৪% সুদে আম চাষিদের বিশেষ ঋণ ও বিনামূল্যে উন্নতজাতের চারা দেয়া হবে
এগ্রিবিজনেস
১:০০ পূর্বাহ্ন
নাহিদ বিন রফিক (বরিশাল): বরিশালের খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) আঞ্চলিক অফিস আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
আজ বৃহস্পতিবার(৬ মে) এ উপলক্ষে বরিশালের খামারবাড়িতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, প্রতিটি কাজের রেকর্ড সংরক্ষণ করা জরুরি। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, যারা এ বিষয়ে উদাসীন। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া চাই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দিয়েই আর্থিক ও প্রশাসনিক কাজ করানো উচিত। এর দুর্বলতায় অফিস ব্যবস্থাপনার কাজ সঠিকভাবে হবে না। আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনায় অনেক নতুনত্ব রয়েছে। এগুলো রপ্ত করার মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারেন। যেহেতু তাকে টেকনিক্যাল বিষয়ের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকও দেখতে হয়; তাই সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে।
ডিএই বরিশালের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (সরেজমিন উইং) মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ডিএই বরিশালের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব খাতের অর্থায়নের আওতাধীন এ প্রশিক্ষণে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার ৩০ জন কৃষি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশে ১৭ কোটি মানুষ রয়েছে; আর প্রতি বছর বাড়ছে ২২-২৩ লাখ করে। অন্যদিকে নানা কারণে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমছে। রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবও। এ অবস্থায় দেশের মানুষকে খাওয়ানো, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছে।
ড. শাহজাহান কবীর বলেন, রান্না করার পর এটি বাসমতীর মতো দেড় গুণ লম্বা হয়ে যায়। এই চালে অ্যামাইলোজ বেশি, যার পরিমাণ ২৫ শতাংশের ওপর। ভাত ঝরঝরে ও খেতে সুস্বাদু। ধান থেকে তৈরি আতপ চাল বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। এতে প্রোটিন থাকে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ব্রি ধান২৮ এ থাকে মাত্র ৮ শতাংশ।
গ্রিস সরকার বাংলাদেশ থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে কৃষি শ্রমিক নিতে চায়। গ্রিসের অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী নোটিস মিতারাকি এথেন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহেমদকে এ আগ্রহের কথা জানান। এ সময় গ্রিসের মন্ত্রী তাঁর দেশের বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনকে উত্সাহিতকরণে নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।
বুধবার (৫ মে) গ্রিসের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী নোটিস মিতারাকি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ এর সাথে সাক্ষাতকালে এমন আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত আসুদ আহেমদ গতকাল এথেন্সে গ্রিসের অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী নোটিস মিতারাকির সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাত্ করেন। এ সময় তাঁরা অভিবাসন এবং গ্রিসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
এ সময় গ্রিসের কৃষিক্ষেত্রে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের নিয়মিতকরণের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য রাষ্ট্রদূত অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।
তিনি বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকদের ‘রেসিডেন্স পারমিট’ প্রদান করে অথবা কৃষি শ্রমিক হিসেবে নিবন্ধিত করার মাধ্যমে নিয়মিত করার প্রস্তাব দেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, আইনগতভাবে নিয়মিত হলে এই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক, যাঁরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গ্রিসের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন, তাঁরা স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, আবাসন ও আইনগত সুবিধাসহ বৈধ নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী জানান, এ বছর গ্রিস সরকার ১৫ হাজারের বেশি অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী কৃষি শ্রমিককে ‘ওয়ার্ক পারমিট’ প্রদান করবে। তবে এ সময় তিনি অনিয়মিতভাবে আসা অভিবাসীদের সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ নিজ দেশে সসম্মানে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে গ্রিস সরকারের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় তিনি বিপদসংকুল পথে অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের মতো অপরাধ প্রতিহত করার লক্ষ্যেই গ্রিস সরকারের এই শক্ত অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবসরকালীন পেনশনের বিষয়টিও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পন্ন করবেন বলেও জানান গ্রিসের মন্ত্রী।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শাক-সবজির চাষের আড়ালে গাঁজা চাষ করছেন ওখানকার আলমগীর ও জাহাঙ্গীর নামে দুই ভাই। তারা এসও রোড এলাকার সুস্তিপুর মাঠে বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট) এর জায়গায় শাক-সবজির আড়ালে গাঁজার চাষ করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। মাদকবিরোধী আইনে একাধিক মামলাও রয়েছে তাদের দু‘ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, বিশাল জায়গা জুড়ে আলাদা আলাদা সীমানায় অসংখ্য শাক-সবজির বাগান রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির চাষ হচ্ছে। পুরো বাগানটি সবুজে ছেয়ে গেছে। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীর ও আলমগীর ছোট্ট একটি অংশে পাট শাক, পুঁই শাকসহ নানান ধরনের শাক ও সবজির চাষ করেছে। এর এক পাশে ছোট একটি বাঁশের খুঁটিকে ভর করে প্রায় ৩ ফুটের মত লম্বা বড় একটি গাঁজা গাছ বেড়ে উঠেছে। বাতাসে যেন গাঁজা গাছ হেলে না পড়ে সেজন্য দেওয়া হয়েছে বাঁশের খুঁটি। গাছ লম্বায় বড় হয়েছে প্রায় ৩ ফুট।
খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই নারী-পুরুষের ভিড় জমে সবজির বাগানটির পাশে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, অনেক আগ থেকেই আলমগীর ও জাহাঙ্গীর এখানে শাক-সবজির চাষ করে। আমরা এলাকাবাসী এমন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বাংলাদেশ ট্যাংক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশ্রাফ উদ্দিনের অফিসের পাশে গতকালও (৩ মে) সমপরিমাণের একটি গাঁজা গাছ পাওয়া গেছে। বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ এসে গাছটি উঠিয়ে ধ্বংস করেছে।
এলাকাবাসী জানান, বাগানটি বিআইডব্লিউটিএ’র জায়গা। স্থানীয়রা নিজেদের মত করে জায়গা দখল করে বাগান করেছে। গাঁজা গাছ চাষের জমিটিতে আলমগীর ও জাহাঙ্গীর নামে দুজন বাগান করতো। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা আছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, একই এলাকায় দুইদিনে গাঁজা গাছ পাওয়ার বিষয়টি জেনেছি আমরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
দীর্ঘ কয়েক মাসের অপেক্ষার পর চলছে বোরো ধান ঘরে তোলার কার্যক্রম। চলছে ধান কাটা। দক্ষিণাঞ্চলের অনেকেই ঘরে তুলেছেন ধান আবার অনেকে এরই মধ্যে শুরু করেছেন ধান কাটার কাজ। কেউবা শুরু করলেন সনাতন পদ্ধতিতে আবার বেশির ভাগ কৃষক শুরু করছেন হারভেস্টারসহ বিভিন্ন মেশিন দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ।
কৃষকরা বলছেন, গত বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছিলো, আর এবছরও ফলন ভালো হলেও বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে ধানে চিটা রয়েছে। আর বাগেরহাট, মাদারীপুর ও রাজবাড়ীসহ দূরবর্তী জেলা থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিকরা বলছেন, দেশি প্রজাতির ধানের থেকে এবছর হাইব্রিড ধানের ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বরিশাল জেলার মধ্যে আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় বেশি আবাদ হয়েছে। যেখানে ফলনও ভালো হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোরোর ভালো ফল পাওয়ার কথা উল্লেখ গৌরনদী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মামুনুর রহমান জানান, এবছর গৌরনদী উপজেলার ছয় হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলার উপ-পরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত জানান, গত বছর কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্যে পাওয়ায় এবছর অনাবাদি বহু জমি বোরো চাষের আওতায় এসেছে। ফলে জেলায় বোরোর কাঙ্খিত লক্ষামাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বরিশাল জেলায় ৫২ হাজার ৮শত ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ২৫ হাজার ১৪২ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, ২৫ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে উফসি ও দুই হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো আবাদ হয়েছে।
ধামরাইয়ের সানোড়া ইউনিয়নকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় আইপিএম মডেল ইউনিয়ন হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। অত্র ইউনিয়নে ৫০০ কিষান-কিষানিকে তালিকাভুক্ত করে তাদের ২৫ সদস্যবিশিষ্ট ২০টি দলে ভাগ করা হয়েছে এই প্রকল্পের আওতায়।
জৈব সার, জৈব বালাইনাশক, রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজি বীজ, জমি ও মাচা তৈরির উপকরণ, ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ ও নীল আঠালো ফাঁদসহ নানা ধরনের উপকরণ দিয়ে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুল হাসান। এ ছাড়াও প্রত্যেক দলকে দেওয়া হয়েছে একটি করে নেট হাউজ সহায়তা।
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য চাষিদের পাঁচটি সেশনে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী সহজ বাজারজাতকরণ ও ভোক্তাদের সহজ প্রাপ্তির জন্য উন্নত বাজার ব্যবস্থা হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় বাজার হিসেবে ডাউটিয়া চেয়ারম্যানের আড়তে নিরাপদ সবজি বিক্রয় কেন্দ্র, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কৃষকের বাজার এবং অনলাইন মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সহজ পরিবহন, সময় ও পরিবহন ব্যয় বাঁচাতে প্রত্যেক দলকে একটি করে উন্নতমানের মোট ২০টি রিকশাভ্যান দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় চাষিরা সরকারি সহায়তা প্রাপ্তির কথা স্বীকার করলেও তারা জানান, তারা যে সহায়তা পেয়েছেন তা তাদের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। আরো সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
মরু অঞ্চলের ফসল হিসেবে পরিচিত সাম্মাম চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ।
সরেজমিন সাম্মামের ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, অধিক পুষ্টি গুণাগুন সমৃদ্ধ মরু অঞ্চলের ফসল সাম্মামের জমিতে শেষ সময়ের পরিচর্যা চলছে। আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যে ওই ফসল বিক্রি করার উপযুক্ত হবে বলে জানান, কৃষক আব্দুল আজিজ।
বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও স্থানীয়ভাবে এ ফসলের সঙ্গে কেউ পরিচিত নন। তাই ঢাকা থেকে আসা এক পার্টির নিকট এগুলো বিক্রি করা হবে।
স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’ জাকস ফউন্ডেশনের’ কারিগরি সহায়তায় ৩৩ শতাংশ জমিতে এ প্রথম সাম্মাম চাষ করেছেন কৃষক আব্দুল আজিজ। ইংরেজিতে ’রক মেলন’ বলা হলেও একেক দেশে একেক নামে পরিচিত। বিশেষ করে মরু অঞ্চলের দেশগুলোতে এটি বেশি চাষ হয়ে থাকে।
রক মেলন, সুইট মেলন, মাস্ক মেলন, হানিভিউ মেলন, গালিয়া মেলন ও পার্সিয়ান মেলন নামে পরিচিত। সৌদি আরবে একে আরবীতে বলা হয় ’সাম্মাম’। দেখতে অনেকটা বেবী তরমুজের মতো তবে রং সাদাটে । খেতে তরমুজের মতো সুস্বাদু। ভেতরে অনেকটা দেশীয় বাঙ্গির মতো। বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। ৩৩ শতাংশ জমিতে ১২‘শ বীজ রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি গাছে ২ টি সাম্মাম ধরলে ২৪‘শ পিস সাম্মাম পাওয়া যাবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান, কৃষক আব্দুল আজিজ।
চাষ পদ্ধতিও তরমুজের মতো। মালচিং, মাচা তৈরি, সার- বীজ, সেচ ,লেবার খরচ সহ ৩৫ হাজার টাকা খরচ হলেও প্রায় এক লাখ টাকার সাম্মাম বিক্রি হবে বলে আশা করেন চাষি আব্দুল আজিজ।
রক মেলন বা সাম্মামে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন। সাম্মামে শতকরা ৯৫ ভাগ জলীয় অংশ থাকায় মানবদেহে পুষ্টির চাহিদা পূরণসহ শরীরকে শীতল রাখতে সহায়তা করে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ স ম মেফতাহুল বারি। জেলার ভাদসার গোপালপুর ও আক্কেলপুরের ভুতগাড়ি এলাকায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে এবার রক মেলন বা সাম্মাম চাষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। জয়পুরহাটের মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী এখানে বাণিজ্যিক ভাবে সাম্মাম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান, স ম মেফতাহুল বারি।-বাসস।
মাগুরায় নালিম চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা পাওয়ায় মাগুরা চাষিরা এখন নালিম চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি অফিসের তথ্যমতে মাত্র ৩০ দিনে একটি নালিম গাছ থেকে আয় হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকা। এতে কৃষকরাও খুব খুশি।
জেলা কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে মাগুরা সদরের ইছাখাদা, মুছাপুর, সত্যপুর, হাজরাপুর, হাজিপুর, নালিয়ালডাঙ্গি, শিবরামপুর ও নড়িহাটি গ্রামসহ মোট ১৬০ হেক্টর জমিতে নালিম চাষ হয়েছে। প্রতিটি ফল ৩ থেকে সাড়ে ৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রায় ৩ মাসের জীবনকাল থাকায় খুব অল্প সময়ে কৃষকরা এটি বিক্রির মাধ্যমে নগদ অর্থ ঘরে তুলতে পারে। বর্তমানে বাজারে প্রতি পিস নালিম ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও কৃষি বিভাগ জানিয়েছন।
মাগুরা সদরের ইছাখাদা গ্রামের রজব আলী মোল্যা জানান, রমজানে নালিমের বেশ চাহিদা রয়েছে। প্রতি ট্রাক নালিম ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত বছর এক লাখ টাকার ওপরে বিক্রি করেছি। এ বছ্র ফলন ভালো না হলেও ভালই লাভ থাকবে বলে তিনি জানান।
মুছাপুর এলাকার একজন কৃষক, এ বছর ঘেরের আইলে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় প্রায় ৫০টি বীজ বুনি। এবারে খরায় প্রত্যাশামতো ফলন হয়নি। এরই মধ্যে ৫০টির বেশি ফল বিক্রি করেছি। নালিম চাষাবাদে পরিচর্যা তেমন লাগে না। আমি নালিমের মাদায় জৈব সার ব্যবহার করেছি ।
কৃষি বিভাগ বলছে, নালিম একটি উচ্চমূল্যের ফসল। মাগুরার আবহাওয়া নালিম চাষের জন্য অনুকুল। ঘেরের আইলে সবজির পাশাপাশি এটা চাষ করলে কৃষক অত্যন্ত লাভবান হবেন। এটি সম্প্রসারণে আমরা কাজ করবো এবং আগামীতে এর আবাদ এলাকা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও জানাচ্ছেন কৃষি বিভাগ।