিতে শসা চাষ করছেন। বাজারে শসার ব্যাপক চাহিদা এবং লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছেন। সাড়ে তিন মাসে শসা বিক্রির উপযোগী হয়। জমি তৈরি করে বীজ লাগানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই চারা গজিয়ে যায় বলে তিনি জানান। এরপর পরিচর্যা, সেচ, সার ও মাচা করতে হয়। দেড় মাস পর ফুল-ফল আসা শুরু করে। বিঘাপ্রতি প্রতিদিন ১৬০/২০০ কেজি করে শসা তোলা যায়। বিঘাপ্রতি শসা চাষে খরচ হয় ৩০-৪০ হাজার টাকা। এবার ৫ বিঘা জমিতে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকার শসা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

বাগোয়ান গ্রামের শসা চাষি নায়েব আলী জানান- প্রতিবছরের ন্যয় এবারও তিনি ছয় বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনু ক’লে থাকলে বিঘাপ্রতি ৭০-৮০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করবেন বলে তিনি আশাবাদি। শসাচাষ শেষে ওই জমিতেই রবিশস্য হিসেবে গম, মশুরি, মাসকলাই চাষ করবেন বলে জানান।

মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর, বিশ্বনাথপুর, কোমরপুর, মহাজনপুর, বাবুপুর, আনন্দবাস, রশিকপুর, দারিয়াপুর, গৌরীনগর, যতারপুর, গোপালপুরসহ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীর কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখানকার শসা রপ্তানি করা হচ্ছে।

মুজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান খাঁন জানান- চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শসার ভাল ফলন হয়েছে। বাজারে শসার চাহিদা থাকায় চাষিরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। শসাসহ নিরাপদ ও বিষমুক্ত বিভিন্ন সবজি চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop