১২:৫১ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ২০, ২০২১ ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
টানা বৃষ্টিতে মণিরামপুরে ফসলের ক্ষতির আংশঙ্কা
কৃষি বিভাগ

টানা চারদিনের বৃষ্টিতে যশোরের মণিরামপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষকেরা। গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। থেমে থেমে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মণিরামপুরের রাজগঞ্জ অঞ্চলের চাষ হওয়া সবজি ও আমন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টৌবর) সকালে এ অঞ্চলের কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, আমনের ধান বের হয়েছে, এই মুহূর্তে ব্যাপক বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে কিছু কিছু ক্ষেতের আমন ধানের গাছ ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে।

এ নিয়ে কৃষকরা বেশ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। শীতকালীন সবজির বীজের জন্য তৈরিকৃত বীজতলা ব্যাপক ক্ষতির মুখে রয়েছে। ইতিমধ্যে রাজগঞ্জের রামপুর-শাহপুরের বিশাল মাঠে কৃষকেরা বপণ করেছেন বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, লালশাক, পালনশাক, মূলা, লাউ, শিমসহ বিভিন্ন রকমের সবজি। এসব জমির মাটি ভিজে কিংবা পানি জমে থাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করছে তারা।

শাহপুর গ্রামের চাষি আবুল কালাম (৪৫) জানান, গত চারদিন ধরে অঝরে বৃষ্টির কারণে আমার প্রায় ৩ বিঘা জমিতে শীতকালিন সবজি চাষের জন্য তৈরি করা জমি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি ও টমেটার বীজতলায় পচন রোগ দেখা দিয়েছে। এই বীজতলায় পচন রোগ ঠেকাতে এখন ছত্রাক কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এছাড়া এই অঞ্চলে বেগুন, কাঁচা মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, টানা বৃষ্টিতে সবজির বীজতলা ও রোপণকৃত শাক সবজির ক্ষতি আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়াও আমন ধান যা পেকে গেছে, সেই ধান পড়ে গেছে। এইগুলোর কিছু ক্ষতি হবে। আমরা মাঠে মাঠে যেয়ে কৃষকদের সাথে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি এবং পরামর্শ দিচ্ছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২১ ৭:০৭ অপরাহ্ন
সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল লিটারে ৭ টাকা
কৃষি বিভাগ

সয়াবিন তেলের দাম আবারও বাড়ল। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে দেশে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে এক লাফে ৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতি।

এখন থেকে খুচরায় বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকায় বিক্রি হবে। আগের দর ছিল ১৫৩ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও অপরিশোধিত পাম তেলের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তেলের এই দাম নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া পাঁচ লিটারের এক বোতল তেল পাওয়া যাবে ৭৬০ টাকায়, যা এত দিন ৭২৮ টাকা ছিল। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৩৬ টাকা ও বোতলজাত পাম সুপার তেল ১১৮ টাকা দরে কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২১ ৭:০২ অপরাহ্ন
বরিশালে নিরাপদ পান ও আমড়ার উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ
কৃষি বিভাগ

নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালে পান ও আমড়া ফসলের পোকামাকড় সনাক্তকরণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ উৎপাদন প্রযুক্তি শীর্ষক এক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রহমতপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে (আরএআরএস’র) বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে চাষকৃত গুরুত্বপূর্ণ ফল, পান, সুপারি ও ডাল ফসলের পোকামাকড় সনাক্তকরণ ও সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিস্তার কর্মসূিচ’ এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (আইন অধিশাখা) মো. আলী আকবর।

ভাসমান কৃষি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আরএআরএস’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম কিবরিয়া। অনুষ্ঠানের মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর্মসূচি পরিচালক ড. মো. মাহবুবুর রহমান।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম সঞ্চালনায় অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রফিকুল ইসলাম, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রাজিউদ্দিন, এসও মো. মাহবুবুর রহমান, এসও স্মতি হাসনা, কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক, উজিপুরের পান চাষি মো. ফারুক হোসেন, কৃষাণী শিল্পী রাণী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, কৃষিতে এখন বানিজ্যিকীকরণ দরকার। সে সাথে প্রয়োজন নিরাপদ খাবারের উৎপাদন বাড়ানো। এ জন্য ফসলের রোগপোকা দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে দিতে হবে জৈব বালাইনাশক। এতে কৃষকের যেমন উন্নয়ন হবে, পাশাপাশি হবে দেশেরও লাভ।

পরে প্রধান অতিথি কৃষকদের মাঝে পেয়ারা, আমড়া ও সুপারির ৬০০ টি চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেন। প্রশিক্ষণে বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, উজিরপুর ও ঝালকাঠি সদরের ৩০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

 

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২১ ৪:৫৩ অপরাহ্ন
লেবু জাতীয় ফসল বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষক কৃষাণীর প্রশিক্ষণ
কৃষি বিভাগ

এম আই হোসেন, পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ পোরশা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিসে কৃষক কৃষাণীদের লেবু জাতীয় ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করতে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিন পোরশার বিভিন্ন জায়গায় লেবুজাতীয় ফসল উৎপাদনের পরীক্ষার পর জানা যায় এই মাটিতে উন্নত লেবুজাতীয় ফসল ভালো হবে।

এ লক্ষ্যে সোমবার(১৮ অক্টোবর) ৩ ইউনিয়নের কৃষক /কৃষাণীদের উক্ত ফসল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধকরণে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

এলাকার প্রদর্শনী থেকে লেবু জাতীয় ফসল পরীক্ষা করে দেখা যায় মালটা/ কমলা লেবু বাম্পার ফসল হচ্ছে এবং খেতেও মিষ্টি।

এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ফলের চাহিদা বেড়েছে বলে পোরশা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সঞ্জয় কুমার সরকার ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রশিক্ষণ চলাকালে এ কথা বলেন।

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ জন কৃষকদের মাঝে মালটা কমলা লেবু চারা, কৃষি উপকরণ, সার, কীটনাশক সহ একটি করে সাইনবোর্ড বিতরণ করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২১ ৩:০১ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ
কৃষি বিভাগ

ঠাকুরগাঁও জেলায় বেড়েছে আগাম শীতকালীন সবজির চাষ। এক মাসের মধ্যে কাঁচা বাজার সয়লাব হয়ে উঠবে সব ধরণের নতুন সবজিতে। শীতকালীন আগাম সবজি চাষের সাফল্য স্থানীয় পাচ্ছেন কৃষকেরা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমন আশা চাষি ও কৃষি বিভাগের। এবারও ব্যাপক সবজির আবাদ হয়েছে এই জেলায়। নিবিড় পরিচর্যা ও রোগ-বালাই দমনে ব্যস্ত সময় পার করছে সবজি চাষিরা।

জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার সবজি গ্রাম খ্যাত নারগুন, জগন্নাথপুর ও বেগুনবাড়ি এলাকায় এবারও কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে সবজির আবাদ করেছেন।

শীতকালীন সবজি মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, লাউ, টমেটো, লাল শাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে জেলার আশপাশ এলাকায়।

দিগন্ত জুড়ে এখন সবুজ ফসলের সমারোহ বেশি লাভের আশায় নিরন্তর শ্রম দিচ্ছে কৃষকরা। বেকার যুবকরা চাকরির দিকে না ঝুঁকে নেমে পড়েছে সবজি চাষে। শীতকালের সবজির ভালো দাম পাওয়ায় এবারও এ জেলায় প্রচুর পরিমাণে আগাম সবজির চাষ হয়েছে। তবে শুধু সদর উপজেলা নয়, জেলার রুহিয়া, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলায়ও প্রচুর আগাম সবজির আবাদ হয়েছে এবার।

ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষি বিভাগের মতে, এবার চলতি মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হবে ১লাখ ৮৭ হাজার টন শাক- সবজি। এর আগে এ জেলার গত শীতে ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছিল। আর সবজি পাওয়া গিয়েছিল তাতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২৯ টন সবজি। সেই হিসেবে বলা যায় এ জেলায় বিগত বছরের তুলনায় আগাম সবজির চাষ বেড়েছে অনেক গুণে। আগামীতে ও চাষ আরো বাড়বে বলে আশা কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের।

ঠাকুরগাঁও কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হোসেন জানান, এ অঞ্চলের সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশগুলোতে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কারিগরী সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আগাম শীতকালীন বাম্পার ফলন হবে।
আর বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় এবারও আগাম শীতকালীন সবজি চাষে লাভবান হবেন কৃষকরা এমন আশা এ কৃষি কর্মকর্তার।
কৃষি বিভাগ, কৃষক সংশ্লিষ্ট, ব্যবসায়ি দাবি সবজি সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করাসহ সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ অঞ্চলের কৃষকরা বিশেষ ভৃমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৯, ২০২১ ১:১৭ পূর্বাহ্ন
‘ফাতেমা ধানে’ বিঘায় ৫০ মণ ফলন!
কৃষি বিভাগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক কৃষকের চাষ করা ‘ফাতেমা’ জাতের ধান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর প্রতিটি শীষে পাওয়া গেছে প্রায় এক হাজারটি ধান। চলতি বছর নওগাঁয় দেড় বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে যা দেশে প্রচলিত জাতের ফলনের চেয়ে তিনগুণ বেশি। লাভজনক হওয়ায় তার মতো এলাকার অনেকেই এখন নতুন এ জাতের ধান চাষের জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের দোশতীনা গ্রামের সৌখিন কৃষক আশরাফুল ইসলাম বশির ওই ধান চাষ শুরু করেন। তিনি পেশায় নওগাঁ জজ কোর্টের একজন আইনজীবি।

একই সঙ্গে আধুনিক চাষাবাদে রয়েছে তার ব্যাপক আগ্রহ। গতানুগতিক কৃষির পরিবর্তে নতুন জাতের এ ধান উৎপাদনে তিনি সাফল্য পেয়েছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এত অধিক ফলনশীল জাতের ধান দেশের আর কোথাও আছে বলে তাদের জানা নেই। ‘ফাতেমা’ জাতের এই ধান কোন জাতের এবং কোথা থেকে কিভাবে এলো এসব জানতে গবেষণার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট।

দেখতে ব্রি-২৮ ধানের মতো এর জাতের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বশির জানান, অন্য ধানের মতোই এ ধানের চাষ পদ্ধতি। আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই এ ধানের চাষ করা যায়। তবে বোরো মৌসুমে এর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। গাছের উচ্চতা প্রায় ৫ ফিট যা অন্য ধানের তুলনায় বেশি। গাছগুলো শক্ত হওয়ায় হেলে পড়ে না। আর এক একটি ধানের শীষে ৭৫০-১০০০টি করে ধান হয়। সাধারণ ধানের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। ফলে এর উৎপাদনও অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে তিনি দেড় বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫ মণ ধান পেয়েছেন। এ ধানে রোগ ও পোকামাকড়ের হার তুলনামূলক কম। এছাড়া চাল খুব চিকন ও ভাতও খেতে খুব সুস্বাদু।

তিনি জানান, বীজপাতা তৈরি করার পর ১৫০ থেকে ১৫৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা যায়। এই ধান ঝড়, খড়া এবং লবণাক্ততা সহনীয়। ওই জাতের প্রতিটি ধানগাছের দৈর্ঘ্য ১১৫ থেকে ১৩০ সেন্টিমিটার, গুছি গড়ে আটটি, প্রতিটি ধানের ছড়ার দৈর্ঘ্য ৩৬ সেন্টিমিটার, গড়ে দানার সংখ্যা এক হাজারের ওপরে।

জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামে লেবুয়াত শেখ (৪০) নিজেদের জমিতে ২০১৬ সালে প্রথম ওই ধান চাষ করেন। ওই বছর বোরো মৌসুমে তার বাড়ির পাশে জমিতে হাইব্রিড আফতাব-৫ জাতের ধান কাটার সময় তিনটি ভিন্ন জাতের ধানের শীষ তিনি দেখতে পান। ওই তিনটি শীষ অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বড় এবং শীষে ধানের দানার পরিমাণও অনেক বেশি ছিল। এরপর ওই ধানের শীষ তিনটি বাড়িতে এনে শুকিয়ে বীজ হিসেবে ব্যবহার করে এ ধান চাষ শুরু করেন। তিনি তার মায়ের নামানুসারে নাম না জানা এই ধানের নাম রাখেন ‘ফাতেমা ধান’।

বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষক লিটন, রঞ্জু, মামুন, আতাব আলী জানান, অনেক ফলন হচ্ছে শুনে তারা কৃষক বশিরের এ ধান দেখতে এসেছেন এবং তার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করেছেন। আগামীতে তারা এ ধান চাষ করবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সামসুল ওয়াদুদ বলেন, ওই ধানের ফলন শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্বকে তাক লাগাতে পারে। এত বেশি ফলন পাওয়া যায়, এমন কোনো জাতের ধান দেশে আছে বলে আমার জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, এই ধান খড়া ও লবণ সহ্যকারী এবং সারাদেশে চাষের উপযোগী। মনে হচ্ছে, সারা দেশে ওই ধান চাষ করা যাবে। এই ধান যদি সারা দেশে চাষ করা যায় তাহলে বার্ষিক উৎপাদন পাঁচ কোটি টন ছাড়িয়ে যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২১ ৬:৪৭ অপরাহ্ন
শেখ রাসেলের হত্যাকারীরা পশুতুল্য ও নর্দমার কীট: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের হত্যাকারীদের পশুতুল্য ও নর্দমার কীট বলে অভিহিত করেছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত শেখ রাসেল দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শেখ রাসেলের মতো নিষ্পাপ শিশুকে যারা অত্যন্ত নির্মম-নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল, তারা মানুষ না, তারা হলো নর্দমার কীট ও পশুতুল্য। আজকে শেখ রাসেল দিবসে আমাদের সকলকে শপথ নিতে হবে ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে-এ রকম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে আর কখনো না ঘটতে পারে।

ধর্মের নামে অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিষয়ে সচেতন ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, মানবতার শত্রু, ধর্মান্ধ-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এখনো বাংলাদেশে তৎপর। এখনো তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে উন্নয়নের বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চায়। অতীতেও এই সাম্প্রদায়িক শক্তি বার বার বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর আঘাত করেছে ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে স্ব স্ব জায়গা থেকে সজাগ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, যারা সাম্প্রদায়িকতা লালন করে তাদের বঙ্গবন্ধু পশুতুল্য বলেছিলেন। এই অপশক্তি ও সংকীর্ণমনা পশুদের রুখতে হবে। যে কোনো মূল্যে এদের দেশের মাটি থেকে নির্মূল করতে হবে। শেখ রাসেল দিবসে এটিই হোক আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনাটি যড়যন্ত্র ও নীলনকশার বহিঃপ্রকাশ। হিন্দু ধর্মালম্বীদের কেউ তাদের দেবতার পায়ের নিচে পবিত্র কোরআন রাখবে- সুস্থ মস্তিষ্কের কেউই এ ঘটনাকে বিশ্বাস করবে না, করতে পারে না। একজন বেকুবও বুঝবে যে, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যড়যন্ত্রের অংশ। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে চোরাগলি পথে ক্ষমতায় আসতে চায়- তারাই এ কাজ করেছে। রংপুরে ও কুমিল্লার ঘটনায় জড়িত ও দোষীদের খুঁজে বের করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ওয়াহিদা আক্তার। অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, সাবেক মহাপরিচালক হামিদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে মন্ত্রী শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে কেক কাটেন এবং বিএআরসি চত্বরে তাল গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকালে বনানীতে শেখ রাসেলের সমাধিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২১ ৪:০৭ অপরাহ্ন
১১৪ দিনের মাথায় বিঘাপ্রতি ২২ মন ধান পেয়ে খুশি কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

পোকামাকড়ের বালাই নেই সুগন্ধি জাতের এমন ধান চাষের পরও জমিতে সরিষা লাগানোর সুযোগ থাকে। ফলে কৃষকরা ব্রি-৭৫ জাতের নতুন ধান চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। মাত্র ১১৪ দিনের মাথায় বিঘাপ্রতি ২২ মন ধান পেয়ে খুশি সাতক্ষীরার কৃষকরা।

কৃষকরা জানান এই ধানের চাল চিকন। এর ভাত হয় ঝরঝরে। আমরা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে ব্রি-ধান ৭৫ চাষ করেছি। উচ্চ ফলন এবং আরও কিছু সুবিধা হওয়ায় আমাদের দেখাদেখি অন্যান্য কৃষকও এতে আগ্রহী হয়েছেন।

কৃষক আবুল হোসেন, আবুল বাশার, সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন জানান, আমরা আগামী বছর আরও বেশি এলাকায় এই চাষ করতে চাই।

সাতক্ষীরার বেনেরপোতা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শেখ মফিজুল ইসলাম জানান, এ বছর সাতক্ষীরায় ২০০ বিঘা জমিতে ব্রি-ধান ৭৫-এর চাষ হয়েছে।

আমরা কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহ ছাড়াও অনেক সহায়তা দিয়েছি। মাঠ থেকে এই ধান কর্তন উপলক্ষ্যে সদর উপজেলার লাবসায় এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চাষিরা ব্রি-৭৫ জাতের সুগন্ধি ধান চাষে লাভবান বলে উল্লেখ করেছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২১ ৭:১৮ পূর্বাহ্ন
নীলফামারীতে কফি বাগান পরিদর্শনে কৃষি কর্মকর্তারা
কৃষি বিভাগ

নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় সম্ভাবনাময় কফি বাগান পরিদর্শন করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।রোববার বিকালে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছী গ্রামে তারা এ কফি বাগান পরিদর্শন করেন।

এ উপলক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদর উপজেলা কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মো. মশিউর রহমান।

জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক মো. আবু বক্কর ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক মো. মেহেদী মাসুদ, রংপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শষ্য) মো. আফজাল হোসেন ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান প্রমুখ।

জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, জেলায় ৪২ জন কফি চাষির ৬০ বিঘা জমিতে ১৫ হাজার চারা রোপন করা হয়েছে। রোপিত চারার মান ভালো হওয়ায় দু’বছরের মধ্যে ফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার নয়জন কফি চাষির মাঝে একটি করে বালাইনাশক স্প্রে মেশিন ও কফি গাছে পুষ্টি সরবরাহের জন্য ২৫০টি করে সিলভামিক্স ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এসব ট্যাবলেট গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা হলে টানা একবছর পুষ্টি সরবরাহ করতে পারবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২১ ১২:১৮ অপরাহ্ন
৫০ হাজার ইঁদুর মেরে পুরস্কার পেলেন কৃষক মহিবুর
কৃষি বিভাগ

কৃষক মো. মহিবুর রহমানকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এক বছরে ৫০ হাজার ৫‘শ ইঁদুর নিধন করায় পুরস্কৃত করা হয়েছে। ইঁদুর নিধনে মহিবুর আঞ্চলিক পর্যায়ে দ্বিতীয় এবং নরসিংদী জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কৃষক মহিবুর রহমানের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়া ৬১ হাজার ২৫০টি ইঁদুর নিধন করে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও ৫৫ হাজার ৭৮০টি ইঁদুর নিধন করে অঞ্চল পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় শিবপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামানের হাতেও সম্মাননা সনদ তুলে দেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান।

এ সময় নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইদুর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

ইঁদুর নিধনে কৃষক পর্যায়ে প্রথম হওয়া মো. মহিবুর রহমান জানান, ২০১৭-২০১৮ সালে তিন বিঘা জমিতে গম চাষ করেন। পুরো জমির ইঁদুর এসে তার গমক্ষেতে বাসা বাঁধে। ফলে তিনি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হন, মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ গম ঘরে তুলতে পেরেছেন। সেই থেকে জমির ফসল রক্ষায় তিনি ইঁদুর নিধন করে যাচ্ছেন। বর্তমানে নিজের জমি ছাড়াও অন্যান্য কৃষকের জমিইয়র ফাঁদ পেতে ইঁদুর নিধন করেন মহিবুর।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানান, একটি ইঁদুর দৈনিক খাবার খায় ২৭ গ্রাম। নষ্ট করে তার পাঁচগুণ। ইঁদুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে গম ও ভুট্টার। ইঁদুরের জন্য কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই ব্যাপক পরিসরে ইঁদুর নিধন করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop