৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

সোমবার, ৪ মে , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১ ৮:০৯ অপরাহ্ন
অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনতে টিম গঠনের নির্দেশ
কৃষি বিভাগ

উপকূলীয় ও সিলেট এলাকার অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনতে দ্রুত ‘টিম গঠন’ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষ থেকে অনলাইনে বার্ষিকউন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় যুক্ত হয়ে একথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। সভা সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সিলেট ও উপকূলীয় এলাকায় এখনো অনেক অনাবাদি পতিত জমি আছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে কত জমি অনাবাদি আছে, তার কতটুকু চাষের আওতায় আনা যায়, তা স্টাডি করে দেখতে হবে। সেখানে সেচের পানির অভাব রয়েছে। তবে ভূ-উপরিস্থ পানির জন্য কয়েকটা নদী রয়েছে। পাম্প ব্যবহার করে নদীর পানি কীভাবে সেচের জন্য কাজে লাগানো যায় তা স্টাডি করে বের করতে হবে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শাকসবজি, আলু, ভুট্টা, গমসহ ফলমূলের উৎপাদন অনেক বেড়েছে। কিন্তু মানুষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বলতে চালকেই বুঝে। সেজন্য, চালের উৎপাদন বৃদ্ধিতেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু মন্ত্রণালয়ে বসে রুটিন কাজকর্ম করলে চলবে না। মাঠ পর্যায়ের কাজে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। মাঠের অবস্থা, উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। উৎপাদন বাজারে কী প্রভাব ফেলতে পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

প্রকল্প পরিচালকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে হবে। প্রকল্পের কাজে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম এ সময় বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীলের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদনের পরিসংখ্যান দেখলে হবে না। এর সঙ্গে দেশে চালের চাহিদার দিকটিও বিবেচনায় নিতে হবে। দেশে ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে, করোনাকালে অনেক প্রবাসী ফিরে এসেছেন; তাছাড়া চাল প্রাণিখাদ্যেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ৩৬ শতাংশ। যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি ২৮ দশমিজক ৪৫ শতাংশ।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থার প্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষে লাভবান চাটমোহরের কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

পাবনার চাটমোহরের কৃষকেরা মাচা পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করে হচ্ছেন লাভবান। এতে সবজি নষ্ট না হওয়ায় বাড়ছে উৎপাদনও। পটল, টমেটো, লাউ, সিম, মিষ্টি কুমড়া, করলা, ধুন্দল, চালকুমড়া, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, শসা, বরবটিসহ লতা জাতীয় অন্যান্য সবজি মাচায় চাষ করে চাটমোহরের কৃষকেরা পূর্বের চেয়ে এখন বেশি লাভবান হচ্ছেন। ফলে বাড়ছে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ।

উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তারা তিন বন্ধু মিলে ছয় বিঘা জমিতে সবজির খামার করেছেন। এ খামারে তারা মাচায় পটল, টমেটো, লাউ, করলা, ধুন্দল চাষ করছেন। বাঁশের খুটি পুতে জিআই তার টানিয়ে তার উপর পাটকাঠি, নাইলন সুতা, পাতলা জিআই তার বিছিয়ে মাচা তৈরী করেছেন তারা। সোয়া দুই বিঘা জমিতে মাচায় টমেটো চাষে ইতোমধ্যে তাদের প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিজলী-১১ জাতের টমেটো চাষ করেছেন তারা। ইতিমধ্যে টমেটো পাকতে শুরু করেছে। টমেটোর বাজার দাম ভাল থাকলে তারা যথেষ্ট লাভ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। মাচায় চাষ করলে পচনের হাত থেকে সবজি রক্ষা পায়। ফলে ফলন প্রায় দ্বিগুন হয়। পোকা মাকরের হাত থেকে সবজি রক্ষা পায়। সেচ ও কিটনাশক প্রয়োগেও সুবিধা হয় বলে জানান তিনি।

চাটমোহর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাটমোহরে ১ হাজার ৮শ ৪৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২শ হেক্টর জমিতে শিম, ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ১শ ৯৫ হেক্টর জমিতে মূলা, ১শ ৬০ হেক্টর জমিতে ফুল কপি, ১শ ৪৫ হেক্টর জমিতে লাউ, ১শ ১৫ হেক্টর জমিতে পালং শাক, ৯০ হেক্টর জমিতে বাধাকপিসহ অন্যান্য সবজি আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ.এ মাসুম বিল্লাহ জানান, কৃষকেরা এখন সচেতন হয়েছেন। অনেক কৃষক টমেটোসহ লতানো সবজি মাচায় চাষ করতে শুরু করেছেন। মাচায় সবজি চাষে প্রারম্ভিক খরচ বেশি হলেও এটি লাভজনক। পটল, টমেটো, লাউ, সিম, মিষ্টি কুমড়া, করলা, ধুন্দলসহ লাতানো জাতীয় সবজি মাচায় চাষ করা যায়। এর জন্য উঁচু জমি বেছে নেওয়া ভাল। উঁচু করে মাচা তৈরী করলে মচার সবজি মাটির সংস্পর্শে আসে না। পোকা মাকড়, ছত্রাকের আক্রমণ কম হয়। টমেটো, মিষ্টি কুমড়া জাতীয় ফসল মাটির সংস্পর্শে থাকলে একদিকে যেমন পঁচনের ভয় থাকে তেমনি অন্য দিকে মাটির পাশটায় ঠিকমত পাকে না।

মাচায় সবজি চাষের অন্য সুবিধা গুলো হলো সবজিতে ভিটামিন বা সীমিত আকারে কীটনাশক প্রয়োগের সময় তা নষ্ট হয় না। গাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করা সহজ হয়। যে স্তরে পোকা মাকড় বেশি চলাচল করে সে স্তরে সেক্সফেরামন বা হলুদ স্টিকি ট্র্যাপ ব্যবহার করা যায়। পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় এ পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২১ ১১:১০ পূর্বাহ্ন
কৃষির আধুনিকায়নে ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প
এগ্রিবিজনেস

কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও বহুমাত্রিক করতে ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

গত শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) চট্টগ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ হলে আয়োজিত চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ উইং-এর সরেজমিন পরিচালক একেএম মনিরুল আলম, হর্টিকালচার উইং-এর পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদা, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পবন কুমার চাকমা বক্তৃতা করেন।

এ সময় প্রকল্পের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও বহুমাত্রিক করতে ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। প্রকল্পের সঙ্গে কৃষকের যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ‘দেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং পুষ্টির যোগান দিতে সমন্বিত চাষ বাড়াতে আরো আন্তরিক হওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কৃষকদের কাছে যেতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে।’

ড. রাজ্জাক বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে কৃষি-উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে ৭২৫ কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও বহুমাত্রিক করতে ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের সুফল প্রান্তিক কৃষকের নিকট পৌঁছাতে হবে। প্রকল্পের সাথে কৃষকের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কৃষি শুধু মানুষের খাদ্যের যোগান দেয় না, শিল্পের কাঁচামালেরও অন্যতম উৎস কৃষি। তাই কৃষিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সভায় জেলাসমূহের আঞ্চলিক কর্মকর্তাগণ নিজ-নিজ জেলার কৃষির বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১ ৫:৫৫ অপরাহ্ন
ধরলায় নেই পানি, চলছে চাষাবাদ!
কৃষি বিভাগ

১৬টি নদ-নদী রয়েছে উত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকা কুড়িগ্রাম জেলায়।তার মধ্যে ধরলা নদী অন্যতম। বছরের এই সময়টাতে ধরলাতে কোন পানি না থাকার কারনে জাগে ছোট-বড় অনেক চর। ইরি-বোরো বীজ লাগানো হয়েছে ধরলার অনেক স্থানে। কালের সাক্ষী এখন শুধু ধরলা। তবে ধরলা নদীতে তেমন কোন পানি না থাকায় ইরি-বোরো চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। ফলে অনেকেই তীরবর্তী স্থানে সেচ পাম্প বসিয়ে লাগানো ক্ষেতে পানির ব্যবস্থা নিয়েছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও রিভারাইন পিপল’র পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, মাত্র ৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ধরলা নদীটি লালমনিহাট জেলার মোগলহাটের কর্ণপুর দিয়ে প্রবেশ করেছে। ক্রমান্বয় ফুলবাড়ী উপজেলা নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরুকমন্ড দিয়ে প্রবেশ করেছে। মিলিত হয়েছে কুড়িগ্রাম সদরের মোগলবাসা এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে। এ দীর্ঘতম ধরলার দুই ধারে জেগে উঠেছে অসংখ্য ছোট বড় দ্বীপচর। তার মধ্যে রয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলার চর শিমুলবাড়ী. মেকলি চর, চর ধনিরাম, মরানদী, বাঘ খাওয়ার চর, চরবড়ভিটা, চর যতিন্দ্র নারায়ণ, জোৎকৃষ্টহরি, চর পেচাই, চর-বড়লই, কুলাঘাট, পেচাই, খোচাবাড়ী, রাঙ্গামাটি, গুয়াবাড়ীর ঘাট, চরগোরক মন্ডপ, চরখারুয়া, বোয়ালমারি ও বিলুপ্ত ছিটমহল বাঁশপেচাই, কুড়িগ্রাম সদরের জগমহনের চর, মাধবরাম, চরগ্রাম, সিতাইঝাড়, চরকৃষ্ণ পুর।

তিনি আরো জানান, চর্তুদিকে ধরলা বেষ্টিত এ দ্বীপ চর গুলোতে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস রয়েছে। নদীতে নাব্যতা না থাকায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা বা ডিঙ্গি নৌকা চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোমড় বেঁধে ধরলার দুই ধারে ইরি ক্ষেত লাগাচ্ছে কৃষক। প্রথমে ধরলার পানি দিয়ে ক্ষেত লাগানো হলেও পানি নিচে পড়ায় এখন মাঝে মধ্যে সেচ পাম্প বসানো হচ্ছে। অনেকেই আবার ধরলার মূল স্রোতে যে পানি রয়েছে সেখানেও ক্ষেত লাগার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অথচ ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা কুলাঘাট ধরলা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তখন গভীর ছিল ৬০-৭০ ফুট। এখন সেখানে তার নিচেও ক্ষেত লাগাচ্ছেন কৃষক। তবে আগাম বর্ষা দেখা দিলে ক্ষেতের ধান উঠানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। তার পড়েও মনের আনন্দে ইরি-বোরো ক্ষেত লাগাচ্ছে কৃষকরা। ধরলায় বোরো চাষাবাদকারী সোনাইকাজী গ্রামের আ. হামিদ ও শাহালম মিয়া জানান, আগে ধরলার বুকে কোন ফসল উৎপাদন করা যায়নি। এখন কষ্ট করে ক্ষেত লাগানো হয়েছে। আবহাওয়া ভাল হলে এ ক্ষেত গুলো হতে অতিরিক্তি ফসল পাওয়া যাবে।

ফুলবাড়ী জেলে রমনি কান্ত, হরিস চন্দ্র ,লেংগা চন্দ্র বলেন শুকনো মৌসুম হওয়ায় এ সময় ধরলা নদীতে পানি থাকে না। পানি না থাকায় ছোট-বড় অনেক গুলো চর। তাই এখন নৌকাও নামানো যায় না, মাছও ধরা যাচ্ছে না। এতে করে কোন দিন মাছ পাই, আবার কোন দিন মাছ পাই না। মাছ পেলেও তা অতি সামান্য। যা বিক্রি করে ১৫০-২০০ টাকা আয় হয়। এ সামান্য আয় দিয়ে সংসাররে ব্যয় মেটানো ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশিদ জানান, ধরলার তীরবর্তী এলাকা গুলোতে চলতি বোরো মৌসুমে ১৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান লাগিয়েছেন কৃষক। আবহাওয়া ভাল হলে এ সব জমিতে অতিরিক্ত ৫শ মে. টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগে এ সব জমি অপরিত্যক্ত থাকতো। এখন অতিরিক্ত শ্রম দিয়ে কৃষকরা ক্ষেত লাগিয়েছেন।

দর্শনার্থী স্বপন সরকার ও শিক্ষার্থী ঐশি খাতুন জানান, আমরা সময়-সুযোগ পেলেই ধরলা নদীর অববাহিকায় নদী রক্ষা বাঁধে বেড়াতে আসি। ধরলায় পানি থাকলে এখানকার প্রকৃতি অনেক সুন্দর দেখায়। নদীতে পানি থাকলে আমরা নৌকায় চড়ে ঘুরতে পারি। এখন নদীতে পানি নেই, তাই ঘুরতে ভাল লাগছে না। হেঁটে পারাপার হওয়া যায়।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২১ ১২:১৮ অপরাহ্ন
পানির দামেও বিক্রি হচ্ছে না সবজি, বিপাকে কৃষকরা
কৃষি বিভাগ

শীতরে শুরুর দিকে সুনামগঞ্জের সবজি বাজারে সবজরি দাম চড়া থাকলেও এখন এসব উৎপাদিত সবজি পানির ধরে বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা।

সবজি বাজারে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের নৌকা বোঝাই করে টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, উড়ি, ডেংগা শাক, কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে বসে আছেন কৃষকরা। কিন্তু বাজারে সবজির দাম কম হওয়ায় বড় বড় আরৎদারি ব্যবসায়ীরা লোকশানের ভয়ে সবজি কিনছেন না।

আড়ৎদারি ব্যবসায়ীরা জানান, সবজি কিনে কোনো লাভ নাই, বাজারে সবজির কোনো দাম নাই, কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কম টাকায় কিনলেও শ্রমিক খরচসহ আমাদের কেজি প্রতি সবজিতে টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করতে হয়।

কিন্তু ক্রেতারা ভোর সকালে বাজারে এসে কম দামে বস্তা বড়ে সবজি কিনে নিয়ে যান। ফলে আমাদের বড় অংকের টাকা লোকশান গুণতে হয় তাই আমরা তেমন একটা সবজি এখন কৃষকদের কাছ থেকে কিনতে চাচ্ছি না।

সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি ৫ থেকে ৭ টাকা (পিছ), বাঁধাকপি ৪ থেকে ৫ টাকা (পিছ), লাউ ৫টাকা (পিছ) গাজর ১০ টাকা (কেজি), শিম ১০ টাকা (কেজি), টমেটো ২-৩ (কেজি), মুলা ৪ টাকা হালি, চিচিঙ্গা ১০ টাকা (কেজি), বেগুন ১৫ টাকা (কেজি) বিক্রি করা হচ্ছে।

সবজি বাজারের সভাপতি মো.নুরুল মিয়া জানান, সবজি নিয়ে কৃষকরা খুব বিপাকে আছে। সবজি খেত করতে তাদের যে টাকা খরচ হয়েছে তারা সেই টাকাও যেন পর্যন্ত তুলতে পারছে না। শুধু কৃষক নয় আমরা যারা আরৎদার ব্যবসায়ীরাও বিপাকে আছি আমাদেরকেও প্রতিদিন বড় অংকের টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে। এত সস্তা সবজি বাজার আগে কখনো বিক্রি হয়নি।

সবজি বিক্রেতা হামিদ মিয়া জানান, এই বছর সবজির দাম যে সস্তা আর কোনো বছর এই রকম সস্তা হয়নি। আমরা নৌকা বোঝাই করে যে সবজি নিয়ে বাজারে আসি সেই সবজি আমাদের পানি ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে শুধু। তাই সবজি করতে আমাদের যে টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকাও এখন পর্যন্ত তুলতে পারিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১ ১১:০১ অপরাহ্ন
লাল তীর আলু উৎপাদনে রেকর্ড পাকুন্দিয়ায়
কৃষি বিভাগ

লাল তীরের উচ্চ ফলনশীল ডায়মন্ড জাতের আলু উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার কৃষকরা। প্রতি একরে এ জাতের আলু ১৫ মে.টন ফলেছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার চরফরাদী গ্রামে নতুন বাজার সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত কৃষক মাঠ দিবসে বক্তারা এ তথ্য জানান।

‘লাল তীর-এর বীজ আলু চাষ, শান্তি-সুখে বারোমাস’ এ স্লোগানকে সামনে নিয়ে লাল তীর সিড লিমিটেড ভৈরব আঞ্চলিক কার্যালয় এ মাঠ দিবসের আয়োজন করে।

চরফরাদী গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান বলেন, এ বছর আমি লাল তীরের ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করেছি। প্রচলিত আলু বীজের তুলনায় এ আলু বীজ রেকর্ড পরিমাণ ফলন দিয়েছে। বাজারে এ আলুর দাম ভালো পাওয়া যায়। এতে আমাদের অনেক লাভ হবে।

একই গ্রামের কৃষক আবু বক্কুর তরুণ বলেন, প্রচলিত আলু চাষে কোনো লাভ নেই। এ জাতের আলুতে রোগ বালাইয়ের আক্রমণ কম। ফলনও বেশি।

লাল তীর সিড লিমিটেড শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তী বলেন, লাল তীর বীজ আলু উচ্চ ফলনশীল। প্রচলিত জাতের আলুর তুলনায় এ আলুর ফলন চারগুণ বেশি। প্রতিটি আলুর চোঁখ বেশি। তাই বীজের পরিমাণও পাওয়া যায় বেশি। এ আলুবীজ অধিক ফলনশীল এবং নাবী ধ্বসা ও ভাইরাস সহনশীল।

পাকুন্দিয়া সদর বাজারের লাল তীরের ডিলার মো. এরফান উদ্দিন মাস্টারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন লাল তীর সিড লিমিটেড শ্রীমঙ্গল বিভাগীয় ব্যবস্থাপক তাপস চক্রবর্তী। একই বিভাগীয় পিডিএস কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভৈরবের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ জহুরুল ইসলাম, চরকাওনা কলেজের সাবেক প্রভাষক মো. ওমর ফারুক, স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিনহাজুল ইসলাম, লাল তীর সিড লিমিটেডের কিশোরগঞ্জ জেলার টেরিটরি ম্যানেজার মতিউর রহমান, সেলস এসিস্ট্যান্ট ফাহাদ আল মামুন, চরফরাদী ইউনিয়নের খাদ্য-পুষ্টি ও কৃষক সমিতির সভাপতি মো. আবু বক্কর তরুন প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২১ ৫:৫১ অপরাহ্ন
অঞ্চলভিত্তিক কৃষি বহুমূখীকরণ ও লাভজনক করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক অঞ্চলভিত্তিক কৃষি বহুমূখীকরণ ও কৃষিকে আরো লাভজনক করতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং পুষ্টির যোগান দিতে সমন্বিত চাষ বাড়াতে কর্মকর্তাদের আরো আন্তরিক হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের কাছে যেতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী চট্টগ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলে আয়োজিত চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেন। সভায় জেলাসমুহের আঞ্চলিক কর্মকর্তাগণ নিজ নিজ জেলার কৃষির বর্তমান অবস্থা সমস্যা সম্ভাবনা ও করণীয় তুলে ধরেন।

তারা বলেন, দেশের প্রায় এক দশমাংশ এলাকা পাহাড়ে অবস্থিত। এসব পাহাড়ে প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির পাশাপাশি অপ্রচলিত ফলের চাষাবাদ খুবই লাভজনক হবে। বিশেষ করে কাজুবাদাম, কফি ও ড্রাগন ফল উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে পাহাড়ী এলাকাগুলোতে। কাজুবাদাম ও কফির বাণিজ্যিক উৎপাদন করতে পারলে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানীও করা যাবে। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে ৭২৫ কিঃমিঃ খালকাটা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও বহুমাত্রিক করতে ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের নিকট পৌঁছাতে হবে। প্রকল্পের সাথে কৃষকের যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষি উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়। তাও ‍নিরসনের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কৃষি শুধু মানুষের খাদ্যের যোগান দেয়না, শিল্পের কাঁচামালেরও অন্যতম উৎস কৃষি। তাই কৃষিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করোনা মহামারি মোকাবেলায় কৃষি অন্যতম সহায়ক খাত হিসেবে কাজ করেছে বলে এসময় তিনি উল্লেখ করেন।

অঞ্চলভিত্তিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে মন্ত্রী বলেন, যে অঞ্চলে যে ফসল ভাল হয় তার ওপর জোর দিতে হবে। কৃষকের আয় বাড়াতে কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ,সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বাড়াতে হবে। শুধু অফিসে বসে না থেকে কর্মকর্তাদের কৃষকের জমিতে যেতে হবে। তাদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট ফসলের ভবিষ্যত চাহিদা বোঝাতে হবে। তবেই কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে কৃষি সম্প্রারণ উইং এর সরেজমিন পরিচালক একেএম মনিরুল আলম, হর্টিকালচার উইং এর পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত পরিচালক মো. মঞ্জুরুল হুদা, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক পবন কুমার চাকমা বক্তৃতা করেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ন
ফেনীতে তরমুজ চাষের বাম্পার ফলন
কৃষি বিভাগ

কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়ায় তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে ফেনীর সোনাগাজীর উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের। গত মৌসুমে সোনাগাজী উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৭ হেক্টরে।

কৃষি বিভাগ জানায়, ফেনীর জমিতে পূর্বে কখনো তরমুজ চাষ না হলেও ২০১৭ সালে নোয়াখালী এলাকা থেকে আগত এক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নে তরমুজ চাষ করেন। ওই বছরে তার লাভজনক সফলতা দেখে ২০১৯ সালে ৮ থেকে ১০জন কৃষক তাদের জমিতে রবি মৌসুমে তরমুজ চাষ করে লাভবান হন।

উৎপাদনে সম্ভবনা ও ভালো দাম পেয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকা থেকে অনেক কৃষক ২০২০ সালে সোনাগাজীর সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় এসে ১০৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে তরমুজ চাষ শুরু করেন। কম সময়ে বেশি লাভ পাওয়ায় এবার উপজেলার চরছান্দিয়া, চরদরবেশ ও আমিরাবাদ ইউনিয়নে ৩১৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।

চলতি মৌসুমে সোনাগাজীতে ১৬০ হেক্টর জমিতে ভিক্টর সুগার জাত, ১২২ হেক্টর জমিতে ওশেন সুগার ব্ল্যাক বেরি, ৩৫ হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সমুদ্রের উপকূলে জেগে ওঠা সোনাগাজীর চরগুলো বছরের পর বছর অনাবাদী পড়ে থাকতো। বছরের কিছু সময় এসব অনাবাদী জমিকে মহিষের চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বেশিরভাগ সময়ই খালি থাকতো।

এখন ওইসব অনাবাদি জমিতেই চলছে তরমুজ চাষ। সোনাগাজীতে তরমুজ চাষিদের বেশিরভাগ কৃষক নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকা থেকে এসেছেন। স্বল্প সময়ের জন্য চরাঞ্চলে আসা এ কৃষকরা খেতেই তাবু লাগিয়ে অস্থায়ী বসতি তৈরি করেন। খেত থেকে তরমুজ তোলা শেষ হলে তারা আবার নিজ এলাকায় ফিরে যান। ভালো লাভ দেখে স্থানীয় কৃষকরাও এবার নিজের জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন।

ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী জানান, সোনাগাজীতে তরমুজ চাষে খুব সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এ উপজেলায় বিগত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৩ গুণ তরমুজ চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চাষিদেরকে তরমুজ চাষে উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার জানান, সোনাগাজীতে প্রতি বিঘায় তরমুজ চাষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। তিন মাস পর প্রতি বিঘায় তরমুজ বিক্রি হয় অন্তত ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকায়।

তরমুজ চাষে কম সময়ে ভালো ফলন ও লাভবান হওয়া যায়। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে জমিতে প্রতি তিন ফুট দূরত্বে তরমুজ চারা রোপণ করতে হয়। তরমুজ চাষে তেমন কোনো পরিশ্রম নেই। সামান্য পরিচর্যায় ৩ মাসের মধ্যেই তরমুজ বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১ ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
চিংড়িঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষে সফলতা
কৃষি বিভাগ

আশির দশক থেকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় পানি ও মাটিতে লবণাক্ততার তীব্রতার কারণে ধানের উৎপাদন কমতে থাকে। আর তাই জমির মালিকরা ঝুঁকে পড়েন চিংড়ি, বিশেষ করে, বাগদা চাষে। শুরুতে চিংড়ি চাষে লাভবান হলেও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে চিংড়ির উৎপাদন।

এখন চিংড়িঘেরগুলোতে মাছ নেই, নেই ধানের উৎপাদনও। তাই এ অবস্থায় বিকল্প পেশা ও কর্মসংস্থানের উপায় খুঁজতে চিংড়ি ঘেরের ভেড়ি ও পতিত জমিতে মৌসুমি সবজি চাষে আশার আলো দেখছেন অনেকে। এতে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি সবজি বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করছেন চাষিরা। জমিতে ধানও নেই, মাছও নেই– তাই বিকল্প কর্মসংস্থান এবং পেশায় আগ্রহ তাদের।

এদিকে সবজি চাষের এ বিকল্প পেশায় ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে অনেকের। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়াসহ ফিরেছে সচ্ছলতাও।

উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের কৃষক মো. মফিজুল ইসলাম জানান, ঘেরের ভেড়িতে মাচা করে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করছেন তিনি। পানির ওপর মাচা করে তাতে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, করলা ও শিম এবং ভেড়িতে ঢেঁড়স, কলা ও পেঁপে চাষ করেন এই কৃষক।

নিজের জমিজমা না থাকলেও অন্যের চিংড়িঘেরের পতিত জমিতে মৌসুমি সবজি চাষ করেন মোংলার কাইলকাবাড়ি গ্রামের কৃষক রজব আলী। বিভিন্ন প্রকারের সবজি আবাদে এ বছর ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করে ছিলেন তিনি। শুধু লাউ বিক্রি করে এ পর্যন্ত লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে তার। আর যে পরিমাণ সবজি চাষ হয়েছে তাতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক ঘের ব্যবসায়ী এখন মাছের পাশাপাশি সবজি চাষে ঝুঁকছেন।

তবে এসব কৃষকের অভিযোগ, মৌসুমি এ সবজি চাষে কৃষি বিভাগের নজরদারি ও সহযোগিতা নেই।

জানতে চাইলে, উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা অনিমেষ বালা কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘মাছের ঘেরে মাচা করে সবজি চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর এ ক্ষেত্রে কৃষকদের নানারকম পরামর্শসহ উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’ এ বছর ২শ’ হেক্টর জমিতে মৌসুমি সবজি চাষ হয়েছে। এ খাতে কৃষকদের কীভাবে সরকারি সহায়তা দেওয়া যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২১ ১১:০৩ অপরাহ্ন
পরাগায়নের মাধ্যমে মেহেরপুরে বাড়ছে সবজি উৎপাদন
কৃষি বিভাগ

উন্নত ও অধিক ফলন উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যান্য বীজ উৎপাদন খামারের মতো মেহেরপুরের আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারে বিভিন্ন ফলনগাছে পরাগায়ন করা হচ্ছে। জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজির জমিতে শতভাগ ফুলে ফল ধরাতে কৃষকরাও পরাগায়ন করছে। এতে একদিকে যেমন জমিতে শতকরা ৯৯ ভাগ ফুলে ফল ধরাতে দেশের মানুষের চাহিদা মিটছে। পরাগায়নে সুফল পাওয়াতে কৃষকরা পরাগায়ন করছে। অপরদিকে মানুষের কর্মসংস্থানও হচ্ছে।

ফসলী জমিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগে বর্তমানে কীটপতঙ্গ, উপকারী পাখি হারিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা কৃত্রিম উপায়ে পরাগমিলনের কাজটি করছে। কেউ কেউ বাক্সবন্দি মৌমাছি কিনে এনে তাদের জমিতে মৌমাছি পালন করছে পরাগমিলনের জন্য। চাষাবাদের জমিতে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহারে দিনে দিনে কমে গেছে মৌমাছিসহ পতঙ্গরা। গ্রামে গ্রামে ব্যাপকহারে কীটপতঙ্গের অভাব দেখা দিয়েছে।

ফলে চাষীরা ফসল উৎপাদনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছিল। বেশী ফসল উৎপাদনের জন্য চাষীরা কৃত্রিম উপায়ে ফুলে ফুলে পরাগমিলন ঘটাচ্ছে। একটি পুরুষ ফুলের পুংকেশর দিয়ে ৬ থেকে ৭টি স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ড পরাগায়ন করা যায়। পরাগায়ন করলে শতকরা ৯৯টি স্ত্রী ফুলে ফল ধরবে।

মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামের চাষীরা এখন ভোর হতেই সবজি ক্ষেতে গিয়ে পুরুষ ফুল নিয়ে স্ত্রী ফুলের সঙ্গে স্পর্শ করাচ্ছেন পরাগমিলন ঘটানোর জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- অবাধে কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ না হলে ছোট ছোট পতঙ্গ বিলুপ্তি হবে দূর ভবিষ্যতে। তখন ফসল উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেবে।

চাষীদের অভিমত কৃষিজমিতে ব্যাপকহারে কীটনাশক ও সার প্রয়োগের ফলে দ্রুতহারে কীট পতঙ্গের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে এতকাল ধরে প্রাকৃতিক নিয়মে যে কাজ হত এখন চাষীরা কৃত্রিমভাবেই সেই কাজ করছেন। এরফলে ফসলের উৎপাদনও অনেকাংশে বাড়ছে।

সরেজমিনে আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামারে দেখা যায় সকাল বিকেল পরাগায়ন করা হচ্ছে। ফার্মের ডিএডি নিমাই কুমার প্রামানিক জানান- উন্নত ফলনশীল বীজ উৎপাদনের জন্য পরাগায়নের মাধ্যমে হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে পরাগায়ন করছেন। বর্তমানে টমোটো, বেগুন,শিম , লাউ ইত্যাদি সবজিগাছে পরাগায়ন ঘটানো হচ্ছে। তিনি জানান ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে খাদ্যচাহিদা বেড়েছে। খাদ্যচাহিদা মোকাবেলা করতে পরাগায়নের বিকল্প নাই। পরাগায়নে ফলনবৃদ্ধির সাথে নতুনজাত তৈরী করা যাচ্ছে।

সাহারবাটি গ্রামের চাষী আনিসুর রহমান জানান- গতবছর একবিঘা জমিতে কাকরোল চাষ করেছিলেন। প্রতিদিন ভোরে উঠে তিনি সবজি ক্ষেতে গিয়ে পুরুষ ফুল সংগ্রহ করে প্রতিটি স্ত্রী ফুলের স্পর্শ করাতেন। এবছর একই জমিতে টমেটো করেছেন। এখনও একই পদ্ধতিতে পরাগায়ন করে দিগুণ টমেটো পাচ্ছেন। একই গ্রামের মাঠে দেখা গেল কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে টমেটো, লাউ, কাকরোল, কুমড়া, ইত্যাদি জমিতে কৃষকরা পরাগয়ন করছেন।

কৃষি বিভাগের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, দেশে গত ৫০ বছর আগে যেহারে বিভিন্ন প্রজাতির কীটপতঙ্গ ছিল। সাম্প্রতিককালের ৬০ভাগ প্রজাতীর কীটপতঙ্গ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ব্রিটিশ জার্নাল ‘প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’ এক প্রতিবেদনে বলেছেন অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারে পরাগায়নে সহযোগিতাকারী মৌমাছি‘র মধ্যে মহামারি আকারে বন্ধাত্ব ছড়িয়ে পড়ছে। আরও বলা হয়েছে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার মূল্যমানের পরাগায়নে ভূমিকা রাখে মৌমাছি।

কৃষিবীদ রকিব উদ্দীন জানান- লাউ গাছের ফুল একলিঙ্গ এবং গাছটি ভিন্নবাসী উদ্ভিদ। ভাল ভাবে লাউ ধরাতে হলে কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করতেই হবে। অর্থাৎ এসব গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথক পৃথক হয়। একই বয়সের পুরুষ ও স্ত্রী ফুল কাছাকাছি থাকলে এবং বাতাসের বেগ প্রবল হলে কিছু পরাগায়নের সম্ভাবনা থাকে তবে তা একেবারেই নগন্য। তাই পোকা-মাকড় বা মৌমাছি বেশি না থাকলে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পরাগায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরাগায়ন সম্ভব হয় না। লাউয়ের ফুল সাদা বলে মৌমাছি বা পোকামাকড় থাকলেও লাউ ফুলে পরিভ্রমণ কম করে। এ জন্য লাউ ধরে না। লাউয়ের পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথক হওয়ায় কৃত্রিমভাবে পুরুষ ফুল এনে স্ত্রী ফুলের পরাগায়ন ঘটাতে হয়। পুরুষ ফুলের বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে। পাপড়ির গোড়ায় গর্ভাশয় থাকে না।

পাপড়ির মাঝখান দিয়ে বেড়ে যাওয়া পুংদন্ডে পাউডারের গুঁড়ার মত পুংরেণু থাকে। পুংদন্ডের শীর্ষভাগে গর্ভমুন্ড থাকে না। শুধু বোঁটার অগ্রভাগে ফুটে থাকা ফুলগুলো পুরুষ ফুল। আর ক্ষুদ্রাকৃতি লাউয়ের মত গর্ভাশয়ধারী ফুলগুলো স্ত্রী ফুল। গর্ভাশয়ের ওপর থেকে পাপড়ি থাকবে। পুংদন্ড থাকবে না। গর্ভদন্ড ছোট ও মোটা। গর্ভদন্ডে আঠালো পদার্থ থাকবে। পুংরেণু এখানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আঠায় আটকে যায়। অনেকেরই ধারণা, শুধু স্ত্রী ফুলের এই গর্ভাশয় থাকলেই লাউ ধরবে। এ ধারনাটা ভুল। গর্ভমুন্ডে পুরুষ ফুলের পুংরেণু না লাগা পর্যন্ত লাউ ধরবে না। পুরুষ ফুল থেকে ফল হয় না ফল হয় স্ত্রী ফুল থেকে, তাই পুরুষ ফুল ছিড়ে এনে স্ত্রী ফুলে পরাগায়ন করতে হবে। স্ত্রী ফুল ছেড়া যাবেনা।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ স্বপন কুমার খাঁ জানান- অবাধে কীটনাশক ব্যবহারে মৌমাছিসহ অনেক পতঙ্গ মারা গেলেও মৌচাষে খাচাবন্দি মৌমাছি বেড়েছে। স্থানীয় মৌমাছির চেয়ে সুন্দর বনের মৌমাছি অনেকদুর পর্যন্ত উড়ে বিচরণ করতে পারে। এবং তাদের দেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী। সুন্দরবনের বাইরের মৌমাছি বা পতঙ্গরা কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার সহ্য করতে পারেনা।

সুন্দর বন এলাকার মৌমাছি তা সহজেই সহ্য করতে পারে। সুন্দর বনের মৌমাছি দিয়ে একদিকে যেমন সবজি ক্ষেতে পরাগমিলন করে উৎপাদনবৃদ্ধি করা যাবে, অপরদিকে মধু উৎপাদন করে সবজি চাষের খরচ মেটানো সম্বব। এই কৃষিবিদের মতে সুন্দরবন এলাকার মৌমাছি যেহেতু নদী-নালা এলাকায় থাকে সেই কারণেই তারা সহজেই নদী পারাপারও হতে পারে। কমকরে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ওই মৌমাছিরা বিচরণ করতে পারে। যা একটি সাধারণ মৌমাছির পক্ষে সম্ভব না। সঙ্গে সঙ্গে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশী।-বাসস।

 

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop