১:৫৪ পূর্বাহ্ন

শুক্রবার, ১ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২১ ৯:৩১ পূর্বাহ্ন
ড্রাগন চাষের দিকে ঝুঁকছেন শেরপুরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

শেরপুর জেলায় ড্রাগন চাষের দিকে ঝুুঁকছে কৃষকরা। ড্রাগন চাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। ​ড্রাগন ফণি মনসা প্রজাতির উদ্ভিদ। এর ফুল রাতে ফোটে, তাই একে নাইট কুইনও বলা হয়।

জেলার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ড্রাগন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফল। দুই দশক ধরে আমাদের দেশে এ ফল আমদানি করা হতো। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও চীনেও বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষাবাদ জনপ্রিয়। বাংলাদেশে এর চাষাবাদ শুরু হয় ২০০৭ সালে।

২০১২ সালে নকলা-নালিতাবাড়ীর সংসদ সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্দেশে জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টার নকলায় ৩২০ জন প্রান্তিক কৃষককে ফলের কাটিংকৃত চারা সরবরাহ করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ বিনা খরচে প্রয়োজনীয় উপকরণও সরবরাহ করা হয়।

​ওই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে বানের্শ্বদী ইউনিয়নের মোজারবাজার, পোলাদেশী, বাওসা, চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রামপুর, বাছুরআলগা এলাকার ১০ থেকে ১২ জন কৃষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ও অনেকেই বসতবাড়ির আঙিনা ও অনাবাদি জমিতে গত কয়েক বছর ধরে ড্রাগন চাষ করছেন। এখন এ কৃষকদের চোখে-মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের কালাকুড়ার মো. আল-আমিন গত বছর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত লাল বারী-১ জাতের ড্রাগনের খামার শুরু করে। প্রথম অবস্থায় ৪৫০টি চারা রোপণ করে এক বছরের মধ্যে তার বাগানে ফল উৎপন্ন শুরু হয়েছে। তিনি এখন নিয়মিত চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছেন।

ড্রাগন ভিটামিন সি, মিনারেল ও আঁশসমৃদ্ধ। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ডায়াবেটিস, প্যারালাইসিস ও হার্টের রোগ প্রতিরোধেও এটি কার্যকর। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম।

কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, শেরপুরের মাটি ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী। ফলে এ অঞ্চলে ড্রাগন চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে জেলার কৃষিতে বৈপ্লবিক উন্নতি ঘটবে।

শেরপুরের খামারবাড়ী উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে জানান,ড্রাগন চাষের জনপ্রিয়তা কৃষকদের মাঝে বেড়েছে। তার কারণ ড্রাগন চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৭, ২০২১ ৭:৫২ পূর্বাহ্ন
পানছড়িতে জুমের তিলে ভরে গেছে পাহাড়
কৃষি বিভাগ

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার জুমে এবার অনেক ফসল উঠে গেলেও তিল, আদা, হলুদ এখনো জুমেই শোভা পাচ্ছে। উঁচু-নিচু পাহাড়ের বুকে মৃদু হাওয়ায় দুলছে তিল গাছ। তিল মূলত জুমের সাথী ফসল। ধানের সাথে মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, মরিচ, ভুট্টা, বেগুন, কাউন, সিনরা ও মামরার সাথী ফসল কালো তিল ও সাদা তিল। একই সাথে বাঁশের নির্মিত মাচার ওপর ঝোলে শশা, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা। এসব ফসল একসাথে রোপন করা হলেও তোলা হয় পর্যায়ক্রমে।

জুমচাষী নিপুন ত্রিপুরা, সন্তোষ ত্রিপুরা এবার অনেক খুশি। অনুকূল আবহাওয়া ও উপযোগী বৃষ্টির ফলেই ফলন ভালো হয়েছে। তিল জৈষ্ঠ্য মাসের শুরুতে রোপন করা হলেও তুলতে তুলতে কার্তিক মাসের শেষ ও অগ্রহায়ণ চলে আসে বলে জানান।

মরাটিলা এলাকার বাদশা কুমার কার্বারী জানান, এলাকার বেশিরভাগ মানুষ জুম চাষের ওপর নির্ভর। চাষিদের পরিশ্রমের ফল হিসেবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের ফলন বাম্পার বলে জানালেন।

পানছড়ির উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুনাংকর চাকমা জানান, পানছড়ির শুধু জুমেই তিল চাষ হয়। আনুমানিক ১৫ হেক্টর জুমে তিল চাষ হয় যার সম্ভাব্য উৎপাদন ২২.৫ মেট্রিক টন। তবে সব তিল জেলার বাইরে রপ্তানি হয় বলে জানান। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাণিজ্যিকভাবেও তিল চাষ সম্ভব।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৬:৩১ অপরাহ্ন
কানাইঘাটে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন
কৃষি বিভাগ

কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ ।ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি
আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন এ প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে কানাইঘাটে উদযাপিত হলো বিশ্ব খাদ্য দিবস।

শনিবার(১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কানাইঘাট উপজেলার উদ্যোগে আলোচনা সভা উপজেলা কৃষি অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) হায়দার আলীর সভাপতিত্বে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো:আবুল হারিছ এর পরিচালনায় অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা বেগম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন,উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আহমদ চৌ:,ইউসুফ আহমদ,আলমগীর হোসেন,ওমর ফয়সাল ,দেলওয়ার হোসেন,আজাদ মিয়া সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ।

এর আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কানাইঘাট উপজেলার উদ্যোগে র্যালির মাধ্যমে খাদ্য দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৪:০১ অপরাহ্ন
বীজ উৎপাদন করেই অর্ধকোটি টাকার মালিক হায়দার
কৃষি বিভাগ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের চলনবিল অধ্যুষিত গ্রাম কাটেঙ্গা। পানি নামলেই এখানে জেগে ওঠে কৃষিজমি। দুই দশকের বেশি সময় আগে কাটেঙ্গায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেক। আর সেই প্রশিক্ষণ দেখে দেখে বীজ উৎপাদন করেই এখন অর্ধকোটি টাকার মালিক হায়দার।

জানা যায়, কৃষিক্লাবে যখন প্রশিক্ষণ চলতো, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতেন হায়দার আলী নামে এক কৃষিশ্রমিক। নিজের জমি-জমা না থাকা এবং অন্যের ক্ষেতে কাজ করায় ‘কৃষক’ পরিচয় দিতেও হীনম্মন্যতায় ভুগতেন। ফলে প্রশিক্ষণ নিতে ক্লাবে প্রবেশ করতেন না। বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতেন কৃষি কর্মকর্তার কথা।

তাতে মন ভরছিল না হায়দার আলীর। একদিন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেককে বলেন, ‘স্যার আমাকে কী একটু প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় না।’ আকুতি শুনে হায়দারকে কৃষিক্লাবে ভর্তি করেন আব্দুল খালেক। অন্য কৃষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেন হায়দারও। ওই প্রশিক্ষণই হায়দারের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পলিসমৃদ্ধ জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে কৃষিশ্রমিক হায়দার আলী এখন স্বাবলম্বী। ১৩ বছর পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে এখন অর্ধকোটি টাকার মালিক।হায়দার আলী লেখাপড়া করেননি। পোড় খাওয়া জীবনে অনেক কষ্ট ভুলে গেছেন। তবে যে কৃষি প্রশিক্ষণ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, তা এখনো ভোলেননি। কৃষি কর্মকর্তা খালেকের নির্দেশনা এখনো তার কানে বাজে।

নিঃস্ব থেকে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা হায়দার আলী চাটমোহরের চলনবিল পাড়ের কাটেঙ্গা গ্রামের সরু প্রামাণিকের ছেলে। বীজ উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা এ কৃষক তার সাফল্যের গল্প জানাতে গিয়ে জাগো নিউজকে এসব কথা জানান।

হায়দার আলী জানান, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন দিয়ে শুরু করলেও পরে তিনি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের কাছ থেকে ধান, সবজি, পাট, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও রসুন চাষ ও এর বীজ উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তিনি পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে বেশি নজর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে চার কাঠা জমিতে পেঁয়াজ বীজ করেছিলেন। ১৬ কেজি ফলন পেয়েছিলেন। তার পরের বছর ১৬ কাঠা জমিতে ৯৩ কেজি পেঁয়াজ বীজ হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৫ কেজি বিক্রি করেছিলেন। বাকি আট কেজি নিজে আবাদের জন্য রাখেন। পেঁয়াজ বীজ (কদম চাষ) চাষ করার পর যে পেঁয়াজ পাওয়া যায়, তা বিক্রি করেই আবাদের খরচ ওঠে।’

হায়দার জানান, চলতি বছর তার ঘরে এসেছে আট মণ ২০ কেজি পেঁয়াজ বীজ। মৌসুমের শুরুতে যদি তিনি এ পেঁয়াজ বীজ বিক্রি করতেন, তবুও অন্তত চার লাখ টাকা পেতেন। বীজ ঘরে সংরক্ষণ করায় মৌসুমের শেষে এসে বীজের দাম বেড়েছে। কেজিপ্রতি চার হাজার টাকা দরে বিক্রির আশা করছেন তিনি। প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পেলে এবার প্রায় ১০-১১ লাখ টাকার পেঁয়াজ বীজ বিক্রি করতে পারবেন হায়দার।

সফল এ কৃষক বলেন, ‘মূলত আমি লাখপতি হয়ে উঠেছি ২০১২ সালেই। ওই সময় আমার চাষি হিসেবে সফল হয়ে ওঠার শুরু। প্রায় এক যুগ পর এখন আমার নিজের নামে আড়াই বিঘা জমি। বাড়ির সঙ্গে জমি কিনেছি। কিছু জমি লিজ নিয়েছি। ঘর পাকা করেছি, মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করেছি। বাড়িতে গরু পালন করছি। পুরো বাড়িটা এখন খামার। অথচ এক সময় আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করতাম।’

হায়দার আলী আরও বলেন, ‘আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণে আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেকের পরামর্শে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করেই সফলতা এসেছে। বছরে এখন সর্বসাকুল্যে আমি প্রায় ৬০ লাখ টাকা আয় করতে পারছি। নিজে পড়ালেখার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছি। তাদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চাই।’

জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, ‘অন্যের বাড়িতে কাজ করে আইপিএম প্রশিক্ষণ নেওয়াটা হায়দার আলীর জন্য অনেক কঠিন ছিল। তার আগ্রহের কারণে তাকে পরামর্শ দিয়ে আজকের অবস্থানে আনা সম্ভব হয়েছে।’

চাটমোহর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, ‘আমি নিয়মিত হায়দার আলীর কৃষিকাজের খোঁজখবর রাখি। গত মৌসুমেও হায়দারকে এক একর পেঁয়াজ বীজ করার প্রদর্শনী প্লটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও তিনি সফল হয়েছেন।’

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৩:০৭ অপরাহ্ন
একই জমিতে ধান-মাছের চাষ, লাভ হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি!
কৃষি বিভাগ

ইতোমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া অন্যতম মৎস্য উৎপাদন খ্যাত হিসেবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে। এ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষই অর্থনীতি উন্নয়নে মাছ চাষ করে এক অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা বিল, পুকুর, জলাশয় ও ফসলি জমিতে বাঁধ দিয়ে তারা মৎস্য চাষ করছেন। পাশাপশি নিচু এলাকার এক ফসলি ধান জমিতে করছেন বাঁধ দিয়ে মাছ চাষও।

স্থানীয় মৎস্য চাষি ও কৃষকরা এ পদ্ধতিতে মাছ ও ধান চাষ করে এলাকায় এক নীরব বিল্পব ঘটিয়েছে। সমন্বিত এ চাষে বর্তমানে স্থানীয় চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, এ উপজেলায় বৎসরে উৎপাদিত হচ্ছে ৪ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন মাছ। এখানে মাছের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন। উদ্ধৃত থাকছে ১ হাজার ১৪৫ মেট্রিক টন। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বাইরে সরবরাহ করা হয়।

জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিগুলোতে প্রতি বছর এক ফসলি ধান চাষ করা হয়। বর্ষার সময় ওইসব জমিতে অন্তত ৫-৬ মাস পানি থাকে। ধান কাটার পর ওইসব জমিগুলো প্রায় ৭ মাসের বেশি সময় খালি পড়ে থাকে। তখন নিচু জমিগুলোতে বাঁধ দিয়ে বা প্রজেক্ট তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ শুরু করছে স্থানীয় কৃষকরা। চাষকৃত মাছের মধ্যে রয়েছে রুই, কাতল, মৃগেল, তেলাপিয়া,পাঙাশ, স্বরপুটি, কার্ফ, গ্রাসকাপ, বোয়ালসহ নানা প্রজাতির মাছ। দিনের পর দিন বাড়ছে চাষের পরিধিও।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। একই জমিতে ধান ও মাছ চাষে জমি উর্বর থাকে। ফলনও ভালো হয়। তবে বেশি ভাগ মৎস্য চাষি রয়েছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ধান ও মাছ উৎপাদনে কোনো সমস্যায় চাষিরা আমাদের কাছে আসলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে থাকি।

মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, এ উপজেলায় অনেক মৎস্য চাষি একই জমিতে দুই চাষ করে বেশ চমক সৃষ্টি করেছেন। একই জমিতে পৃথক দু’চাষে জমি উর্বর থাকে। যা ফসলের জন্য খুবই উপকারী। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে চাষিদের সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৬, ২০২১ ৮:৪২ পূর্বাহ্ন
বারোমাসি টমেটো চাষে শাওনের বাজিমাত
কৃষি বিভাগ

৩৫ শতাংশ জমিতে বারোমাসি টমেটো চাষ করেছেন কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাওন সরকার। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকার টমেটোও বিক্রি করেছেন তিনি।

জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ৩৫ শতাংশ জমিতে টমেটোর চারা রোপণ করেন শাওন। বর্তমানে পাকা টমেটো স্থানীয় বাজারে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করছেন। খুচরা প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর পাইকারী প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে।

শাওন জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে বারোমাসি টমেটো চাষ বাবদ তাঁর দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি ৫০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, গাছে যে পরিমাণ টমেটো রয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও তিন লাখ টাকার মতো টমেটো বিক্রি করতে পারবেন।

শাওন আরও জানান, কসমেটিক দোকান পরিচালনা করার পাশাপাশি তিনি এ টমেটো চাষ করেছেন। ভবিষ্যতে আরও ১০ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে তাঁর টমেটো ক্ষেত দেখে যাচ্ছেন। অনেকে পর্রামশ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাবিউল্লাহ জানান, শাওনকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ আমরা কৃষি সম্প্রাসারণ অফিস থেকে প্রথম থেকেই দিয়ে যাচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন বাজারে টমেটোর দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষক।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২১ ৫:৩৭ অপরাহ্ন
সুপারির দামে হতাশ বেতাগীর কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

বরগুনার বেতাগীতে এ বছর সুপারির ফলন পূর্বের বছরের তুলনা কম।এ উপজেলার গত বছরের কার্তিক মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত অনাবৃষ্টি থাকায় সুপারির ফলন কম হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া দ্রব্যমূল্যের বর্তমান দাম অনুযায়ী সুপারির বাজারদর কম থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এখানকার বেতাগীর কৃষক, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা ও বাগানে প্রায় আট হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে।

এ বছর এসব বাগানের অনাবৃষ্টির কারণে সব গাছে সুপারি ধরেছে ফলন ধরেনি।
এ বিষয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন,’ সুপারি একটি উদ্যান জাতীয় ফল। এতে

ফ্ল্যাভোনয়েড, অ্যালকালয়েডস, টের্পেনয়েডস, ট্যানিনস, সায়ানোজেনিক, গ্লুকোসাইড, আইসোপ্রেনয়েড, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ইউজেনল জাতীয় বিশেষ উপাদানগুলি লাল সুপারির পাতায় পাওয়া যায়। এই সমস্ত উপাদানগুলি স্ট্রোক, মানসিক এবং কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি কমাতে উপকারী। তবে সুপারি বেশি খেলে এবং নেশায় পরিনত হলে তা সাস্থ্য’র জন্য ক্ষতিকর। ‘
এ উপজেলার বাগান মালিকরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। সেই ফুল থেকে সুপারি হয়, যা আশ্বিন- কার্তিক মাসে পুরোপুরি পেকে যায়।

আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে বাজারে সুপারি আসতে শুরু করে। মূলত আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে সুপারির ভরা মৌসুম। এখন উপজেলার প্রতিটা বাজারে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে বিক্রির জন্য সুপারি আসতো কিন্তু এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে ফলন কম হওয়ায় পূর্বের তুলনায় কম সুপারি আসছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেগুলো কিনে ৬০ শতাংশ পানিভর্তি পাত্রে ভিজিয়ে রাখে। ৪০ শতাংশ সুপারি দেশের বিভিন্নস্থানে সরবারাহ ও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষক, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
আব্দুর রহমান জানায়,বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী সুপারির দাম কম।

এ বছর আশ্বিন মাসের প্রথম দিকে দাম ভালো ছিল কিন্তু এ মাসের মাঝামাঝি এসে দাম কিছুটা কমে গেছে। তবে বাজার দর এখন পর্যন্ত মোটামোটি পাচ্ছে কৃষক বলে তিনি জানান।

বেতাগী পৌরসভার বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ভূদেব সমাদ্দার জানান, ‘এ বছর সুপারির ফলন কম এবং বাজার দরও গত বছরের তুলনায় বাজারে কম।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ বছর উপজেলার অনাবৃষ্টির কারণে সুপারির ফলন কম হয়েছে। তবে বাজারে কাঁচা-পাকা সুপারির দাম না থাকায় গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কিছুটা শঙ্কায় রয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৫, ২০২১ ৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষে নোয়াখালীর কৃষকদের বাজিমাত
কৃষি বিভাগ

উৎপাদনে ভালো ফলের আশায় পেতে ইন্দেনেশিয়ার এক চাষাবাদ পদ্ধতি চালু করা হয় নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল। যার নাম সর্জন পদ্ধতি। বর্তমানের জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন উপজেলায় এ পদ্ধতিতে প্রতিবছর প্রায় ৫৫ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলার ২০৭১ হেক্টর (৫৫১৫ একর) জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে সবজির চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা পূরণ করে পাশ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সর্জন পদ্ধতিতে জেলার সুবর্ণচরে ১৮৫০ হেক্টর, হাতিয়ায় ২১০ হেক্টর, সদরে ৬ হেক্টর, কবিরহাটে ২ হেক্টর, কোম্পানীগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলায় ১ হেক্টর করে মোট ২০৭১ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে শশা, করলা, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে অন্তত ১৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে শশা। এছাড়া ২০৭১ হেক্টর জমির মাচার নিচে চাষ হচ্ছে তেলাপিয়া, রুই, কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। আগামী মৌসুমে আরও ৪০০-৫০০ একর জমি সর্জন পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।

জানা গেছে, সর্জন পদ্ধতিতে সবজি ও মাছ চাষ এখন চরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। স্বল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় নতুন এ পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উপকূলের কৃষদের মাঝে।

কৃষকরা জানান, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে সর্জন পদ্ধতিতে সবজির আবাদ হয়। ফলে ভাগ্য পরিবর্তন শুরু হয় এ অঞ্চলের কৃষকদের। স্বল্প খরচে অধিক আয়ের কারণে কৃষকদের কাছে এ পদ্ধতি হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। প্রতি একর জমিতে প্রায় এক লাখ টাকার সবজি উৎপাদন হয়। সর্জন পদ্ধতির এ উদ্যোগকে জেলা জুড়ে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কৃষক তৈরি ও কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ ব্যবস্থা বা প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, এ অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার একর জমিতে বর্তমানে সর্জন পদ্ধতিতে শশা, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা’সহ উৎচফলনসিল সবজি উৎপাদন হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষীদের প্রশিক্ষণ, বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২১ ১০:৪৫ অপরাহ্ন
রংপুরের ৫ জেলা আমনে ভরা
কৃষি বিভাগ

মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজ ধানের গাছ বাতাশে দোল খাচ্ছে। ধানের চারা গাছের চেহারাও বেশ ভাল।কোনো প্রকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সর্বত্রই এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে। এমনটাই আশা করছেন রংপুুরের কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা।

রংপুুরের ৫ জেলার সর্বত্রই এবার আগাম জাতের আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক স্থানে কৃষকরা আগাম জাতের এই ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। প্রতি জেলাতেই আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মুখে স্বস্থির হাসি ফুটে উঠেছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অফিস সূত্রে জানা গেছে,রংপুর বিভাগে আছে ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৯শ’ ৬৪ হেক্টর জমি। এসব আবাদী জমির মধ্যে চলতি বছর আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল চলতি বছরে রংপুর কৃষি অঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সাড়ে ৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অনেক বেশি জমিতে আমন ধান রোপন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিভাগের সর্বত্রই ধান ভালো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে বেশ ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

তাছাড়া অনেক স্থানে আগাম জাতের আমন ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন কৃষকরা। আগাম জাতের আমন ধানও বেশ ভালো হওয়ায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর এবং গাইবান্ধা জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা গুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষি বিভাগের সহায়তায় দু’দফা বন্যার পরও তারা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমনের চাষ করেছেন। বন্যার পর জমিতে পলি পড়ার কারনে তুলনামুলক ভাবে এসব এলাকায় আরো ভালো হয়েছে আমনের চারাগুলো। অন্যান্য এলাকার চেয়ে এসব এলাকায় রোপনকৃত আমনের চারাগুলো বেশ মোটা এবং হৃষ্ট-পুষ্ট। ফলে এসব এলাকায় আমন ধানে বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক এবং কৃষি বিভাগ।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিশেষ এক সুত্র জাানায়,চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী এই পাঁচ জেলায় দু’দফা বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়। এক হাজার ২৬৫ হেক্টর আমন বীজতলা, ১১১ হেক্টর রোপা আমন, চার হাজার ৫৯৮ হেক্টর আউশ, এক হাজার ২৪৪ হেক্টর শাকসবজি, ২৯ হেক্টর ভুট্টা, ৩১ হেক্টর চিনাবাদাম, ৩৭৯ হেক্টর তিল, ২০ হেক্টর কাউন, ১৪০ হেক্টর চিনা, ২০৫ হেক্টর মরিচ, ছয় হাজার ৪৪৩ হেক্টর পাটের জমির ক্ষতি হয়েছে এ বন্যায়। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তার পরও এসব এলাকায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।

রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান জানান, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে। নিশ্চিত করেছে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শুরুতে শঙ্কা থাকলেও অনেক আগেই তা ছাড়িয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে ফলও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ অঞ্চলে সবজি উৎপাদনের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ হাজার হেক্টও জমিতে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২১ ৩:৩৪ অপরাহ্ন
টবে ব্রোকলি চাষ করবেন যেভাবে
কৃষি বিভাগ

ব্রোকলি বেশ জনপ্রিয় একটি সবজি। কেউ কেউ এটিকে সবুজ ফুলকপিও বলেন।এই সবজিটি বেশ দুর্বল প্রকৃতির। মাঠ থেকে চারা তোলার পর তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় বলে টবে চাষ করতে পারলে ভালো হয়। তাই এখন অনেকেই টবে ব্রোকলি চাষ করছেন।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, ব্রোকলিতে ভিটামিন সি, ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি আছে। এছাড়া অন্যান্য খাদ্য উপাদানও রয়েছে। আমাদের দেশে এল সেন্ট্রো, ডি সিক্কো, প্রিমিয়াম ক্রস, গ্রিন কমেট ইত্যাদি জাতের ব্রোকলি পাওয়া যায়।

এটি চাষের উপযুক্ত সময় হচ্ছে আশ্বিন ও অগ্রহায়ণ মাস। বীজ থেকে চারা তৈরি করে মূলত টবে লাগাতে হবে। বীজ গজাতে সময় লাগে ৩ খেতে ৪ দিনে। ৮ থেকে ৯ দিন বয়সের চারা তুলে অল্প দূরত্বে আরেকটি বীজতলার টবে লাগাতে পারলে শক্তিশালী চারা পাওয়া যাবে।

গোবর, টিএসপি ও খৈল দিয়ে সার-মাটি তৈরি করতে হবে। এরপর এই মাটি টবে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে মাটি সব সময় নরম তুলতুলে থাকলে গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে।

৩ থেকে ৪ সপ্তাহের সুস্থ চারা সার-মাটি ভরা টবে লাগতে হবে। ব্রোকলির চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় বিকাল বেলা। চারা লাগানোর পর গোড়ায় মাটি খুব হালকা করে চেপে দিতে হবে। কেননা জোরে চাপ দিলে নরম শিকড় ছিঁড়ে যেতে পারে। প্রচণ্ড সূর্যের তাপ যেন না লোগে সে দিকে নজর দিতে। শরুর দিকে ব্রোকলির টব ছায়ায় রখাতে হবে।

ব্রোকলির চারা লাগানোর প্রথম ৩ থেকে ৪ দিন চারাকে ছায়া দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং চারা না লেগে যাওয়া পর্যন্ত সকাল-বিকাল পানি দিতে হবে। চারা লেগে গেলে মাঝে মাঝে মাটি একটু খুঁচিয়ে দিতে হবে এবং কয়েকদিন দিন পর পর সেচ দিতে হবে। গাছ একটু বড় হলে ১৫ দিন পরপর তরল সার বা পাতার সার দিলে ভালো হয়। পরে গোড়ার মাটি চারদিক থেকে তুলে দিতে হবে এবং টবের কিনার বরাবর সেচ দিতে হবে।

ব্রোকলি বড় হতে শুরু করলে বিভিন্ন রকম পোকামাকড় আক্রমণ করতে শুরু হয়। শুঁয়া পোকা ও জাব পোকা ব্রোকলির বেশ ক্ষতি করে। জাব পোকা বেশি হলে রিডেন ও শুঁয়া পোকা বেশি হলে মার্শাল ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে সহকারী উপ-কৃষি কর্মকতার পরামর্শ অনুযায়ী। যদি শুঁয়া পোকা এবং জাব পোকা একসাথে আক্রমণ করে তাহলে নাইট্রো ওষুধ স্প্রে করা যেতে পারে।

ব্রোকলির চারা রোপণের পর ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে সবজিটি খাবার উপযোগী হয়। ব্রোকলির কাণ্ডের শাঁস খুব নরম হয় বলে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। ফুল ২ থেকে ৩ সপ্তাহ হলে খাওয়ার উপযোগী হয়। ফসল সংগ্রহের সময় প্রথমে উপরের ফুলটি কেটে নিয়ে গাছটি বাড়তে দিলে নিচের পাতার গোড়া থেকে আবার ফুল বের হবে যা পরবর্তীতে সময়মত সংগ্রহ করা যাবে। ব্রোকলি টবে চাষ করার সময় নিয়মিত যত্ন নিতে হবে। না হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop