১:১৭ পূর্বাহ্ন

রবিবার, ২৬ এপ্রিল , ২০২৬
ads
ads
শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারী ২২, ২০২৩ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
বান্দরবানে কৃষি উপকরণ বিতরণ করলেন পার্বত্যমন্ত্রী
কৃষি বিভাগ

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বান্দরবানে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বান্দরবানের রাজবিলা ইউনিয়নে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কৃষি যন্ত্রপাতি ও উপকরণ বিতরণ করেন মন্ত্রী।

এসব উপকরণের মধ্যে রয়েছে কম্বাইন্ড হারভেস্টিং মেশিন, ট্রান্সপ্ল্যান্টার ও পাওয়ার টিলার। আধুনিক এই যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা এখন খুব কম সময়ে এবং সহজেই ধান রোপন ও কর্তন করতে পারবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় এসব আধুনিক কৃষিযন্ত্র বিভিন্ন সমিতির মধ্যে দেওয়া হয়।

পরে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজবিলা ইউনিয়নে বিভিন্নস্থানে নির্মিত ব্রীজ, বৌদ্ধ বিহার ,সেচ ড্রেইন,সড়ক,বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

এসময় রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদে মাঠে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, পাহাড়ের উন্নয়ন এখন সবার মুখে মুখে। এখন পাহাড়ের কৃষিজ ফলমুল থেকে সমতলের বাসিন্দারা আগ্রহী হয়ে বসে থাকে। একসময় পার্বত্য অঞ্চল অনেক দুর্গম এবং কষ্টসাধ্য এলাকা হলে ও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ তরান্বিত হয়েছে যার সুফল পাচ্ছে সাধারণ জনগণ। এসময় পার্বত্যমন্ত্রী উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সকল জাতিগোষ্টিকে একসঙ্গে বসবাস করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের থেকে সাধারণ জনগণকে দুরত্ব বজায় রেখে জীবনধারণের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের উন্নয়নে অনেক সময় অনেক কুচক্রী মহল কার্যক্রম পরিচালনা করে উন্নয়ন বাঁধা করতে চায় আর এই দুষ্ট প্রকৃতির ব্যক্তি থেকে সবাইকে সচেতন ও সাবধান থাকতে হবে।

কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি বিতরণের ফলে পাহাড়ের উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, আগামীতে দেশের রাজস্ব খাতে পার্বত্য চট্টগ্রামের নাম সবার উপরে উঠবে। আর পার্বত্য জেলাগুলোর কৃষকরা অর্থনৌতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবে।

অনুষ্ঠানে বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহ্ আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরোজ, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ক্যসাপ্রু মারমা, কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক এম এম শাহনেয়াজ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো. ইয়াছির আরাফাত, পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়াউর রহমান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম মজুমদারসহ জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং এলাকার চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ২১, ২০২৩ ৭:৪৬ অপরাহ্ন
গম চাষে ঝুঁকছেন মাদারীপুরের কৃষকরা!
কৃষি বিভাগ

মাদারীপুরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে গম চাষ। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে বেষ্টিত জেলার শিবচর এলাকার কৃষকরা গম চাষ করছেন। এখানকার আবহাওয়া অনুকূলে থাকে বলে ফলন বেশি হয়। পাশাপাশি গমের বর্তমান বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা গম চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

জানা যায়, সাধারনত শীতের মৌসুমে কৃষকরা সরিষা, কালাই চাষ করলেও শিবচরের সন্যাসীরচর, বন্দোরখোলা, কুতুপুবপুর, বহেরাতলা, নিলখীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকরা গম চাষ করছেন। বর্তমানে গমের বেশ চাহিদা রয়েছেন। পাশাপাশি গমের বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা গম চাষে বেশি ঝুঁকছেন। কৃষকরা আশা করছেন গম চাষে লাভবান হতে পারবেন।

শিবচর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর বেশি জমিতে আবাদ করা হয়েছে। গম চাষে খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে জানা যায়।

অন্যান্য কৃষকরা জানায়, আগের তুলনায় এখন বোরো ধান চাষে খরচ বেড়েছে। তাই এবছর অনেক কৃষক আর ধান চাষ করেননি। কৃষকদের জমিতে গমের ভালো ফলন হয়েছে। তাছাড়া গমের বর্তমান বাজারদর ভালো থাকায় গম চাষে ঝুঁকেছেন। অনেকে আগামীতে আরো বেশি জমিতে গমের চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর গমের আবাদ বেড়েছে। গম চাষের লক্ষ্যমাত্র যা ধরা হয়েছিল তা ছাড়িয়ে গেছে। দিন দিন কৃষকরা গম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছেন। আশা করছি কৃষকরা গমের বাম্পার ফলন পাবেন ও বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৯, ২০২৩ ৮:০৩ অপরাহ্ন
টাঙ্গাইলে হাইব্রিড জাতের ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি বিভাগ

জেলায় চলতি রবি মৌসুমে হাইব্রিড জাতের ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভুট্টার আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে। কৃষকদের দেয়া হয়েছে বিনামূল্যে ভুট্টার বীজ ও সার।

জেলার ১২টি উপজেলায় বিশেষ করে চরাঞ্চল জুড়ে এখন শুধু ভুট্টার উঠতি চারা শোভা পাচ্ছে। ঝিলমিল করে বাতাসে দুলছে ভুট্টার সবুজপাতা। ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা অধীর আগ্রহে মনের খুশিতে জমিতে কাজ করছেন।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার নদী বেষ্টিত বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষকরা রবি মৌসুমে গত কয়েক বছর যাবৎ আগাম জাতের হাইব্রিড ভুট্টার চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। চরাঞ্চলে অন্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষ বেশি হয়। কম পরিশ্রম ও কম খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষ দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গমের পাশাপাশি ভুট্টার ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুট্টা গো-খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয়। তাছাড়া পোল্ট্রি শিল্পের জন্যও ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এক বিঘা জমিতে ভ্ট্টুা হয় ৪০ থেকে ৪৫ মন। বিঘা প্রতি আট থেকে দশ হাজার টাকা খরচ করে চাষিরা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ভ্ট্টুা বিক্রি করতে পারে। চলতি রবি মৌসুমে জমিতে ফলনের আকৃতি ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা এখন ব্যস্ত জমি পরিচর্যায়। অনেক কৃষক ভ্ট্টুার জমিতে সাথী ফসল হিসেবে শীতকালীন শাক-সবজিরও আবাদ করেছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। গতবছরের তুলনায় ১ হাজার ৭৭৬ হেক্টর বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৬ হাজার ৭৫০ কৃষককে ২ কেজি করে মোট ১৩ হাজার ৫০০ কেজি ভুট্টার বীজ দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে। এছাড়াও ২০ কেজি করে ডি.এ.পি সার এবং ১০ কেজি করে এম.ও.পি সার দেয়া হয় বিনামূল্যে। অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বৃহৎ পরিমাণের কৃষক ভ্ট্টুার প্রণোদনা পান এ মৌসুমে। গত বছর বাজারে ভুট্টার দাম বেশি থাকায় অধিক লাভবান হন কৃষকরা। একারণে প্রণোদনা কর্মসূচির বাইরেও অধিক পারিমাণের কৃষক তাদের জমিতে এ মৌসুমে ভুট্টার আবাদ করেছেন। ভ্ট্টুার আবাদ বৃদ্ধি ও ফলন ভালো করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।

ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলের ভুট্টা চাষি মিনহাজ উদ্দিন বলেন, এ বছর বন্যায় আমাদের বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ সকল ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হই। আর এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বন্যা পরবর্তী সময়ে যমুনার বুকে জেগে উঠা চরে আমরা ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টা চাষে খরচ অনেক কম ও লাভ অনেক বেশি। আশাকরি ভুট্টা চাষ করে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

ভুট্টা চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী হওয়ার আমাদের চরাঞ্চলের ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়। এ বছর আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। আশা করছি, বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ মণ ফলন পাবো। গত বছর চরাঞ্চলে ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ায় এবছর আরও অধিক জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। আমার দেখা-দেখি যারা অন্য ফসল আবাদ করতো তারাও এবছর ভুট্টা চাষ করেছে। দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের আগ দেউলী গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, এবারই প্রথম আমি ভুট্টার আবাদ করেছি। আশেপাশের বিভিন্ন জায়গায় ভুট্টার প্রচুর আবাদ হয়। ভুট্টার ফলনও অনেক হয়, দামও ভালো পাওয়া যায়। আমি ৪০ শতাংশ জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। আশা করছি ভালো ফলন পাবো।

দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারহানুল কবির বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগতভাবে ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন ফসল হিসেবে কৃষক যেন চাষাবাদের ক্ষেত্রে সমস্যায় না পরে সেজন্য আমরা মাঠে সরসরি কৃষককে সঠিকভাবে ভুট্টা চাষ করার প্রদ্ধতি শিখিয়ে দিচ্ছি। ভুট্টায় বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণ করলে সেগুলো দমনে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিল ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। গতবছরের তুলনায় ১ হাজার ৭৭৬ হেক্টর বেশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সব সময় ভ্ট্টুার রোগ-পোকমাকড় দমনে ও অধিক ফলনের জন্য কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৮, ২০২৩ ১২:০৩ অপরাহ্ন
ফুলকপি চাষে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন জয়পুরহাটের কৃষক এনামুল
কৃষি বিভাগ

শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপি চাষ করে সফলতার স্বপ্ন বুনছেন জেলার কালাই উপজেলার বহুতি দরগাপাড়া গ্রামের কৃষক এনামুল হক।

জয়পুরহাটের কালাইয়ে শীতকালীন সবজি বিশেষ করে ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর শীত মৌসুমে ফুলকপির চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উপজেলার বহুতি-দরগাপাড়া গ্রামের কৃষক এনামুল হক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বায়ারের হাইব্রিড জাতের ফুলকপি চাষে তিনি কোন ক্ষতিকর কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেনি। জৈব্যবালাই নাশক ও কেঁচো সার ব্যবহার করে ফুলকপি চাষ করেছেন। কম সময়ে, অল্প পরিশ্রমে ও স্বল্প খরচে অধিক মুনাফার আশা নিয়ে এ কপি চাষ করে তিনি এখন সফলতার স্বপ্ন বুনছেন। এজাতের ফুলকপি বাজারে কদর বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজারে চাহিদা অনেকটা ভালো এবং দামও অনেক বেশি পাচ্ছেন।

এনামুলের ফুলকপি চাষে সফলতা দেখে স্থানীয় অনেক কৃষকরাই আগামীতে ফুলকপি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ধান, আলুর চেয়ে ফুলকপি চাষে সময়, খরচ ও শ্রম কম লাগে। তাই অন্যান্য ফসলের বদলে ফুলকপি চাষ করবেন বলে জানান প্রতিবেশী কৃষকরা। সফল চাষি এনামুল হকের ৬০ শতক জমিতে যেন বর্তমানে ফুলকপির রাজ্য। একেকটি ফুলকপির ওজন ১ থেকে ২ কেজি। নিজের ফুলকপি ক্ষেতে মনোযোগ দিয়ে পরিচর্যা করছেন এনামুল। তিনি জানান, চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাবার অভাবের সংসার, তাই লেখাপড়া করা হয়নি। তিনি স্থানীয় আলুর কোল্ড স্টোর লেবারি কাজ করতেন। কাজ পেলে খাবার জুটত, না পেলে অনাহারে থাকতে হতো। তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেন কিছু করবেন। তার এলাকাতে অনেক ভালো সবজি চাষ হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি সবজি চাষ শুরু করেন করেন। তাই ২০১২ সালে তার কাছে কিছু জমানো টাকা ও ধার-দেনায় প্রথমে ৯ শতক জমি বর্গা নিয়ে চিচিংগা চাষ করেন। সেই সময় তিনি সবকিছু খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি জমি বর্গা নিয়ে সারা বছর নানা সবজি চাষ শুরু করেন। আর এভাবে একপর্যায়ে চাষের জমি বাড়ে, আয় বাড়ে। দিনমজুর থেকে এনামুল হক এলাকায় হয়ে ওঠেন সফল সবজি চাষি। ৩০ শতক জমি কিনে তৈরি করেছেন টিনের একটি বাড়ি। ঘোয়ালে আছে তিনটি বিদেশী গরু। আছে একটি পুকুর। তাঁর দুই ছেলে, বড় ছেলে খোকন ও ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ। বড় ছেরে স্কুলে পড়ছে। স্ত্রী আনজুয়ারা বেগম আর এনামুল হক লেগে থাকেন সবজি চাষে।

এবার তিনি ৬০শতক জমি বর্গা নিয়ে বায়ারের হাইব্রিড ৫৩ ও ৪০ জাতের ফুলকপির চারা রোপণ করেন। এই ফুলকপি চাষে তিনি কোন ক্ষতিকর কীটনাশক বা রাসায়নিক সার না দিয়ে জৈব্যবালাই নাশক এবং কেঁচো সার ব্যবহার করে ফুলকপি চাষ করেছেন। অল্প পরিশ্রমে ও স্বল্প খরচে রোপোনের ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই এ ফুলকপি বাজারে বিক্রি করার উপযুক্ত হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় বিক্রি করতেও ঝামেলা নেই । তার জমিতে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কপি রয়েছে। পাইকারি দরে এই পর্যন্ত ৯৫ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। আরো ৩ হাজার পিস ফুলকপি বিক্রি করা যাবে। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে এগুলো সব বিক্রি হয়ে যাবে। তার এ ফুলকপির উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা।

তিনি আশা করছেন সকল খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা হবে প্রায় দেড় লাখ টাকা। উপজেলার বহুতি-দরগাপাড়া গ্রামের কৃষক হাফিজার ও জালাল মিয়া জানান, ধান, আলু ও ভুট্টার চেয়ে ফুলকপি চাষে খরচ ও শ্রম দুটোই কম । এসব ফসল চাষে খরচের পাশাপাশি রোগ বালাইয়ের আক্রমণের আশঙ্কাও কম। তাই অন্যান্য ফসলের বদলে আগামীতে ফুলকপি চাষে করবেন বলে জানান তারা। এনামুল হক ফুলকপি চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেরেছেন। তাই অন্য ফসলের তুলনায় ফুলকপি চাষে অধিক লাভের স্বপ্ন বুনছেন তিনি। কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, এ অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ উপজেলায় এবার শীতকালীন ১০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ অঞ্চলের মানুষ আধুনিক সবজি চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। চাষিরা শীতকালীন ফুলকপি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। তারা ফুলকপি চাষ করে দাম ও ফলন দুটোই ভালো পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৭, ২০২৩ ৭:৪৭ পূর্বাহ্ন
শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলার যত্ন নিতে যা করবেন
কৃষি বিভাগ

দেশে বইছে পৌষের শীত। তবে, এ মাসের শুরুর দিকে শীতের তীব্রতা তেমন অনুভব না হলেও শেষদিকে এসে কাঁপছে গোটা দেশ, বইছে শৈত্যপ্রবাহ। এ সময়ে অনেকে বোরো ধানের জন্য তৈরি করছেন বীজতলা। আর এ বীজতলার যত্ন কীভাবে নেবেন বা কোন প্রযুক্তি সুবিধাজনক হবে চাষিদের সেই পরামর্শ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।

এআইএস বলছে, শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের চারা চারা হলুদাভ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শীতের প্রকোপে চারা পোড়া বা চারা ঝলসানো রোগের জন্য চারা মারা যেতে পারে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে কৃষক ভাইদের বোরো ধান চাষাবাদে বাড়তি কিছু যত্ন নেওয়া জরুরি।

বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে করণীয়
* শৈত্যপ্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিতে হবে। তবে, দীর্ঘসময় ধরে শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকলে সেখানে দিনে এবং রাতে সবসময় পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে রাখতে হবে এবং বীজতলার উভয়পার্শ্বে পলিথিন আংশিক খোলা রাখতে হবে।

* বীজতলায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নলকূপের পানি ব্যবহার করা ভালো। বীজতলায় পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে জমা করা শিশির ঝরিয়ে দিতে হবে। ধান-চাষ কৃষি-সংবাদ

* চারা পোড়া বা কলসানো রোগ দমনের জন্য রোগের প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার অ্যাজোস্কিস্ট্রোবিন বা পাইরাক্লোস্টবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক মিশিয়ে বীজতলায় বিকেলে স্প্রে করতে হবে।

* বীজতলায় চারা হলুদ হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া প্রয়োগের পরও চারা সবুজ না হলে প্রতি শতক জমিতে ৪০০ গ্রাম হারে জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।

* জমিতে রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩৫ থেকে ৪৫ দিনের চারা ব্যবহার করতে হবে। এ বয়সের চারা রোপণ করলে শীতে ভারার মৃত্যুর হার কমে।

* চারা রোপণকালে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে কয়েকদিন দেরি করে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে চারা রোপণ করতে হবে।

* রোপণের পর শৈত্যপ্রবাহ হলে জমিতে ৫ থেকে ৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। শীতের তীব্রতা ও বয়স বিবেচনা করে চারা রোপণ করলে চারা সতেজ থাকবে এবং অধিক ফলন পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২৩ ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
জয়পুরহাটে ’পলিনেট হাউসে’ চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি
কৃষি বিভাগ

আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কীটনাশক ছাড়াই বিষমুক্ত ভাবে ’পলিনেট হাউসে’ সবজি চাষ করছেন জেলার পাঁচবিবি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা। এ পদ্ধতি কৃষি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষি বিজ্ঞানের নতুন উদ্ভাবন এ ’পলিনেট হাউস’। পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের পশ্চিম ধুরইল গ্রামের কৃষক রবিউল আলম ও আব্দুর রহমান ’পলিনেট হাউস’ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে সফলতার স্বপ্ন বনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পলিনেট হাউসে শীতকালের সবজি যেমন গ্রীষ্মকালেও উৎপাদন করা যাবে, তেমনি গ্রীষ্মকালীন সবজিও শীতকালে উৎপাদন করা যাবে। যে কোন আবহাওয়া এতে কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা পলিনেট হাউসে ভারি বৃষ্টিপাত, তাপদাহ, পোকামাকড়, ভাইরাস জনিত রোগের মতো প্রতিকূল পরিবেশেও নিরাপদ থাকবে সবজি। কোন কীটনাশক দিতে হবে না। পশ্চিম ধুরইল গ্রামের কৃষক রবিউল আলম জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে পলিনেট হাউস নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পলিনেট হাউসে চাষ হচ্ছে মিন্টো সুপার ও বাহুবলী জাতের টমেটো, সানড্রপ জাতের কাঁচা মরিচ, বিটি জাতের বেগুন, কুইন অ্যানি জাতের আলু, ব্রকলি, ফুলকপি, হার্টবিট, গাজর, লেটুসসহ অন্যান্য সবজি। কৃষক আব্দুর রহমানের জমির পরিমান ১৫ শতক। লোহার এ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে পলিনেট হাউস নেট দিয়ে ঘেরার জন্য পোকামাকড় ঢুকতে পারেনা। সেখানে রয়েছে সেচ দেওয়ার আধুনিক প্রযুক্তি। পলিনেট তৈরি করতে পুরো খরচ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। এ টাকা পরিশোধ করতে হবেনা। আব্দুর রহমান ও রবিউল আলমের পলিনেট হাউসে তিন জন শ্রমিক কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।

আব্দুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগ থেকে গত অক্টোবর মাসে পলিনেট হাউস নির্মাণ করে দেওয়া হয়। বাজারে তুলনামূলক ভাবে পলিনেট হাউসে উৎপাদিত সবজির চাহিদা অনেক বেশি। সে কারণে উন্নত মানের সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন বলে জানান, আব্দুর রহমান। রবিউল জানান, পলিনেট হাউসে সবজি চাষ ছাড়াও বাইরে ৮ শতাংশ জমিতে লেটুস ও ব্রকলি চাষ করেছেন। বাইরের জমিতে থাকা সবজিতে পোকামাকড় দেখা গেলেও পলিনেট হাউসে বিষমুক্ত ভাবে চাষ করা সবজি বেশ সতেজও রয়েছে। পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফর রহমান জানান, পলিনেট হাউসে সবজি চাষ ওই এলাকার কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। এ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে প্রতিদিনই আশপাশের কৃষকরা আসছেন এবং উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। উচ্চ মুল্যের সবজি চাষে ’পলিনেট হাউস’ কৃষি ক্ষেত্রে একটা রোল মডেল উল্লেখ করে পলিনেট হাউস থেকে সারা বছর নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি পাওয়া সম্ভব বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ রাহেলা পারভীন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৬, ২০২৩ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
সিংড়ায় কৃষি উপকরণ পেলেন ২০০ কৃষক
কৃষি বিভাগ

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ২০০ কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। যাদের অন্তত দেড় শতক জায়গা অনাবাদি পড়ে আছে, সে জায়গায় আবাদ করতে এই উপকরণ দেওয়া হয়।

এ সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ রকম বীজ ও ৩৫ কেজি সারসহ কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

শনিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কৃষক সমাবেশ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল ইমরান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা হক রোজী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা প্রমুখ।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২৩ ৮:০৬ অপরাহ্ন
মাদারীপুরে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষে সফল কৃষকরা!
কৃষি বিভাগ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কৃষকরা জলাবদ্ধ পতিত জমিতে ভাসমান ধাপ পদ্ধতিতে ফসলের চারা উৎপাদন ও চাষাবাদ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। কৃষকরা সফলতা পাওয়ায় দিন দিন এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাসমান পদ্ধতিতে কৃষকরা রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়া শুধু জৈব সার ব্যবহার করে চারা উৎপাদন ও সবজি চাষ করছেন। এপদ্ধতিতে অধিক ফলন ও সবজির বাজারদর ভালো থাকায় অল্প খরচেরই কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন। তাই এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ কৃষককের মাঝে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

জানা যায়, জলাভূমিতে প্রথমে কচুরিপানা এবং পর্যায়ক্রমে শ্যাওলা, দুলালীলতা, টোপাপানা, কুটিপানা, কলমিলতা, জলজ লতা স্তরে স্তরে সাজিয়ে দুই থেকে তিন ফুট পুরু করে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়। তারপর সামান্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি বাঁশ, নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়া, তুষ, নৌকা প্রভৃতি প্রয়োজন হয়। প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই ধাপ চাষের উপযোগী হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা ভাসমান পদ্ধতিতে লাউ, শসা, করলা, মিষ্টিকুমড়াসহ আরো বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। তাদের ভাসমান বেডে সারি সারি ভাবে ঝুলছে সবজি। অনেকে আবার বেডের নিচে সাথি ফসল হিসেবে লালশাক চাষ করছেন। চাষিদের সফলতায় দিন দিন এই পদ্ধতিতে চাষ বাড়ছে।

রমজানপুর ইউনিয়নের চরপালরদি গ্রামের কৃষক শাহীন রাড়ী বলেন, আমি এই পদ্ধতিতে গত ৫ বছর যাবত বিভিন্ন সবজি চাষ করছি। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তা নিয়ে ৩৪ শতাংশ জমিতে ৩০টি বেডে এবং ১৭টি মাদা আকারে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছি। সবজি চাষে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ হাজার টাকার শসা, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, করলা, লাল শাক বিক্রি করছি। ইতোমধ্যে ৯০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। আশা করছি আরো প্রায় ২ লাক টাকার সবজি বিক্রি করতে পারবো।

উপ-সহকারী কৃষি অফিসার তানভীর হাসান জানান, আমরা কৃষককের মাঝে প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করছি। ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে কোনো প্রকার রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করা হয়না। ভাসমান ধাপ পদ্ধতিতে সবজি চাষ কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদ্ধতিতে সবজির উৎপাদন বেশি হয়। আর সবজির বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৪, ২০২৩ ৮:০১ অপরাহ্ন
গাজর চাষে পাবনার চাষিদের মুখে হাসি
কৃষি বিভাগ

চলতি বছর পাবনায় গাজর চাষে লাভবান চাষিরা। গত কয়েকবছর অন্যান্য ফসলের চেয়ে গাজর ও বিভিন্ন সবজি চাষে লাভের মুখ দেখায় এবছরও চাষিরা ব্যাপকভাবে গাজর চাষ করেছেন। পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সবজি আবাদ হলে জেলায় সবজি ব্যবসা ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

জানা যায়, গত কয়েক বছর যাবত পাবনার কৃষকরা গাজর চাষে ঝুঁকছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় গাজরের উৎপাদন খরচ কম ও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। তাই কৃষকরা অন্যান্য ফসল চাষ না করে গাজর, টামটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষক রজব আলি জানান, কয়েকবছর আগেও সরিষা, তিল সহ অন্যান্য ফসলের আবাদ করতাম। এইসব ফসল চাষ করে বেশি লাভ করা যায় না। তাই এখন পুরো জমিতে গাজরের চাষ করছি। গাজর চাষে খরচ কম আর প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ করতে পারছি।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলি বলেন, চলতি বছর পাবনায় ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত ২১ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ করা হয়েছে। বাকি জমিতেও আবাদ করা হবে। কৃষকরা অধিক লাভের আশায় গাজরের ব্যাপক আবাদ করেছেন। চাষাবাদে আমরা কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করছি।

শেয়ার করুন

প্রকাশ : জানুয়ারী ১৩, ২০২৩ ৮:২৩ অপরাহ্ন
টুঙ্গিপাড়ায় ১৫০ বিঘা জমিতে সমলয়ে ধান চাষ শুরু
কৃষি বিভাগ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান্ত্রিকীকরণ ও অধুনিক চাষাবাদের মাধ্যমে দেড় শ’ বিঘা জমিতে সমলয়ে বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতির চাষাবাদে বীজতলা থেকে শুরু করে ধান মাড়াই পর্যন্ত যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এ চাষাবাদে কম খরচে কৃষক অধিক ধান উৎপাদন করতে পারবেন।ধানের অধিক ফলন পেয়ে কৃষক লাভবান হবেন। এ চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশ খাদ্য উৎপাদনে আরো সমৃদ্ধ হবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী গ্রামে সমালয়ে চাষাবাদের উদ্বোধন করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল মামুন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা ভাইস চেয়ার অসীম কুমার বিশ^াসসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

টুঙ্গিাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, সমলয়ে চাষাবাদে আমরা রামচন্দ্রপুর গ্রামের ৪৮ জন কৃষককে সম্পৃক্ত করেছি। তাদের জমিতে এ পদ্ধতির চাষাবাদ হচ্ছে। চাষাবাদের শুরুতে আমরা ট্রেতে বীজতলা করেছি। প্রতি বিঘায় প্রচলিত চাষাবাদে হাইব্রিড ধানবীজ ৪ কেজি ও উফশী ধানবীজ ৮কেজি দিয়ে বীজতলা তৈরি করতে হয়। সেখানে সমলয়ে চাষাবাদে বিঘা প্রতি বীজ খরচ অর্ধেক হয়েছে। বীজে কৃষকের খরচ বেঁচেছে। এ চাষাবাদে রাইসট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এতে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা। শ্রমিক দিয়ে ধান রোপণ করতে গেলে অন্তত ৬ হাজার টাকা খরচ হত। এছাড়া উইডার মেশিন দিয়ে নিড়ানী দেওয়া হবে। এতে মাত্র ২জন শ্রমিক প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে অন্তত ১০জন শ্রমিকের মজুরী সাশ্রয় হবে। এ ধান পাকার পর কম্বাইন্ড হারভে স্টার দিয়ে কেটে মাড়াই করে দেওয়া হবে। এ মেশিন দিয়ে ১ বিঘা জমির ধান কাটতে মাত্র ১হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হবে। এতে সাশ্রয় হবে অন্তত সাড়ে ৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এ পদ্ধতির চাষাবাদে কৃষকের বিঘা প্রতি অন্তত ১২ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে। এছাড়া এ পদ্ধতির চাষাবাদে বিঘা প্রতি হাইাব্রিডে ৩০ মণের স্থলে ৩৫ মণ ধান উৎপাদিত হবে। উফশী জাতে ২৫ মণের স্থলে ৩০ মণ ধান উৎপাদিত হবে। এ পদ্ধতির চাষাবাদে জমিতে কোন আইল থাকে না। এছাড়া ২০ থেকে ২২ দিন বয়সের ধানের চারা রোপণ করতে হয়। তাই ধানের উৎপাদন বেড়ে যায়।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৮ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে। এরমধ্যে আইল রয়েছে প্রায় ১২৬ হেক্টর। জমির আইল আনাবদি থাকে। সব জমিতে সমলয়ে চাষাবাদ হলে ওই জমি চাষাবাদের আওতায় আসত। এতে আরো ৭৫৬ মেট্রিক মেট্রিক টন ধান বেশি উৎপাদন হত।

এ চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশ খাদ্য উৎপাদনে আরো সমৃদ্ধ হবে বলে ওই কৃষি কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, সরকার কৃষিকে যান্ত্রীকী করণ করতে চাইছে। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে শ্রমিক কম লাগে। এছাড়া ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সমলয়ে চাষবাদ কার্যক্রমের আওতায় ১৫০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতির চাষাবাদে একই জাতের ফসল আবাদ করতে হয়। ধানের অধিক ফলন পেয়ে কৃষক লাভবান হন। এ পদ্ধতির চাষাবাদ সম্প্রসারিত হলে দেশের খাদ্য উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

ads

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ads

ফেসবুকে আমাদের দেখুন

ads

মুক্তমঞ্চ

scrolltop